ঢাকা টেস্টের প্রথম দিনে ৪ উইকেটে ৩০১ রান নিয়ে প্রথম দিন শেষ করেছে বাংলাদেশ। দিনশেষে উইকেটে অপরাজিত আছেন মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাস। মুশফিকের ব্যাটে এসেছে ৪৮ রান আর লিটন অপরাজিত ৪ রানে। আগামীকাল দ্বিতীয় দিনের শুরুতে ফিফটি করার সুযোগ আছে মুশফিকুর রহিমের সামনে।
প্রথম দিন দারুণভাবে পার করা বাংলাদেশ দ্বিতীয় দিনে কেমন করে সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।
নোমান আলীর বলে নড়বড়ে নব্বইয়ের শিকার হয়ে আউট হয়েছেন মমিনুল হক। ফেরার আগে তার ব্যাটে আসে ৯১ রান। একদম টেস্ট ইনিংস খেলা এই ব্যাটার হাঁকান ১০ চার।
বাংলাদেশ-২৬৫/৩, ৭১ ওভার
দিনের শুরুতে যেভাবে উইকেট হারিয়েছিল বাংলাদেশ, তাতে মনে হয়েছিল হয়তো অল্প রানেই গুটিয়ে যাবে বাংলাদেশ। তবে সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। মমিনুল হক ও নাজমুল হোসেন শান্তর ব্যাটে ভর করে আড়াই'শ রানের কোটা পার করেছে বাংলাদেশ।
এছাড়া অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর পর সেঞ্চুরির পথে আছেন মমিনুল হক।
বাংলাদেশ-২১৩/৩, ৫৫ ওভার
মমিনুলের বিপক্ষে লেগ বিফোরের আবেদন করেছিল পাকিস্তান। এবারও বোলার মুহাম্মদ আব্বাস। তবে এবার আবেদনে সাড়া দেননি থার্ড আম্পায়ার। তাতে নট আউট থাকলেন মমিনুল। সেঞ্চুরির পথে আছেন তিনি।
ক্যারিয়ারের ৯ম সেঞ্চুরি পূর্ণ করার পরের বলেই আউট হয়েছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। মুহাম্মদ আব্বাসের করা বলটা ভেতরে ঢুকেছিল। ব্যাটে না লেগে বল চলে যায় প্যাডে। তাতেই লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন তিনি। প্রথমে অবশ্য আম্পায়ার আউট দেননি। পরে রিভিউ নিলে সাফল্য পায় পাকিস্তান।
১৩০ বলে ১০১ রানের ইনিংস খেলা শান্তর ব্যাটে আসে ১২ চার ও দুই ছক্কা।
শান্তর বিদায়ের আগে তৃতীয় উইকেট জুটিতে ২৫৭ বলে ১৭০ রান যোগ করেন মমিনুল হক ও নাজমুল হোসেন শান্ত।
তার বিদায়ের পর চা ওভারের বাকি চার বল শেষে শুরু হয়েছে চা বিরতি। দ্বিতীয় সেশন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ২০১ রান।
ক্যারিয়ারের ৯ম সেঞ্চুরি পূর্ণ করলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। ১২৯ বলে এই সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি। ৪০ ম্যাচ ও ৭৪তম ইনিংসে এসে ৯ম সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। এর আগে ৯ম সেঞ্চুরি পেতে সমান সংখ্যক ম্যাচ ও ইনিংস খেলেছেন তার সঙ্গে উইকেটে থাকা মমিনুল হক।
মমিনুলকে সঙ্গে নিয়ে তৃতীয় উইকেট জুটিতে ইতোমধ্যে ১৫০ রানের বেশি যোগ করে ফেলেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত।
৯ম সেঞ্চুরি পেতে যার যত ইনিংস লাগল-
মমিনুল হক- ৭৪ ইনিংস (৪০ টেস্ট)
নাজমুল হোসেন শান্ত- ৭৪ ইনিংস (৪০ টেস্ট)
তামিম ইকবাল- ১১০ ইনিংস (৫৭ টেস্ট)
মুশফিকুর রহিম- ১৫৫ ইনিংস (৮২ টেস্ট)
বাংলাদেশ- ১৮৯/২, ৪৯ ওভার
তৃতীয় উইকেট জুটিতে ১৫০ রান যোগ করেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও মমিনুল হক। দলীয় ৩১ রানের মাথায় দলের হাল ধরেন তারা দুজনে। দারুণ ব্যাটিংয়ে তারা দলকে বিপদ থেকে রক্ষা করে দারুণভাবে এগিয়ে যাচ্ছেন।
তৃতীয় উইকেট জুটিতে এটা বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের জুটি।
১০২ বলে নিজের ফিফটি পূর্ণ করেছেন মমিনুল হক। ক্যারিয়ারের ২৬তম ফিফটি করেছেন তিনি।
তৃতীয় উইকেট জুটিতে ১০০ রান যোগ করেছেন মমিনুল হক ও নাজমুল হোসেন শান্ত। ১৪৮ বলে শতরানের জুটি গড়েন তারা দুজনে। এতে স্পষ্ট অনেকটা ওয়ানডে ধাঁচে রান তুলছেন তারা দুজনে।
এখন পর্যন্ত ৬১ রানে অপরাজিত আছেন শান্ত। আর মমিনুলের ব্যাটে এসেছে ৩৯ রান।
বাংলাদেশ- ১২৮/২, ৩৪ ওভার
টেস্ট ক্যারিয়ারে নিজের ৬ষ্ঠ ফিফটির দেখা পেয়েছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। দলের বিপর্যয়ের সময় উইকেটে আসা দলকে এগিয়ে নিচ্ছেন দারুণভাবে। তার সঙ্গে উইকেটে আছেন মমিনুল হক। তিনিও আছেন ফিফটির পথে।
দলীয় ৩১ রানের মাথায় জুটি বাঁধেন তারা দুজনে। দলকে বিপদ থেকে রক্ষা করে এগিয়ে নিচ্ছেন ইনিংস। এখন পর্যন্ত তারা দুজনে যোগ করেছেন ৯৭ রান।
দিনের শুরুতে খানিকটা বাজে ভাবেই আউট হয়েছিলেন ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয়। জীবন পেয়েছিলেন তবে সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজের ইনিংসটাকে বড় করতে পারেননি। ৮ রানে ফেরেন প্যাভিলিয়নে। তখন কেবলমাত্র দিনের শুরু।
তার বিদায়ের পর আরেক ওপেনার সাদমান ইসলাম বড় করতে পারেননি নিজের ইনিংস। ১৩ রানে ফেরেননি এই ব্যাটার। তার বিদায়ের সময় স্কোরবোর্ডে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৩১ রানে দুই উইকেট। তাতে মনে হচ্ছিল, ঢাকা টেস্টের প্রথম সেশনটা খুব একটা ভালো কাটবে না বাংলাদেশের জন্য।
তবে এটাকে ভুল প্রমাণ করেন দুই অভিজ্ঞ নাজমুল হোসেন শান্ত ও মমিনুল হক। দুজনে মিলে মধ্যাহ্ন বিরতিতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত তৃতীয় উইকেট জুটিতে যোগ করেছেন ৭০ রান। বিরতিতে যাওয়ার সময় শান্তর সংগ্রহ ছিল ৫০ বলে ৩৯ রান আর মমিনুল করেছেন ৫৭ বলে ৩১ রান। দুজনের ব্যাটে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় তারা বাংলাদেশ।
পাকিস্তানের হয়ে শাহিন শাহ আফ্রিদি ও হাসান আলী একটি করে উইকেট শিকার করেন। প্রথম সেশনে পাঁচ বোলার ব্যবহার করেছে পাকিস্তান। শাহিন-হাসান ছাড়া হাত ঘুরিয়েছেন মুহাম্মদ আব্বাস, সালমান আগা ও নোমান আলী।
বাংলাদেশ- ১০১/২, ২৬ ওভার
দিনের শুরুতে দুই উইকেট হারিয়ে ভালোই চাপে পড়েছিল বাংলাদেশ। সেখান থেকে দলকে টেনে তোলার চেষ্টা করেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও মমিনুল হক। তাদের ব্যাটে ভর করে ২ উইকেটে ১০১ রান তুলে মধ্যাহ্ন বিরতিতে গিয়েছে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ- ৮৭/২, ২৪ ওভার
৩১ রানে দুই উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়েছিল বাংলাদেশ। সেখান থেকে দলকে টেনে তোলার চেষ্টায় ছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও মমিনুল হক। তারা দুজনে তৃতীয় উইকেট জুটিতে যোগ করেছেন পঞ্চাশোর্ধ রান। এখনো ব্যাট করছেন তারা।
বাংলাদেশ- ৩৬/২, ১১ ওভার
মুহাম্মদ আব্বাস আর শাহিন শাহ আফ্রিদি বোলিং করেছেন প্রথম ১০ ওভার। ১১তম ওভারে প্রথমবারের মতো বোলিংয়ে আসেন হাসান আলী। খানিকটা শর্ট লেন্থে থাকা বলটা সাদমান ইসলামের ব্যাটের কোণায় লেগে যায় থার্ড স্লিপে।
সেখানে থাকা সালমান অঘা ক্যাচ তালুবন্দি করতে ভুল করেননি। তাতেই আউট সাদমান। বাংলাদেশের দ্বিতীয় উইকেটের পতন। ফেরার আগে তার ব্যাটে আসে ১৩ রান।
বাংলাদেশ- ২৩/১, ৭ ওভার
দিনের শুরুতেই ফিরে গেলেন ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয়। শাহিন শাহ আফ্রিদির বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ তুলে ফিরেছেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। ফেরার আগে তার ব্যাটে এসেছে মাত্র ৮ রান।
মিরপুর টেস্টে টস ভাগ্য বাংলাদেশের পক্ষে কথা বলেনি। টস হেরে আগে ব্যাটিং করছে বাংলাদেশ দল।