নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দারুণ জয় পেল বাংলাদেশ। তাওহীদ হৃদয়ের ফিফটি ও শামীম হোসেনের দারুণ ক্যামিও ব্যাটিংয়ে ৬ উইকেটের জয় পেয়েছে দল। ২৭ বলে ৫১ রান করে অপরাজিত ছিলেন হৃদয়। শামীম অপরাজিত ১৩ বলে ৩১ রানে। এর আগে পারভেজ ১৪ বলে ২৮ রান করে আউট হয়েছেন।
বাংলাদেশ ইনিংস: ১৮ ওভারে ১৮৩/৬ (হৃদয় ৫১*, শামীম ৩১, পারভেজ ২৮; সোধি ৪০/২)
নিউজিল্যান্ড ইনিংস: ২০ ওভারে ১৮২/৬ (ক্লিভার ৫১, ক্লার্ক ৫১, কেলি ৩৯, ক্লার্কসন ২৭*; রিশাদ ২/৩২, মেহেদী ১/৩১, শরীফুল ১/৩৬, তানজিম ১/৪০)।
ফল: বাংলাদেশ ৬ উইকেটে জয়ী
ম্যাচসেরা: তাওহিদ হৃদয়
ফিশারের এক বলে শামীমের ১৭ রান!
ফিশারের ওভার যেন পরিণত হলো শামীম হোসেনের ব্যাটিং উৎসবে। ফ্রি হিটে একের পর এক সুযোগ কাজে লাগিয়ে রান তুললেন এই ব্যাটসম্যান।
ওভারের একেবারে শেষ বলে ওভারস্টেপ করেন ফিশার। প্যাডে ফুল ওভারপিচড বল পেয়ে শামীম সহজেই লেগ সাইডে স্কয়ার লেগের ওপর দিয়ে ফ্লিক করে চার রান আদায় করেন। একই সঙ্গে আবারও নো বল দেন আম্পায়ার।
এর আগে ফ্রি হিটে অফ স্টাম্পের বাইরে ফুল লেন্থ বল খেলতে গিয়ে রিভার্স র্যাম্প শট নিতে ব্যর্থ হন শামীম। বল ব্যাটে না লাগলেও ওয়াইডের সংকেত দেন আম্পায়ার, ফলে ফ্রি হিট বহাল থাকে।
এরপর ফিশারের একটি ভয়ংকর বীমার ডেলিভারিতে ব্যাট চালিয়ে দেন শামীম। বল তৃতীয় ম্যান অঞ্চলের ওপর দিয়ে চলে যায়, সঙ্গে সঙ্গে নো বল ঘোষণা করেন স্কয়ার লেগ আম্পায়ার।
পরের বলে ওভার দ্য উইকেট থেকে ফুলার লেন্থ বল পেয়ে মিডউইকেটের ওপর দিয়ে বিশাল ছক্কা হাঁকান শামীম হোসেন। বলটি সহজেই কাও কর্নারের ওপর দিয়ে স্ট্যান্ডে গিয়ে পড়ে।
সব মিলিয়ে ফিশারের এক ওভারে একের পর এক নো বল, ওয়াইড ও বড় শট মিলিয়ে পুরো ওভারটাই দখলে রাখেন শামীম হোসেন।
বাংলাদেশ: ১৭ ওভারে ১৭৮/৪
জয়ের জন্য ২৪ বলে ৩০ রান দরকার বাংলাদেশের।
স্মিথের করা ১৬ তম ওভারের চতুর্থ বলে উইকেটকিপারের মাথার ওপর দিয়ে ‘নো লুক’ শটে ছক্কা মারেন শামীম। ওভারের শেষ বলে মিডউইকেট দিয়ে ছক্কা মারেন হৃদয়।
হৃদয় ২২ বলে ৪৬ ও শামীম ৪ বলে ৯ রানে অপরাজিত
দ্রুত রান তোলার আভাস দিয়েও ইনিংস বড় করতে পারলেন না পারভেজ হোসেন ইমন। আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে শুরুটা দারুণ করলেও শেষ পর্যন্ত ছোট্ট ঝড়ো ইনিংসেই থামতে হয়েছে তাকে।
ক্লার্কসনের করা অফ স্টাম্পের বাইরের শর্ট লেন্থের অফ-কাটার বলকে লং-অফের ওপর দিয়ে পাঠাতে চেয়েছিলেন ইমন। বাউন্সের ওপর উঠে জোরে শট খেললেও ঠিকমতো টাইমিং করতে পারেননি। ফলে বল সোজা গিয়ে ধরা পড়ে বাউন্ডারির কাছে থাকা ফিল্ডার রবিনসনের হাতে।
বিদায়ের আগে ১৪ বলে ২৮ রানের কার্যকরী ইনিংস খেলেন ইমন, যেখানে ছিল একটি চার ও দুটি ছক্কা। তার দ্রুতগতির এই রান দলকে ভালো শুরু এনে দিলেও ইনিংস বড় করতে না পারায় কিছুটা আক্ষেপ থেকেই গেছে।
দলের চাপে থাকা মুহূর্তে ব্যাট হাতে বড় কিছু করতে পারলেন না তানজিদ হাসান। ইনিংসজুড়ে ছন্দহীন ব্যাটিংয়ের পর শেষ পর্যন্ত ইশ সোধির ঘূর্ণিতে ধরা পড়েন তিনি।
অফ স্টাম্পের অনেক বাইরে ফ্লাইট করা লেন্থ বল পেয়ে লং-অফের ওপর দিয়ে মারতে চেয়েছিলেন তানজিদ। তবে টাইমিং ঠিক না হওয়ায় ব্যাটের কানায় লেগে বল উড়ে যায় ফিল্ডারের ডানদিকে। সেখানে দারুণভাবে ছুটে গিয়ে নিয়ন্ত্রিত ক্যাচ নেন স্মিথ।
এর মধ্য দিয়ে ২৫ বলে ২০ রানের ধীরগতির ইনিংস খেলে বিদায় নেন তানজিদ, যেখানে ছিল মাত্র একটি চার। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তার এই উইকেট হারানোয় চাপে পড়ল দল।
দারুণ উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন বোলার। অফ স্টাম্পের ওপর লেন্থ বল, যা তেমন টার্ন করেনি বরং একটু নিচু হয়ে আসে। শট খেলার জায়গা করতে আগেই সরে যান লিটন, ক্রস ব্যাটে খেলতে গিয়ে বলের লাইনে আসতে পারেননি তিনি। শেষ পর্যন্ত বল গিয়ে আঘাত হানে মিডল স্টাম্প। ১৫ বলে ২১ রান করেন লিটন।
অফ স্টাম্পের একটু ফুল লেন্থ ডেলিভারি ছিল। বড় শট খেলতে গিয়ে ব্যাটের মুখ ঘুরে যায় সাইফের, ঠিকমতো টাইমিং না হওয়ায় বল লাগে ব্যাটের ভেতরের অংশে। ফলে বল সোজা চলে যায় ডিপ মিডউইকেটে থাকা ফিল্ডারের হাতে।
১৭ রান করে (১৬ বলে, ২টি চার ও ১টি ছক্কা) ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন সাইফ হাসান। আর এই উইকেটের মাধ্যমে টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে নিজের প্রথম উইকেটের স্বাদ পেলেন নাথান স্মিথ।

দর্শকে পরিপূর্ণ হয়ে উঠছে চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামের গ্যালারি। ওয়ানডেতে দর্শকখরা দেখা গেলেও টি-টোয়েন্টি সিরিজ ঘিরে দর্শকদের মাঝে আছে তুমুল আগ্রহ।
দারুণ শুরুর পর নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৮২ রানে থেমেছে নিউজিল্যান্ডের ইনিংস। দলটির হয়ে সর্বোচ্চ ৫১ রান করে করেছেন কেটেনি ক্লার্ক ও ডিন ক্লেভার। এছাড়া ২৯ রান করেছেন ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক নিক কেলি।
বাংলাদেশের হয়ে রিশাদ হোসেন ৩২ রানে নেন দুই উইকেট। এছাড়া শরিফুল ইসলাম, তানজিম সাকিব ও শেখ মাহেদি একটি করে উইকেট নেন।
২৭ বলে ৩৯ রান করে আউট হয়েছেন নিক কেলি। শরিফুল ইসলামের বলে তানজিম সাকিবের হাতে ক্যাচ তুলে দেন তিনি।
আলোকস্বল্পতায় খেলা বন্ধ থাকার পর ফের শুরু হয়েছে। ১২ মিনিট বন্ধ থাকায় খেলা কার্টেল ওভারে গড়াচ্ছে না।
নিউজিল্যান্ড-১৫১/৫, ১৬.৪ ওভার
আলোকস্বল্পতায় বন্ধ হয়েছে বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। নিউজিল্যান্ডের ইনিংসের ১৬.৩ ওভারের মাথায় বন্ধ হয়েছে খেলা। ফ্লাডলাইট জ্বালানো হচ্ছে। এরপরে শুরু হবে খেলা।
নিউজিল্যান্ড- ১৩০/৫, ১৫ ওভার
শেখ মাহেদির করা বলটা ডিন ফক্সক্রফটের পায়ে লেগে সরাসরি আঘাত হানে স্ট্যাম্পে। তাতে আউট হন ডিন ফক্সক্রফট। ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠার অপেক্ষায় থাকা এই ব্যাটারকে ফিরিয়ে স্বস্তি ফিরেছে বাংলাদেশের ড্রেসিংরুমে। ফেরার আগে তার বলে আসে ৭ বলে ৩ রান।
নিউজিল্যান্ড- ১১৭/৪, ১২.৩ ওভার
তানজিম সাকিবের বলে রিশাদ হোসেনের হাতে ক্যাচ তুলে ফিরেছেন বেভান জ্যাকবস। ফেরার আগে তার ব্যাটে এসেছে ২ বলে ১ রান।
নিউজিল্যান্ড- ১১২/৩ (১২ ওভার)
রিশাদ হোসেনের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হয়েছেন কেটেনি ক্লার্ক। ফেরার আগে তার ব্যাটে এসেছে ৩৭ বলে ৫১ রান। ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটির দেখা পেয়েছেন ক্লার্ক।
রিশাদ হোসেনের বলে ৪৪ রানের মাথায় জীবন পেয়েছিলেন ডিন ক্লেভার। তবে ইনিংস বড় করতে পারেননি। ওভারের চতুর্থ বলে লেগ বিফোরে শিকার হয়ে ফিরেছেন তিনি। ফেরার আগে তার ব্যাটে আসে ৫১ রান। ক্যারিয়ারের সেকেন্ড ফিফটি তুলে নিয়েই আউট হয়েছেন তিনি।
তার বিদায়ের সময় নিউজিল্যান্ডের রান ২ উইকেটে ৯৯ (৯.৪ ওভার)।
পাওয়ার প্লের ৬ ওভার শেষে ১ উইকেটে ৬১ রান তুলেছে নিউজিল্যান্ড। অর্থাৎ, ওভারপ্রতি ১০ রানের বেশি এসেছে।
কেটেনি ক্লার্ক ১৮ বলে ২৫ ও ডিন ক্লেভার ১৭ বলে ৩৩ রানে অপরাজিত আছেন।
উইকেটের ঠিক বাইরে থেকে দারুণ ফিল্ডিং করে বল আটকান তাওহিদ হৃদয়। সেই বল ডিরেক্ট থ্রোতে রান নিতে যাওয়া টিম রবিনসনকে রান আউট করেন তিনি। ফেরার আগে ১ বলে ০ রান করেছেন রবিনসন।

অবশেষে টস ভাগ্য এলো বাংলাদেশের পক্ষে। টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে টস জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অধিনায়ক লিটন দাস। এই ম্যাচ দিয়ে পেসার রিপন মন্ডলের জাতীয় দলে অভিষেক হচ্ছে।
অন্যদিকে নিউজিল্যান্ড একাদশ থেকে ছিটকে গিয়েছেন অধিনায়ক টম লাথাম। গতকাল অনুশীলনের সময় চোটে পড়ায় তাকে আজকের ম্যাচে পাওয়া যাচ্ছে না। ভারপ্রাপ্ত অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করছেন নিক কেলি।
বাংলাদেশ একাদশ-
লিটন দাস, তানজিদ তামিম, পারভেজ হোসেন ইমন, সাইফ হাসান, তাওহিদ হৃদয়, শামীম পাটোয়ারি, শেখ মাহেদি, রিশাদ হোসেন, তানজিম সাকিব, শরিফুল ইসলাম ও রিপন মন্ডল।
নিউজিল্যান্ড একাদশ-
টিম রবিনসন, কাটেনি ক্লার্ক, ডিন ক্লেভার, নিক কেলি, বিজে জ্যাকবস, ডিন ফক্সক্রফট, জশ ক্লার্কসন, নাথান স্মিথ, ইশ সোধি, ম্যাট ফিশার ও বেন লিস্টার।
ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচ ও টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রস্তুতির দিনগুলোতে প্রচন্ড তাপদাহে পুড়েছে চট্টগ্রাম। তবে টি-টোয়েন্টি সিরিজ মাঠে গড়ানোর দিনে খানিকটা স্বস্তি ফিরেছে বন্দরনগরীতে। আজ সোমবার সকাল থেকে চট্টগ্রামে হয়েছে বৃষ্টি। ফলে কমে এসেছে তাপদাহ। ফলে বাড়তি তাপের প্রভাব থাকছে না এই ম্যাচে।