বিদায়!
১৬ বছর পর স্পেনের দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বজয়ের মধ্য দিয়ে পর্দা নামলো ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ খ্যাত বিশ্বকাপ ফুটবলের। দীর্ঘ ৪০ দিন ফুটবলের এই মহারণে দৈনিক আমার দেশ-এর খেলাধুলা বিভাগের সাথে থাকার জন্য আপনাদেরকে ধন্যবাদ। ফের দেখা হবে বড় কোনো আসরে, সরাসরি ধারাবিবরণীর গল্পে। আমার দেশ স্পোর্টসের সাথেই থাকুন
১০ জনের আর্জেন্টিনার প্রতিরোধ শেষ পর্যন্ত ভাঙল অতিরিক্ত সময়ে। ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে ১-০ ব্যবধানে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো ফিফা বিশ্বকাপ জিতল স্পেন।
নিউইয়র্ক–নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে নির্ধারিত ৯০ মিনিট গোলশূন্য থাকার পর ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ১০৬তম মিনিটে নিকো উইলিয়ামসের হেড থেকে আসা বল জোরালো শটে জালে পাঠিয়ে স্পেনকে কাঙ্ক্ষিত গোল এনে দেন ফেরান তোরেস। বিশ্বকাপ ফাইনালে গোল করা দ্বিতীয় বার্সেলোনা খেলোয়াড় হিসেবেও নাম লেখান তিনি।
পুরো ম্যাচেই আধিপত্য ছিল স্পেনের। ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নরা একের পর এক আক্রমণ চালালেও আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো ‘এমি’ মার্তিনেজ অবিশ্বাস্য সব সেভ করে দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রেখেছিলেন। লামিন ইয়ামাল, মিকেল ওয়ারজাবাল, পেদ্রি, পাও কুবারসি ও ফেরান তোরেসের একাধিক প্রচেষ্টা তার দুর্দান্ত গোলরক্ষণে ব্যর্থ হয়।
অন্যদিকে আর্জেন্টিনা পুরো ম্যাচে আক্রমণে প্রায় নিষ্প্রভ ছিল। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে লিওনেল স্কালোনির দল স্পেনের গোলমুখে উল্লেখযোগ্য কোনো শটই নিতে পারেনি। অতিরিক্ত সময়ে লিওনেল মেসির একটি শক্তিশালী হাফ-ভলি মিকেল মেরিনোর আত্মত্যাগী ব্লকে আটকে যায়, যা ছিল আর্জেন্টিনার সেরা সুযোগগুলোর একটি।
ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় যোগ করা সময়ে। ৯০+৩ মিনিটে পাও কুবারসির ওপর ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন এনজো ফার্নান্দেজ। ১০ জনের আর্জেন্টিনার বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে আরও চেপে বসে স্পেন।
অতিরিক্ত সময়ে নিকো উইলিয়ামস একবার বল জালে জড়ালেও মিকেল মেরিনোর ফাউলের কারণে সেটি বাতিল হয়। পরে লামিন ইয়ামালের পাস থেকে ফেরান তোরেস আরেকবার গোল করলেও অফসাইডের কারণে সেটিও টেকেনি। তবে ১০৬তম মিনিটে আর কোনো ভুল করেননি তোরেস। নিকো উইলিয়ামসের তৈরি করা সুযোগ কাজে লাগিয়ে এমি মার্তিনেজকে পরাস্ত করে ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেন তিনি।
ফাইনালের বাইরে ছিল আরও কিছু আকর্ষণ। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্টেডিয়ামে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম হাফটাইম শোতে পারফর্ম করেন ম্যাডোনা ও জাস্টিন বিবারসহ একাধিক বিশ্বখ্যাত শিল্পী। সেই আয়োজনের কারণে বিরতি ছিল ২৭ মিনিটের।
শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন ভেঙে দিয়ে স্পেন তুলে নিল ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ট্রফি। ২০১০ সালের পর আবারও বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট পরল লা রোহা।

বক্সের ঠিক বাইরে আলগা একটি বল পেয়ে যান লিওনেল মেসি। এক মুহূর্তও দেরি না করে হাফ-ভলি শটে গোলমুখে বল পাঠান আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
শটটি ছিল ভীষণ শক্তিশালী এবং সরাসরি গোলের দিকেই যাচ্ছিল। তবে শেষ মুহূর্তে সামনে দাঁড়িয়ে নিজের মুখ দিয়ে বলটি ঠেকিয়ে দেন স্পেনের মিডফিল্ডার মিকেল মেরিনো। আঘাত পেয়ে সঙ্গে সঙ্গেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি।
মেসির এই শটই ছিল দীর্ঘ সময় পর আর্জেন্টিনার অন্যতম বিপজ্জনক আক্রমণ, কিন্তু মেরিনোর আত্মত্যাগে রক্ষা পায় স্পেন।
আবারও জালে বল পাঠিয়েছিল স্পেন। লামিন ইয়ামালের বাড়ানো নিখুঁত পাস ধরে ফেরান তোরেস এমিলিয়ানো মার্তিনেজকে পরাস্ত করে বল জড়িয়ে দেন জালে।
স্প্যানিশ খেলোয়াড়দের উল্লাসও শুরু হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু ভিএআর ও সহকারী রেফারির সংকেতে সেই আনন্দ মুহূর্তেই ম্লান হয়ে যায়।
রিপ্লেতে দেখা যায়, পাস পাওয়ার সময় ফেরান তোরেস সামান্য অফসাইড অবস্থানে ছিলেন। ফলে গোলটি বাতিল করে দেন রেফারি।
আর্জেন্টিনা বড় এক ধাক্কা থেকে বেঁচে গেলেও ১০ জনের দল নিয়ে এখনও স্পেনের অবিরাম চাপ সামলাতে হচ্ছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে জালের দেখা পেল স্পেন। বাঁ প্রান্তে বল পেয়ে দুর্দান্তভাবে আক্রমণ গড়ে তোলেন নিকো উইলিয়ামস। আর্জেন্টিনার রক্ষণকে ছড়িয়ে দিয়ে তিনি নিখুঁত একটি ক্রস বাড়ান বক্সের ভেতরে।
সেখানে অপেক্ষায় ছিলেন ফেরান তোরেস। দারুণ টাইমিংয়ে বল স্পর্শ করে এমিলিয়ানো মার্তিনেজকে পরাস্ত করেন স্পেনের এই ফরোয়ার্ড।
অবশেষে ম্যাচের অচলাবস্থা ভাঙল। অতিরিক্ত সময়ে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল স্পেন, আর শিরোপার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেল লা রোহা।

ম্যাচের উত্তেজনার মধ্যে এবার হলুদ কার্ড দেখলেন আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি।
জুলিয়ানো সিমিওনের ওপর ফাউলের আবেদন জানিয়ে জোরে প্রতিবাদ করেন স্কালোনি। রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে তার অসন্তোষ প্রকাশ করায় শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টাইন কোচকে হলুদ কার্ড দেখানো হয়।
মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি এখন টাচলাইনের উত্তেজনাও ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বকাপ ফাইনালে।
বল ফিরে পেয়েই আবার আক্রমণে যায় স্পেন। অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে রেখেছে লা রোহা।
এখন পর্যন্ত ম্যাচে স্পেন মোট ১৬টি শট নিয়েছে, যেখানে আর্জেন্টিনার শটের সংখ্যা শূন্য। অর্থাৎ, ৯০ মিনিট পেরিয়েও বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা প্রতিপক্ষের গোলমুখে একটি শটও নিতে পারেনি।
পরিসংখ্যানই বলছে, ম্যাচের চিত্র কতটা একপেশে। তবে গোলশূন্য স্কোরলাইনে এখনো বেঁচে আছে আর্জেন্টিনার আশা—আর সেই আশার সবচেয়ে বড় কারণ এমিলিয়ানো মার্তিনেজের অবিশ্বাস্য গোলকিপিং।

স্পেনের আক্রমণ অব্যাহত। মিকেল মেরিনোর ছোঁয়া পেয়ে বল চলে যায় নিকো উইলিয়ামসের কাছে। এরপর উইলিয়ামস সুযোগ কাজে লাগিয়ে জোরালো শট নেন, যা জালে জড়িয়ে যায়।
কিন্তু গোলের উল্লাস বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। দেখা যায়, বলের লড়াইয়ের সময় মেরিনোর পা আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার নিকোলাস ওতামেন্দির পায়ের আঙুলে লেগেছিল। রেফারি ফাউলের সিদ্ধান্ত দেন এবং স্পেনের গোলটি বাতিল হয়ে যায়।
শেষ পর্যন্ত গোলশূন্যই থাকল ম্যাচ। স্বস্তি পেল আর্জেন্টিনা, আর হতাশ হতে হলো স্পেনকে।
নির্ধারিত ৯০ মিনিটের সঙ্গে যোগ করা অতিরিক্ত সময়ও শেষ হওয়ার বাঁশি বাজালেন রেফারি। কিন্তু নিউইয়র্ক–নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে এখনো কোনো গোলের দেখা নেই।
ফলে বিশ্বকাপ ফাইনাল গড়াল অতিরিক্ত সময়ে। কাকতালীয়ভাবে, ২০২২ সালের ফাইনালেও (যেখানে আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল) এবং ২০১০ সালের ফাইনালেও (যেখানে স্পেন শিরোপা জিতেছিল) নির্ধারিত সময়ের পর ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গিয়েছিল।
এবারও শিরোপার ফয়সালা করতে দুই দলকে খেলতে হবে আরও ৩০ মিনিট। ১০ জনের আর্জেন্টিনা কি প্রতিরোধ ধরে রাখতে পারবে, নাকি স্পেনের আক্রমণ ভেঙে দেবে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের দেয়াল—সেটিই এখন দেখার।
ফ্রি-কিক থেকে সরাসরি আর্জেন্টিনার গোলপোস্ট লক্ষ্য করে শট নেন লামিন ইয়ামাল। তবে আবারও ত্রাতা হয়ে দাঁড়ান এমিলিয়ানো মার্তিনেজ।
দারুণ দক্ষতায় ইয়ামালের শটটি আটকে দেন আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক। অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্সে পুরো ম্যাচে স্পেনের সামনে এক অদম্য প্রাচীর হয়ে আছেন এমি মার্তিনেজ।
বারবার আক্রমণ, একের পর এক পরীক্ষা—কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনোভাবেই তাকে পরাস্ত করতে পারেনি স্পেন। ফাইনালের এই লড়াইয়ে আর্জেন্টিনাকে টিকিয়ে রাখার সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব নিঃসন্দেহে মার্তিনেজের।

ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে বড় ধাক্কা খেল আর্জেন্টিনা। পেছনের পা দিয়ে স্পেনের পাও কুবারসিকে আঘাত করেন এনজো ফার্নান্দেজ। সংঘর্ষে কুবারসি মাটিতে ছিটকে পড়েন।
ঘটনাটি দেখে রেফারি সঙ্গে সঙ্গে সিদ্ধান্ত নেন। এনজোকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখান তিনি, আর সেটিই পরিণত হয় লাল কার্ডে।
ফলে নির্ধারিত সময়ের শেষ মুহূর্তে ১০ জনের দলে পরিণত হলো আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপ ফাইনালের উত্তেজনা এখন আরও বেড়ে গেল।
ম্যাচের শেষ দিকে এসে উত্তেজনা বাড়ছে। সিমিওনে মার্ক কুকুরেয়াকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন। রেফারি ঘটনাটি দেখে আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডকে সতর্ক করেন, তবে ফাউলের বাঁশি বাজাননি।
এরপর এনজো ফার্নান্দেজ একটি ফাউলের আবেদন করেন। কিন্তু রেফারি তার আবেদন প্রত্যাখ্যান করলে প্রতিবাদ জানান চেলসির এই মিডফিল্ডার। অতিরিক্ত আপত্তি দেখানোর কারণে এবার এনজোকে হলুদ কার্ড দেখান রেফারি।
গোলশূন্য সমতার ম্যাচে শেষ মুহূর্তে শৃঙ্খলা ধরে রাখাই এখন দুই দলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

একসঙ্গে একাধিক আক্রমণে আর্জেন্টিনার রক্ষণকে ব্যস্ত করে তুলেছে স্পেন। প্রথমে বক্সের বাইরে থেকে শট নেন পেদ্রি। তবে দুর্দান্ত দক্ষতায় সেটি ঠেকিয়ে দেন আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ।
এরপর আক্রমণে যোগ দেন লামিনে ইয়ামাল। ডান প্রান্ত থেকে তার নিচু ক্রস বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারত, কিন্তু আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডাররা সময়মতো সেটি রুখে দেন।
তবে আক্রমণ থামায়নি স্পেন। এবার দূরপাল্লার শট নেন পাও কুবারসি। কিন্তু আবারও আর্জেন্টিনার শেষ প্রহরী হয়ে দাঁড়ান এমি মার্তিনেজ। একের পর এক দুর্দান্ত সেভে দলকে টিকিয়ে রেখেছেন তিনি।
স্পেনের চাপ বাড়ছে, কিন্তু গোলশূন্য সমতা এখনো অটুট। আর্জেন্টিনার রক্ষণের শেষ দেয়াল হয়ে বারবার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হচ্ছেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ।
ডান প্রান্তে বল পেয়ে নিজের মার্কারকে কাটিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন লামিনে ইয়ামাল। এরপর বক্সের দিকে নিচু ক্রস পাঠানোর চেষ্টা করেন স্পেনের এই তরুণ তারকা।
তবে তার সেই ক্রস সতীর্থদের কাছে পৌঁছায়নি। বল চলে যায় মাঠের বাইরে, ফলে গোলকিক পায় আর্জেন্টিনা। আক্রমণের চেষ্টা চালিয়ে গেলেও শেষ মুহূর্তের কাজে এখনও সফল হতে পারছে না লা রোহা।
সেন্টারব্যাক ও একজন মিডফিল্ডারকে তুলে নিয়ে ফুলব্যাক ও উইংব্যাক নামানো—আর্জেন্টিনার কৌশলে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা এখন রক্ষণ আরও শক্তিশালী করে স্পেনের আক্রমণ সামলানোর দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। ম্যাচের পরিস্থিতি বিবেচনায় মনে হচ্ছে, আর্জেন্টিনা হয়তো নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ঝুঁকি না নিয়ে লড়াইকে অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনাও করছে।
দ্বিতীয় হাইড্রেশন বিরতি শেষ হওয়ার পর আবারও দলে পরিবর্তন আনল আর্জেন্টিনা। কোচ লিওনেল স্কালোনি এবার মাঠে নামিয়েছেন দুই নতুন খেলোয়াড়কে।
মাঠ ছেড়েছেন ক্রিস্টিয়ান রোমেরো ও রদ্রিগো দে পল। তাদের পরিবর্তে নেমেছেন জুলিয়ানো সিমিওনে ও মেদিনা।
শেষ মুহূর্তের লড়াইয়ে সতেজ শক্তি যোগ করতেই এই পরিবর্তন। স্পেনের আক্রমণের চাপ সামলে ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

ডান প্রান্ত দিয়ে বল নিয়ে এগিয়ে যান লামিন ইয়ামাল। প্রতিপক্ষের চাপ সামলে নিখুঁত একটি ক্রস পাঠান বক্সের ভেতরে।
সেখানে লাফিয়ে উঠে হেড নেন বদলি হিসেবে নামা ফেরান তোরেস। তার নেওয়া হেডটি ছিল লক্ষ্যে, তবে আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ আবারও অসাধারণ দক্ষতায় সেটি আটকে দেন।
স্পেনের একের পর এক আক্রমণের সামনে বারবার পরীক্ষায় পড়ছেন আর্জেন্টিনার রক্ষণ, আর প্রতিবারই দলকে রক্ষা করছেন বিশ্বস্ত প্রহরী এমি মার্তিনেজ।
শেষ ৩০ মিনিটের লড়াইয়ের আগে দলে জোড়া পরিবর্তন আনল স্পেন। মাঠ ছেড়েছেন মিকেল ওয়ারজাবাল ও ফাবিয়ান রুইজ। তাদের জায়গায় নামানো হয়েছে ফেরান তোরেস ও পেদ্রিকে।
ইউরো ২০২৪ চ্যাম্পিয়নরা আক্রমণভাগে নতুন গতি আনতেই এই পরিবর্তন করেছে। ম্যাচের নির্ধারিত সময়ের শেষ আধা ঘণ্টায় আরও ধারালো আক্রমণ গড়ে তুলে গোলের সন্ধানেই এখন লা রোহা।
রক্ষণভাগে আরেকটি পরিবর্তন আনল আর্জেন্টিনা। গনসালো মন্তিয়েলকে তুলে নিয়ে মাঠে নামানো হয়েছে নাহুয়েল মোলিনাকে।
স্পেন একের পর এক আক্রমণ গড়ে তুলে আর্জেন্টিনার রক্ষণকে পরীক্ষা করে যাচ্ছে। সেই চাপ সামলাতেই রক্ষণে নতুন শক্তি যোগ করলেন কোচ লিওনেল স্কালোনি।
নতুন খেলোয়াড় নামিয়ে স্পেনের আক্রমণ ঠেকানোর পাশাপাশি নিজেদের পাল্টা আক্রমণের ধার বাড়ানোর পরিকল্পনায় রয়েছে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

পাও কুবারসি রক্ষণভাগ থেকে দুর্দান্ত একটি থ্রু বল বাড়ান দানি ওলমোর উদ্দেশে। বল পেয়ে ওলমো মাঝমাঠ থেকে ভেতরের দিকে এগিয়ে আসা মার্ক কুকুরেয়াকে খুঁজে নেন।
তবে কুকুরেয়ার কাছে বল পৌঁছানোর আগেই তৎপর হয়ে ওঠেন গনসালো মন্তিয়েল। আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার বলটি বিপদমুক্ত করেন এবং এর ফলে কর্নার পেয়ে যায় স্পেন।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই আক্রমণের ধার বাড়ানোর চেষ্টা করছে লা রোহা। তবে আর্জেন্টিনার রক্ষণ এখনো দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে।

ম্যাচে বদলি হিসেবে নামার কয়েক মিনিটের মধ্যেই হলুদ কার্ড দেখলেন আর্জেন্টিনার লিয়ান্দ্রো পারেদেস।
পেছন থেকে রদ্রিকে ধাক্কা দিয়ে ফাউল করেন এই আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার। রদ্রি মাঠে পড়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গেই বাঁশি বাজান রেফারি এবং পারেদেসকে দেখান হলুদ কার্ড।
মাঠে নামার পর খুব বেশি সময় না যেতেই সতর্ক হয়ে গেলেন আর্জেন্টিনার এই খেলোয়াড়।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক স্পেন। আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগের একটি ভুল ক্লিয়ারেন্সের সুযোগ কাজে লাগিয়ে বল পেয়ে যান আলেক্স বায়েনা।
বক্সের ঠিক বাইরে থেকে দ্রুত শট নেন স্পেনের এই মিডফিল্ডার। তবে আবারও আর্জেন্টিনার ত্রাতা হয়ে দাঁড়ান গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। দারুণ দক্ষতায় শটটি ঠেকিয়ে দিয়ে দলকে বিপদমুক্ত রাখেন তিনি। ফলে ম্যাচে এখনও অটুট রয়েছে গোলশূন্য সমতা।
দ্বিতীয়ার্ধের জন্য প্রথমে মাঠে ফিরেছে স্পেন, এরপর প্রবেশ করেছে আর্জেন্টিনা। মাঠে নামার আগে লিওনেল মেসিকে প্রার্থনা করতে দেখা গেছে।
প্রথম ৪৫ মিনিটে গোলের দেখা পায়নি কোনো দলই। এখন অপেক্ষা—এই ৪৫ মিনিটেই কি নির্ধারিত হবে বিশ্বকাপের নতুন ইতিহাস, নাকি সামনে অপেক্ষা করছে আরও নাটকীয় কোনো মুহূর্ত? তা জানতে নজর রাখতে হবে ম্যাচের বাকি সময়ে।

বিশ্বকাপ ফাইনালের বিরতিতে দর্শকদের জন্য রাখা হয়েছে সুপার বোলের আদলে এক বর্ণাঢ্য হাফ-টাইম শো। মঞ্চ মাতাতে পারফর্ম করছেন জাস্টিন বিবার, ম্যাডোনা, শাকিরা ও দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় ব্যান্ড বিটিএস। তাদের সঙ্গে থাকছেন নাইজেরিয়ান তারকা বার্না বয়, যার শাকিরার সঙ্গে গাওয়া বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় গান ‘দাই দাই’ এখনো জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছে।
সাংস্কৃতিক আয়োজনকে আরও সমৃদ্ধ করতে উপস্থিত আছেন বিশ্বখ্যাত ভেনেজুয়েলান কন্ডাক্টর এবং নিউইয়র্ক ফিলহারমনিকের সংগীত ও শৈল্পিক পরিচালক গুস্তাভো দুদামেল। এছাড়া কোল্ডপ্লের সঙ্গে ওয়েবি অ্যাওয়ার্ডজয়ী পিএস ২২ কোরাসও এই জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছে।
স্পেন ০-০ আর্জেন্টিনা
নিউইয়র্ক–নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে প্রথমার্ধ শেষে এখনও গোলশূন্য সমতা। ৪৫ মিনিটজুড়ে দুই দলই সতর্ক ফুটবল খেলেছে, ফলে স্পষ্ট গোলের সুযোগও এসেছে খুব কম।
স্পেনই তুলনামূলক বেশি বিপজ্জনক ছিল। লামিন ইয়ামালের একটি শট এবং মিকেল ওয়ারজাবালের প্রথম ছোঁয়ায় নেওয়া আরেকটি দুর্দান্ত প্রচেষ্টা গোলের খুব কাছাকাছি পৌঁছেছিল। তবে দুইবারই আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো ‘এমি’ মার্তিনেজ দুর্দান্ত সেভ করে দলকে বিপদমুক্ত রাখেন।
আর্জেন্টিনা বলের দখল ধরে রেখে সুযোগ তৈরির চেষ্টা করলেও স্পেনের সংগঠিত রক্ষণ ভাঙতে পারেনি। অন্যদিকে স্পেনও একাধিক আক্রমণ গড়লেও শেষ পর্যন্ত গোলের দেখা মেলেনি। ফলে শিরোপা নির্ধারণের লড়াইয়ে সব হিসাব এখন গিয়ে ঠেকেছে দ্বিতীয়ার্ধে।
বল দখলের লড়াইয়ে মিকেল ওয়ারজাবালের চ্যালেঞ্জে হাঁটুতে আঘাত পান লিওনেল মেসি। খেলা কিছুক্ষণের জন্য থেমে গেলেও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়নি।
বরং দুজনই একে অপরের দিকে তাকিয়ে হাসিমুখে মাথা নেড়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। স্পেনের হয়ে রিয়াল সোসিয়েদাদে খেলা ওয়ারজাবাল এবং বার্সেলোনায় মেসির দীর্ঘ লা লিগা অধ্যায়ে বহুবার প্রতিপক্ষ হিসেবে মুখোমুখি হয়েছেন। সেই পুরোনো পরিচয়ের ছাপই যেন ফুটে উঠল বিশ্বকাপ ফাইনালের এই মুহূর্তে।

আর্জেন্টিনার জন্য বড় ধাক্কা। চোট পেয়ে মাঠে আর খেলা চালিয়ে যেতে পারেননি সেন্টারব্যাক লিসান্দ্রো মার্তিনেজ। চিকিৎসা নেওয়ার পরও অস্বস্তি কাটিয়ে উঠতে না পারায় তাকে তুলে নিতে বাধ্য হন কোচ লিওনেল স্কালোনি।
তার পরিবর্তে মাঠে নেমেছেন অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার নিকোলাস ওতামেন্দি। ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে রক্ষণভাগে এই পরিবর্তন আর্জেন্টিনার জন্য কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

স্পেনের অর্ধে বল পেয়ে দ্রুত পাল্টা আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করছিলেন মিকেল ওয়ারজাবাল। তবে তাকে এগিয়ে যেতে না দিয়ে ফাউল করেন আর্জেন্টিনার সেন্টারব্যাক লিসান্দ্রো মার্তিনেজ।
ঘটনাটি দেখে এক মুহূর্তও দেরি করেননি রেফারি। সঙ্গে সঙ্গেই পকেট থেকে হলুদ কার্ড বের করে সতর্ক করেন লিসান্দ্রোকে। ম্যাচের প্রথম কার্ড উঠল আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডারের নামের পাশে।

স্পেন দুর্দান্ত এক আক্রমণ গড়ে তোলে। মাঝমাঠে রদ্রি ও ফাবিয়ান রুইজের চমৎকার বোঝাপড়ায় বল পৌঁছে যায় আক্রমণভাগে। এরপর ডান দিক থেকে আসা ক্রস পেয়ে কোনো সময় নষ্ট না করে প্রথম ছোঁয়াতেই শট নেন মিকেল ওয়ারজাবাল।
তবে আর্জেন্টিনার শেষ ভরসা এমিলিয়ানো মার্তিনেজ আবারও নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন। অসাধারণ ক্ষিপ্রতায় শটটি রুখে দিয়ে নিশ্চিত গোল বাঁচান তিনি। প্রথমার্ধে স্পেনের সবচেয়ে বিপজ্জনক আক্রমণগুলোর একটি নষ্ট করে দিয়ে দলকে এখনও সমতায় রেখেছেন বিশ্বকাপজয়ী এই গোলরক্ষক।

ডান প্রান্ত দিয়ে আক্রমণ সাজানোর চেষ্টা করে স্পেন। পেদ্রো পোরো লামিন ইয়ামালকে লক্ষ্য করে একটি থ্রু বল বাড়ালেও সেটি মাঝপথেই কেটে দেয় আর্জেন্টিনার রক্ষণ।
তবে আক্রমণের গতি থামায়নি স্পেন। এবার বাম দিক দিয়ে মার্ক কুকুরেয়ার মাধ্যমে নতুন করে আক্রমণ গড়ে ওঠে। ফাবিয়ান রুইজ বল বাড়িয়ে দেন আলেক্স বায়েনার কাছে। কিন্তু তার পাঠানো ক্রসটি মানসম্মত না হওয়ায় সহজেই বিপদমুক্ত করে আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডাররা। এখনও গোলের খোঁজে মরিয়া স্পেন, তবে রক্ষণে দৃঢ় আলবিসেলেস্তেরা।

পেদ্রো পোরো মাঝমাঠ থেকে আলেক্স বায়েনাকে লক্ষ্য করে দারুণ একটি পাস বাড়ানোর চেষ্টা করেন। তবে দ্রুত এগিয়ে এসে বলটি নিরাপদে সংগ্রহ করেন আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ।
বল হারিয়েও দ্রুত তা পুনরুদ্ধার করেন মার্ক কুকুরেয়া। স্পেন আবারও আক্রমণ গড়ার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার রক্ষণ বল বিপদমুক্ত এলাকায় ক্লিয়ার করে দেয়। স্পেন চাপ ধরে রাখলেও এখন পর্যন্ত সেই চাপকে গোলে রূপ দিতে পারেনি।

হাইড্রেশন বিরতির পর আবারও ধৈর্য ধরে আক্রমণ সাজায় স্পেন। আর্জেন্টিনার চার ডিফেন্ডারকে একদিকে টেনে এনে ডান প্রান্তে লামিন ইয়ামালের উদ্দেশে দারুণ একটি পাস বাড়ানো হয়।
বল পেয়ে ড্রিবল করে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন ইয়ামাল। তবে তাকে গতি তুলতে দেননি নিকোলাস তাগলিয়াফিকো। সময়মতো ফাউল করে স্পেনের এই তরুণ উইঙ্গারকে থামিয়ে দেন আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার। ফলে বিপজ্জনক আক্রমণের সম্ভাবনা নষ্ট হলেও ভালো জায়গায় ফ্রি-কিক পায় স্পেন।

ম্যাচের ২৫ মিনিটে প্রথম হাইড্রেশন ব্রেকের জন্য খেলা সাময়িকভাবে থামিয়েছেন রেফারি। গরম আবহাওয়ার কারণে দুই দলই এই বিরতিতে কোচদের কাছ থেকে নতুন নির্দেশনা নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।
এখন পর্যন্ত ম্যাচে দুই দলই বেশ সতর্ক ফুটবল খেলছে। বড় কোনো ঝুঁকি না নিয়ে নিজেদের রক্ষণ সামলাতেই বেশি মনোযোগ দিয়েছে স্পেন ও আর্জেন্টিনা। তবে এখন পর্যন্ত ম্যাচের সেরা সুযোগটি এসেছে স্পেনের লামিন ইয়ামালের পা থেকে। তার লক্ষ্যভেদী শট দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ, ফলে এখনও গোলশূন্য রয়েছে বিশ্বকাপ ফাইনাল।

রদ্রি বক্সের ভেতরে মিকেল ওয়ারজাবালকে লক্ষ্য করে উঁচু পাস বাড়ান। তবে আর্জেন্টিনার নিখুঁত অফসাইড ট্র্যাপের কারণে আবারও অফসাইডের পতাকা ওঠে স্পেনের এই ফরোয়ার্ডের বিপক্ষে। ফলে সম্ভাবনাময় আক্রমণটি সেখানেই থেমে যায়।
তবে চাপ ধরে রাখে স্পেন। পরের আক্রমণেই বল প্রতিহত করতে গিয়ে কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা পায় আর্জেন্টিনা। ম্যাচে আরেকটি কর্নার পেল লা রোহা।
মাঝমাঠে বল নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার সময় আলেক্স বায়েনার ফাউলের শিকার হন লিওনেল মেসি। এতে আর্জেন্টিনা একটি ফ্রি-কিকের সুযোগ পায়।
ফ্রি-কিক থেকে রদ্রিগো দে পল ডান প্রান্তে নিকো গনসালেসকে লক্ষ্য করে লম্বা বল বাড়ান। তবে পাসটি একটু বেশি জোরে হয়ে যাওয়ায় বল সীমানার বাইরে চলে যায়। ফলে গোল কিক দিয়ে আবারও খেলা শুরু করে স্পেন।

রক্ষণভাগ থেকে ছোট ছোট পাসে আক্রমণ গড়ে তোলার চেষ্টা করে স্পেন। বাম দিক দিয়ে মার্ক কুকুরেয়া একটি পাস বাড়াতে চাইলেও মাঝপথে তা কেটে দেন গনসালো মন্তিয়েল।
তবে বলের নিয়ন্ত্রণ দ্রুতই ফিরে পায় স্পেন। এরপর ফাবিয়ান রুইজ বক্সের ভেতরে দারুণ একটি ক্রস পাঠান। বিপদ বুঝে লিসান্দ্রো মার্তিনেজ বল ক্লিয়ার করলেও সেটি কর্নারের বিনিময়ে। ম্যাচে প্রথম কর্নার পেল স্পেন।
ম্যাচের শুরুতে ধৈর্য ধরে বল ঘুরিয়ে স্পেনের রক্ষণভাগকে নিজেদের অবস্থান থেকে টেনে বের করে আনার চেষ্টা করছে আর্জেন্টিনা। ফাঁকা জায়গা তৈরি করে সেখান থেকেই আক্রমণ গড়ে তুলতে চাইছেন লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা।
তবে এখন পর্যন্ত লুইস দে লা ফুয়েন্তের দলের রক্ষণভাগ দারুণ শৃঙ্খলাবদ্ধ। সেমিফাইনালে ফ্রান্সের শক্তিশালী আক্রমণকে যেভাবে নিষ্ক্রিয় করে রেখেছিল, ফাইনালেও সেই একই দৃঢ়তা দেখাচ্ছে লা রোহা।

স্পেনের আক্রমণ ঠেকিয়েই দ্রুত পাল্টা আক্রমণে ওঠে আর্জেন্টিনা। বাম প্রান্তে ফাঁকা জায়গায় গড়িয়ে যাওয়া বলের নাগাল পাওয়ার চেষ্টা করেন হুলিয়ান আলভারেজ।
তবে বিপদ বুঝে সময়মতো বক্সের বাইরে বেরিয়ে আসেন স্পেন গোলরক্ষক উনাই সিমন। সুইপার-কিপারের ভূমিকায় বলটি ক্লিয়ার করে আর্জেন্টিনার সম্ভাবনাময় আক্রমণ নষ্ট করে দেন তিনি।

ম্যাচের পঞ্চম মিনিটেই প্রথমবারের মতো আক্রমণের ধার দেখাল স্পেন। ডান প্রান্তে বল পেয়ে ভেতরে কেটে এসে শট নেওয়ার চেষ্টা করেন লামিন ইয়ামাল।
তবে আর্জেন্টিনার রক্ষণ ছিল সতর্ক। একবার নয়, পরপর দুই দফায় তার শটের চেষ্টা আটকে দেন ডিফেন্ডাররা। শেষ পর্যন্ত স্পেনের সম্ভাবনাময় আক্রমণটি ভেস্তে গেলেও শুরুতেই প্রতিপক্ষকে সতর্কবার্তা দিয়ে রাখল লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল।
রক্ষণভাগ থেকে ধীরে ধীরে আক্রমণ গড়ে তোলার চেষ্টা করে আর্জেন্টিনা। ডান প্রান্ত থেকে বল ঘুরিয়ে বাম দিকে নেওয়া হলেও স্পেনের চাপে শেষ পর্যন্ত থ্রো-ইন আদায় করে নেয় লা রোহা।
এরপর আলেক্স বায়েনাকে আটকাতে গিয়ে ফাউল করেন গনসালো মন্তিয়েল। রেফারি সঙ্গে সঙ্গে ফ্রি-কিকের বাঁশি বাজালেও কার্ড দেখানোর প্রয়োজন মনে করেননি। ম্যাচের শুরুতেই দুই দলের লড়াই যে বেশ তীব্র হতে যাচ্ছে, তার আভাস মিলছে।

ম্যাচের শুরুতেই বাম প্রান্ত দিয়ে আক্রমণ গড়ার চেষ্টা করে আর্জেন্টিনা। তবে দ্রুত নিচে নেমে এসে স্পেনের রক্ষণ সেই আক্রমণ ঠেকিয়ে দেয়। এরপর বল পেছনে ফিরিয়ে নতুন করে আক্রমণ সাজানোর চেষ্টা করে আলবিসেলেস্তেরা।
প্রথম কয়েক মিনিটে বলের দখল নিজেদের কাছেই বেশি রাখতে সক্ষম হয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ধৈর্যের সঙ্গে পাস খেলেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছে লিওনেল স্কালোনির দল।
ফাইনালের প্রথম বাঁশির পর কিক-অফ করেছে আর্জেন্টিনা। ডান দিক থেকে বাঁ দিকে আক্রমণ শুরু করেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
লিওনেল স্কালোনির দল মাঠে নেমেছে ৪-৪-২ ছকে। অন্যদিকে লুইস দে লা ফুয়েন্তের স্পেন খেলছে তাদের পরিচিত ৪-৩-৩ ফরমেশনে। ম্যাচের শুরুতেই দুই দল নিজেদের ছন্দ খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করছে, আর গ্যালারিজুড়ে চলছে সমর্থকদের প্রাণভরা উচ্ছ্বাস।

অপেক্ষার প্রহর প্রায় শেষ। টানেল পেরিয়ে মাঠে প্রবেশ করেছেন দুই দলের ফুটবলাররা। একদিকে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, অন্যদিকে ২০১০ সালের বিশ্বকাপজয়ী স্পেন। ফুটবল, ভাগ্য আর গৌরবের লড়াইয়ে মুখোমুখি দুই পরাশক্তি।
দুই দলের সামনেই ইতিহাস গড়ার হাতছানি। লিওনেল মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখছে, আর লামিন ইয়ামালদের স্পেন ১৬ বছর পর আবারও বিশ্বকাপ ট্রফি ছুঁতে মরিয়া।
সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ। গ্যালারিতে উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। আর কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই রেফারির প্রথম বাঁশিতে শুরু হবে বহুল প্রতীক্ষিত স্পেন-আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ ফাইনাল।
নিউইয়র্ক–নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে রেফারির প্রথম বাঁশির সঙ্গে শুরু হয়ে গেছে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনাল। নিজেদের ঐতিহ্যবাহী নীল-সাদা জার্সিতে মাঠে নেমেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, আর স্পেন খেলছে তাদের পরিচিত লাল জার্সিতে।
দীর্ঘ এক মাসের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে এখন শুরু হয়েছে বিশ্ব ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই। আগামী ৯০ মিনিট—অথবা প্রয়োজনে তারও বেশি সময় নির্ধারণ করবে বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফি কার হাতে উঠবে।

তারকায় তারকায় উজ্জ্বল বিশ্বকাপ ফাইনালের মঞ্চ
বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে মাঠে যেন বসছে তারকাদের মিলনমেলা। স্পেনের টেনিস তারকা কার্লোস আলকারাজ এবং ২০১০ বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা বিশেষ প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মাঠে নিয়ে আসেন কাঙ্ক্ষিত ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি। সেই মুহূর্তে গ্যালারিজুড়ে শুরু হয় উচ্ছ্বাস।
এরপর মঞ্চে হাজির হন হলিউড সুপারস্টার টম ক্রুজ। ফুটবল, ঐক্য এবং বিশ্বকাপের চেতনাকে ঘিরে বক্তব্য দিয়ে ফাইনালের আবহ আরও জমিয়ে তোলেন তিনি। মাঠের বাইরের এই তারকাখচিত আয়োজনের পর এখন সব নজর স্পেন-আর্জেন্টিনার বহুল প্রতীক্ষিত মহারণে।

দুই দলের ফুটবলারদের ওয়ার্ম-আপ শেষ। শেষবারের মতো প্রস্তুতি সেরে তারা ফিরে গেছেন ড্রেসিংরুমে। এখন কোচদের শেষ নির্দেশনা আর মানসিক প্রস্তুতিতে ব্যস্ত স্পেন ও আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা।
এদিকে স্টেডিয়ামের ভেতরে সংগীতের তালে তালে জমে উঠেছে ফাইনালের আবহ। গ্যালারিভর্তি সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে বাড়ছে উত্তেজনা। খেলোয়াড়রা এখন টানেলে অপেক্ষা করছেন, আর কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই বিশ্বকাপ ট্রফির লড়াইয়ে মাঠে নামবে দুই দল।
ফাইনালের কিক-অফের আগে বিশ্বকাপ ট্রফি উন্মোচনের দায়িত্ব পালন করলেন দুই দেশের দুই কিংবদন্তি। ২০১০ বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনকে শিরোপা এনে দেওয়া জয়সূচক গোলের নায়ক আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা এবং ১৯৭৮ সালে আর্জেন্টিনাকে প্রথম বিশ্বকাপ জেতানো মারিও কেম্পেস একসঙ্গে মাঠে নিয়ে এলেন কাঙ্ক্ষিত ট্রফিটি।
দুই কিংবদন্তির হাতে সোনালি ট্রফির আবির্ভাবে স্টেডিয়ামজুড়ে তৈরি হয় আবেগঘন মুহূর্ত। এখন আর শুধু অপেক্ষা—৯০ কিংবা ১২০ মিনিট পরই নির্ধারিত হবে, চার বছর পর এই ট্রফি কার হাতে উঠবে।
পরিসংখ্যানের পাতা থেকে...
▪️স্পেনের বিপক্ষে শুরুর একাদশে নামার মাধ্যমে লিওনেল মেসি বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম ফুটবলার হিসেবে তিনটি ফাইনালে শুরুর একাদশে খেলছেন। এর আগে ব্রাজিলের কিংবদন্তি কাফু তিনটি ফাইনালে খেললেও একটিতে বদলি হিসেবে নেমেছিলেন।
▪️আর্জেন্টিনার এই একাদশের গড় বয়স ৩০ বছর ১০১ দিন। বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এর চেয়ে বেশি গড় বয়সের দল নিয়ে ফাইনাল খেলেছিল শুধু ১৯৬২ সালে চেকোস্লোভাকিয়ার বিপক্ষে ব্রাজিল (৩০ বছর ২১৬ দিন)।
▪️২০২২ বিশ্বকাপ ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে যে একাদশ খেলেছিল, সেই দলের আটজন এবারও শুরুর একাদশে আছেন। তারা হলেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ, ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, নিকোলাস তাগলিয়াফিকো, রদ্রিগো দে পল, এনসো ফার্নান্দেজ, আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, লিওনেল মেসি ও হুলিয়ান আলভারেজ।
▪️অন্যদিকে ১৯ বছর ৬ দিন বয়সে ফাইনালে খেলতে নেমে লামিন ইয়ামাল বিশ্বকাপ ইতিহাসের তৃতীয় সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার হলেন, যিনি ফাইনালে খেলছেন। তার আগে আছেন ১৯৫৮ সালে ব্রাজিলের পেলের (১৭ বছর ২৪৯ দিন) এবং ১৯৮২ সালে ইতালির জিউসেপ্পে বের্গোমির (১৮ বছর ২০১ দিন) নাম।
▪️বিশ্বকাপ ফাইনালে কিশোর (টিনএজার) হিসেবে গোল করার কীর্তি এখন পর্যন্ত মাত্র দুজনের—১৯৫৮ সালে পেলে (দুটি গোল) এবং ২০১৮ সালে ফ্রান্সের এমবাপ্পে। এবার সেই তালিকায় নিজের নাম লেখানোর সুযোগ থাকছে লামিন ইয়ামালের সামনে।

মেসির অনন্য কীর্তি, বিশ্বকাপের ইতিহাসে নতুন রেকর্ড
স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালে শুরুর একাদশে নামার মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে অনন্য এক রেকর্ড গড়লেন লিওনেল মেসি। প্রথম ফুটবলার হিসেবে তিনটি ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনালে শুরুর একাদশে খেলার কৃতিত্ব অর্জন করলেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক।
এর আগে ২০১৪ সালে জার্মানির বিপক্ষে এবং ২০২২ সালে ফ্রান্সের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ফাইনালে শুরু থেকেই খেলেছিলেন মেসি। এবার স্পেনের বিপক্ষেও প্রথম একাদশে থাকায় তার নামের পাশে যোগ হলো আরেকটি ঐতিহাসিক মাইলফলক।
এদিকে মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা আজ শিরোপা ধরে রাখার মিশনে নেমেছে। সফল হলে ইতালি ও ব্রাজিলের পর মাত্র তৃতীয় দল হিসেবে টানা দুটি বিশ্বকাপ জয়ের কীর্তি গড়বে আলবিসেলেস্তেরা।
গা গরম করে নিচ্ছেন দুদলের খেলোয়াড়রা

বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে নিউইয়র্ক–নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে পৌঁছেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্টেডিয়ামের আকাশে পরপর তিনটি বড় হেলিকপ্টার উড়ে যেতে দেখা যায়, যা তার আগমনেরই ইঙ্গিত দেয়।
এবারের বিশ্বকাপে এই প্রথম কোনো ম্যাচে সরাসরি উপস্থিত হলেন ট্রাম্প। তার আগমনকে ঘিরে স্টেডিয়ামজুড়ে নিরাপত্তাও জোরদার করা হয়েছে।

ট্রাম্পের জন্য নিরাপত্তার কড়াকড়ি, ম্যাচ শুরুর আগে সব দর্শকের মাঠে ঢুকতে পারা নিয়ে সংশয়।

বিশ্বকাপ ফাইনালকে সামনে রেখে নিউইয়র্ক–নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে পৌঁছে গেছে স্পেন দল। দলীয় বাস থেকে নামার সময় প্রথমবারের মতো দেখা গেল তরুণ তারকা লামিন ইয়ামালকে। ম্যাচের আগে সতীর্থদের সঙ্গে শান্ত ও আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গিতেই স্টেডিয়ামে প্রবেশ করেন তিনি।
আর কিছুক্ষণের মধ্যেই মাঠে নামবে দুই দল। এখন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত স্পেনের ফুটবলাররা।

সমাপনী অনুষ্ঠানের সব জৌলুস ছাপিয়ে অবশেষে স্টেডিয়ামে পৌঁছে গেছেন রাতের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ—লিওনেল মেসি। আর্জেন্টিনা সতীর্থদের সঙ্গে মাঠে পা রাখতেই গ্যালারিজুড়ে শুরু হয়েছে করতালি আর উচ্ছ্বাস।
আর কিছুক্ষণের অপেক্ষা। এরপরই বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় মঞ্চে শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে স্পেনের বিপক্ষে নেতৃত্ব দেবেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক।

বিশ্বকাপ ফাইনালের সমাপনী অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে বর্ণিল আয়োজনে। মাঠের মাঝখানে প্রায় ৫০ জন পারফরমারকে দেখা যায়, যাদের অর্ধেকের পরনে ছিল সোনালি আর বাকি অর্ধেকের নীল পোশাক। ঢাকের তালে তালে তাদের প্রাণবন্ত পরিবেশনা মুহূর্তেই উৎসবের আবহ ছড়িয়ে দেয় পুরো স্টেডিয়ামে।
এরপর মঞ্চে হাজির হন জনপ্রিয় ইউটিউবার ও অনলাইন তারকা আইশোস্পিড। সাদা পোশাকে তার উপস্থিতি দর্শকদের মধ্যে বাড়তি উন্মাদনা তৈরি করে। মাঠজুড়ে তখন করতালি আর উল্লাসে জমে ওঠে বিশ্বকাপ ফাইনালের প্রাক্-ম্যাচ আয়োজন।
জমকালো সমাপনী অনুষ্ঠানে থাকছেন তারকারা
বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে দর্শকদের জন্য থাকছে বর্ণাঢ্য সমাপনী অনুষ্ঠান। মাঠে পারফর্ম করবেন বিশ্বখ্যাত সংগীতশিল্পী লরা পাউসিনি, নিকোল শেরজিঙ্গার ও রবি উইলিয়ামস। তাদের সঙ্গে বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকছেন জনপ্রিয় ইউটিউবার আইশোস্পিড।
এছাড়া সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশেষ উপস্থিতি দিয়ে দর্শকদের চমকে দেবেন হলিউড তারকা টম ক্রুজ। সব মিলিয়ে স্পেন-আর্জেন্টিনার মহারণ শুরুর আগেই উৎসবের আমেজে মেতে উঠবে নিউইয়র্ক–নিউ জার্সি স্টেডিয়াম।

বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে সমাপনী অনুষ্ঠানের মঞ্চ মাতিয়ে তুললেন জনপ্রিয় মার্কিন গায়ক পোস্ট ম্যালোন। তার পরিবেশনায় উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে নিউইয়র্ক–নিউ জার্সি স্টেডিয়াম। স্পেন-আর্জেন্টিনার মহারণ শুরুর আগে জমকালো এই আয়োজন দর্শকদের উন্মাদনাকে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

আর্জেন্টিনার শুরুর একাদশে লাউতারো মার্তিনেজকে না রাখার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। তবে সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোর পারফরম্যান্সই হয়তো লিওনেল স্কালোনির এই সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
শেষ তিন ম্যাচে বদলি হিসেবে মাঠে নেমে দারুণ কার্যকর ছিলেন ইন্টার মিলানের এই ফরোয়ার্ড। ওই তিন ম্যাচে তিনি করেছেন দুটি গোল, সঙ্গে একটি অ্যাসিস্টও। অথচ তার আগের তিন ম্যাচে শুরুর একাদশে খেলেও মাত্র একটি গোলের দেখা পেয়েছিলেন।
এমন পারফরম্যান্সের পর ফাইনালেও স্কালোনি সম্ভবত লাউতারোকে ‘ইমপ্যাক্ট সাব’ হিসেবেই ব্যবহার করার পরিকল্পনা করেছেন, যাতে ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে বেঞ্চ থেকে নেমে পার্থক্য গড়ে দিতে পারেন তিনি।
বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে মুখোমুখি লড়াইয়ের পরিসংখ্যানেও একে অপরকে কঠিন চ্যালেঞ্জ দিচ্ছে স্পেন ও আর্জেন্টিনা। এখন পর্যন্ত ১৪ বার মুখোমুখি হয়েছে দুই দল। এর মধ্যে ছয়টি করে ম্যাচ জিতেছে উভয় দল, আর বাকি দুটি ম্যাচ শেষ হয়েছে ড্রয়ে।
গোলের হিসাবেও ব্যবধান সামান্য। স্পেনের জালে ১৮ বার বল পাঠিয়েছে আর্জেন্টিনা, আর স্পেন করেছে ১৯ গোল। অর্থাৎ মুখোমুখি লড়াইয়ের ইতিহাস বলছে, দুই দলের শক্তির পার্থক্য প্রায় নেই বললেই চলে। আজকের ফাইনালে সেই সমতা ভাঙার অপেক্ষা।
বিশ্বকাপ ফাইনালের আনুষ্ঠানিক একাদশ প্রকাশ করেছে স্পেন ও আর্জেন্টিনা। স্পেন সম্ভাব্য একাদশের মতোই কোনো পরিবর্তন আনেনি। তবে আর্জেন্টিনা শেষ মুহূর্তে একটি বদল করেছে। নাহুয়েল মোলিনার জায়গায় ডান প্রান্তের রক্ষণে সুযোগ পেয়েছেন গনসালো মন্তিয়েল। এছাড়া নিকো গনসালেস নেমেছেন মাঝমাঠে। অধিনায়ক লিওনেল মেসির সঙ্গে আক্রমণে থাকছেন হুলিয়ান আলভারেজ।
স্পেনের একাদশ:
উনাই সিমোন; পেদ্রো পোরো, পাও কুবারসি, আয়মেরিক লাপোর্তে, মার্ক কুকুরেয়া; ফাবিয়ান রুইস, রদ্রি, দানি ওলমো; আলেক্স বায়েনা, লামিন ইয়ামাল, মিকেল ওইয়ারসাবাল।
আর্জেন্টিনার একাদশ:
এমিলিয়ানো মার্তিনেজ; গনসালো মন্তিয়েল, ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, নিকোলাস তাগলিয়াফিকো; রদ্রিগো দে পল, এনসো ফার্নান্দেজ, আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, নিকো গনসালেস; লিওনেল মেসি, হুলিয়ান আলভারেজ।

লিওনেল মেসির জন্য আজকের রাতটি হতে পারে আরেকটি ইতিহাস লেখার মঞ্চ। কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে শিরোপা জেতানো অধিনায়ক এবার টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের হাতছানি সামনে নিয়ে নামছেন ফাইনালে।
৩৯ বছর বয়সী মেসির জন্য এটিই সম্ভবত শেষ বিশ্বকাপ। চার বছর পরের আসরে তাঁকে দেখা যাবে কি না, সে প্রশ্নের উত্তর ভবিষ্যতের হাতে। তাই এই ফাইনাল অনেকের কাছেই মেসির বিশ্বকাপ অধ্যায়ের শেষ পর্ব।
তবে মেসিকে নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করা কখনোই সহজ নয়। বয়সের হিসাব যেখানে সাধারণ মানুষের জন্য, সেখানে মেসি বারবার প্রমাণ করেছেন তিনি যেন সেই নিয়মের বাইরেই হাঁটেন। তাই শেষ বাঁশি বাজার আগে তাঁর গল্পের শেষ লাইনটি লিখে ফেলার সাহস খুব কম মানুষেরই আছে।
বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে দুই দলের সম্ভাব্য শুরুর একাদশ সামনে এসেছে। বড় কোনো চমক রাখেননি দুই কোচ। নিজেদের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ফুটবলারদের নিয়েই শিরোপার লড়াইয়ে নামতে প্রস্তুত স্পেন ও আর্জেন্টিনা।
লুইস দে লা ফুয়েন্তের স্পেন ৪-৩-৩ ছকে খেলতে পারে। গোলপোস্টে থাকবেন উনাই সিমোন। রক্ষণে পেদ্রো পোরো, আয়মেরিক লাপোর্তে, পাও কুবারসি ও মার্ক কুকুরেয়া। মাঝমাঠে রদ্রি, ফাবিয়ান রুইস ও দানি ওলমো। আর আক্রমণভাগের দায়িত্ব থাকছে লামিন ইয়ামাল, আলেক্স বায়েনা ও মিকেল ওইয়ারসাবালের কাঁধে।
অন্যদিকে লিওনেল স্কালোনির আর্জেন্টিনা নামতে পারে ৪-৪-২ ছকে। গোলবার সামলাবেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। রক্ষণে থাকছেন নাহুয়েল মোলিনা, ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ ও নিকোলাস তাগলিয়াফিকো। মাঝমাঠে লিয়ান্দ্রো পারেদেস, আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, রদ্রিগো দে পল ও এনসো ফার্নান্দেজ। সামনে জুটিতে দেখা যেতে পারে অধিনায়ক লিওনেল মেসি ও হুলিয়ান আলভারেজকে।
সম্ভাব্য একাদশ
স্পেন (৪-৩-৩): উনাই সিমোন; পেদ্রো পোরো, আয়মেরিক লাপোর্তে, পাও কুবারসি, মার্ক কুকুরেয়া; রদ্রি, ফাবিয়ান রুইস, দানি ওলমো; লামিন ইয়ামাল, আলেক্স বায়েনা, মিকেল ওইয়ারসাবাল।
আর্জেন্টিনা (৪-৪-২): এমিলিয়ানো মার্তিনেজ; নাহুয়েল মোলিনা, ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, নিকোলাস তাগলিয়াফিকো; লিয়ান্দ্রো পারেদেস, আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, রদ্রিগো দে পল, এনসো ফার্নান্দেজ; লিওনেল মেসি, হুলিয়ান আলভারেজ।
ফাইনালের কিক-অফ কি আবহাওয়ার কারণে পিছিয়ে যাবে?
সম্ভাবনা খুবই কম।
আবহাওয়াবিদদের মতে, কানাডার দাবানল থেকে ছড়িয়ে পড়া ধোঁয়া বজ্রঝড়ের কারণে ধীরে ধীরে নিউ জার্সি এলাকা থেকে সরে যাচ্ছে। ফলে রোববার স্পেন ও আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ ফাইনাল নির্ধারিত সময়েই শুরু হওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি।
বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে নিউ জার্সির আবহাওয়া কিছুটা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে এখনো অস্বাস্থ্যকর বায়ুমানের সতর্কতা বহাল রয়েছে। এদিকে সীমান্ত পেরিয়ে আসা ধোঁয়ার জন্য কানাডাকেই দায়ী করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ফাইনালের ভেন্যু মেটলাইফ স্টেডিয়ামের আকাশও গত কয়েক দিনের মতোই ঘন ধূসর কুয়াশা ও ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন। এর মধ্যেই প্রবল বজ্রঝড় ও ভারী বৃষ্টির কারণে আকস্মিক বন্যার সতর্কতা জারি করা হয়। সেই বৈরী আবহাওয়ার প্রভাব পড়েছে স্পেন দলের প্রস্তুতিতেও। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ফাইনালের আগে নিজেদের শেষ অনুশীলন নির্ধারিত সময়ের আগেই বন্ধ করতে বাধ্য হয় লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা।

সব প্রস্তুতি শেষ। নিউইয়র্কের নিউ জার্সি স্টেডিয়াম এখন অপেক্ষায় স্পেন ও আর্জেন্টিনার মহারণের। বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের স্বপ্ন নিয়ে দুই দল নামবে মাঠে, আর সেই লড়াই উপভোগ করতে গ্যালারিতে থাকবেন কানায় কানায় পূর্ণ দর্শক।
ইতোমধ্যেই সমর্থকেরা স্টেডিয়ামে ঢুকতে শুরু করেছেন। নীল-সাদা আর লাল-হলুদ জার্সিতে রঙিন হয়ে উঠছে গ্যালারি। আর কিছুক্ষণের মধ্যেই শুরু হবে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় লড়াই।

বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার কোনো একক পথ নেই। একই গন্তব্যে পৌঁছানোর গল্প হতে পারে একেবারেই ভিন্ন।
আর্জেন্টিনা এবারের বিশ্বকাপে প্রমাণ করেছে, সবকিছু পরিকল্পনামাফিক না চললেও শেষ পর্যন্ত জয় ছিনিয়ে নেওয়া সম্ভব। অন্যদিকে স্পেন পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে খেলেছে নিজেদের ছন্দে, প্রতিটি ম্যাচকে নিয়ন্ত্রণ করেছে নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ী। আজ বিশ্বকাপ ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে এই দুই ভিন্ন যাত্রার গল্প।
নিউ জার্সির ইস্ট রাদারফোর্ডে পৌঁছানোর পথে আর্জেন্টিনাকে লড়াই করে প্রতিটি বাধা অতিক্রম করতে হয়েছে। আর স্পেন যেন আত্মবিশ্বাসের ডানায় ভর করেই উড়ে এসেছে ফাইনালের মঞ্চে।
লুইস দে লা ফুয়েন্তের ইউরো চ্যাম্পিয়নরা এবারের বিশ্বকাপে উপহার দিয়েছে সবচেয়ে পরিপূর্ণ পারফরম্যান্স। সাত ম্যাচে ছয়টি ক্লিনশিট, মাত্র একটি গোল হজম, আর সবচেয়ে বিস্ময়কর তথ্য—পুরো টুর্নামেন্টে এক মিনিটের জন্যও পিছিয়ে পড়েনি তারা। সেমিফাইনালে একই দাপট ধরে রেখে ফ্রান্সকে হারিয়েছে স্পেন, ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী আক্রমণভাগকে কার্যত নিষ্ক্রিয় করে দিয়েছিল তারা।
অন্যদিকে আর্জেন্টিনার পথ ছিল নাটকীয়তায় ভরা। লিওনেল স্কালোনির বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা মিসরের বিপক্ষে দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করেছে। কখনো জিততে হয়েছে টাইব্রেকারে, কখনো লড়তে হয়েছে অতিরিক্ত সময়ে। আবার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বিদায়ের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়েও শেষ মুহূর্তের দুই গোলে ঘুরে দাঁড়িয়ে নিশ্চিত করেছে ফাইনালের টিকিট।
পুরো আসরজুড়ে একাধিকবার হার মানার উপক্রম হলেও প্রতিবারই নতুন করে জেগে উঠেছে আর্জেন্টিনা। আর সেই অদম্য লড়াকু মানসিকতার পুরস্কার হিসেবেই আজ তারা দাঁড়িয়ে আছে বিশ্বকাপ ফাইনালের মহামঞ্চে।
স্বাগতম!
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ফাইনালে স্পেন ও আর্জেন্টিনার মহারণের দৈনিক আমার দেশ-এর লাইভ কভারেজে আপনাকে স্বাগতম। টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্যে লিওনেল মেসি ও তাঁর আর্জেন্টিনা মাঠে নামছে। তাদের প্রতিপক্ষ ২০১০ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন।