বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। শেষ ষোলোর ম্যাচে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হার মানায় সেলেসাওদের এই দুর্গতি। মাঠের এই চরম ব্যর্থতার পর স্বাভাবিকভাবেই সেলেসাওদের ডাগআউটে কার্লো আনচেলত্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়েছিল। তবে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ) স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, বড় এই ধাক্কার পরও ইতালিয়ান কোচের ওপর আস্থা হারাচ্ছে না তারা। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত ব্রাজিলের ডাগআউটে থাকছেন আনচেলত্তিই।
ব্রাজিল জাতীয় দলের নির্বাহী পরিচালক রদ্রিগো কায়তানো স্পষ্ট করেছেন যে, এই মুহূর্তে তাড়াহুড়ো করে কোচ ছাঁটাইয়ের কোনো পরিকল্পনা ফেডারেশনের নেই। বরং দীর্ঘমেয়াদী প্রজেক্টের অংশ হিসেবেই তাকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালে রিয়াল মাদ্রিদের অধ্যায় চুকিয়ে বাছাইপর্বের শেষ দিকে ব্রাজিলের দায়িত্ব নিয়েছিলেন আনচেলত্তি। দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র বছর খানেকের মাথায় বিশ্বকাপ মিশন শুরু করে ব্রাজিল। টুর্নামেন্টের শুরুতে দল কিছুটা এলোমেলো থাকলেও ধীরে ধীরে ছন্দে ফিরছিল, যদিও নকআউট পর্বের প্রথম বড় পরীক্ষাতেই নরওয়ের কাছে থমকে যেতে হয়েছে তাদের।
কোয়ার্টার ফাইনালের আগেই বিদায় নিশ্চিত হলেও সিবিএফ এখন শান্ত থেকে দল পুনর্গঠনে মনোযোগী হতে চায়। কায়তানো বলেন, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য হলো স্বাভাবিক কাঠামোর মধ্যে কাজ করা এবং পরবর্তী বিশ্বকাপের জন্য শান্ত পরিবেশে প্রস্তুতি নেওয়া।’ নরওয়ের কাছে হারের পর ড্রেসিংরুমজুড়ে খেলোয়াড় ও স্টাফদের মধ্যে তীব্র হতাশা এবং মর্মাহত পরিবেশ বিরাজ করলেও, বিগত ৩৮ দিনে আনচেলত্তির অধীনে দলের কঠোর পরিশ্রম ও ধাপে ধাপে উন্নতির প্রশংসাও করেছেন তিনি।
খোদ কার্লো আনচেলত্তিও এখনই হাল ছাড়তে নারাজ। এই কিংবদন্তী কোচ নিজের হতাশা প্রকাশ করলেও ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় নিয়ে জানিয়েছেন, ‘এটাই শেষ নয়, আমাদের নতুন করে শুরু করতে হবে।’ সিবিএফ-এর এই সিদ্ধান্ত ইঙ্গিত দেয়, তারা সাময়িক ব্যর্থতার চেয়ে আনচেলত্তির অভিজ্ঞতার ওপর ভর করে দীর্ঘমেয়াদী সফলতার পথেই হাঁটতে চায়।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

