নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সেমিফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রাখতে জয়ের বিকল্প ছিল না। কিন্তু লর্ডসে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে লড়াই করেও শেষ পর্যন্ত হার এড়াতে পারেনি বাংলাদেশ। ৪ উইকেটে হেরে টুর্নামেন্টের শেষ চারে ওঠার স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে নিগার সুলতানা জ্যোতির দলের।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের রেকর্ড আগেও খুব একটা সুখকর ছিল না। ১৬তম দেখায়ও সেই পরিসংখ্যান বদলাতে পারল না টাইগ্রেসরা।
টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিলেও শুরু থেকেই ধীরগতির ব্যাটিংয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। ইনিংসের প্রথম বলেই জুহাইরিয়া ফেরদৌস শূন্য রানে ফিরলে দ্রুতই আরেক ওপেনার তাজ নেহারও বিদায় নেন। পাওয়ার প্লের ছয় ওভারে মাত্র ২৩ রান তুলতে গিয়ে দুই উইকেট হারানোই শেষ পর্যন্ত বড় ব্যবধান গড়ে দেয়।
এরপর শারমিন আক্তার ও সোবহানা মোস্তারি ৫৬ রানের জুটি গড়ে ইনিংস মেরামতের চেষ্টা করেন। মোস্তারি ৪৮ বলে ৪২ রান করে আউট হওয়ার পর আবারও চাপে পড়ে বাংলাদেশ। শেষদিকে অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি ২০ বলে ৩২ রানের অপরাজিত ঝড়ো ইনিংস খেলে দলকে ৫ উইকেটে ১১৭ রানে পৌঁছে দেন।
বাংলাদেশের পুরো ইনিংসে ছিল ৬২টি ডট বল। ২০ ওভারে মাত্র ৮টি চার ও ২টি ছক্কা হাঁকাতে পেরেছে টাইগ্রেসরা, যা প্রতিযোগিতামূলক সংগ্রহ গড়ার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ননকুলুলেকো ম্লাবা দুটি উইকেট নেন, আর শুরুতে দারুণ নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেন মারিজানে ক্যাপ ও শাবনিম ইসমাইল।
১১৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে প্রথম বলেই লরা উলভার্টকে বোল্ড করে দারুণ সূচনা এনে দেন মারুফা আক্তার। তবে সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। তাজমিন ব্রিটস ও অ্যানেরি ডার্কসেন দ্বিতীয় উইকেটে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দিকে নিয়ে যান।
বাংলাদেশ অবশ্য সহজে হার মানেনি। নাহিদা আক্তারের নিয়ন্ত্রিত স্পিনে দক্ষিণ আফ্রিকাকে চাপে রাখা হয় এবং ম্যাচ শেষ ওভার পর্যন্ত গড়ায়। নাহিদা ২৪ রানে ২ উইকেট শিকার করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত চার বল হাতে রেখেই ৪ উইকেটের জয় তুলে নেয় প্রোটিয়ারা।
এই হারে পাঁচ ম্যাচে বাংলাদেশের হার দাঁড়াল তিনটিতে। যদিও নেদারল্যান্ডস ও পাকিস্তানকে হারিয়ে শুরুতে দারুণ সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, শেষ পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে পরাজয়েই শেষ হয়ে গেল জ্যোতিদের সেমিফাইনালের স্বপ্ন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

