অভিশাপ কাটাতে পারবে স্কালোনির আর্জেন্টিনা?

অভিশাপ কাটাতে পারবে স্কালোনির আর্জেন্টিনা?

চিরপ্রতিদ্বন্দী ইংল্যান্ডকে শ্বাসরুদ্ধকর সেমিফাইনালে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে টিকিট কেটেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। একই সঙ্গে তারা পুনরুদ্ধার করেছে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানও। কিন্তু এই আনন্দ উদযাপনের মাঝেই আলবিসেলেস্তে শিবিরে ভর করেছে এক পুরোনো ঐতিহাসিক খরা বা ‘অভিশাপের’ শঙ্কা।

বিজ্ঞাপন

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়ের পর ২৬.৯০ পয়েন্ট অর্জন করে মোট ১৯৬০.৩৭ পয়েন্ট নিয়ে বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বরে উঠে এসেছে লিওনেল মেসির দল। এর আগে গত ২ জুলাই আর্জেন্টিনাকে টপকে শীর্ষে যাওয়া ফ্রান্স সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে ২-০ গোলে হেরে শীর্ষস্থান হারায়।

অন্যদিকে, ফ্রান্সকে হারিয়ে ৩০.৮২ পয়েন্ট যোগ করে ১৯৬৫.৬১ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে ফাইনালের অপর প্রতিদ্বন্দ্বী স্পেন। ফলে বিশ্বকাপের মেগা ফাইনালটি এখন রূপ নিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের ১ নম্বর বনাম ২ নম্বর দলের লড়াইয়ে।

শীর্ষস্থান ফিরে পাওয়াটা মাঠের পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হলেও পরিসংখ্যান বলছে ভিন্ন কথা। ১৯৯২ সালে ফিফা অফিশিয়াল র‍্যাঙ্কিং চালু করার পর থেকে আজ পর্যন্ত কোনো দলই বিশ্বকাপের আগে বা টুর্নামেন্ট চলাকালীন র‍্যাঙ্কিংয়ের ১ নম্বরে থেকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি। ফুটবল বিশ্বে এটি এখন একটি প্রতিষ্ঠিত কুসংস্কার বা 'রং নম্বর অভিশাপ' হিসেবে পরিচিত।

এক নজরে শীর্ষ দলের ব্যর্থতার ইতিহাস:

১৯৯৪ বিশ্বকাপ: ১ নম্বরে থাকা জার্মানি কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নেয়; চ্যাম্পিয়ন হয় ব্রাজিল।

১৯৯৮ বিশ্বকাপ: শীর্ষে থাকা ব্রাজিল ফাইনালে উঠলেও ফ্রান্সের কাছে ৩-০ গোলে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়।

২০০২ বিশ্বকাপ: তৎকালীন ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ও শীর্ষ দল ফ্রান্স গ্রুপ পর্বই পার হতে পারেনি।

২০০৬-২০১৪ বিশ্বকাপ: এই সময়ে শীর্ষস্থানে থাকা ব্রাজিল ও স্পেন টুর্নামেন্টের বিভিন্ন ধাপে ফেভারিট হিসেবে এসেও ছিটকে যায়।

২০১৮ বিশ্বকাপ: ১ নম্বরে থাকা জার্মানি গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়।

২০২২ বিশ্বকাপ: ১ নম্বরে থেকে কাতার বিশ্বকাপে আসা ব্রাজিল কোয়ার্টার ফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার কাছে হেরে বিদায় নেওয়ার পরই মূলত আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ পায়।

চলতি বিশ্বকাপে ফ্রান্সের আধিপত্য ভেঙে আর্জেন্টিনা যখনই শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধার করেছে, তখনই তিন দশকের এই অভিশাপের চাকা তাদের দিকে ঘুরে গেছে। লিওনেল মেসি ও কোচ লিওনেল স্কালোনির সামনে এখন দ্বৈত চ্যালেঞ্জ—একদিকে ইউরোপের পরাশক্তি স্পেনের বিপক্ষে শিরোপা ধরে রাখা, অন্যদিকে ৩২ বছরের এই অপয়া পরিসংখ্যান ভেঙে নতুন ইতিহাস রচনা করা। আজকের ফাইনালেই মিলবে এর চূড়ান্ত উত্তর।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন