রোমাঞ্চকর ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে শক্তিশালী নেদারল্যান্ডস ও উত্তর আফ্রিকার দেশ তিউনিসিয়া। আপাত দৃষ্টিতে ম্যাচটি ফিফা র্যাংকিংয়ের অষ্টম দল নেদারল্যান্ডসের জন্য গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার এবং ফিফা র্যাংকিংয়ের ৫৭তম দল তিউনিসিয়ার জন্য কেবলই নিয়মরক্ষার হলেও মাঠের লড়াইয়ে এর আবহ ভিন্ন। ইতোমধ্যে গাণিতিকভাবে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়া তিউনিসিয়া এ ম্যাচে মাঠে নামছে কেবলই নিজেদের সম্মান ও গৌরব পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য নিয়ে। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘এফ’-এর ম্যাচে আগামীকাল শুক্রবার ভোর ৫টায় অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে একে অন্যকে মোকাবিলা করবে দুদল।
গ্রুপের বর্তমান নিয়মে গোল ব্যবধানের চেয়ে হেড-টু-হেড রেকর্ডকে প্রাথমিক প্রধান্য দেওয়ায় টানা দুই ম্যাচ হেরে তিউনিসিয়ার পরের রাউন্ডে যাওয়ার স্বপ্ন পুরোপুরি শেষ হয়ে গেছে। অপরদিকে চার পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে থাকা ডাচরা এ ম্যাচ থেকে অন্তত এক পয়েন্ট পেলেই শেষ ৩২-এর টিকিট নিশ্চিত করবে। তবে নকআউট পর্বে সহজ প্রতিপক্ষ পাওয়ার লক্ষ্যে কোম্যানের শিষ্যদের মূল লক্ষ্য থাকবে তিউনিসিয়াকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে গ্রুপসেরা হওয়া।
টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে জাপানের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করে ডাচদের শুরুটা আশানুরূপ ছিল না। তবে দ্বিতীয় ম্যাচেই তারা ফিরে আসে চেনা ছন্দে। সুইডেনের রক্ষণভাগ চূর্ণবিচূর্ণ করে ৫-১ গোলের এক বিধ্বংসী জয় তুলে নেয় কোচ রোনাল্ড কোম্যানের দল। ব্রায়ান ব্রোবির শারীরিক সক্ষমতা এবং কোডি গ্যাকপোর চমৎকার জোড়া গোল ডাচদের আক্রমণভাগের শক্তি ফুটিয়ে তুলেছে। বদলি হিসেবে নেমে ক্রিসেনসিও সামারভিলের গোল প্রমাণ করে তাদের বেঞ্চের শক্তিও কতটা গভীর।
অন্যদিকে তিউনিসিয়ার বিশ্বকাপযাত্রা শুরু হয়েছে এক চরম বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে। প্রথম ম্যাচে সুইডেনের কাছে ৫-১ গোলে বিধ্বস্ত হওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্ত করা হয় কোচ সাব্রি লামৌচিকে। পরিস্থিতি সামাল দিতে নিয়ে আসা হয় মরক্কোর সাবেক অভিজ্ঞ কোচ হার্ভে রেনার্ডকে। কিন্তু রেনার্ডের প্রথম ম্যাচটিও ছিল তিউনিসিয়ার জন্য এক বড় ধাক্কা। জাপানের গতিময় ফুটবলের কাছে ৪-০ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যায় ‘কার্থেজের ঈগলরা’। পুরো ম্যাচে তারা একটি শটও গোল অভিমুখে রাখতে পারেনি। ইতিহাসে চতুর্থ দল হিসেবে এক বিশ্বকাপে টানা দুই ম্যাচে চার বা তার বেশি গোল হজমের এক লজ্জাজনক রেকর্ডের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে তারা।
টানা দুই ম্যাচে বড় ব্যবধানে হারের পর কোচ হার্ভে রেনার্ড রক্ষণভাগের পাঁচ ডিফেন্ডারের কৌশল থেকে সরে এসে প্রথাগত চার ডিফেন্ডারের ফরমেশনে দল সাজাতে পারেন। সেন্ট্রাল ডিফেন্স থেকে ডিলান ব্রন বা মোন্টাসার তালবির যেকোনো একজন বাদ পড়তে পারেন। ফুলব্যাক পজিশনে যথারীতি খেলবেন ইয়ান ভ্যালেরি এবং দলের পক্ষে বর্তমানে সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক গোলের মালিক আলি আবদি। মাঝমাঠে বার্নলির হানিবাল মেজব্রিকে দেখা যাবে অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারের ভূমিকায়, যাকে পেছন থেকে ব্যাকআপ দেবেন এলিয়েস স্কিরি ও আনিস বেন স্লিমানে।
নেদারল্যান্ডস শিবিরে বড় স্বস্তি এনে দিচ্ছে কুইন্টেন টিম্বারের প্রত্যাবর্তন, যিনি কনকাশন বা মাথায় আঘাতজনিত কারণে সুইডেন ম্যাচে খেলতে পারেননি। আক্রমণভাগে ব্রায়ান ব্রোবির সামান্য চোটের সমস্যা থাকলেও তিনি ফিট থাকলে গ্যাকপো ও ডনিয়েল ম্যালেনকে সঙ্গে নিয়ে তিনিই শুরু করবেন। মাঝমাঠে ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ংয়ের চমৎকার নিয়ন্ত্রণ ও শান্ত ফুটবল ডাচ দলকে বড় ধরনের স্থিতিশীলতা দিচ্ছে, যেখানে তার সঙ্গী হিসেবে থাকছেন ম্যানচেস্টার সিটির তিজানি রেইন্ডার্স ও লিভারপুলের রায়ান গ্রেভেনবার্চ।
ইতিহাস ও সাম্প্রতিক ফর্ম—সব দিক থেকেই নেদারল্যান্ডস এ ম্যাচে ফেভারিট। বিশ্বকাপে আফ্রিকান দলগুলোর বিপক্ষে ডাচদের রেকর্ড অসাধারণ (৪ জয়, ১ ড্র) এবং তারা কখনই আফ্রিকার কোনো দলের কাছে হারেনি। এর আগে তিউনিসিয়ার সঙ্গে তিনবারের দেখায়ও অপরাজেয় রয়েছে নেদারল্যান্ডস। অন্যদিকে তিউনিসিয়া ইউরোপীয় দলগুলোর বিপক্ষে খেলা ১৩ বিশ্বকাপ ম্যাচের মধ্যে মাত্র একটিতে জয় পেয়েছে। তিউনিসিয়ার বর্তমান ভঙ্গুর রক্ষণভাগ এবং দুর্বল আক্রমণভাগের সুযোগ নিয়ে নেদারল্যান্ডস ৩-০ ব্যবধানের একটি হেসে-খেলে জয় তুলে নিতে পারে বলে ফুটবল বিশ্লেষকদের ধারণা।
ফিফা র্যাংকিংয়ে অবস্থান
নেদারল্যান্ডস ৮
তিউনিসিয়া ৫৭
মুখোমুখি লড়াই তিন ম্যাচ
নেদারল্যান্ডসের জয় ১
তিউনিসিয়ার জয় ০
ড্র ২
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

