আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগের চাপে বারবার ভুল করতে বাধ্য হচ্ছে সুইজারল্যান্ডের আক্রমণভাগ। সামনে পাস বাড়ানোর চেষ্টা করতে গিয়ে দান এনদোয়ের পা থেকে বল সরাসরি টাচলাইনের বাইরে চলে যায়। ফলে থ্রো-ইন পায় আর্জেন্টিনা।
হাইড্রেশন বিরতি শেষে আবার মাঠে গড়িয়েছে খেলা। এবার দেখার বিষয়, বিরতির সময় কোচ মুরাত ইয়াকিনের নির্দেশনা সুইজারল্যান্ডকে ম্যাচে ফেরাতে কতটা অনুপ্রাণিত করতে পারে। এক গোলে পিছিয়ে থাকা সুইসদের সামনে এখন সমতায় ফেরার বড় চ্যালেঞ্জ।

লিওনেল মেসি ফিফা বিশ্বকাপে নিজের ১০তম অ্যাসিস্ট করলেন। ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপ ইতিহাসে আর কোনো খেলোয়াড় এত অ্যাসিস্ট করতে পারেননি। দ্বিতীয় স্থানে থাকা দিয়েগো ম্যারাডোনার অ্যাসিস্ট ৮টি।
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ১৫টি গোলে সরাসরি অবদান (গোল + অ্যাসিস্ট) রয়েছে মেসির, যা গত ৬০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে আছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে, তাঁর অবদান ১৪টি।
১৯৬৬ সালের পর ছয়টি ভিন্ন বিশ্বকাপে অ্যাসিস্ট করা একমাত্র ফুটবলারও লিওনেল মেসি।
মাঠের মাঝখানে লিসান্দ্রো মার্তিনেজকে ফাউল করেন সুইজারল্যান্ডের জিব্রিল সাও। সেই সুযোগেই খেলা থামিয়ে হাইড্রেশন বিরতির নির্দেশ দেন রেফারি। প্রচণ্ড গরমের কারণে খেলোয়াড়রা এখন পানি পান করে কিছুটা সতেজ হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
দীর্ঘ এক পাস বাড়ানো হয় হুলিয়ান আলভারেজের উদ্দেশে। বল দখলের লড়াইয়ে সুইজারল্যান্ডের ডিফেন্ডার মানুয়েল আকাঞ্জির সঙ্গে দ্বৈরথে জড়ান আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড। তবে এবার জয়টা আকাঞ্জিরই—দারুণ রক্ষণে আলভারেজকে কোনো সুযোগই দেননি তিনি।

লিওনেল মেসি কর্নার থেকে দারুণ এক বাঁকানো ক্রস ভাসিয়ে দেন বক্সের মধ্যে। সবার ওপরে উঠে দুর্দান্ত এক গ্ল্যান্সিং হেডে বল জালে জড়িয়ে দেন অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। সুইজারল্যান্ডের গোলরক্ষক গ্রেগর কোবেলের কোনো সুযোগই ছিল না।
আর্জেন্টিনা ১-০ সুইজারল্যান্ড
এটাই ২০২৬ বিশ্বকাপে ম্যাক অ্যালিস্টারের প্রথম গোল। আর সেটিও এলো অধিনায়ক মেসির নিখুঁত অ্যাসিস্ট থেকে।

শুরুর চাপ সামলে এবার কিছুটা সময়ের জন্য বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে রাখতে সক্ষম হয়েছে আর্জেন্টিনা। ডান প্রান্তে বল পেয়ে লিওনেল মেসি দারুণ এক থ্রু পাস বাড়িয়ে দেন নাহুয়েল মোলিনার উদ্দেশে। মোলিনার বক্সের ভেতরে পাঠানো ক্রসটি অবশ্য সময়মতো ক্লিয়ার করে বিপদমুক্ত করেন সুইজারল্যান্ডের ডিফেন্ডার নিকো এলভেদি।
ম্যাচের শুরুর মুহূর্তগুলোতে দারুণ ছন্দে দেখা যাচ্ছে সুইজারল্যান্ডকে। আর্জেন্টিনার অর্ধে প্রতিটি বলের জন্যই লাইনে উঠে প্রেসিং করছে সুইস ফুটবলাররা। শুরু থেকেই বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ওপর চাপ তৈরি করার চেষ্টা করছে গ্রানিত জাকার দল।

এক মিনিট নীরবতা, এরপরই খেলা শুরু!
দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে এই বিশ্বকাপে খেলা মিডফিল্ডার জেডেন অ্যাডামসের মর্মান্তিক মৃত্যুতে শোক জানাতে সেন্টার সার্কেলে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন দুই দলের খেলোয়াড়, ম্যাচ কর্মকর্তাসহ স্টেডিয়ামে উপস্থিত সবাই।
...এবং খেলা শুরু!
রেফারির বাঁশির সঙ্গে ম্যাচে প্রথম কিক নেয় সুইজারল্যান্ড। লাল জার্সিতে তারা ডান দিক থেকে বাঁ দিকে আক্রমণ শুরু করেছে। অন্যদিকে নীল-সাদা ডোরাকাটা জার্সিতে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা খেলছে বাঁ দিক থেকে ডান দিকে।
দুই দলের খেলোয়াড়রা টানেলে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছেন। এদিকে মাঠজুড়ে মেলে ধরা হয়েছে আর্জেন্টিনা ও সুইজারল্যান্ডের বিশাল জাতীয় পতাকা। অধিনায়ক লিওনেল মেসি ও গ্রানিত জাকা নিজেদের দলকে নিয়ে মাঠে প্রবেশ করলেন। মনে পড়ে যায় ২০১৪ বিশ্বকাপের সেই লড়াই, যেখানে সুইজারল্যান্ডকে হারাতে আর্জেন্টিনাকে খেলতে হয়েছিল অতিরিক্ত সময়।
কানসাস সিটিতে কি এবার বদলে যাবে সেই গল্প?
গ্যালারির বজ্রধ্বনির করতালির মধ্যে দুই দল সেন্টার সার্কেলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। শুরু হলো জাতীয় সংগীত পরিবেশন।
আর্জেন্টিনার জাতীয় সংগীতের সঙ্গে গলা মেলান হাজারো সমর্থক। পুরো স্টেডিয়াম যেন নীল-সাদা উন্মাদনায় কেঁপে ওঠে। শেষ মুহূর্তে মেসিকেও দেখা যায় আবেগভরে সংগীত গাইতে। এরপর বাজানো হয় সুইজারল্যান্ডের জাতীয় সংগীত। তুলনামূলক শান্ত পরিবেশ হলেও সেটিও ছিল সমান অনুপ্রেরণাদায়ক।
এবার কিকঅফের অপেক্ষা!
কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে মাঠে প্রবেশ করছেন দুই দলের ফুটবলাররা। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন লিওনেল মেসি, আর সুইজারল্যান্ডের অধিনায়কের দায়িত্বে আছেন গ্রানিত জাকা।

খেলোয়াড়দের জীবনে কুসংস্কার বা নির্দিষ্ট কিছু অভ্যাস নতুন নয়। আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার রদ্রিগো ডি পল ও লিয়ান্দ্রো পারেদেসেরও রয়েছে তেমনই একটি মজার রীতি। প্রতিটি ম্যাচের আগে তারা নির্দিষ্ট ধরনের ক্যান্ডি খেয়ে মাঠে নামেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আর্জেন্টিনার অভূতপূর্ব সাফল্যের সঙ্গে এই ‘লাকি’ রীতিরও যেন এক অদ্ভুত যোগসূত্র তৈরি হয়েছে।
যেভাবে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা
আর্জেন্টিনা ৩-০ আলজেরিয়া
আর্জেন্টিনা ২-০ অস্ট্রিয়া
জর্ডান ১-৩ আর্জেন্টিনা
আর্জেন্টিনা ৩-২ কেপ ভার্দে
আর্জেন্টিনা ৩-২ মিশর
যেভাবে কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ড
কাতার ১-১ সুইজারল্যান্ড
সুইজারল্যান্ড ৪-১ বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা
সুইজারল্যান্ড ২-১ কানাডা
সুইজারল্যান্ড ২-০ আলজেরিয়া
সুইজারল্যান্ড ০-০ কলম্বিয়া (টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে জয়ী সুইজারল্যান্ড)



ফ্ল্যাশব্যাক!
সেমিফাইনালে অপেক্ষায় ইংল্যান্ড!
শেষ কোয়ার্টার ফাইনালের বিজয়ী দল সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ডের। জুড বেলিংহামের দুর্দান্ত জোড়া গোলে এক গোল পিছিয়ে থেকেও অতিরিক্ত সময়ে নরওয়েকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছে থ্রি লায়ন্স।
আর্জেন্টিনা বনাম সুইজারল্যান্ড: মুখোমুখি পরিসংখ্যান
মোট ম্যাচ: ৭টি
আর্জেন্টিনার জয়: ৫টি
সুইজারল্যান্ডের জয়: ০টি
ড্র: ২টি

সুইজারল্যান্ডের শুরুর একাদশ (৪-২-৩-১):
কোবেল (গোলরক্ষক), জাকারিয়া, আকাঞ্জি, এলভেদি, রদ্রিগেজ, ফ্রয়লার, জাকা, এনদোয়ে, রিডার, সাও, এম্বোলো।
আর্জেন্টিনার শুরুর একাদশ (৪-৪-২):
এমিলিয়ানো মার্তিনেজ (গোলরক্ষক), মোলিনা, রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, তাগলিয়াফিকো, ডি পল, পারেদেস, এনজো ফার্নান্দেজ, ম্যাক অ্যালিস্টার, হুলিয়ান আলভারেজ, লিওনেল মেসি।

স্বাগতম!
আর্জেন্টিনা বনাম সুইজারল্যান্ড ম্যাচের দৈনিক আমার দেশ-এর লাইভ ব্লগে আপনাকে স্বাগতম। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের এই ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে।