সাফ অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের পর দেশে ফিরে উষ্ণ সংবর্ধনায় ভাসছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল দল। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ঘোষিত পুরস্কারের অর্থ একই রাতেই খেলোয়াড়দের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সহ-সভাপতি ও ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান নাসের শাহরিয়ার জাহেদী দলের খেলোয়াড়দের হাতে এই অর্থ তুলে দেন। শিরোপা জয়ের আনন্দে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ছিল উচ্ছ্বাস আর গর্বের আবহ।
উদযাপনকে আরও বিশেষ করে তোলে দলের খেলোয়াড় ইহসান হাবিব রিদুয়ানের জন্মদিন পালন। সতীর্থদের সঙ্গে কেক কেটে আনন্দ ভাগাভাগি করেন তিনি, যা পুরো অনুষ্ঠানে যোগ করে ভিন্ন মাত্রা।
এর আগে, মালদ্বীপের মালেতে অনুষ্ঠিত সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ভারতকে রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের পর টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে হারিয়ে শিরোপা জেতে বাংলাদেশ। নির্ধারিত সময়ের খেলায় দুই দল সমতায় থাকায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে, যেখানে স্নায়ুচাপের পরীক্ষায় জয়ী হয় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। টুর্নামেন্টজুড়েই দারুণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছে বাংলাদেশ। গ্রুপ পর্ব থেকে শুরু করে নকআউট পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলে ফাইনালে ওঠে দলটি। বিশেষ করে রক্ষণভাগের দৃঢ়তা ও আক্রমণে কার্যকরতা দলকে এগিয়ে দেয় শিরোপার পথে।
শিরোপা জয়ের পর দেশে ফেরার সময় বিমানবন্দর থেকেই শুরু হয় উচ্ছ্বাস। সমর্থক, পরিবার-পরিজন এবং ক্রীড়া সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতিতে খেলোয়াড়দের ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। রাতে তাদেরকে হাতিরঝিলে জমকালো আয়োজনে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ছাদখোলা বাসে শোভাযাত্রার মাধ্যমে খেলোয়াড়দের নিয়ে আসা হয় হাতিরঝিলে। বিমানবন্দর থেকে শুরু হওয়া এই শোভাযাত্রা হাতিরঝিলের অ্যাম্ফিথিয়েটারে এসে শেষ হয়।
রাত ১০টার দিকে চ্যাম্পিয়ন দলটি হাতিরঝিল পৌঁছায়। খেলোয়াড়েরা অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে বাফুফে সদস্যরা তাঁদের ফুল দিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক ও বাংলাদেশ সরকারের যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, যিনি নিজেও সাবেক সাফ জয়ী অধিনায়ক। তিনি খেলোয়াড়দের সঙ্গে করমর্দন করেন এবং পুরনো দিনের স্মৃতি স্মরণ করে বলেন, ‘আমি কক্সবাজার থেকে খেলা দেখছিলাম। মাহিন (গোলরক্ষক) যেভাবে সেভ করেছে, আমিও ২০০৩ সালের সাফ ফাইনালে টাইব্রেকারে সেভ করেছিলাম।’
শিরোপা জয়ী দলকে অভিনন্দনের পাশাপাশি আর্থিক পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন ক্রীরা প্রতিমন্ত্রী। জাতীয় ক্রীড়া দিবসের (৬ এপ্রিল) দিন সেটি ঘোষণা করা হবে বলে জানান তিনি। এছাড়াও ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে ফুটবলারদের ৫০ হাজার টাকা করে প্রদানের ঘোষণা দেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

