গণভোটের রায় না মানলে সরকারকে ‘অবৈধ ঘোষণা’ করে আন্দোলন: এনসিপি

স্টাফ রিপোর্টার

গণভোটের রায় না মানলে সরকারকে ‘অবৈধ ঘোষণা’ করে আন্দোলন: এনসিপি

সংস্কার প্রশ্নে জাতীয় নির্বাচনের দিন হওয়া গণভোটের রায় না মানলে বর্তমান সরকারকে ‘অবৈধ ঘোষণা’ করে আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির।

বোরবার রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

বিজ্ঞাপন

বিএনপি সরকারের গণভোটের গণরায় উপেক্ষা ও রাষ্ট্র সংস্কারের জরুরি অধ্যাদেশগুলো বাতিল এবং সমসাময়িক বিষয়ে করা এ সংবাদ সম্মেলন করা হয়। এতে আসিফ মাহমুদ বলেন, বিগত সময়ে আমরা ফ্যাসিবাদ দেখেছি, আর এখন বর্তমান সরকারের মধ্যে স্বৈরাচারের সব লক্ষণ ফুটে উঠছে। এই সরকার গণভোটের রায় মেনে না নিলে সেদিন থেকেই আমরা তাদের ‘অবৈধ সরকার’ হিসেবে ঘোষণা করব। আপনারা যেমন আমাদের অর্জনগুলো ধূলিসাৎ করতে সময় নিচ্ছেন না, আমরাও আপনাদের অবৈধ বলতে সময় নেব না।

বিএনপি সরকার গণভোটের রায়কে না মানলে রাজপথে নামতে সময় নেওয়া হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা শুরু থেকেই এই সরকারকে সহযোগিতা করতে চেয়েছি, কিন্তু আপনাদের সদিচ্ছার অভাবে তা সম্ভব হচ্ছে না। বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় আমরা সকল অংশীজনদের সঙ্গে বসে কাজ করতে আগ্রহী। এত দ্রুত রাজপথে নামার পরিকল্পনা বিরোধী জোটের ছিল না। কিন্তু গণভোট নিয়ে যে নাটকীয়তা শুরু হয়েছে, তাতে রাজপথে নামা ছাড়া আমাদের আর কোনো বিকল্প নেই। এটি কারও জন্যই মঙ্গলজনক হবে না।

বিএনপিকে উদ্দেশ করে আসিফ মাহমুদ বলেন, আপনারা প্রায়ই বলেন যে, আগামী ১৫-২০ বছরেও দেশে কোনো গণঅভ্যুত্থান হবে না। কিন্তু ইতিহাসে এর নজির রয়েছে। ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের অর্জন যখন রক্ষা করা যায়নি, তখনই ৭১ সংঘটিত হয়েছিল। একইভাবে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের অর্জন ও চেতনা যদি রক্ষা করা না যায় তবে ২০২৬ বা ২০২৭ সালে আবারও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতে পারে।

জিয়াউর রহমানের আমলের গণভোটের সঙ্গে এবারের গণভোটের তুলনা করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুই গণভোটের মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য আছে। জিয়াউর রহমানের সময় বিভিন্ন এজেন্সিকে ব্যবহার করে একটা কিংস পার্টি তৈরি করার জন্য গণভোট করা হয়েছিল। কিন্তু এবারের গণভোট হয়েছে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের কাঠামোগত সংস্কারের লক্ষ্যে। গণভোটে জনগণ কাঠামোগত সংস্কারের পক্ষে হ্যাঁ ভোট দিয়েছে।

বিএনপি বারবার সংবিধানের কথা বললেও প্রশাসক নিয়োগের ক্ষেত্রে সংবিধান লঙ্ঘন করছে মন্তব্য করে আসিফ মাহমুদ বলেন, সংবিধানে স্পষ্ট বলা আছে, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে জনপ্রতিনিধি নিয়োগের ক্ষেত্রে জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি থাকতে হবে। অথচ পূর্ববর্তী অধ্যাদেশগুলো বহাল রাখার মাধ্যমে নির্বাহী বিভাগের হাতে এমন ক্ষমতা রেখে দেওয়া হচ্ছে, যাতে যেকোনো নির্বাচিত প্রতিনিধিকে যেকোনো সময় অপসারণ করা যায়। এতে বিরোধী দলের কেউ নির্বাচিত হলে তাকে অপসারণের ভয় দেখিয়ে অনুগত ‘প্রশাসক’ বানিয়ে রাখার সুযোগ তৈরি হচ্ছে, যা সুস্পষ্ট সংবিধান লঙ্ঘন।

ফোনে আড়ি পাতার সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আওয়ামী শাসনামলে ১৮-১৯টি এজেন্সির লোকজনের ব্যক্তিগত ফোনে আড়ি পাতার ক্ষমতা ছিল এবং তাদের ওপর কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা ছিল না। অন্তর্বর্তী সরকার সেই ক্ষমতা কমিয়ে মাত্র ৪টি প্রতিষ্ঠানে সীমাবদ্ধ করেছিল এবং আদালতের অনুমতি বাধ্যতামূলক করেছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার সেই সংস্কারধর্মী অধ্যাদেশটি বাতিল করে আবারও ১৮-১৯টি এজেন্সির হাতে অবাধে আড়ি পাতার ক্ষমতা ফিরিয়ে দিচ্ছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন এনসিপির সংস্কার কমিটির সদস্য জাবেদ রাসেল, যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষারসহ দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন