যুদ্ধের সুযোগে সোমালিয়া উপকূলে ফের জলদস্যু আতঙ্ক

আমার দেশ অনলাইন

যুদ্ধের সুযোগে সোমালিয়া উপকূলে ফের জলদস্যু আতঙ্ক
ছবি: আল-জাজিরা

সোমালিয়া উপকূলে গত এক সপ্তাহে অন্তত তিনটি জাহাজ জলদস্যুদের কবলে পড়েছে। গত এক দশকে আন্তর্জাতিক নৌবাহিনীর তৎপরতায় এই অঞ্চলে জলদস্যুতা প্রায় বন্ধ হয়ে এলেও সম্প্রতি তা আবার মাথাচাড়া দিয়ে ওঠায় উদ্বেগ প্রকাশ করছেন বিশ্লেষকেরা।

ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) এই সপ্তাহে সোমালিয়া উপকূলের নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়িয়ে ‘সাবস্ট্যানশিয়াল’ বা ‘যথেষ্ট’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে সাবধানতার সঙ্গে চলাচলের পরামর্শ দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সাম্প্রতিক অপহরণের ঘটনা

গত ২০ এপ্রিল থেকে অন্তত তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজ সোমালিয়া উপকূলের কাছাকাছি অপহৃত হয়েছে। ২০ এপ্রিল ‘আলখারি-২’ নামক একটি মাছ ধরার জাহাজ অপহরণের খবর পায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন নেভাল ফোর্স (ইউএনএভিএফওআর)। পরে এটি মুক্তি পেলেও ২১ এপ্রিল ‘অনার-২৫’ নামক একটি তেলবাহী ট্যাংকার ১৬ হাজার ব্যারেল তেলসহ অপহরণ করে দস্যুরা। জাহাজটিতে পাকিস্তান, ভারত, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমারসহ বিভিন্ন দেশের ১৭ জন ক্রু রয়েছেন।

এরপর ২৬ এপ্রিল ‘সোয়ার্ড’ নামে আরেকটি জাহাজ গারাচাদ উপকূল থেকে অপহৃত হয়। সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিসের পতাকাবাহী এই জাহাজ মিশর থেকে কেনিয়ার মোম্বাসায় যাচ্ছিল। দস্যুরা বর্তমানে জাহাজটি নিয়ন্ত্রণ করছে বলে জানা গেছে।

কেন বাড়ছে জলদস্যুতা?

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে দস্যুবিরোধী টহল দলগুলোর মনোযোগ সরে যাওয়া এর অন্যতম প্রধান কারণ। লোহিতসাগরে হুতি বিদ্রোহ সামলানো এবং হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন-ইরান উত্তেজনার কারণে এই রুটে প্রহরারত নৌবাহিনী অন্য জায়গায় মোতায়েন করা হয়েছে। এই সুযোগই নিচ্ছে জলদস্যুরা।

এ ছাড়া ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলার ছাড়িয়েছে। তেলের এই উচ্চমূল্য ‘অনার-২৫’-এর মতো তেলবাহী জাহাজগুলোকে জলদস্যুদের কাছে আরো আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

পুরোনো সংকটের পুনরাবৃত্তি

২০০০ সালের শুরুর দিকে সোমালিয়া উপকূল বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক পানিপথ হিসেবে পরিচিত ছিল। বিশ্বব্যাংকের মতে, সেই সময়ে জলদস্যুতার কারণে বিশ্ব অর্থনীতির বার্ষিক ক্ষতির পরিমাণ ছিল ১৮ বিলিয়ন ডলার। ২০০৫ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে জলদস্যুরা প্রায় ৩৩৯ থেকে ৪১৩ মিলিয়ন ডলার মুক্তিপণ আদায় করেছিল। ২০১১ সালে এক বছরে সর্বোচ্চ ২১২টি হামলার ঘটনা ঘটেছিল। পরবর্তীতে ন্যাটো এবং ইইউ-এর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই দস্যুতা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছিল, যা এখন আবার নতুন করে ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

সূত্র: আলজাজিরা

এএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...