চিলির জনগণ রোববার ভোট দিচ্ছেন প্রেসিডেন্ট এবং সংসদীয় নির্বাচনে। এটি বর্তমানে দেশজুড়ে চরম রাজনৈতিক মেরুকরণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ক্রমশ বামপন্থী ও ডানপন্থী দু’ধারার প্রার্থীর মধ্যকার প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিণত হয়েছে।
তুরুস্ক ভিত্তিক গণমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে কোনো প্রার্থীই যে প্রথম ধাপে সরাসরি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবেন না, তা নিশ্চিত হওয়ায় নির্বাচন প্রায় নিশ্চিতভাবেই ১৪ ডিসেম্বরের রানঅফে গড়াবে।
মোট আটজন প্রার্থী প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, কিন্তু বাস্তব লড়াইটি শাসক জোটের বামপন্থী প্রার্থী ও কট্টর-ডানপন্থী বিরোধীদলীয় নেতার মধ্যে সীমাবদ্ধ।
শাসক ‘ইউনিটি ফর চিলে’ জোটের প্রার্থী জিয়েনেত্তে হারা—কমিউনিস্ট পার্টির ৫১ বছর বয়সী এই নেতা প্রেসিডেন্ট গ্যাব্রিয়েল বোরিচের সরকারে শ্রম ও সামাজিক কল্যাণমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। কাদেম এবং আকতিভা–র মতো প্রধান জরিপ অনুযায়ী তিনি বর্তমানে ২৫% থেকে ৩০% পর্যন্ত সমর্থন পেয়ে এগিয়ে আছেন।
২০২১ সালের রানঅফে বোরিচের কাছে পরাজিত ডানপন্থী রিপাবলিকান পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হোসে আন্তোনিও কাস্ত দ্বিতীয় স্থানে আছেন, যার সমর্থন ১৫% থেকে ২০%।
ডানপন্থী ভোট বিভক্ত থাকায় প্রথম ধাপেই কোনো ডানপন্থী প্রার্থীর জয়ের সম্ভাবনা কমে যাচ্ছে।
ন্যাশনাল লিবার্টারিয়ান পার্টির জোহানেস কাইসার—একজন কট্টর-ডানপন্থী ডেপুটি ও ইউটিউবার—বিশেষ করে তরুণ ডানপন্থী ভোটারদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। তার সমর্থন ১০% থেকে ১৪%।
চিলির ঐতিহ্যবাহী ডানপন্থার প্রতিনিধিত্ব করছেন ইন্ডিপেনডেন্ট ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নের এভেলিন মত্তেই। সাবেক প্রেসিডেন্ট সেবাস্তিয়ান পিনেরার সরকারের শ্রমমন্ত্রী ছিলেন তিনি। তার সমর্থনও শক্তিশালী—প্রায় ১১% থেকে ১৪%।
এই প্রথমবার চিলিতে যোগ্য সব নাগরিকের জন্য ভোট দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ফলে পূর্বের বছরের তুলনায় ভোটারের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রায় ১ কোটি ৫৭ লাখ মানুষ ভোট দিতে পারবেন।
অভ্যন্তরীণ নানা সংকট—বিশেষ করে বাড়তে থাকা অপরাধ ও অভিবাসন—এই নির্বাচনে ভোটারদের প্রধান উদ্বেগ হিসেবে উঠে এসেছে।
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পাশাপাশি একই দিনে পুরো চেম্বার অব ডেপুটিজ এবং অর্ধেক সিনেটের সদস্যদের পুনর্নির্বাচন করা হচ্ছে।
স্থানীয় সময় সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা (১৩০০ জিএমটি থেকে ২৩০০ জিএমটি পর্যন্ত) ভোট গ্রহণ চলবে, এবং নতুন প্রেসিডেন্ট ১১ মার্চ ২০২৬-এ দায়িত্ব নেবেন।
এসআর
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

