২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য ২৮৭ জন প্রার্থীকে বিবেচনা করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) নরওয়েজীয় নোবেল কমিটির সচিব এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সম্ভাব্য এই তালিকায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম থাকার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
কমিটির সচিব ক্রিস্টিয়ান বার্গ হার্পভিকেন জানান, এ বছরের মনোনীতদের মধ্যে ২০৮ জন ব্যক্তি এবং ৭৯টি সংস্থা রয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার নতুন মনোনীত প্রার্থীর সংখ্যা অনেক বেশি। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই তার প্রথম বড় তালিকা।
হার্পভিকেন এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “সারা বিশ্বে সংঘাতের হার বাড়লেও এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাপের মুখে থাকলেও, এই পুরস্কারের প্রাসঙ্গিকতা একটুও কমেনি। আমরা যে সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি, তাতে শান্তি পুরস্কারের গুরুত্ব এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি।”
ট্রাম্পের মনোনয়ন নিয়ে জল্পনা
কম্বোডিয়া, ইসরাইল এবং পাকিস্তানের নেতারা জানিয়েছেন যে, তারা এ বছরের পুরস্কারের জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম প্রস্তাব করেছেন। মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ সময়সীমা ৩১ জানুয়ারি থাকায় তাদের এই প্রস্তাব বৈধ হিসেবে গণ্য হবে। তবে নিয়ম অনুযায়ী নোবেল কমিটি মনোনীতদের নাম ৫০ বছর পর্যন্ত গোপন রাখে, তাই আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রাম্পের নাম এই তালিকায় আছে কি না, তা হার্পভিকেন নিশ্চিত করেননি।
উল্লেখ্য, শুধু নোবেল কমিটি নয়; বিভিন্ন দেশের সংসদ সদস্য, সরকার প্রধান, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং সাবেক নোবেলজয়ীরা এই পুরস্কারের জন্য নাম প্রস্তাব করতে পারেন। ট্রাম্প ছাড়াও রাশিয়ার প্রয়াত বিরোধী নেতা অ্যালেক্সি নাভালনির স্ত্রী ইউলিয়া নাভালনায়া, পোপ লিও এবং সুদানের স্বেচ্ছাসেবক সংস্থা ‘ইমারজেন্সি রেসপন্স রুমস’-এর নাম নিয়ে বাজির বাজারে বেশ আলোচনা চলছে।
কারাবন্দী ইরানি নোবেলজয়ী নার্গিস মোহাম্মাদীর স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ
নোবেল কমিটি ২০২৩ সালের শান্তি পুরস্কার বিজয়ী ইরানি মানবাধিকার কর্মী নার্গিস মোহাম্মাদীর শারীরিক অবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। কারাগারে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর তার স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটেছে। হার্পভিকেন বলেন, “গতকাল তার বোন কারাগারে দেখা করেছেন। সেখান থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী তার অবস্থা বেশ আশঙ্কাজনক। আমরা আশা করি আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ইরান সরকার তাকে মুক্তি দেবে যাতে তিনি সুচিকিৎসা পান।”
অন্যান্য সম্ভাব্য প্রার্থী
এ বছরের সম্ভাব্য তালিকায় আলাস্কার মার্কিন সিনেটর লিসা মুরকোস্কি এবং গ্রিনল্যান্ডের ড্যানিশ পার্লামেন্ট সদস্য আজা চেমনিটজের নামও শোনা যাচ্ছে। আর্কটিক অঞ্চলে দীর্ঘ সময় ধরে শান্তি বজায় রাখতে কাজ করার স্বীকৃতি হিসেবে তাদের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ডেনমার্কের কাছ থেকে গ্রিনল্যান্ড কেনার ইচ্ছা পোষণ করার পর এই অঞ্চলটি বিশ্ব রাজনীতির নজরে আসে।
আগামী ৯ অক্টোবর এ বছরের নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে এবং প্রথা অনুযায়ী ১০ ডিসেম্বর ওসলোতে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে।
সূত্র: রয়টার্স
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

