ইউরোপজুড়ে তাপপ্রবাহ

তীব্র গরমে জার্মানিতে ৫ হাজার মানুষের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তীব্র গরমে জার্মানিতে ৫ হাজার মানুষের মৃত্যু

জলবায়ু পরিবর্তনের জেরে প্রতিবছরই বিশ্বজুড়ে বাড়ছে গরমের তীব্রতা। কোপারনিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিস (সি৩এস) তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ২০২৬ সালের জুন মাস ছিল পশ্চিম ইউরোপে ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণতম মাস এবং বৈশ্বিক তাপমাত্রা ওই মাসে এযাবৎকালের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্যায়ে ছিল। রেকর্ড তাপমাত্রা বৃদ্ধির পর এ মাসে সর্বোচ্চ পর্যায়ে ছিল সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা। ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় অনেক দেশ স্কুল বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছিল।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের জলবায়ু পর্যবেক্ষণ পরিষেবা জানিয়েছে, অস্বাভাবিক এই তাপপ্রবাহ বৃদ্ধির কারণ হচ্ছে স্থলভাগ ও মহাসাগরজুড়ে ক্রমাগত উষ্ণায়ন। এর ফলে বৈশ্বিক গড় ভূপৃষ্ঠের বায়ুর তাপমাত্রা ১৬.৫৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়। গত মাসে পশ্চিম ইউরোপের গড় তাপমাত্রা ছিল ২০.৭৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা ১৯৯১-২০২০ সালের জুন মাসের গড়ের চেয়ে তিন ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি।

বিজ্ঞাপন

এদিকে তীব্র গরমে জার্মানিতে এখন পর্যন্ত পাঁচ হাজার ১২০ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার বেশিরভাগই ঘটেছে জুন মাসে। এ মাসে দেশটির সাপ্তাহিক গড় তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রি সেলসিয়ামের অনেক বেশি ছিল। বৃহস্পতিবার জনস্বাস্থ্যবিষয়ক সংস্থা রবার্ট কচ ইনস্টিটিউট (আরকেআই) এ তথ্য জানিয়েছে।

আরকেআই তাদের সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে প্রায় চার হাজার ২৭০ জন ছিলেন ৭৫ বছর বা তারও বেশি বয়সি। পুরুষের তুলনায় নারীদের মৃত্যু বেশি হয়েছে। কারণ, অতিবৃদ্ধদের মধ্যে নারীদের সংখ্যাই বেশি ছিল।

জার্মানির এই তথ্য ইউরোপজুড়ে এক ভয়াবহ চিত্রকে তুলে ধরেছে। এছাড়া ফ্রান্স, বেলজিয়াম, স্পেন ও নেদারল্যান্ডসে ২০-২৮ জুনের তাপপ্রবাহে চার হাজার ৭০০-এরও বেশি অতিরিক্ত মৃত্যুর খবর জানিয়েছে জাতীয় কর্তৃপক্ষ । অন্যান্য দেশে এ সংখ্যা সম্ভবত আরো বেশি। তীব্র তাপদাহের কারণে আইবেরিয়া ও ফ্রান্সে দাবানলের সৃষ্টি হয়েছে। ইতোমধ্যে পুড়ে গেছে বিস্তীর্ণ অঞ্চল। ফলে খরা পরিস্থিতি আরো তীব্র হয়েছে।

কোপারনিকাস জানিয়েছে, এ অঞ্চলটি স্পেন ও ব্রিটেন থেকে পূর্বদিকে ইতালি, জার্মানি এবং অস্ট্রিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত। পশ্চিম ইউরোপ তিন মাসের মধ্যে তিনটি তীব্র তাপপ্রবাহের শিকার হয়েছে। চলতি সপ্তাহে আরো একটি তাপপ্রবাহের কবলে পড়তে যাচ্ছে স্পেন ও পর্তুগালসহ বেশ কয়েকটি দেশ।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার মতে, কয়লা, তেল ও গ্যাস পোড়ানোর ফলে সৃষ্ট গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের ফলে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ১৯ শতকের প্রাক-শিল্প যুগের তুলনায় প্রায় ১.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে। ফলে আগামীতে পৃথিবীর তাপমাত্রা আরো বাড়তে পাবে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...