আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

বিক্ষোভ দমনে ‘রেড লাইন’ ঘোষণা করল ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী

আমার দেশ অনলাইন

বিক্ষোভ দমনে ‘রেড লাইন’ ঘোষণা করল ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী

ইরানে চলমান ব্যাপক বিক্ষোভ দমনে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছে দেশটির অভিজাত সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। তারা জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা ও ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের অর্জন রক্ষা করা তাদের জন্য একটি “লাল রেখা” (রেড লাইন), যা কোনোভাবেই অতিক্রম করতে দেওয়া হবে না। খবর রয়টার্সের।

শনিবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি অভিযোগ করে, গত দুই রাতে “সন্ত্রাসী ও দাঙ্গাকারীরা” সামরিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে, সরকারি ও জনসাধারণের সম্পত্তিতে অগ্নিসংযোগ করেছে এবং বেশ কয়েকজন নিরাপত্তা সদস্য ও বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করেছে।

বিজ্ঞাপন

আইআরজিসির সঙ্গে পৃথকভাবে কাজ করা ইরানি সেনাবাহিনীও ঘোষণা দিয়েছে, তারা জাতীয় স্বার্থ, কৌশলগত অবকাঠামো ও জনসাধারণের সম্পত্তি রক্ষায় সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করবে। বাহিনীটি সরাসরি সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির অধীনে পরিচালিত।

গত দুই সপ্তাহ ধরে ইরানের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। শুরুতে মুদ্রাস্ফীতি ও অর্থনৈতিক দুরবস্থার প্রতিবাদে শুরু হলেও, দ্রুতই তা রাজনৈতিক রূপ নেয় এবং বিক্ষোভকারীরা ধর্মীয় শাসনের অবসানের দাবি জানাতে থাকে।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, তেহরানের পশ্চিমে কারাজ শহরে একটি পৌর ভবনে আগুন দেওয়া হয়েছে। শিরাজ, কোম ও হামেদানে নিহত নিরাপত্তা সদস্যদের জানাজার দৃশ্য সম্প্রচার করেছে রাষ্ট্রীয় টিভি।

অন্যদিকে, মানবাধিকার সংগঠন HRANA জানিয়েছে, ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত অন্তত ৫০ জন বিক্ষোভকারী ও ১৫ জন নিরাপত্তা সদস্যসহ মোট ৬৫ জন নিহত হয়েছে। নরওয়ে-ভিত্তিক সংগঠন Hengaw-এর তথ্য অনুযায়ী, গত দুই সপ্তাহে ২,৫০০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

উত্তর-পশ্চিম ইরানের এক চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে বিপুলসংখ্যক আহত বিক্ষোভকারী আনা হয়েছে। অনেকের মাথায় গুরুতর আঘাত, হাত-পা ভাঙা এবং গুলিবিদ্ধ হওয়ার চিহ্ন রয়েছে। একটি হাসপাতালে অন্তত ২০ জনকে গুলি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে পাঁচজন মারা গেছেন।

এই পরিস্থিতির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের নেতাদের উদ্দেশে সতর্কবার্তা দেন। এবং তিনি বলেন , যুক্তরাষ্ট্র “ইরানের সাহসী জনগণের পাশে আছে।”

ফ্রান্স, ব্রিটেন ও জার্মানির নেতারা এক যৌথ বিবৃতিতে বিক্ষোভকারীদের হত্যার নিন্দা জানিয়ে ইরানি কর্তৃপক্ষকে সহিংসতা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে এটি ইরানের ধর্মীয় শাসনের জন্য সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ, যা দেশটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন