বৈশ্বিক রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের নৈতিক ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন দেশটির প্রধান তিনটি ক্যাথলিক সম্প্রদায়ের শীর্ষ নেতারা। রোমান ক্যাথলিক চার্চের এই জ্যেষ্ঠ ধর্মযাজকেরা তীব্র ভাষায় মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির সমালোচনা করে বলেছেন, কয়েক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো বিশ্বজুড়ে অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার ক্ষেত্রে আমেরিকার নৈতিক অবস্থান প্রশ্নের মুখে পড়েছে। এই অবস্থান ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে জাতীয় নেতৃত্বের প্রতি মার্কিন ক্যাথলিক চার্চের ক্রমবর্ধমান অসন্তোষের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ওয়াশিংটনের আর্চবিশপ কার্ডিনাল রবার্ট ম্যাকএলরয়, নিউয়ার্কের আর্চবিশপ কার্ডিনাল জোসেফ টোবিন এবং শিকাগোর আর্চবিশপ কার্ডিনাল ব্লেইস কাপিচ এক যৌথ বিবৃতিতে ভেনেজুয়েলা, ইউক্রেন ও গ্রিনল্যান্ড ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর উল্লেখ করে সামরিক শক্তি ব্যবহারের নৈতিকতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, “একটি সত্যিকারের নৈতিক পররাষ্ট্রনীতিতে সামরিক পদক্ষেপ হবে চরম পরিস্থিতিতে শেষ উপায়—জাতীয় নীতির স্বাভাবিক হাতিয়ার নয়।”
কার্ডিনালরা নির্দিষ্ট নীতিগত বিশ্লেষণে না গেলেও এবং তাদের বক্তব্যকে দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে রাখার আহ্বান জানালেও, প্রেক্ষাপট স্পষ্ট বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা। ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি, ভেনেজুয়েলায় মাদক পাচারের অভিযোগে মার্কিন নৌ অভিযানের নির্দেশ এবং কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক ও অপসারণের ঘটনা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
ভ্যাটিকানের অবস্থান তুলে ধরে পোপ লিও চতুর্দশ ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন এবং সহিংসতার পরিবর্তে সংলাপের ওপর জোর দিয়েছেন। ইউক্রেন প্রসঙ্গে তিনি শান্তির ডাক দিয়ে বলেন, ট্রাম্পের তথাকথিত শান্তি পরিকল্পনা ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের জোটকাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।
কার্ডিনাল কাপিচ জানান, রোমে অন্যান্য কার্ডিনালের সঙ্গে আলোচনার সময় তারা বৈশ্বিক পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এর মধ্যে ছিল ইউএস এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট (ইউএসএইড) ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত, যে সংস্থাটি দীর্ঘদিন ধরে দরিদ্র দেশগুলোতে মানবিক সহায়তা দিয়ে আসছিল।
বিবৃতিতে বলপ্রয়োগ ও আধিপত্যনির্ভর বৈশ্বিক ব্যবস্থার কঠোর সমালোচনা করে তারা সতর্ক করেন যে, জাতিগুলোর আত্মনিয়ন্ত্রণের সার্বভৌম অধিকার ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে। কার্ডিনাল টোবিন আরও কড়া ভাষায় প্রশাসনের নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির সমালোচনা করে বলেন, এটি যেন ডারউইনবাদী এক হিসাব—যেখানে কেবল শক্তিশালীরাই টিকে থাকবে, দুর্বলদের অস্তিত্বের অধিকার নেই। তার ভাষায়, “আমি বলব, এটি মনুষ্যত্বেরও নিচে।”
এই সমালোচনা ট্রাম্পের সেই দাবির সম্পূর্ণ বিপরীত, যেখানে তিনি বলেছেন—সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে তার সব সিদ্ধান্তই নিজস্ব নৈতিক বিবেচনার ভিত্তিতে নেওয়া।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
এসআর
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

