চীনের সামরিক বাহিনীতে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের দুর্নীতিবিরোধী কঠোর অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এর অংশ হিসেবে দেশটির শীর্ষ আইনসভা থেকে পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) ছয়জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে অপসারণ করা হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার রাতে ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্থায়ী কমিটির জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আইনসভার মোট ১৩ জন সদস্যকে অপসারণ করা হয়েছে এবং একজন পদত্যাগ করেছেন। সামরিক বাহিনীর বাইরে অপসারিতদের মধ্যে দেশটির একজন সাবেক শীর্ষ আর্থিক নিয়ন্ত্রক এবং শিনজিয়াং প্রদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক প্রধানও রয়েছেন।
আইনসভা থেকে বরখাস্ত হওয়া পিএলএ কমান্ডারদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে আগে থেকেই তদন্ত চলার ইঙ্গিত ছিল। সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশনের ইকুইপমেন্ট ডেভেলপমেন্ট ডিপার্টমেন্টের জেনারেল জু জুয়েকিয়াং গত অক্টোবরে পার্টির একটি বড় বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে, ইস্টার্ন থিয়েটার কমান্ডের লেফটেন্যান্ট জেনারেল ওয়াং কাংপিং ওই বৈঠকে যোগ দিলেও পার্টির সেন্ট্রাল কমিটির পূর্ণাঙ্গ সদস্য পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে তাকে বাদ দেওয়া হয়েছিল।
অপসারিত অন্য কর্মকর্তাদের মধ্যে তিব্বত মিলিটারি কমান্ডের পলিটিক্যাল কমিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়িন হংক্সিংও রয়েছেন। গত আগস্টে পশ্চিমাঞ্চলে শি জিনপিংয়ের একটি আকস্মিক পরিদর্শনের সময় তাকে দেখা যায়নি।
শুক্রবার অপসারিত হওয়া বাকি তিন কমান্ডার হলেন- ওয়েস্টার্ন থিয়েটার কমান্ডের পলিটিক্যাল কমিসার জেনারেল লি ফেংবিয়াও, বিমান বাহিনীর পলিটিক্যাল কমিসার জেনারেল গুও পুক্সিয়াও এবং সাইবার স্পেস ফোর্সের লেফটেন্যান্ট জেনারেল ঝাং মিংহুয়া।
চীনের সামরিক বাহিনীর এই দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে পলিটব্যুরোর সদস্যসহ ইতোমধ্যে ১০-অধিক সিনিয়র কমান্ডার পদ হারিয়েছেন। কারো কারো বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত চলছে, আবার কেউ কেউ কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই জনসাধারণের দৃষ্টির আড়ালে চলে গেছেন।
২০২২ সালের পার্টি কংগ্রেসে সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশনের যে সাতজন সদস্যের নাম ঘোষণা করা হয়েছিল, তাদের মধ্যে এখন মাত্র দু’জন বহাল আছেন। তারা হলেন খোদ প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং পিএলএর দুর্নীতিবিরোধী প্রধান ঝাং শেংমিন।
প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং একাধিক অনুষ্ঠানে জোর দিয়ে বলেছেন, সামরিক বাহিনীতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে এই লড়াই থামবে না। গত মার্চে আইনসভা ও চীনের শীর্ষ রাজনৈতিক উপদেষ্টা সংস্থার বার্ষিক বৈঠকে তিনি বলেছিলেন, ‘সশস্ত্র বাহিনী বন্দুক পরিচালনা করে। যারা পার্টির প্রতি অর্ধেক অনুগত, তাদের জন্য সামরিক বাহিনীতে কোনো স্থান নেই এবং দুর্নীতিবাজদের জন্য কোনো নিরাপদ আশ্রয় নেই।’
শুক্রবার আইনসভা থেকে অপসারিত অন্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন শিনজিয়াং উইঘুর স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের সাবেক পলিটব্যুরো সদস্য ও পার্টি প্রধান মা জিংরুই এবং তার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত গুয়াংজুর সাবেক পার্টি সেক্রেটারি গুও ইয়ংহাং।
মা জিংরুই গত বছরের জুলাইয়ে সুদূর পশ্চিমাঞ্চলীয় এই প্রদেশের পার্টি সেক্রেটারির পদ থেকে আকস্মিকভাবে পদত্যাগ করেন। ওই সময় রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছিল, তাকে ‘অন্য পদে নিযুক্ত করা হবে।’
তবে গত এপ্রিলে চীনের দুর্নীতি দমন সংস্থা 'সেন্ট্রাল কমিশন ফর ডিসিপ্লিন ইন্সপেকশন' তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে। এর আগের মাসে সংস্থাটি গুও ইয়ংহাংয়ের বিরুদ্ধেও তদন্ত শুরু করেছিল।
এছাড়া ন্যাশনাল ফাইন্যান্সিয়াল রেগুলেটরি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের সাবেক পরিচালক লি ইউনজেকেও আইনসভা থেকে অপসারণ করা হয়েছে। গত এপ্রিলে নিয়ন্ত্রক সংস্থার ওয়েবসাইট থেকে তার পরিচিতি আকস্মিকভাবে মুছে ফেলা হয় এবং পরের মাসে তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে নতুন কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়।
সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট
এএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


