রাশিয়ার ইউক্রেন আগ্রাসন পঞ্চম বছরে প্রবেশ করেছে। দীর্ঘ এই যুদ্ধে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ও প্রাণহানি ঘটলেও সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, মস্কোর সামরিক অগ্রগতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, পূর্বাঞ্চলের পোকরোভস্কে রুশ বাহিনীর দৈনিক অগ্রগতি গড়ে প্রায় ৭০ মিটার এবং কুপিয়ানস্কে ২৩ মিটার। ২০২৫ সালে রাশিয়া প্রায় এক হাজার ৮৬৫ বর্গমাইল এলাকা দখল করেছে, যা ইউক্রেনের মোট ভূখণ্ডের মাত্র ০.৮ শতাংশ।
এই প্রেক্ষাপটে ‘ইউক্রেন ধীরে ধীরে পরাজয়ের দিকে এগোচ্ছে’—রাশিয়ার এমন প্রচারণা বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। উল্টো ইউক্রেন কৌশল পুনর্গঠন করে সীমিত হলেও পাল্টা সাফল্য অর্জন করছে। জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলে সাম্প্রতিক অভিযানে প্রায় ৪০ বর্গমাইল এলাকা পুনর্দখল করেছে ইউক্রেনীয় বাহিনী। খারকিভ অঞ্চলের কুপিয়ানস্ক শহরও পুনরুদ্ধার করেছে তারা।
তবে সামরিক ফ্রন্টের বাইরে ইউক্রেনের মানবিক পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ। তবে মানবিক পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় জ্বালানি ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তীব্র শীতে মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার মধ্যে ১০ লাখের বেশি মানুষ বিদ্যুৎ, তাপ ও পানির অভাবে দুর্ভোগে আছেন। কিয়েভের প্রায় দুই হাজার ৬০০ ভবন এখনো বিদ্যুৎ ও তাপ সুবিধাবিহীন।
এদিকে পশ্চিমা সহায়তা অব্যাহত থাকলেও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ঘাটতি রয়েছে। এতে রুশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। তবুও ইউক্রেন নতুন কৌশলে রুশ বাহিনীর ওপর চাপ বজায় রাখার চেষ্টা করছে। তারা রুশ বাহিনীর ক্ষয়ক্ষতি বাড়িয়ে মস্কোকে কূটনৈতিক সমঝোতায় বাধ্য করার কৌশল নিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ এখন অনেকটাই অচলাবস্থায় রয়েছে। রাশিয়া পূর্বাঞ্চলের দোনেৎস্ক অঞ্চলের বাকি অংশ দখলের দাবি জানালেও তা দ্রুত সম্ভব হবে বলে মনে হচ্ছে না। একইসঙ্গে ইউক্রেনের জনগণ আত্মসমর্পণের কোনো ইঙ্গিত দিচ্ছে না বরং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


ইয়েমেনে সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুসহ নিহত ১৬
ইরানকে কখনো পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া হবে না: ট্রাম্প