উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান যুদ্ধ শেষ করার জন্য মার্কিন প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে ইরান। তবে বিস্তৃত পরিসরে ছড়িয়ে পড়া মধ্যপ্রাচ্যের এ সংঘাত থামাতে সরাসরি কোনো আলোচনা করার ইচ্ছা নেই বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। এছাড়া সম্ভাব্য যেকোনো চুক্তিতে লেবাননকে যুক্ত করতে চায় দেশটি।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরান তাদের শর্ত পূরণ হলে যুদ্ধের অবসান নিয়ে আলোচনা করতে কিছুটা আগ্রহী হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন আব্বাস আরাঘচি। যদিও শুরুতে তারা প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনাকে তীব্রভাবে নাকচ করেছিল।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে গতকাল পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি বলেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান মানেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা নয়।
তিনি আরো বলেন, তারা কিছু প্রস্তাব দিয়েছে, যা উচ্চ পর্যায়ের কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেয়া হয়েছে। প্রয়োজন হলে তারাই এ বিষয়ে অবস্থান জানাবেন।
এছাড়া আঞ্চলিক ছয়টি সূত্রের মতে, ইরান মধ্যস্থতাকারীদের জানিয়েছে—যেকোনো যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে হবে।
এদিকে গতকাল রাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওয়াশিংটনে এক অনুষ্ঠানে বলেন, ইরানের নেতারা আসলে আলোচনা করছে। তারা খুবই চায় একটি চুক্তি করতে, কিন্তু তা প্রকাশ করতে ভয় পাচ্ছে—নিজেদের লোকজনের হাতে নিহত হওয়ার আশঙ্কায়। একইসঙ্গে তারা আমাদের হাতেও নিহত হওয়ার ভয় করছে।
এক জ্যেষ্ঠ ইসরাইলি প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া শর্তগুলোয় ইরান রাজি হবে বলে ইসরাইল সন্দিহান। পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্রের আলোচকরা কোনো ধরনের ছাড় দিতে পারে—এ নিয়েও তাদের উদ্বেগ রয়েছে।
একটি সূত্র জানায়, যেকোনো চুক্তিতে ইসরাইল চায় তাদের ‘প্রি-এম্পটিভ’ বা আগাম হামলার বিকল্পটি যেন বজায় থাকে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

