পশ্চিম তীরে ইসরাইলের ব্যাপক উচ্ছেদ অভিযান

পশ্চিম তীরে ইসরাইলের ব্যাপক উচ্ছেদ অভিযান

অবরুদ্ধ পশ্চিম তীরে ব্যাপক মাত্রায় উচ্ছেদ অভিযান ও ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে ইসরাইল। আল জাজিরার নিদা ইবরাহিমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৬৭ সালের পর এতো ব্যাপক মাত্রায় ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর ভেঙ্গে ফেলার কাজ আগে কখনই করেনি ইসরাইল সরকার।

তিনি তার প্রতিবেদনে বলেছেন, ‘একটা দৃশ্য কল্পনা করা যাক, যতবার আপনি নিজের বাড়ির কাছাকাছি যাচ্ছেন, ততবার একজন সেনা আপনার দিকে বন্দুক তাক করছে। এমনকি আপনার বাড়িটির অস্তিত্ব টিকে আছে কিনা, সে সম্পর্কেও আপনার কোনো ধারণা নেই।’

বিজ্ঞাপন

অবরুদ্ধ পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের এখন প্রতিদিন এমন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েই যেতে হচ্ছে।

ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর জোর করে ভেঙ্গে ফেলছে ইসরাইল। তিনটি শরণার্থী শিবির খালি করা হয়েছে।

নিদা ইবরাহিম জানান, ইসরাইলি সেনারা জেনিন, তুলকারেম এবং নূর শামস শরণার্থী শিবিরের ভেতরে ঢুকে লোকজনকে বের করে দিচ্ছে। জিনিসপত্র সংগ্রহ করতে সময় দেওয়া হচ্ছে মাত্র কয়েক ঘন্টা। কেউ যদি ফিরে আসার চেষ্টা করে, তাহলে তাকে সরাসরি গুলি করা হয়।

তবে ঠিক কি পরিমাণ বাড়িঘর ধ্বংস করা হয়েছে, তার সঠিক হিসাব জানা নেই বলে জানান নিদা ইবরাহিম। তবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও ইসরাইলি সেনাবাহিনীর বাড়ি ধ্বংসের নোটিশ অনুযায়ী, জেনিনে ৬৯০টি বাড়ি সম্পূর্ণ গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আরো ভাঙ্গার প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে ৩৪০টি বাড়ি। তুলকারেমে ২৮৫টি বাড়ি মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফিলিস্তিনিদের আরো ৪০০টি বাড়ি গুড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে ইসরাইলের। আর নূর শামসে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে ২২৫টি বাড়ি।

বাড়িঘর গুড়িয়ে দেওয়ায় হাজার হাজার ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। কখন ফেরার অনুমতি দেওয়া হবে, সে বিষয়ে তাদের কোন ধারণা নেই।

এদিকে, ফিলিস্তিনিদের অন্যদেশে স্থানান্তরের বিতর্কিত পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। স্থানীয় সময় সোমবার হোয়াইট হাউজে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে নৈশভোজে অংশ নেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এসময় নেতানিয়াহু সাংবাদিকদের একথা জানান।

নেতানিয়াহু বলেন, গাজা থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের গ্রহণ করবে এমন দেশ খুঁজে বের করতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করছে ইসরাইল। গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের স্থানান্তরের বিতর্কিত প্রচেষ্টায় অগ্রগতিরও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

আরএ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন