ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানবিষয়ক সামরিক কৌশল ইতালীয় জেনারেল জুলিও দুয়ের ধারণা সঙ্গে মিলে যায়। জুলিও ১৯২১ সালে তার লেখা ‘দ্য কমান্ড অব দ্য এয়ার’ গ্রন্থে উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতে বড় পরিসরে বিমান হামলার ওপর যুদ্ধের জয়-পরাজয় নির্ভর করবে। যেখানে শুধু সেনা নয়; বেসামরিক মানুষ, অবকাঠামো ও সরবরাহব্যবস্থাকেও লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
জুলিও তার বইয়ে লিখেছিলেন, একটি রেলস্টেশন, বেকারি এমনকি যুদ্ধ কারখানা ধ্বংস করা গুলি চালানোর চেয়েও অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এমন একটি ভয়াবহ উপমা ব্যবহার করে তিনি আরো বলেছিলেন, আপনি যদি কোনো প্রজাতিকে নিশ্চিহ্ন করতে চান, তাহলে আকাশে উড়ে বেড়ানো সব পাখি গুলি করে হত্যা করাই যথেষ্ট নয়; বরং সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হলো তাদের ডিম ও বাসা ধ্বংস করা।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ কখনো জুলিও দুয়ের লেখা বইটি পড়েছেন কি না তা স্পষ্ট নয়। তবে বহু আগেই মৃত ওই ইতালীয় কর্মকর্তার চিন্তাধারা প্রতিফলিত হচ্ছে হেগসেথের ‘এপিক ফিউরি’ নিয়ে জাঁকজমকপূর্ণ ব্রিফিংগুলোতে। তিনিও চান আকাশপথে হামলার মাধ্যমে ইরানকে ধ্বংস করতে।
যদিও হেগসেথ দাবি করেছেন, এটি নতুন মার্কিন কৌশল। তবে তার এ কৌশল জুলিও দুয়ের শতবছর আগের দেওয়া কৌশলের সঙ্গে মিলে যায়। ফলে তার নিখুঁত বিমান হামলার প্রতিশ্রুতি নতুন কোনো উদ্ভাবনী যুদ্ধনীতি নয়।
হেগসেথও বেসামরিক মনোবল ধ্বংসের বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, যোদ্ধা, শত্রুকে হত্যা করা এবং তাদের মনোবল ভেঙে দেওয়া আমাদের কাজ। আমরা আশা করি, ইরানের জনগণ অসাধারণ এ সুযোগ কাজে লাগাবে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পরিষ্কার করে বলেছেন, এখনই তোমাদের সময়।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন হেফাজতে এ পর্যন্ত ১৪ জনের মৃত্যু