মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তারা ইরানের আকাশসীমা পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন। নিউ ইয়র্ক টাইমস ও ওয়াশিংটন পোস্টসহ মার্কিন গণমাধ্যমগুলো এ খবর দিয়েছে।
দ্য হিল জানিয়েছে, ইসরাইল-ইরান সংঘর্ষে সরাসরি জড়িত থাকার অনুমতি প্রেসিডেন্ট দেবেন কিনা তা নিয়ে প্রশ্নের মধ্যে মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের আকাশের ওপর ‘আমাদের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ রয়েছে।
ট্রুথ সোশ্যালে তিনি বলেন, ‘‘ইরানের আকাশের ওপর এখন আমাদের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। ইরানের কাছে ভালো স্কাই ট্র্যাকার এবং অন্যান্য প্রতিরক্ষামূলক সরঞ্জাম ছিল, এবং সেটা প্রচুর পরিমাণে ছিল, কিন্তু সেটা আমেরিকার তৈরি সরঞ্জামের মতো না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ভালো আর কেউ এটা করতে পারে না।’

ইরান ও ইসরাইলের চলমান সংঘাত নিয়ে গভীরভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়ার বরাত দিয়ে সিএনএনের প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
তিনি বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে ইসরাইলের সামরিক অভিযানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে হঠাৎ উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় চীন ‘গভীরভাবে উদ্বিগ্ন’।
শি জিনপিং বলেন, চীন ‘অন্য কোনো দেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা লঙ্ঘনকারী যেকোনো কর্মকাণ্ডের’ বিরোধিতা করে। সামরিক সংঘাত কোনো সমস্যার সমাধান নয়।
তিনি আরো বলেন, সব পক্ষকে যত দ্রুত সম্ভব এই সংঘাত প্রশমনে কাজ করতে হবে। চীন শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে সব পক্ষের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রিয়েসাস সতর্ক করেছেন, ইসরাইলের পক্ষ থেকে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার ফলে সাধারণ নাগরিকদের ওপর ভয়াবহ প্রভাব পড়তে পারে এবং এতে স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
মঙ্গলবার এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন।
গেব্রিয়েসাস বলেন, ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে সহিংসতা বেড়ে যাওয়ায় আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। এতে শিশুসহ বহু সাধারণ মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন।
তিনি আরো বলেন, পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলার ফলে তাৎক্ষণিক এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত ও স্বাস্থ্যগত প্রভাব পড়তে পারে ইরান এবং আশেপাশের অঞ্চলজুড়ে।

ইসরাইলের হামলায় এখন পর্যন্ত কতজন নিহত হয়েছেন? সে বিষয়ে নতুন কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। ইরানের মানবাধিকার কর্মীদের একটি অলাভজনক সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস ইন ইরান এই সংখ্যা জানিয়েছে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ২২৪ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন, এবং ১৮৮ জন আহত হয়েছেন।
এছাড়া, ১০৯ জন সামরিক সদস্য নিহত এবং ১২৩ জন আহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
এছাড়াও, ১১৯ জন নিহত এবং ৩৩৫ জন আহত হয়েছেন, যাদের এখনো শনাক্ত করা যায়নি।
এই হিসাবে HRANA মোট ৪৫২ জন নিহত এবং ৬৪৬ জন আহত হওয়ার তথ্য দিয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এখন পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা সম্পর্কে খুব কম তথ্য প্রকাশ করেছে।
দেশটির ভেতরে কঠোর নিয়ন্ত্রণের কারণে সাংবাদিকদের নিয়মিতভাবে কাজ করাও কঠিন, ফলে সংঘাতের প্রকৃত মানবিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

তেহরানের কেন্দ্রস্থলসহ বিভিন্ন জায়গায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। বিবিসি বাংলা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য দিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্দারযগৌ এলাকায় ইসরাইলের গোলা আঘাত হেনেছে।
ওদিকে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন তারা আজই প্রথম 'এক ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র' ব্যবহার করেছেন যা ইসরাইল প্রতিহত করতে অক্ষম।
তিনি বলেন, অল্প কিছু দেশের হাতেই এ ধরনের উচ্চ প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্র আছে।
ইসরায়েলের কর্মকর্তারা সবশেষ হামলায় ত্রিশটির মতো ক্ষেপণাস্ত্র ইরান ব্যবহার করেছে বলে জানিয়েছে।

সাইবার হামলার শিকার হয়েছে ইরানের সেপাহ নামের একটি ব্যাংক। এতে করে দেশটিতে জ্বালানি পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছে।
মঙ্গলবার সকালে ইরানের সেপাহ ব্যাংকে সাইবার হামলার ফলে ব্যাংকের অনলাইন সেবা ব্যাহত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কর্পস (আইআরজিসি) পরিচালিত ফার্স নিউজ।
ফার্স নিউজ আরো জানিয়েছে, এই ব্যাংকের অনলাইন সিস্টেম ইরানের বহু জ্বালানি স্টেশনের সঙ্গেও সংযুক্ত, যার ফলে সেসব স্টেশনেও সেবা বিঘ্নিত হচ্ছে।
তবে এই হামলার জন্য কারা দায়ী, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে কিছু উল্লেখ করা হয়নি।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান ইসরাইল- ইরান যুদ্ধের মধ্যেই সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন।
মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ইসরাইল-ইরান সংঘাত ছাড়াও দুই নেতা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা করেন।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ফোনালাপে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান বলেন, ইসরাইলের ইরানে হামলা যে সহিংসতার ঘূর্ণি তৈরি করেছে, তা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য হুমকি এবং এই অঞ্চল আরেকটি যুদ্ধ বহন করার মতো অবস্থায় নেই।”
এরদোয়ান সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক বিরোধ নিরসনের চাবিকাঠি হলো পুনরায় আলোচনায় ফেরা।
তিনি সতর্ক করে দেন, চলমান পরিস্থিতি যেন গাজার ভয়াবহ মানবিক সংকটকে ছাপিয়ে না যায়, কারণ তা হলে পশ্চিম তীর এবং পূর্ব জেরুজালেমও ইসরাইলিদের দখলের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর ইসরাইলি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে কাতার। দেশটি এই হামলাকে অবিবেচক পদক্ষেপ যা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনবে বলেও মন্তব্য করেছে।
মঙ্গলবার কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মজেদ আল-আনসারি বলেন, এই হামলা এমন এক সময় চালানো হয়েছে, যখন ইরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে “একটি ইতিবাচক কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায়” অগ্রসর হচ্ছিল, যার সঙ্গে বহু আঞ্চলিক দেশও যুক্ত ছিল।
তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাতার এখনো সক্রিয় রয়েছে এবং “আমরা বিশ্বাস করি, একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আমেরিকার আগ্রহ রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধরত পক্ষগুলোর মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে কাজ চালিয়ে যাব।”

ইসরাইলের শাসন ব্যবস্থা ভেঙে দেওয়ার দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে ইরান। সেইসঙ্গে দেশটির বিরুদ্ধে পাল্টা বিধ্বংসী অভিযান চালিয়ে যাবে। এমনকি ব্যবহার করবে নতুন ক্ষেপণাস্ত্রও। মঙ্গলবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রেজা তালায়ী-নিক এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, আমাদের জাতি একটি আরোপিত যুদ্ধে পড়েছে এবং শত্রু আমাদের জনগণের প্রতিটি স্তরের শক্তি ও সহনশীলতাকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করছে।
ইরানের প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানকে জোর দিয়ে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইরান নিজেকে রক্ষার জন্য সব ধরনের সামর্থ্য ব্যবহার করছে।
তালায়ী-নিক বলেন, আমরা প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে থাকলেও আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক সব সামর্থ্যই কাজে লাগাচ্ছি। আমাদের প্রতিরক্ষা ফ্রন্টের খাত প্রশস্ত এবং সব শ্রেণির মানুষ এতে যুক্ত।
তিনি বলেন, শুক্রবার সকালে তেহরানের উত্তরে একটি আবাসিক ভবনে চালানো হামলায় ৬০ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে ২০ জন শিশু ছিল এবং কিছু শিশু এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে আছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আরও বলেন, ইসরাইলিদের দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা নেই।

তেল আবিবে অবস্থিত ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের একটি প্রধান কেন্দ্রে সফল ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কর্পস (আইআরজিসি) এ ঘোষণা করেছে। ইরানি গণমাধ্যম তাসনিম নিউজ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, তাদের অ্যারোস্পেস ইউনিট মঙ্গলবার ভোররাতে মোসাদের বিরুদ্ধে একটি কার্যকর সামরিক অভিযান পরিচালনা করে।
আইআরজিসি আরও জানায়, হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ঐ কেন্দ্রটিতে বর্তমানে আগুন জ্বলছে।
১৩ জুন ইসরাইল ইরানের উপর আঘাত হানার পর থেকে তেহরান তেল আবিবের লক্ষ্যবস্তুতে একাধিক পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
আইআরজিসি অভিযোগ করেছে, ইসরাইল যে আগ্রাসনমূলক বিমান হামলা চালিয়েছে, তা ইরানের পারমাণবিক, সামরিক ও আবাসিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে করা হয় এবং এতে দেশটির শীর্ষ সামরিক কমান্ডার, পারমাণবিক বিজ্ঞানীসহ সাধারণ নাগরিক, এমনকি নারী ও শিশুরও নিহত হয়েছেন।

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের মধ্যেই গাজায় ৪৫ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরাইল। গাজায় ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রে প্রবেশের জন্য অপেক্ষারতদের ওপর গুলিবর্ষণ করে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। এতে ৪৫ জন নিহত হওয়ার পাশাপাশি বহু মানুষ আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা।
গাজার দক্ষীণাঞ্চলের খান ইউনিসের আল-তাহলিয়া গোলচত্বরে এ ঘটনা ঘটে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, আল-তাহলিয়া গোলচত্বরে কয়েক হাজার ফিলিস্তিনি খাবার সংগ্রহের জন্য জড়ো হয়েছিলো, এরমধ্যেই হঠাৎ ইসরাইলি সেনারা গুলি করা শুরু করলে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।