অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় টানা ১৯ মাস আগ্রাসন চালাচ্ছে ইসরাইল। একই সঙ্গে গত মার্চ থেকে টানা দুই মাসের বেশি সময় যুদ্ধবিধ্বস্ত ভূখণ্ডটিতে সর্বাত্মক অবরোধ দিয়ে রেখেছিল ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপে গত সপ্তাহে গাজায় খাদ্য ও ওষুধ প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ইসরাইল তুলে নিলেও জাতিসংঘের মহাসচিবের ভাষায়, সাগর সমান প্রয়োজনের তুলনায় ‘চা চামচ পরিমাণ’ সরবরাহ।
সার্বিক পরিস্থিতিতে মৃত্যুকেই এখন আপন ভাবছেন গাজার বাসিন্দারা। গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় খান ইউনুসের চিকিৎসক দম্পতি ডা. হামদি ও ডা. আলা আল-নাজ্জার। ১০ সন্তানকে নিয়ে সুখের সংসার ছিল তাদের। কিন্তু গত শুক্রবার এক বিমান হামলায় ভেঙে যায় তাদের শান্ত নীড়।
সেদিন সকালে খান ইউনুসের নাসের হাসপাতালে নিজের কর্মস্থলে গিয়েছিলেন ডা. আলা। অন্যদিকে ঘরে সন্তানদের সঙ্গেই ছিলেন ডা. হামদি। ইসরাইলি বিমান হামলায় পুরো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় তাদের ঘর।
শুধু ডা. হামদি ও তাদের ১১ বছর বয়সি ছেলে আদম প্রাণে বেঁচে যান। বাকি সবাই বিমান হামলায় নিহত হয়। আগুনে পুড়ে যাওয়ায় তাদের শরীর শনাক্তের অযোগ্য হয়ে যায়।
ডা. হামদির ভাই আলী আল-নাজ্জার বলেন, ডা. আলা তার সন্তানদের পুড়ে যাওয়া শরীর দেখে চিৎকার করে কান্না শুরু করেন। তার আত্মীয়রা তাকে প্রবোধ দেওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে নিজেরাই কাঁদতে থাকেন।
আলার বোন সাহার আল-নাজ্জার বলেন, ‘কাফনে মোড়ানো শিশুদের আমি চিনতেই পারিনি। তাদের চেনার কোনো চিহ্ন ছিল না। আলা পুরোপুরিই ভেঙে পড়েছে।’
এখন ডা. হামদি ও আদম দুজনই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হামদির ডান ফুসফুসের বড় একটি অংশ ফেলে দিতে হয়েছে এবং ১৭ বার তাকে রক্ত দিতে হয়েছে। এ ছাড়া আদমের এক হাত কেটে ফেলতে হয়েছে।
আলী আল-নাজ্জার বলেন, কীভাবে ভাইকে তার সন্তানদের মৃত্যুর কথা জানাবেন, ভেবে পাচ্ছেন না তিনি। তিনি বলেন, ‘আমি জানি না কীভাবে তাকে বলব। আমি কী বলবো তার সন্তানরা মৃত? তাদের দুটি কবরে দাফন করেছি আমি।’ ক্লান্ত কণ্ঠে আলী বলেন, ‘গাজায় কোনো নিরাপদ আশ্রয় নেই। এ নির্যাতন থেকে মৃত্যু অনেক ভালো।’
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

