আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা ও ইসরাইলের যুদ্ধের মধ্যে জ্বালানির দাম কমাতে তার প্রশাসন তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর ওপর থেকে কিছু নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে। সোমবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আলোচনার পর ট্রাম্প সাংবাদিকদের একথা বলেন। তবে ট্রাম্প কোনো দেশ নির্দিষ্ট করেননি বা কোন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাননি।
ট্রাম্প এমন একটি সময়ে এই মন্তব্য করেন, যখন রোববার দিনব্যাপী অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১২০ ডলারে ওঠার পর তা আবার ৯০ ডলারের নিচে নামে।
এ সময় ট্রাম্প চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের কথাও উল্লেখ করেন। কারণ বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল উৎপাদনকারী এবং রপ্তানিকারক দেশ রাশিয়া আর রাশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদার ও প্রধান তেল আমদানিকারক দেশ চীন।
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ধারণার চেয়ে আগেই শেষ হবে বলে ট্রাম্পের ঘোষণার পরপরই মঙ্গলবার তেলের দাম কমে গেছে এবং শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, যুদ্ধ শেষ হলে ওয়াশিংটন সম্ভবত কিছু দেশের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে পারে।
ট্রাম্পের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট গত সপ্তাহে বলেছিলেন ওয়াশিংটন রুশ তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের কথা বিবেচনা করছে। এছাড়া একদিন আগে ভারতকে মস্কো থেকে তেল কেনার জন্য অস্থায়ীভাবে অনুমোদন দিয়েছে। যদিও আমেরিকা ইতোমধ্যে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে, যাতে ভারত সমুদ্রপথে আটকে থাকা রুশ তেল কিনতে পারে।
এদিকে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, ইরান যুদ্ধের ফলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় ইউরোপে শর্তসাপেক্ষে তেল ও গ্যাস সরবরাহ করতে প্রস্তুত তারা। সোমবার দেশটির টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, মস্কো ইউরোপীয় গ্রাহকদের সঙ্গে আবার কাজ করতে প্রস্তুত। যারা ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অর্থায়ন বন্ধ করার জন্য মূলত তার দেশ থেকে তেল কেনা বন্ধ করে দিয়েছিল।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

