যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের বিখ্যাত এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের চূড়ায় উঠে বিশ্বশান্তির বাণী সংবলিত একটি ব্যানার উড়িয়েছেন রাশিয়ার এক দুঃসাহসী যুগল।
গতকাল বুধবার আকাশচুম্বী এই ভবনের অ্যান্টেনার স্পায়ার বা চূড়ার সূক্ষ্ম অংশে উঠে তারা এ কাণ্ড ঘটান। মূলত বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার একটি ব্যতিক্রমী আয়োজন ছিল এটি। তবে এই রোমাঞ্চকর অভিযানের শেষ হয়েছে তাদের গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে।
হাতাছাড়া কালো পোশাক পরা ওই যুগল আকাশে থাকার সময়কার মুহূর্তগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করছিলেন। ম্যানহাটনের ব্যস্ত ফুটপাত থেকে প্রায় ১ হাজার ৪৫৪ ফুট উঁচুতে অবস্থিত এই ল্যান্ডমার্ক ভবনের অ্যান্টেনা চূড়ার লাল বাতির কাছে ঝুলে ছিলেন আঞ্জেলা নিকোলাউ এবং ভানিয়া বীরকুস। তারা একটি কালো রঙের ব্যানার ধরে ছিলেন। বাতাসে উড়তে থাকা সেই ব্যানারে সাদা রঙের বড় অক্ষরে লেখা ছিল, ‘যখন ক্ষমতার প্রতি ভালোবাসার চেয়ে ভালোবাসার ক্ষমতা বড় হবে, তখন পৃথিবী শান্তি দেখবে।’
ঝুঁকিপূর্ণ বিয়ের প্রস্তাব
দুপুর সাড়ে ১২টার কিছু পরে একটি আকাশযান থেকে ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, ওই যুগল অ্যান্টেনা কাঠামো থেকে ধীরে ধীরে কিছুটা নিচের একটি প্ল্যাটফর্মে নেমে এসে থামেন। এরপর বীরকুস এক হাঁটু গেড়ে নিকোলাউকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। এরপর তারা একে অপরকে জড়িয়ে ধরেন এবং চুম্বন করেন।
নিকোলাউ তখন ক্যাটওম্যান স্টাইলের একটি বিশেষ টুপি পরা ছিলেন। তাকে নিজের হাতের আংটি দেখতে এবং ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করার জন্য আংটির ছবি তুলতে দেখা যায়। এই যুগল এবং তাদের বহুতল ভবনের ছাদে ওঠার এমন বিপজ্জনক অ্যাডভেঞ্চার নিয়ে ২০২৪ সালে নেটফ্লিক্সে ‘স্কাইওয়াকার্স: আ এক লাভ স্টোরি’ নামে একটি প্রামাণ্যচিত্রও নির্মিত হয়েছিল।
তবে এই ঘটনার পর নিউইয়র্ক পুলিশ (এনওয়াইপিডি) ভবনের চারপাশের রাস্তাগুলো বন্ধ করে দেয়। পরে পুলিশ জানায়, কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই ওই যুগলকে তারা হেফাজতে নিয়েছে।
পুলিশ তাদের পরিচয় শনাক্ত করে জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম ইভান কুজনেতসভ (৩২) এবং নারীর নাম অ্যাঞ্জেলিনা নিকোলাউ (৩৩)। তাদের বিরুদ্ধে বেআইনি অনুপ্রবেশ, বিপজ্জনক পরিস্থিতি সৃষ্টি, অপরাধমূলক ভাঙচুর, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিসহ বেশ কয়েকটি অভিযোগ আনা হয়েছে।
তবে তারা এখনও পুলিশ হেফাজতে আছেন কি-না, তা স্পষ্ট করেননি পুলিশের মুখপাত্র। এছাড়া তারা কীভাবে ওই সুরক্ষিত অ্যান্টেনার কাছে পৌঁছালেন, তাও জানা যায়নি।
২০০১ সালের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার হামলার পর থেকে এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা অনেক জোরদার করা হয়েছে। বর্তমানে এই শহরটি তীব্র দাবদাহের মধ্যে রয়েছে। একই সঙ্গে সংগীতশিল্পী টেইলর সুইফট ও এনএফএল তারকা ট্রাভিস কেলসির সম্ভাব্য বিয়ে এবং আমেরিকার স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকীর উৎসব উদযাপনের জন্য শহরজুড়ে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা চলছে। এর মধ্যেই এই ঘটনা ঘটল।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও বাবার প্রতিক্রিয়া
আর্ট ডেকো শৈলীর এই ঐতিহাসিক টাওয়ারটি ১৯৬০ সালের আগে পর্যন্ত বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ভবন ছিল। পর্যটকরা টিকিট কেটে এই ভবনের ১০২ তলার একটি পর্যবেক্ষণ ডেকে যেতে পারেন। তবে সেখান থেকে বিপজ্জনকভাবে বেয়ে ওপরের ২০০ ফুট উঁচু অ্যান্টেনার স্পায়ারে ওঠার অনুমতি কাউকে দেওয়া হয় না।
এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের একজন মুখপাত্র বুধবারের এই ঘটনাটিকে একটি ‘অননুমোদিত ঘটনা’ বা অবৈধ অনুপ্রবেশ বলে বর্ণনা করেছেন।
এক বিবৃতিতে তিনি রসিকতা করে বলেন, এই যুগল ভবনের ১ হাজার ডলার মূল্যের ‘হ্যাপিলি এভার এম্পায়ার প্রপোজাল প্যাকেজ’ বেছে নিয়ে পর্যবেক্ষণ ডেকটি ভাড়া করতে পারতেন।
এদিকে নিকোলাউয়ের এই দুঃসাহসী শারীরিক কসরত মূলত তাদের পারিবারিক ঐতিহ্য। তার বাবা দিমিত্রি নিকোলাউ রাশিয়ার একজন সার্কাস শিল্পী। একজন সাংবাদিকের ফোনের জবাবে তিনি জানান, মেয়ের এই চূড়ায় ওঠার বিষয়ে তিনি জানতেন।
তিনি বলেন, ‘আমেরিকাসহ যেকোনো দেশের সংবিধান অনুযায়ী ছাদে ওঠা একটি স্বাভাবিক বিষয়।’
মেয়ের গ্রেপ্তারের বিষয়ে তিনি চিন্তিত কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি কেন চিন্তিত হব? আমি নিজেও তো ছাদে উঠি।’
সূত্র: রয়টার্স
এএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


