
১৩ জুন থেকে ইরান ৪০০টিরও বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং শত শত ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। এর ফলে তারা বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ নাগরিককে সরিয়ে নিয়েছে। ইসরাইলি সরকারের প্রেস অফিস এক বিবৃতিতে এ দাবি করেছে।
আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, নেতানিয়াহুর অফিসের তথ্যমতে, ইরানি হামলার ফলে ৪০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তু নিশ্চিত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে তারা স্থানগুলওর বিবরণ উল্লেখ করেনি।
এছাড়া এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ২৪ জন ইসরাইলি নিহত এবং ৮০৪ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে আটজনের অবস্থা গুরুতর বলে নেতানিয়াহুর অফিস জানিয়েছে।

ইরানের সঙ্গে ইসরাইলের যুদ্ধ নিয়ে আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বলেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই সময় রুশ প্রেসিডেন্ট ইরান-ইসরাইলের মধ্যে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দেন। এছাড়া সংঘাতের দ্রুত অবসান চেয়েছেন তিনি।
বুধবার আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে ফোনে পুতিনের কথা হয়। ওই সময় দুই প্রেসিডেন্টই এই সংঘাত নিয়ে ‘গভীর উদ্বেগ এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে এটি বন্ধের’ ব্যাপারে একমত পোষণ করেন।
আলাপচারিতায় পুতিন আমিরাতের প্রেসিডেন্টকে জানান, রাশিয়া দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতার জন্য প্রস্তুত আছে।
#ডব্লিউএ

ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে সতর্ক করে বলেছেন, ‘সর্বোচ্চ নেতা কোথায় লুকিয়েছেন’ সেটি তার জানা।
কিন্তু খামেনি কে এবং কেন ইসরাইল তাকে টার্গেট করেছে?
আয়াতোল্লাহ আলী খামেনি তিন দশকেরও বেশী সময় ধরে ইরানের রাষ্ট্রপ্রধান।
তার পদবী তাকে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের উপরে রেখেছে। পেজেশকিয়ান দেশটির সবচেয়ে প্রভাবশালী ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতা।
খামেনি নিজেও কট্টরপন্থী ধর্মীয় নেতাদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তারাই মূলত ১৯৭৯ সালে ইরানের ইসলামি বিপ্লবের নেতৃত্ব দিয়েছেন।
সেটি ছিলো একটি জনপ্রিয় গণঅভ্যুত্থান, যা ইরানে শাহ রাজতন্ত্রকে উৎখাত করেছে। যার নেতৃত্বে ছিলেন রেজা শাহ পাহলভী।
তাকে উৎখাতের পর ইরানে ধর্মীয় প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।
এরপর দেশটি দুজন সুপ্রিম লিডার বা সর্বোচ্চ নেতা পেয়েছে। তাদের পদবী হিসেবে আয়াতোল্লাহ ব্যবহার করা হয়, শিয়া ধর্মাবলম্বীদের কাছে যার অর্থ সিনিয়র ধর্মীয় নেতা।
সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে খামেনি এখন দেশটির সামরিক বাহিনীর কমান্ডার-ইন-চীফ। এ থেকেই হয়তো কিছুটা বোঝা যায় যে ইসরাইল তাকে কেনো টার্গেট করেছে।
ইরানের কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থায় দেশটির জনগনের নেতা নির্বাচনে কার্যত কোন এখতিয়ার থাকে না।
এমনকি সামাজিক মাধ্যমে কেউ খামেনির সমালোচনা করলে সেজন্যও তাকে জেলে যেতে হতে পারে।
#ডব্লিউএ

ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ দৃঢ়ভাবে মোকাবেলা করা হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। তিনি বলেন, চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধে এই জাতি কখনো কারো কাছেই আত্মসপমর্পণ করেনি, ভবিষ্যতেও করবে না। বুধবার এক প্রতিবেদনে এসব কথা জানায় আল জাজিরা।
টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে, ইরানের এই সর্বোচ্চ নেতা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জানা উচিত, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপ অপূরণীয় পরিণতি ডেকে আনবে।
তিনি আরো বলেন, ‘যারা ইরান, এর জনগণ এবং দেশটির ইতিহাস সম্পর্কে জানে, তারা কখনো আমাদের বিরুদ্ধে হুমকির ভাষায় কথা বলে না। কারণ ইরান কখনো আত্মসমর্পণ করে না।’
এর আগে মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে বলেছেন, ওয়াশিংটন জানে খামেনি কোথায় লুকিয়ে আছেন। তবে তাকে এখনই হত্যা করা হবে না।
ট্রুথ সোশ্যালে তিনি বলেন, ইরানের আকাশের ওপর এখন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।
আরএ