চলতি বছরের জুন মাসে ভারতের আহমেদাবাদ থেকে উড্ডয়নের কয়েক সেকেন্ড পরেই ফ্লাইট ১৭১ বিধ্বস্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন ২৪১ যাত্রী। নিহত হয়েছেন ক্রুও। বিমান বিধ্বস্ত হয়ে মাটিতে আছড়ে পড়ায় নিহত হয়েছিলেন আরো ১৯ জন। এই দুর্ঘটনায় মাত্র একজন যাত্রী বেঁচে ছিলেন। এটি বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার বিমানের ইতিহাসে প্রথম প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ভয়াবহ এই দুর্ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে আমেরিকা।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আমেরিকার তদন্তকারীদের মতে, দুর্ঘটনার তথ্যপ্রমাণে দেখা গেছে, বিমানের ক্যাপ্টেন সুমিত সাভারওয়াল ইচ্ছাকৃত বিমানটি বিধ্বস্ত করেছিলেন।
বোয়িং ড্রিমলাইনারের ব্ল্যাক বক্স থেকে পাওয়া তথ্যউপাত্তে বলা হয়েছে, ককপিটের ভেতরের কেউ ইঞ্জিনের জ্বালানি সরবরাহের সুইচগুলো বন্ধ করে দিয়েছিল। এ ছাড়া দুর্ঘটনার আগে বিমানের সামনের অংশটিও উপরে তোলার চেষ্টা করেননি ক্যাপ্টেন।
এ অবস্থায় আমেরিকার কিছু কর্মকর্তা আশঙ্কা করছেন, মোদি সরকার বিমান দুর্ঘটনার সঠিক তদন্ত বাধাগ্রস্ত করবে এবং দুর্ঘটনার জন্য বিমানের যান্ত্রিক ত্রুটিকে দায়ী করবে। তবে ভারতীয় পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, আমেরিকা তাদের তৈরি বিমানের ত্রুটিগুলোকে আমলে নিচ্ছে না। যদিও এর আগে কোনো বোয়িং ড্রিমলাইনার এমন মারাত্মক দুর্ঘটনার শিকার হয়নি।
আমেরিকার আশঙ্কা প্রকাশের অবশ্য কারণও রয়েছে। কারণ চলতি মাসে ভারতের শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, এই দুর্ঘটনার জন্য ক্যাপ্টেন সাভারওয়ালকে দায়ী করা যাবে না। ক্যাপ্টেনের বাবা ছেলেকে রক্ষার জন্য বলেছেন, পাইলট হিসেবে ৩০ বছরের নিখুঁত ক্যারিয়ার সত্ত্বেও এখন তার চরিত্রহননের চেষ্টা চলছে।
এ দুর্ঘটনার যৌথ তদন্ত করছে আমেরিকা ও ভারত । কারণ বোয়িং আমেরিকার তৈরি আর আমেরিকার নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রকদের দ্বারা অনুমোদিত। কিন্তু কর্মকর্তাদের মধ্যে পারস্পরিক সন্দেহ তদন্তকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
ভারতের এয়ারক্রাফট অ্যাকসিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরোর (এএআইবি) মহাপরিচালক জিভিজি যুগন্ধর আমেরিকার কর্মকর্তাদের বলেছিলেন, ভারত তৃতীয় বিশ্বের কোনো দেশ নয়, তাই তারা যা করতে চায় তার সবই করতে পারে।
তদন্ত কাজে বিমানের ব্ল্যাক বক্স থেকে পাওয়া তথ্যউপাত্ত এবং বিশ্লেষণকে অগ্রাধিক দেয়নি ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। এমনটাই অভিযোগ করেছে আমেরিকা। কারণ আমেরিকার তদন্তকারীদের ধ্বংসাবশেষের ছবি তুলতে বাধা দেওয়া হয়েছিল। শুধু তা-ই নয়, এর কিছু অংশ পরীক্ষা-নিরীক্ষার আগেই সরিয়ে নিয়েছিল ভারতীয় কর্তৃপক্ষ।
জুন মাসে দিল্লিতে আসা দুই আমেরিকান ব্ল্যাক বক্স বিশেষজ্ঞকে ককপিট থেকে ফ্লাইট ডেটা এবং ভয়েস রেকর্ডার বিশ্লেষণের জন্য ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে রিমোট ল্যাবে যেতেও বাধা দেওয়া হয়েছিল।
আমেরিকার ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ডের (এনটিএসবি) চেয়ারম্যান জেনিফার হোমেন্ডি বলেছেন, এই অঞ্চলে সন্ত্রাসবাদ বা সামরিক সংঘাতের ঝুঁকির কারণে আমেরিকার কর্মী এবং সরঞ্জামের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত ছিলেন।
কারণ গণমাধ্যমের নজর এড়াতে ব্ল্যাক বক্সের নিরীক্ষণ ছোট শহর কোরওয়াতে করাতে চাপ দিয়েছিল ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। তিনি আরো বলেছিলেন, ভারতের উচিত তাদের দিল্লির নিজস্ব ল্যাব থেকে ডেটা সংগ্রহ করে কাজ করা, নয়তো এনটিএসবির সঙ্গে কাজ করা।
আমেরিকা শেষ পর্যন্ত তদন্ত কাজে ভারতকে সমর্থন করবে না এমন হুমকি দেওয়ার পর তারা নয়াদিল্লির সাইট থেকে তথ্য বিশ্লেষণ করতে সম্মত হয়েছিল। এ বিষয়ে টেলিগ্রাফের পক্ষ থেকে যুগন্ধরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।


জামায়াত জোটের শীর্ষ নেতারা প্রার্থী হবেন যেসব আসনে