আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

ঈদ সামনে রেখে রাজধানীতে অবৈধ মদ মজুত, গ্রেপ্তার ২

স্টাফ রিপোর্টার

ঈদ সামনে রেখে রাজধানীতে অবৈধ মদ মজুত, গ্রেপ্তার ২

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) ঢাকা মহানগরীতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মদসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে। ডিএনসির দাবি, গ্রেপ্তারকৃতরা আসন্ন ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিক্রির উদ্দেশ্যে এই অবৈধ মদ মজুত করেছিল।

রোববার (১৫ মার্চ) ডিএনসির ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মেহেদী হাসান এ তথ্য জানান।

বিজ্ঞাপন

জানা গেছে, গত শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর হাজারীবাগ থানাধীন বছিলা ওয়েস্ট ধানমন্ডি আবাসিক এলাকার একটি বাসায় এই অভিযান চালানো হয়। ডিএনসির ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মেহেদী হাসানের তত্ত্বাবধানে সহকারী পরিচালক মোস্তাক আহমেদের নেতৃত্বে একটি দল ওই বাসায় তল্লাশি চালিয়ে ৬৫ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করে।

আটককৃতরা হলেন মো. গাউসুল আজম প্রিন্স (৩৪) ও মো. আবদুর রহমান (৩৭)। এ সময় তাদের কাছ থেকে মাদক ব্যবসায় ব্যবহৃত চারটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়।

ডিএনসি জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে, আসন্ন ঈদ সামনে রেখে ওই বাসায় বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মদ মজুত করা হয়েছে। অভিযান চালিয়ে বাসার এক কোণে রাখা চারটি ট্রাভেল ব্যাগ থেকে রয়্যাল স্ট্যাগ, আইস ভদকা, ব্লেন্ডার্স প্রাইড ও ম্যাকডাওয়েলসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মদ উদ্ধার করা হয়। প্রতিটি বোতল ৭৫০ মিলিলিটার হিসেবে মোট জব্দকৃত মদের পরিমাণ প্রায় ৪৮ লিটার।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, আটক গাউসুল আজম প্রিন্স দীর্ঘদিন ধরে মোহাম্মদপুরসহ ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ মদ পাইকারি ও খুচরা বিক্রি করে আসছিল। অপর আসামি আবদুর রহমান ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনার সীমান্ত এলাকা থেকে এই ভারতীয় মদ সংগ্রহ করে ঢাকায় প্রিন্সের কাছে সরবরাহ করত। রমজান ও আসন্ন ঈদে চাহিদা বাড়বে—এই সুযোগে বেচাকেনা বাড়ানোর জন্য তারা এই বড় চালান জমা করে রেখেছিল বলে ডিএনসি জানিয়েছে।

ডিএনসি কর্মকর্তারা আরও জানান, চোরাইপথে আনা এসব মদে প্রায়ই ক্ষতিকর রাসায়নিক মেশানো থাকে, যা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। ভেজাল এসব মদ সেবনে দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হওয়া থেকে শুরু করে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এ হাজারীবাগ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত মদের নমুনা রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এই চক্রের সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে ডিএনসি।

গত জানুয়ারিতেও রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় একটি ভেজাল মদের কারখানার সন্ধান পায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। ঈদসহ বিভিন্ন উৎসবকে কেন্দ্র করে অবৈধ মাদকের বিস্তার রোধে রাজধানীসহ দেশব্যাপী এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন