বগুড়ায় বজ্রনিরোধক ২১ যন্ত্রের ১৯টিই অকেজো

বগুড়ায় বজ্রনিরোধক ২১ যন্ত্রের ১৯টিই অকেজো

বগুড়ায় বজ্রপাতে বেড়েছে প্রাণহানির সংখ্যা । জেলায় গত পাঁচ বছরে ৭৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছর পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। জেলায় ২১টি বজ্র নিরোধক যন্ত্র থাকলেও অকেজো পড়ে আছে ১৯টি। এতে ওই এলাকার মানুষ মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। রক্ষণাবেক্ষণের অভাব ও ঝড়বৃষ্টির মৌসুমে যন্ত্রগুলো সঠিকভাবে কাজ না করায় স্থানীয়দের মাঝে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, বজ্রপাতে প্রাণহানি কমানোর জন্য জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিভাগের অধীন ১২টি উপজেলার মধ্যে ছয়টিতে ২০২১ সালের মার্চ মাসে ২১টি বজ্রপাত নিরোধক যন্ত্র স্থাপন করা হয়। প্রতিটির ব্যয় ধরা হয় ছয় লাখ ৮০ হাজার টাকা।

বিজ্ঞাপন

নিয়মানুযায়ী যন্ত্রগুলো ঠিক আছে কি না তা প্রতি বছর রক্ষণাবেক্ষণ করতে হয়। তবে সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ১৯টি বজ্র নিরোধক যন্ত্র অচল হয়ে আছে। অচল যন্ত্রগুলোর মধ্যে সারিয়াকান্দিতে পাঁচটি, সোনাতলায় পাঁচ, নন্দীগ্রামে দুই, ধুনটে তিন এবং বগুড়া সদরে চারটি। সচল আছে শিবগঞ্জ উপজেলার দুটি।

বজ্র নিরোধক যন্ত্রের প্রকৌশলীদের সূত্রে জানা গেছে, বজ্র নিরোধক যন্ত্র বা লাইটনিং অ্যারেস্টারের কার্যক্ষমতা সাধারণত এর সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ও ইনস্টলেশনের ওপর নির্ভর করে। উন্নতমানের তামা বা পরিবাহী ধাতুর রড এবং সঠিক গ্রাউন্ডিং থাকলে এটি ১০-১৫ বছর বা তার বেশি সময় কার্যকর থাকে। তবে প্রতি বছর, বিশেষ করে বর্ষার আগে গ্রাউন্ডিং পরীক্ষা করা প্রয়োজন। এটি তামার তৈরি হলে টেকসই হয়। আর্থিংয়ের মান সঠিক থাকতে হবে, যা বজ্রপাতের উচ্চ ভোল্টেজ মাটিতে ছড়িয়ে দেয়। মরিচা বা তারের সংযোগ আলগা হয়েছে কি না, তা নিয়মিত পরীক্ষা করা প্রয়োজন। এ জেলায় যে বজ্র নিরোধক যন্ত্র বসানো হয়েছে, তা সচল থাকলে চারপাশে ২০০ মিটার পর্যন্ত কাভার করতে পারবে।

এদিকে, বগুড়ায় স্থাপন করা যন্ত্রগুলোর কোনোটিই গত পাঁচ বছরে পরীক্ষা করে দেখা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এরই একপর্যায়ে সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন এলাকায় বজ্রপাত শুরু হলে দুর্যোগ অধিদপ্তর থেকে পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) গত ১৯ এপ্রিল প্রেরিত এক চিঠিতে জেলার বজ্র নিরোধক যন্ত্রের পরিস্থিতি জানতে জেলা ত্রাণ ও পুনবার্সন অফিসে চিঠি দেন। ওই চিঠির আলোকে মাঠপর্যায়ে যন্ত্রগুলো দেখতে টেকনিক্যাল টিম নিয়ে গেলে তারা পরীক্ষা করে দেখে ২১টির মধ্যে ১৯টিই অচল হয়ে গেছে।

বগুড়া সদর উপজেলা ত্রাণ ও পুনবার্সন কর্মকর্তা শামসুন নাহার শিউলি বলেন, আমি বগুড়া সদর উপজেলায় প্রায় দুই বছর হলো যোগ দিয়েছি কিন্তু কোনোদিন বজ্র নিরোধক যন্ত্রগুলো রক্ষণাবেক্ষণ করতে দেখিনি।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত পাঁচ বছরে জেলায় বজ্রপাতে ৭৩ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এছাড়া আরো দুজন রয়েছেন। আহত হয়েছেন অর্ধশতের মতো।

বগুড়ায় বজ্র নিরোধক যন্ত্রগুলো স্থাপন করেছে আইকোনিক নামে এক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তারা এগুলো স্থাপনের পর থেকে আর কোনোদিন খোঁজ নেয়নি বলে জানা গেছে।

আইকোনিক প্রতিষ্ঠানের টেকনিক্যাল টিমের অন্যতম সদস্য প্রকৌশলী সাব্বির আহম্মেদ বলেন, আমাদের কাজ ছিল যন্ত্রগুলো স্থাপন করা। প্রতি বছর এগুলো রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আলাদা সার্ভিস চার্জ দিতে হয়।

কিন্তু কেউ এ বিষয়ে কখনো যোগাযোগ করেনি।

তিনি আরো বলেন, এ জেলায় অন্ততপক্ষে ১২০টি যন্ত্র স্থাপন করা হলে অনেকটা কাভার হবে। ২০টি দিয়ে কোনোভাবেই কাভার করা সম্ভব নয়। বিশেষ করে মাঠে কৃষকরা কাজ করার সময় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটে। তাই ফসলের মাঠেই এ যন্ত্র স্থাপন করা বেশি প্রয়োজন।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোতাহার হোসেন বলেন, বজ্রপাতে এ জেলায় প্রাণহানির সংখ্যা বেশি হওয়ায় বজ্রপাত নিরোধক যন্ত্র স্থাপনের জন্য আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছি। জেলার অচল যন্ত্রগুলোর তথ্যও জানিয়েছি। দেখা যাক, এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষ কী ব্যবস্থা নেয়।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন