নোবেল শান্তি পুরস্কারের বিষয়ে প্রতিষ্ঠিত নীতি অনুযায়ী একবার ঘোষণা করা হলে তা আর কোনোভাবে হস্তান্তর, ভাগাভাগি বা বাতিল করা যায় না—এই নীতি আবারও স্পষ্ট করেছে নরওয়েজিয়ান নোবেল ইনস্টিটিউট। এ তথ্য জানানো হয়েছে ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদোর সাম্প্রতিক মন্তব্যের প্রেক্ষাপটে।
নোবেল ইনস্টিটিউটের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পুরস্কার ঘোষণা হওয়ার পর এটি প্রত্যাহার, ভাগাভাগি বা অন্য কারও কাছে হস্তান্তরের সুযোগ নেই। এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত এবং সময়ের সঙ্গে তা অপরিবর্তনীয় থাকে। নোবেল পুরস্কারের নিয়মাবলিতেও বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।
মাচাদোকে শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয়েছিল গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা এবং স্বৈরতান্ত্রিক শাসন থেকে ভেনেজুয়েলাকে শান্তিপূর্ণভাবে গণতন্ত্রে উত্তরণের প্রচেষ্টার স্বীকৃতিস্বরূপ। কিন্তু সম্প্রতি তিনি ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ হিসেবে তিনি এই পুরস্কার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দিতে চান।
উল্লেখ্য, গত ৩ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে। মাচাদোর মন্তব্যের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, তিনি শুনেছেন মাচাদো এমনটি করতে চান এবং সেটি হলে তিনি এটি “বড় সম্মান” হিসেবে গ্রহণ করবেন।
তবে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি আবারও জানায়, নোবেল পুরস্কার কোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বা ব্যক্তিগত ইচ্ছার ভিত্তিতে পরিবর্তন বা হস্তান্তর করা যায় না। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই নীতি নোবেল পুরস্কারের বিশ্বাসযোগ্যতা ও মর্যাদার মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
এসআর/এসআই
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

