অনলাইনে শিশুদের সুরক্ষায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোর জন্য অভিভাবক ও শিশুদের সুরক্ষাকবচ এবং প্রয়োজনীয় টুলস বা সুবিধা রাখা বাধ্যতামূলক করতে একটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তিতে পৌঁছেছেন মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের এনার্জি অ্যান্ড কমার্স কমিটির নেতারা। অনলাইনে শিশুদের কীভাবে রক্ষা করা যায়, তা নিয়ে বছরের পর বছর ধরে চলা বিতর্কের পর এটি একটি বড় পদক্ষেপ।
কমিটির চেয়ারম্যান ব্রেট গুথরি এবং কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য ফ্রাঙ্ক প্যালন গতকাল সোমবার ঘোষিত এই চুক্তির সুনির্দিষ্ট বিবরণ প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
তবে তারা বলেছেন, এই উদ্যোগ বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনবে।
এক যৌথ বিবৃতিতে গুথরি ও প্যালন বলেন, ‘আমরা অনেক মাস ধরে একসঙ্গে কাজ করেছি এবং এখন শিশুদের ডিজিটাল পরিবেশের উল্লেখযোগ্য উন্নতির নীতিমালার বিষয়ে একটি সাধারণ ঐকমত্যে পৌঁছেছি।’
যুবসমাজের ওপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবের কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো ক্রমবর্ধমান নজরদারির মধ্যে রয়েছে। এর অংশ হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার সীমিত করতে স্কুলগুলোতে ফোন নিষিদ্ধ করার জন্য অভিভাবক ও রাজ্য কর্মকর্তারা চাপ দিচ্ছেন।
এই দ্বিপক্ষীয় চুক্তিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের বিতর্কের বেশ কিছু বিতর্কিত বিষয়েরও সমাধান করেছে। কমিটির রিপাবলিকান পক্ষের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, এই চুক্তিতে ‘ডিউটি অব কেয়ার’ বা ‘যত্নশীল হওয়ার বাধ্যবাধকতা’ সংক্রান্ত ধারাটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এই ধারাটি থাকলে কোম্পানিগুলোর জন্য শিশুদের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলো ডিজাইন করা বাধ্যতামূলক হতো।
প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট সদস্য এবং টেনেসির মারশা ব্ল্যাকবার্নের মতো গুরুত্বপূর্ণ রিপাবলিকান সিনেটররা দীর্ঘদিন ধরে শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা সংক্রান্ত যেকোনো আইনে এই ‘ডিউটি অব কেয়ার’ ধারাটি অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। এর ফলে এই বিলটি পাসের পথ জটিল হয়ে পড়েছে।
তবে এই চুক্তির চেয়েও ‘অধিক সুরক্ষা’ প্রদান করে রাজ্যগুলো এমন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আইন পাস করার অনুমতি পাবে। ডেমোক্র্যাটরা এই আইনগুলো টিকিয়ে রাখতে চেয়েছিলেন, তাই এটি তাদের জন্য একটি জয়।
আইনে পরিণত হওয়ার আগে এই চুক্তিটিকে বেশ কিছু বাধা পার হতে হবে। এর মধ্যে সিনেটের সমর্থন এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুমোদন পাওয়ার বিষয় রয়েছে।
ট্রাম্পের মুখপাত্র অবশ্য এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া দেননি। তবে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের শীর্ষ রিপাবলিকান স্পিকার মাইক জনসন এই চুক্তিটিকে সমর্থন করেন বলে তার চিন্তাভাবনার সঙ্গে পরিচিত একটি সূত্র জানিয়েছে।
রাজ্যগুলোর নিজস্ব আইন
জাতীয় পর্যায়ে মার্কিন আইনপ্রণেতারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের জন্য বছরের পর বছর ধরে কোনো ব্যাপকভিত্তিক আইন পাস করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। এর ফলে রাজ্যগুলো তাদের নিজস্ব আইন পাস করতে বাধ্য হয়েছে।
রাজ্যগুলোর বিলের ওপর নজর রাখা অরাজনৈতিক সংস্থা ‘ন্যাশনাল কনফারেন্স অব স্টেট লেজিসলেচারস’-এর তথ্য অনুযায়ী, গত বছর অন্তত ২০টি রাজ্য শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার সংক্রান্ত আইন কার্যকর করেছে।
গত ডিসেম্বরে প্রকাশিত পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সি আমেরিকানদের কাছে স্ন্যাপের স্ন্যাপচ্যাট, মেটার ইনস্টাগ্রাম, গুগলের ইউটিউব এবং টিকটক সবচেয়ে জনপ্রিয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম।
গতকাল সোমবার মেটা এবং গুগল এই দ্বিপক্ষীয় চুক্তির বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এ ছাড়া স্ন্যাপ এবং টিকটকও মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এর আগে জানিয়েছিল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পণ্যের কারণে শিশুদের ক্ষতির দাবিসংক্রান্ত মামলা থেকে আইনি দায়মুক্তি পাওয়ার জন্য মার্কিন কংগ্রেসে লবিং বা জোর তৎপরতা চালিয়েছিল মেটা। তরুণদের জন্য ক্ষতিকারক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ডিজাইন করার অভিযোগে মেটা, টিকটক, ইউটিউব এবং স্ন্যাপচ্যাট বর্তমানে হাজার হাজার মামলার মুখোমুখি হচ্ছে। দায়মুক্তির এমন কোনো ধারা যদি আইনে পরিণত হয়, তবে তা এই মামলাগুলোকে দুর্বল বা বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
লবিংয়ের এই প্রচেষ্টা এবং প্রস্তাবিত ধারাটির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে মেটার মুখপাত্র স্টেফানি ওটওয়ে এর আগে রয়টার্সকে বলেছিলেন, এই ধারাটি ‘চলমান মামলাগুলোকে বাতিল বা বিলুপ্ত করে না।’
সূত্র: আলজাজিরা
এএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


