জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক দপ্তর বলেছে, অধিকৃত ফিলিস্তিন ভূখণ্ড পশ্চিম তীরে ইসরাইল যে ‘বৈষম্যের নীতি’ চালু করেছে, তা ফিলিস্তিনিদের জন্য শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে। বুধবার জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করেই ‘নিয়মতান্ত্রিকভাবেই বৈষম্য’ চালিয়ে আসছে ইসরাইল। এর আওতায় পুরো ভূখণ্ডে ফিলিস্তিনিদের চলাচলে কঠোর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ। এতে ফিলিস্তিনিদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিঘ্ন হচ্ছে।
এতে ইসরাইলের প্রতি পশ্চিম তীরে সব ধরনের ইহুদি বসতি প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, ফিলিস্তিনিদের প্রতি এই নিপীড়ন ও দখলদারিত্ব দক্ষিণ আফ্রিকায় কৃষ্ণাঙ্গদের সঙ্গে বৈষম্যের নীতিকে স্মরণ করিয়ে দেয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, পশ্চিম তীরে দুই ভিন্ন আইন প্রয়োগের মাধ্যমে ইহুদি বসতি স্থাপনকারী ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে বৈষম্য করা হচ্ছে। ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে বৈষম্যের মাধ্যমে তাদের ভূমি কেড়ে নেওয়া হচ্ছে এবং সম্পদ থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। এর ফলে ফিলিস্তিনিরা নিজ ভূমিরই নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছেন।
প্রতিবেদন প্রকাশের পর জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়মতান্ত্রিকভাবে রুদ্ধ করা হচ্ছে। জাতিগত বিদ্বেষ ও পৃথককরণের এই কঠোর ব্যবস্থা আমাদের দেখা (দক্ষিণ আফ্রিকায়) বৈষম্যের নীতির সঙ্গেই সাদৃশ্যপূর্ণ।’
তিনি বলেন, ইসরাইলের বৈষম্যমূলক আইন, নীতি ও অনুশীলন অধিকৃত পশ্চিম তীরে জীবনের সব ক্ষেত্রের ওপর নিয়ন্ত্রণ ও চাপ সৃষ্টি করেছে।
১৯৬৭ সালে আরব-ইসরাইল যুদ্ধের পর পশ্চিম তীর দখল করে ইসরাইল। সারা বিশ্বে এটি ইসরাইলি ‘অধিকৃত ভূখণ্ড’ হিসেবে স্বীকৃত। আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে অধিকৃত ভূখণ্ডে দখলদার শক্তি কোনো ধরনের বসতি বা স্থায়ী স্থাপনা তৈরি করতে পারে না। কিন্তু ৩০ লাখ ফিলিস্তিনির বাস এই ভূখণ্ডে বর্তমানে ৫ লাখ ইসরাইলির অবৈধ বসতি রয়েছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর থেকে পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে হামলা জোরদার করে ইসরাইলিরা। ইসরাইলি সহিংসতায় অধিকৃত ভূখণ্ডে ১ হাজার ১০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। এছাড়া এই সময়ের মধ্যে অন্তত ২১ হাজার বাসিন্দাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর মধ্যে পশ্চিম তীরে নতুন নতুন বসতি স্থাপনের প্রকল্প জোরদার করেছে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ। গত ডিসেম্বরে ইসরাইলি সরকার নতুন করে ১৯টি ইহুদি বসতি স্থাপনের পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


‘আমরা পরাধীন নই, কেই আত্মসমর্পণ করেনি’
যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও গাজায় ইসরাইলের হামলা, নিহত ১৪
২০২৭ সালের জন্য সামরিক বাজেটে রেকর্ড করতে যাচ্ছেন ট্রাম্প