১৯৪০ সালের পর ক্যালিফোর্নিয়ায় সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প

আমার দেশ অনলাইন
আমার দেশ অনলাইন

১৯৪০ সালের পর ক্যালিফোর্নিয়ায় সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প
ছবি: দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট

যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ার একটি গ্রামীণ এলাকায় বুধবার সকালে একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ১৯৪০ সালের পর ওই এলাকায় এটিই সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প। এতে কিছু মানুষ আহত হয়েছে, তবে তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিকভবে ৫ দশমিক ৬ মাত্রার এই ভূমিকম্পের উপকেন্দ্র ছিল উইলিস নামের একটি কৃষিপ্রধান শহর থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে। উপকূলীয় শহর ফোর্ট ব্র্যাগসহ দূরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় এই কম্পন ব্যাপকভাবে অনুভূত হয়েছে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় সময় সকাল ৮টা ১০ মিনিটে আঘাত হানা এই মূল ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল ফোর্ট ব্র্যাগ থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার পূর্বে স্থলভাগের অভ্যন্তরে এবং ভূগর্ভের প্রায় ৮ কিলোমিটার গভীরে। ছোট ছোট কৃষিপ্রধান শহর পরিবেষ্টিত মেন্ডোসিনো কাউন্টির এই এলাকাট সান ফ্রান্সিসকো থেকে ২২৫ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত।

বিজ্ঞাপন

মেন্ডোসিনো কাউন্টির মুখপাত্র হেদার রোজ জানিয়েছেন, হাসপাতালগুলো কিছু মানুষ আহত হওয়ার খবর দিয়েছে। তবে তাদের আঘাতের ধরন বা তীব্রতা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তার কাছে নেই।

তিনি জানান, কর্মকর্তারা পরবর্তী সময়ে একটি বৈঠকে বসবেন এবং তখন আরো তথ্য প্রকাশ করা হতে পারে।

মেন্ডোসিনো কাউন্টির এক্সিকিউটিভ অফিস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, উপকেন্দ্রের কাছাকাছি থাকা ছয়টি শহরের ৬ হাজারেরও বেশি বাসিন্দা বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছেন। ক্ষয়ক্ষতি পরিদর্শন এবং মেরামতের কাজ করার সুযোগ দিতে ওই অফিস থেকে জনগণকে মহাসড়ক ও রাস্তাঘাট এড়িয়ে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ব্রেই লিওন এবং তার সহকর্মীরা যখন মাত্রই ক্যালিফোর্নিয়ার ক্যালপেলা শহরের ‘ক্লাব ক্যালপেলা রেস্তোরাঁ’ খুলেছিলেন, তখনই ভবনটি কাঁপতে শুরু করে। এতে থালাবাসন ও মদের বোতলগুলো শব্দ করে কেঁপে ওঠে।

লিওন বলেন, ‘আমি কেবলই ওপেন বোর্ডটি চালু করে রান্নাঘরে ফিরে গিয়েছিলাম, আর ঠিক তখনই এটি ঘটে। মনে হচ্ছিল কোনো কিছু এসে ভবনটিতে আঘাত করেছে।’

রেস্তোরাঁটি ভূমিকম্পের উপকেন্দ্র থেকে প্রায় ১৬ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত। মেন্ডোসিনো কাউন্টির এই অঞ্চলে চলতি বছরে আরো কিছু ছোট ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে।

ক্যালিফোর্নিয়ার অভিজ্ঞ ভূমিকম্পবিদ লুসি জোনস বলেন, এই অঞ্চলে গত প্রায় ৯ দশকের মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড় ভূমিকম্প, যা কোনো বড় চ্যুতির ওপর অবস্থিত নয়।

জোনস বলেন, ‘এই এলাকায় ভূমিকম্প যে হয় না তা নয়, তবে সেগুলো সাধারণত এর চেয়ে ছোট আকারের হয়ে থাকে।’

তিনি আরো জানান, আফটারশক বা অনুকম্পন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তবে সেগুলো সম্ভবত কম মাত্রারই থাকবে। মূল ভূমিকম্পের এক ঘণ্টার মধ্যে উপকেন্দ্রের কাছাকাছি ২.৭ মাত্রার চেয়ে কম শক্তিশালী আরো তিনটি কম্পন আঘাত হানে।

লিওন জানান, ভূমিকম্পের কারণে রেস্তোরাঁ এবং পাশের স্টক রুমের দেয়াল থেকে ফ্রেম এবং তাক থেকে বোতল নিচে পড়ে যায়। তবে গ্রাহকদের সকালের নাশতার জন্য স্বাগত জানাতে তিনি এবং অন্য কর্মীরা দ্রুতই পরিষ্কারের কাজ শুরু করেন।

তিনি বলেন, ‘এটি খুব বড় ধরনের ভূমিকম্প ছিল না, তবে জিনিসপত্র সব ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়েছিল।’

উপকেন্দ্র থেকে প্রায় ৬৪ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বের কেলসিভিল এলাকায় নিজের বাড়িতে ছিলেন অ্যালান হ্যারিস ও তার পরিবার। হ্যারিস জানান, তিনি তার মোবাইল ফোনে ভূমিকম্পের সতর্কবার্তা পান এবং এর পরপরই ঘরটি কাঁপতে শুরু করে।

হ্যারিস বলেন, ‘তারা ঠিকঠাক আছে কি না, নিশ্চিত হতে আমি সঙ্গে সঙ্গে নিচতলায় আমার স্ত্রী ও মেয়ের উদ্দেশ্যে চিৎকার করি। এটি ভীতিকর ছিল। জিনিসপত্র ভেঙে পড়ার শব্দ পাওয়া যাচ্ছিল, বিশেষ করে বাড়ির তৃতীয় তলায়।’

ভূমিকম্পের সময় হ্যারিসের বাড়ির ভেতরের একটি নিরাপত্তা ক্যামেরাও জোরে কাঁপতে থাকে। ভিডিও ফুটেজে কিছু জোরে ভেঙে পড়ার শব্দ শোনার পর হ্যারিসকে বলতে শোনা যায়, ‘সবাই ঠিক আছ তো?’

এই কম্পন মাত্র ৩০ সেকেন্ড স্থায়ী হয়েছিল। হ্যারিস জানান, দেওয়াল থেকে ছবির ফ্রেম পড়ে যায় এবং একটি কম্পিউটারের মনিটর উল্টে যায়। তবে বাড়ির কোনো কাঠামোগত ক্ষতি হয়নি এবং বড় কোনো ক্ষতি দেখা যায়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নরের জরুরি সেবা কার্যালয় (ক্যাল ওইএস) জানিয়েছে, ‘মাইশেক’ অ্যাপের মাধ্যমে উত্তর ক্যালিফোর্নিয়াজুড়ে প্রায় ৬ লাখ ৫৭ হাজারেরও বেশি ভূমিকম্পের আগাম সতর্কতা বার্তা পাঠানো হয়েছে।

ক্যাল ওইএস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা আহতের খবর পায়নি, তবে প্রভাবগুলো মূল্যায়ন করতে তারা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করছে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে।

‘শেকঅ্যালার্ট’ অপারেশন টিমের বিজ্ঞানী রবার্ট ডি গ্রুট জানান, অন্যান্য জননিরাপত্তা সতর্কীকরণ ব্যবস্থার মাধ্যমে আরো লাখ লাখ মানুষ এই সতর্কবার্তা পেয়েছে, তবে সেই সংখ্যাগুলো এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি।

গ্রুট বলেন, ‘এ ঘটনার জন্য সতর্কবার্তা পৌঁছানোর সংখ্যা ১০ লাখেরও বেশিতে দাঁড়াবে।’

সূত্র: এপি

এএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন