আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

যুক্তরাষ্ট্রে কেনেডি সেন্টার বন্ধের ঘোষণা ট্রাম্পের, সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বিতর্ক

আমার দেশ অনলাইন

যুক্তরাষ্ট্রে কেনেডি সেন্টার বন্ধের ঘোষণা ট্রাম্পের, সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বিতর্ক

শিল্পী ও সাংস্কৃতিক মহলের তীব্র আপত্তির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটির অন্যতম প্রধান সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান জন এফ কেনেডি মেমোরিয়াল সেন্টার ফর দ্য পারফর্মিং আর্টস বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন। সংস্কার ও পুনর্গঠনের অজুহাতে আগামী জুলাই থেকে টানা দুই বছর কেন্দ্রটি বন্ধ রাখার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে। এ ঘোষণাকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) দেওয়া ঘোষণায় ট্রাম্প জানান, আগামী ৪ জুলাই থেকে কেনেডি সেন্টার বন্ধ কার্যকর হবে। ওই দিন যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের দিনও বটে। তবে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য কেন্দ্রটির পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন প্রয়োজন হবে, যার সদস্যদের বেশির ভাগই ট্রাম্প নিজেই মনোনীত করেছেন।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, প্রায় দুই বছরের জন্য সব ধরনের বিনোদনমূলক কার্যক্রম বন্ধ রাখাই ‘ট্রাম্প কেনেডি সেন্টারকে’ সাফল্য, সৌন্দর্য ও জাঁকজমকের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর দ্রুততম উপায়। তার দাবি, সাময়িক বন্ধের ফলে সংস্কারকাজ দ্রুত শেষ হবে এবং মানের দিক থেকেও উন্নত ফল পাওয়া যাবে।

ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, কনসার্ট, অপেরা, মিউজিক্যাল, ব্যালে ও অন্যান্য শিল্পকলা কার্যক্রম চলমান থাকলে নির্মাণ ও সংস্কারকাজে বিলম্ব হবে। তাই পুরো কেন্দ্র বন্ধ রেখে পুনর্গঠন করাই সবচেয়ে কার্যকর সমাধান। তিনি বলেন, সংস্কার শেষে এই কেন্দ্র বিশ্বের সেরা পারফর্মিং আর্টস ভেন্যুতে পরিণত হতে পারে, যা নিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গর্ব করবে।

এই ঘোষণা আসে এমন এক সময়ে, যখন কেন্দ্রটির আগের নেতৃত্ব সরিয়ে দেওয়া এবং ভবনের সঙ্গে ট্রাম্পের নাম যুক্ত করার প্রতিবাদে একের পর এক খ্যাতনামা শিল্পী, সংগীতশিল্পী ও সাংস্কৃতিক দল তাদের পরিবেশনা বাতিল করেছে। যদিও ট্রাম্প তার ঘোষণায় এসব প্রতিবাদের কথা উল্লেখ করেননি।

এ বিষয়ে কেনেডি সেন্টারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, ১৯৬৪ সালে প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডির হত্যার পর কংগ্রেস এই কেন্দ্রকে তার স্মরণে একটি ‘জীবন্ত স্মৃতিসৌধ’ হিসেবে নামকরণ করে। ১৯৭১ সালে উদ্বোধনের পর থেকে এটি ন্যাশনাল সিম্ফনি অর্কেস্ট্রাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক সংগঠনের নিয়মিত মঞ্চ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

ট্রাম্প বোর্ডের চেয়ারম্যান হওয়ার পর তার নীতির প্রতিবাদে বহু শিল্পী সেখানে অনুষ্ঠান বাতিল করেন। সম্প্রতি ওয়াশিংটন ন্যাশনাল অপেরাও ঘোষণা দিয়েছে, তারা কেনেডি সেন্টার ছেড়ে যাবে—যদিও উদ্বোধনের পর থেকেই কেন্দ্রটি তাদের স্থায়ী ঠিকানা ছিল।

এসআর

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন