প্রতীকী ধর্মঘট প্রত্যাহার, দাবি না মানলে ২৩ আগস্ট থেকে সিএনজি স্টেশন বন্ধ

প্রতীকী ধর্মঘট প্রত্যাহার, দাবি না মানলে ২৩ আগস্ট থেকে সিএনজি স্টেশন বন্ধ

চলমান গ্যাস সংকটের বিষয় বিবেচনা করে আগামী ৩০ জুলাই সিএনজি ফিলিং স্টেশন প্রতীকী বন্ধ রাখার কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছে বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন এন্ড কনভার্সন ওয়ার্কশপ ওনার্স এসোসিয়েশন। তবে, এর মধ্যে ন্যায্য দাবি-দাওয়া ও সমস্যাগুলোর যৌক্তিক ও ইতিবাচক সমাধান না হলে পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি হিসেবে ২৩ আগস্ট থেকে দেশের সব সিএনজি ফিলিং স্টেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

বিজ্ঞাপন

সোমবার দুপুরে রাজধানীর বিজয়নগরের আকরাম টাওয়ারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান, কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গঠিত স্টিয়ারিং কমিটির আহ্বায়ক আমিরুজ্জামান চৌধুরী।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আমরা আশা করি, জ্বালানি বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়গুলো গুরুত্ব বিবেচনায় পূর্বের ন্যায় তথাকথিত সুপারিশের আশ্রয় না নিয়ে ইতিবাচক সমাধানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। ধ্বংসের মুখে নিমজ্জিত সেক্টরটিকে টিকিয়ে রাখতে আমরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুদৃষ্টি ও হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ফারহান নূর বলেন, আমরা জনদুর্ভোগ বাড়াতে চাই না। মহেশখালীতে সৃষ্ট সমস্যায় দেশজুড়ে ইতোমধ্যে গ্যাস সরবরাহ বিঘ্ন ঘটছে। কাজেই আমাদের কর্মসূচি নতুন করে সমস্যা বাড়াক, সেটা আমরা চাই না।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সিএনজি স্টেশন মালিকদের এখন দেয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছে। সিএনজি ব্যবসায়ীরা ক্রমাগত লোকসান দিয়ে আর ব্যবসা চালিয়ে রাখতে পারছে না বলে কর্মসূচি দিতে বাধ্য হয়েছে। কিন্তু হঠাৎ করে কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের একাংশে আগুন লেগে সারাদেশে গ্যাস সরবরাহে বিপর্যয় ঘটায় এই মুহূর্তে সরকারকে সহযোগীতার হাত প্রসারিত করে কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, সারাদেশে ৫ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করে পাঁচ শতাধিক সিএনজি ফিলিং স্টেশন এবং কয়েক হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করে প্রায় ১০ লক্ষাধিক যানবাহনে জ্বালানি হিসেবে সিএনজি ব্যবহার করার কারণে ঢাকাসহ সারাদেশের বায়ুদূষণ সহনীয় মাত্রায় নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। গত ৩ জুন বিদ্যুতের নতন মূল্যহার নির্ধারনের পর ৬ জুন এবং ২১ জুলাই সাংবাদিক সম্মেলন করে সুনির্দিষ্ট কিছু দাবি জানানো হয়, যা গত এক যুগেরও বেশী সময় যাবৎ দাবি করে আসা হচ্ছে। গত ২৫ জুলাই পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যানের সাথে এসোসিয়েশনের নেতারা বৈঠক করে ‘গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি’ নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি দাবিগুলো জানানো হয়। দাবির বিষয়ে আগের মতো আশ্বাস দেওয়া হলেও সমস্যা সমাধানে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রস্তাবনা পাওয়া যায়নি।

সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়, দাবি ও সমস্যাগুলোর বিষয়ে সরকারের বিভিন্ন বিভাগ ও সংস্থায় বহুবার পত্রালাপ করা, জ্বালানি বিভাগ গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটির ২০১৩ এবং ২০১৭ সালের সুনির্দিষ্ট সুপারিশ থাকা সত্ত্বেও কোন সমাধান আসেনি। জ্বালানি মন্ত্রীর সাথে এ নিয়ে কথা বলতে বৈঠকের জন্য সময় চেয়েও পাওয়া যায়নি। গত ২১ জুলাই কর্মসূচি ঘোষণার পর ৩ সদস্যের প্রতিনিধি দল বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী এবং বন ও পরিবেশ মন্ত্রীর সাথে দেখা করে বিষয়গুলো অবহিত করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন এসোসিয়েশনের যুগ্ম মহাসচিব আব্দুল কাইয়ুম খান, অর্থ সম্পাদক আল মামুন ভূঁইয়া, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ওয়াহিদ খান, হাকিম প্রধান, সৈয়দ শাদাত আহমেদ, সাইদা আক্তার, রেজাবউদ্দৌলা চৌধুরী, ইফতেখার আহমেদ, লক্ষীপুর নোয়াখালী জোনের সেক্রেটারী নুরুল আফসার টিটো প্রমুখ।

এমএমআর

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন