মার্কিন গ্যাস স্টেশনে ট্যাঙ্ক রিডার হ্যাক, ইরানকে দায়ী করছেন কর্মকর্তারা

আমার দেশ অনলাইন
আমার দেশ অনলাইন

মার্কিন গ্যাস স্টেশনে ট্যাঙ্ক রিডার হ্যাক, ইরানকে দায়ী করছেন কর্মকর্তারা

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের গ্যাস স্টেশনগুলোর জ্বালানি সংরক্ষণ ট্যাংক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থায় (অটোমেটিক ট্যাংক গেজ – এটিজি) সম্প্রতি সাইবার অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেছে। দেশটির কর্মকর্তারা সন্দেহ করছেন, এই হামলার পেছনে রয়েছে ইরান-সমর্থিত হ্যাকাররা।

বিজ্ঞাপন

বিষয়টি সম্পর্কে জানা সূত্রে বলা হয়, হ্যাকাররা অনেক ক্ষেত্রেই ইন্টারনেটে উন্মুক্ত এবং পাসওয়ার্ড সুরক্ষাহীন অবস্থায় থাকা এটিজি সিস্টেমে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে তারা ট্যাংকের প্রদর্শিত জ্বালানির তথ্য পরিবর্তন করতে পারলেও প্রকৃত জ্বালানির পরিমাণে কোনো ক্ষতি করেনি।

তদন্তে থাকা সূত্রগুলো বলছে, অতীতে ইরান একই ধরনের জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল। তবে পর্যাপ্ত ফরেনসিক প্রমাণ না থাকায় নিশ্চিতভাবে দায়ী পক্ষ শনাক্ত করা এখনো কঠিন। যদি ইরানের সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হয়, তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর বিরুদ্ধে তেহরানের আরেকটি সাইবার হুমকি হিসেবে গণ্য হবে।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, ইরান-ইসরাইল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রে সরাসরি সামরিক হামলার সীমিত সক্ষমতার কারণে সাইবার হামলাকে বিকল্প কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি, এই ঘটনা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্যও রাজনৈতিকভাবে বিব্রতকর হতে পারে, কারণ যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে গেছে এবং একটি জরিপে ৭৫ শতাংশ মার্কিন নাগরিক জানিয়েছে, ইরান যুদ্ধ তাদের আর্থিক অবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

সাইবার নিরাপত্তা গবেষকরা দীর্ঘদিন ধরেই সতর্ক করে আসছিলেন যে ইন্টারনেট-সংযুক্ত এটিজি সিস্টেমগুলো বড় ধরনের ঝুঁকিতে রয়েছে। ২০১৫ সালে ট্রেন্ড মাইক্রো ভুয়া এটিজি সিস্টেম অনলাইনে উন্মুক্ত করলে প্রো-ইরান গোষ্ঠী দ্রুত সেগুলোতে প্রবেশের চেষ্টা চালায়।

২০২১ সালে স্কাই নিউজের এক প্রতিবেদনে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর অভ্যন্তরীণ নথির উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, গ্যাস স্টেশনের এটিজি সিস্টেমকে ভবিষ্যৎ সাইবার হামলার সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরে ইরানের সাইবার সক্ষমতাকে চীন বা রাশিয়ার তুলনায় তুলনামূলকভাবে দুর্বল মনে করলেও সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতে দেশটির হ্যাকারদের ক্রমবর্ধমান সক্রিয়তা নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে তেহরান-ঘনিষ্ঠ হ্যাকাররা যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক তেল, গ্যাস ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটিয়েছে। পাশাপাশি একটি মার্কিন মেডিকেল ডিভাইস নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের শিপমেন্ট কার্যক্রমেও সমস্যা দেখা দিয়েছে এবং এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেলের ব্যক্তিগত ইমেইল ফাঁসের ঘটনাও ঘটেছে।

ইসরাইলের জাতীয় সাইবার অধিদফতরের প্রধান ইয়োসি কারাদি বলেছেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরানের সাইবার কার্যক্রমের গতি ও পরিসর উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তিনি বলেন, “ইরানি হ্যাকাররা এখন সাইবার হামলার পাশাপাশি মনস্তাত্ত্বিক প্রচারণাও সমন্বিতভাবে চালাচ্ছে।”

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ অ্যালিসন উইকফ জানিয়েছেন, ইরানের নতুন কৌশলে দ্রুত কার্যকর ম্যালওয়্যার তৈরি, ধ্বংসাত্মক সফটওয়্যার ব্যবহার এবং চুরি করা তথ্য প্রচারণামূলকভাবে প্রকাশ করা অন্তর্ভুক্ত।

বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, আগামীর মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে কেন্দ্র করেও ইরান সাইবার ও তথ্যযুদ্ধ চালাতে পারে। ২০২০ সালের নির্বাচনে ভোটারদের ভয় দেখানোর জন্য ভুয়া পরিচয়ে প্রচারণার অভিযোগ উঠেছিল এবং ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় ট্রাম্প প্রচারণা শিবিরে হ্যাকিং-এর ঘটনাতেও ইরানি হ্যাকারদের দায়ী করা হয়।

সাবেক মার্কিন সাইবার নিরাপত্তা কর্মকর্তা ক্রিস ক্রেবস বলেন, ভবিষ্যতে সরাসরি ভোটিং সিস্টেম নয়, বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক তথ্যযুদ্ধ ও বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণাই বড় হুমকি হিসেবে দেখা দিতে পারে। তিনি বলেন, “কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় এসব তথ্যযুদ্ধ খুব কম খরচে এবং দ্রুত ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব, অথচ এর জন্য কার্যত কেউ জবাবদিহির মুখে পড়ছে না।”

সূত্র: সিএনএন

এসআর

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন