মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে রিপাবলিকানদের নতুন কৌশল

আমার দেশ অনলাইন

মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে রিপাবলিকানদের নতুন কৌশল
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি

যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধি, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ভাটা এবং ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার প্রেক্ষাপটে আসন্ন নভেম্বর মধ্যবর্তী নির্বাচনের রণকৌশল নতুন করে সাজাচ্ছে রিপাবলিকান পার্টি।

নতুন এই কৌশলের মূলে রয়েছে ট্রাম্পের একনিষ্ঠ সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে টেনে আনা, তবে নির্বাচনকে যেন জনপ্রিয়তাহীন প্রেসিডেন্টের ওপর কোনো 'গণভোট' হিসেবে দেখা না হয়, সেদিকে সতর্ক থাকা।

বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি ওয়াশিংটনের ওয়ালডর্ফ অ্যাস্টোরিয়া হোটেলে শীর্ষ রক্ষণশীল প্রচার কর্মকর্তাদের এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে ট্রাম্পের রাজনৈতিক উপদেষ্টারা এই পরিকল্পনা তুলে ধরেন। বৈঠকে উপস্থিত হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ সুজি ওয়াইলস এবং রাজনৈতিক প্রধান জেমস ব্লেয়ার প্রার্থীদের পরামর্শ দেন ট্রাম্পের বদলে রিপাবলিকানদের কর হ্রাস এবং মুদ্রাস্ফীতিবিরোধী নীতিগুলোর ওপর বেশি জোর দিতে।

রয়টার্স ও ইপসোস-এর সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বর্তমান মেয়াদে জনসমর্থন নেমে এসেছে মাত্র ৩৬ শতাংশে। বিশেষ করে ৭৯ বছর বয়সী এই প্রেসিডেন্টের খিটখিটে মেজাজ এবং সাম্প্রতিক কিছু বিস্ফোরক মন্তব্য নিয়ে খোদ নিজ দলেই উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ইরানের সঙ্গে দুই মাসের অমীমাংসিত যুদ্ধ। ট্রাম্প নিজেকে 'শান্তির প্রেসিডেন্ট' দাবি করলেও বর্তমানে তিনি ২০০৩ সালের ইরাক আক্রমণের পর সবচেয়ে বড় মার্কিন সামরিক অভিযানের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

যুদ্ধের ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। ট্রিপল-এ (AAA)-এর তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন গ্যাসের গড় মূল্য এখন ৪ ডলারের কাছাকাছি। এটি রিপাবলিকানদের প্রধান আইনি সাফল্য 'ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল অ্যাক্ট'-এর সুফলকেও ম্লান করে দিচ্ছে।

রিপাবলিকান কৌশলবিদরা আশঙ্কা করছেন, ট্রাম্পকে নির্বাচনের প্রধান মুখ করলে ডেমোক্র্যাটরা প্রচারের সুযোগ পাবে রিপাবলিকান প্রার্থীরা প্রেসিডেন্টের 'রাবার স্ট্যাম্প' মাত্র। তাই জাতীয় ইস্যুর বদলে এলাকাভিত্তিক স্থানীয় সমস্যা সমাধানে প্রার্থীরা বেশি গুরুত্ব দেবেন। তবে রিপাবলিকান ন্যাশনাল কমিটির জাতীয় প্রেস সেক্রেটারি কিয়ের্স্টেন প্যালস মনে করেন, ট্রাম্প এখনো ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় শক্তি।

মধ্যপ্রাচ্য বিশেষজ্ঞ অ্যারন ডেভিড মিলারের মতে, ইরান বর্তমানে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ হাতে রেখে ট্রাম্পের চেয়ে বেশি সময় অপেক্ষা করার ধৈর্য দেখাচ্ছে। তারা মনে করছে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ সহ্য করার ক্ষমতা ট্রাম্পের সীমিত। সব মিলিয়ে এই টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যেই রিপাবলিকানরা তাদের মধ্যবর্তী নির্বাচনের বৈতরণী পার হওয়ার চেষ্টা করছে।

সূত্র : রয়টার্স

এএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন