মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-সংকট দীর্ঘায়িত হওয়ার ফলে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে আসন্ন বৈঠকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দর-কষাকষির অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক ও সরকারি সূত্রগুলো। আগামী ১৪-১৫ মে বেইজিংয়ে দুই নেতার এই গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইরান যুদ্ধের কারণে এর আগে একবার এই সফর পিছিয়ে গেলেও বেইজিং এই শীর্ষ সম্মেলনকে দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্ক স্থিতিশীল করার একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে।
চীনা কর্মকর্তাদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন শুরুতে ইরান যুদ্ধে দ্রুত জয়লাভ করে বেইজিংয়ের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে চেয়েছিল। কিন্তু যুদ্ধ এখন একটি জটিল ও অজনপ্রিয় পর্যায়ে পৌঁছে যাওয়ায় পরিস্থিতি বেইজিংয়ের অনুকূলে চলে এসেছে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য উ সিনবো বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে পারত, তবে ট্রাম্পের হাতে শক্তিশালী দর-কষাকষির সুযোগ থাকত। কিন্তু এখন এটি পরিষ্কার যে, যুক্তরাষ্ট্র একাই ইরান সামলাতে পারছে না। ফলে চীনের সঙ্গে আলোচনার ক্ষেত্রে তার অবস্থান কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছে।’
বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে সফরের তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সামনেই যুক্তরাষ্ট্রে অন্তর্বর্তী নির্বাচন থাকায় ট্রাম্প ভোটারদের কাছে নিজের সাফল্য প্রমাণ করতে উদগ্রীব হয়ে আছেন। এই সুযোগে চীন আমেরিকার কাছ থেকে নিজেদের কিছু দাবি আদায় করে নিতে চায়। এর মধ্যে রয়েছে তাইওয়ান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি বিরোধিতা, উচ্চ-প্রযুক্তি রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা কমানো এবং চীনা কোম্পানিগুলোর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার।
এদিকে, বেইজিং ফরেন স্টাডিজ ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক স্কলার চুই হংজিয়ান জানান, ইরান সংকট চীনের সামগ্রিক পরিকল্পনায় কিছুটা ব্যাঘাত ঘটিয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চীনের বিপুল পরিমাণ জ্বালানি আমদানির বিষয়টি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তবে যুদ্ধ চলাকালীন শি জিনপিং বিশ্বজুড়ে শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানানোয় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চীনের অবস্থান অনেকটা সুসংহত হয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন চেম্বার অব কমার্সের সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্গ উটকে পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র জয় ছাড়াই যুদ্ধ করে যাচ্ছে, আর চীন যুদ্ধ ছাড়াই জয়ী হচ্ছে।’
তার মতে, জ্বালানি মূল্যের কারণে চীন কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও রাজনৈতিকভাবে তারা বর্তমান পরিস্থিতিতে বেশি সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে ট্রাম্পের শেষ বেইজিং সফরের পর থেকে দুই দেশের সম্পর্কে বাণিজ্য, প্রযুক্তি এবং তাইওয়ান ইস্যুতে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। আসন্ন এই বৈঠক সেই শীতল সম্পর্ক কতটুকু উষ্ণ করতে পারে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
সূত্র: সিএনএন
এএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


