মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ হওয়ায়, পানামা খাল দিয়ে পণ্য পরিবহনের চাহিদা বেড়েছে। এর ফলে এই পরিবহন খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
একটি সরকারি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বহনকারী একটি জাহাজ দীর্ঘ অপেক্ষা এড়াতে ৪০ লাখ ডলার অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করেছে। সাধারণত এ খালে প্রবেশের জন্য জাহাজকে প্রায় পাঁচ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরাইলি হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে এই ধরনের অর্থ প্রদানের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই হামলার ফলে হরমুজ প্রণালি অবরোধ করা হয়, যা উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে বিশ্বের তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানির এক-পঞ্চমাংশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ জলপথ।
এই অবস্থায় এশিয়ার বিভিন্ন তেল শোধনাগার এখন উপসাগরীয় দেশগুলোর পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল ও গ্যাস কিনে পানামা খাল হয়ে আমদানি করছে।
পানামা খাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, খাল দিয়ে প্রতিদিন গড়ে জাহাজ চলাচল স্থিতিশীল থাকলেও, এর চাহিদা বেড়েছে।
গত জানুয়ারিতে দৈনিক ৩৪টি জাহাজ চলাচল করলেও মার্চে তা বেড়ে ৩৭টিতে পৌঁছায় বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
তারা আরও জানায়, কোনো কোনো দিনে এ খাল দিয়ে ৪০টিরও বেশি জাহাজ চলাচল করেছে।
খাল ব্যবহারের জন্য জাহাজগুলো সাধারণত আগে থেকেই সময় বুকিং করে। তবে যাদের বুকিং থাকে না, তারা গড়ে পাঁচ দিন অপেক্ষা করে।
জরুরি ভিত্তিতে এই খাল ব্যবহার করে আগে পার হতে চাইলে, অতিরিক্ত অর্থ দিয়ে সুযোগ নেওয়া যায়।
সাম্প্রতিক এক নিলামে একটি এলএনজি জাহাজ ৪ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত দর দিয়েছে। এ ছাড়া গত কয়েক সপ্তাহে দুটি তেলবাহী জাহাজ ৩ মিলিয়ন ডলারের বেশি দর দিয়েছে।
আগে যেখানে গড় নিলাম মূল্য ছিল প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার ডলার, সেখানে মার্চ-এপ্রিল মাসে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ লাখ ৮৫ হাজার ডলারে।
বিশ্বের মোট সামুদ্রিক বাণিজ্যের প্রায় ৫ শতাংশ পানামা খালের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়। এই রুটটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলকে চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের সঙ্গে সংযুক্ত করে।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি ২০২৬ অর্থবছরের প্রথমার্ধে (অক্টোবর-সেপ্টেম্বর) পানামা খাল দিয়ে মোট ৬ হাজার ২৮৮টি জাহাজ চলাচল করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৩ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি।
এসআর
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

