১৬ বছর পর অবসান ঘটল হাঙ্গেরির প্রবীণ জাতীয়তাবাদী নেতা ভিক্টর অরবান শাসনের। রোববারের সাধারণ নির্বাচনে ভিক্টর অরবানকে হারিয়ে বিজয়ের পথে এগিয়ে আছেন পেইতার মোজোর। আর এর মধ্য দিয়ে শেষ হলো অরবানের ‘নির্বাচনি স্বৈরাচারী’ ব্যবস্থার।
পেইতারের তিসজা পার্টির ভূমিধস বিজয়ের বিষয়টি প্রকাশিত হওয়ায় ভিক্টর অরবান তার পরাজয় স্বীকার করে নিয়েছেন। রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পেইতার পোস্ট করেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান আমাদের বিজয়ের জন্য ফোন করে অভিনন্দন জানিয়েছেন।’
রাজধানীর বুদাপেস্টে দানিউব নদীর তীরে সমবেত হাজারো উল্লসিত সমর্থকের উদ্দেশে দেওয়া বিজয় ভাষণে পেইতার মোজোর বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থাকে উৎখাত করেছি। ভোটাররা ইতিহাস নতুন করে লিখেছেন।’
তিনি বলেন, আজ রাতে মিথ্যার ওপর সত্যের জয় হয়েছে। আজ আমরা জিতেছি; কারণ হাঙ্গেরির মানুষ মাতৃভূমি তাদের জন্য কী করতে পারে, সে আশায় বসে না থেকে তারা তাদের দেশের জন্য কী করতে পারে, সেই পথই বেছে নিয়েছেন। আপনারা উত্তরটি খুঁজে পেয়েছেন এবং তার বাস্তবায়ন করেছেন।
সরকারি ফলাফল অনুযায়ী, সোমবার ভোরে ৯৭ দশমিক ৩৫ শতাংশ ভোটকেন্দ্রের গণনা শেষে পেইতারে মধ্য-ডানপন্থি দল ১৯৯ আসনের মধ্যে ৫৩ দশমিক ৬ শতাংশ ভোট পেয়ে ১৩৮ আসন নিশ্চিত করেছে। বিপরীতে জাতীয়তাবাদী অরবানের ফিদেজ ৩৭ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট পেয়ে মাত্র ৫৫ আসন পেয়েছে। আর কট্টর ডানপন্থি দল আওয়ার হোমল্যান্ড পেয়েছে ৬টি।
পেইতার বলেন, প্রাপ্ত ফলাফল থেকে প্রতীয়মান যে, তার দল দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছে। সব হাঙ্গেরীয়কে ঐক্যবদ্ধ করার অঙ্গীকার করে তিনি আরো বলেন, গণতান্ত্রিক হাঙ্গেরির ইতিহাসে এত বিপুলসংখ্যক মানুষ আগে কখনো ভোট দেয়নি এবং কোনো একক দলই এত জনসমর্থন নিয়ে বিজয়ী হয়নি। এবারের ভোটে রেকর্ড ৭৯ দশমিক ৫ শতাংশ ভোটার ভোট দিয়েছেন।
অরবান আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন উভয়েরই ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। নির্বাচনি প্রচারণার শেষ সপ্তাহে আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স অরবানের সমর্থনে হাঙ্গেরীতে উপস্থিত হন। এ কারণে অরবান ইইউ ও ইউক্রেনের জন্য বড় সমস্যা হয়ে উঠেছিলেন। কিন্তু পেইতার হাঙ্গেরিকে রাশিয়া থেকে দূরে সরিয়ে ইইউ ও ইউক্রেনের সঙ্গে আরো সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন, যা তার জনসমর্থন বাড়িয়ে তুলেছিল।
বিশ্লেষকেরা ধারণা করছেন, পেইতারের এ জয়ের মধ্য দিয়ে বিশ্বের সঙ্গে হাঙ্গেরির সম্পর্ক নতুন করে গড়ে উঠবে। কমিউনিস্ট যুগের অবসানের পর হাঙ্গেরির রাজনৈতিক ইতিহাসে এবারের নির্বাচনকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধরা হচ্ছে।
পরপর চার নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতার মাধ্যমে টানা ১৬ বছর প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন ৬২ বছর বয়সি অরবান। তবে অর্থনৈতিক স্থবিরতা, আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতা এবং অভ্যন্তরীণ দুর্নীতির অভিযোগের কারণে তার জনপ্রিয়তা কমতে থাকে।
২০০৪ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর করপোরেট আইনে কর্মজীবন শুরু করেন পেইতার। বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালীন অরবানের ফিদেজ পার্টিতে যোগ দেন তিনি। রাজনীতিতে প্রবেশের পর থেকে ফিদেজের একজন অনুগত কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেছেন। কিন্তু ২০২৪ সালের একটি কেলেঙ্কারি দলের সঙ্গে তার সম্পর্ক তিক্ত করে তোলে। পরে সেই বছরের এপ্রিলে এসেই ২০২৪ সালের ইউরোপীয় পার্লামেন্ট নির্বাচন এবং ২০২৬ সালের হাঙ্গেরির জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে তিসজা পার্টিতে যোগ দেন পেইতার ।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

