ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আগ্রাসনের জবাবে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে তেহরান। এর জেরে পুরো অঞ্চলে সংকট ছড়িয়ে পড়েছে। জ্বালানিসমৃদ্ধ এই অঞ্চলের সংকট প্রভাব ফেলেছে সারা বিশ্বের অর্থনীতিতেই।
এর অংশ হিসেবেই প্রভাব পড়েছে ভারতের অর্থনীতির ওপর। বিশেষ করে জ্বালানি আমদানিতে বাধা ও বিমান পরিবহন বন্ধ হওয়ায় দেশটির অর্থনীতি অনেকটাই স্থবির হওয়ার পথে। তবে একই সঙ্গে ভারতের অর্থনীতির যে গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, তা হলো মধ্যপ্রাচ্যে বিশাল রেমিট্যান্সের বাজার।
বিশ্বজুড়ে রেমিট্যান্স বাজারের বৃহত্তম অংশীদার ভারত। দেশটির মোট জিডিপির ৩.৫ শতাংশ আসে রেমিট্যান্স থেকে। মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে ৯০ লাখ ভারতীয় বাস করে। দেশে পরিবারের কাছে পাঠানো তাদের অর্থ ভারতের অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা পালন করছে, বর্তমান আর্থিক ঘাটতি অনেকটাই পূরণ করছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের রপ্তানি বাণিজ্য দেশটির অর্থনীতিতে দুই শতাংশ অবদান রাখছে।
ভারতীয় সংস্থা সিটির এক প্রতিবেদন অনুসারে, দেশটির মোট রেমিট্যান্সের প্রায় ৩৮ শতাংশই উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থানরত ভারতীয়দের কাছ থেকে আসে। ২০২৫ অর্থবছরে ভারতে রেমিট্যান্স বাবদ মোট ১৩ হাজার ৫৪০ কোটি ডলার এসেছে। এর মধ্যে উপসাগরীয় দেশগুলো থেকেই এসেছে ৫ হাজার ১৪০ কোটি ডলার।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ২০২৫ সালে ভারতের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত হয়েছে ৫ হাজার ৮২০ কোটি ডলার।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতীয় শ্রমিকেরা উপসাগরীয় দেশগুলোতে তেলক্ষেত্র, নির্মাণ খাত, হোটেল ব্যবসা ও দোকানে কাজ করেন, যেগুলো ইরানে হামলার কারণে স্থবির হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের প্রধান অর্থনীতিবিদ আলেক্সান্দ্রা হেরমান বলেন, রেমিট্যান্স সরবরাহে তীব্র পতন ও সংঘাতের জেরে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় ভারতের বৈদেশিক অবস্থান শোচনীয় হয়ে উঠছে। এটি রুপির ওপর আরো চাপ বাড়াতে পারে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতে আসা রেমিট্যান্স দেশটিতে বিদেশি বিনিয়োগকে ছাড়িয়েছে। শুধু সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকেই মোট রেমিট্যান্সের পাঁচ ভাগের এক ভাগ দেশটিতে আসে।
মধ্যপ্রাচ্যে যদি দীর্ঘ মেয়াদে সংঘাত চলে, তাহলে ভারতের এই বিশাল রেমিট্যান্সের ওপর প্রভাব পড়বে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


আসামে ভারতীয় যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত, ২ পাইলটের মৃত্যু
দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত ইরান: আইআরজিসি