দিল্লির একটি বিশেষ আদালত দুই বাংলাদেশি নাগরিককে ১১ দিনের জন্য জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার (এনআইএ) হেফাজতে পাঠিয়েছে। গত সোমবার পশ্চিমবঙ্গ থেকে গ্রেপ্তারের পর ট্রানজিট রিমান্ডে তাদের নয়াদিল্লিতে আনা হয়। গত মঙ্গলবার রাজধানীর একটি বিশেষ এনআইএ আদালতে তাদের হাজির করা হয়। অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশি ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদিকে হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানায়, তারা অবৈধভাবে মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করে এবং পরে বাংলাদেশে ফেরার চেষ্টার সময় বনগাঁ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হয়।
গত ২৪ মার্চ পাতিয়ালা হাউস কোর্টের অতিরিক্ত দায়রা জজ প্রশান্ত শর্মা তাদের ১১ দিনের জন্য এনআইএ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন। হেফাজতের আবেদন জানাতে গিয়ে এনআইএ আদালতকে জানায়, চলতি মাসের শুরুতে পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ থেকে স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) তাদের গ্রেপ্তার করে। শুনানির সময় আদালত মামলার বিচারিক এখতিয়ার নিয়েও প্রশ্ন তোলে।
বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর রাহুল ত্যাগী আদালতে যুক্তি দেন, অভিযুক্তরা অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করায় এর পেছনে বৃহত্তর কোনো ষড়যন্ত্র থাকতে পারে। সেই সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে বিস্তারিত তদন্ত প্রয়োজন।
২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় অটোরিকশায় ভ্রমণকালে গুলিতে নিহত হন শরীফ ওসমান বিন হাদি। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে একটি চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এই হত্যাকাণ্ড শুধু একটি সাধারণ অপরাধ নয়; এর পেছনে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের কোনো ষড়যন্ত্র থাকতে পারে। এনআইএ মনে করছে, ভারতে অবস্থানকালে অভিযুক্তদের কারা আশ্রয় ও সহায়তা দিয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য উদ্ঘাটন জরুরি। পাশাপাশি মেঘালয় থেকে বনগাঁ পর্যন্ত তাদের চলাচলের নেটওয়ার্ক ও সম্ভাব্য সহযোগীদের শনাক্ত করার চেষ্টা করা হবে।
গোয়েন্দাদের সন্দেহ, এ ঘটনার সঙ্গে বৃহত্তর কোনো নাশকতার পরিকল্পনা জড়িত কি না, সেটিও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে। ফলে এই মামলাকে ঘিরে দুই দেশের নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সম্পর্ক নিয়েও নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

