আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে ইরানি হামলার হুমকি জিসিসি দেশগুলোর জন্য কতটা ঝুঁকিপূর্ণ?

আমার দেশ অনলাইন

বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে ইরানি হামলার হুমকি জিসিসি দেশগুলোর জন্য কতটা ঝুঁকিপূর্ণ?
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরান নতুন করে হুমকি দিয়েছে যে, তাদের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা হলে পাল্টা আঘাতে উপসাগরীয় দেশগুলোর গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে। এই হুমকির প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়তে পারে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের দেশগুলোর বড় শহরগুলোতে।

জিসিসি দেশগুলোর বিদ্যুৎ গ্রিড পরস্পরের সঙ্গে সংযুক্ত। ফলে একটি দেশে বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিপর্যয় হলে তার প্রভাব দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে অন্য দেশগুলোতেও। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আন্তঃনির্ভরশীলতাই এখন সবচেয়ে বড় দুর্বলতা।

বিজ্ঞাপন

বিশেষ করে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার এবং কুয়েতের মতো দেশগুলোয় বিদ্যুৎ সরবরাহ শুধু বাসাবাড়ির জন্য নয়, বরং শিল্প, পরিবহন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এই অঞ্চলের আরেকটি বড় ঝুঁকি হলো পানির সরবরাহ। জিসিসি দেশগুলোর বেশিরভাগ সুপেয় পানি আসে সমুদ্রের পানি বিশুদ্ধ করার মাধ্যমে। এসব ডেসালিনেশন প্ল্যান্ট সাধারণত বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত। ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হলে শুধু আলো-বিদ্যুৎ নয়, পানির সরবরাহও হুমকির মুখে পড়বে। এতে দ্রুত মানবিক সংকট তৈরি হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এই হুমকির মাধ্যমে একটি কৌশলগত বার্তা দিতে চাচ্ছে, বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার মিত্রদের উদ্দেশে। বার্তাটি হলো, সংঘাত বাড়ালে তার খরচ শুধু ইরানকেই নয়, পুরো অঞ্চলকেই বহন করতে হবে।

এই ধরনের অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা ‘প্রেশার পয়েন্ট’ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, যা প্রতিপক্ষকে যুদ্ধের সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করতে পারে।

বিদ্যুৎ ও পানির মতো মৌলিক সেবায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটলে উপসাগরীয় শহরগুলো কার্যত অচল হয়ে পড়তে পারে। হাসপাতাল, বিমানবন্দর, যোগাযোগ ব্যবস্থা—সবকিছুই এর প্রভাবে থমকে যেতে পারে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন