গ্যাস সংকট দূর হতে আরো ১৫ দিন সময় লাগবে: জ্বালানিমন্ত্রী

গ্যাস সংকট দূর হতে আরো ১৫ দিন সময় লাগবে: জ্বালানিমন্ত্রী
ফাইল ছবি

দেশে চলমান তীব্র গ্যাস সংকট দূর হতে আরো দশ থেকে পনেরো দিন সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত ভাসমান টার্মিনাল মেরামতের কাজ চলছে। এটি মেরামত করে আমদানিকৃত গ্যাস সরবরাহ করতে সরকার ও প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।

জ্বালানি সংকটের জন্য দেশবাসীর কাছে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, দেশবাসী গ্যাসের অভাবে সমস্যায় আছেন। আমরা এ থেকে উত্তরণের আপ্রাণ চেষ্টা করছি। আশা করছি, কয়েক দিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে। গতকাল পৃথক দুটি অনুষ্ঠানে তারা এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

রাজধানীর একটি হোটেলে ‘নেভিগেটিং গ্লোবাল শিফটস: ফস্টারিং এনার্জি সিকিউরিটি অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, দেশে আমদানি করা এলএনজি রূপান্তর করে সরবরাহের জন্য কক্সবাজারের মহেশখালীতে ভাসমান টার্মিনাল দুটি বেসরকারি খাতের। এর মধ্যে গত মঙ্গলবার আগুন লেগে এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে দেশে গ্যাসসংকট তৈরি হয়। এখন আমরা এগুলো মেরামতের উদ্যোগ নিয়েছি।

মন্ত্রী আরো বলেন, বিগত সরকার দেশে গ্যাসের উৎপাদন না বাড়িয়ে আমদানিনির্ভর করে তুলেছে জ্বালানি খাতকে। এখন এলএনজি, এলপিজিসহ বিভিন্ন জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে আমাদের। আর এই আমদানি করা জ্বালানির দামও অস্বাভাবিক বেড়ে গেছে। তিনি জানান, গত ছয় মাসে প্রায় ৩ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি আমদানি করতে হয়েছে। এতে আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপরও চাপ তৈরি হয়েছে।

এর আগে নিজ দপ্তরে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে প্রতিমন্ত্রী গ্যাস সংকট ও বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে জ্বালানি খাতের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।

সংকটের কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশে বর্তমানে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুটের বেশি। এ চাহিদা দিন দিন বেড়ে চলছে। তবে এ বিপুল চাহিদার বিপরীতে নিজস্ব উৎপাদন ও আমদানি থেকে জাতীয় গ্রিডে ২৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। এতে প্রতিদিনই প্রায় ১১০ কোটি ঘনফুটের বেশি গ্যাসের ঘাটতি থাকছে। সরবরাহকৃত গ্যাসের মধ্যে দেশের অভ্যন্তরীণ গ্যাসক্ষেত্র থেকে আসে প্রায় ১৭৫ কোটি ঘনফুট আর আমদানি করা এলএনজি থেকে আসে প্রায় ৯৫ কোটি ঘনফুট। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে নতুন করে এলএনজি সরবরাহ ৪৫ কোটি ঘনফুট কমে গেছে। এতে গ্যাসের সংকট আরো তীব্র হয়েছে।

তিনি বলেন, মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তিতাসের আওতাধীন এলাকার সব শ্রেণির গ্রাহক গ্যাসের স্বল্পচাপের মুখে থাকবেন। একই সঙ্গে অন্যান্য গ্যাস বিতরণ কোম্পানির গ্রাহকরাও সরবরাহ সংকটে পড়েছেন।প্রতিমন্ত্রী জানান, দুটি টার্মিনালের মাধ্যমে দৈনিক সর্বোচ্চ প্রায় ১১০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা রয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে সেখান থেকে গড়ে ৯৫ থেকে ১০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যোগ হয়। যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় এখন এ টার্মিনাল থেকে সরবরাহ অর্ধেক কমে যাওয়ায় সবাই দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।

ভাসমান টার্মিনাল দুটি মেরামতের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ টার্মিনাল দুটি বেসরকারি পর্যায়ের। এদের সঙ্গে সরকার এখন যুক্ত হয়ে কাজ করছে। আমরা প্রথমে ধরে নিয়েছিলাম, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সমস্যার সমাধান হবে। পরে ৪৮ ঘণ্টা পার হলেও সমাধান না হওয়ায় আয়ারল্যান্ড, যুক্তরাজ্য ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে বিশেষজ্ঞ আনা হয়েছে। পেট্রোবাংলা, আরপিজিসিএল ও জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং এক্সিলারেট এনার্জির বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক কারিগরি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছেন। বিদেশ থেকে প্রয়োজনীয় স্পেয়ার পার্টস আনা হচ্ছে। এগুলো এয়ার ফ্রেইটে আনা হলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাস্টমস ছাড়পত্র দিয়ে মেরামত কাজে ব্যবহার করা হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন