হরমুজ প্রণালীতে নৌবাহিনী মোতায়েন থেকে শুরু করে ইউরোপে সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের বিষয় পর্যন্ত ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের কাছ থেকে আরো বেশি সমর্থন চান। কিন্তু তাদের প্রতিক্রিয়া এখনো অনীহাপূর্ণ, আর ট্রাম্প প্রশাসনেরও তাদের প্রতি আগ্রহ তেমন জোরালো নয়।
বুধবার প্রকাশিত দ্য টেলিগ্রাফকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি কখনোই ন্যাটোর দ্বারা প্রভাবিত হইনি। আমি সবসময় জানতাম তারা একটি কাগুজে বাঘ, এবং পুতিনও তা জানে।’
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ন্যাটোর সদস্যপদ পুনর্বিবেচনা করবেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘অবশ্যই, এটি পুনর্বিবেচনারও বাইরে চলে গেছে।’
একই সাক্ষাৎকারে যুক্তরাজ্যের সামরিক সক্ষমতা নিয়েও কটাক্ষ করেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, ‘আপনাদের তো নৌবাহিনীই নেই। আপনারা অনেক পুরোনো হয়ে গেছেন, আর আপনাদের বিমানবাহী রণতরীগুলোও ঠিকমতো কাজ করত না।’
মিত্রদের প্রতি একই ধরনের অবজ্ঞার সুর একদিন আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর বক্তব্যেও শোনা যায়। তিনি আল জাজিরাকে বলেন, যদি এই ট্রান্সআটলান্টিক জোট ‘শুধু ইউরোপকে রক্ষা করার জন্যই হয়’, কিন্তু উল্টোটা না হয়, তাহলে এটি ‘খুব ভালো ব্যবস্থা নয়’।
রুবিও বলেন, বিষয়টি ‘পুনর্বিবেচনা করতে হবে’।
সূত্র : আল-জাজিরা
ফ্রান্সের জুনিয়র আর্মি মন্ত্রী এলিস রুফো প্যারিসে বলেন, ‘আমি আপনাদের মনে করিয়ে দিতে চাই ন্যাটো কী। এটি একটি সামরিক জোট, যা ইউরো-আটলান্টিক অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করে। এটি হরমুজ প্রণালীতে অভিযান পরিচালনার জন্য তৈরি নয়, যা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হবে।’
ব্রিটিশ দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ন্যাটোকে কাগুজে বাঘ বলে উল্লেখ করেন বলেন, যুক্তরাজ্যের কার্যকর কোনো নৌবাহিনী নেই। তিনি বলেন, ‘আমি কখনোই ন্যাটোর দ্বারা প্রভাবিত হইনি। আমি সবসময় জানতাম তারা একটি কাগুজে বাঘ, এবং পুতিনও তা জানে।’
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ন্যাটোর সদস্যপদ পুনর্বিবেচনা করবেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘অবশ্যই, এটি পুনর্বিবেচনারও বাইরে চলে গেছে।’
একই সাক্ষাৎকারে যুক্তরাজ্যের সামরিক সক্ষমতা নিয়েও কটাক্ষ করেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, ‘আপনাদের তো নৌবাহিনীই নেই। আপনারা অনেক পুরোনো হয়ে গেছেন, আর আপনাদের বিমানবাহী রণতরীগুলোও ঠিকমতো কাজ করত না।’
সূত্র : আল-জাজিরা

ইরানের ওপর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যৌথভাবে হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল। ওই দিন থেকেই পাল্টা জবাব দিতে শুরু করে ইরানও। এভাবেই টানা ৩৩তম দিনের যুদ্ধে ইরানের ১ লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বুধবার ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি এই তথ্য জানিয়েছে।
রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, সাম্প্রতিক হামলায় ১ লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে আবাসিক ভবন, চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং ত্রাণকেন্দ্র।
সংস্থাটি আরো জানায়, এসব স্থাপনার একটি ‘উল্লেখযোগ্য অংশ’ তেহরান প্রদেশে অবস্থিত।
এছাড়া ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে অন্তত ১ হাজার ৫২৬ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।
সূত্র : আল-জাজিরা

দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের অধ্যাপক মোহাম্মদ এলমাসরি বলেছেন, যুদ্ধে বড় ফ্রন্টে অগ্রগতি করতে ব্যর্থ হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র তার ঘোষিত লক্ষ্যগুলোতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এনেছে।
আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এলমাসরি বলেন, যুদ্ধের শুরুতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘খুবই অসংলগ্ন’ ছিলেন এবং কখনো কখনো পরস্পরবিরোধী লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলেন।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র শুরু থেকে তাদের সুসংহত করতে হিমশিম খাচ্ছে এবং ইরানে সরকার পরিবর্তন, সমঝোতা চুক্তি করা এবং হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার বিষয়ে তাদের অবস্থান বারবার পরিবর্তন করেছে।
এলমাসরি আরো বলেন, শুরুর দিকে মার্কিন কর্মকর্তারা সরকার পরিবর্তনের কথা বলছিলেন। এটি ছিল এই অভিযানের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। কিন্তু এখন তারা ইরানের বর্তমান সরকারকে স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন। তারা বুঝতে পেরেছেন ইরান নেতৃত্বশূন্য হবার নয়।
এলমাসরি বলেন, ট্রাম্প ইরানের সাথে চুক্তি করার বিষয়েও অবস্থান বদলেছেন; এখন তিনি মনে করেন চুক্তির প্রয়োজনই নাও হতে পারে। একইভাবে হরমুজ প্রণালী খোলার বিষয়েও তার বক্তব্য পরিবর্তিত হয়েছে।
এলমাসরির মতে, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে তাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হওয়া কারণেই তাদের বক্তব্য ও কৌশলে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।
সূত্র : আল-জাজিরা
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, সর্বশেষ হামলায় তারা ১০০টিরও বেশি ভারী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করেছে। একই সঙ্গে অন্তত ২০০টি রকেট নিক্ষেপ করা হয়েছে বলেও দাবি করেছে বাহিনীটি।
আইআরজিসির এক বিবৃতিতে বলা হয়, হামলাগুলো ইসরাইলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে পরিচালিত হয়েছে। এছাড়া উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবস্থানগুলোও লক্ষ্যবস্তু ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। এর মধ্যে বাহরাইনে মার্কিন বাহিনী অবস্থানরত একটি ঘাঁটি এবং কুয়েতের আল-আদিরি ঘাঁটিতে থাকা মার্কিন হেলিকপ্টার ইউনিটের ওপর হামলার কথাও উল্লেখ করা হয়।
ওই হামলায় একটি হেলিকপ্টার ধ্বংস হয়েছে বলেও দাবি করেছে আইআরজিসি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিতে প্রচারিত বিবৃতিতে আইআরজিসি আরো জানায়, পূর্ণ শক্তি দিয়ে এই হামলা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
তবে এ বিষয়ে ইসরাইল বা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
সূত্র : আল-জাজিরা