যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী ইরানের একটি কার্গো জাহাজে বাধা দিয়ে তা আটকের ঘটনাকে ইরানের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধ ঘোষণার শামিল’ বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন থিংক ট্যাঙ্ক প্রতিষ্ঠান আটলান্টিক কাউন্সিলের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হারলান উলমান।
আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে, এটি যুদ্ধ উসকে দেওয়ার মতো, এমনকি যুদ্ধ ঘোষণার কাছাকাছি একটি পদক্ষেপ। আর এভাবে আপনি সহজে কিছু করতে পারেন না।
তিনি আরো বলেন, আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের পদক্ষেপ মূলত যুদ্ধ ঘোষণারই সমতুল্য। তবে মার্কিন কংগ্রেস বিষয়টি সে দৃষ্টিতে দেখতে আগ্রহী নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এ ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবেও উল্লেখ করেন উলমান। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান—এমনিতেই জটিল—আলোচনা প্রক্রিয়াকে আরও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিতে পারে।
সূত্র: আলজাজিরা।
ওমান সাগরে একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজ জব্দের যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের রাষ্ট্র-সম্পর্কিত গণমাধ্যম। খবর আলজাজিরার।
আধা-সরকারি মেহর নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন সন্ত্রাসী বাহিনী ওমান সাগরের পার্শ্ববর্তী জলসীমায় অবস্থান করে একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজকে ইরানের জলসীমায় ফিরতে বাধ্য করার জন্য সেটির ওপর গুলি বর্ষণ করে।
বিজ্ঞাপন
বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, তবে, ইরানি জাহাজটির সমর্থনে আইআরজিসি নৌবাহিনীর সময়োচিত উপস্থিতি এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়ার ফলে আমেরিকানরা পিছু হটতে এবং এলাকা ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়।
উল্লেখ্য, এই ঘটনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগের বক্তব্যের সঙ্গে ইরানের এই দাবি ভিন্নতা দেখাচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্ট জাহাজটির নাম প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ ভেঙে যাওয়ার চেষ্টা করা একটি ইরানি পতাকাবাহী জাহাজকে আটক করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। খবর আলজাজিরার।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার ইউএসএস স্প্রুয়ান্স ওমান উপসাগরে ‘তুসকা’ নামের জাহাজটিকে আটকে দেয়। জাহাজটিকে থামার জন্য সতর্ক করা হলেও ইরানি ক্রুরা তা উপেক্ষা করে বলে দাবি করেন তিনি।
ট্রাম্প আরো জানান, পরে মার্কিন নৌবাহিনী জাহাজটির ইঞ্জিন রুমে আঘাত করে সেটিকে থামিয়ে দেয়। বর্তমানে মার্কিন মেরিন সদস্যরা জাহাজটির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘তুসকা’ জাহাজটি পূর্বের অবৈধ কর্মকাণ্ডের কারণে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের নিষেধাজ্ঞার আওতায় ছিল। বর্তমানে জাহাজটি পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতে রয়েছে এবং এতে কী রয়েছে তা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।
সূত্র: আলজাজিরা।
যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ ও কূটনীতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ তুলেছে ইরান। দেশটির আধা-সরকারি তাসনিম সংবাদ সংস্থার বরাতে এ তথ্য জানা গেছে। খবর আলজাজিরার।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে ফোনালাপের প্রসঙ্গে বলেন, আলোচনা ও যুদ্ধবিরতির সময় যুক্তরাষ্ট্র ধারাবাহিকভাবে প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করেছে এবং অত্যাচারী ও অযৌক্তিক আচরণ করেছে।
তিনি বলেন, ‘ইরানের বিরুদ্ধে তথাকথিত নৌ অবরোধের মাধ্যমে উস্কানিমূলক ও অবৈধ কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখা যুদ্ধবিরতি সমঝোতার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং এটি জাতিসংঘ সনদের পরিপন্থি।
এ বিষয়ে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন কর্মকর্তাদের হুমকিমূলক বক্তব্যের পাশাপাশি এই ধরনের কর্মকাণ্ড যুক্তরাষ্ট্রের আন্তরিকতা নিয়ে অবিশ্বাস কেবল বাড়িয়েই তুলছে। আর এটি এখন আগের চেয়েও বেশি প্রকাশ্য যে, যুক্তরাষ্ট্র তার পূর্ববর্তী ধারারই পুনরাবৃত্তি করতে এবং কূটনীতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করতে চাইছে।
পেজেশকিয়ান আরো বলেন যে, ইরান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং জায়নবাদী শাসনের যেকোনো নতুন দুঃসাহসিকতার বিরুদ্ধে দেশের ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা রক্ষা করবে।
সূত্র: আলজাজিরা।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে রোববার উষ্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ ফোনালাপ হয়েছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তান সরকার।
পাকিস্তানের প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তান সৎ ও আন্তরিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে বলে ইরানের প্রেসিডেন্টকে আশ্বস্ত করেছেন শাহবাজ শরিফ।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার জন্য ইসলামাবাদে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল পাঠানোর জন্য ইরানকে ধন্যবাদও জানান তিনি। তবে ৪৫ মিনিটের এই ফোনালাপে পরবর্তী দফার আলোচনা কবে অনুষ্ঠিত হবে, সে বিষয়ে কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
সূত্র: আলজাজিরা।
অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা জুড়ে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর ইসরাইলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে মধ্য গাজায় একটি ইসরাইলের হামলায় এক শিশু নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, আল-মাঘাজি শরণার্থী শিবিরের পূর্বে হালা সালেম দারউইশ নিহত হয়েছে।
এর আগে, আল-আওদা হাসপাতালের তথ্যমতে, নুসাইরাত শিবিরের উত্তর-পূর্বে সালাহ আল-দিন সড়কে একটি মোটরসাইকেলকে লক্ষ্য করে চালানো এক ইসরাইলি ড্রোন হামলায় ৩৮ বছর বয়সী আয়মান খালেদ আবু হাসনা নিহত এবং আরও বেশ কয়েকজন আহত হন।
সূত্র: আলজাজিরা।
ইরানের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার আলোচনায় বসতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, এই আলোচনার জন্য সোমবার পাকিস্তানের ইসলামাবাদে পৌঁছাবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা।
এর আগে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধি দলের মধ্যে আলোচনা হয়েছিল, সেই হোটেলের অতিথিদের সেখান থেকে চলে যেতে বলা হয়েছে।
ইসলামাবাদের তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় তাদের ক্লাস অনলাইনে শিফট করেছে।
ইসলামাবাদ পুলিশ জানিয়েছে, বিদেশি প্রতিনিধিদলগুলোর আগমনের কারণে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। একই সাথে ভারি যানবাহন চলাচল পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা হবে। ইতোমধ্যে শহরের প্রবেশমুখগুলোতে যানজটও তৈরি হয়েছে।
সব মিলিয়ে দ্বিতীয় দফা আলোচনা ঘিরে ইসলামাবাদ শহর প্রস্তুত হচ্ছে।
সূত্র: বিবিসি
মার্কিন অবরোধের কারণে এখনো পাকিস্তানে কোনো ইরানি আলোচক দল পাঠানো হচ্ছে না বলে জানিয়েছে ইরান।
দেশটির সংবাদ সংস্থা তাসনিম সংবাদ সংস্থা তাদের প্রতিবেদকের বরাত দিয়ে জানায়, “যতদিন নৌ অবরোধ থাকবে”, ততদিন পাকিস্তানে আলোচনার জন্য কোনো প্রতিনিধিদল পাঠাবে না ইরান।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অবরোধ বহাল রেখে আলোচনার টেবিলে বসার কোনো পরিকল্পনা বর্তমানে তেহরানের নেই।
সূত্র: আল-জাজিরা
ইরানের স্বাধীনতা, আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং নিরাপত্তা রক্ষায় শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়াই করার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির সামরিক প্রধান আমির হাতামি।
তিনি জানিয়েছেন, স্থল, আকাশ ও সমুদ্র—যেকোনো পথেই দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সেনাবাহিনী বদ্ধপরিকর। আমির হাতামি বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর সকল শাখা যেকোনো শত্রুকে চূড়ান্তভাবে মোকাবিলা করতে এবং সামরিক সক্ষমতা আরও জোরদার করতে সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।
ইরানি বাহিনীর মনোবল অত্যন্ত চাঙ্গা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের সেনারা 'জিহাদ' এবং ত্যাগের আদর্শে উজ্জীবিত। তারা তাদের দায়িত্ব পালনে বিন্দুমাত্র বিচ্যুত হবে না।
হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে হাতামি আরও বলেন, 'আমাদের বাহিনীর আঙুল এখন বন্দুকের ট্রিগারে। যেকোনো ত্যাগের বিনিময়ে শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত তারা শত্রুর মোকাবিলা করতে প্রস্তুত।'
সূত্র: আল-জাজিরা
ইরানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল থেকে আজ রোববার দুই বিদেশি নাগরিকসহ মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল-সংশ্লিষ্ট একটি গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের’ সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ আনা হয়েছে। ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এ খবর জানিয়েছে।
গ্রেপ্তার বিদেশিদের জাতীয়তা প্রকাশ করা হয়নি। তাঁদের বিরুদ্ধে স্টারলিংকের মতো স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সরঞ্জাম আমদানির অভিযোগ আনা হয়েছে, যা ইরানে দণ্ডনীয় অপরাধ।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে একযোগে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। এরপর থেকে দেশটিতে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রয়েছে।
সূত্র: আল-জাজিরা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, আমরা একটি অত্যন্ত ন্যায্য এবং যুক্তিসঙ্গত চুক্তির প্রস্তাব দিচ্ছি, এবং আমি আশা করি তারা এটি গ্রহণ করবে। কারণ যদি তারা তা না করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রতিটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং প্রতিটি সেতু গুঁড়িয়ে দেবে। সেগুলো খুব দ্রুত এবং সহজেই ধ্বংস হয়ে যাবে যদি তারা এ চুক্তি গ্রহণ না করে।
নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এসব হুমকি দেন।
ট্রাম্প বলেন, ইরান গতকাল হরমুজ প্রণালিতে গুলি ছোড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে- যা আমাদের যুদ্ধবিরতি চুক্তির একটি সম্পূর্ণ লঙ্ঘন! তারা একটি ফরাসি জাহাজ এবং একটি ব্রিটিশ মালবাহী জাহাজে গুলি চালিয়েছে।
তিনি বলেন, তার প্রতিনিধিরা আলোচনার জন্য ইসলামাবাদ যাচ্ছেন এবং তারা মঙ্গলবার সকালে সেখানে পৌঁছাবেন।
ট্রাম্প আরো বলেন, ইরান সম্প্রতি ঘোষণা করেছে, তারা প্রণালিটি বন্ধ করে দিচ্ছে। এটা বেশ অদ্ভুত। কারণ আমাদের অবরোধ এটি আগেই বন্ধ করে দিয়েছে। তারা না জেনেই আমাদের সাহায্য করছে।
সূত্র- আল জাজিরা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, ইরান যুদ্ধবিরতির ‘গুরুতর লঙ্ঘন’ করেছে। তবে এরপরেও একটি শান্তি চুক্তি সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।
এবিসি নিউজের সাংবাদিক জনাথন কার্ল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট তাঁকে এ কথা বলেছেন। জনাথন কার্ল বলেন, ট্রাম্প তাঁকে বলেছেন, ‘এটি (শান্তি চুক্তি) হবেই। কোনো না কোনোভাবে এটি হবে। হয় সহজভাবে, না হয় কঠিনভাবে—কিন্তু এটি ঘটবে। আপনি আমার উদ্ধৃতি দিতে পারেন।’
সূত্র: আল–জাজিরা।
ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকায় আবারও হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে তেহরান।
জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট মেরিনট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের কোনো তথ্য পাওয়া যায় নি।
তবে উপসাগরজুড়ে বিশেষ করে ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপকূলের কাছাকাছি অনেকগুলো জাহাজকে নোঙর করে থাকতে দেখা গেছে।
গতকাল (শনিবার) গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে কিছু জাহাজ চলাচল করেছিল, কিন্তু তেহরান প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
শনিবার কয়েকটি জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র বা প্রজেক্টাইল আঘাত হানার খবর পাওয়া গেছে। একই দিনে একটি তেলবাহী ট্যাংকার লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনাও ঘটেছিল।
সূত্র: বিবিসি
হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টাকালে আজ রোববার দুটি তেলবাহী ট্যাংকার ফিরিয়ে দিয়েছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) ঘনিষ্ঠ সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এ খবর জানিয়েছে।
তাসনিম নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বতসোয়ানা ও অ্যাঙ্গোলার পতাকাযুক্ত এই দুটি ট্যাংকার হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। তবে সশস্ত্র বাহিনীর সময়োপযোগী পদক্ষেপের কারণে সেগুলো গতিপথ পরিবর্তন করে পিছু হটতে বাধ্য হয়।
ইরান আগেই ঘোষণা করেছে, তাদের বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ তুলে না নেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখা হবে। মূলত সেই ঘোষণার পর থেকে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটিতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে তেহরান।
সূত্র: বিবিসি
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার দ্বিতীয় পর্বের জন্য এখনো কোনো নির্দিষ্ট তারিখ বা স্থান ঘোষণা করা হয়নি; তবুও পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে দেখা গেছে।
তুরস্ক ও মিশরের সমর্থনে এই আলোচনা এগিয়ে নিতে পাকিস্তানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। একই সাথে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি হলে তিনি ইসলামাবাদ সফর করতে পারেন।
বিবিসি উর্দুর খবরে বলা হয়েছে, এই সম্ভাব্য আলোচনাকে ঘিরে ইসলামাবাদের বৃহৎ পাঁচ তারকা ম্যারিয়ট হোটেল কর্তৃপক্ষ তাদের অতিথিদের বিকাল তিনটার মধ্যে হোটেল ছেড়ে যেতে বলেছে।
ম্যারিয়ট হোটেল এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘পাকিস্তান সরকার রোববার বিকাল তিনটা থেকে পুরো হোটেলটি বুকিং করে রেখেছে। যে কারণে সকল অতিথিকে বিকাল তিনটার মধ্যে হোটেল ছেড়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে’।
এই সিদ্ধান্তের কারণে হোটেল কর্তৃপক্ষ তাদের অতিথিদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনাও করেছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার প্রথম পর্ব যে সেরেনা হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়েছিল, সেই হোটেলটিও আগামী কয়েক দিনের জন্য বুকিং স্থগিত রেখেছে।
রাওয়ালপিন্ডি ও ইসলামাবাদের স্থানীয় কর্তৃপক্ষও রোববার থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত গণ ও পণ্য পরিবহন স্থগিত রাখার আদেশ জারি করেছে।
যদিও পাকিস্তান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সরকার ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফা আলোচনা আয়োজনের বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।
যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের যে যুদ্ধবিরতি ছিল সেটি মঙ্গলবার শেষ হচ্ছে।
সূত্র: বিবিসি
আগামী শুক্রবারের আগেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরবর্তী দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের দুটি নিরাপত্তা সূত্র। নাম প্রকাশ না করার শর্তে আল জাজিরাকে তারা জানান, কয়েকটি কারণে তারা এমন ধারণায় পৌঁছেছেন।
প্রথমত, তারা উল্লেখ করেছেন যে, 'যুক্তরাষ্ট্রের দুটি ভারী সামরিক পরিবহন বিমান, সি-১৭ গ্লোবমাস্টার, পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের নিকটবর্তী রাওয়ালপিন্ডির নূর খান বিমান ঘাঁটিতে অবতরণ করেছে।'
তারা আরও জানিয়েছেন যে, 'বিমানবন্দর থেকে ইসলামাবাদের 'রেড জোন' পর্যন্ত যাওয়ার রাস্তাগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যা উচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থার ইঙ্গিত দেয়।'
সবশেষ কারণ হিসেবে সূত্রগুলো জানিয়েছে, 'ইসলামাবাদের সেরেনা এবং ম্যারিয়ট—উভয় হোটেল থেকেই অতিথিদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং শুক্রবারের আগে নতুন কোনো বুকিং নেওয়া হচ্ছে না।'
উল্লেখ্য, গত ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদের এই সেরেনা হোটেলেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রথম দফার ঐতিহাসিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
সূত্র: আল জাজিরা
যুদ্ধবিরতি শুরুর আগে ২৪ ঘণ্টায় ১৫০ জনেরও বেশি হিজবুল্লাহ সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরাইলের প্রতিরক্ষাবাহিনী (আইডিএফ)। টেলিগ্রামে করা পোস্টে আইডিএফ জানায়, যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়ার আগে চালানো হামলায় তারা নিহত হন।
আইডিএফ আরো জানিয়েছে, লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় কমান্ড সেন্টার এবং অস্ত্রাগারের মতো প্রায় ৩০০টি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে তারা।
এসব হামলায় বেশ কয়েকজন হিজবুল্লাহ কমান্ডার নিহত হয়েছেন বলেও দাবি করেছেন তারা।
সূত্র: বিবিসি
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়া বলেছেন, ইরানকে তার পারমাণবিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করার কোনো যুক্তিই নেই। তিনি বলেন, কোন অপরাধে ইরান তার পারমাণবিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারবেনা, তা কখনই স্পষ্ট করে বলেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
আজ রোববার ইরানিয়ান স্টুডেন্ট নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, পেজেশকিয়ান বলেছেন, ‘ট্রাম্প বার বার বলেন ইরান তার পারমাণবিক অধিকার ব্যবহার করতে পারবে না, কিন্তু কী অপরাধে তা বলেন না। একটি জাতিকে তার অধিকার থেকে বঞ্চিত করার ট্রাম্প কে?’
সূত্র: আল জাজিরা
ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ তুলে না নেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি ‘সম্পূর্ণ বন্ধ’ থাকবে বলে জানিয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। এরআগে নিরাপদে জাহাজ চলাচলের জন্য যে বিশেষ পথ চালু করা হয়েছিল, তা এখন থেকে বন্ধ থাকবে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, আগে ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে এবং মাশুল প্রদানের মাধ্যমে জাহাজগুলোকে প্রণালিটি অতিক্রম করার যে অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, তা বাতিল করা হয়েছে।
আইআরজিসি নৌবাহিনী সতর্ক করে দিয়েছে যে, এই অবরোধ লঙ্ঘনকারী যেকোনো জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে। তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের এই অবরোধকে দুই দেশের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই
আরএ
ইসরাইলের রাজধানী তেল আবিবে রোববার রাতে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তার সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বিক্ষোভকারীদের মধ্যে থেকে রাফায়েল প্নিনা নামে একজন বলেন, নেতানিয়াহু “সমাজকে ভেতর থেকে ধ্বংস করছেন” এবং একই সঙ্গে ইসরাইলের ইউরোপীয় দেশগুলো ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কও ক্ষতিগ্রস্ত করছেন।
তিনি আরও বলেন, “মানুষ এখন এই সরকার এবং পরবর্তী সরকার—দুজনের কাছ থেকেই জানতে চায়, ৭ অক্টোবর কী ঘটেছিল এবং এরপর কী হয়েছে। আমরা সবাই উত্তর পাওয়ার অধিকার রাখি।”
অন্য এক বিক্ষোভকারী ও সামাজিক কর্মী লি হফম্যান-আগিভ বলেন, তিনি এখানে এসেছেন মূলত ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমর্থন জানাতে।
তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী পরিচালিত এই অন্তহীন যুদ্ধের কারণে আমাদের যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের পাশে দাঁড়াতেই এখানে এসেছি।”
আরেক বিক্ষোভকারী চাইম ত্রিভাক্স অভিযোগ করেন, ইসরাইল লেবানন ও ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তার মতে, নেতানিয়াহু দেশ পরিচালনার জন্য নয়, বরং “কারাগার এড়ানোর জন্য” এসব যুদ্ধ চালাচ্ছেন।
এই বিক্ষোভ ইসরাইলে চলমান রাজনৈতিক বিভাজন ও সরকারের বিরুদ্ধে জনঅসন্তোষ আরও একবার সামনে নিয়ে এসেছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রস্তাবের ভিত্তিতেই তারা নিজেদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বিদেশে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠাবে না। একই সঙ্গে এ বিষয়ে নতুন করে আলোচনার কোনো সুযোগও নেই বলে কঠোর অবস্থান নিয়েছে তেহরান।
ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খাতিবজাদেহ তুরস্কে এক কূটনৈতিক বৈঠকের ফাঁকে দেওয়া বক্তব্যে এই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা তার বক্তব্য উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রে কোনোভাবেই সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম পাঠাবে না।
খাতিবজাদেহ বলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে বার্তা আদান-প্রদান হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এমন কিছু শর্ত ও দাবি সামনে এনেছে, যা তেহরানের কাছে অতিরঞ্জিত ও অগ্রহণযোগ্য বলে মনে হয়েছে।
তিনি আরও ইঙ্গিত দেন, পারমাণবিক ইস্যুতে ওয়াশিংটনের কিছু অবস্থান নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের দূরত্ব রয়েছে, যা আলোচনার অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করছে।
এর ফলে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক আলোচনায় নতুন কোনো অগ্রগতি বা সমঝোতার সম্ভাবনা আপাতত অনিশ্চিতই রয়ে গেল।
সূত্র: আল জাজিরা
ইয়েমেন উপকূলের বাব আল-মানদেব প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে হুথিরা। ইয়েমেনে হুথি সরকারের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী হুসেইন আল-এজ্জি সতর্ক করেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাধা দেওয়া অব্যাহত রাখেন, তবে বাব আল-মানদেব প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।
হুসেইন আল-এজ্জি সামাজিকমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে লেখেন, ‘সানা যদি বাব আল-মানদেব বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে তা খোলার ক্ষেত্রে সমগ্র মানবজাতি ও জিন সম্পূর্ণ ক্ষমতাহীন হয়ে পড়বে।’
তিনি আরো বলেন, ‘তাই ট্রাম্প এবংতার সহযোগী বিশ্বের উচিত হবে অবিলম্বে শান্তির পথে বাধা সৃষ্টিকারী সকল কার্যকলাপ ও নীতি বন্ধ করা এবং আমাদের জনগণ ও জাতির অধিকারের প্রতি প্রয়োজনীয় সম্মান প্রদর্শন করা।’
বাব আল-মানদেব লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে। এটি নৌ-চলাচলের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকীর্ণ পথ, যা সামুদ্রিক যান চলাচলকে সুয়েজ খালের দিকে পরিচালিত করে।
এটি বিশ্বব্যাপী সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি পথ, বিশেষ করে উপসাগর থেকে ভূমধ্যসাগরে অপরিশোধিত তেল ও অন্যান্য জ্বালানি এবং রাশিয়ার তেলসহ এশিয়াগামী বিভিন্ন পণ্যের পরিবহনের জন্য।
সূত্র: আল জাজিরা
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে কেন্দ্র করে বৈঠক করেছেন সংযুক্ত আরব আমিরাত ও যুক্তরাজ্যের শীর্ষ কূটনীতিকরা। আমিরাত জানিয়েছে, দেশটির উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান এবং যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার সাম্প্রতিক আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন।
শনিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, বৈঠকে “অঞ্চলের সামগ্রিক পরিস্থিতি” এবং ইরানের পক্ষ থেকে আমিরাত ও অন্যান্য উপসাগরীয় দেশের বিরুদ্ধে “উসকানিবিহীন ও সন্ত্রাসী হামলা” নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইভেট কুপার আমিরাতের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, ভৌগোলিক অখণ্ডতা বজায় রাখা এবং নাগরিক, বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে তার দেশের সংহতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
অন্যদিকে, শেখ আবদুল্লাহ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান কুপারের এই সফরের প্রশংসা করে বলেন, এটি দুই দেশের মধ্যে দৃঢ় সম্পর্কের প্রতিফলন এবং ইরানের “সন্ত্রাসী আগ্রাসন”-এর পর যুক্তরাজ্যের পূর্ণ সমর্থনকে প্রকাশ করে।
তবে এই বৈঠক নিয়ে যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।
লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ একতরফা যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবকে “লেবাননের প্রতি অপমান” হিসেবে আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেছে।
গোষ্ঠীটির মহাসচিব নাঈম কাসেম লেবাননের টেলিভিশন চ্যানেল আল-মানার টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, তাদের ওপর একতরফা যুদ্ধবিরতির শর্ত চাপিয়ে দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি স্পষ্ট করে জানান, ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া ১৫ মাসের যুদ্ধবিরতির মতো পরিস্থিতিতে তারা আর ফিরতে চান না।
কাসেমের অভিযোগ, সেই সময়ে ইসরাইল ইচ্ছামতো হামলা চালালেও হিজবুল্লাহ সংযত ছিল। তিনি বলেন, ওই সময়টাতে তারা কূটনৈতিক সমাধানের অপেক্ষায় ছিল, কিন্তু তা কোনো ফল বয়ে আনেনি।
এদিকে, লেবাননের পরিস্থিতি এখনও অস্থির। দিনভর হাজার হাজার মানুষ দক্ষিণ লেবাননের দিকে রওনা হন। সকালবেলায় দক্ষিণমুখী সড়কগুলোতে তীব্র যানজট দেখা গেলেও বিকেল ও সন্ধ্যায় উত্তরমুখী সড়কেও ভিড় বাড়তে দেখা যায়।
অনেকেই নিজেদের বাড়িঘর পরিদর্শন, প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সংগ্রহ এবং সামান্য মেরামতের কাজ করতে দক্ষিণে গেলেও বেশিরভাগ মানুষ রাত কাটানোর জন্য সেখানে থাকছেন না।
যুদ্ধবিরতি নিয়ে অনিশ্চয়তা ও অবিশ্বাসের কারণে তারা আবার রাজধানী বৈরুতসহ বড় শহরগুলোতে ফিরে আসছেন, যা বর্তমান পরিস্থিতির ভঙ্গুরতা স্পষ্ট করে তুলছে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) নৌবাহিনী সতর্ক করে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির দিকে আসা যেকোনো জাহাজে হামলা করা হবে। দেশটির নৌবাহিনী বলছে, হরমুজের দিকে অগ্রসর হওয়া জাহাজকে শত্রুর সঙ্গে সহযোগিতা হিসেবে গণ্য করা হবে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম প্রেস টিভিতে প্রচারিত এক বিবৃতিতে বাহিনীটি বলেছে, ‘আইআরজিসি সতর্ক করছে যে, পারস্য উপসাগর এবং ওমান সাগরে নোঙর করা কোনো ধরনের জাহাজ যেন তার নির্দিষ্ট স্থান নোঙর না তোলে। হরমুজ প্রণালির দিকে এগিয়ে আসাকে শত্রুর সঙ্গে সহযোগিতা হিসেবে গণ্য করা হবে এবং অপরাধী জাহাজটিকে লক্ষ্যবস্তু বানানো হবে।’
বিবৃতিতে সকল জাহাজ ও তাদের মালিকদের শুধুমাত্র আইআরজিসি নৌবাহিনীর আনুষ্ঠানিক চ্যানেল থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্য অনুসরণ করার জন্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগর বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিবৃতির ‘কোনো বিশ্বাসযোগ্যতা নেই।’
সূত্র: ডন
সংযুক্ত আরব আমিরাতের এক শীর্ষ কর্মকর্তা হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার জন্য ইরানের তীব্র সমালোচনা করেছেন এবং যুদ্ধের যে কোনো সমাধানে এই প্রণালী “সম্পূর্ণ ও নিঃশর্তভাবে পুনরায় চালু” করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সাঈদ বিন মুবারক আল হাজেরি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, হরমুজ প্রণালী বন্ধ করা “অর্থনৈতিক সন্ত্রাস”, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবিলম্বে মোকাবিলা করতে হবে।
তিনি বলেন, ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধে কেবল যুদ্ধবিরতি যথেষ্ট নয়। “এই সংঘাতের টেকসই সমাধান পেতে হলে ইরানের সব ধরনের হুমকি—তার পারমাণবিক সক্ষমতা, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন, সংশ্লিষ্ট প্রক্সি গোষ্ঠী—এবং হরমুজ প্রণালীর সম্পূর্ণ ও নিঃশর্ত পুনরায় চালু নিশ্চিত করতে হবে,” তিনি উল্লেখ করেন।
আল হাজেরি আরও বলেন, কেবল সংঘাত থামানোই সফলতার মানদণ্ড হতে পারে না। “আমাদের লক্ষ্য হতে হবে একটি চূড়ান্ত সমাধান, যেখানে থাকবে বাধ্যতামূলক নিশ্চয়তা, জবাবদিহি এবং এমন আশ্বাস যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের আগ্রাসন আর না ঘটে।”
তার এই মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা ও বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
হরমুজ প্রণালিতে একটি তেলবাহী জাহাজকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও)।
সংস্থাটি জানায়, তারা একটি প্রতিবেদনে জানতে পেরেছে যে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-সম্পর্কিত দুটি গানবোট একটি ট্যাংকারের ওপর গুলি চালায়।
তবে গুলির ঘটনার পর জাহাজ এবং এর নাবিকরা নিরাপদ রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সংস্থাটি।
এ ঘটনার ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সূত্র: আলজাজিরা।
লেবাননের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেই দক্ষিণ লেবাননে এক ইসরাইলি সেনা নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)।
আইডিএফ এক বিবৃতিতে জানায়, শুক্রবার দক্ষিণ লেবাননে লড়াই চলাকালে আহত হওয়ার পর ওই সেনাটি তার আঘাতের কারণেই মারা যান। আইডিএফ আরো জানিয়েছে, এ ঘটনায় আরও তিনজন সৈন্য আহত হয়েছেন।
গত ১৬ এপ্রিল থেকে লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। তবে এর মধ্যেও উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
এর আগে, আইডিএফ বলেছিল যে তারা উচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে এবং ইসরাইল সীমান্ত ও নির্ধারিত রেখার মধ্যবর্তী পুরো দক্ষিণ লেবানন এলাকা জুড়ে হুমকি দূর করা অব্যাহত রাখবে। তারা আরো বলে যে এটি যুদ্ধবিরতির বোঝাপড়া অনুযায়ী করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, শুক্রবার লেবাননের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ইসরাইলি বিমান হামলায় একজন নিহত হয়েছেন।
সূত্র: বিবিসি।
ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় অন্তত ৩ হাজার ৪৬৮ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংস্থা ফাউন্ডেশন অব মার্টিয়ার্স অ্যান্ড ভেটেরান্স অ্যাফেয়ার্স।
ইরানের বার্তা সংস্থা আইএসএনএ এ তথ্য প্রকাশ করেছে। সংস্থাটির প্রধান আহমাদ মুসাভির বরাতে এই নিহতের সংখ্যা জানানো হয়।
এর আগে, গত ১২ এপ্রিল ইরানের লিগ্যাল মেডিসিন অর্গানাইজেশনের প্রধান এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিলেন, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দেশে ৩ হাজার ৩৭৫ জন নিহত হয়েছেন।
সূত্র: আলজাজিরা।
যুদ্ধবিরতির মাঝেই ইসরাইলের আগ্রাসী হামলার প্রেক্ষাপটে লেবাননের সশস্ত্র প্রতিরোধ গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি একতরফা হতে পারে না। হিজবুল্লাহ নেতা নাইম কাসেম ঘোষণা করেছেন যে, যদি উভয় পক্ষ এটি মেনে না চলে তবে ইসরাইলের সঙ্গে চলমান ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি থাকতে পারে না।
শনিবার ইসরাইলের হামলার প্রেক্ষাপটে তিনি যুদ্ধবিরতির ব্যাখ্যা তুলে ধরেন নাইম কাসেম। তিনি বলেন, ‘যুদ্ধবিরতির অর্থই হলো সব ধরনের শত্রুতার সম্পূর্ণ অবসান। এসময় তিনি জোর দিয়ে বলেন, লেবাননে ইসরাইলি হামলার জবাব তার যোদ্ধারা দেবে।
তিনি বলেন, যেহেতু আমরা এই শত্রুকে বিশ্বাস করি না, তাই প্রতিরোধ যোদ্ধারা ট্রিগারে হাত রেখে মাঠে থাকবে এবং যেকোনো লঙ্ঘনের যথাযথ জবাব দেবে।
কাসেম আরো বলেন, ‘শুধু প্রতিরোধের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতি হবে না; এটি উভয় পক্ষ থেকেই হতে হবে।’
সূত্র: আলজাজিরা।
হরমুজ প্রণালি বন্ধের হুমকি দিয়ে ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে ‘ব্ল্যাকমেইল’ করতে পারবে না বলে সতর্ক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ইরান জানিয়েছে, গত ১৪ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইরানি বন্দর অবরোধের জবাবে তারা আবারো হরমুজ প্রণালির ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ কঠোর করছে। তেহরানের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করছে।
এদিকে ট্রাম্প ব্যাখ্যা করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে খুব ভালো আলোচনা করছে, কিন্তু তেহরান আবারো এই গুরুত্বপূর্ণ তেল করিডোরটি বন্ধ করতে চায়। তবে তিনি উল্লেখ করেন যে এই ধরনের পদক্ষেপের মাধ্যমে তারা যুক্তরাষ্ট্রকে ব্ল্যাকমেইল করতে পারবে না।
এদিকে, অঞ্চলে অবস্থানরত কিছু বাণিজ্যিক জাহাজ জানিয়েছে, তারা ইরানের নৌবাহিনীর কাছ থেকে রেডিও বার্তা পেয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে প্রণালি দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচল করতে দেওয়া হবে না।
সব মিলিয়ে হরমুজ প্রণালী বর্তমানে চালু আছে কি না এবং নিরাপদ কিনা—তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
সূত্র: আলজাজিরা।
দক্ষিণ লেবাননে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীদের ওপর আজকের হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ।
এক বিবৃতিতে গোষ্ঠীটি বলেছে, ‘বিন্ত জবেইল এলাকার গান্দুরিয়াহতে ইউনিফিল বাহিনীর ওপর যে হামলা হয়েছে, তার সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। আমরা এই ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে লেবাননের সেনাবাহিনীর তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো ধরনের মন্তব্য বা বিচার না করার আহ্বান জানাচ্ছি।’
লেবাননে নিযুক্ত জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন ইউনিফিল এই ঘটনাকে ‘শান্তিরক্ষীদের ওপর উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হামলা’ হিসেবে অভিহিত করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। শান্তিরক্ষীরা যখন অবিস্ফোরিত গোলা অপসারণের কাজ করছিলেন, তখন তাদের ওপর এই হামলা চালানো হয়।
এদিকে শনিবার ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ জানিয়েছেন, এই হামলায় এক ফরাসি শান্তিরক্ষী নিহত হয়েছেন এবং আরো তিন সেনাসদস্য আহত হয়েছেন।
এই ঘটনার পর অঞ্চলটিতে চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
সূত্র : আল-জাজিরা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চললেও দুই দেশের মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র ‘তথ্যযুদ্ধ’। এই লড়াইয়ের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি, যেখানে দুই দেশই নিজেদের পাল্টাপাল্টি বয়ান (ন্যারেটিভ) প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছে।
যেকোনো যুদ্ধবিরতির সময় যখন সরাসরি সংঘাত বা বোমাবর্ষণ বন্ধ থাকে, তখন পর্দার আড়ালে তথ্যের লড়াই আরো জোরালো হয়ে ওঠে। বর্তমান এই পরিস্থিতি সাংবাদিকতার জন্য একটি কঠিন পরীক্ষা হিসেবে দেখা দিয়েছে। কারণ, এখনকার দায়িত্ব কেবল বিভিন্ন পক্ষ থেকে আসা বার্তাগুলো প্রচার করা নয়, বরং সেগুলোকে বিশ্লেষণ করা এবং প্রয়োজনে তথ্যের সত্যতা যাচাই করে মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর প্রচারণাকে সামনে আনা।
হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিয়ে দুই দেশের এই বিপরীতমুখী অবস্থানের কারণে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিভ্রান্তি বাড়ছে। ফলে দৃশ্যত যুদ্ধ বন্ধ থাকলেও মনস্তাত্ত্বিক ও কূটনৈতিক লড়াইয়ের নতুন ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে এই সমুদ্রপথটি।
সূত্র : আল-জাজিরা
যুদ্ধবিরতি চললেও দক্ষিণ লেবাননের মধ্যাঞ্চল লক্ষ্য করে কামান থেকে গোলাবর্ষণ করেছে ইসরাইলি বাহিনী।
আল জাজিরার প্রতিনিধি এই হামলার খবর জানিয়েছেন।
যুদ্ধবিরতি শুরুর আগে লেবানন কর্তৃপক্ষের পরিচালিত এক প্রাথমিক মূল্যায়নে দেখা গেছে, ইসরাইলি হামলায় লেবাননে প্রায় ৪০ হাজার বাড়িঘর সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ধ্বংস হয়েছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলিগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর পরেই দক্ষিণ লেবাননের জেলাগুলোতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ঘরমুখো মানুষ ফিরে এসে তাদের বসতবাড়ির এই ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ দেখতে পাচ্ছেন।
সূত্র : আল-জাজিরা
গাজায় ইসরাইলি বাহিনীর অব্যাহত হামলায় নিহতের সংখ্যা ৭২ হাজার ৫৪৯ জনে দাঁড়িয়েছে।
ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে একের পর এক লাশ উদ্ধার হওয়ায় এবং নতুন করে হামলা অব্যাহত থাকায় এই সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।
ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইলি অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত মোট নিহতের সংখ্যা ৭২ হাজার ৫৪৯ জনে পৌঁছেছে। এছাড়া আহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭২ হাজার ২৭৪ জনে।
ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ নতুন করে আটটি লাশ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে সাতজন নতুন হামলায় নিহত হয়েছেন এবং একজনকে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এই সময়ে আহত হয়েছেন আরো ২৪ জন।
বিস্ময়কর বিষয় হলো, গত ১১ অক্টোবর ‘যুদ্ধবিরতি’ ঘোষিত হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ইসরাইলি হামলায় কমপক্ষে ৭৭৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ২ হাজার ১৭১ জন আহত হয়েছেন। উদ্ধারকারী দলগুলো এ সময়ে ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনগুলোর নিচ থেকে ৭৬১টি লাশ উদ্ধার করেছে।
কর্তৃপক্ষ আরো জানিয়েছে, উদ্ধার কার্যক্রম এখনো চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অনেক ভিকটিম এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে আছেন অথবা রাস্তায় পড়ে আছেন, যেখানে উদ্ধারকারী দলগুলো পৌঁছাতে পারছে না। এছাড়া শহীদ অনুমোদন কমিটি কর্তৃক যাচাইয়ের পর আরো ১৯৬ জন ভিকটিমের নাম নিহতের তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে, যা এই ধ্বংসযজ্ঞের প্রকৃত ভয়াবহতা তুলে ধরছে।
সূত্র : আল-জাজিরা
আফ্রিকা সফররত পোপ লিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার বিরোধের গুঞ্জন কমিয়ে আনার চেষ্টা করেছেন। তিনি বলেছেন, তার সফরকালীন বক্তব্য নিয়ে সংবাদমাধ্যমে যে ধরনের খবর প্রচার করা হচ্ছে, তার সবটুকু সঠিক নয়।
অ্যাঙ্গোলাগামী বিমানে সংবাদকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে পোপ সম্প্রতি ক্যামেরুনে দেওয়া তার একটি বক্তব্য নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের ব্যাখ্যা দেন। ওই বক্তব্যে তিনি সতর্ক করে বলেছিলেন, বিশ্ব বর্তমানে ‘একমুঠো স্বৈরশাসকের হাতে বিধ্বস্ত’ হচ্ছে।
পোপ জোর দিয়ে বলেন, তার ওই মন্তব্য ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে করা হয়নি। সংবাদমাধ্যমে তার বক্তব্যের যে ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে তা সব ক্ষেত্রে নির্ভুল নয় উল্লেখ করে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কোনো সরাসরি দ্বন্দ্বে জড়ানোর বিষয়টি নাকচ করে দেন।
ঘটনার সময়ক্রম ব্যাখ্যা করে পোপ লিও আরো বলেন, ওই বিতর্কিত ভাষণটি দুই সপ্তাহ আগে তৈরি করা হয়েছিল। অর্থাৎ, পোপের শান্তির বার্তার ওপর প্রেসিডেন্টের মন্তব্য করার অনেক আগেই এটি প্রস্তুত ছিল।
পোপ বর্তমানে আফ্রিকা মহাদেশে ১০ দিনের সফরে রয়েছেন। শান্তি, ন্যায়বিচার এবং বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতার মতো বিষয়গুলো তার এই সফরের মূল কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে রয়েছে। বর্তমানে তিনি সফরের অংশ হিসেবে অ্যাঙ্গোলায় অবস্থান করছেন।
সূত্র : আল-জাজিরা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের কারণে তেহরান নিশ্চিত হয়েছে তারা কোনো চুক্তির জন্য ‘নির্ভরযোগ্য অংশীদার’ খুঁজে পাবে না।
তেহরানভিত্তিক অধ্যাপক মোস্তফা খোশচেশম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই মন্তব্য করেছেন।
খোশচেশম বলেন, ট্রাম্প গত রাতে যে ধরনের বিভ্রান্তিকর বিবৃতি দিয়েছেন, তাতে তেহরানের ধারণা জন্মেছে যে যুক্তরাষ্ট্র এভাবে চলতে থাকলে ইরান যুদ্ধ চালিয়ে যাবে।
তেহরানের বর্তমান পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে তিনি জানান, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ‘পুরোপুরি প্রস্তুত’ রয়েছে। এছাড়া প্রতিদিন রাতে লাখ লাখ মানুষ রাস্তায় নেমে ‘প্রতিরোধ’ অব্যাহত রাখার দাবি জানাচ্ছে।
খোশচেশম আরো বলেন, ‘ইরান বিশ্বাস করে বর্তমানে পরিস্থিতি তাদের অনুকূলে বা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ভবিষ্যতে যেকোনো ধরনের মোকাবিলায় এই অবস্থানটি প্রতিষ্ঠিত করতে চায় তারা।’
সূত্র : আল-জাজিরা

ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে ‘ব্ল্যাকমেইল’ করতে পারবে না বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ওভালঅফিসে একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষরের সময় সাংবাদিকদের প্রশ্ন নেওয়ার আগে তিনি ইরান প্রসঙ্গে সংক্ষেপে কথা বলেন।
ট্রাম্প বলেন, ইরান এমনভাবে আচরণ করছে, যেভাবে তারা `৪৭ বছর ধরে একটু চালাকির সঙ্গে করে আসছে’।
তিনি আরো বলেন, ইরানি নেতারা হরমুজ প্রণালি বন্ধ করতে চান, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র তাদেরকে নিজেদের ‘ব্ল্যাকমেইল করতে দেবে না।
ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
সূত্র : বিবিসি বাংলা

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে সাময়িক যুদ্ধবিরতি চলাকালীন ইরান গুরুত্বপূর্ণ এই বাণিজ্য পথটি উন্মুক্ত ঘোষণা করার পর অন্তত আটটি তেল ও গ্যাস ট্যাঙ্কার হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে।
জাহাজ চলাচলের ট্র্যাকিং তথ্যের বরাত দিয়ে এই খবর জানা গেছে।
ট্র্যাকিং প্রতিষ্ঠান ‘কপলার’-এর তথ্য অনুযায়ী, শনিবার ভোরে একটি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাঙ্কার, চারটি এলপিজি (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস) বাহী জাহাজ, দু’টি তেল ও রাসায়নিক ট্যাঙ্কার এবং একটি ‘তেল পণ্য’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ জাহাজ প্রণালিটি পার হয়েছে।
অন্য একটি ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্ম ‘মেরিন ট্রাফিক’ দেখিয়েছে, ইরানের লারাক দ্বীপের কাছে আরো বেশ কিছু অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাঙ্কার অবস্থান করছে। লারাক দ্বীপটি মূলত পারস্য উপসাগর থেকে বের হতে চাওয়া জাহাজগুলোর জন্য একটি চেকপয়েন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যা বর্তমানে ইরানি বাহিনীর অবরোধের আওতায় রয়েছে।
উল্লেখ্য, ইরানি বাহিনী এই প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় পারস্য উপসাগরে শত শত জাহাজ আটকা পড়ে আছে। এর ফলে পণ্য পরিবহনের খরচ বহুগুণ বেড়ে গেছে। হামলার আশঙ্কা কিংবা মাইন আতঙ্কে অনেক জাহাজের ক্যাপ্টেন এই অঞ্চলটি এড়িয়ে চলছেন। তবে সাময়িক এই সুযোগে কিছু জাহাজ পার হওয়ার খবর পাওয়া গেল।
সূত্র : আল-জাজিরা

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে সাময়িক যুদ্ধবিরতি চলাকালীন ইরান গুরুত্বপূর্ণ এই বাণিজ্য পথটি উন্মুক্ত ঘোষণা করার পর অন্তত আটটি তেল ও গ্যাস ট্যাঙ্কার হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে।
জাহাজ চলাচলের ট্র্যাকিং তথ্যের বরাত দিয়ে এই খবর জানা গেছে।
ট্র্যাকিং প্রতিষ্ঠান ‘কপলার’-এর তথ্য অনুযায়ী, শনিবার ভোরে একটি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাঙ্কার, চারটি এলপিজি (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস) বাহী জাহাজ, দু’টি তেল ও রাসায়নিক ট্যাঙ্কার এবং একটি ‘তেল পণ্য’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ জাহাজ প্রণালিটি পার হয়েছে।
অন্য একটি ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্ম ‘মেরিন ট্রাফিক’ দেখিয়েছে, ইরানের লারাক দ্বীপের কাছে আরো বেশ কিছু অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাঙ্কার অবস্থান করছে। লারাক দ্বীপটি মূলত পারস্য উপসাগর থেকে বের হতে চাওয়া জাহাজগুলোর জন্য একটি চেকপয়েন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যা বর্তমানে ইরানি বাহিনীর অবরোধের আওতায় রয়েছে।
উল্লেখ্য, ইরানি বাহিনী এই প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় পারস্য উপসাগরে শত শত জাহাজ আটকা পড়ে আছে। এর ফলে পণ্য পরিবহনের খরচ বহুগুণ বেড়ে গেছে। হামলার আশঙ্কা কিংবা মাইন আতঙ্কে অনেক জাহাজের ক্যাপ্টেন এই অঞ্চলটি এড়িয়ে চলছেন। তবে সাময়িক এই সুযোগে কিছু জাহাজ পার হওয়ার খবর পাওয়া গেল।
সূত্র : আল-জাজিরা

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে সাময়িক যুদ্ধবিরতি চলাকালীন ইরান গুরুত্বপূর্ণ এই বাণিজ্য পথটি উন্মুক্ত ঘোষণা করার পর অন্তত আটটি তেল ও গ্যাস ট্যাঙ্কার হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে।
জাহাজ চলাচলের ট্র্যাকিং তথ্যের বরাত দিয়ে এই খবর জানা গেছে।
ট্র্যাকিং প্রতিষ্ঠান ‘কপলার’-এর তথ্য অনুযায়ী, শনিবার ভোরে একটি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাঙ্কার, চারটি এলপিজি (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস) বাহী জাহাজ, দু’টি তেল ও রাসায়নিক ট্যাঙ্কার এবং একটি ‘তেল পণ্য’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ জাহাজ প্রণালিটি পার হয়েছে।
অন্য একটি ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্ম ‘মেরিন ট্রাফিক’ দেখিয়েছে, ইরানের লারাক দ্বীপের কাছে আরো বেশ কিছু অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাঙ্কার অবস্থান করছে। লারাক দ্বীপটি মূলত পারস্য উপসাগর থেকে বের হতে চাওয়া জাহাজগুলোর জন্য একটি চেকপয়েন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যা বর্তমানে ইরানি বাহিনীর অবরোধের আওতায় রয়েছে।
উল্লেখ্য, ইরানি বাহিনী এই প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় পারস্য উপসাগরে শত শত জাহাজ আটকা পড়ে আছে। এর ফলে পণ্য পরিবহনের খরচ বহুগুণ বেড়ে গেছে। হামলার আশঙ্কা কিংবা মাইন আতঙ্কে অনেক জাহাজের ক্যাপ্টেন এই অঞ্চলটি এড়িয়ে চলছেন। তবে সাময়িক এই সুযোগে কিছু জাহাজ পার হওয়ার খবর পাওয়া গেল।
সূত্র : আল-জাজিরা
যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার ক্ষেত্রে ইরানের ভূমিকাকে স্বীকৃতি না দিয়ে ইসরাইলকে ধন্যবাদ জানানোয় লেবাননের প্রেসিডেন্টের তীব্র সমালোচনা করেছেন হিজবুল্লাহর রাজনৈতিক পরিষদের উপ-চেয়ারম্যান মাহমুদ কামাতি।
কামাতি বলেন, ‘আমরা ইরানকে ধন্যবাদ জানাই, কারণ তারা আন্তর্জাতিক চাপের মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি চাপিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে। অথচ সরকার নিজেদের শক্তি সংহত করার পরিবর্তে ধাপে ধাপে অবমাননা এবং সার্বভৌমত্ব ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।’
তিনি আরো ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট একজন খুনি এবং অপরাধীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন, কিন্তু আমাদের রক্ষাকারী ইরানকে ধন্যবাদ জানাননি। লেবাননের প্রতিরোধ যোদ্ধাদের হাত ট্রিগারেই থাকবে। আমাদের ধৈর্যের সীমা ছাড়িয়ে গেছে এবং কৌশলগত ধৈর্যের সময় শেষ।’
উল্লেখ্য, যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর থেকে এর কৃতিত্ব এবং আঞ্চলিক প্রভাব নিয়ে লেবাননের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে উত্তেজনা বাড়ছে। হিজবুল্লাহর এই বক্তব্য মূলত সরকারের কূটনৈতিক অবস্থানের প্রতি তাদের চরম অসন্তুষ্টিরই বহিঃপ্রকাশ।
সূত্র : আল-জাজিরা

লেবাননে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীর (ইউনিফিল) ওপর এক হামলায় একজন ফরাসি সৈন্য নিহত এবং তিনজন আহত হয়েছেন।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জানিয়েছেন, এই হামলাটি হিজবুল্লাহ চালিয়েছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে ম্যাক্রোঁ বলেন, “সব তথ্য-প্রমাণ নির্দেশ করছে যে এই হামলার জন্য হিজবুল্লাহ দায়ী।” তিনি অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য লেবানন কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।
এদিকে, লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম ইউনিফিলের ফরাসি কন্টিনজেন্টের সদস্যদের ওপর এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি এই ঘটনার তাৎক্ষণিক তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন বলে এক পোস্টে নিশ্চিত করেছেন।
সূত্র : আল-জাজিরা
যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও দক্ষিণ লেবাননে কামানের গোলা ও বিমান হামলাসহ অসংখ্যবার হামলার চালানোর কথা স্বীকার করেছে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী।
এক বিবৃতিতে ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে তাদের সৈন্যরা এখনো অবস্থান করছে এবং লেবাননের যোদ্ধারা সেসব এলাকার কাছাকাছি চলে আসায় তারা এই হামলা চালিয়েছে।
তাদের দাবি, ওই যোদ্ধারা ‘আসন্ন হুমকি’ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
বিবৃতিতে সামরিক বাহিনী আরো বলেছে, ‘আত্মরক্ষা এবং তাৎক্ষণিক হুমকি অপসারণের জন্য নেওয়া ব্যবস্থাগুলো যুদ্ধবিরতির আওতাভুক্ত নয়।’
এর আগে প্রাপ্ত সংবাদ অনুযায়ী, আজ দক্ষিণ লেবাননের বেইত লিফ, কান্তারা এবং টুলিন শহরে ইসরাইলি কামানের গোলা আঘাত হেনেছে। এর পাশাপাশি ইসরাইলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় বসতবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার কাজ অব্যাহত রেখেছে।
সূত্র : আল-জাজিরা

হরমুজ প্রণালি আবারো বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরানের নৌবাহিনী।
নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে রেডিও বার্তার মাধ্যমে এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে বলে শিপিং সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।
রেডিও বার্তায় মার্চেন্ট ভেসেল বা বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে জানানো হয়েছে, হরমুজ প্রণালি আবারো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে কোনো জাহাজকেই এই পানিপথ দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না।
ইরানের এই ঘোষণাটি একটি আকস্মিক মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, এর আগে দেশটি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য প্রণালিটি খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল। পানিপথটির প্রকৃত অবস্থা নিয়ে আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলোর মধ্যে গভীর বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে এবং তারা বর্তমান পরিস্থিতি স্পষ্ট হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।
সূত্র : আল-জাজিরা

ইরানের বন্দর ও উপকূলীয় এলাকাগুলোতে ঘোষিত ‘সামুদ্রিক অবরোধ’ অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় সেন্টকম নিশ্চিত করেছে, ইরানি বন্দরে প্রবেশ বা সেখান থেকে বের হওয়া সব ধরনের জাহাজের ওপর এই অবরোধ কার্যকর রয়েছে।
সেন্টকম জানিয়েছে, এই অবরোধের অংশ হিসেবে আরব সাগরে টহল দিচ্ছে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস ক্যানবেরা’। অবরোধ চলাকালীন এ পর্যন্ত অন্তত ২৩টি জাহাজ মার্কিন নির্দেশ মেনে ফিরে গেছে।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) অভিযোগ করেছে, বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের এই অব্যাহত অবরোধ মূলত যুদ্ধবিরতি চুক্তির একটি চরম লঙ্ঘন। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানও কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে পুনরায় জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। এর ফলে ওই অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
সূত্র : আল-জাজিরা
যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘বিশ্বাসভঙ্গে’র অভিযোগ এনে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে ইরান।
দেশটির খাতাম আল-আম্বিয়া সামরিক সদর দপ্তর থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান আলোচনার টেবিলে সদিচ্ছার পরিচয় দিয়ে এর আগে সম্পাদিত সমঝোতা অনুযায়ী হরমুজ প্রণালি দিয়ে নির্দিষ্ট সংখ্যক তেল ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, আমেরিকানরা তাদের পুরনো ইতিহাস অনুযায়ী আবারো বিশ্বাসভঙ্গ করেছে। তারা তথাকথিত অবরোধের দোহাই দিয়ে সমুদ্রপথে জলদস্যুতা ও চুরির মতো কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।’
বিবৃতিতে আরো উল্লেখ করা হয়, ‘এই কৌশলগত পানিপথটি এখন সশস্ত্র বাহিনীর কঠোর ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যতক্ষণ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ইরান অভিমুখী এবং ইরান থেকে ছেড়ে যাওয়া জাহাজগুলোর অবাধ চলাচলের পথে বাধা দূর না করবে, ততক্ষণ হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি আগের মতোই কঠোর থাকবে।’
আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক চাপের মুখে ইরান এই জলপথের নিয়ন্ত্রণকে দর-কষাকষির প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সূত্র : আল-জাজিরা
তুরস্কের আন্তালিয়া ডিপ্লোমাসি ফোরামে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের অবস্থানের মধ্যে চরম বৈপরীত্য দেখা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করছে ইরান কোনো শর্ত ছাড়াই হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে সম্মত হয়েছে, অন্যদিকে ইরানি বন্দরগুলোতে মার্কিন অবরোধ এখনো বহাল রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই দাবিকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইদ খাতিবজাদে।
ফোরামের একটি প্যানেল আলোচনায় তিনি বলেন, ‘আমরা এই শর্তে একমত হইনি।’
তিনি স্বীকার করেন প্রণালিটি খোলা রয়েছে, তবে জাহাজগুলোকে অবশ্যই ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে পূর্ণ সমন্বয় বজায় রেখে নির্দিষ্ট এলাকা দিয়ে যাতায়াত করতে হবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যা ঘোষণা করেছেন, তা সঠিক নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
খাতিবজাদে স্পষ্ট করে বলেন, যুদ্ধ কোনো সমাধান নয় এবং ইরান আলোচনার টেবিলে সমস্যা সমাধানে আন্তরিক ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
তবে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি আবারো সংঘাত শুরু হয়, তবে ইরানের প্রতিক্রিয়া সীমিত হবে না বরং তা হবে ‘পূর্ণ শক্তির পাল্টা আঘাত’।
বর্তমানে হরমুজ প্রণালি নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থান অনেক দূরে থাকলেও আলোচনার প্রক্রিয়া এখনো সচল রয়েছে।
ফোরামে অংশ নেওয়া প্রতিনিধিরা মনে করছেন, পূর্ণমাত্রার সংঘাতের ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে দুই পক্ষই সচেতন, যা এখন একটি প্রতিবন্ধক (ডিটারেন্ট) হিসেবে কাজ করছে।
এক প্রতিনিধির মতে, ‘ট্রিগার টেপার আগে দুই পক্ষকেই এখন দুবার ভাবতে হবে।’
সূত্র : আল-জাজিরা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি চূড়ান্ত শান্তি চুক্তি নিশ্চিত করতে মিসর ও পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ‘আপ্রাণ চেষ্টা’ চালিয়ে যাচ্ছে।
তুরস্কের আন্তালিয়া ডিপ্লোমাসি ফোরামে অংশ নিয়ে শনিবার মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাতি এই তথ্য জানান।
বদর আবদেলাতি বলেন, ‘আমরা আশা করছি আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে পারব। শুধু এই অঞ্চলের দেশগুলোই নয়, বরং পুরো বিশ্বই এই যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাবের শিকার হচ্ছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘পুরো বিষয়টিকে এগিয়ে নিতে আমরা বর্তমানে সর্বোচ্চ কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগ করছি।’
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রধান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। এর পাশাপাশি মিসর, তুরস্ক ও সৌদি আরবও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতে চলায় এই কূটনৈতিক তৎপরতা আরো জোরদার করা হয়েছে।
সূত্র : আল-জাজিরা
হরমুজ প্রণালিতে একটি তেলের ট্যাঙ্কার লক্ষ্য করে দুটি বন্দুকধারী বোট (গানবোট) থেকে গুলি ছোড়া হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) সংস্থা।
সংস্থাটির দাবি, এই বোটগুলো ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সঙ্গে যুক্ত।
ইউকেএমটিও তাদের সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, ট্যাঙ্কারটির ক্যাপ্টেনের ভাষ্যমতে কোনো ধরনের রেডিও সতর্কবার্তা বা চ্যালেঞ্জ ছাড়াই বোট দুটি থেকে গুলি চালানো হয়। তবে জাহাজ এবং এর ক্রুরা নিরাপদ আছেন বলে নিশ্চিত করেছে সংস্থাটি।
সূত্র : আল-জাজিরা
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল বিধিনিষেধ নৌযানগুলোর জন্য এক বিপজ্জনক পরিবেশ তৈরি করছে বলে মন্তব্য করেছেন স্ট্র্যাটেজিক অ্যানালাইসিস অস্ট্রেলিয়ার পরিচালক মাইকেল শুব্রিজ।
আল জাজিরাকে শুব্রিজ বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতি সব ঝুঁকি ও বিপদ মূলত জাহাজের ক্যাপ্টেন, জাহাজ পরিচালনাকারী কোম্পানি এবং বিমাকারীদের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে। বিমা কোম্পানিগুলো একে একটি ‘অগ্রহণযোগ্য ঝুঁকি’ হিসেবে দেখবে।’
তিনি আরো উল্লেখ করেন, ‘এটা সত্য যে এই সংকটের কোনো সামরিক সমাধান নেই, তবে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে হলে সামরিক অচলাবস্থার অবসান ঘটা জরুরি।’
সূত্র : আল-জাজিরা
আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সব তেলক্ষেত্র থেকে পুনরায় রপ্তানি শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে ইরাকের তেল মন্ত্রণালয়।
ইরাকি নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাহেব বাজুন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সাহেব বাজুন বলেন, ‘তেল রপ্তানির চুক্তির জন্য আমরা বড় বড় কোম্পানি ও ট্যাঙ্কারগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করছি এবং সব কোম্পানির জন্য আমাদের দুয়ার খোলা রয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যেই রপ্তানি শুরু হবে এবং আমাদের সব তেলক্ষেত্র প্রস্তুত রয়েছে।’
তিনি আরো উল্লেখ করেন , রপ্তানি প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হলে তা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আনবে, রাষ্ট্রীয় রাজস্ব বাড়াবে এবং অভ্যন্তরীণ তেল উৎপাদনকে শক্তিশালী করবে। এ ছাড়া এটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো সচল রাখার জন্য স্থানীয় বাজারের তরল ও শুষ্ক গ্যাসের চাহিদাও মেটাবে।
এদিকে ইরাকের পরিবহন মন্ত্রণালয় এক পৃথক ঘোষণায় জানিয়েছে, একটি বিশাল তেলের ট্যাঙ্কার বসরা বন্দরে এসে পৌঁছেছে। হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার ঘোষণার পর এটিই প্রথম ইরাকি চালান, যা থেকে ২০ লাখ ব্যারেল তেল লোড করা হবে।
সূত্র : আল-জাজিরা
দুই সপ্তাহের ঘোষিত যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক দিন আগে ইরানের আকাশসীমায় ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। হরমুজ প্রণালির জটিল পরিস্থিতির মধ্যেই দীর্ঘ কয়েক সপ্তাহ পর দেশটির পূর্বদিকের আকাশসীমা পুনরায় উন্মুক্ত করা হয়েছে।
ফ্লাইট রাডার থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক ঘণ্টায় ইরানের আকাশসীমায় অন্তত দুটি বিমান চলাচল করতে দেখা গেছে। এর পাশাপাশি তেহরানের ইমাম খোমেনি ও মেহরাবাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ মোট ছয়টি বিমানবন্দর পুনরায় চালু করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। অন্য চারটি বিমানবন্দর হলো-মাশহাদ, বিরজান্দ, গোরগান ও জাহেদান।
গত ৪০ দিনের যুদ্ধে মেহরাবাদ বিমানবন্দরের পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি বাহিনীর ব্যাপক বোমা হামলার কারণে সেখানকার অবকাঠামো মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এত সব ক্ষয়ক্ষতির পরও বিমানবন্দরটি সচল হওয়াকে বড় ধরনের অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, বিমান সংস্থাগুলো এখন অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত নাজুক থাকায় বিমান চলাচলের এই ধারা কতটা অব্যাহত থাকে, তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
সূত্র : আল-জাজিরা
ওয়াশিংটনের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা আলোচনায় বসতে তেহরান এখনো রাজি হয়নি বলে জানিয়েছে ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইরানের একটি সূত্রের বরাতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
সূত্রটি জানায়, বার্তা আদান-প্রদানের সময় যুক্তরাষ্ট্র বেশ কিছু ‘অতিরিক্ত’ দাবি সামনে এনেছে বলে মনে করছে ইরান। এসব দাবি প্রত্যাহার করাকেই আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার অন্যতম শর্ত হিসেবে নির্ধারণ করেছে তেহরান।
পাকিস্তানকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ব্যবহার করে ওয়াশিংটনকে নিজেদের এই শর্তের কথা জানিয়ে দিয়েছে ইরান।
সূত্রটি বলেছে, ‘আমরা পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে আমেরিকান পক্ষকে দ্বিতীয় দফার আলোচনায় আমাদের অসম্মতির কথা জানিয়ে দিয়েছি।’
এ ছাড়া তেহরান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, তারা ফলাফলহীন কোনো দীর্ঘমেয়াদি আলোচনায় সময় নষ্ট করতে চায় না।
সূত্র : আল-জাজিরা
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন দফার আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইদ খাতিবজাদে জানিয়েছেন, দুই পক্ষ একটি অভিন্ন কাঠামো বা ফ্রেমওয়ার্কের বিষয়ে একমত না হওয়া পর্যন্ত কোনো বৈঠক হবে না।
তুরস্কের আন্তালিয়া ডিপ্লোমাসি ফোরামের সাইডলাইনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
খাতিবজাদে বলেন, ‘যতক্ষণ না আমরা আলোচনার কাঠামোর বিষয়ে একমত হচ্ছি, ততক্ষণ কোনো তারিখ নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।’
তিনি আরো জোর দিয়ে বলেন, আলোচনায় ইরান যা কিছুতেই সম্মত হোক না কেন, তা অবশ্যই আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী দেশটির অধিকার রক্ষা করতে হবে।
তিনি পরিষ্কার করে জানান, ‘ইরান আন্তর্জাতিক আইনের ব্যতিক্রম হওয়া কিংবা নিজেদের অধিকার ছেড়ে দেওয়া কোনোটিই মেনে নেবে না।’
সূত্র : আল-জাজিরা
যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হলেও দক্ষিণ লেবাননের বেশ কিছু শহরে শেলবর্ষণ অব্যাহত রেখেছে ইসরাইলি বাহিনী।
আল জাজিরার সংবাদদাতার বরাত দিয়ে জানা গেছে, দক্ষিণ লেবাননের বেইত লিফ, কান্তারা এবং টুলিন শহরে ইসরাইলি কামান থেকে গোলাবর্ষণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ইসরাইলি বুলডোজার দিয়ে ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া ও ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর কাজ অব্যাহত রয়েছে।
ওয়াশিংটনে কয়েক দশকের মধ্যে লেবানন ও ইসরাইলের সরাসরি আলোচনার পর এই যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে যুদ্ধবিরতি চললেও ইসরাইল দক্ষিণ লেবাননের দখলকৃত এলাকাগুলো থেকে সেনা সরাচ্ছে না।
ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি চলাকালীন তাদের সৈন্যরা সেখান থেকে প্রত্যাহার করবে না।
সূত্র : আল-জাজিরা
তুরস্কের আন্তালিয়ায় চলমান আলোচনার ধারাবাহিকতায় ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইদ খাতিবজাদে বলেছেন, ইরান কখনোই তাদের বন্দরে মার্কিন অবরোধ বা যুক্তরাষ্ট্রের অন্য কোনো ‘নির্দেশ’ মেনে নেবে না।
খাতিবজাদে জোর দিয়ে বলেন, ‘ভবিষ্যতে কখনোই কোনো অবরোধের অস্তিত্ব থাকবে না।’
তিনি আরো বলেন, ‘ঔপনিবেশিক যুগের অবসান ঘটা উচিত। যুক্তরাষ্ট্র অন্য জাতিগুলোর ওপর তাদের আদেশ চাপিয়ে দিতে পারে না।’
সূত্র : আল-জাজিরা
হরমুজ প্রণালি আবার আগের মতো কঠোর অবস্থানে (রেস্ট্রিক্টেড স্ট্যাটাস) ফিরে গেছে বলে পুনরুল্লেখ করেছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌ-কমান্ড।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে আইআরজিসির নৌ-কমান্ড জানিয়েছে, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত ইরান অভিমুখী এবং ইরান থেকে ছেড়ে যাওয়া জাহাজ চলাচলের ওপর হুমকি বজায় থাকবে, ততক্ষণ হরমুজ প্রণালির অবস্থা আগের মতোই থাকবে।’
ইরানের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেও এই বার্তা প্রচার করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যেকোনো ধরনের প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘনের ঘটনায় যথোপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।’
সূত্র : আল-জাজিরা
ইরানের সঙ্গে তুরস্কের প্রাকৃতিক গ্যাস পাইপলাইন চুক্তির মেয়াদ আগামী কয়েক মাসের মধ্যে শেষ হতে যাচ্ছে। তবে এই চুক্তি সম্প্রসারণ বা নবায়ন নিয়ে এখনো কোনো আলোচনা শুরু হয়নি বলে জানিয়েছেন তুরস্কের জ্বালানি মন্ত্রী আলপারসলান বায়রাকতার।
তুরস্কের আন্তালিয়া ডিপ্লোমাসি ফোরামে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই তথ্য জানান।
আলপারসলান বায়রাকতার বলেন, তুরস্ক বর্তমানে তাদের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের উৎসগুলোতে বৈচিত্র্য আনার চেষ্টা করছে। এই প্রক্রিয়ায় রাশিয়ার কাছ থেকে গ্যাস আমদানির বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সূত্র : আল-জাজিরা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘বড্ড বেশি কথা বলেন’ বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইদ খাতিবজাদে।
তুরস্কের আন্তালিয়া ডিপ্লোমাসি ফোরামের সাইডলাইনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।
আগামী বুধবারের মধ্যে কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে না পারলে যুক্তরাষ্ট্র ‘আবারো বোমা ফেলা শুরু করবে’-ট্রাম্পের এমন সাম্প্রতিক হুমকির বিষয়ে জানতে চাইলে খাতিবজাদে বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট একই বক্তব্যের মধ্যে স্ববিরোধী কথা বলেন। তিনি আসলে কী বোঝাতে চেয়েছেন, তা পরিষ্কার নয়।
খাতিবজাদে আরো বলেন, ইরান বিশ্বাস করে যুদ্ধ কোনো ইতিবাচক ফলাফল বয়ে আনতে পারে না। তবে আক্রান্ত হলে ইরান নিজেকে রক্ষা করতে প্রস্তুত।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা শেষ ইরানি সৈন্য থাকা পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাব।’
সূত্র : আল-জাজিরা
তুরস্কের আন্তালিয়া ডিপ্লোমাসি ফোরামের সাইডলাইনে পাকিস্তান, মিশর, সৌদি আরব এবং তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা তাদের তৃতীয় দফা বৈঠকে মিলিত হয়েছেন।
বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা আঞ্চলিক পরিস্থিতির পরিবর্তন নিয়ে নিজেদের মধ্যে মতবিনিময় করেন। এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে তারা সংলাপ এবং কূটনীতির ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ ছাড়া পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সমন্বয় গভীর করা এবং সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে চার দেশ একমত পোষণ করেছে।
গত সপ্তাহে ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনার আয়োজন করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রধান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে সৌদি আরব, তুরস্ক এবং মিশরও আঞ্চলিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত রয়েছে এবং দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা নিয়মিত বৈঠকে মিলিত হচ্ছেন।
সূত্র : আল-জাজিরা

ইসরাইল ‘নিরাপত্তার’ অজুহাতে আরো বেশি ভূমি দখলের চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান।
আন্তালিয়া ডিপ্লোমাসি ফোরামে তিনি এই অভিযোগ করেন।
হাকান ফিদান বলেন, ‘ইসরাইল নিজের নিরাপত্তার পেছনে ছুটছে না। ইসরাইল আরো ভূমি দখলের ধান্দায় আছে। নেতানিয়াহু সরকার নিরাপত্তাকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে আরো ভূমি দখল করছে।’
লেবাননের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি হওয়া সত্ত্বেও ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ জানিয়েছেন, দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইল যেসব অবস্থান ‘দখল ও নিয়ন্ত্রণে’ নিয়েছে, সেখানে তারা অবস্থান বজায় রাখবে।
কাটজ আরো সতর্ক করে বলেছেন, লেবাননে ইসরাইলের সামরিক অভিযান এখনো শেষ হয়নি।
তিনি জানান, যেকোনো উপায়ে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করা হবে।
সূত্র : আল-জাজিরা
হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বব্যাপী জাহাজ চলাচল পুরোপুরি চালুর অনুমতি দিতে ইরানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার।
তুরস্কের আন্তালিয়া ডিপ্লোমাসি ফোরামের সাইডলাইনে তিনি এই আহ্বান জানান।
ইভেট কুপার বলেন, ‘যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার মাধ্যমে আমরা এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক মুহূর্তে রয়েছি। তবে আমরা এখনো এই প্রণালি দিয়ে স্বাভাবিক যাতায়াত ব্যবস্থা ফিরে পাইনি।’
ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো উল্লেখ করেন, এই যুদ্ধবিরতিকে একটি স্থায়ী শান্তিতে রূপান্তর করা প্রয়োজন। সেই সঙ্গে বিশ্ব অর্থনীতির স্বার্থে এই পানিপথ দিয়ে দ্রুত জাহাজ চলাচল শুরু করা অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সূত্র : আল-জাজিরা
ইরানে আকাশসীমার একাংশ খুলে দেওয়ার খবরের পর এবার দেশটির ছয়টি বিমানবন্দর পুনরায় চালু করা হয়েছে।
অ্যাসোসিয়েশন অব ইরানিয়ান এয়ারলাইনস এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাতে জানা গেছে, পুনরায় চালু হওয়া বিমানবন্দরগুলোর মধ্যে রয়েছে তেহরানের ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও মেহরাবাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। এ ছাড়া মাশহাদ, বিরজান্দ, গোরগান এবং জাহেদান শহরের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোও খুলে দেওয়া হয়েছে।
অ্যাসোসিয়েশন অব ইরানিয়ান এয়ারলাইনসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এয়ারলাইনসগুলো বর্তমানে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পুনরায় শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর আগে দেশটির পূর্বাঞ্চলের আকাশসীমা আংশিক খুলে দেওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছিল।
সূত্র : আল-জাজিরা
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। এ সময় মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রচেষ্টায় পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করেন এরদোয়ান। তুরস্কে শুরু হওয়া আন্তালিয়া ডিপ্লোম্যাসি ফোরামের ফাঁকে শুক্রবার এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
সৌদি আরব ও কাতার সফর শেষ করে পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী তার ত্রিদেশীয় সফরের তৃতীয় ধাপে তুরস্কে পৌঁছানোর এক দিন পর এ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হলো।
শেবাজ শরিফের প্রশংসা করে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট বলেন, এই অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তানের কূটনৈতিক উদ্যোগকে সমর্থন দেওয়া অব্যাহত রাখবে আঙ্কারা।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতি অনুসারে, উষ্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজকে তুরস্কে স্বাগত জানান প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান এবং আন্তালিয়া কূটনীতি ফোরামে অংশ নেওয়ার জন্য তাকে ধন্যবাদ জানান।
দুই নেতা সাম্প্রতিক আঞ্চলিক ঘটনাবলি, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করেন। শান্তি প্রচেষ্টায় এরদোয়ানের দৃঢ় সমর্থন ও উৎসাহের জন্য তাকে ধন্যবাদ জানান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ ।
দুই নেতা টেকসই ও দীর্ঘস্থায়ী আঞ্চলিক শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার বর্তমান সুযোগকে কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর গুরুত্বের ওপরও জোর দেন।
ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং শান্তি ও সমৃদ্ধির অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির ওপর ভিত্তি করে পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যকার কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরো শক্তিশালী করার সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করার মধ্য দিয়ে বৈঠক শেষ করেন উভয় নেতা ।
এর আগে রিয়াদ ও দোহা সফরকালে শেহবাজ শরিফ সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির সঙ্গে বৈঠক করেন।
সূত্র: জিও নিউজ
আংশিকভাবে নিজেদের আকাশসীমা খুলে দিয়েছে ইরান। দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শনিবার দেশটি তার ভূখণ্ডের পূর্বাঞ্চল অতিক্রমকারী আন্তর্জাতিক ফ্লাইটগুলোর জন্য আকাশসীমা পুনরায় খুলে দিয়েছে।
বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ আরো জানায়, কিছু বিমানবন্দরও সকাল ৭টায় পুনরায় খুলে দেওয়া হয়েছে।
তবে, ফ্লাইট ট্র্যাকার ওয়েবসাইটগুলোর বিশ্লেষণে দেখা যায়, তিন ঘণ্টারও বেশি সময় পরেও কোনো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ইরানের আকাশপথ অতিক্রম করেনি। সেইসঙ্গে বেশ কয়েকটি ফ্লাইট দীর্ঘ পথ ঘুরে এর আকাশসীমা এড়িয়ে যায়।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ শুরু হওয়ার পর থেকে ২১টি জাহাজ ইরানে ফিরে গেছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। এ তথ্য এমন সময়ে এলো, যখন ইরান ঘোষণা করেছে যে তারা হরমুজ প্রণালি সব বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য পুনরায় খুলে দিয়েছে।
শুক্রবার রাতে সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে সেন্টকম জানায়, ১৩ এপ্রিল পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরে অবস্থিত ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন অবরোধ শুরু হওয়ার পর থেকে এসব জাহাজ ইরানের দিকে ফিরে যায়।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার বাঘের গালিবাফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলে তার নৌ অবরোধ তুলে না নিলে জলপথটি বন্ধ করে দেওয়া হবে।
জাহাজ কোম্পানিগুলো এই প্রণালি দিয়ে যাতায়াতের ব্যাপারে সতর্ক রয়েছে। শুক্রবার এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে মাত্র কয়েকটি জাহাজ চলাচল করেছে।
টেক্সাস এ অ্যান্ড এম বিশ্ববিদ্যালয়ের সামুদ্রিক পরিবহন বিশেষজ্ঞ জন-পল রোদ্রিগ বলেন, ইরান হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত ঘোষণা করলেও পরস্পরবিরোধী তথ্য এখনো অনেক জাহাজকে এই জলপথ ব্যবহার করা থেকে বিরত রাখছে।
আল জাজিরাকে তিনি বলেন, 'ঘোষণার পর থেকেই জাহাজগুলো চলাচলের চেষ্টা করছে… কিন্তু দেখা যাচ্ছে, অনেক জাহাজই ফিরে যাচ্ছে, কারণ পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত।'
তিনি আরও বলেন, 'সব পক্ষ থেকেই পরস্পরবিরোধী তথ্য দেওয়া হচ্ছে।'
এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি সব বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য 'সম্পূর্ণভাবে খোলা'। তবে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরের ওপর অবরোধ চালিয়ে গেলে প্রণালি খোলা থাকবে না।
রোদ্রিগের মতে, মায়ার্স্কের মতো বড় শিপিং কোম্পানিগুলো তখনই এই প্রণালি দিয়ে চলাচল করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবে, যখন ইরানের বর্তমান বাধা বা নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি তুলে নেওয়া হবে।
সূত্র: আল জাজিরা
বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড আবারও মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় প্রবেশ করেছে। দুইজন মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস।
সংবেদনশীল অভিযান নিয়ে কথা বলার অনুমতি না থাকায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, রণতরীটি ডেস্ট্রয়ার ইউএসএস মাহান এবং ইউএসএস উইনস্টন চার্চিলের সঙ্গে সুয়েজ খাল অতিক্রম করে বর্তমানে লোহিত সাগর অঞ্চলে অবস্থান করছে।
এর আগে রণতরীটি পূর্ব ভূমধ্যসাগরে মোতায়েন ছিল। তবে এর একটি লন্ড্রি কক্ষে আগুন লাগার পর মেরামতের জন্য সাময়িকভাবে বন্দরে ফিরে যেতে হয়।
এই রণতরীর আগমনের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌ উপস্থিতি আরও জোরদার হলো। বর্তমানে ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন ইতোমধ্যেই আরব সাগর অঞ্চলে মোতায়েন রয়েছে।
একই সঙ্গে আরেকটি বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জর্জ বুশ এই অঞ্চলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং বর্তমানে দক্ষিণ আফ্রিকার উপকূলের কাছে অবস্থান করছে বলে জানিয়েছেন এক কর্মকর্তা।
কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, জেরাল্ড ফোর্ড সম্প্রতি ভিয়েতনাম যুদ্ধ-এর পর দীর্ঘতম সময় ধরে মোতায়েন থাকা বিমানবাহী রণতরীর রেকর্ড গড়েছে।
এর আগে ২০২৬ সালের ২৮ মার্চ রণতরীটি ক্রোয়েশিয়ার স্প্লিট বন্দরে নোঙর করেছিল।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে ‘প্রচলিত ফি’ আরোপ করা হবে না বলে জানিয়েছে ইরান। তবে নিরাপত্তাসংক্রান্ত খরচের জন্য নতুন ধরনের ফি নির্ধারণ করা হতে পারে।
ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজায়ি বলেন, তেহরান প্রচলিত পদ্ধতিতে কোনো ফি আরোপ করবে না। তবে পার্লামেন্ট বর্তমানে একটি খসড়া আইন প্রস্তুত করছে। এ আইনে ‘প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ’সংক্রান্ত ফি নির্ধারণ করার বিষয়ে আলোচনা চলছে।
তিনি জানান, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করতে হলে ইরান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করা বাধ্যতামূলক হবে। কোনো অবস্থাতেই শত্রুপক্ষের সামরিক জাহাজ বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মালিকানায় থাকা জাহাজ এই প্রণালি দিয়ে যেতে পারবে না। তবে বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের জাহাজগুলো পূর্ব সমন্বয়ের ভিত্তিতে চলাচল করতে পারবে।
ইব্রাহিম রেজায়ি বলেন, প্রণালি পরিচালনা বা নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ভূমিকা ইরান মেনে নেবে না।
এর আগে ইরানের সংবাদমাধ্যম আইএসএনএ জানিয়েছে, ইরানের মাহমুদ নাবাভিয়ান নামের এক কর্মকর্তা বলেছেন, কিছু বাণিজ্যিক জাহাজকে হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে। এজন্য তাদের ফি পরিশোধ করতে হবে।
সূত্র: আলজাজিরা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদল আগামী সোমবার দ্বিতীয় দফা আলোচনায় বসার সম্ভাবনা রয়েছে। ইরানি সূত্রের বরাত দিয়ে এ কথা জানিয়েছে সিএনএন। তবে যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার সময়সূচির বিষয়ে নিশ্চিত করেনি।
সিএনএন জানায়, একজন ইরানি কর্মকর্তা তাদের জানিয়েছেন, সোমবার পাকিস্তানে ইরানি ও মার্কিন আলোচকদের মধ্যে দ্বিতীয় দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। মার্কিন কর্মকর্তারা আলোচনার সময়সূচি নিশ্চিত না করলেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘অনেক ভালো কিছু ঘটছে এবং এর মধ্যে লেবাননও রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘প্রক্রিয়াটি খুব দ্রুত এগিয়ে যাবে, যেহেতু বেশির ভাগ বিষয়ে ইতোমধ্যেই আলোচনা ও একমত হওয়া গেছে।’
এর আগে গত ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে প্রথম দফা বৈঠকে বসেন মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিরা। তবে প্রথম দফা আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে কোনো টোল আরোপ মেনে নেওয়া হবে না। শুক্রবার এয়ার ফোর্স ওয়ানে থাকা সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
প্রণালিটি দিয়ে চলাচলকারী নৌযানের ওপর কোনো বিধিনিষেধ বা টোল আরোপ করা হবে কি না, জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, ‘না, কোনোভাবেই না।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘টোল আরোপ করা যাবে না। না, কোনো টোল আরোপ করা হবে না।’
এদিকে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে ‘প্রচলিত ফি’ আরোপ করা হবে না বলে জানিয়েছে ইরান। তবে নিরাপত্তাসংক্রান্ত খরচের জন্য নতুন ধরনের ফি নির্ধারণ করা হতে পারে।
ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজায়ি বলেন, তেহরান প্রচলিত পদ্ধতিতে কোনো ফি আরোপ করবে না। তবে পার্লামেন্ট বর্তমানে একটি খসড়া আইন প্রস্তুত করছে। এ আইনে ‘প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ’ সংক্রান্ত ফি নির্ধারণ করার বিষয়ে আলোচনা চলছে।
জাহাজ ট্র্যাকিং সাইট মেরিনট্র্যাফিক জানিয়েছে, যাত্রীবিহীন একটি ক্রুজ লাইনার (প্রমোদতরী) সফলভাবে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। যুদ্ধ শুরুর পর এটিই প্রথম যাত্রীবাহী জাহাজ যা এই প্রণালি পাড়ি দিল।
মেরিনট্র্যাফিকের তথ্য অনুযায়ী, মাল্টার পতাকাবাহী ‘সেলেস্টিয়াল ডিসকভারি’ নামের জাহাজটি মার্চের শুরুতে দুবাইতে এসে পৌঁছায় এবং প্রায় ৪৭ দিন ধরে সেখানে নোঙর করা ছিল।
মেরিনট্র্যাফিক আরও জানায়, জাহাজটি শুক্রবার হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে এবং বর্তমানে ওমানের মাস্কাটের দিকে যাচ্ছে। আজ দিনের শেষে সেখানে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
সূত্র: আল-জাজিরা
যুদ্ধ বন্ধে আগামী বুধবারের মধ্যে একটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি না করলে ইরানে আবার বোমা হামলা শুরু হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, চুক্তি না হলে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি প্রত্যাহার করে নিতে পারেন। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।
শুক্রবার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘হয়তো আমি যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াব না, কিন্তু (ইরানের বন্দরগুলোর ওপর) অবরোধ বহাল থাকবে। কাজেই একটি অবরোধ থাকবে, সেই সঙ্গে দুর্ভাগ্যবশত আমাদের আবার বোমা হামলা শুরু করতে হবে।’
দুই সপ্তাহের যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হচ্ছে বুধবার। এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর লক্ষ্যে দুই দেশ পরোক্ষ আলোচনায় রয়েছে।
ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত প্রথম দফা আলোচনায় কোনো সমঝোতা হয়নি। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন একটি চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার বাঘের গালিবাফ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, মার্কিন অবরোধ অব্যাহত থাকলে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া হবে। সামাজিকমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি বলেন, এই জলপথ দিয়ে চলাচল করতে হলে ইরানের অনুমতির প্রয়োজন হবে।
গত সপ্তাহান্তে ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ইরানের পক্ষে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন গালিবাফ। তিনি তার পোস্টে আরো বলেন, প্রণালিটি খোলা থাকবে নাকি বন্ধ থাকবে এবং এটি নিয়ন্ত্রণের নিয়মকানুন ‘সামাজিকমাধ্যমে নয়, বরং মাঠপর্যায়ে নির্ধারিত হবে’।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এরআগে ঘোষণা দেন, প্রণালিটি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ‘যুদ্ধবিরতির অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত’। ট্রাম্প এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানালেও জোর দিয়ে বলেছেন, সংঘাত পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ বহাল থাকবে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেছেন, হরমুজ প্রণালি ‘শুধু যুদ্ধবিরতির শর্তে এবং শর্ত সাপেক্ষে খোলা থাকবে’।
ফার্স ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রেজা তালাই-নিকের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, ‘সামরিক জাহাজ এবং শত্রুশক্তির সঙ্গে যুক্ত জাহাজগুলোর হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার অধিকার নেই।’
ফার্সের বরাত দিয়ে মুখপাত্র আরও বলেছেন, প্রণালির বর্তমান পরিস্থিতি ‘অস্থায়ী’ এবং লেবাননের পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে জলপথটি আবার বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।
সূত্র: আলজাজিরা
বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর জন্য ইরানি কর্মকর্তাদের হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার ঘোষণার প্রভাব পড়েছে জ্বালানি তেলের বাজারে।
ব্রেন্ট ক্রুড আর ইউএস অয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে। দিন শেষে ব্রেন্ট ক্রুড ব্যারেলপ্রতি ৯ দশমিক ১ শতাংশ কমে ৯০ ডলার ৩৮ সেন্টে স্থির হয়।
এখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধে এখন যুদ্ধবিরতি চলছে। তবে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ জারি রেখেছে ওয়াশিংটন।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ইরানি বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ অব্যাহত রাখলে হরমুজ প্রণালি আবারও বন্ধ করে দেওয়া হবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। এরপর থেকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়। বিশ্বের এক–পঞ্চমাংশ ক্রুড অয়েল বা অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পরিবহন করা হয় এ পথ দিয়ে।
সূত্র: আল–জাজিরা
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খতিবজাদে দেশটির ওপর চালানো আগ্রাসনমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের কার্যকর ভূমিকা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ এ তথ্য জানিয়েছে।
জাতিসংঘের শান্তি-গঠনবিষয়ক শীর্ষ কর্মকর্তা রোজমেরি ডি কার্লোর সঙ্গে এক বৈঠকে খতিবজাদে বলেন, ইরানের ওপর চালানো হামলাগুলো আন্তর্জাতিক আইন ও অধিকার লঙ্ঘনের স্পষ্ট ধারাবাহিক উদাহরণ।
এদিকে, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ইরানের উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে প্রস্তাব পাস করেছে। তবে ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল প্রথমে ইরানের ওপর যে হামলা চালায়, সে বিষয়ে কোনো নিন্দা জানানো হয়নি।
সূত্র: আলজাজিরা।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক দাবিগুলোকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, গত এক ঘণ্টায় ট্রাম্প যে সাতটি দাবি করেছেন, তার সবই অসত্য। তিনি আরও মন্তব্য করেন, ‘এই মিথ্যা দিয়ে তারা যুদ্ধ জেতেনি, আর আলোচনাতেও কোনো অগ্রগতি অর্জন করতে পারবে না।’
গালিবাফ সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ অব্যাহত থাকলে হরমুজ প্রণালি খোলা থাকবে না।
তিনি আরো জানান, প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ইরানের নির্ধারিত রুট ও অনুমোদনের ভিত্তিতেই পরিচালিত হবে। পাশাপাশি তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালির নিয়মনীতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্ধারিত হবে না।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে দুই পক্ষের এমন পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলছে।
সূত্র: আলজাজিরা।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরেনি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান প্রণালিটি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করার ঘোষণা দিলেও বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন বলে জানিয়েছেন কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবদুল্লাহ বান্দার আল-ইতাইবি।
তার মতে, চলমান অনিশ্চয়তার কারণে সামুদ্রিক পরিবহন দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কম।
আল-ইতাইবি আরো জানান, কাতার দুটি জাহাজ পাঠানোর চেষ্টা করেছিল, তবে সেগুলো প্রণালি অতিক্রমের অনুমতি পায়নি। তিনি বলেন, ‘প্রণালিতে জাহাজ চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক নয়, আবার একেবারে বন্ধও নয়। এখনো সেখানে অনিশ্চয়তার প্রভাব রয়ে গেছে।’
সূত্র: আলজাজিরা।
ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে বড় ধরনের কোনো মতবিরোধ নেই বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ইরান ও লেবাননকে কেন্দ্র করে আলোচনা চলছে এবং এতে ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’ অর্জিত হয়েছে।
এর আগে ইরান থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল যে, চুক্তির বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে এখনো বড় মতপার্থক্য রয়েছে। এ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেন, “দেখা যাক শেষ পর্যন্ত কী হয়। যদি কোনো সমস্যা থাকে, আমরা তা সমাধান করব। তবে আমার মনে হয় না বড় ধরনের কোনো পার্থক্য আছে।”
ইরান-সমর্থিত ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠীর কয়েকজন কমান্ডারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়া ব্যক্তিদের মধ্যে কাতায়েব হিজবুল্লাহ সংশ্লিষ্ট কয়েকজনও রয়েছেন।
মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বলেন, ইরান-সমর্থিত ইরাকের সন্ত্রাসী মিলিশিয়াদের আমরা আমেরিকান জীবন বা স্বার্থ হুমকির মুখে ফেলতে দেব না। যারা এসব সহিংসতা সক্ষম করে, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।
উল্লেখ্য, গত মাসে ইরান-সমর্থিত ইরাকি গোষ্ঠীগুলো সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে এবং অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থকে লক্ষ্য করে রকেট ও ড্রোন হামলা চালায়।
সূত্র: আলজাজিরা।
গাজা, দখলকৃত পশ্চিম তীর ও লেবাননে ইসরাইলের কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে দেশটির ওপর ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়ে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে।
লেবার পার্টির সংসদ সদস্য রিচার্ড বার্গন সহকর্মী এমপিদের এই প্রস্তাবে সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, প্রস্তাবটিতে ইতোমধ্যে ৭৫ জন এমপি স্বাক্ষর করেছেন।
এই প্রস্তাবে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টির (এসএনপি) মুখপাত্র ব্রেন্ডন ও’হারা, লেবার পার্টির সাবেক নেতা জেরেমি করবিন এবং যুক্তরাজ্যের একমাত্র ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত এমপি লায়লা মোরান।
প্রস্তাবটির মাধ্যমে গাজা, পশ্চিম তীর ও লেবাননে ইসরাইলের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সূত্র: আলজাজিরা।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, যুদ্ধবিরতির অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর হরমুজ প্রণালিকে সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ঘোষণা করা একটি সঠিক পদক্ষেপ।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালীতে আন্তর্জাতিক নৌচলাচলের অধিকার ও স্বাধীনতার পূর্ণ পুনরুদ্ধার প্রয়োজন, যা সকল পক্ষ কর্তৃক সম্মানিত হবে।
এতে আরো বলা হয় যে, গুতেরেস আশা প্রকাশ করেন, ‘যুদ্ধবিরতির পাশাপাশি এই পদক্ষেপটি পক্ষগুলোর মধ্যে আস্থা তৈরিতে ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় চলমান সংলাপকে আরো শক্তিশালী করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন জাতিসংঘ মহাসচিব।
সূত্র: বিবিসি
ইরান নীতি নিয়ে সমালোচনামূলক খবর প্রকাশের জেরে যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার সংবাদমাধ্যমগুলোর ওপর আবারো চটেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি সংবাদমাধ্যমগুলোকে একহাত নিয়েছেন।
ট্রাম্প তার পোস্টে লেখেন, ‘ব্যর্থ নিউইয়র্ক টাইমস, ফেক নিউজ সিএনএন এবং অন্যরা এখন কী করবে ভেবে পাচ্ছে না। তারা ইরান পরিস্থিতি নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে. ট্রাম্পের সমালোচনা করার জন্য মরিয়া হয়ে কারণ খুঁজছে, কিন্তু কোনো কিছুই খুঁজে পাচ্ছে না।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট সংবাদমাধ্যমগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘কেন তারা সঠিক সময়ে অন্তত এটুকু বলছে না যে মি. প্রেসিডেন্ট, আপনি দারুণ কাজ করেছেন (জব ওয়েল ডান)! এটা বললেই তো তারা তাদের হারানো বিশ্বাসযোগ্যতা ফিরে পেতে শুরু করতে পারে।’
উল্লেখ্য, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক বিভিন্ন পদক্ষেপ ও দাবি নিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
ট্রাম্পের দাবি, তার কঠোর ও কৌশলী অবস্থানের কারণে ইরান এখন আলোচনায় বসতে এবং ছাড় দিতে রাজি হয়েছে, যা সংবাদমাধ্যমগুলো সঠিকভাবে প্রচার করছে না। মূলত নিজের কূটনৈতিক সাফল্যের স্বীকৃতি না পেয়েই তিনি গণমাধ্যমের ওপর এই ক্ষোভ উগরে দিলেন।
সূত্র : আল-জাজিরা
ইসরাইলের সঙ্গে লেবানন সরকারের সরাসরি আলোচনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে হিজবুল্লাহর সংসদীয় ব্লক। তবে কিছু শর্ত সাপেক্ষে ১০ দিনের চলমান যুদ্ধবিরতির প্রতি তারা সতর্ক সমর্থন ব্যক্ত করেছে।
হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই যুদ্ধবিরতি অবশ্যই পূর্ণাঙ্গ হতে হবে এবং পুরো লেবাননজুড়ে কার্যকর থাকতে হবে। একই সঙ্গে একে লেবানন থেকে ইসরাইলি সেনা পুরোপুরি প্রত্যাহারের প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করার দাবি জানিয়েছে তারা।
হিজবুল্লাহ এই যুদ্ধবিরতি কার্যকরের কৃতিত্ব দিয়েছে ইরানকে। তাদের দাবি, ইরানের চাপ এবং কূটনৈতিক তৎপরতার কারণেই এই যুদ্ধবিরতি সম্ভব হয়েছে।
সরকারের কঠোর সমালোচনা করে হিজবুল্লাহর সংসদীয় ব্লক জানায়, ইসরাইলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসে সরকার লেবাননকে ‘বিপজ্জনক ছাড়ের পথে’ ঠেলে দিয়েছে। তাদের মতে, আলোচনার আগে যেসব শর্ত পালনের প্রতিশ্রুতি সরকার দিয়েছিল, তারা এখন সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে।
সংগঠনটি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, সরকার এমন সব ছাড় দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে যা তারা বাস্তবে কার্যকর করতে সক্ষম নয়। এই আলোচনার ফলে লেবাননের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ণ হতে পারে বলেও তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।
হিজবুল্লাহর এই অবস্থান লেবাননের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও চলমান শান্তি প্রক্রিয়ায় নতুন জটিলতা তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র : আল-জাজিরা
লেবাননে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও দক্ষিণ লেবাননের বেইত ইয়াহুন গ্রামে একটি মোটরসাইকেল লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। এতে একজন নিহত হয়েছেন।
নিহত হওয়ার বিষয়টি আল-জাজিরাকে নিশ্চিত করেছে দেশটির সিভিল ডিফেন্স।
শুক্রবার থেকে যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর এটি একটি বড় ধরনের লঙ্ঘনের ঘটনা। দক্ষিণ লেবাননের সিভিল ডিফেন্স জানায়, যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী হামলা বন্ধ থাকার কথা থাকলেও ইসরাইলি ড্রোন থেকে বেইত ইয়াহুন এলাকায় এই হামলা চালানো হয়।
উল্লেখ্য, গত ২ মার্চ থেকে হিজবুল্লাহ ও ইসরাইলের মধ্যে শুরু হওয়া এই সংঘাত থামাতে সম্প্রতি ১০ দিনের একটি যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়। তবে যুদ্ধবিরতির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হিজবুল্লাহকে নির্মূল করার অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এবারের ড্রোন হামলাটি সেই অনমনীয় অবস্থানেরই প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এই ঘটনার ফলে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিটি আরও ঝুঁকির মুখে পড়ল।
সূত্র : আল-জাজিরা
হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে আসা ঘোষণাগুলো বর্তমানে যাচাই করে দেখছে জাতিসংঘের জাহাজ চলাচল বিষয়ক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশন (আইএমও)।
সংস্থার মহাসচিব আর্সেনিও ডোমিঙ্গুয়েজ শুক্রবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানান।
আর্সেনিও ডোমিঙ্গুয়েজ বলেন, সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা এবং আইএমও নির্ধারিত ‘ট্রাফিক সেপারেশন স্কিম’ (টিএসএস) মেনে নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত হচ্ছে কি না, তার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সংস্থাটি।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী কোনো দেশেরই আন্তর্জাতিক এই জলপথ বন্ধ করার অধিকার নেই।
এর আগে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র পৃথকভাবে হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য উন্মুক্ত বলে ঘোষণা দিয়েছিল। বিশেষ করে লেবাননে চলমান ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির সময় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে কোনো বাধা থাকবে না বলে জানায় তেহরান।
আইএমও প্রধান আরো জানান, বর্তমানে পারস্য উপসাগরে আটকে থাকা প্রায় ২০ হাজার নাবিকের নিরাপদ প্রত্যাবাসন এবং মানবিক করিডোর চালু করা তাদের অগ্রাধিকার।
তিনি পরিস্থিতি শান্ত করতে এবং সমুদ্রপথে পণ্য সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে গঠনমূলক কূটনৈতিক আলোচনায় বসার আহ্বান জানান।
বৈশ্বিক জ্বালানি ও বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই রুটটি পুনরায় সচল হওয়া আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সূত্র : আল-জাজিরা
ইরান আর কখনোই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করবে না বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই দাবি করেন।
ট্রাম্প তার পোস্টে লেখেন, ‘ইরান আর কখনোই হরমুজ প্রণালি বন্ধ না করার বিষয়ে একমত হয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘এটি বিশ্বের বিরুদ্ধে আর কখনো অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হবে না!’
বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সরু পানিপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। গত কয়েক দশকের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরান এই প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছিল। তবে ট্রাম্পের এই সাম্প্রতিক দাবি অনুযায়ী, তেহরান এখন থেকে এই পানিপথটিকে সব ধরনের বাণিজ্যিক চলাচলের জন্য স্থায়ীভাবে উন্মুক্ত রাখতে সম্মত হয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি এই দাবি সত্য হয়, তবে তা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও বৈশ্বিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বড় ধরনের স্থিতিশীলতা নিয়ে আসবে। তবে ইরানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
সূত্র : আল-জাজিরা
হরমুজ প্রণালিতে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা রক্ষায় ব্রিটেন ও ফ্রান্সের নেতৃত্বে একটি আন্তর্জাতিক মিশন শুরু হতে যাচ্ছে।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার জানিয়েছেন, পরিস্থিতি অনুকূলে এলেই এই বহুজাতিক মিশন কাজ শুরু করবে।
প্যারিসে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে এক যৌথ বৈঠকে স্টারমার এই ঘোষণা দেন। তিনি জানান, এই মিশনের প্রকৃতি হবে সম্পূর্ণ ‘শান্তিপূর্ণ ও রক্ষণাত্মক’। এর মূল লক্ষ্য হলো বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সমুদ্র থেকে মাইন অপসারণে সহায়তা করা।
স্টারমার বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলোকেও এই মিশনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি জানান, ইতোমধ্যে অন্তত এক ডজন দেশ এই মিশনে সম্পদ ও সরঞ্জাম দিয়ে সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের একটি বড় অংশ পরিবাহিত হয়। সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই জলপথের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মাঝেই ব্রিটেন ও ফ্রান্স এই উদ্যোগ নিল। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, বিশ্ব বাণিজ্যের স্বার্থে এই রুটটি নিরাপদ রাখা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্মিলিত দায়িত্ব।
সূত্র : আল-জাজিরা
লেবাননে ইসরাইলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২ হাজার ২৯৪ জনে দাঁড়িয়েছে।
শুক্রবার দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানা গেছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, গত ২ মার্চ হিজবুল্লাহ ও ইসরাইলের মধ্যে লড়াই শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা এই পর্যায়ে পৌঁছেছে। এ ছাড়া এসব হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৭ হাজার ৫৪৪ জন আহত হয়েছেন।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় বিমান হামলা ও সামরিক অভিযান জোরদার করেছে ইসরাইলি বাহিনী। এতে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। নিহতের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। সংশ্লিষ্ট এলাকায় এখনো উদ্ধার তৎপরতা ও চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র : আল-জাজিরা
হরমুজ প্রণালিতে পুঁতে রাখা সমুদ্র মাইন (সি মাইন) সরানোর কাজ শুরু হয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় ইরান এই মাইনগুলো অপসারণ করছে অথবা ইতোমধ্যে অনেকগুলো সরিয়ে ফেলেছে।
ট্রাম্প তার পোস্টে লেখেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় ইরান সব সমুদ্র মাইন সরিয়ে ফেলেছে বা সরাচ্ছে!’
তিনি এই ঘটনাকে একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন।
এর আগে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, ইরান তাদের পুঁতে রাখা সব মাইনের সঠিক অবস্থান শনাক্ত করতে পারছিল না এবং সেগুলো সরানোর মতো প্রয়োজনীয় সক্ষমতাও তাদের ছিল না। এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম) পানির নিচে ড্রোন এবং বিশেষায়িত প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাইন শনাক্ত ও ধ্বংস করার অভিযান শুরু করে।
হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং তেল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এই মাইন অপসারণ প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্পের এই বার্তা ইঙ্গিত দেয় পর্দার আড়ালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সহযোগিতামূলক কোনো প্রক্রিয়া সচল রয়েছে, যার ফলে এই স্পর্শকাতর কাজটিতে অগ্রগতি হচ্ছে। তবে ঠিক কীভাবে ইরানকে সহায়তা করা হচ্ছে, সে বিষয়ে ট্রাম্প বিস্তারিত কিছু জানাননি।
সূত্র : আল-জাজিরা
হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী যেকোনো জাহাজকে এখন থেকে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) অনুমতি নিতে হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির এক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই নতুন নির্দেশনার কথা জানান।
অন্যদিকে, ইরানের একজন সরকারি কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, মার্কিন পতাকাবাহী জাহাজসহ সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজ এই প্রণালি দিয়ে চলাচলের অনুমতি পাবে। তবে কোনো দেশের যুদ্ধজাহাজ বা নৌবাহিনীর জাহাজকে এই পথ দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না।
হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে তেহরানের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই রুটটি নিয়ে সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানের এই নতুন শর্ত আন্তর্জাতিক মহলে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে।
তবে ইরানের সামরিক কর্মকর্তাদের এই সাম্প্রতিক বক্তব্য প্রণালিটির ওপর তেহরানের কঠোর নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিই পুনরায় নিশ্চিত করল।
ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, বাণিজ্যিক লেনদেন সচল থাকলেও সামরিক উপস্থিতির ক্ষেত্রে তারা কোনো ছাড় দেবে না।
সূত্র : আল-জাজিরা
হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সামরিক জোট ন্যাটোর (ন্যাটো) পক্ষ থেকে দেওয়া সহায়তার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ন্যাটোকে এই পরিস্থিতি থেকে ‘দূরে থাকার’ পরামর্শ দিয়েছেন।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, ন্যাটোর পক্ষ থেকে তাকে ফোন করে হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে সহায়তার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন।
ট্রাম্প তার পোস্টে লেখেন, ‘আমি তাদের দূরে থাকতে বলেছি। যদি তারা তাদের জাহাজে তেল ভরতে চায়, তবেই কেবল আসতে পারে। যখন প্রয়োজন ছিল, তখন তারা কোনো কাজে আসেনি। তারা আসলে একটি কাগজের বাঘ (পেপার টাইগার)!’
এর আগে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নেতৃত্বাধীন নৌ-অবরোধে যোগ দিতে ন্যাটোর অনেক সদস্য দেশ অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। ট্রাম্পের এই সাম্প্রতিক মন্তব্য সেই তিক্ততাকেই আরও স্পষ্ট করে তুলল।
তিনি আরো যোগ করেন, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং কাতার এই সংকটের সময় যে সাহসিকতা ও সহযোগিতা দেখিয়েছে, তার জন্য তিনি তাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছেন। তবে ন্যাটোর মতো ঐতিহ্যবাহী মিত্রদের প্রতি তার কঠোর অবস্থান আন্তর্জাতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সূত্র : আল-জাজিরা
লেবাননে ইসরাইলি বোমা হামলা আর সহ্য করা হবে না বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি স্পষ্টভাবে জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলকে লেবাননে হামলা চালাতে ‘নিষেধ’ করেছে।
ট্রাম্প তার পোস্টে লেখেন, ‘ইসরাইল আর লেবাননে বোমা হামলা চালাবে না। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাদের এটি করতে নিষেধ করা হয়েছে। যথেষ্ট হয়েছে, আর নয় (এনাফ ইজ এনাফ!!!)।’
তিনি আরো উল্লেখ করেন, লেবানন পরিস্থিতি এবং সেখানে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর উপস্থিতির বিষয়টি ইরানের বিষয় থেকে আলাদাভাবে দেখা হবে। এই সংকট নিরসনে একটি ‘উপযুক্ত পন্থায়’ পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই সরাসরি হস্তক্ষেপ ও কড়া বার্তা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতিতে নতুন মোড় নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ইসরাইলের প্রধান মিত্র হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের এই কঠোর অবস্থান লেবাননে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ প্রশস্ত করতে পারে।
সূত্র : আল-জাজিরা
ইরানের কাছে থাকা সব সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্র হাতে পাবে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এই সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামকে নিউক্লিয়ার ডাস্ট হিসেবে অভিহিত করেছেন।
ট্রাম্প তার পোস্টে উল্লেখ করেন, এই সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তরের বিনিময়ে কোনো ধরনের অর্থ লেনদেন করা হবে না।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘কোনোভাবেই কোনো অর্থের আদান-প্রদান হবে না।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরো জানান, ইরানের সঙ্গে এই সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়টি লেবাননের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীল নয়। বরং এটি একটি স্বতন্ত্র প্রক্রিয়া হিসেবে এগোচ্ছে।
এর আগে এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তরের বিনিময়ে ইরানকে বিপুল পরিমাণ অর্থ দেওয়া হতে পারে। ট্রাম্প সেই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে তার নতুন অবস্থানে অনড় থাকলেন।
মূলত তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রাখতেই যুক্তরাষ্ট্র এই কঠোর শর্তারোপ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সূত্র : আল-জাজিরা
লেবাননে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মাথায় হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি জানিয়েছেন, হিজবুল্লাহকে ‘নির্মূল’ করার কাজ এখনো শেষ হয়নি।
একটি রেকর্ড করা বার্তায় নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি। হিজবুল্লাহর অবশিষ্ট রকেট ও ড্রোন হুমকির মোকাবিলায় আমাদের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে।’
তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, হিজবুল্লাহর সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করাই ইসরাইলি বাহিনীর মূল লক্ষ্য।
নেতানিয়াহুর এই মারমুখী অবস্থানের বিপরীতে কড়া বার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইসরাইলকে আর লেবাননে বোমা হামলার অনুমতি দেওয়া হবে না।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, ‘যথেষ্ট হয়েছে, আর নয় (এনাফ ইজ এনাফ!!!)।’
ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণা চলমান যুদ্ধবিরতিকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে প্রধান মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশ্য বিরোধিতার পর নেতানিয়াহু পরবর্তী সময়ে কী পদক্ষেপ নেন, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
সূত্র : আল-জাজিরা
ইরানের সঙ্গে একটি স্থায়ী চুক্তিতে না পৌঁছানো পর্যন্ত দেশটির ওপর আরোপিত নৌ-অবরোধ বহাল থাকবে বলে ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য ‘পুরোপুরি উন্মুক্ত’ থাকলেও ইরানের ক্ষেত্রে এই অবরোধ শিথিল করা হবে না।
ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে আমাদের লেনদেন বা চুক্তি শতভাগ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত এই নৌ-অবরোধ পূর্ণ শক্তিতে কার্যকর থাকবে।’
তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, এই প্রক্রিয়াটি খুব দ্রুত সম্পন্ন হবে। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, চুক্তির বেশিরভাগ পয়েন্ট বা বিষয় নিয়ে ইতিমধ্যে আলোচনা ও সমঝোতা হয়ে গেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্য এমন সময় এলো যখন হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন আলোচনা ও জোট গঠনের চেষ্টা চলছে। ট্রাম্পের এই অনমনীয় অবস্থান ইঙ্গিত দেয় ইরানের ওপর চাপ অব্যাহত রেখে যুক্তরাষ্ট্র একটি দ্রুত ও চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে চায়। এই অবরোধ মূলত ইরানের তেল রপ্তানি ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমকে নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যেই বহাল রাখা হয়েছে।
সূত্র : আল-জাজিরা
লেবাননে চলমান যুদ্ধবিরতির সময় সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য ‘হরমুজ প্রণালি’ পুরোপুরি উন্মুক্ত থাকবে বলে ঘোষণা করেছে ইরান।
দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আরাগচি জানান, লেবাননে ঘোষিত যুদ্ধবিরতির সঙ্গে সংহতি রেখে এবং শান্তি বজায় রাখার স্বার্থে এই গুরুত্বপূর্ণ পানিপথ দিয়ে পণ্যবাহী ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। যুদ্ধবিরতির বাকি সময়টুকু এই সুবিধা কার্যকর থাকবে।
বৈশ্বিক জ্বালানি ও বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান এই রুটটি খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে আন্তর্জাতিক মহলে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইরান এর আগে জানিয়েছিল, তাদের ওপর হামলা বন্ধ থাকলে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকলে তারা এই প্রণালি দিয়ে নিরাপদ জাহাজ চলাচলে সহযোগিতা করবে।
উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয়। গত কয়েক সপ্তাহের সংঘাত ও উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই পানিপথটির নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বব্যাপী উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। ইরানের এই সর্বশেষ ঘোষণা আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র : আল-জাজিরা
ইসলামাবাদে আবারো একটি সম্ভাব্য উচ্চপর্যায়ের বৈঠককে কেন্দ্র করে পাকিস্তানে ব্যাপক নিরাপত্তা প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। রাজধানী শহরজুড়ে ইতোমধ্যে ১০ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং পার্শ্ববর্তী প্রদেশগুলো থেকে আরো ১০ হাজার অতিরিক্ত ফোর্স যুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।
দেশটির প্রধানমন্ত্রী, সেনাপ্রধান এবং সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানরা এই ‘ঐতিহাসিক’ আয়োজনে বিশ্বনেতাদের স্বাগত জানাতে ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্যারা-মিলিটারি ফোর্স ও পুলিশ বাহিনীর সমন্বয়ে পুরো শহরকে একটি নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে।
যদিও পরবর্তী বৈঠকের সঠিক তারিখ এখনো নির্ধারিত হয়নি, তবে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের মতে, পরমাণু ইস্যুতে একটি বড় ধরনের অগ্রগতির সম্ভাবনা রয়েছে। এই লক্ষ্যে তেহরান থেকে ওয়াশিংটন পর্যন্ত কূটনীতিকরা নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন।
ইসলামাবাদ মনে করছে, এই সংলাপের মাধ্যমে একটি কার্যকর সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হবে। আর সেই লক্ষ্যেই বিশ্বনেতাদের জন্য এক নিরাপদ ও সম্মানজনক পরিবেশ নিশ্চিতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে পাকিস্তান।
সূত্র : আল-জাজিরা
লেবাননে ইসরাইলি হামলা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য ‘সরাসরি হুমকি’ বলে জানিয়েছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান।
আন্তলিয়া ডিপ্লোমেসি ফোরামে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।
ফিদান আশা প্রকাশ করেন, লেবাননে বর্তমান যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হবে এবং এটি একটি স্থায়ী চুক্তির দিকে এগিয়ে যাবে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, লেবানন ও সিরিয়ায় ইসরাইলের ‘সম্প্রসারণবাদী নীতি’ এখন বিশ্ব নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, ‘ইসরাইলের এই সম্প্রসারণবাদী নীতি পুরো বিশ্বে অস্থিরতা ছড়িয়ে দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই এই নীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়াতে হবে।’
তার মতে, এই অস্থিরতা বন্ধ না হলে তা বৈশ্বিক স্থিতিশীলতাকে আরো ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
সূত্র : আল-জাজিরা
দক্ষিণ লেবাননের লিটানি নদীর দক্ষিণে সচল থাকা একমাত্র হাসপাতাল ‘তেবনিন’-এ গত কয়েক সপ্তাহে দফায় দফায় হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। সর্বশেষ কয়েক দিনে হাসপাতালটির সামনে একটি বড় ধরনের হামলায় একাধিক স্বাস্থ্যকর্মী নিহত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের মতে, এটি ছিল একটি ‘ট্রিপল-ট্যাপ’ (একই স্থানে পরপর তিনবার) হামলা। প্রথমে ইসরাইলি বাহিনী একটি অ্যাম্বুলেন্স লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এরপর উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য এগিয়ে আসা আরো কয়েকটি অ্যাম্বুলেন্সের ওপর দ্বিতীয় দফায় হামলা করা হয়। সর্বশেষ, হাসপাতালের সামনে জড়ো হওয়া স্বাস্থ্যকর্মী ও অ্যাম্বুলেন্সের ওপর তৃতীয় দফা হামলাটি চালানো হয়।
হাসপাতাল কেন্দ্রিক এই ভয়াবহ হামলার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট এলাকাটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ আর একের পর এক হামলায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দক্ষিণ লেবাননের জনজীবন। এমনকি চিকিৎসাসেবা দেওয়ার মতো নিরাপদ পরিবেশও এখন সেখানে নেই বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
সূত্র : আল-জাজিরা

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, শক্তিশালী কূটনীতির মাধ্যমে ইসরাইল যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করতে ‘বাধ্য হয়েছে’।
টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে তিনি এ মন্তব্য করেন।
পেজেশকিয়ান বলেন, হিজবুল্লাহ এবং লেবাননের অন্য কোনো ফ্রন্টে আক্রমণ করার কোনো অধিকার ইসরাইলের নেই। যুদ্ধবিরতি অর্জনে পাকিস্তানের একনিষ্ঠ প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইরানের ‘মর্যাদা ও গর্ব’ অক্ষুণ্ণ রেখে এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পাকিস্তান সহায়তা করেছে।
ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র চায়নি এবং এই অঞ্চলে অস্থিরতা বা সন্ত্রাসবাদও চায় না বলে ভাষণে উল্লেখ করেন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, তেহরান সবসময় শান্তির পথে চলে, তবে নিজের আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় তারা আপসহীন।
পেজেশকিয়ান আরো বলেন, ইরান তার নীতি ও অবস্থানে অটল থাকবে এবং অন্য পক্ষকেও এটি বুঝতে হবে।
এ সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সমালোচনা করে বলেন, সামরিক কমান্ডার, রাজনীতিবিদ, বিজ্ঞানী এবং শিক্ষার্থীদের হত্যার মাধ্যমে তারা ইরান ও পুরো অঞ্চলকে বিশৃঙ্খলা ও যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
সূত্র : আল-জাজিরা
যুদ্ধবিরতি কার্যকরের ক্ষেত্রে পাকিস্তানের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
তেহরানে পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের সঙ্গে এক বৈঠকে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ায় পাকিস্তান ও দেশটির প্রধানমন্ত্রীর ‘কার্যকর ভূমিকার’ প্রশংসা করেন।
তিনি বলেন, এই প্রচেষ্টাই যুদ্ধবিরতি অর্জনে সহায়তা করেছে।
ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আলোচনার সময় ইরানি প্রতিনিধিদলকে আতিথেয়তা দেওয়ায় তিনি পাকিস্তানের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
পেজেশকিয়ান আরো বলেন, ইরান অঞ্চলে কোনো অস্থিরতা চায় না। বরং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরো জোরদার করতে তারা আগ্রহী।
সূত্র : আল-জাজিরা
লেবাননের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইউসুফ রাজি ও পর্তুগালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাওলো রাঙ্গেলের মধ্যে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে তারা লেবাননের বর্তমান পরিস্থিতি এবং এই অঞ্চলের দ্রুত পরিবর্তনশীল ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে আলোচনা করেন।
লেবাননের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, যুদ্ধবিরতির পর দেশটিতে ‘স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার’ প্রচেষ্টা নিয়ে দুই নেতার মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে রাঙ্গেল লেবাননের সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও ঐক্যের প্রতি পর্তুগালের ‘পূর্ণ সমর্থন’ পুনর্ব্যক্ত করেন।
পর্তুগিজ পররাষ্ট্রমন্ত্রী চলমান যুদ্ধবিরতি এবং লেবাননের নেওয়া আলোচনার পথকে স্বাগত জানান। তিনি একে একটি ‘প্রকৃত সুযোগ’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, এর মাধ্যমে একটি ‘সার্বিক ও টেকসই সমাধানে’ পৌঁছানো সম্ভব, যা এই অঞ্চলের সংঘাতের অবসান ঘটাবে এবং স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি করবে।
সূত্র : আল-জাজিরা

লেবাননের সাথে চুক্তি হলেও দখল করা জায়গা না ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ। লেবাননে যেসব অবস্থান তারা দখল করেছে, সেখানে তাদের সেনাবাহিনী অবস্থান বজায় রাখবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম হ্যারেৎজ এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
কাটজ বলেন, সামরিক বা কূটনৈতিক যেকোনো পন্থায় হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্রীকরণ করাই ইসরাইলি বাহিনীর মূল লক্ষ্য। এই লক্ষ্য অর্জনে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সম্পৃক্ততা এবং লেবানন সরকারের ওপর ওয়াশিংটনের চাপকে বড় ধরনের ‘কূটনৈতিক হাতিয়ার’ হিসেবে দেখছেন তিনি।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, ‘ইসরাইলি বাহিনী যেসব এলাকা দখল করেছে, সেগুলো তাদের নিয়ন্ত্রণেই থাকবে।’ হিজবুল্লাহর হুমকি পুরোপুরি নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত সেনাবাহিনী পিছু হটবে না বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।
সূত্র : আল-জাজিরা

লেবাননে চলমান সংঘাতের ঘটনায় সিরিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা।
তুরস্কের আন্তলিয়া ডিপ্লোমেসি ফোরামে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
প্রেসিডেন্ট আল-শারা বলেন, লেবাননের পরিস্থিতির কারণে সিরিয়া সরাসরি প্রভাবিত হচ্ছে। তবে এই আঞ্চলিক উত্তজনার মধ্যে সিরিয়া কোনো পক্ষ না নিয়ে ‘নিরপেক্ষ’ থাকার পথ বেছে নিয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ফোরামে দেওয়া বক্তব্যে আল-শারা চলমান যুদ্ধ বন্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন এবং একে ‘অভিনন্দন’ জানান। সিরিয়া বর্তমানে নিজেকে সংঘাতের পরিবর্তে টেকসই বিনিয়োগের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তুলতে চায় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সূত্র : আল-জাজিরা

তুরস্কের আনাতলিয়ায় শুরু হওয়া বার্ষিক কূটনীতি ফোরামের মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে চলমান ইরান সংকট। এই সংকট নিরসনে আজ তুরস্ক, পাকিস্তান, সৌদি আরব ও মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
ইতোমধ্যে তিন দফার এই আলোচনায় দেশগুলো মূলত বর্তমান যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার ওপর জোর দিচ্ছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে একটি স্থায়ী চুক্তিতে সম্মত করতে তারা নিজেদের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামরিক প্রভাব কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে আলোচনার টেবিলে নিজেদের স্বার্থ ও দাবির বিষয়গুলোও তুলে ধরছে এই চার দেশ।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের আমূল পরিবর্তনের কথা মাথায় রেখে দেশগুলো নিজেদের অবস্থান পুনর্নির্ধারণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই অঞ্চলের নাটকীয় পরিবর্তনগুলো যেমন নতুন সুযোগ তৈরি করছে, তেমনি নিয়ে আসছে বড় চ্যালেঞ্জ।
পৃথকভাবে কাজ না করে একটি সমন্বিত নীতির মাধ্যমে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও নিজেদের নীতিগুলো নতুন করে সাজানোই এই দেশগুলোর নিয়মিত বৈঠকের প্রধান লক্ষ্য। আন্টালিয়ার এই সম্মেলন থেকে এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র : আল-জাজিরা

দক্ষিণ লেবাননের টায়ার শহরের কাছে বোমা হামলায় বিধ্বস্ত কাসমিয়েহ সেতুতে জড়ো হয়েছেন ঘরমুখো মানুষের দীর্ঘ সারি। ইসরাইল ও লেবানন সরকারের মধ্যে হওয়া সংক্ষিপ্ত যুদ্ধবিরতির পর বুলডোজার দিয়ে চলাচলের রাস্তা মেরামতের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন তারা।
দীর্ঘদিন পর বাড়ি ফেরার সুযোগ তৈরি হওয়ায় বাস্তুচ্যুতদের মনে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপিকে ৩৭ বছর বয়সী আমানি আত্রাশ বলেন, ‘আমাদের অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। এটি গর্ব ও বিজয়ের মুহূর্ত।’
অন্যদিকে, বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরতলির বাসিন্দা হোসেন আমদার তার স্বস্তি প্রকাশ করে বলেন, ‘অনুভূতিটা সত্যিই খুব ভালো।’
তিনি আরো বলেন, ‘এখন বন্ধু ও স্বজনরা আমাকে এবং আমার পরিবারকে ফোন দিতে শুরু করেছে। আমরা যাতে আবার আগের মতো আড্ডা দিতে পারি এবং যুদ্ধের আগের দিনগুলোতে ফিরে যেতে পারি, সেই অপেক্ষায় আছি।’
সূত্র : আল-জাজিরা
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের পথ হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের নেতৃত্বাধীন বিশেষ উদ্যোগে যোগ দিতে আমন্ত্রণ পেয়েছে ভারত।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (এমইএ) এই আমন্ত্রণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই সংকীর্ণ সামুদ্রিক পথে তেল ও পণ্যবাহী জাহাজের নিরাপত্তা নিয়ে বৈশ্বিক উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। হরমুজ প্রণালি বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত তেল সরবরাহের প্রধান পথ এবং ভারতের জ্বালানি আমদানির একটি বড় অংশ এই করিডোর দিয়েই পরিবাহিত হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের এই উদ্যোগে অংশগ্রহণের জন্য ভারতকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এই বৈঠক শুরু হলে এ বিষয়ে আরো বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।
সামুদ্রিক বাণিজ্যে বাধা রোধ এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্যারিসে বর্তমানে ৪০টিরও বেশি দেশ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রাথমিক পরিকল্পনা চূড়ান্ত করতে বৈঠকে বসেছে।
যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের নেতৃত্বাধীন এই জোট জোর দিয়ে বলেছে, যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরেই কেবল এই অভিযান শুরু হবে।
অংশগ্রহণকারী দেশগুলো জানিয়েছে, তারা এই মিশনে যুদ্ধজাহাজ, জনবল এবং মাইন অপসারণে প্রয়োজনীয় সহায়তা পাঠাতে প্রস্তুত।
সূত্র : এনডিটিভি

ইরান যুদ্ধের প্রভাব মোকাবিলা এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে নিজের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব কিছু করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার।
প্যারিসের এলিসি প্রাসাদে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে সাক্ষাতের আগমুহূর্তে সাংবাদিকদের স্টারমার বলেন, ‘একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, একটি কার্যকর চুক্তি এবং হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখার নীতির ভিত্তিতে বিভিন্ন দেশের সমন্বয়ে একটি জোট গঠন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘এটি আমাদের সবার স্বার্থেই প্রয়োজন। কারণ ইরানে যা ঘটছে, তা আমাদের প্রত্যেকের অর্থনীতিকে প্রভাবিত করছে। আর সে কারণেই দেশগুলো ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে।’
উদ্দেশ্য সফল করতে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রচেষ্টার পাশাপাশি লজিস্টিক, অর্থনৈতিক এবং সামরিক পরিকল্পনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
স্টারমার জানান, আজ সেই লক্ষ্যেই তারা সবাই একত্রিত হয়েছেন।
আজ বিকেলে স্টারমার ও মাখোঁ প্রায় ৪০টি দেশের অংশগ্রহণে একটি ভার্চ্যুয়াল বৈঠকের সভাপতিত্ব করবেন। এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য হলো হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপদ পথ পুনরুদ্ধারে একটি বহুপক্ষীয় মিশন গঠন করা।
সূত্র : বিবিসি

ইরান যুদ্ধ শেষ করার ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
লাস ভেগাসে মার্কিন অর্থনীতি বিষয়ক এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ট্রাম্প যুদ্ধের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ব্যাপক আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, ওয়াশিংটন ও তেহরান চুক্তির ‘খুব কাছাকাছি’ রয়েছে এবং চলতি সপ্তাহ শেষে নতুন করে আলোচনা শুরু হতে পারে।
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এছাড়া গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিমান হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় থাকা ইউরেনিয়াম হস্তান্তরেও তারা রাজি হয়েছে।
তবে ট্রাম্পের এই দাবির বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ইরানের সঙ্গে বিদ্যমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আর মাত্র পাঁচ দিন বাকি। সরাসরি আলোচনার বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী ট্রাম্প জানান, এই মুহূর্তে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর প্রয়োজন আছে কি না, তা নিয়ে তিনি নিশ্চিত নন।
পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সফলভাবে এগোচ্ছে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, পরিস্থিতি ‘চমৎকারভাবে’ চলছে এবং শিগগিরই যুদ্ধের অবসান হতে পারে।
সূত্র : আল-জাজিরা

তেহরান কোনো অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি মেনে নেবে না। পুরো অঞ্চলে যুদ্ধের অবসান ঘটাতেই তারা কাজ করছে বলে জানিয়েছেন ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খাতিবজাদ।
আন্টালিয়া ডিপ্লোমেসি ফোরামের সাইডলাইনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
সাঈদ খাতিবজাদ বলেন, কোনো যুদ্ধবিরতি হতে হলে তা অবশ্যই লেবানন থেকে লোহিত সাগর পর্যন্ত সব সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এটি ইরানের জন্য একটি ‘রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত সীমা।
খাতিবজাদে বলেন, ‘আমরা কোনো অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি গ্রহণ করছি না।’
তার মতে, এই সংঘাতটি এখন একবারেই শেষ হওয়া উচিত।
হরমুজ প্রণালি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই পানিপথ ঐতিহাসিকভাবেই খোলা রয়েছে। এটি ইরানের আঞ্চলিক পানিসীমার মধ্যে অবস্থিত হলেও দীর্ঘদিন ধরে সব দেশের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে।
তিনি এ অঞ্চলে অস্থিরতা সৃষ্টির জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে দায়ী করে বলেন, তাদের কর্মকাণ্ড বৈশ্বিক বাণিজ্য ও বৃহত্তর অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
সূত্র : আল-জাজিরা
লেবাননে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ সতর্ক করে বলেছে, ইসরাইল যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করলে ‘ট্রিগারে আঙুল রাখবেন’ তাদের যোদ্ধারা। হিজবুল্লাহর মালিকানাধীন আল-মানার টিভিতে প্রচারিত একটি সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে এ হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
ইরান-সমর্থিত এই গোষ্ঠীটি বলেছে, ‘যোদ্ধারা শত্রুর বিশ্বাসঘাতকতা ও প্রতারণা প্রতিহত করতে গুলি চালানোর জন্য প্রস্তুত থাকবে।’
এরআগে, লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু একমত হয়েছেন, শান্তি অর্জনের লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি শুরু করবেন।’
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
আরএ
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ লেবাননে ঘোষিত যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন যে এটি দীর্ঘস্থায়ী শান্তির পথে সহায়ক হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, এই যুদ্ধবিরতি “সাহসী” কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে সম্ভব হয়েছে, যার নেতৃত্ব দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
শাহবাজ শরিফ আরও বলেন, পাকিস্তান লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি তার দৃঢ় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে। একই সঙ্গে তিনি জানান, অঞ্চলটিতে টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সব ধরনের উদ্যোগে ইসলামাবাদ সমর্থন দিয়ে যাবে।
বর্তমানে শরিফ আঞ্চলিক সফরে রয়েছেন। বৃহস্পতিবার তিনি কাতারে পৌঁছেছেন, যেখানে আঞ্চলিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। এর আগে তিনি সৌদি আরব সফর করেন এবং এরপর তার তুরস্ক সফরেরও পরিকল্পনা রয়েছে।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য নতুন দফার আলোচনার অংশ হিসেবে ইসলামাবাদ ইতোমধ্যে প্রথম দফার বৈঠকের আয়োজন করেছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই দ্বিতীয় দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
লেবানন–ইসরাইলের চলমান যুদ্ধবিরতির সময় দক্ষিণ লেবাননে একটি অ্যাম্বুলেন্স দলের ওপর ইসরাইলি বাহিনীর হামলার অভিযোগ উঠেছে।
লেবাননভিত্তিক সংবাদমাধ্যম লেবানন ২৪ জানায়, নাবাতিয়েহ গভর্নরেটের কুনিন এলাকায় ইসলামিক হেলথ অথরিটির একটি অ্যাম্বুলেন্স দলকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। এতে মেশিনগান থেকে গুলি এবং কামানের গোলা নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এই ঘটনায় হতাহতের খবর পাওয়া গেছে, তবে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করা যায়নি।
তবে আল–জাজিরা জানিয়েছে, এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
তথ্যসূত্র: আল–জাজিরা
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানের বন্দরগুলোতে চলমান অবরোধ কার্যকর করতে তারা ১২টি জাহাজ, ১০০টি বিমান এবং ১০ হাজারের বেশি সেনা মোতায়েন করেছে।
সেন্টকম দাবি করেছে যে অবরোধ কার্যকর হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ১৪টি জাহাজ ফিরে গেছে।
সেন্টকম আরো দাবি করেছে, মার্কিন বাহিনী হরমুজ প্রণালি অবরোধ করছে না, বরং শুধুমাত্র ‘ইরানের বন্দর ও উপকূলরেখা’ লক্ষ্য করে অবরোধ কার্যকর করছে।
সূত্র: আল জাজিরা
তেহরানে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। পাকিস্তানি সেনাপ্রধানের এই ইরান সফর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তেহরানের যুদ্ধবিরতিকে স্থায়ী শান্তিতে পরিণত করার জন্য পাকিস্তানের চলমান প্রচেষ্টার অংশ।
ফিল্ড মার্শাল মুনির ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভিসহ পাকিস্তানি প্রতিনিধিদল বুধবার তেহরানে পৌঁছান। সেখানে তাদের অভ্যর্থনা জানান ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
এই সফরকালে সেনাপ্রধান আরাগচি ও ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেছেন।
বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয় নিয়ে আলাপ হয়। বিশেষ করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
উচ্চ-পর্যায়ের পাকিস্তানি প্রতিনিধিদলের সফরের আগে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র জানান যে তারা যুক্তরাষ্ট্রের বার্তা পৌঁছে দেবে।
জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরাইলি দূত ড্যানি ড্যানন বলেছেন, পরিস্থিতি খব সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ইসরাইল হুমকি মনে করলে প্রতিক্রিয়া জানাবে। লেবাননের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির প্রতিক্রিয়ায় তিনি এসব কথা বলেন।
নিউইয়র্কে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘ইসরাইল মাঠপর্যায়ে যা ঘটছে তা খুব সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। যদি আমরা হুমকি অনুভব করি, আমরা প্রতিক্রিয়া জানাব।’
ড্যানন বলেন, ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের উপস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করবেন কিনা, তা এখনো নিশ্চিত নয়। প্রেসিডেন্ট যখনই আমাদের ডাকবেন, আমরা যাব।’
এরআগে ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি ইসরাইল ও লেবাননের নেতাদের হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানাবেন।
সূত্র: আল জাজিরা
লেবাননে যুদ্ধবিরতিকে শান্তির জন্য ‘ঐতিহাসিক’ বলে বর্ণনা করেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। যদিও যুদ্ধবিরতির সময় দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার করতে অস্বীকার করেছেন তিনি।
নেতানিয়াহু বলেন, ‘আক্রমণের আশঙ্কা থাকায় এবং ইসরাইলে গোলাবর্ষণ প্রতিরোধ করতে ‘আমরা লেবাননে একটি বর্ধিত নিরাপত্তা অঞ্চলে অবস্থান করছি।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা সেখানেই আছি এবং আমরা এখান থেকে যাচ্ছি না।’
ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, তার মূল দাবি হলো হিজবুল্লাহকে নির্মূল করা। এর আগে দক্ষিণ লেবাননের লিতানি নদী পর্যন্ত দখল করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন তিনি।
অন্যদিকে লেবানন ইসরাইলি বাহিনীর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার এবং বাস্তুচ্যুত বাসিন্দাদের তাদের বাড়িতে ফিরে যাওয়ার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি (আইআরসি) ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে ঘোষিত যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়েছে। সংস্থাটি একে “নাগরিকদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং বহু প্রতীক্ষিত স্বস্তির সুযোগ” হিসেবে উল্লেখ করেছে।
সংস্থার বিবৃতিতে বলা হয়, লেবাননে এখন পর্যন্ত ২,১০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, হাজার হাজার মানুষ আহত হয়েছেন এবং ১০ লক্ষেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
আইআরসি আরও জানায়, “এই যুদ্ধবিরতিকে অবশ্যই বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা, টেকসই মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এবং দীর্ঘস্থায়ী শান্তির ভিত্তি গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাতে হবে।”
সংস্থাটি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়ে বলেছে, তাদের এমন একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে হবে, যা ভবিষ্যতে প্রাণহানি রোধ করবে এবং সংঘাতের মূল কারণগুলো সমাধানে সহায়তা করবে।
এশিয়ার বাজার খোলার পর আন্তর্জাতিক তেলের দামে পতন লক্ষ্য করা গেছে। ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত দ্রুত শেষ হতে পারে—এমন আশাবাদ থেকেই বাজারে এই প্রভাব পড়েছে।
শুক্রবার (০০:২১ GMT) পর্যন্ত ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দাম ১ শতাংশের বেশি কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৮.০৫ ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের দামও ৯৪ ডলারের নিচে নেমে গেছে।
এর আগে, মার্চ মাসে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে তেলের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছায়। যদিও সম্প্রতি তা কমে ১০০ ডলারের নিচে নেমেছে, তবে পুরো সপ্তাহজুড়ে দাম ৯০ ডলারের ঘরেই অবস্থান করছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অবরোধের ফলে গত ৭২ ঘণ্টায় অন্তত ১৪টি জাহাজ তাদের গন্তব্য থেকে ফিরে গেছে।
সেন্টকমের দাবি, এই অবরোধ কার্যকর হওয়ার পর মার্কিন বাহিনী জাহাজগুলোকে ঘুরিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা শুধুমাত্র ইরানের বন্দরগুলোতে প্রবেশ বা সেখান থেকে বের হওয়া জাহাজগুলোকেই বাধা দিচ্ছে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এ ধরনের অবরোধ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্র: আলজাজিরা।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে আলোচনায় ফেরানোর আহ্বান জানিয়েছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ এবং হরমুজ প্রণালিতে ইরানের বাধা ঘিরে বিশ্বে জ্বালানি বাজারে বিরূপ প্রভাব পড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে এমন মন্তব্য করলেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে আলোচনায় ফেরানোই এখনকার অগ্রাধিকার। তিনি এর কারণ হিসেবে ‘দীর্ঘস্থায়ী এই সংঘাত আন্তর্জাতিক জ্বালানি ওপর যে প্রভাব পড়েছে তা উল্লেখ করেন। এর পাশাপাশি তিনি আর্ন্তজাতিক বাজারে হরমুজ প্রণালির নৌপথের নিরাপত্তার গুরুত্বের কথাও উল্লেখ করেন।
সূত্র: আলজাজিরা।
ইসরাইলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার সিদ্ধান্তকে ‘গুরুতর ভুল’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন হিজবুল্লাহর আইনপ্রণেতা হুসেইন হাজ্জ হাসান। বৃহস্পতিবার বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি লেবানন সরকারকে এই ধরনের উদ্যোগ থেকে সরে আসার আহ্বান জানান।
হাজ্জ হাসান বলেন, ‘শত্রুর সঙ্গে সরাসরি আলোচনা একটি গুরুতর পাপ এবং বড় ধরনের ভুল… এটি দেশের কোনো স্বার্থেই কাজ করে না।’ তিনি অভিযোগ করেন, এ ধরনের আলোচনা লেবাননের জন্য উপকারের পরিবর্তে ক্ষতিকর হতে পারে।
তিনি আরো বলেন, সরকার যেন ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ‘অপ্রয়োজনীয় ছাড়’ দেওয়া বন্ধ করে। তার মতে, চলমান আলোচনাগুলো লেবাননের স্বার্থ রক্ষা করতে পারছে না।
এদিকে লেবাননের জাতীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, দেশটির চৌফ জেলার সাদিয়াত শহরে ইসরাইলি বিমান হামলায় আরো এক নারী নিহত ও দুই শিশু আহত হয়েছে।
সূত্র: আলজাজিরা।

ইরানে নৌ অবরোধের আওতাভুক্ত এলাকায় সহায়তাকারী জাহাজকেও লক্ষবস্তু করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন জেনারেল ড্যান কেইন।
ওয়াশিংটনে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
জেনারেল কেইন আরো সতর্ক করে বলেছেন, ইরানকে সহায়তাকারী জাহাজ ছাড়াও ইরানি তেল বহনকারী জাহাজগুলো যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্যবস্তুর মধ্য অন্তর্ভুক্ত হবে।
তিনি অবরোধের কিছু নির্দেশনা তুলে ধরেন।
তিনি জানান যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া নৌ অবরোধ ইরানের বন্দরে যাওয়ার বা সেখান থেকে আসা সব জাহাজের জন্য প্রযোজ্য।
এই অবরোধ অমান্য করলে বলপ্রয়োগ করবে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন বাহিনী দাবি করেছে ইতোমধ্যে তারা ১৩টি জাহাজকে ফিরিয়ে দিয়েছে। যেখানে কোনো মার্কিন বাহিনীকে কোনো জাহাজেই উঠতে হয়নি।
নির্দেশনাতে আরো উল্লেখ করা হয়েছে অবরোধ শুধু ইরানের বন্দরের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, হরমুজ প্রণালির ক্ষেত্রে নয়।
জেনারেল কেইনের মতে, ১০ হাজারের বেশি নাবিক, মেরিন এবং বিমানবাহিনী অবরোধ কার্যকরে ভূমিকা রাখছে।
সূত্র: আলজাজিরা।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, যতদিন প্রয়োজন ততদিন ইরানের বন্দরে অবরোধ চালিয়ে যাবে যুক্তরাষ্ট্র।
ওয়াশিংটন ডিসিতে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন হেগসেথ। তিনি বলেন, মার্কিন নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছে, কারণ ইরানের এখন আর কোনো নৌবাহিনী নেই।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরো দাবি করছেন, ইরান যেসব সামরিক সরঞ্জাম সরিয়ে নিচ্ছে সে সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্র অবগত আছে।
তিনি বলেন, আমরা আপনাদের ওপর নজর রাখছি।
হেগসেথ বলেছেন, ইরান যদি কোনো চুক্তিতে সম্মত না হয় তবে মার্কিন বাহিনী যুদ্ধ শুরু করতে প্রস্তুত।
সূত্র: আলজাজিরা

পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির বৃহস্পতিবার ইরানি পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তবে দুই পক্ষের বৈঠকের বিস্তারিত কোনো তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
গালিবাফ গত শনিবার ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অনুষ্ঠিত আলোচনায় ইরানি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন।
আসিম মুনির গতকাল উচ্চপর্যায়ের এক রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা প্রতিনিধি দল নিয়ে তেহরানে পৌঁছান।
ইরানি কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে ইরানের সংবাদ মাধ্যমে জানানো হয়, তিনি সেখানে ‘আমেরিকার বার্তা এবং আলোচনার দ্বিতীয় দফার পরিকল্পনা’ পৌঁছে দিতে এসেছেন।
সফরের অংশ হিসেবে তিনি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গেও বৈঠক করেছেন।
সূত্র: বিবিসি।
লেবাননের জাতীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে যে, ইসরাইলি সেনাবাহিনী দক্ষিণ লেবাননের একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু ধ্বংস করেছে।
এনএনএ বলেছে, ‘শত্রু বিমান টায়ার ও সিডন অঞ্চলের মধ্যে শেষ সেতু কাসমিয়া সেতুর ওপর পরপর দুটি হামলা চালিয়ে সেটিকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দিয়েছে।’
এদিকে মিডল ইস্ট আইয়ের সংবাদে এসেছে ইসরাইলি হামলায় দক্ষিণ লেবাননকে দেশের বাকি অংশের সাথে সংযোগকারী সর্বশেষ সেতুটি ধ্বংস হয়ে গেছে।
লেবাননের একজন ঊর্ধ্বতন নিরাপত্তা কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন যে, এই হামলায় সেতুটি ‘চূর্ণবিচূর্ণ’ হয়ে গেছে এবং এটি মেরামত করার কোনো সুযোগ নেই।
সূত্র: আলজাজিরা ও মিডল ইস্ট আই।
ইসরাইল, লেবানন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সম্ভাব্য ত্রিপক্ষীয় ফোনালাপের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে লেবাননের টিভি চ্যানেল আল জাদিদ। এই আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর থাকবেন বলে জানা গেছে। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।
কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যস্থতাকারীরা ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের মধ্যে যোগাযোগের চেষ্টা করছেন। এই আলোচনায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও যোগ দেবেন।
উল্লেখ্য, রুবিও মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে ইসরাইল ও লেবাননের কর্মকর্তাদের মধ্যে কয়েক দশকের মধ্যে প্রথম বৈঠকের আয়োজন করেছিলেন।
তবে এখনো এ ধরনের কোনো ফোনালাপের আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। যদিও আজ সকালে একজন ইসরাইলি মন্ত্রী স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে নেতানিয়াহু আজ আউনের সঙ্গে কথা বলবেন। অন্যদিকে, লেবাননের কর্মকর্তারা ব্যক্তিগতভাবে জানিয়েছেন যে তারা এ ধরনের কোনো ফোনালাপ সম্পর্কে অবগত নন।
সূত্র: আলজাজিরা।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিতীয় দফা আলোচনার প্রচেষ্টা জোরদার করতে সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্ক তিন দেশ সফরের মধ্যে এখন কাতার পৌঁছেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।
গতকাল একই বিষয়ে আলোচনা করতে সৌদি আরব সফর করেছেন শাহবাজ শরিফ, রিয়াদে আলোচনা শেষ করে আজ বৃহঃস্পতিবার তিনি দোহায় পৌঁছেছেন।
শাহবাজ শরিফ কাতারের আমিরের সঙ্গে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফা আলোচনার জন্য মধ্যে এটি পাকিস্তানের প্রচেষ্টামূলক ধারাবাহিক বৈঠক।
সূত্র: আলজাজিরা।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনায় কিছু ক্ষেত্রে অগ্রগতি হলেও পরমাণু ইস্যুতে এখনো দুই দেশের মধ্যে মৌলিক মতপার্থক্য রয়ে গেছে।
ইরানের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এই তথ্য জানিয়েছেন।
ওই কর্মকর্তা বলেন, গতকাল বুধবার পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের তেহরান সফর কিছু ক্ষেত্রে দূরত্ব কমাতে সাহায্য করেছে। তবে ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ এবং দেশটির পরমাণু কর্মসূচির ওপর বিধিনিষেধের সময়সীমা নিয়ে এখনো কোনো সমাধান আসেনি।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, পরমাণু সমৃদ্ধকরণের মাত্রা এবং চুক্তির শর্তাবলি নিয়ে দুই দেশ এখনো নিজ নিজ অবস্থানে অনড়। এই অমীমাংসিত বিষয়গুলোই একটি টেকসই শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর পথে প্রধান অন্তরায় হিসেবে কাজ করছে। যদিও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আলোচনা অব্যাহত রয়েছে, তবে মূল সংকট নিরসনে আরো দীর্ঘ প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র : আল-জাজিরা
অধিকৃত পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় ইসরাইলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীদের হামলা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বৃহস্পতিবার অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের উত্তর-পশ্চিমে বাইত দুক্কু গ্রামে ইসরাইলি বাহিনীর অভিযানে এক ফিলিস্তিনি যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন।
জেরুজালেম গভর্নরেট জানিয়েছে, অভিযান চলাকালীন বেশ কয়েকজন ফিলিস্তিনিকে আটক করে মাঠপর্যায়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এ সময় বেশ কিছু ঘরবাড়িতে ভাঙচুর চালায় ইসরাইলি সেনারা। শহরটিতে ছড়িয়ে পড়া সংঘর্ষে অন্তত দু’জন আহত হয়েছেন, যার মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
গাজায় ইসরাইলি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে অধিকৃত পশ্চিম তীরে পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ের মধ্যে পশ্চিম তীরে সেনাবাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় অন্তত ১ হাজার ১৫০ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১১ হাজার ৮৮৫ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
এ ছাড়া এখন পর্যন্ত ২২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করেছে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ।
গত ১ এপ্রিল পর্যন্ত পাওয়া তথ্য মতে, অন্তত ৯ হাজার ৫৬০ জন ফিলিস্তিনি ইসরাইলি কারাগারে বন্দি রয়েছেন, যাদের মধ্যে ৩ হাজার ৫৩২ জনকে কোনো অভিযোগ ছাড়াই আটকে রাখা হয়েছে।
ইসরাইল নিশ্চিত করেছে, তাদের হেফাজতে থাকাকালীন এ পর্যন্ত অন্তত ৮৯ জন ফিলিস্তিনি বন্দির মৃত্যু হয়েছে।
সূত্র : আল-জাজিরা

ইরানে টানা ৪৮ দিন ধরে ইন্টারনেট সংযোগ প্রায় সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে রয়েছে।
ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা নেটব্লকস জানিয়েছে, ১ হাজার ১২৮ ঘণ্টা ধরে এই ‘ব্ল্যাকআউট’ বা ইন্টারনেট সেবা বন্ধের পরিস্থিতি চলছে।
গত জানুয়ারির শুরুর দিকে ইরানে নতুন করে বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে ইন্টারনেটের ওপর এই বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। পরবর্তীতে ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধ শুরু হলে এই পরিস্থিতি আরো প্রকট আকার ধারণ করে।
নেটব্লকসের তথ্য মতে, দীর্ঘ সময় ধরে এই ব্ল্যাকআউট চলায় দেশটির সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ও তথ্য আদান-প্রদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে এ ধরনের কঠোর বিধিনিষেধকে নজিরবিহীন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সূত্র : আল-জাজিরা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংকট নিরসনে কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু করা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না। বর্তমানে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আর মাত্র এক সপ্তাহ বাকি থাকায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ ও এক ধরনের জরুরি অবস্থা বিরাজ করছে।
পাকিস্তানের ইসলামাবাদ থেকে আল জাজিরার প্রতিনিধি কিমবার্লি হ্যালকেট জানিয়েছেন, শান্তি প্রক্রিয়া বিলম্বিত হওয়ার পেছনে মূলত যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এক ধরনের স্থবিরতা কাজ করছে। বর্তমানে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান তেহরানে অবস্থান করছেন। তিনি সেখানে কেবল যুক্তরাষ্ট্রের বার্তাই পৌঁছে দিচ্ছেন না, বরং ইসলামাবাদে পরবর্তী দফার আলোচনার ভিত্তিও তৈরি করছেন। যদিও হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি নিশ্চিত করেননি যে পরবর্তী আলোচনা ইসলামাবাদেই হবে, তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই মুহূর্তে অন্য কোনো ভেন্যুর কথা বিবেচনা করা হচ্ছে না।
গত রোববার প্রথম দফার আলোচনা শেষ হওয়ার পর থেকে পাকিস্তান উভয় পক্ষের মধ্যে বার্তার আদান-প্রদান এবং প্রধান কূটনৈতিক সংযোগকারী হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানান, সব পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোচ্ছে; এখন শুধু উভয় পক্ষকে পুনরায় ইসলামাবাদে ফিরিয়ে আনার অপেক্ষা।
তবে আলোচনার পথে এখনো বড় ধরনের বাধা ও মতপার্থক্য রয়ে গেছে। বিশেষ করে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া বা না যাওয়ার বিষয়টি অন্যতম প্রধান অমীমাংসিত ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। এত বাধা সত্ত্বেও উভয় পক্ষকে পুনরায় আলোচনার টেবিলে আনার একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আগামী সপ্তাহে শেষ হয়ে যাচ্ছে বলে এখন দ্রুত একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর চাপ বাড়ছে।
সূত্র : আল-জাজিরা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পুনরায় আলোচনায় বসতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে এই দ্বিতীয় দফার আলোচনার সময় ও স্থান সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে কার্যকর থাকা দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির আওতায় লেবাননও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনার সফলতার জন্য লেবাননে শান্তি বজায় থাকা অপরিহার্য।’
উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা হ্রাসের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয়েছে। পাকিস্তান এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে শান্তি আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।
দেশটির মতে, আলোচনার পরিবেশ তৈরি করতে লেবাননসহ পুরো অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা প্রয়োজন।
সূত্র : আল-জাজিরা
উত্তর গাজার বেইত লাহিয়া এলাকায় একটি স্কুলের কাছে ইসরাইলি ড্রোন হামলায় অন্তত দু’জন নিহত হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্কুলটির কাছাকাছি এলাকায় হঠাৎ ড্রোন থেকে হামলা চালানো হলে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। হামলার সময় ওই এলাকায় সাধারণ মানুষের চলাচল ছিল।
গত কয়েক দিন ধরে উত্তর গাজার বিভিন্ন এলাকায় ইসরাইলি বাহিনীর অভিযান ও হামলার তীব্রতা বেড়েছে। আজকের এই ড্রোন হামলাটি সেই চলমান সামরিক তৎপরতারই অংশ বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই হামলায় আরো কয়েকজন আহত হয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সূত্র : আল-জাজিরা
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু শিগগিরই লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানিয়েছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী পরিচালিত রেডিও।
ইসরাইলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার সদস্য গালিয়া গামলিয়েল এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তবে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এই ফোনালাপের বিষয়ে ভিন্ন তথ্য দিয়েছে লেবানন।
লেবাননের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, প্রেসিডেন্ট আউনের সঙ্গে নেতানিয়াহুর সম্ভাব্য এই আলোচনার বিষয়ে লেবানন সরকারের কাছে ‘কোনো তথ্য নেই’।
দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে এই সম্ভাব্য আলোচনা নিয়ে দুই পক্ষ থেকে দুই ধরনের বক্তব্য পাওয়ায় কিছুটা ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। দশকের পর দশক ধরে বৈরী সম্পর্কের মধ্যে থাকা এই দুই দেশের নেতাদের মধ্যে সরাসরি কথা বলার বিষয়টি বর্তমান সংঘাতময় পরিস্থিতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
সূত্র : আল-জাজিরা
দক্ষিণ লেবাননের মাইফাদুন শহরে ইসরাইলি বিমান হামলায় নিহত স্বাস্থ্যকর্মী মাহদি আবু জাইদের জানাজা সম্পন্ন হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দক্ষিণ লেবাননের হারেত সাইদা শহরে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
লেবাননের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ফুটেজে দেখা যায়, বিপুল সংখ্যক স্থানীয় বাসিন্দা এই স্বাস্থ্যকর্মীর শেষ বিদায় ও জানাজায় অংশ নিয়েছেন।
লেবাননের জাতীয় সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বুধবার মাইফাদুন শহরে একটি ত্রাণ মিশন পরিচালনার সময় ইসরাইলি হামলার শিকার হয়ে চারজন স্বাস্থ্যকর্মী নিহত হন। এর আগে ওই শহরে চালানো অন্য একটি ইসরাইলি হামলার পর তারা সেখানে উদ্ধারকাজ ও জরুরি মানবিক সহায়তা দিতে গিয়েছিলেন। ওই উদ্ধার অভিযান চলাকালেই তাদের লক্ষ্য করে পুনরায় হামলা চালানো হয়।
সূত্র : আল-জাজিরা
বৈশ্বিক প্রভাব মোকাবিলায় নিজেদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সামরিক বাজেট বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া।
দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী রিচার্ড মার্লেস অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা কৌশলের সর্বশেষ দ্বিবার্ষিক হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করে জানিয়েছেন, আগামী এক দশকে প্রতিরক্ষা খাতে অতিরিক্ত ৫ হাজার ৩০০ কোটি অস্ট্রেলীয় ডলার (৩৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) ব্যয়ের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
রিচার্ড মার্লেস বলেন, অস্ট্রেলিয়া বর্তমানে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ের মধ্যে সবচেয়ে জটিল ও হুমকিপূর্ণ কৌশলগত পরিস্থিতির মুখোমুখি। এর ফলে চলতি বছর দেশটির প্রতিরক্ষা বাজেট মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ২.৮ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২০৩৩ সাল নাগাদ ৩ শতাংশে উন্নীত করা হবে।
অস্ট্রেলিয়ার এই সিদ্ধান্ত ট্রাম্প প্রশাসনের কোনো চাপে নেওয়া হয়েছে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে মার্লেস বলেন, এটি কোনো বাহ্যিক চাপে নয় বরং বর্তমান কৌশলগত পরিস্থিতির নিরিখে নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত জানুয়ারিতে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ পেন্টাগন তাদের জাতীয় প্রতিরক্ষা কৌশলে মিত্র দেশগুলোকে নিজেদের নিরাপত্তার দায়িত্ব আরো বেশি করে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল।
অস্ট্রেলিয়ার এই বিশাল সামরিক বিনিয়োগের বড় একটি অংশ ব্যয় হবে পরমাণু শক্তিচালিত সাবমেরিন বহরের জন্য। যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় নিরাপত্তা জোট ‘অকাস’-এর আওতায় মার্কিন প্রযুক্তিতে অন্তত আটটি সাবমেরিন তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে দেশটির।
সামগ্রিক এই উদ্যোগের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়া মূলত বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতা ও ইরানের যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট পরিবর্তিত ভূ-রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান আরো শক্তিশালী করতে চাইছে।
সূত্র : আল-জাজিরা
হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ-চলাচল পুনরায় শুরু করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ইরানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে চীন।
গতকাল বুধবার রাতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এক ফোনালাপে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এ আহ্বান জানান।
ওয়াং ই বলেন, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার বিষয়টি যেমন সম্মানজনক এবং সুরক্ষিত থাকা প্রয়োজন, তেমনি এই আন্তর্জাতিক জলপথ দিয়ে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে হবে।
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো উল্লেখ করেন, এই প্রণালি উন্মুক্ত করার বিষয়ে আন্তর্জাতিক মহলের সর্বসম্মত স্বার্থ জড়িয়ে আছে। এ সময় তিনি চলমান যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা এবং পুনরায় আলোচনা শুরু করার প্রতি বেইজিংয়ের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।
সূত্র : আল-জাজিরা

দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় পর প্রথমবারের মতো সরাসরি আলোচনায় বসেছে ইসরাইল ও লেবানন। এই আলোচনার প্রেক্ষাপটে দেশ দুটির মধ্যে একটি সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির লক্ষণ দেখা দিচ্ছে। তবে মাসের পর মাস ধরে চলা লড়াই দক্ষিণ লেবাননের মানচিত্র ও জনপদকে ব্যাপকভাবে বদলে দিয়েছে।
যুদ্ধবিরতির আভাস পাওয়ার পর স্থানীয় বাসিন্দারা নিজ নিজ এলাকায় ফিরতে শুরু করেছেন। তবে সেখানে ফিরে তারা কী পরিস্থিতির মুখোমুখি হবেন, তা নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ রয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো এবং বিধ্বস্ত জনপদগুলোর বর্তমান অবস্থা এখন মূল আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কূটনৈতিক পর্যায়ে অগ্রগতির খবর পাওয়া গেলেও মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র এখনো বেশ নাজুক। এই ভঙ্গুর পরিস্থিতির মধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা কতটা সফল হবে এবং শেষ পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি স্থায়ী রূপ পাবে কি না, তা নিয়ে পর্যবেক্ষকদের মধ্যে সংশয় রয়ে গেছে।
সূত্র : আল-জাজিরা
লেবাননে ইসরাইলি হামলার মুখে দেশটির স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, স্বাস্থ্যকর্মী, অ্যাম্বুলেন্স এবং রোগীদের জরুরি সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।
সংস্থাটির মহাপরিচালক তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস এই আহ্বান জানান।
গেব্রেয়াসুস জানান, দক্ষিণ লেবাননের অন্যতম ব্যস্ত ট্রমা ম্যানেজমেন্ট হাসপাতাল 'তিবনিন সরকারি হাসপাতাল' গত ১২ ও ১৪ এপ্রিল দুই দফা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, এই হামলায় অন্তত ১১ জন স্বাস্থ্যকর্মী আহত হয়েছেন। হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ও এর সরঞ্জামগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে। এ ছাড়া হাসপাতালের ফার্মেসি এবং বহির্বিভাগও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ডব্লিউএইচও প্রধানের দেওয়া তথ্যমতে, গত ২ মার্চ ইসরাইল ও লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত স্বাস্থ্যসেবা খাতের ওপর ১৩৩টি হামলার ঘটনা রেকর্ড করেছে সংস্থাটি। এসব হামলায় ৮৮ জন নিহত এবং ২০৬ জন আহত হয়েছেন।
সংঘাতের প্রভাবে লেবাননের স্বাস্থ্য খাতের ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরে গেব্রেয়াসুস বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ১৫টি হাসপাতাল এবং ৭টি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া ৫টি হাসপাতাল ও ৫৬টি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র বন্ধ করে দিতে হয়েছে।’
গেব্রেয়াসুস লেবাননজুড়ে নিরাপদ, টেকসই এবং বাধাহীন মানবিক সহায়তার সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানান।
তিনি বলেন, যাতে জীবন রক্ষাকারী পরিষেবাগুলো কোনো বিলম্ব ছাড়াই এবং সেবা প্রদানকারী বা গ্রহণকারীদের ঝুঁকি ছাড়াই পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়।
সূত্র : আল-জাজিরা

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার জেরে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে দেখা দিয়েছে তীব্র জ্বালানি সংকট। বিশেষ করে উড়োজাহাজের জ্বালানি বা জেট ফুয়েলের সরবরাহ কমে আসায় আগামী মে বা জুন মাস নাগাদ বিমান চলাচল ব্যবস্থায় বড় ধরনের ধস নামার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের ২০ শতাংশই এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে সম্পন্ন হয়। এই নৌপথটি অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়েছে এশিয়া ও ইউরোপের দেশগুলো।
বাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান রাইস্ট্যাড এনার্জি এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) তাদের সাম্প্রতিক পূর্বাভাসে জানিয়েছে, জ্বালানি স্বল্পতার কারণে মে মাস থেকেই বিশ্বজুড়ে ফ্লাইট বাতিল শুরু হতে পারে।
আইইএ তাদের মাসিক প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলেছে, ইউরোপ যদি মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা তেলের অন্তত ৫০ শতাংশ বিকল্প উৎস থেকে সংগ্রহ করতে না পারে, তবে আগামী জুন মাস নাগাদ তাদের মজুত ‘সংকটকালীন পর্যায়’ অর্থাৎ ২৩ দিনের স্তরে নেমে আসবে।
তথ্য অনুযায়ী, ওইসিডি ইউরোপীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশসহ ব্রিটেন ও নরওয়ে অন্তর্ভুক্ত। তাদের প্রয়োজনীয় জেট ফুয়েলের ৩০ শতাংশের বেশি আমদানি করে। এই আমদানির সিংহভাগই আসে হরমুজ প্রণালি দিয়ে।
এদিকে ইউরোপীয় কমিশন জানিয়েছে, মহাদেশটিতে এখনো পুরোপুরি জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়ার প্রমাণ মেলেনি। তবে কমিশনের মুখপাত্র আন্না-কাইসা ইকোনেন স্বীকার করেছেন, সরবরাহ সংকট এখন অনিবার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে মে মাস থেকে বিশ্বজুড়ে বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক নজিরবিহীন অচলাবস্থা তৈরি হতে পারে।
সূত্র : আল-জাজিরা

ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে ইরান।
বৃহস্পতিবার দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইরনা এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) এক বিবৃতির বরাত দিয়ে সংবাদ সংস্থা ইরনা (আইআরএনএ) জানায়, ইরানের উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশ গিলান থেকে মোসাদের সঙ্গে যুক্ত ওই চার এজেন্টকে আটক করা হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা ইন্টারনেটের মাধ্যমে মোসাদের গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের কাছে ইরানের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর সামরিক এবং নিরাপত্তা স্থাপনার ছবি ও অবস্থান সম্পর্কিত তথ্য পাঠাতেন।
গ্রেপ্তার করা ব্যক্তিদের পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
সূত্র: গালফ নিউজ
লেবানন ও ইসরেইলি নেতাদের মধ্যে সম্ভাব্য কোনো টেলিফোন সংলাপ বা আলোচনার বিষয়ে কোনো তথ্য জানা নেই বলে জানিয়েছেন লেবাননের এক সরকারি কর্মকর্তা।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিনিধি জিনা খোদরকে ওই কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জিনা খোদর এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে জানান, মার্কিন নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের টুইটে ওয়াশিংটনে রাষ্ট্রদূতদের দ্বিতীয় একটি সম্ভাব্য বৈঠকের যে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়েও বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক পোস্টে দাবি করেন, দীর্ঘ ৩৪ বছরের মধ্যে এই প্রথমবারের মতো লেবানন ও ইসরাইল খুব শিগগির সরাসরি আলোচনায় বসতে যাচ্ছে।
তবে লেবানন কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত এই দাবির সত্যতা নিশ্চিত করেনি।
সূত্র : আল-জাজিরা

দীর্ঘ ৩৪ বছর পর আজ বৃহস্পতিবার ইসরাইল ও লেবাননের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে সরাসরি আলোচনা হতে যাচ্ছে বলে ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ ও উত্তেজনা নিরসনে এই ঘোষণাটি বড় একটি কূটনৈতিক মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এর আগে ওয়াশিংটনে নিযুক্ত ইসরাইল ও লেবাননের রাষ্ট্রদূতরা প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে ইসরাইলি হামলা বন্ধের বিষয়ে বিরল এক সরাসরি বৈঠকে অংশ নেন। তবে কূটনৈতিক এই তৎপরতা চললেও মাঠপর্যায়ে ইসরাইলি বাহিনী ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। ওই বৈঠকের সূত্র ধরেই ট্রাম্প এই ঐতিহাসিক আলাপের ঘোষণা দেন।
তবে এই আলোচনার স্থান বা মাধ্যম সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেননি তিনি।
ট্রাম্পের এই ঘোষণার বিষয়ে লেবাননের প্রেসিডেন্ট কার্যালয় কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। ইসরাইল ও লেবাননের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করেছে সংবাদমাধ্যমগুলো।
চলতি সপ্তাহে ওয়াশিংটনে ইসরাইল ও লেবাননের প্রতিনিধিদের মধ্যে গত ৪০ বছরের মধ্যে প্রথম সরাসরি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে কূটনৈতিক এই তৎপরতা চললেও মাঠপর্যায়ে ইসরাইলি বাহিনী ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে।
তবে আলোচনার এই আবহের মধ্যেই ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গতকাল জানিয়েছেন, তিনি দক্ষিণ লেবাননের পূর্ব দিকে সামরিক অভিযান আরো সম্প্রসারণের জন্য বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন।
তিনি স্পষ্ট করেছেন, আলোচনা চললেও মাঠপর্যায়ে সামরিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
বৃহস্পতিবার সকালে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) আরবি ভাষার মুখপাত্র দক্ষিণ লেবাননের জাহরানি নদীর দক্ষিণে বসবাসরত বাসিন্দাদের জন্য জরুরি সরিয়ে নেওয়ার সতর্কতা জারি করেছেন। ওই সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, ‘জাহরানি নদীর দক্ষিণে অবস্থান করা আপনার এবং আপনার পরিবারের জীবনের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।’
কূটনৈতিক আলোচনার এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের মধ্যেও সীমান্ত এলাকায় সংঘাত ও সাধারণ মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার এই নির্দেশ পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে।
তিন দশকেরও বেশি সময় পর দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের এই যোগাযোগ মধ্যপ্রাচ্যের সংকট সমাধানে কোনো পথ দেখাবে কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
সূত্র : আল-জাজিরা, বিবিসি

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের মধ্যে দেশের মজুত বাড়াতে ব্রুনাই ও দক্ষিণ কোরিয়া থেকে অতিরিক্ত ১০ কোটি লিটার ডিজেল সংগ্রহের ঘোষণা দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ।
বার্তা সংস্থা এএফপি এই তথ্য জানিয়েছে।
মালয়েশিয়া সফরকালে এক সংবাদ সম্মেলনে অ্যালবানিজ নিশ্চিত করে বলেন, এই জ্বালানি দুটি পৃথক চালানে অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছাবে।
অস্ট্রেলীয় প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি ঘোষণা করছি যে আমার সরকার দুটি চালানে অতিরিক্ত ১০ কোটি লিটার ডিজেল সংগ্রহ নিশ্চিত করেছে। এর মধ্যে একটি চালান আসবে ব্রুনাই থেকে, যেখানে আমি গতকাল ছিলাম; অন্যটি আসবে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে।’
বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে অস্থিরতা চললেও এই পদক্ষেপের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ার অভ্যন্তরীণ জ্বালানি নিরাপত্তা আরো শক্তিশালী হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সূত্র : আল-জাজিরা
আগামী ২১ এপ্রিল থেকে ইরানজুড়ে সব স্কুলে সশরীরে পাঠদান বন্ধ করে ভার্চ্যুয়াল বা অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্রের বরাত দিয়ে আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি এই তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সারা দেশের সব পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গ্রেডের ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই দূরশিক্ষণ বা অনলাইন পাঠদান প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে। চলমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে শিক্ষা মন্ত্রণালয় দেশজুড়ে এই পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সূত্র : আল-জাজিরা
গত সপ্তাহে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার আলোচনা কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হওয়ার পর, নতুন করে আলোচনা শুরুর প্রচেষ্টায় একটি বড় ধরনের অগ্রগতির (ব্রেক থ্রু) খবর পাওয়া গেছে।
কাতারের সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে পাকিস্তানি সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত একটি চুক্তির বিষয়ে এই ইতিবাচক সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পুনরায় সংলাপ শুরুর লক্ষ্যে পাকিস্তান বর্তমানে শান্তি আলোচনার নেতৃত্ব দিচ্ছে। দুই পক্ষের মধ্যকার দীর্ঘদিনের মতপার্থক্য দূর করতে ইসলামাবাদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে জানা গেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর তাদের আরোপিত নৌ-অবরোধ অত্যন্ত কার্যকরভাবে কাজ করছে। তবে এই অবরোধের মধ্যেই পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় কূটনৈতিক আলোচনার এই নতুন মোড় মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিরসনে ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সূত্র : আল-জাজিরা
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম কিছুটা কমেছে।
হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এই আলোচনা নিয়ে ‘ইতিবাচক’ মনোভাব প্রকাশের পর বৃহস্পতিবার লেনদেনের শুরুতেই তেলের দামে এই নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যায়।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, জিএমটি ০০:২১ নাগাদ আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৪৪ সেন্ট বা ০.৫ শতাংশ কমে ৯৪.৪৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ৭০ সেন্ট বা ০.৮ শতাংশ কমে ৯০.৫৯ ডলারে নেমেছে।
এর আগে একটি পাকিস্তানি সূত্র আল-জাজিরাকে জানায়, উভয় পক্ষের মধ্যকার মতপার্থক্য দূর করার ক্ষেত্রে বড় ধরনের অগ্রগতি বা ‘ব্রেক থ্রু’ হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির বর্তমানে তেহরানে অবস্থান করছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে ফেরার বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এদিকে আলোচনার এই ইতিবাচক খবরে এশিয়ার শেয়ারবাজারগুলোতেও চাঙ্গাভাব দেখা গেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি সূচক ১.৮৯ শতাংশ, হংকংয়ের হ্যাং সেং ০.৬৮ শতাংশ এবং তাইওয়ানের তায়েক্স সূচক ০.৪৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
সূত্র : আল-জাজিরা

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা জারি করা দ্বিতীয় একটি সুপারট্যাঙ্কার হরমুজ প্রণালি দিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করেছে।
জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত তথ্যের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
মেরিটাইম ইন্টেলিজেন্স ডেটা (এলএসআইজি ও কেপলার) অনুযায়ী, ‘আরএইচএন’ নামের একটি খালি ভেরি লার্জ ক্রুড ক্যারিয়ার (ভিএলসিসি) বুধবার উপসাগরীয় এলাকায় প্রবেশ করেছে। প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেল বহনে সক্ষম এই বিশালাকার জাহাজটি ঠিক কোথায় যাচ্ছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হওয়া যায়নি।
এর আগে গত বুধবার ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফারস নিউজ জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা থাকা ইরানের একটি সুপারট্যাঙ্কার মার্কিন অবরোধ উপেক্ষা করে ইমাম খোমেনি বন্দরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছে, গত সোমবার থেকে শুরু হওয়া তাদের এই সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত অন্তত ১০টি জাহাজকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং কোনো জাহাজই তাদের নৌ-অবরোধ ভাঙতে সক্ষম হয়নি। সেন্টকমের এই দাবির মধ্যেই দ্বিতীয় একটি নিষিদ্ধ ট্যাঙ্কারের প্রবেশের খবর পাওয়া গেল।
সূত্র : আল-জাজিরা
লেবাননে অবিলম্বে বোমা হামলা বন্ধ করতে ইসরাইলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের আবাসন বিষয়ক বিশেষ দূত বালাকৃষ্ণান রাজাগোপাল। তিনি ইসরাইলের এই কর্মকাণ্ডকে ‘ডোমিসাইড’ বা পরিকল্পিতভাবে ঘরবাড়ি ধ্বংসের শামিল বলে অভিহিত করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে রাজাগোপাল লিখেছেন, ইসরাইলি সামরিক বাহিনী দক্ষিণ লেবাননে ঠিক সেই কৌশলই ব্যবহার করছে, যা তারা গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে প্রয়োগ করেছে।
তিনি উল্লেখ করেন, এর মধ্যে রয়েছে ‘ডোমিসাইড’ এবং জনশূন্যকরণ, বাফার জোনের মাধ্যমে ভূমি দখল এবং বসতি স্থাপনকারীদের মাধ্যমে কার্যত এলাকা দখল করে নেওয়া।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন বিশেষজ্ঞ রাজাগোপাল এর আগে ‘ডোমিসাইড’-এর সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছেন, ‘সহিংস সংঘাতের সময় বেসামরিক ঘরবাড়ির ব্যাপক ও নির্বিচার ধ্বংসযজ্ঞই হলো ডোমিসাইড’। তিনিসহ জাতিসংঘের অন্য মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা লেবাননে ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
সূত্র : আল-জাজিরা
উত্তর লন্ডনের ফিঞ্চলে এলাকায় একটি সিনাগগে অগ্নিসংযোগের চেষ্টার অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে লন্ডন পুলিশ।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৪৭ বছর বয়সী এক নারী এবং ৪৬ বছর বয়সী এক পুরুষ রয়েছেন।
পুলিশ এই ঘটনাকে ‘অ্যান্টি-সেমিটিক’ বা ইহুদিবিদ্বেষী ঘৃণ্য অপরাধ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
পুলিশ জানায়, গত মধ্যরাতের ঠিক পরে কালো পোশাক ও মুখোশ পরা দুই ব্যক্তিকে দুটি বোতল ও ইট নিয়ে সিনাগগের দিকে এগিয়ে যেতে দেখা যায়। তবে সন্দেহভাজনরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
এই ঘটনায় কোনো আগুন লাগেনি এবং কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। বর্তমানে গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
সূত্র : আল-জাজিরা
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর বিনতে জবেইলে আজ বৃহস্পতিবার ভোরে হিজবুল্লাহ যোদ্ধা এবং ইসরাইলি বাহিনীর মধ্যে ভারি সংঘর্ষ শুরু হয়েছে।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) এই তথ্য জানিয়েছে।
এনএনএ-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, লড়াই চলাকালীন ইসরাইলি সামরিক বাহিনী যুদ্ধবিমান এবং হেলিকপ্টার মোতায়েন করে। শহরের প্রবেশপথ এবং আল-মিহানিয়াহ অক্ষে এখনও থেমে থেমে সংঘর্ষ চলছে। এ সময় ইসরাইলি বাহিনী বিনতে জবেইলের গ্র্যান্ড মার্কেটের প্রবেশপথের বেশ কিছু ঘরবাড়ি ধ্বংস করে দিয়েছে।
এ ছাড়া ইসরাইলি যুদ্ধবিমান লেবাননের তিবনিন শহরে বিমান হামলা চালিয়েছে।
বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই হামলায় স্থানীয় একটি হাসপাতালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে এই নতুন সংঘাত পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে।
সূত্র : আল-জাজিরা
ইরান যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়ার আশায় জাপানের শেয়ারবাজারের প্রধান সূচক নিক্কেই সর্বকালের সর্বোচ্চ উচ্চতায় পৌঁছেছে।
বৃহস্পতিবার যুদ্ধের অবসানে নতুন করে ইতিবাচক সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় এই সূচকটি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পায়।
এদিন বেঞ্চমার্ক নিক্কেই ২২৫ সূচকটি আগের দিনের তুলনায় দুই শতাংশের বেশি বেড়ে নতুন রেকর্ড গড়ে। জিএমটি ০২:১৫ নাগাদ সূচকটি ৫৯,৫১৩ পয়েন্টে পৌঁছায়, যা গত ফেব্রুয়ারিতে হওয়া আগের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য নতুন আলোচনার খবরে গত রাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান শেয়ারবাজার ওয়াল স্ট্রিটের সূচকগুলোও রেকর্ড উচ্চতায় বন্ধ হয়েছিল। এর ইতিবাচক প্রভাব আজ জাপানের বাজারেও পরিলক্ষিত হয়েছে।
সূত্র : আল-জাজিরা

অস্ট্রেলিয়ার জিলং শহরে ভিভা এনার্জির একটি তেল শোধনাগারে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ইরান যুদ্ধের প্রাক্কালে দেশটিতে যখন জ্বালানি তেলের তীব্র ঘাটতি দেখা দিচ্ছে, ঠিক তখনই এই অগ্নিকাণ্ডের খবর এলো।
ফায়ার রেসকিউ ভিক্টোরিয়ার ডেপুটি কমিশনার মিশেল কাউলিং এবিসি নিউজকে জানিয়েছেন, শোধনাগারে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়। বৃহস্পতিবার সকাল নাগাদ আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ায় বর্তমানে সচল থাকা মাত্র দুটি শোধনাগারের মধ্যে এটি একটি। তবে কাউলিং আশ্বস্ত করেছেন, এই আগুনের ফলে ডিজেল বা পেট্রল উৎপাদনে কোনো প্রভাব পড়বে না এবং এটি বিদ্যমান জ্বালানি সংকটকে আরো বাড়িয়ে তুলবে না।
অস্ট্রেলিয়ার জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস বোয়েন বলেন, তেল উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে কি না তা বলার সময় এখনো আসেনি।
তবে তিনি বিষয়টিকে উদ্বেগের সঙ্গে দেখছেন। তিনি মন্তব্য করেন, ‘এটি কোনো ইতিবাচক খবর নয়। এর একটি প্রভাব অবশ্যই থাকবে।’
উল্লেখ্য, অস্ট্রেলিয়া তাদের প্রয়োজনীয় পরিশোধিত জ্বালানির ৮০ শতাংশেরও বেশি বিদেশ থেকে আমদানি করে। এই আমদানির সিংহভাগই আসে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো থেকে, যারা হরমুজ প্রণালি হয়ে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে অপরিশোধিত তেল সংগ্রহ করে। বর্তমানে ইরান যুদ্ধের প্রভাবে এই সরবরাহ ব্যবস্থা চাপের মুখে রয়েছে।
সূত্র : আল-জাজিরা

অধিকৃত পশ্চিম তীরে গত ২৪ ঘণ্টায় একযোগে বড় ধরনের সামরিক অভিযান, তল্লাশি ও গণগ্রেপ্তার চালিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী। এ সময় ইহুদি বসতিস্থাপনকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে বিভিন্ন স্থানে ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
পশ্চিম তীরের নাবলুসের পূর্বাঞ্চলে ইউসুফ নবীর মাজারে বসতিস্থাপনকারীদের বাসে করে প্রবেশের পথ নিরাপদ করতে বিশাল অভিযান চালায় ইসরাইলি সেনারা। এ সময় স্থানীয়দের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হলে ইসরাইলি বাহিনী সরাসরি গুলি বর্ষণ করে। আল-বাদহান সড়কে সামরিক চেকপোস্ট বসানোর ফলে স্থানীয় যানচলাচলে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটে।
কালকিলিয়া শহরে ইসরাইলি বিশেষ বাহিনীর অনুপ্রবেশের পর এক ফিলিস্তিনি যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া কালকিলিয়ার দক্ষিণে রাস আতিয়া শহরেও অভিযান চালানো হয়েছে। রামাল্লাহর পশ্চিমে কাফর নিমা গ্রামেও ইসরাইলি সেনারা প্রবেশ করে তল্লাশি চালিয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টার এই অভিযানে পশ্চিম তীর থেকে এক নারীসহ মোট ২৫ ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করেছে ইসরাইলি বাহিনী।
অন্যদিকে, ওয়াদি আব্বাস অঞ্চলে ইহুদি বসতিস্থাপনকারীদের হামলায় এক ফিলিস্তিনি যুবক আহত হয়েছেন। হেবরনের কাছে বসতিস্থাপনকারীদের পিপার স্প্রে (মরিচের গুঁড়ার স্প্রে) হামলায় এক ফিলিস্তিনি ও এক শিশু আহত হয়েছে, যাদের উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন পড়েছে।
সূত্র : আল-জাজিরা
ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় নাহারিয়া শহরের কাছে ইসরাইলি সেনাদের ওপর দুটি পৃথক হামলার দাবি করেছে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ।
টেলিগ্রামে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে গোষ্ঠীটি জানিয়েছে, তারা ইসরাইলি সেনাবাহিনীর ‘১৪৬তম ডিভিশনের একটি লজিস্টিক বেসে’ একঝাঁক ড্রোন দিয়ে হামলা চালিয়েছে।
পৃথক আরেকটি হামলায় নাহারিয়ার উত্তরে লিমান ব্যারাকের কাছে একটি ইসরাইলি বসতিতে ড্রোন দিয়ে আঘাত করা হয়েছে বলে হিজবুল্লাহ দাবি করেছে।
ইসরাইলি সামরিক অবস্থানের ওপর লক্ষ্য করে এই ড্রোন হামলাগুলো চালানো হয়।
সূত্র : আল-জাজিরা
ট্রাম্প একজন ‘শান্তিকামী মানুষ’ বলে জানিয়েছেন হোয়াইট হাউসের শীর্ষ উপদেষ্টা স্টিফেন মিলার।
ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই ঘনিষ্ঠ সহযোগী এমন মন্তব্য করেন।
মিলার বলেন, ট্রাম্প একজন ‘শান্তিকামী মানুষ’, তবে যুক্তরাষ্ট্র তার অবস্থান পরিষ্কার করে দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমেরিকা কাউকে ভয় পায় না এবং পারমাণবিক শক্তিধর ইরানের হুমকির কাছে কখনোই মাথা নত করবে না।’
ইরানকে চুক্তির পথে আসার আহ্বান জানিয়ে মিলার আরো বলেন, ‘একটি সামরিক অভিযান তাদের জ্বালানি অবকাঠামোকে কয়েক প্রজন্মের জন্য ধ্বংস করে দিতে পারে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন তিনি এমনটা চান না; তিনি চান ইরান সঠিক পথ বেছে নিয়ে চুক্তিতে আসুক।’
মিলার সতর্ক করে বলেন, এই অবরোধ ইরান সরকারের অর্থনৈতিক শক্তিকে নিংড়ে নিচ্ছে এবং ইরান যদি ভুল পথ বেছে নেয়, তবে তা অনির্দিষ্টকাল চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে।
গত সপ্তাহে ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে তেহরানের অর্থনীতিকে চাপে ফেলতে ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ আরোপ করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
সূত্র : আল-জাজিরা
ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর কাছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র ও সরঞ্জাম বিক্রি বন্ধের লক্ষ্যে উত্থাপিত দুটি প্রস্তাব মার্কিন সিনেটে শেষ পর্যন্ত পাস হতে ব্যর্থ হয়েছে। তবে ডেমোক্র্যাট দলীয় রেকর্ডসংখ্যক সিনেটর এই বিক্রির বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন।
ইসরাইলের কাছে ২৯ কোটি ৫০ লাখ ডলার মূল্যের ক্যাটারপিলার বুলডোজার বিক্রি বন্ধ করতে স্বতন্ত্র সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেন। মার্কিন সিনেটে থাকা ৪৭ জন ডেমোক্র্যাটের মধ্যে ৪০ জনই এই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন। তবে সব রিপাবলিকান সিনেটরের বিরোধিতার মুখে ৫৯ ভোটে প্রস্তাবটি বাতিল হয়ে যায়।
অন্যদিকে, ইসরাইলের কাছে ১৫ কোটি ১৮ লাখ ডলার মূল্যের ১ হাজার পাউন্ড ওজনের বোমা বিক্রি বন্ধের লক্ষ্যে আনা দ্বিতীয় প্রস্তাবটিও ব্যর্থ হয়েছে। এই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট পড়েছে ৩৬টি।
প্রস্তাব দুটি পাস না হলেও ইসরাইলের সামরিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে মার্কিন সিনেটরদের এই অবস্থানকে নজিরবিহীন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সূত্র : আল-জাজিরা

ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমিত করতে দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক আলোচনার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই তথ্য জানান।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমি ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে একটু স্বস্তিদায়ক পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছি।’
দুই দেশের নেতাদের মধ্যে দীর্ঘকাল কোনো সরাসরি যোগাযোগ না থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি আরো লেখেন, ‘প্রায় ৩৪ বছর পর দুই দেশের নেতাদের মধ্যে কথা হতে যাচ্ছে। এটি আগামীকালই (শুক্রবার) অনুষ্ঠিত হবে।’
দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় পর দুই প্রতিবেশী দেশের শীর্ষ পর্যায়ে এই সম্ভাব্য আলোচনা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতা নিরসনে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই আলোচনার মাধ্যমে সীমান্তে চলমান সংঘাত ও উত্তেজনার অবসান ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সূত্র : আল-জাজিরা

ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে কয়েক কোটি মানুষ চরম ক্ষুধার মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ইন্দরমিত গিল।
ওয়াশিংটনে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের বসন্তকালীন বৈঠকের ফাঁকে বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই আশঙ্কার কথা জানান।
ইন্দরমিত গিল বলেন, ‘বর্তমানে বিশ্বে প্রায় ৩০ কোটি মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। যুদ্ধের প্রভাবে এই সংখ্যা খুব দ্রুত আরো ২০ শতাংশ বেড়ে যেতে পারে।’
তিনি জানান, যেসব দেশ বর্তমানে যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে অথবা যেখানে ভঙ্গুর সরকার ব্যবস্থা বিদ্যমান, সেসব দেশের মানুষ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে রয়েছেন। পরিস্থিতি দ্রুত সমাধান না হলে ওই দেশগুলোতে বড় ধরনের দুর্ভিক্ষ দেখা দিতে পারে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
বিশ্বব্যাংকের এই প্রধান অর্থনীতিবিদ আরো উল্লেখ করেন, বাজারে বর্তমানে যে খাদ্যপণ্য রয়েছে তা আগেই উৎপাদিত হয়েছে। তবে যুদ্ধের প্রকৃত নেতিবাচক প্রভাব আগামী কয়েক মাসের মধ্যে আরো প্রকটভাবে অনুভূত হতে পারে।
সূত্র : আল-জাজিরা
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান আলোচনার মধ্যেই তেহরান যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশ্লেষক আব্বাস আসলানি।
তেহরানের সেন্টার ফর মিডল ইস্ট স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের এই সিনিয়র ফেলো আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করেন।
গত সপ্তাহে ইসলামাবাদে দুই পক্ষের আলোচনার প্রধান অন্তরায় ছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি। তবে একটি পাকিস্তানি সূত্র আল-জাজিরাকে জানিয়েছে, বুধবার পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের তেহরান সফরের পর এই বিষয়ে অগ্রগতির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
আব্বাস আসলানি বলেন, ‘ইরান বিশ্বাস করে যদি সদিচ্ছা থাকে তবে পারমাণবিক ক্ষেত্রে সমাধানের পথ খুঁজে পাওয়া সম্ভব। যুক্তরাষ্ট্র যদি আন্তরিকভাবে চুক্তি চায়, তবে ইরান স্বচ্ছতা বজায় রাখতে উন্মুক্ত।’
তবে এই আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে তেহরান পুরোপুরি আশাবাদী হতে পারছে না। আসলানি জানান, ইরানি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা এবং ইরানি বন্দরগুলোতে অবরোধের কারণে তেহরানের মধ্যে গভীর অবিশ্বাস কাজ করছে।
তিনি আরো বলেন, ‘বর্তমানে ইরান সব ধরনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত। এটি আলোচনার মাধ্যমে অগ্রগতিও হতে পারে, আবার সামরিক সংঘাতের দিকে ফিরে যাওয়াও হতে পারে।’
সূত্র : আল-জাজিরা

দক্ষিণ লেবাননের সীমান্ত থেকে লিটানি নদী পর্যন্ত প্রায় ৩০ কিলোমিটার এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ঘোষণা দিলেও এখন পর্যন্ত তা বাস্তবায়নে সফল হয়নি ইসরাইলি সামরিক বাহিনী। হিজবুল্লাহর তীব্র প্রতিরোধের মুখে পড়লেও গত কয়েক ঘণ্টায় দক্ষিণ ও পূর্ব লেবাননের গ্রামগুলোতে বিমান ও কামানের গোলাবর্ষণ অব্যাহত রেখেছে ইসরাইল।
বৈরুত থেকে আল-জাজিরার প্রতিনিধি ম্যালকম ওয়েব জানিয়েছেন, ইসরাইলকে যুদ্ধবিরতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ক্রমবর্ধমান চাপের কথা জানানো হলেও প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু লড়াই চালিয়ে যাওয়ার স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন।
এদিকে গত ছয় সপ্তাহে ইসরাইলি আগ্রাসন, জোরপূর্বক সরিয়ে দেওয়া এবং বিমান হামলার কারণে প্রায় ১২ লাখ মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। যুদ্ধবিরতি হলেও এই বিশাল জনগোষ্ঠীর ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন রয়ে গেছে। বিশেষ করে যেসব গ্রাম বর্তমানে ইসরাইলি সেনাদের দখলে রয়েছে, সেখানকার বাসিন্দারা কবে ফিরতে পারবেন তা অনিশ্চিত।
সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোর অসংখ্য ঘরবাড়ি ইসরাইলি বাহিনী বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ধ্বংস করে দিয়েছে। ফলে অনেক লেবাননের নাগরিকের জন্য এখন আর কোনো বাড়ি অবশিষ্ট নেই যেখানে তারা ফিরে যেতে পারেন।
সূত্র : আল-জাজিরা
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মেফাদৌনে ইসরাইলি ‘ট্রিপল-ট্যাপ’ হামলায় চারজন স্বাস্থ্যকর্মী নিহত হয়েছেন। মানবিক সহায়তা প্রদানকালে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
লেবাননের প্রশাসনিক উন্নয়ন মন্ত্রী ফাদি মক্কি একে ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে মন্ত্রী বলেন, মানবিক সহায়তা ও ত্রাণকর্মীদের লক্ষ্যবস্তু করা একটি নতুন যুদ্ধাপরাধ। এটি লেবানন এবং এর জনগণের বিরুদ্ধে ইসরাইলের ধারাবাহিক অপরাধের রেকর্ডে আরো একটি সংযোজন।
ফাদি মক্কি এই আক্রমণকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন এবং চিকিৎসা ও অ্যাম্বুলেন্স কর্মীদের সুরক্ষায় প্রণীত কনভেনশনগুলোর ‘চরম লঙ্ঘন’ বলে উল্লেখ করেন।
তিনি আরো নিশ্চিত করেন, লেবানন সরকার পদ্ধতিগতভাবে এই অপরাধগুলোর নথিপত্র তৈরি করছে।
প্রাসঙ্গিক আন্তর্জাতিক ফোরামগুলোতে ইসরাইলকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।
সূত্র : আল-জাজিরা

হরমুজ প্রণালী ও উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ‘উসকানিমূলক’ তৎপরতার বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। খবর আলজাজিরার।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইএসএনএ জানায়, চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই’র সঙ্গে এক টেলিফোন আলাপে আরাগচি বলেন, এসব পদক্ষেপের ‘বিপজ্জনক পরিণতি’ হতে পারে।
তিনি উল্লেখ করেন, গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান আঞ্চলিক পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলবে এবং এটি স্থিতিশীলতার জন্য সরাসরি হুমকি সৃষ্টি করছে।
এর জবাবে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সংঘাতের সময় ইরানি জনগণের ‘দৃঢ়তা’র প্রশংসা করেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।
ওয়াং ই আরো জানান, চলমান উত্তেজনা নিরসন ও সংঘাতের স্থায়ী সমাধান খুঁজে পেতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় সহায়তা করতে বেইজিং প্রস্তুত রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা নিরসনে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিজেদের দেশে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল রাশিয়া, তবে যুক্তরাষ্ট্র সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে বলে জানিয়েছে ক্রেমলিন।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, সংঘাত নিরসনে সহায়তা করতে রাশিয়া ইরানের ইউরেনিয়ামের পুরো মজুত নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে প্রস্তুত ছিল।
রুশ বার্তা সংস্থা আরআইএ’র বরাতে তিনি জানান, “রাশিয়া ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিজেদের ভূখণ্ডে নিতে প্রস্তুত ছিল। এটি একটি ভালো সিদ্ধান্ত হতে পারত। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে যুক্তরাষ্ট্র এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।”
এর আগে গত বছরের জুন মাসে প্রথম ইরানের ইউরেনিয়াম মজুদের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল রাশিয়া, কিন্তু কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। রয়টার্সের মতে, রাশিয়া এই সপ্তাহে আবারো প্রস্তাবটি দিয়েছে।
পেসকভ আরো বলেন, প্রয়োজন হলে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আবারও এ উদ্যোগে ফিরতে প্রস্তুত আছেন এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলো চাইলে বিষয়টি নতুন করে বিবেচনা করা যেতে পারে।
সূত্র: আলজাজিরা।
যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী দাবি করেছে, ইরানের একটি কার্গো জাহাজকে ঘুরিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে তারা, যা চলমান অবরোধের মধ্যে দশম ঘটনা। খবর আলজাজিরার।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, এই অভিযানে ইউএসএস স্প্রুয়ান্স নামের একটি এজিস গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার অংশ নেয়।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স -এ দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানি পতাকাবাহী জাহাজটি বান্দার আব্বাস থেকে যাত্রা করে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করে অবরোধ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। তবে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ সেটিকে ফিরিয়ে দিতে সক্ষম হয় এবং জাহাজটি পুনরায় ইরানের দিকে ফিরে যাচ্ছে।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, সোমবার শুরু হওয়া এই অবরোধের পর থেকে এখন পর্যন্ত মোট ১০টি জাহাজকে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়েছে এবং কোনো জাহাজই অবরোধ ভেঙে এগোতে পারেনি।
চলমান এই অবরোধ এখন তৃতীয় দিনে প্রবেশ করেছে বলে জানিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই মেনে চলতে হবে। খবর বিবিসির।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, লেবাননে একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি সম্পন্ন হওয়া নির্ভর করবে লেবানন-ভিত্তিক ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর দৃঢ় সংগ্রামের ওপর।
তিনি বলেন, ‘ইরান এবং প্রতিরোধ অক্ষের জন্য (এই অঞ্চলে হিজবুল্লাহ, হামাস, ইয়েমেনের হুথি এবং ইরাকি শিয়া মিলিশিয়াসহ ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোকে বোঝাতে ব্যবহৃত একটি পরিভাষা) যুদ্ধ এবং যুদ্ধবিরতি উভয় ক্ষেত্রেই এক সত্তা।’
তিনি আরো মন্তব্য করেন, যুক্তরাষ্ট্রকে ইসরাইলকেন্দ্রিক নীতি” থেকে সরে আসা উচিত।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সংলাপ আয়োজনের জন্য পাকিস্তানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তেহরানে সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের নেতৃত্বে একটি পাকিস্তানি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি এ মন্তব্য করেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে আরাগচি বলেন, সংলাপ আয়োজনের জন্য পাকিস্তানের ‘আন্তরিক সহযোগিতার’ প্রতি তিনি কৃতজ্ঞ। এটি দুই দেশের গভীর ও শক্তিশালী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের প্রতিফলন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর মুনিরকে আলিঙ্গন করার একটি ভিডিও পোস্ট করে তিনি লিখেছেন, ‘এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রসারের প্রতি আমাদের অঙ্গীকার দৃঢ় এবং অভিন্ন।’
সূত্র: আলজাজিরা।

ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও জাহাজের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ।
ট্রেজারির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক হালনাগাদ তথ্যে জানানো হয়, এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় তিনজন ব্যক্তি, ১৭টি প্রতিষ্ঠান এবং ৯টি জাহাজকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এর কিছুক্ষণ আগে ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট ঘোষণা দেন, সমুদ্রে ভাসমান অবস্থায় থাকা রাশিয়া ও ইরানের তেল কেনার যে ছাড় দেওয়া হয়েছিল, তা আর নবায়ন করা হবে না।
নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে ইরান-সংশ্লিষ্ট তেল বাণিজ্যের ওপর চাপ আরো বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র: আলজাজিরা।
দক্ষিণ লেবাননে রকেট হামলায় পাঁচ ইসরাইলি সেনা আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় সেনাবাহিনী জানায়, আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর এবং বাকি চারজন হালকা আহত হয়েছেন। দক্ষিণ লেবাননে রকেট হামলার ফলেই এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য না দিলেও ইসরাইলি আর্মি রেডিও জানিয়েছে, সংঘর্ষ চলমান থাকা বিন্ত জুবেইল এলাকাতেই তারা আহত হয়েছেন। সেখানে বর্তমানে হিজবুল্লাহ ও ইসরাইলি বাহিনীর মধ্যে তীব্র লড়াই চলছে।
সূত্র: আলজাজিরা।
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শহর বিন্ত জেবেইল দখলের কাছাকাছি রয়েছে তাদের সেনাবাহিনী।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, সেনাবাহিনী দক্ষিণ লেবাননের শহরটি দখল করতে চলেছে, যেখানে সেনাবাহিনী এবং হিজবুল্লাহর মধ্যে কয়েকদিন ধরে তীব্র লড়াই চলছে।’
ইসরাইলের সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত এই শহরটি কৌশলগত ও প্রতীকী—দুই দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
নেতানিয়াহু আরো জানান, ‘একই সাথে, গতকাল আমি সেনাবাহিনীকে নিরাপত্তা আরো জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছি।
তিনি মূলত লেবাননের ভূখণ্ডে আগ্রাসন জোরদার করার অংশ হিসেবে সীমান্ত অঞ্চলে ইসরাইলের দখল করা ভূখণ্ডের কথা উল্লেখ করেন।
নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমাদের আমেরিকান বন্ধুরা ইরানের সাথে যোগাযোগের বিষয়ে আমাদের ক্রমাগত অবহিত করছে। আমাদের লক্ষ্য একই। লড়াই পুনরায় শুরু হওয়ার সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে, আমরা যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত।’
সূত্র: আলজাজিরা।
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরাইলি বিমান হামলায় অন্তত ৮ জন নিহত হয়েছেন।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি জানায়, দক্ষিণ লেবাননের টাইর জেলার আল-আব্বাসিয়াহ এলাকায় গতকাল চালানো বিমান হামলায় এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
সংবাদ সংস্থাটি দেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে আরো জানায় যে, নিহতদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। একই হামলায় আরো ১১ জন আহত হয়েছেন।
আহতদের মধ্যে তিনজন শিশু এবং দুইজন নারী রয়েছেন বলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
সূত্র: আলজাজিরা।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের সামরিক সংঘাতকে ‘ভুল’ সিদ্ধান্ত বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাজ্যের অর্থমন্ত্রী র্যাচেল রিভস। তিনি বলেছেন, এই যুদ্ধ বিশ্বকে আরো নিরাপদ করেছে কি না, তা নিয়ে তার সন্দেহ রয়েছে।
ওয়াশিংটনে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
রিভস জানান, বিষয়টি ইরানের সরকারকে পছন্দ বা অপছন্দ করার প্রশ্ন নয়। তিনি ব্যক্তিগতভাবে ইরানি সরকারকে অপছন্দ করলেও মূল প্রশ্ন হলো কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন কীভাবে আনা হবে।
তিনি বলেন, কূটনৈতিক সমাধানের পথ তখনও খোলা ছিল এবং যোগাযোগ ও আনুষ্ঠানিক আলোচনা চলছিল।
তার মতে, সেই প্রক্রিয়া থামিয়ে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া একটি ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। কারণ, কয়েক সপ্তাহ আগের তুলনায় বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্ব আরও নিরাপদ হয়েছে—এমনটি তিনি মনে করেন না।
সূত্র: আলজাজিরা।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পুনরায় আলোচনা শুরুর বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিতে পাকিস্তান সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির ইরানে পৌঁছেছেন। তাঁর এই সফরের বিষয়টি আল-জাজিরাকে নিশ্চিত করেছে ইরানি সূত্রগুলো।
এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রের একটি বার্তা ইরানের কাছে পৌঁছে দেওয়াই এই সফরের উদ্দেশ্য।
একই সঙ্গে আলোচনা পুনরায় শুরুর উপযুক্ত সময় নির্ধারণ এবং যুদ্ধবিরতি–সংশ্লিষ্ট কিছু অমীমাংসিত বিষয়ে আলোচনার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
ইরানের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, লেবাননে যুদ্ধবিরতির শর্তগুলো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। এ ছাড়া ইরানের জব্দ করা সম্পদ ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি তেহরানের কাছে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দাবি।
দ্বিতীয় দফার আলোচনায় বসার ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলোর সমাধান ইরানিদের কাছে অত্যন্ত জরুরি ও গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: আল-জাজিরা
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে এবং পুনরায় আলোচনা শুরু করতে সফলতার দ্বারপ্রান্তে রয়েছেন মধ্যস্থতাকারীরা। আগামী সপ্তাহে বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই এটি রক্ষার জন্য জোর কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। খবর এপির।
আজ বুধবার (১৫ এপ্রিল) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা 'অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস' (এপি) জানিয়েছে, ওয়াশিংটন ও তেহরান যুদ্ধবিরতি দীর্ঘায়িত করতে একটি 'নীতিগত সম্মতিতে' পৌঁছেছে।
ইরানি বন্দরগুলোতে মার্কিন অবরোধ এবং তেহরানের পাল্টা হুমকির মুখে সপ্তাহব্যাপী চলমান এই চুক্তিটি ঝুঁকির মুখে পড়েছিল। তবে আঞ্চলিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কূটনৈতিক আলোচনার পথ প্রশস্ত করতে উভয় পক্ষই আপাতত যুদ্ধবিরতি বজায় রাখতে একমত হয়েছে।
আগামী ২২ এপ্রিল বর্তমান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হবে। তার আগেই গত সপ্তাহের শেষদিকে ভেস্তে যাওয়া সরাসরি আলোচনাকে পুনরায় কার্যকর করতে তিনটি প্রধান অমীমাংসিত বিষয়ে সমঝোতার চেষ্টা করছেন মধ্যস্থতাকারীরা। বিষয়গুলো হলো— ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এবং যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি বাবদ ক্ষতিপূরণ প্রদান। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এসব তথ্য জানিয়েছেন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তাদের নৌ অবরোধ অব্যাহত রাখলে পারস্য উপসাগর, লোহিত সাগর এবং ওমান সাগরে জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়ার হুমকি দিয়েছে ইরান।
বুধবার এই হুমকি দিয়েছেন ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সমন্বয়কারী সর্বোচ্চ অপারেশনাল কমান্ড, খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের কমান্ডার আলী আবদুল্লাহি।
অবরোধ অব্যাহত রেখে 'ইরানের বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেল ট্যাংকারের জন্য নিরাপত্তাহীনতা' তৈরি করলে সেটি "যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের সূচনা করবে" বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
সূত্র: বিবিসি
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট সি জিন পিংকে ইরানকে অস্ত্র সরবরাহ না করতে বলেছেন। জবাবে সি জানিয়েছেন, তিনি এমন কিছু করছেন না।
ফক্স বিজনেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেন, ‘আমি শুনেছিলাম চীন ইরানকে অস্ত্র দিচ্ছে—অর্থাৎ, আপনারা সব জায়গাতেই এমনটা দেখতে পাচ্ছেন।’
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমি তাঁকে (সি জিন পিং) চিঠি লিখে এমনটা না করতে বলেছিলাম। তিনি আমাকে ফিরতি চিঠিতে জানিয়েছেন, নিশ্চিতভাবে তিনি এমন কিছু করছেন না।’
মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো এর আগে জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্যে চীন ইরানকে উন্নত অস্ত্রশস্ত্র সরবরাহের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
সূত্র: আল-জাজিরা
যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও একটি ইরানি সুপারট্যাঙ্কার হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে ইরানের ইমাম খোমেনি বন্দরের দিকে এগিয়েছে বলে জানিয়েছে ফার্স নিউজ এজেন্সি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা এই ভেরি লার্জ ক্রুড ক্যারিয়ারটি দুই মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বহনে সক্ষম। তবে ট্যাঙ্কারটি পণ্যসহ ফিরছিল কি না, নাকি খালি অবস্থায় ছিল—এ বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি।
সূত্র: আল- জাজিরা
ইরানের গোয়েন্দা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশজুড়ে অভিযান চালিয়ে মোট ৩৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে “মোসাদ-সংশ্লিষ্ট” ব্যক্তি, অস্ত্র চোরাকারবারি এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর সদস্যও রয়েছে।
সরকারি বার্তা সংস্থা ইসলামিক রিপাবলিক নিউজ এজেন্সি (আইআরএনএ)-তে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানায়, এই গ্রেপ্তার অভিযান দেশের ছয়টি প্রদেশে পরিচালিত হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে এবং তাদের কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে নজরদারির আওতায় ছিল।
তবে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিস্তারিত পরিচয় বা নির্দিষ্ট অভিযোগ সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সূত্র: আল-জাজিরা
যুক্তরাষ্ট্র–ইরান আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, ‘আগামী দুই দিনের মধ্যে’ ইসলামাবাদে কিছু একটা ঘটতে পারে’।
এর কয়েক ঘণ্টা আগেই ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনাকে এক কূটনৈতিক সূত্র জানায়, পরবর্তী কোনো আলোচনার বিষয়ে তাদের কাছে ‘কোনো তথ্য নেই’।
ইরনা জানায়, তেহরান ও আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের মধ্যে বার্তা আদানপ্রদান হয়েছে, তবে এখনো কিছুই নিশ্চিত হয়নি।
সূত্রটি আরো জানায়, ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আগের যুক্তরাষ্ট্র–ইরান আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হওয়ার পরও পাকিস্তান ‘তার মধ্যস্থতার প্রচেষ্টায় অটল’ রয়েছে।
ট্রাম্পের সর্বশেষ মন্তব্য নিয়ে ইরান এখনো প্রকাশ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি বলে মনে হচ্ছে।
গত ৮ই এপ্রিল দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়েছিল—যার মেয়াদ আগামী বুধবার, ২২ এপ্রিল শেষ হওয়ার কথা।
সূত্র: বিবিসি
ইরানকে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যেকোনো প্রচেষ্টা ‘‘ব্যর্থ হতে বাধ্য’’ বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
তিনি বলেছেন, ইরানের জনগণ এ ধরনের পদক্ষেপ কখনো মেনে নেবে না।
বুধবার তেহরানে জরুরি পরিষেবা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে পেজেশকিয়ান এই কথা বলেন।
তিনি আরও বলেছেন, তেহরান ‘‘যুদ্ধ বা অস্থিতিশীলতা নয়’’, বরং সব সময়ই ‘‘গঠনমূলক আলোচনা’’র পক্ষে।
প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এমন একটি সময় এসব কথা বলেছেন যার কয়েক ঘণ্টা আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন যে, চলতি সপ্তাহেই পুনরায় শান্তি আলোচনা শুরু হতে পারে।
তবে তেহরান এ বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি।
সূত্র: বিবিসি
ইরানের ওপর সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ ব্যাপক হারে বৃদ্ধি করলেও দেশটির সঙ্গে একটি সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়ে ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তারা। দীর্ঘ ৪৯ বছর পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের মধ্যে এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠককে একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এই আলোচনা নিয়ে বেশ আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের যে আস্থার সংকট রয়েছে, তা রাতারাতি সমাধান সম্ভব নয়। তবে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির বদলে তিনি এই সমস্যার গভীরতা বুঝে সমাধানের পথ খোঁজার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
ভ্যান্সের মতে, আলোচনার টেবিলে বসা ইরানি প্রতিনিধিরা একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী এবং যুক্তরাষ্ট্রও অত্যন্ত সদিচ্ছার সঙ্গেই এই আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
ভাইস প্রেসিডেন্টের সুরেই কথা বলেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, আগামী দিনগুলোতে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে দুই দেশের মধ্যে আরো আলোচনা হতে পারে। মার্কিন শিবিরের এই বক্তব্যগুলো একটি শান্তি চুক্তির সম্ভাবনার দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তবে আলোচনার এই ইতিবাচক আবহের সমান্তরালে ইরানের ওপর কঠোর চাপও বজায় রেখেছে ওয়াশিংটন। মার্কিন বাহিনী বর্তমানে হরমুজ প্রণালিতে নৌ-অবরোধ জোরদার করেছে, যার ফলে ইরানের তেল রপ্তানি এবং দেশটির বন্দরে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র একদিকে প্রকাশ্যে শান্তির বার্তা দিচ্ছে, অন্যদিকে অবরোধের মাধ্যমে ইরানকে চুক্তিতে আসতে বাধ্য করার জন্য সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের কৌশল গ্রহণ করেছে।
সূত্র : আল-জাজিরা
ইরানের ওপর আরোপিত নৌ-অবরোধের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র একটি বড় ধরনের জুয়া খেলছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) দাবি অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত একটি জাহাজও এই অবরোধ ভেঙে ইরানি বন্দরে পৌঁছাতে পারেনি।
গতকাল একটি জাহাজ অবরোধ এড়িয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেলেও সেন্টকম জানিয়েছে, জাহাজটি কেবল হরমুজ প্রণালি পার হতে পেরেছে এবং বর্তমানে অবরোধের মুখে ওমান উপসাগরে আটকে আছে।
সেন্টকম আরো জানায়, তারা এখন পর্যন্ত অন্তত ৬টি জাহাজকে নির্দেশ দিয়ে ফিরিয়ে দিয়েছে এবং নির্দেশ পাওয়ামাত্রই জাহাজগুলো ফিরে গেছে।
এই অবরোধ কঠোরভাবে বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্র বিশাল এক নৌ-বাহিনী মোতায়েন করেছে। এর মধ্যে এক ডজনেরও বেশি যুদ্ধজাহাজ, কয়েক ডজন বিমান এবং ১০ হাজারেরও বেশি সামরিক কর্মী (মেরিন, সেনা ও বিমান সেনা) নিয়োজিত রয়েছেন। বিশাল এই সামরিক তৎপরতা বজায় রাখতে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।
তবে এই পদক্ষেপের কেবল অর্থনৈতিক নয়, দীর্ঘমেয়াদী কূটনৈতিক ঝুঁকিও রয়েছে। ইরানের তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা চীন। বেইজিং তাদের অভ্যন্তরীণ চাহিদার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ তেল ইরান থেকে আমদানি করে। এই অবরোধ যত দীর্ঘ হবে, চীনের জ্বালানি সংকট তত বাড়বে। এমতাবস্থায় চীন কি ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চাপ দেবে, নাকি ওয়াশিংটনের ওপর ক্ষুব্ধ হবে—তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অবরোধ দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরির পাশাপাশি খোদ যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। একদিকে বিপুল সামরিক ব্যয় এবং অন্যদিকে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধির ঝুঁকি নিয়ে ওয়াশিংটন এক চরম অনিশ্চিত পথে এগোচ্ছে।
সূত্র : আল-জাজিরা
ইরানের বিজ্ঞানমন্ত্রী হোসেন সিমাই সারাফ বলেছেন, তার দেশ বর্তমানে এমন এক শত্রুর মোকাবিলা করছে, যারা কোনো নীতি-নৈতিকতা, আইন বা অন্য কোনো ব্যবস্থার তোয়াক্কা করে না।
গতকাল তেহরানের অ্যারোস্পেস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান) পরিদর্শনকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় এই গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। পরিদর্শনের সময় সিমাই সারাফ আরো বলেন, বর্তমানে দেশের যেকোনো স্থাপনাই ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
ইরানি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, হামলার ফলে ওই ভবনের বিশাল অংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
মন্ত্রীর এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন ওই অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা চরম পর্যায়ে রয়েছে এবং ইরান তাদের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের কথা জানাচ্ছে। মূলত গত ফেব্রুয়ারির ওই হামলার ক্ষয়ক্ষতি এবং বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরতেই তিনি এই মন্তব্য করেন।
সূত্র : আল-জাজিরা
দক্ষিণ লেবাননের জাহরানি নদীর দক্ষিণ অংশে বসবাসরত বাসিন্দাদের অবিলম্বে এলাকা ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী।
বুধবার এক বিশেষ সতর্কবার্তায় এই উচ্ছেদ অভিযান ও হামলার হুমকি দেওয়া হয়।
ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর একজন মুখপাত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে জানান, ওই অঞ্চলে বর্তমানে ‘ব্যাপক শক্তি’ প্রয়োগ করে অভিযান পরিচালনা করছে তাদের সেনাবাহিনী এবং সেখানে বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে।
সতর্কবার্তায় বাসিন্দাদের উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে, ‘জাহরানি নদীর দক্ষিণ অংশে অবস্থান করা আপনার এবং আপনার পরিবারের জন্য জীবনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।’
ইসরাইলি বাহিনীর এমন ঘোষণার পর ওই অঞ্চলের সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং নতুন করে বড় ধরনের বাস্তুচ্যুতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর আগে দক্ষিণ লেবাননের অন্যান্য এলাকায় একইভাবে উচ্ছেদ নোটিশ দেওয়ার পরপরই বড় ধরনের স্থল ও বিমান হামলা চালিয়েছিল ইসরাইল।
সূত্র : আল-জাজিরা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামোর জন্য ২৭০ বিলিয়ন (২৭ হাজার কোটি) ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে ইরান। এই সংঘাত নিরসনে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার মধ্যেই তেহরান এই অনড় অবস্থান ব্যক্ত করল।
জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের দূত গত মঙ্গলবার জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের পাঁচটি দেশকেও এই ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। তার অভিযোগ, ওই দেশগুলোর ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানে হামলা চালানো হয়েছে। এছাড়া হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজের ওপর কর আরোপের মাধ্যমে এই অর্থ আদায়ের একটি প্রস্তাবও সামনে এনেছে তেহরান।
রুশ সংবাদ সংস্থা আরআইএ নভোস্তিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরান সরকারের মুখপাত্র ফাতেমে মোহাজেরানি বলেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ২৭০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।
এমন এক সময়ে এই দাবি সামনে এলো যখন চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। তবে ক্ষতিপূরণের এই শর্ত আলোচনার টেবিলে নতুন করে জটিলতা তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই বিশাল অংকের অর্থ আদায় এবং হরমুজ প্রণালিতে নতুন প্রটোকল চালুর বিষয়টি মধ্যস্থতাকারীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
সূত্র : আল-জাজিরা
হরমুজ প্রণালি সংকট নিরসনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনার ওপর জোর দিয়েছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ। চীন সফরকালে এক বক্তব্যে তিনি বলেন, পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো বুঝতে পেরেছে যে ‘আমেরিকান আগ্রাসন’ না থাকলে ইরান কখনোই হরমুজ প্রণালি বন্ধ করত না।
লাভরভ জানান, হরমুজ প্রণালি নিয়ে একটি স্থায়ী সমাধানে পৌঁছাতে মস্কো তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে ধারাবাহিক আলোচনার প্রক্রিয়াকে সমর্থন দিচ্ছে। এছাড়া ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ইস্যুতে তেহরানের স্বার্থ রক্ষা করে এমন যেকোনো সমাধান রাশিয়া মেনে নেবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে পশ্চিমাদের অভিযোগ নাকচ করে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আন্তর্জাতিক আনবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) কখনোই এমন কোনো প্রমাণ পায়নি যে ইরান সামরিক উদ্দেশ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে।’
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য নীতির সমালোচনা করে লাভরভ আরো বলেন, ‘আমি আশা করি যুক্তরাষ্ট্র বাস্তববাদী হবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে আগ্রাসন চালানো থেকে বিরত থাকবে। তাদের এই নীতি এখন খোদ যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদেরই ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফেরাতে সামরিক শক্তির বদলে কূটনৈতিক পথ অনুসরণের আহ্বান জানান তিনি।
সূত্র : আল-জাজিরা
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতার মাধ্যমে দেশ দুটিকে আবারো আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে পাকিস্তানের উদ্যোগকে জোরালো সমর্থন দিচ্ছে উপসাগরীয় দেশগুলো।
কুয়েত থেকে পাওয়া খবরে জানা গেছে, এই দেশগুলো তাদের ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা উদ্বেগ নিয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করছে।
চলমান সংঘাতের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের বেসামরিক অবকাঠামোতে হওয়া ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার আশঙ্কায় গভীর সংকটে পড়েছে উপসাগরীয় দেশগুলো। কুয়েতের মতো রাষ্ট্রগুলো তাদের আয়ের ৯০ শতাংশের জন্যই তেল রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল, যার প্রায় পুরোটাই এই প্রণালির মাধ্যমে পরিবাহিত হয়। ফলে এই জলপথের নিরাপত্তা তাদের অর্থনীতির জন্য টিকে থাকার লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গতকাল জানিয়েছেন, উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে তারা পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করছেন। পাশাপাশি ইরানের সঙ্গেও তাদের সরাসরি কথা হয়েছে। গত কয়েক দিনে ইরান, কাতার ও সৌদি আরবের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের টেলিফোন সংলাপও অনুষ্ঠিত হয়েছে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় দেশগুলো এখন যেকোনো মূল্যে যুদ্ধবিরতি এবং আলোচনার ধারাবাহিকতা চায়। এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা রক্ষায় পাকিস্তানের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টাকে সফল করতে উপসাগরীয় দেশগুলো এখন ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে। তাদের মূল লক্ষ্য হলো ওয়াশিংটন ও তেহরানকে আবারো ইসলামাবাদে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনা।
সূত্র : আল-জাজিরা
দক্ষিণ লেবাননসহ দেশটির বিভিন্ন প্রান্তে ইসরাইলি বাহিনীর অব্যাহত বিমান হামলায় শিশুদের ওপর ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় নেমে এসেছে। জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, চলমান সংঘাতের কারণে লেবাননে ৩ লাখ ৯০ হাজারেরও বেশি শিশু বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
ইউনিসেফের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। বর্তমানে লেবাননের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ বা ১২ লাখের বেশি মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়েছেন, যাদের একটি বড় অংশই শিশু। অনেক পরিবারকে নিরাপত্তা রক্ষায় দুই থেকে চারবার পর্যন্ত এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পালিয়ে যেতে হয়েছে।
সংস্থাটি আরো জানায়, কেবল বাস্তুচ্যুত হওয়াই নয়, হামলায় এ পর্যন্ত অন্তত ৬০০ শিশু নিহত বা আহত হয়েছে। অনেক শিশু তাদের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে শিশুদের উদ্ধারের খবর পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া শত শত স্কুল বর্তমানে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় ১ লাখ ১৫ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীর শিক্ষা কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।
দক্ষিণ লেবাননের অনেক এলাকা এবং বৈরুতের ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চলে ইসরাইলি বোমাবর্ষণে পানি ও স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক ক্যাথরিন রাসেল এই পরিস্থিতিকে ‘অমানবিক’ উল্লেখ করে শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা বন্ধের জন্য সব পক্ষের প্রতি জরুরি আহ্বান জানিয়েছেন।
লেবাননে চলমান সংঘাত কোন দিকে মোড় নিচ্ছে, তা নিয়ে জনমনে গভীর উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো যুদ্ধবিরতি কার্যকর না হলেও কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে।
বৈরুত থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী, ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে চলমান এই আলোচনার ফলে লেবানন ও ইরান ফ্রন্ট দুটি এখন একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন বা আলাদা হয়ে পড়েছে।
আলোচনা চললেও দক্ষিণ লেবানন এখনো রণক্ষেত্র হয়ে আছে। হিজবুল্লাহ রকেট হামলা অব্যাহত রেখেছে এবং ইসরাইলি বিমান হামলা ও স্থল অভিযানও চলছে। এর ফলে ১০ লাখেরও বেশি মানুষ তাঁবুতে বা রাস্তায় রাত কাটাচ্ছেন। গত বুধবার বৈরুতে এক দফা বিমান হামলায় প্রায় ৪০০ মানুষের প্রাণহানির পর শহরটি বর্তমানে শান্ত থাকলেও, এই পরিস্থিতি বজায় থাকার কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিশ্রুতি পাওয়া যায়নি।
যৌথ বিবৃতিতে দেখা গেছে, উভয় পক্ষের লক্ষ্য ভিন্ন। ইসরাইলি রাষ্ট্রদূত এই আলোচনাকে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার পথ হিসেবে দেখছেন। তিনি লেবাননকে এখন একজন ‘অংশীদার’ হিসেবে অভিহিত করছেন এবং ইরানের প্রভাব মোকাবিলায় একজোট হওয়ার কথা বলছেন।
অন্যদিকে, লেবানন পক্ষ ২০২৪ সালের যুদ্ধবিরতি চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নের ওপর জোর দিচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে হামলা বন্ধ করা, দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরাইলি দখলদারিত্বের অবসান এবং বন্দিদের মুক্তি।
ইরান শুরু থেকেই দাবি করে আসছে যেকোনো আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতিতে লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। তবে বর্তমান আলোচনাটি একটি সম্পূর্ণ আলাদা ট্র্যাকে বা পথে পরিচালিত হচ্ছে। এর ফলে লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে যেকোনো সম্ভাব্য চুক্তি এখন সরাসরি দুই দেশের মধ্যে এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় বা আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
সূত্র : আল-জাজিরা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনার আগে সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্ক সফরে যাচ্ছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। চার দিনব্যাপী এই সফর আজ ১৫ এপ্রিল শুরু হয়ে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাহবাজ শরিফ ১৫ থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত সৌদি আরব, কাতার এবং তুরস্ক সফর করবেন। সফরে তার সঙ্গে থাকছেন উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিনেটর মোহাম্মদ ইশাক দার।
বিবৃতিতে বলা হয়, সৌদি আরব ও কাতার সফরকালে শাহবাজ শরিফ দেশ দুটির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করবেন।
সফরের শেষ পর্যায়ে তুরস্কে অবস্থানকালে পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী ‘আন্তালিয়া ডিপ্লোম্যাসি ফোরামে’ অংশ নেবেন। ফোরামের ফাঁকে তিনি তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানসহ অন্যান্য বিশ্বনেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হবেন বলে জানানো হয়েছে। মূলত আঞ্চলিক অস্থিরতা নিরসনে মধ্যস্থতার অংশ হিসেবে তাঁর এই সফরকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে।
সূত্র : আল-জাজিরা

হরমুজ প্রণালি, পারস্য উপসাগর এবং ওমান সাগরে দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরানের সামরিক বাহিনী।
তেহরান থেকে পাওয়া খবরে জানা গেছে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ জোরালো করতে নতুন কৌশল অবলম্বন করছে দেশটি।
ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল কমান্ডের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, তেহরানের ‘প্রতিপক্ষ’ দেশগুলোর সঙ্গে যুক্ত কোনো তেলবাহী ট্যাঙ্কার বা জাহাজকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করতে দেওয়া হবে না। এছাড়া এই জলপথ দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজগুলোর ওপর শুল্ক ও ট্রানজিট চার্জ আরোপের পরিকল্পনা করছে ইরান সরকার। সামরিক বাহিনী এরই মধ্যে এই নতুন মেকানিজম বা প্রক্রিয়াগুলো অনুশীলনের কাজ শুরু করেছে।
ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, এই গুরুত্বপূর্ণ চেকপয়েন্ট দিয়ে যেকোনো জাহাজের যাতায়াত অবশ্যই ইরানি পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে সম্পন্ন করতে হবে। বর্তমানে এই প্রণালিতে জাহাজের আনাগোনা স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে অনেক কম। এর মধ্যেই ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে অবরোধ আরোপের বিষয়টি পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং চলমান দরকষাকষির ক্ষেত্রে ইরান হরমুজ প্রণালিকে একটি ‘দরকষাকষির হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহার করছে।
ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃবৃন্দ সাফ জানিয়েছেন, তাদের ‘সবার জন্য নিরাপত্তা অথবা কারো জন্য নিরাপত্তা নয়’-এই নীতি হরমুজ প্রণালির ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য হবে।
সূত্র : আল-জাজিরা

ওমান, সৌদি আরব, কাতার ও কাজাখস্তান থেকে ২৭ কোটি ৩০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল আমদানির নিশ্চয়তা পেয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া।
দেশটির প্রেসিডেন্টের চিফ অফ স্টাফ কাং হুন-সিক সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।
কাং হুন-সিক জানান, গত বছরের ব্যবহারের মাত্রা অনুযায়ী এই ২৭ কোটি ৩০ লাখ ব্যারেল তেল দিয়ে কোনো অতিরিক্ত জরুরি ব্যবস্থা ছাড়াই স্বাভাবিক অবস্থায় তিন মাসের বেশি সময় দেশের অর্থনীতি সচল রাখা সম্ভব। এছাড়া একই সময়ে দেশটি ২১ লাখ টন ন্যাফথা (এক ধরনের দাহ্য তরল হাইড্রোকার্বন মিশ্রণ) নিশ্চিত করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, ইরান ও ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান যুদ্ধের কারণে দক্ষিণ কোরিয়া চরম বিপাকে পড়েছে। দেশটির আমদানিকৃত অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৭০ শতাংশই হরমুজ প্রণালি দিয়ে আসে। বর্তমানে তেহরান ও ওয়াশিংটন উভয় পক্ষই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে যাতায়াতের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করায় এই উদ্যোগ নিয়েছে সিউল।
সূত্র : আল-জাজিরা

দক্ষিণ লেবাননের গ্রামগুলোতে গাজা উপত্যকার মতোই ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে ইসরাইলি বাহিনী।
ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজ-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইসরাইলি সেনারা দক্ষিণ লেবাননের গ্রামগুলো গুঁড়িয়ে দিতে গাজায় ব্যবহৃত পদ্ধতিগুলোই অনুসরণ করছে।
সংবাদমাধ্যমটিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে একজন ইসরাইলি সেনা কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা ঠিক গাজার মতোই আচরণ করছি। আমাদের কাছে ধ্বংস করার মতো ঘরবাড়ির একটি তালিকা রয়েছে। প্রতিদিন কতগুলো ভবন ধ্বংস করা হলো, তার ওপর ভিত্তি করেই আমরা সফলতার পরিমাপ করছি।’
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সীমান্ত ঘেষা গ্রামগুলোতে বুলডোজার দিয়ে বাড়িঘর মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হচ্ছে। মূলত নতুন সামরিক আউটপোস্ট বা ঘাঁটি তৈরির জায়গা করে নিতেই এই ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হচ্ছে।
একজন সেনা সদস্য জানান, সেখানে যেসব নতুন স্থাপনা তৈরি করা হচ্ছে, সেগুলো দেখে মনে হচ্ছে ইসরাইল স্থায়ীভাবে সেখানে থাকার পরিকল্পনা করছে।
হারেৎজ আরো জানিয়েছে, ইসরাইলি সৈন্যরা এরই মধ্যে সীমান্ত থেকে তৃতীয় সারির গ্রামগুলোতে পৌঁছে গেছে। বর্তমানে তারা লেবাননের লিতানি নদী থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছে। গাজার আদলে লেবাননেও ইসরাইলি বাহিনীর এমন ‘পোড়ামাটি নীতি’ ওই অঞ্চলে নতুন করে মানবিক ও ভূ-রাজনৈতিক সংকটের উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
সূত্র : আল-জাজিরা
লেবানন থেকে আজ বুধবার সকালে উত্তর ইসরাইলের গালিলি অঞ্চল লক্ষ্য করে অন্তত ২০টি রকেট নিক্ষেপ করেছে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ।
ইসরাইলের চ্যানেল ১২ টেলিভিশনের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লেবানন থেকে ছোড়া রকেটগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটি ইসরাইলি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে ধ্বংস করা হয়েছে। তবে কিছু রকেট খোলা জায়গায় গিয়ে পড়েছে। রকেট হামলার পরপরই ইসরাইলের মানারা এবং কিরিয়াত শমোনা এলাকায় সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়।
গাজা যুদ্ধ এবং ইরানের ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই লেবানন সীমান্ত দিয়ে এ ধরনের রকেট হামলার ঘটনা ঘটল। যদিও এই হামলায় এখন পর্যন্ত কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী সীমান্তে নজরদারি এবং পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণের তৎপরতা বাড়িয়েছে।
সূত্র : আল-জাজিরা

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলীয় কাদমুস এলাকায় ইসরাইলি বিমান হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন।
বুধবার লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরাইলি বাহিনীর ওই অভিযানের পর লেবাননের সিভিল ডিফেন্স এবং প্যারামেডিক দলগুলো উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। এ সময় ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে চারজনের লাশ উদ্ধারের পাশাপাশি তিনজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। আহতদের দ্রুত চিকিৎসার জন্য স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, কয়েক দিন ধরেই দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর হামলা তীব্রতর হয়েছে। কাদমুস এলাকায় এই প্রাণহানির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। উদ্ধারকারী দলগুলো ওই এলাকায় আরো কেউ নিখোঁজ বা আটকে আছে কি না, তা নিশ্চিত করতে তল্লাশি অব্যাহত রেখেছে।
সূত্র : আল-জাজিরা

ইরান ইস্যুতে নিজের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির ওপর তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি সহায়তা না করায় মেলোনির ‘সাহস নেই’ বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
ইতালীয় সংবাদপত্র কোরিয়েরে ডেলা সেরা-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি তার (মেলোনি) ওপর মর্মাহত। আমি ভেবেছিলাম তার সাহস আছে, কিন্তু আমি ভুল ছিলাম।’
ইরানের তেল সম্পদ আহরণে মেলোনি কেন কোনো ভূমিকা রাখছেন না, তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে ট্রাম্প প্রশ্ন তোলেন, ‘মানুষ কি এটা পছন্দ করছে, আপনাদের প্রেসিডেন্ট ইরান থেকে তেল পাওয়ার জন্য কিছুই করছেন না?’
সম্প্রতি ইসরাইলের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়ন না করার এবং তা স্থগিত রাখার ঘোষণা দেয় মেলোনির কট্টর ডানপন্থি সরকার। এরপরই ট্রাম্পের এমন আক্রমণাত্মক মন্তব্য এল। এর আগে পোপ লিও-কে নিয়ে ট্রাম্পের করা নেতিবাচক মন্তব্যের সমালোচনা করে তা ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলেছিলেন মেলোনি।
এর জবাবে ট্রাম্প সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘অগ্রহণযোগ্য মূলত সে (মেলোনি)-ই। কারণ ইরান পারমাণবিক অস্ত্র পেল কি না, তা নিয়ে তার কোনো মাথাব্যথা নেই। সুযোগ পেলে ইরান মাত্র দুই মিনিটের মধ্যে ইতালিকে উড়িয়ে দেবে।’
বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘদিনের মিত্র এই দুই নেতার মধ্যকার এই প্রকাশ্য বাকযুদ্ধ আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বিশেষ করে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ইরানকে ঘিরে ট্রাম্পের যুদ্ধংদেহী মনোভাব এখন তার নিজের মিত্রদের ওপরও চাপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র : আল-জাজিরা

ইরান যুদ্ধের উত্তাপ আরো বৃদ্ধি পেলে এবং জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে বিশ্ব অর্থনীতি মন্দার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছাতে পারে বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)।
সংস্থাটি জানিয়েছে, জ্বালানি বাজারে বারবার ধাক্কা আসার ফলে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির হার বর্তমানের ৩ দশমিক ১ শতাংশ থেকে কমে ২ শতাংশে নেমে আসতে পারে।
আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, যুদ্ধের তীব্রতা বাড়লে ২০২৬ সালে প্রতি ব্যারেল জ্বালানি তেলের গড় দাম ১১০ ডলারে এবং ২০২৭ সালে তা ১২৫ ডলারে গিয়ে ঠেকতে পারে। এটি হবে বিশ্ব অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে নেতিবাচক পরিস্থিতি।
সংস্থাটি তিনটি সম্ভাব্য পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করেছে। প্রথমত, যুদ্ধ যদি স্বল্পস্থায়ী হয়, তবে ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধে তেলের দাম স্বাভাবিক হয়ে গড়ে ৮২ ডলারে নেমে আসবে। দ্বিতীয় বা মধ্যম পথ অনুযায়ী, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে তেলের দাম এ বছর ১০০ ডলারের আশেপাশে থাকবে এবং ২০২৭ সালে তা ৭৫ ডলারে নামতে পারে। সে ক্ষেত্রে ২০২৫ সালের ৩ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধির তুলনায় এ বছর বিশ্ব প্রবৃদ্ধি কমে দাঁড়াবে ২ দশমিক ৫ শতাংশে।
আইএমএফের প্রধান অর্থনীতিবিদ পিয়ের-অলিভিয়ের গৌরিনকাস সাংবাদিকদের বলেন, বর্তমানে জ্বালানি সরবরাহে যে ধরনের বিঘ্ন ঘটছে এবং যুদ্ধ শেষ হওয়ার কোনো সুনির্দিষ্ট পথ দেখা যাচ্ছে না, তাতে এই ‘মধ্যম পথ’ বা প্রতিকূল পরিস্থিতিই এখন বেশি বাস্তবসম্মত মনে হচ্ছে। এই সংকট বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি আরো বাড়িয়ে দিতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
সূত্র : আল-জাজিরা
লেবাননের দক্ষিণ অঞ্চলের আনসারিয়াহ শহরে আজ ভোরে ইসরাইলি বিমান হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আজ বুধবার ভোরে আনসারিয়াহ শহরের একটি লক্ষ্যবস্তুতে ইসরাইলি যুদ্ধবিমান থেকে শক্তিশালী হামলা চালানো হয়। এতে ঘটনাস্থলেই পাঁচজন প্রাণ হারান। বর্তমানে উদ্ধারকারীরা ওই এলাকায় কাজ করছেন এবং হতাহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইসরাইলি বিমান হামলা এবং স্থল অভিযান তীব্রতর হয়েছে। এর আগে গতকালও লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ইসরাইলি হামলায় বেশ কয়েকজন হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছিল। শান্তি আলোচনার গুঞ্জনের মধ্যেই এ ধরনের অব্যাহত হামলায় অঞ্চলটিতে চরম উত্তেজনা ও মানবিক সংকট দেখা দিয়েছে।
সূত্র : আল-জাজিরা
ইরানের সঙ্গে চলমান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আর বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
এবিসি নিউজের চিফ ওয়াশিংটন করেসপন্ডেন্ট জোনাথন কার্লকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এই ইঙ্গিত দিয়েছেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর প্রয়োজন পড়বে না বলেই তিনি মনে করছেন। চলমান সংকটের সমাধান খুব কাছাকাছি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, আপনারা আগামী দুই দিনে বিস্ময়কর কিছু দেখতে চলেছেন। আমি সত্যিই এটি বিশ্বাস করি।’
ট্রাম্পের মতে, এই সংকটের সমাপ্তি দুইভাবেই হতে পারে- আলোচনার মাধ্যমে অথবা সামরিক শক্তিতে সক্ষমতা হ্রাসের মাধ্যমে। তবে তিনি কূটনৈতিক সমাধানকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘চুক্তি হওয়াই শ্রেয়, কারণ এর ফলে তারা (ইরান) দেশ পুনর্গঠনের সুযোগ পাবে।’
ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তন এসেছে দাবি করে ট্রাম্প আরো বলেন, ‘তারা এখন সত্যিই একটি ভিন্ন ধাঁচের সরকার। যাই ঘটুক না কেন, আমরা উগ্রপন্থীদের সরিয়ে দিয়েছি। তারা এখন ইতিহাস, তারা আর আমাদের সাথে নেই।’
গত সপ্তাহে পাকিস্তানে দুই দেশের মধ্যে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনা কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হওয়ার পর ট্রাম্পের এই মন্তব্য বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে। একদিকে ইরানের ওপর কঠোর নৌ-অবরোধ এবং অন্যদিকে ট্রাম্পের এই ‘বিস্ময়কর’ বার্তার ফলে আগামী ৪৮ ঘণ্টা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
সূত্র : আল-জাজিরা

ইরানের সঙ্গে স্থগিত হয়ে যাওয়া শান্তি আলোচনা দুই দিনের মধ্যেই হতে পারে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
গতকাল ‘নিউইয়র্ক পোস্ট’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, আগামী দুই দিনের মধ্যেই এই শান্তি আলোচনা আবারো শুরু হতে পারে। মূলত হরমুজ প্রণালিতে নৌ-অবরোধ এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ায় গত সপ্তাহে ইসলামাবাদের আলোচনা ভেস্তে গিয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও দুই দেশের মধ্যে আলোচনার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন। তিনি স্বীকার করেন, কয়েক দশকের পুরনো আস্থাহীনতা রাতারাতি দূর করা সম্ভব নয়। তবে তিনি বিশ্বাস করেন, ইরানি প্রতিনিধিরা একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী।
ভ্যান্স আবারো পুনর্ব্যক্ত করেন ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি অনুযায়ী ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া হবে না। এই লক্ষ্য অর্জনেই বর্তমানে কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
গত সপ্তাহে পাকিস্তানের আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছিল বলে দাবি করেছিলেন মার্কিন কর্মকর্তারা। তবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত রাখার সময়সীমা এবং নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে দুই পক্ষ একমত হতে পারেনি। ট্রাম্পের এই নতুন বার্তার পর এখন সবার নজর পরবর্তী দফার আলোচনার দিকে।
সূত্র : বিবিসি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে বড় ধরনের চুক্তি বা সমঝোতা করতে চান বলে জানিয়েছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।
বিবিসির সহযোগী সংস্থা সিবিএস নিউজের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
গত মঙ্গলবার জর্জিয়ার এথেন্সে ‘টার্নিং পয়েন্টস ইউএসএ’ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভ্যান্স বলেন, গত সপ্তাহে পাকিস্তানে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে অনুষ্ঠিত আলোচনায় ‘প্রচুর অগ্রগতি’ হয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে ছোটখাটো কোনো চুক্তিতে আগ্রহী নন; বরং তিনি একটি ‘ট্রাম্পিয়ান গ্র্যান্ড বার্গেইন’ বা ঐতিহাসিক বড় মাপের চুক্তিতে পৌঁছাতে চান।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান গভীর আস্থাহীনতার বিষয়টিও উল্লেখ করেন জেডি ভ্যান্স। তিনি বলেন, ‘দশকব্যাপী চলে আসা এই আস্থাহীনতার সমস্যা আপনি রাতারাতি সমাধান করতে পারবেন না।’
দীর্ঘ ৪৯ বছর পর দুই দেশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে এই পর্যায়ের আলোচনাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে ওয়াশিংটন। যদিও ইরানের ওপর বর্তমানে কঠোর নৌ-অবরোধ জারি রেখেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী, তবুও ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই ‘বড় চুক্তির’ প্রস্তাব মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সূত্র : বিবিসি

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি এবং দেশটিতে সরকারবিরোধী আন্দোলনে নিহতের সংখ্যা নিয়ে পোপ লিও’র সঙ্গে নতুন করে বিবাদে জড়িয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানের হাতে পারমাণবিক বোমা থাকা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
পোপ লিও’র সমালোচনা করে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘কেউ কি পোপ লিও-কে বলবেন যে, ইরান গত দুই মাসে অন্তত ৪২ হাজার নিরীহ ও নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীকে হত্যা করেছে? এমন দেশের হাতে পারমাণবিক বোমা থাকা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য।’
বিবৃতির শেষে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘আমেরিকা ইজ ব্যাক!’
এর দুই দিন আগেও পোপ লিও-কে ‘অপরাধ দমনে দুর্বল’ এবং ‘পররাষ্ট্রনীতিতে ভয়াবহ’ বলে আক্রমণ করেন ট্রাম্প। প্রথম মার্কিন বংশোদ্ভূত পোপ হিসেবে লিও সম্প্রতি ইরান ও লেবাননে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক অভিযানের কঠোর সমালোচনা করেন। এর প্রতিক্রিয়ায় পোপ জানান, তিনি ট্রাম্প প্রশাসনকে ভয় পান না এবং যুদ্ধের ভয়াবহতার বিরুদ্ধে কথা বলা চালিয়ে যাবেন।
এদিকে, গত জানুয়ারিতে ইরানে বিক্ষোভে ৪২ হাজার মানুষ নিহতের যে দাবি ট্রাম্প করেছেন, তার ভিত্তি নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। ইরান সরকার নিহতের সংখ্যা ৩ হাজার ১১৭ জন বলে দাবি করলেও দেশটির বাইরের বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা এই সংখ্যা প্রায় ৭ হাজার ৭ জন বলে জানিয়েছে।
অন্যদিকে, ইরানে নিযুক্ত জাতিসংঘের বিশেষ দূত মাই সোটো নিহতের সংখ্যা অন্তত ৫ হাজার এবং তা সর্বোচ্চ ২০ হাজার পর্যন্ত হতে পারে বলে ধারণা প্রকাশ করেছেন।
তবে ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক বোমার আশঙ্কা প্রকাশ করলেও জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষণ সংস্থা (আইএইএ) জানিয়েছে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে এমন কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত তাদের কাছে নেই।
সূত্র : আল-জাজিরা
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নৌ-অবরোধের ফলে চীনের জ্বালানি সরবরাহে যে টান পড়েছে, তা মেটাতে রাশিয়ার পক্ষ থেকে সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ জানিয়েছেন, মস্কো চীনের এই সম্পদের ঘাটতি পূরণে সক্ষম এবং তারা বেইজিংকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে প্রস্তুত।
চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর লাভরভ সাংবাদিকদের বলেন, ‘রাশিয়া নিঃসন্দেহে এই ঘাটতি পূরণ করতে পারে। চীনসহ যেসব দেশ আমাদের সঙ্গে ন্যায্য ও পারস্পরিক লাভজনক ভিত্তিতে কাজ করতে আগ্রহী, তাদের সবার জন্যই আমাদের সহযোগিতার দুয়ার খোলা।’
লাভরভ আরো উল্লেখ করেন, বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতার মধ্যেও রাশিয়া ও চীনের সম্পর্ক ‘অটল’ রয়েছে। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের মধ্যকার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিশ্বজুড়ে চলা বিভিন্ন সংকটের মোকাবিলায় দেশ দুটিকে শক্তিশালী অবস্থান বজায় রাখতে সাহায্য করছে।
উল্লেখ্য, চীন বর্তমানে ইরানি তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা। তবে ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান অবরোধের কারণে বেইজিং যাতে ইরান থেকে কোনো তেল সংগ্রহ করতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ওয়াশিংটন। এই পরিস্থিতিতে রাশিয়ার পক্ষ থেকে জ্বালানি সরবরাহের এই প্রস্তাব চীনের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
সূত্র : আল-জাজিরা

ইরানি বন্দরগুলোর ওপর ঘোষিত অবরোধ বাস্তবায়নে ওমান উপসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল আটকে দিচ্ছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।
বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এই কৌশলের অংশ হিসেবে মার্কিন বাহিনী ইরান থেকে ছেড়ে আসা জাহাজগুলো পর্যবেক্ষণ করছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এপি জানায়, মার্কিন বাহিনীর রণকৌশল হলো-অবরোধের আওতায় থাকা জাহাজগুলো ইরানি স্থাপনা ত্যাগ করা এবং হরমুজ প্রণালি পার হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা। এরপর ওমান উপসাগরে সেগুলোকে গতিরোধ করে পুনরায় ফিরে যেতে বাধ্য করা হচ্ছে।
ওই কর্মকর্তা আরো জানান, পণ্যবাহী জাহাজগুলো ইরানের কোনো বন্দর থেকে আসছে কি না, তা নিশ্চিত হতে সামরিক বাহিনী কেবল ‘অটোমেটেড ট্র্যাকিং বিকন’ বা এআইএস প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করছে না। এর বাইরেও অন্যান্য উন্নত প্রযুক্তি ও মাধ্যম ব্যবহার করে জাহাজগুলো শনাক্ত করা হচ্ছে।
তবে অভিযানের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা রক্ষার স্বার্থে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানান।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রসীমায় মার্কিন নৌবাহিনীর কঠোর অবস্থানের কারণে ইরানের সামুদ্রিক বাণিজ্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এর আগে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছিল, ইরানের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিতেই এই পূর্ণাঙ্গ নৌ-অবরোধ কার্যকর করা হচ্ছে।
সূত্র : আল-জাজিরা

ইরানের বন্দরগুলোতে যাতায়াতকারী অন্তত আটটি তেলবাহী ট্যাংকারকে যাত্রাপথে বাধা দিয়ে ফিরিয়ে দিয়েছে মার্কিন নৌবাহিনী।
সোমবার থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে ইরানের সঙ্গে যুক্ত এসব নৌযানকে গন্তব্যে পৌঁছাতে দেওয়া হয়নি বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, প্রতিটি ক্ষেত্রেই মার্কিন নৌবাহিনী রেডিওর মাধ্যমে ট্যাংকারগুলোর ক্রুদের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং তাদের গতিপথ পরিবর্তন করে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়।
প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, মার্কিন নির্দেশ পাওয়ার পর প্রতিটি ট্যাংকারই তা মেনে নিয়েছে এবং ফিরে গেছে। ফলে কোনো জাহাজেই মার্কিন সেনাদের সরাসরি আরোহণ বা তল্লাশির প্রয়োজন পড়েনি। ইরানের ওপর ঘোষিত মার্কিন নৌ-অবরোধের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র : আল-জাজিরা
যুক্তরাষ্ট্রে লেবানন ও ইসরাইলের রাষ্ট্রদূতদের মধ্যে শান্তি আলোচনা চলা সত্ত্বেও দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি বাহিনীর হামলা অব্যাহত রয়েছে। দিনভর দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন স্থানে বিমান হামলার পর রাতেও সেই ধারা অব্যাহত থাকে। লেবাননের টায়ার এবং আল-আব্বাসিয়া অঞ্চলে নতুন করে চালানো বিমান হামলায় অন্তত দুই জন নিহত হয়েছেন।
বর্তমানে দক্ষিণ লেবাননের ভেতরে ইসরাইলের হাজার হাজার স্থল সেনা অবস্থান করছে। তারা সীমান্ত থেকে ৪ থেকে ৬ কিলোমিটার ভেতরে একটি নির্দিষ্ট এলাকা পর্যন্ত অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করছে, যাকে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী ‘অ্যান্টি-ট্যাংক লাইন’ হিসেবে অভিহিত করছে।
ইসরাইলের দাবি, হিজবুল্লাহ যাতে তাদের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে অ্যান্টি-ট্যাংক মিসাইল ছুড়তে না পারে, সেজন্যই এই বাফার জোন তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।
অভিযানের অংশ হিসেবে গত কয়েক দিন ধরে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিননে জবেইল শহরটি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে ইসরাইলি বাহিনী। তারা দাবি করেছে, শহরটি এখন সম্পূর্ণভাবে অবরুদ্ধ এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এটি তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসবে। স্যাটেলাইট চিত্র এবং শহরের কেন্দ্রে ইসরাইলি ট্যাংকের উপস্থিতিও এই দাবির সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
এদিকে বিনত জবেইল শহরে শক্তিশালী বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে, যা ঘরবাড়ি ধ্বংসের কারণে ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ইসরাইল সীমান্ত সংলগ্ন গ্রাম ও শহরগুলোতে বাড়িঘরে বিস্ফোরক পেতে তা উড়িয়ে দেওয়ার নীতি গ্রহণ করেছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সীমান্ত এলাকার গ্রামগুলো থেকে হিজবুল্লাহর চিহ্ন মুছে ফেলতে এবং একটি জনশূন্য নিরাপত্তা অঞ্চল তৈরি করতে ইসরাইল ধারাবাহিকভাবে ভবনগুলো ধ্বংস করে চলেছে।
সূত্র : আল-জাজিরা
ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত অবরোধ বিশ্বের সব দেশের জাহাজের ক্ষেত্রে সমানভাবে কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।
এক বিবৃতিতে তারা স্পষ্ট করেছে, ইরানের উপকূলীয় এলাকা বা বন্দরে প্রবেশকারী বা সেখান থেকে ছেড়ে যাওয়া যেকোনো দেশের নৌযানের বিরুদ্ধেই এই অবরোধ ‘নিরপেক্ষভাবে’ বলবৎ করা হচ্ছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরানের বন্দরগুলোতে এই অবরোধ বাস্তবায়নে মার্কিন নৌবাহিনীর গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ারসহ বিভিন্ন যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, অবরোধ কার্যকরের অভিযানে অংশ নেওয়া একটি সাধারণ ডেস্ট্রয়ারে ৩০০ জনেরও বেশি নাবিক থাকেন। এই নাবিকরা আক্রমণাত্মক এবং রক্ষণাত্মক উভয় ধরনের সামুদ্রিক অভিযান পরিচালনায় উচ্চতর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত।
যুক্তরাষ্ট্রের এই কঠোর অবস্থানের ফলে ইরানের সঙ্গে অন্য দেশগুলোর সমুদ্রপথে বাণিজ্য পরিচালনা এখন সম্পূর্ণ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ইরানকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করার লক্ষ্য নিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।
সূত্র : আল-জাজিরা
ইরানের সমুদ্রপথে সব ধরনের আন্তর্জাতিক আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ার দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার জানিয়েছেন, ইরানি বন্দরগুলোতে একটি ‘পূর্ণাঙ্গ অবরোধ’ কার্যকর করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে অ্যাডমিরাল কুপার বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সমুদ্রসীমায় মার্কিন বাহিনীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, অবরোধ শুরু হওয়ার ৩৬ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে ইরান অভিমুখে যাওয়া এবং ইরান থেকে আসা সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে মার্কিন বাহিনী।
সেন্টকম কমান্ডারের দাবি অনুযায়ী, ইরানের অর্থনীতির প্রায় ৯০ শতাংশই সমুদ্রপথে পরিচালিত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর নির্ভরশীল। এই অবরোধের ফলে দেশটির অর্থনীতি বড় ধরনের ধাক্কার মুখে পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অ্যাডমিরাল কুপার বলেন, অবরোধ কার্যকর হওয়ার পর থেকে আমরা সমুদ্রপথে ইরানের অর্থনৈতিক বাণিজ্য সম্পূর্ণরুপে স্থবির করে দিয়েছি।
তবে এই পদক্ষেপের বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। মধ্যপ্রাচ্যে বিদ্যমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এই কঠোর অবস্থান নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্র : আল-জাজিরা

গোলান মালভূমিতে অবস্থিত ইসরাইলি সামরিক অবস্থানগুলো লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে এক বিবৃতিতে গোষ্ঠীটি এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা গোলান মালভূমির জাওরা এলাকায় একটি কামানের অবস্থান এবং ওডেম এলাকায় আর্টিলারি ব্যাটালিয়ন কমান্ড সদর দপ্তর লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
এ হামলায় কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এছাড়া ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে এ ড্রোন হামলার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। সূত্র: আল জাজিরা

যুদ্ধ বন্ধের জন্য ওয়াশিংটনে চলমান আলোচনার মধ্যেই উত্তর ইসরাইলের ১৩টি নিশনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে হিজবুল্লাহ।
ইরান সমর্থিত সংগঠনটি বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তাদের এ আক্রমণ অব্যাহত থাকবে। সূত্র: আল জাজিরা

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, ওয়াশিংটনে আলোচনার পর ইসরাইল ও লেবানন একটি নির্ধারিত সময় ও স্থানে সরাসরি আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছে।
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের পর এ সমঝোতার খবর এসেছে। সীমান্তে উত্তেজনা প্রশমনের পথে এ সমঝোতাকে বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সূত্র: রয়টার্স

যুদ্ধ বন্ধের জন্য ওয়াশিংটনে চলমান আলোচনার মধ্যেই দক্ষিণ লেবাননের একমাত্র সচল হাসপাতাল 'তেবনিন'-এ ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে দখলদার ইসরাইলি বাহিনী। এতে হাসপাতালটির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। শুধু হাসপাতাল নয়, ঘরবাড়ি ও বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে ক্রমাগত বোমাবর্ষণ চলছে।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) এ হামলা চালালো হয় বলে আলজাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে।
জাতিসংঘ নির্ধারিত সীমান্ত বা 'ব্লু লাইন' সংলগ্ন এলাকাগুলোতে ইসরাইলি সৈন্যরা অবস্থান নিয়ে পদ্ধতিগতভাবে ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে। বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, একটি তথাকথিত 'বাফার জোন' তৈরির লক্ষেই ইসরাইল এ ধ্বংসলীলা চালাচ্ছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য পরবর্তী দফা আলোচনার স্থান নিয়ে জল্পনা-কল্পনা চলছে, যেখানে ইসলামাবাদ ও ইস্তানবুল—এই দুটি শহরের নাম সামনে এসেছে। খবর আলজাজিরার।
তেহরান থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ইরানি কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আলোচনায় অগ্রগতির জন্য বেশ কিছু সমঝোতার সুযোগ রয়েছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোর একটি হলো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ২০ বছরের সীমা চাইলেও ইরান পাঁচ বছরের প্রস্তাব দিয়েছে। এ ক্ষেত্রে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো হরমুজ প্রণালীর ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা। ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই প্রণালীর ভবিষ্যৎ আগের মতো থাকবে না।
এছাড়া উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বিষয়টিও আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। প্রায় ৪৫০ কেজির বেশি এই ইউরেনিয়াম একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত পারমাণবিক স্থাপনায় সংরক্ষিত আছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি। অন্যদিকে ইরান বলছে, এটি সরিয়ে নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে ৩ শতাংশের নিচে কমিয়ে আনা যেতে পারে।
সব মিলিয়ে, একাধিক জটিল ইস্যু থাকা সত্ত্বেও আলোচনায় সমঝোতার সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করা যাচ্ছে না।
ইসরাইল ও লেবাননকে আসন্ন আলোচনার সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছে ১৭টি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা।
যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেন, এই সুযোগ কাজে লাগানো উচিত, কারণ সরাসরি আলোচনা দুই দেশসহ পুরো অঞ্চলে স্থায়ী নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি করতে পারে।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, ওয়াশিংটনে নির্ধারিত বৈঠকের আগে এই আহ্বান জানানো হয়েছে।
বর্তমানে লেবাননে ইসরায়েলের হামলার প্রেক্ষাপটে যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয়েছে, যার অংশ হিসেবে এই আলোচনা আয়োজন করা হচ্ছে।
সূত্র: আলজাজিরা।
হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের বিপরীতে সীমান্ত বাণিজ্য বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে ইরান। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইস্কান্দার মোমেনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া নৌ অবরোধের প্রভাব মোকাবিলায় সীমান্ত বাণিজ্য জোরদারের পরিকল্পনা করছে।
তিনি বলেন, ইরানের ৮ হাজার কিলোমিটারের বেশি স্থল ও সামুদ্রিক সীমান্ত থাকায় এই অবরোধ দেশটিকে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে ফেলতে পারবে না।
মোমেনি সীমান্তবর্তী প্রদেশগুলোর কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি সহজ করার নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে নৌ অবরোধের হুমকি নিষ্ক্রিয় করা যায়।
বিকল্প বাণিজ্যপথ ব্যবহার করে ইরান প্রয়োজনীয় সরবরাহ বজায় রাখতে সক্ষম হবে।

ইসরাইলের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি নবায়ন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইতালি, জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি।
তিনি বলেন, প্রতি পাঁচ বছর পর নবায়ন হওয়া এই চুক্তি বর্তমান পরিস্থিতির কারণে স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার সরকার। তবে ঠিক কোন পরিস্থিতির কথা তিনি উল্লেখ করেছেন, তা স্পষ্ট করেননি। খবর আলজাজিরার।
কিন্তু সম্প্রতি রোম এবং তেল আবিবের মধ্যে সম্পর্ক বেশ তিক্ত হয়ে উঠেছে।
গত সপ্তাহে, লেবাননে জাতিসংঘের ইতালীয় শান্তিরক্ষীদের একটি গাড়িবহরে ইসরাইলি বাহিনী সতর্কতামূলক গুলি ছোঁড়ে, এসময় একটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কেউ আহত হয়নি। তবে এ ঘটনার পর ইতালির রোমে নিযুক্ত ইসরাইলের রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হয়।
অন্যদিকে সোমবার ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানির মন্তব্যের প্রতিবাদে ইতালির রাষ্ট্রদূতকে তলব করে ইসরাইল। তাজানি লেবাননে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর ইসরায়েলের অগ্রহণযোগ্য হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছিলেন যে, ‘গাজার মতো আরেকটি উত্তেজনা যেকোনো মূল্যে এড়াতে হবে।’
ইউরোপের আরো কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যে ইসরাইলের অস্ত্র রপ্তানি সীমিত বা স্থগিত করেছে। ইতালির বিরোধী দলগুলো দীর্ঘদিন ধরে একই পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিল।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইসরাইলের গাজা নীতির বিরুদ্ধে এবং ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি না দেওয়ার কারণে মেলোনি সরকারের অবস্থানের প্রতিবাদে ইতালিতে ব্যাপক বিক্ষোভও হয়েছে।
স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (সিপ্রি)-এর তথ্য অনুযায়ী, ইসরাইলে অস্ত্র রপ্তানিতে ইতালি তৃতীয় বৃহত্তম দেশ। কিন্তু ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ইসরাইলের মোট অস্ত্র আমদানির মাত্র ১.৩ শতাংশ আসে ইতালি থেকে। যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানি এ ক্ষেত্রে শীর্ষে রয়েছে।
সূত্র: বিবিসি।
ইসরাইলের সঙ্গে দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা চুক্তি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইতালি, জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। ইসরাইলের সঙ্গে করা এই প্রতিরক্ষা চুক্তিটি বিগত সকল সরকারই মেয়াদ শেষে নবায়ন করেছিল। তবে বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে এবারই ব্যতিক্রম সিদ্ধান্ত নিল ইতালি।
মঙ্গলবার ভেরোনায় এক অনুষ্ঠানের ফাঁকে তিনি বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সরকার ইসরাইলের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তির স্বয়ংক্রিয় নবায়ন স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
এই চুক্তির আওতায় সামরিক সরঞ্জাম বিনিময় এবং যৌথ গবেষণা কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত ছিল।
বার্তা সংস্থা আনসা জানায়, বহু বছর ধরে কার্যকর থাকা এই চুক্তিটি রাজনৈতিক মতাদর্শ নির্বিশেষে বিভিন্ন সরকার নিয়মিত প্রতি পাঁচ বছর পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়ন করে আসছিল।
বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির অনেক আগেই এই চুক্তি কার্যকর ছিল, যা ইতালি-ইসরায়েল প্রতিরক্ষা সহযোগিতার দীর্ঘ ইতিহাসকে তুলে ধরে।
ইসরাইলের সঙ্গে বিদ্যমান প্রতিরক্ষা চুক্তি স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ভেরোনায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানান।
একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে মেলোনি বলেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার জন্য সম্ভাব্য সকল প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া অত্যন্ত জরুরি।
আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচল ও নিরাপত্তার স্বার্থে এই জলপথটি সচল রাখা আবশ্যক বলে তিনি মন্তব্য করেন। প্রতিরক্ষা চুক্তি স্থগিতের এই সিদ্ধান্তটি আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র: বিবিসি।
হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যৌথ উদ্যোগে ভিডিও কনফারেন্স আয়োজন করতে যাচ্ছে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য। খবর আলজাজিরা।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর কার্যালয় জানিয়েছে, শুক্রবার এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে অংশ নেবে এমন দেশগুলো যারা একটি সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক মিশনে অবদান রাখতে আগ্রহী।
এই বৈঠকে যৌথভাবে সভাপতিত্ব করবেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ এবং যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। বৈঠকে হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে কীভাবে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা পুনঃস্থাপন করা যায়, সে বিষয়ে আলোচনা করা হবে।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য একটি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে, যার লক্ষ্য তেলবাহী ট্যাংকার ও কন্টেইনার জাহাজগুলোকে নিরাপদে প্রণালী পারাপারে সহায়তা করা।
এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে জাহাজগুলোকে এসকর্ট দেওয়ার সম্ভাবনাও বিবেচনায় রয়েছে, যাতে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা যায়।
কাতার জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা কোনো পক্ষের দ্বারা হুমকির মুখে পড়তে পারে না এবং এটি পুনরায় চালু করতে কোনো শর্ত আরোপ করা উচিত নয়। খবর আলজাজিরার।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি এক ব্রিফিংয়ে বলেন, প্রণালিটি পুনরায় খুলে দিতে এবং এর বন্ধ থাকার নেতিবাচক প্রভাব বন্ধ করতে তারা অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব এবং কোনো পক্ষই এর স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত করতে পারে না।
আল-আনসারি আরো বলেন, এই সংকটের সমাধান আঞ্চলিকভাবে হওয়া উচিত, যেখানে উপকূলীয় দেশগুলো এবং যেসব দেশ এই প্রণালীর ওপর নির্ভরশীল, তাদের সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
সূত্র: আলজাজিরা।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সদিচ্ছার অভাব এবং কঠোর অবস্থানের কারণে সাম্প্রতিক আলোচনায় কোনো সমঝোতা সম্ভব হয়নি।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে ফোনালাপে তিনি বলেন, গত সপ্তাহে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আলোচনায় একটি চুক্তির সম্ভাবনা থাকলেও ওয়াশিংটনের অবস্থান তা ভেস্তে দেয়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনার বরাতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের চরমপন্থী অবস্থান অবস্থানই সমঝোতার পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
পেজেশকিয়ান সতর্ক করে বলেন, অব্যাহত চাপ, হুমকি এবং সামরিক পদক্ষেপ অঞ্চলে অস্থিরতা আরও বাড়াবে।
তিনি বলেন, এসব পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের নিজেদের তৈরি সমস্যাকে আরো জটিল করে তুলবে।
একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, কূটনীতিই বিরোধ নিষ্পত্তির সবচেয়ে কার্যকর পথ।
ইরানের প্রেসিডেন্ট আশা প্রকাশ করেন, ইউরোপ যুক্তরাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলতে উৎসাহিত করতে ভূমিকা রাখতে পারে।
সূত্র: আলজাজিরা।
ইরান চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও মার্চ–এপ্রিল সময়ে সন্তোষজনক হারে জ্বালানি তেল বিক্রি করতে সক্ষম হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির তেলমন্ত্রী মহসেন পাকনেজাদ।
ইরানি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত তেল বিক্রি থেকে অর্জিত আয় সন্তোষজনক পর্যায়ে রয়েছে। এই আয়ের একটি অংশ যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত তেল খাত পুনর্গঠনে ব্যয় করা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এর আগে গত মাসে পাকনেজাদ জানিয়েছিলেন, ইরানের অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বিক্রয়মূল্য উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দেশটির জ্বালানি খাতের জন্য ইতিবাচক ইঙ্গিত বহন করছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত নৌ অবরোধের মধ্যেও ইরান-সম্পৃক্ত চারটি জাহাজ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে বলে জানিয়েছে জাহাজ ট্র্যাকিং ডাটা বিশ্লেষণ।
বিবিসি ভেরিফাই-এর বিশ্লেষণে দেখা যায়, অবরোধ কার্যকর হওয়ার পরও এসব জাহাজ গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে চলাচল অব্যাহত রেখেছে।
মেরিনট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, ‘ক্রিস্টিয়ান্না’ নামের একটি বাল্ক ক্যারিয়ার ইরানের বান্দার ইমাম খোমেইনি বন্দর থেকে আসার পর সোমবার প্রণালিটি অতিক্রম করে।
‘রিচ স্ট্যারি’ নামের আরেকটি জাহাজ, যা ইরান-সম্পর্কিত বাণিজ্যের কারণে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ থেকে পূর্বদিকে যাত্রা করে প্রণালী পার হয়।
এছাড়া ‘মুরলিকিশান’ নামের একটি ট্যাংকার, যা একই কারণে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছে, চীনের লানশান থেকে যাত্রা করে পশ্চিমমুখী হয়ে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এটি ইরানের কেশম দ্বীপের পূর্বে অবস্থান করছিল।
আরেকটি ট্যাংকার ‘এলপিস’ মঙ্গলবার ইরানের বুশেহর বন্দর থেকে এসে পূর্বমুখী হয়ে প্রণালীটি পার হয়। এর গন্তব্য এখনও অজানা।
এসব জাহাজ নিজেদের অবস্থান গোপন করতে ভুয়া লোকেশন তথ্য বা ‘স্পুফিং’ ব্যবহার করে থাকতে পারে, যা স্পুফিং নামে পরিচিত।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ঘোষণা দেয়, সোমবার জিএমটি সময় ১৪:০০ থেকে ইরানের বন্দরগামী ও বহির্গামী সব নৌযানে অবরোধ আরোপ করা হবে। তবে ইরান-বহির্ভূত বন্দরের জন্য হরমুজ প্রণালী ব্যবহারকারী জাহাজের চলাচলে বাধা দেওয়া হবে না বলেও জানানো হয়।
সূত্র: বিবিসি।

ইরানি নৌ-চলাচলের ওপর মার্কিন সামরিক বাহিনীর অবরোধ অব্যাহত থাকায় হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা বজায় রাখতে 'সব পক্ষের' প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।
জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানিয়েছেন।
ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো।
বিবৃতিতে ডুজারিক বলেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী হরমুজ প্রণালি দিয়ে অবাধে নৌ-চলাচলের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন মহাসচিব এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে তা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন।
সূত্র : আল-জাজিরা

জেরুজালেমের হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন এক জরিপে দেখা গেছে, ইসরাইলিরা চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে।
তবে জরিপে একইসাথে এও উঠে এসেছে দেশটির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির বিরোধিতা করছে।
জরিপকারীরা জানিয়েছেন, গত ৯ ও ১০ এপ্রিল তারা এক হাজার ৩১২ জন ইসরাইলির সঙ্গে কথা বলেছেন। এর মাঝে এক হাজার ৮৪ জন ইহুদি ও ২২৮ জন আরব।
জরিপে অংশ নেওয়া অধিকাংশ মানুষ মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাম্প্রতিক হামলায় ইরান বা লেবাননের হেজবুল্লাহ, কোনোটিই এখনো গুরুতরভাবে দুর্বল হয়নি।
প্রায় ৩৯ দশমিক পাঁচ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন তেহরানের ওপর হামলা অব্যাহত রাখা উচিত, আর ৪১ দশমিক চার শতাংশ মনে করেন যুদ্ধবিরতি মেনে চলা উচিত।
নিজেদের বর্তমান অনুভূতি সম্পর্কে জানতে চাইলে এক-তৃতীয়াংশ উত্তরদাতা ‘হতাশা’ শব্দটি বেছে নিয়েছেন। এর পরেই রয়েছে ‘বিভ্রান্তি’ ও ‘রাগ’। ‘আশা’ ছিল চতুর্থ স্থানে।
সূত্র : আল-জাজিরা

অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী রিচার্ড মার্লেস জানিয়েছেন, ক্যানবেরা হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতার পক্ষে এবং এ বিষয়ে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যসহ তাদের সহযোগীদের সঙ্গে কাজ করছে।
অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যম এবিসি-তে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্লেস এসব কথা বলেন।
হরমুজ প্রণালিতে ইরানি বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধের প্রতি অস্ট্রেলিয়ার সমর্থন আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন।
রিচার্ড মার্লেস বলেন, ‘স্বভাবতই আমাদের হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা দেখতে হবে। আমরা এই প্রণালি উন্মুক্ত রাখা এবং বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহের শৃঙ্খল স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে গভীরভাবে আগ্রহী।’
তবে তিনি উল্লেখ করেন, অস্ট্রেলিয়া কেবল তখনই হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করার প্রচেষ্টায় অবদান রাখবে, যদি যুদ্ধবিরতি স্থায়ী হয়।
তিনি আরো বলেন, ‘বর্তমানে বিষয়টি খুবই অনিশ্চিত। যুদ্ধবিরতির বাকি সময়ে কী ঘটে এবং হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, কোনো উদ্যোগ শুরু করার আগে আমাদের তা দেখতে হবে।’
সূত্র : আল-জাজিরা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি সুসংহত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে কাতার ও সৌদি আরব।
কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুলরহমান বিন জাসিম আল থানি এবং সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ এক ফোনালাপে এই বিষয়ে আলোচনা করেন।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুই নেতা আঞ্চলিক সর্বশেষ পরিস্থিতি এবং চলমান যুদ্ধবিরতি নিয়ে কথা বলেন। তারা এই যুদ্ধবিরতি এমনভাবে সুসংহত করার ওপর জোর দিয়েছেন যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
মন্ত্রণালয় আরো জানিয়েছে, ‘উভয় পক্ষই উত্তেজনা প্রশমনে সমন্বয় জোরদার এবং যৌথ প্রচেষ্টা বাড়ানোর বিষয়ে একমত পোষণ করেছেন। এর মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ উপায়ে ও আলোচনার মাধ্যমে সংকটের মূল কারণগুলো সমাধান করে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর পথ প্রশস্ত হবে, যা স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করবে।’
সূত্র : আল-জাজিরা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধের ৪৬তম দিনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানি বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ সত্ত্বেও তেহরানের জন্য এখনো চুক্তিতে আসার সুযোগ রয়েছে।
ইরান মার্কিন এই নৌ-অবরোধকে ‘জলদস্যুতা’ হিসেবে অভিহিত করেছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল লক্ষ্য করে নেওয়া এই মার্কিন পদক্ষেপের প্রতিবাদে তেহরানে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন।
বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) মঙ্গলবার জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা পুনরায় শুরু করতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে চলতি সপ্তাহে ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফা আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে পাকিস্তান।
সূত্র : আল-জাজিরা
লেবাননের পশ্চিম বেকা অঞ্চলের সাহমার শহরে ইসরাইলি বিমান হামলায় একই পরিবারের তিন সদস্য নিহত হয়েছেন।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) এই তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই হামলায় একই পরিবারের আরো একজন আহত হয়েছেন। ভোর পর্যন্ত চালানো এ বিমান হামলায় ১০টিরও বেশি ঘরবাড়ি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।
সূত্র : আল-জাজিরা
শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে যত রাউন্ড আলোচনার প্রয়োজন হবে, পাকিস্তান তা আয়োজন করতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন দেশটির একজন সরকারি কর্মকর্তা।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে এই তথ্য জানিয়েছেন তিনি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, সব পক্ষের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। মূলত শান্তি প্রতিষ্ঠায় এই প্রক্রিয়াকে সফল করতে পাকিস্তান দীর্ঘমেয়াদী প্রচেষ্টার জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ।
সূত্র : আল-জাজিরা

ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ আরোপের পদক্ষেপকে ‘বিপজ্জনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে অভিহিত করেছে চীন।
দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন এক সংবাদ সম্মেলনে এই মন্তব্য করেন।
গুও জিয়াকুন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযান বৃদ্ধি করেছে এবং লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করে অবরোধের পদক্ষেপ নিয়েছে, যা কেবল উত্তেজনাকেই বাড়িয়ে তুলবে এবং আগে থেকেই ভঙ্গুর অবস্থায় থাকা যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে বাধাগ্রস্ত করবে।
চীনা মুখপাত্র আরো জানান, মার্কিন এই পদক্ষেপ ‘প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তাকে আরো ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।’
একে একটি ‘বিপজ্জনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ’ হিসেবে বর্ণনা করেন তিনি।
সূত্র : আল-জাজিরা

চলমান যুদ্ধে ইরানের প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ২৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বলে জানিয়েছে দেশটি।
তবে সরকারের একজন মুখপাত্র সতর্ক করে বলেছেন, এটি কেবল প্রাথমিক হিসাব এবং চূড়ান্ত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরো বেশি হতে পারে।
ইরানি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ার আরআইএ নভোস্তি এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফাতেমে মোহাজেরানি এই হিসাব তুলে ধরেন।
মোহাজেরানি বলেন, ‘আমাদের আলোচনাকারী দল যেসব বিষয় নিয়ে কাজ করছে এবং ইসলামাবাদ বৈঠকেও যা গুরুত্ব পেয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ। সাধারণত ক্ষয়ক্ষতি বেশ কয়েকটি স্তরে পরীক্ষা করতে হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ইরানের বর্তমান ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ২৭০ বিলিয়ন ডলার ধরা হয়েছে।’
সূত্র : আল-জাজিরা

যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানের তেল বিক্রির হার ‘সন্তোষজনক’ বলে জানিয়েছেন দেশটির তেলমন্ত্রী মহসেন পাকনেজাদ।
ইরানের সংবাদ সংস্থা ফারস নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
পাকনেজাদ বলেন, তেল বিক্রির আয়ের একটি অংশ যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত তেল শিল্পের পুনর্গঠনে ব্যবহার করা উচিত।
এর আগে গত মাসে তেলমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, ইরানের অপরিশোধিত তেলের বিক্রয়মূল্য উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
সূত্র : আল-জাজিরা

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা জোরদার করতে চার দফার একটি প্রস্তাব দিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।
দেশটির সরকারি সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া এই তথ্য জানিয়েছে।
আবুধাবির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন জায়েদের সঙ্গে এক বৈঠকে শি জিনপিং এই প্রস্তাব তুলে ধরেন।
সিনহুয়া জানায়, এই প্রস্তাবে ‘শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান’, ‘জাতীয় সার্বভৌমত্ব’ এবং ‘আন্তর্জাতিক আইনের শাসনের’ ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে নিরাপত্তা ও উন্নয়নের মধ্যে সমন্বয় করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে।
চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সিসিটিভি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, শি জিনপিং বলেছেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে আন্তরিকভাবে সম্মান করা উচিত।’
সূত্র : আল-জাজিরা

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি চলমান যুদ্ধবিরতি ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর বিন হামাদ আলবুসাইদির সঙ্গে ফোনালাপ করেছেন।
ইরানের সংবাদ সংস্থা মেহর নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আরাগচি জোর দিয়ে বলেন, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ইরান সব দেশের সহযোগিতা ও অংশগ্রহণকে গুরুত্ব দেয় এবং এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ধ্বংসাত্মক হস্তক্ষেপ’ থেকে দূরে থাকার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে আলবুসাইদি আশা প্রকাশ করেন, খুব শিগগিরই এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কয়েক দফা আলোচনার পরও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। এ বিষয়ে মধ্যস্থতাকারী দেশ ওমান জানিয়েছে, একটি সমঝোতা ‘হাতের নাগালে’ থাকা সত্ত্বেও এই যুদ্ধ শুরু হয়েছে।
সূত্র : আল-জাজিরা
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলীয় নাবাতিয়ে শহরের কাছে ইসরাইলি ড্রোন হামলায় অন্তত দু’জন নিহত হয়েছেন।
দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) এই তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাবাতিয়ে এলাকার পাশ দিয়ে যাওয়া একটি চলন্ত গাড়িকে লক্ষ্য করে এই ড্রোন হামলা চালানো হয়।
অন্য আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আদলুন শহরের পুরোনো পৌরসভা ভবন লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে, যেখানে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। অন্য একটি হামলা চালানো হয়েছে দির ইন্তার শহরের একটি বাড়িতে।
এমন এক দিনে এই হামলার ঘটনা ঘটল, যেদিন ওয়াশিংটন ডিসিতে ইসরাইল ও লেবাননের রাষ্ট্রদূতদের বৈঠকে বসার কথা রয়েছে। গত কয়েক বছরের মধ্যে দুই দেশের মধ্যে এটিই হতে যাচ্ছে সর্বোচ্চ পর্যায়ের বৈঠক।
সূত্র : আল-জাজিরা
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, যুদ্ধ বন্ধের চুক্তির বিষয়ে এখন সব সিদ্ধান্ত ইরানের ওপর নির্ভর করছে, ‘বল এখন ইরানের কোর্টে’।
তিনি জানান, ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা না করে, তবে কঠোর নিষেধাজ্ঞার কবলে থাকা দেশটিকে একটি ‘স্বাভাবিক দেশ’ হিসেবে বিবেচনা করতে যুক্তরাষ্ট্র আনন্দিত হবে।
৫ হাজারের বেশি পারমাণবিক ওয়ারহেড থাকা যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত হবে-এমন প্রত্যাশায় তারা ইরানে বোমা হামলা বন্ধ রেখেছে।
সূত্র : আল-জাজিরা

হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল বন্ধ করার কারণে ইরানকে 'অর্থনীতিনির্ভর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে' অভিযুক্ত করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।
ফক্স নিউজের ব্রেট বায়ারকে তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেখিয়েছেন এই খেলায় দুই পক্ষই অংশ নিতে পারে। হরমুজ প্রণালির ব্যবহার প্রসঙ্গে তিনি এই মন্তব্য করেন।
ভ্যান্সের বক্তব্য, ইরান যদি ‘অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদে’ জড়ায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রও এই নীতিতে অটল থাকবে, কোনো ইরানি জাহাজ বের হতে পারবে না।’
ভ্যান্স আরো জানান, গত সপ্তাহে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ইরানের সঙ্গে হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার পালা ইরানের।’
তিনি আরো বলেন, ইরানকে নমনীয় হতে হবে এবং যুক্তরাষ্ট্র যে ‘গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো’ চায়, তা মানতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের চাওয়াগুলোর মধ্যে রয়েছে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ। সেইসাথে, এমন একটি যাচাই ব্যবস্থা চালু করা, যা নিশ্চিত করবে ইরান কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না।
সূত্র : বিবিসি বাংলা

আগামী পাঁচ বছর পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিতের প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। তবে যুক্তরাষ্ট্র ২০ বছরের সময়সীমার ওপর জোর দিয়ে সেই প্রস্তাব নাকচ করেছে।
পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তারা এ প্রস্তাব দেয়।
সিনিয়র ইরানি ও মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে এমনটাই জানিয়েছে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আলোচনায় তেহরানের পারমাণবিক কার্যক্রম স্থগিত রাখা নিয়ে দুই দেশ নিজেদের প্রস্তাব আদান-প্রদান করেছে। তবে সমঝোতায় পৌঁছাতে এখনো তাদের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান রয়ে গেছে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আলোচনায় মতপার্থক্য থাকলেও শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর একটি পথ তৈরি হতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এমন পরিস্থিতিতেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ আরোপ শুরু করেছে।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এই সংঘাতের অন্যতম প্রধান জটিল বিষয় হিসেবেই রয়ে গেছে।
গত রোববার ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র নিশ্চিত করবে ইরান যাতে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে।
সূত্র : বিবিসি বাংলা

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে অব্যাহত বিঘ্ন ঘটায় আগামী সপ্তাহগুলোতে তেলের দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে বলে জানিয়েছেন মার্কিন জ্বালানিসচিব ক্রিস রাইট।
ওয়াশিংটন ডিসিতে ‘সেমাফোর ওয়ার্ল্ড ইকোনমি’ সম্মেলনে রাইট বলেন, ‘যতক্ষণ না আমরা হরমুজ প্রণালি দিয়ে অর্থবহ জাহাজ চলাচল শুরু করতে পারছি, ততক্ষণ জ্বালানির দাম উচ্চমূল্যে থাকবে। এমনকি আরো বাড়তে পারে। সম্ভবত আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তেলের দাম শিখরে পৌঁছাবে।’
ক্রিস রাইট জানান, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত শেষ হলে এবং ‘জ্বালানি সরবরাহ পুনরায় স্বাভাবিক হতে শুরু করলে’ দাম কমে আসবে। তবে এটি সময়সাপেক্ষ ব্যাপার এবং সম্ভবত সেপ্টেম্বর নাগাদ গড়াতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সূত্র : আল-জাজিরা
দক্ষিণ লেবাননে এক কানাডীয় নাগরিক মারা গেছেন। কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনিতা আনন্দ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তবে ওই নাগরিকের মৃত্যুর কারণ বা ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেননি মন্ত্রী।
আনিতা আনন্দ বলেন, ‘কানাডা সরকারের পক্ষ থেকে আমি তার পরিবার, প্রিয়জন এবং বৃহত্তর সম্প্রদায়ের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।’
বিবৃতিতে মন্ত্রী আরো যোগ করেন, হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্রীকরণসহ রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব পূর্ণপ্রতিষ্ঠায় লেবানন সরকারের প্রচেষ্টাকে কানাডা দৃঢ়ভাবে সমর্থন করে। এ সময় তিনি ইসরাইল ও লেবাননকে সংঘাত অবসানে একটি 'টেকসই ও কূটনৈতিক সমাধানে' পৌঁছানোর আহ্বান জানান।
সূত্র : আল-জাজিরা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফার আলোচনার আয়োজন করার প্রস্তাব দিয়েছে পাকিস্তান। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার আগেই এই আলোচনা ইসলামাবাদে আয়োজনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে নাম প্রকাশ না করার শর্তে দু’জন পাকিস্তানি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এই খবর জানানো হয়।
পাকিস্তানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই প্রস্তাবের বাস্তবায়ন নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো অন্য কোনো স্থান বেছে নেওয়ার অনুরোধ জানায় কি না, তার ওপর।
সূত্র : আলজাজিরা
দক্ষিণ লেবাননে এক ইসরাইলি সেনা নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো তিনজন।
ইসরাইলি সামরিক বাহিনী এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে যুদ্ধের সময় ওই সেনা সদস্য প্রাণ হারান। এ সময় আরো তিনজন ইসরাইলি সেনা আহত হয়েছেন।
সূত্র : আলজাজিরা
কোনো ইরানি যদি আমাদের ওপর বা শান্তিপূর্ণ কোনো জাহাজের ওপর হামলা চালায়, তাহলে তাদের ধ্বংস করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
স্থানীয় সময় রোববার সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, `হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ করতে বা সেখান থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করা সকল জাহাজ অবরোধ করতে যাচ্ছি।‘
তিনি বলেন, `ইরানকে টোল প্রদান করেছে আন্তর্জাতিক জলসীমায় থাকা এমন প্রতিটি জাহাজকে খুঁজে বের করতে এবং বাধা দিতে আমি আমাদের নৌবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছি। যারা অবৈধ টোল পরিশোধ করবে, তারা গভীর সমুদ্রে নিরাপদ চলাচলের সুবিধা পাবে না।‘
তিনি আরো বলেন, হরমুজ প্রণালিতে ইরান যে মাইনগুলো পুঁতে রেখেছে বলে অভিযোগ রয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সেগুলো ধ্বংস করা শুরু করবে।
তিনি আরো বলেন, ‘কোনো ইরানি যদি আমাদের ওপর বা শান্তিপূর্ণ কোনো জাহাজের ওপর হামলা চালায়, তাহলে তাদের ধ্বংস করে দেওয়া হবে!’
ট্রাম্প বলেছেন, ‘ওই অঞ্চলে 'কোনো এক সময়ে' অবাধ চলাচলের বিষয়ে একটি চুক্তি হবে, কিন্তু 'ইরান তা হতে দেয়নি'। তারা কেবল এই বলে দায় এড়িয়েছে, 'ওখানে কোথাও হয়তো মাইন পুঁতে রাখা থাকতে পারে', যা তারা ছাড়া আর কেউ জানে না।’
অন্য আরেক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, কিন্তু জেনেশুনে তারা তা করতে ব্যর্থ হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তাদের উচিত আন্তর্জাতিক এই জলপথটি দ্রুত উন্মুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করা!’
সূত্র : বিবিসি বাংলা
ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের মধ্যে দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বিশেষ করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে বলে জানিয়েছেন সাবেক মার্কিন কূটনীতিক জেফরি ফেল্টম্যান।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফেল্টম্যান বলেন, ইসরাইলসহ যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্ররা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির চেয়ে তার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে বেশি উদ্বিগ্ন।
তার ভাষায়, “যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় ইসরাইলিরা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে অনেক বেশি চিন্তিত।” তিনি ব্যাখ্যা করেন, ইরানকে ঘিরে সামরিক কৌশল নির্ধারণে এই ইস্যুটি দুই পক্ষের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ মতভেদের জায়গা তৈরি করেছে।
ফেল্টম্যান আরও বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যেও একই ধরনের উদ্বেগ রয়েছে। তাদের ধারণা ছিল, যুক্তরাষ্ট্রের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে একটি শক্তিশালী ‘নিরাপত্তা বলয়’ তৈরি হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সংঘাতে সেই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বারবার ভেদ হওয়ায় তাদের আস্থায় চিড় ধরেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই মতপার্থক্য ভবিষ্যতে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের যৌথ কৌশলে প্রভাব ফেলতে পারে।
ইরান যুদ্ধ নিয়ে সংবাদ পরিবেশনার জেরে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের ওপর ক্ষোভ ঝেড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি পত্রিকাটিকে ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ ও ‘ভুয়া খবর’ পরিবেশনকারী হিসেবে অভিহিত করেছেন।
ট্রাম্প লিখেছেন, “যারা এখনও এই ব্যর্থ নিউ ইয়র্ক টাইমস পড়েন এবং ইরান সামরিক ও অন্যান্য দিক থেকে সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়া সত্ত্বেও, আপনারা হয়তো ভাববেন যে ইরান আসলে জিতছে অথবা অন্ততপক্ষে বেশ ভালো করছে।”
তিনি আরও বলেন, “কিন্তু এটা সত্যি নয়, এবং নিউ ইয়র্ক টাইমস জানে যে এটা ভুয়া খবর! এই দুর্নীতিগ্রস্ত গণমাধ্যমটি আমার, আমার সমর্থকদের এবং আমাদের দেশের বিরুদ্ধে তাদের মিথ্যাচার ও জঘন্য কর্মকাণ্ডের জন্য কবে ক্ষমা চাইবে!” “তাদের কি কোনো লজ্জা নেই? তাদের কি কোনো শালীনতাবোধ নেই?”
সূত্র: আল–জাজিরা।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক উপ-জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মার্ক ফাইফেল বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবরোধ কৌশলটি মূলত একটি উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ, রিয়েল এস্টেট ধাঁচের আলোচনা পদ্ধতি।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, পাকিস্তানে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ২১ ঘণ্টার বৈঠকটি ছিল একটি নতুন আলোচনার সূচনা, যেখানে উভয় পক্ষ একে অপরের অবস্থান বোঝার চেষ্টা করেছে।
ফাইফেলের ভাষায়, “এটি ছিল একটি চাপ পরীক্ষা এবং নতুন করে শুরু করার প্রচেষ্টা।” তিনি বলেন, বর্তমান অবরোধ কৌশল শুধু জাহাজ আটকের সংখ্যার ওপর নির্ভর করে মূল্যায়ন করা হচ্ছে না; বরং বৈশ্বিক বাজার কত দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ সূচক হয়ে উঠেছে।
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, “যে মুহূর্তে ট্রাম্প বলবেন ‘কোনো জাহাজ চলবে না’, তখন সেটির অর্থ দাঁড়ায় প্রতিটি জাহাজের ওপর তার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা।” তার মতে, একটি জাহাজ আটকাতে ব্যর্থ হলেও পুরো কৌশল ভেস্তে যেতে পারে, যা এই নীতির ঝুঁকিকে অনেক বাড়িয়ে দেয়।
ফাইফেল ব্যাখ্যা করেন, এই কৌশল ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের আলোচনার ধরনকে প্রতিফলিত করে। “তিনি সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছেন এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতির প্রচলিত পদ্ধতির বাইরে গিয়ে বিষয়টিকে অনেকটা রিয়েল এস্টেট চুক্তির মতো করে দেখছেন,”—যোগ করেন তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের কৌশল একদিকে দ্রুত ফল আনতে পারে, তবে এর ঝুঁকিও অত্যন্ত বেশি, যা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
পোপ লিও চতুর্দশের প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তীব্র আক্রমণের কড়া সমালোচনা করেছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। ট্রাম্পের বৈদেশিক ও অভিবাসন নীতির সমালোচনা করায় গতকাল রোববার রাতে পোপের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন ট্রাম্প। এই ঘটনায় ইতালিজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ট্রাম্পের কড়া সমালোচনা করে মেলোনি বলেন, পোপের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন মন্তব্য ‘অগ্রহণযোগ্য’। পোপ ক্যাথলিক চার্চের প্রধান হিসেবে শান্তির কথা বলবেন এবং যুদ্ধের নিন্দা জানাবেন—এটাই স্বাভাবিক।
রাজনৈতিকভাবে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত মেলোনি। ২০২৫ সালে ট্রাম্পের শপথ অনুষ্ঠানে একমাত্র ইউরোপীয় নেতা হিসেবে তিনি উপস্থিত ছিলেন। ফলে মেলোনির মতো একজন মিত্রের পক্ষ থেকে ট্রাম্পকে এমন প্রকাশ্য ভর্ৎসনা করার ঘটনাকে অত্যন্ত বিরল হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্র: আল–জাজিরা।
লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরাইলের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনায় অংশ নেওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। সংগঠনটির মহাসচিব নাইম কাসেম এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে বলেছেন, এই ধরনের আলোচনা বাস্তবসম্মত নয়।
তিনি অভিযোগ করেন, প্রস্তাবিত এই সংলাপ মূলত হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার জন্য চাপ সৃষ্টির একটি কৌশল। তার ভাষায়, এটি কোনো কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ নয়, বরং একটি “অজুহাত”।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে লেবানন ও ইসরাইলের রাষ্ট্রদূতদের মধ্যে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে হিজবুল্লাহর এই অবস্থান সেই উদ্যোগের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রত্যাখ্যান মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে এটি ইঙ্গিত দেয় যে, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে আস্থার ঘাটতি এখনো গভীর।
সূত্র: আল-জাজিরা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বর্তমান যুদ্ধবিরতি ‘অত্যন্ত নাজুক’ বলে মন্তব্য করেছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং-ই।
সোমবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দারের সঙ্গে ফোনালাপে তিনি বলেন, যুদ্ধবিরতি নষ্ট করে বা সংঘাত বাড়ায় এমন যেকোনো পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ‘স্পষ্টভাবে অবস্থান’ নিতে হবে।
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়া ঠেকানোর পাশাপাশি ‘কঠিন প্রচেষ্টায় অর্জিত যুদ্ধবিরতির গতি’ ধরে রাখা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
তিনি জানান, সংকট সমাধানে পাকিস্তান বড় ভূমিকা রাখলে চীন তা স্বাগত জানাবে। একই সঙ্গে বেইজিংও এ সংঘাত নিরসনে প্রয়োজনীয় অবদান রাখতে প্রস্তুত রয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইসলামাবাদে বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর ইরান আবার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। এবং তারা একটি চুক্তি করতে ‘খুবই আগ্রহী’।
চলমান অচলাবস্থা প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, এর কেন্দ্রবিন্দু হলো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং তিনি আরও যোগ করেন যে, ইরানের কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না।
তিনি আরও বলেন, “আমরা অনেক বিষয়ে একমত হয়েছি,” তবে তিনি ইঙ্গিত দেন যে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা বিষয়ে কোনো চুক্তি হয়নি।
উল্লেখ্য, গত শনিবার পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র ইসলামাবাদে আলোচনায় বসে। প্রায় ২১ ঘণ্টা আলোচনা শেষে রোববার সকালে এই বৈঠক শেষ হয় কোনো সমঝোতা ছাড়াই।
সূত্র: আল–জাজিরা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ নতুন পোস্টে হুমকি দিয়ে বলেছেন, অবরোধ ভাঙতে এলে ইরানের ‘অ্যাটাক শিপ’ (আক্রমণকারী জাহাজ) ধ্বংস করে দেওয়া হবে।
এর আগে ট্রাম্প ইরানের সব বন্দর অবরোধ করার ঘোষণার সময় জানিয়ে দেন। সোমবার ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় সকাল ১০ টায় (বাংলাদেশ সময় সোমবার রাত ৮টা) অবরোধ শুরুর কিছুক্ষণ পরে ট্রুথ সোশ্যালে হুমকি দিলেন ট্রাম্প।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট লিখেছেন, ‘ইরানের নৌবাহিনী সমুদ্রের তলদেশে পড়ে আছে, তাদের ১৫৮টি জাহাজ সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। তাদের স্বল্পসংখ্যক তথাকথিত “ফাস্ট অ্যাটাক শিপে” (দ্রুতগামী আক্রমণকারী জাহাজগুলো) আমরা এতদিন আঘাত করিনি, কারণ সেগুলোকে আমরা খুব একটা বড় হুমকি মনে করিনি।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট লিখেছেন, ‘সতর্কবার্তা: এই জাহাজগুলোর কোনোটি যদি আমাদের অবরোধের আওতায় থাকা এলাকার ধারেকাছেও আসে, তবে সেগুলোকে তাৎক্ষণিকভাবে ধ্বংস করা হবে। সমুদ্রপথে মাদক ব্যবসায়ীদের নৌকা ধ্বংস করতে আমরা যে পদ্ধতি ব্যবহার করি, এদের ক্ষেত্রেও একই পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে।’
সূত্র: আল–জাজিরা
যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন গত শনিবার ইরান উপকূল থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার (১২৪ মাইল) দূরে অবস্থান করছিল। উপগ্রহের ছবি বিশ্লেষণ করে বিবিসি ভেরিফাই এ কথা জানিয়েছে।
ইরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার শুরু পর যুক্তরাষ্ট্রের কোনো যুদ্ধজাহাজের সবচেয়ে কাছের অবস্থান এটি বলে জানিয়েছে বিবিসি।
উপগ্রহের ছবিতে দেখা গেছে, গত শনিবার ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন ওমান উপসাগরের পূর্ব প্রান্তে অবস্থান করছে, যা ইরানি উপকূল থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার (১২৪ মাইল) দক্ষিণে।
উপগ্রহের ছবি দৃশ্যমান আরও দুটি কাছাকাছি যুদ্ধজাহাজ রয়েছে, যা আকার ও গঠনে মার্কিন নৌবাহিনীর গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ারের সঙ্গে মিলে যায় বলে জানিয়েছে বিবিসি। এগুলো ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের স্ট্রাইক গ্রুপের অংশ হতে পারে।
সূত্র: বিবিসি।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির অবস্থা এবং এর আঞ্চলিক প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ফোনালাপে দুই পক্ষই চলমান মধ্যস্থতা প্রচেষ্টায় সব পক্ষের ইতিবাচক সাড়া দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন।
তারা মত দেন, সংলাপ ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে সংকটের মূল কারণগুলো সমাধানের পথ খোলা রাখতে হবে, যাতে দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা যায়।
এ সময় বৈশ্বিক জ্বালানি ও খাদ্য সরবরাহের ওপর এর প্রভাব এড়াতে সব জলপথ যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখার প্রয়োজনীয়তার জোর দিয়েছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী।
সূত্র: আলজাজিরা।
লেবাননে ইসরাইলের ধারাবাহিক হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২,০৮৯ জনে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া হামলায় অন্তত ৬,৭৬২ জন আহত হয়েছেন।
ইরানে মার্কিন-ইসরাইলের যৌথ হামলার সময় থেকেই লেবাননকে লক্ষ্যবস্তু করে ব্যাপক করে যাচ্ছে ইসরাইল। পরে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতি হলেও লেবননে অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি।
বরং ওই যুদ্ধবিরতির দিন থেকেই আরো ব্যাপক হামলা শুরু করেছে ইসরাইল। চলমান এই সংঘাতে লেবাননের মানবিক পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। হাসপাতাল ও জরুরি সেবাগুলো বাড়তি চাপের মুখে পড়েছে।
সূত্র: আলজাজিরা।
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দেশটির জনগণের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তুলে ধরতে আগ্রহী। বিশেষ করে তিনি জোর দিচ্ছেন যে, তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র—যিনি জনমত জরিপ অনুযায়ী ইসরাইলে নেতানিয়াহুর চেয়ে বেশি জনপ্রিয়।
যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালীতে নৌ অবরোধ আরোপের ঘোষণা দিলে নেতানিয়াহু তা স্বাগত জানান। তবে ইসরাইলের ভেতরেই এই পদক্ষেপ নিয়ে ভিন্নমত দেখা গেছে।
ইসরাইলি সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক ইরান ডেস্ক প্রধান ড্যানি সিত্রিনোভিজ বলেন, পাঁচ সপ্তাহের যুদ্ধে যা অর্জন করা যায়নি, তা হরমুজ প্রণালীতে অবরোধ দিয়ে অর্জন করা সম্ভব নয়।
একই ধরনের সমালোচনা করেছেন দেশটির সাবেক নিরাপত্তা মন্ত্রী মোশে ইয়ালোন। তিনি বলেন, ৪০ দিনের বেশি যুদ্ধের পরও কোনো কৌশলগত লক্ষ্য অর্জিত হয়নি। তার মতে, এই পরিস্থিতিতে ইরান উল্টো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারে যে, নিজেদের নিরাপত্তার জন্য পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করা প্রয়োজন।
সূত্র: আলজাজিরা।

ইরানের বন্দরগুলোতে প্রবেশ ও প্রস্থানকারী সব ধরনের জাহাজ চলাচল বন্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে নৌ অবরোধ শুরু করেছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, জিএমটি সময় ১৪:০০ থেকে এই অবরোধ কার্যকর হয়েছে। তবে ইতোমধ্যে এই অবরোধের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক মিত্র দেশও ইরানের বন্দর অবরোধের সমালোচনা করেছে।
নৌ অবরোধের বিষয়ে এক মার্কিন কর্মকর্তা আলজাজিরাকে বলেছেন, সামরিক বাহিনী নৌ অবরোধ আরোপ ও তা বজায় রাখতে প্রস্তুত, কিন্তু অবরোধ লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কোনো কার্যপ্রণালী নির্ধারণ করেনি।
ওই কর্মকর্তা অবরোধের স্থায়ীত্ব সম্পর্কে বলেন, ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যতদিন প্রয়োজন, এই পদক্ষেপ কার্যকর করার জন্য মার্কিন বাহিনী ও সরঞ্জাম যথেষ্ট।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক জলসীমায় অবৈধ কাজ এবং জলদস্যুতা হিসেবে আখ্যা দিয়েছে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) সতর্ক করেছে, হরমুজ প্রণালির কাছে কোনো যুদ্ধজাহাজ এলে তা বর্তমান যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে।
সূত্র: আলজাজিরা।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী গালফ অব ওমান ও হরমুজ প্রণালীর পূর্বাঞ্চলীয় আরব সাগরে সকল জাহাজের ওপর অবরোধ কার্যকর করার ঘোষণা দিয়েছে। এছাড়া অবরুদ্ধ এলাকায় বিনা অনুমতিতে জাহাজ প্রবেশ করলে তা আটকের ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।
সেন্টকমের দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে সতর্ক করা হয়েছে, কোনো জাহাজ যদি অনুমতি ছাড়া এই অবরুদ্ধ এলাকায় প্রবেশ বা প্রস্থান করে, তাহলে সেটিকে আটক, দিক পরিবর্তন কিংবা জব্দ করা হতে পারে।
তবে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, এই অবরোধের ফলে হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরপেক্ষ জাহাজের স্বাভাবিক যাতায়াত বাধাগ্রস্ত হবে না—বিশেষ করে যেসব জাহাজের গন্তব্য ইরান নয়।
এই পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিশেষ করে জ্বালানি পরিবহন খাতে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
সূত্র: আলজাজিরা।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনার পরও যুদ্ধবিরোধী অবস্থানে অটল থাকার ঘোষণা দিয়েছেন পোপ লিও চতুর্দশ। তিনি জানান, ট্রাম্প প্রশাসনকে তিনি ভয় করেন না, বিশ্বজুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তিনি ভবিষ্যতেও যুদ্ধের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকবেন।
আলজেরিয়াগামী বিমানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘আমি তার (ট্রাম্প) সঙ্গে বিতর্কে যেতে চাই না। একই সঙ্গে তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, খ্রিস্টধর্মের বার্তা কিছু ক্ষেত্রে অপব্যবহার করা হচ্ছে।
লিও ট্রাম্পের সমালোচনার কথা উল্লেখ করে আরো বলেন, ‘আমি তার সাথে বিতর্কে জড়াতে চাই না। আমি মনে করি না গসপেলের বার্তার অপব্যবহার করা উচিত, যেভাবে কিছু লোক করছে।’
পোপ জোর দিয়ে বলেন, ‘আমি যুদ্ধের বিরুদ্ধে জোরালোভাবে কথা বলতেই থাকব—শান্তি, সংলাপ এবং রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বহুপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারের মাধ্যমে ন্যায্য সমাধান খোঁজার জন্য।’
তিনি আরো বলেন, ‘অনেক নিরীহ মানুষ মারা যাচ্ছে। আমি মনে করি, কাউকে না কাউকে দাঁড়িয়ে বলতে হবে—এর চেয়ে ভালো পথ আছে।’
উল্লেখ্য, পোপ লিও প্রথম মার্কিন পোপ হিসেবে চারটি আফ্রিকান দেশে ১০ দিনের সফর শুরু করছেন।
সূত্র: বিবিসি, আলজাজিরা।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধের ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের জ্বালানি খাতে ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজা চলাচলে নিষেধাজ্ঞা এ পরিস্থির জন্য দায়ী। তাই এই প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছেন লিয়েন।
তিনি জানান, যুদ্ধ শুরুর ৪৪ দিনের মধ্যে ইইউকে অতিরিক্ত ২২ বিলিয়ন ইউরো খরচ করতে হয়েছে ফসিল ফুয়েল আমদানিতে—কিন্তু এর বিপরীতে একটি অণুও বেশি জ্বালানি পাওয়া যায়নি।
ভন ডার লিয়েন বলেন, জীবাশ্ম ফুয়েলের ওপর আমাদের অতিরিক্ত নির্ভরতার জন্য আমরা খুবই চড়া মূল্য দিচ্ছি। তার এই মন্তব্য ইউরোপের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে বাড়তে থাকা উদ্বেগকে আরও স্পষ্ট করে।
তিনি আরো জোর দিয়ে বলেন, হরমুজ প্রণালীর নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এ বিষয়ে ইইউ দেশগুলোর মধ্যে দৃঢ় সমন্বয় প্রয়োজন।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে, যার চাপ সরাসরি ইউরোপীয় দেশগুলো অনুভব করছে।
সূত্র: বিবিসি।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ (এমওইউ) স্বাক্ষরের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল, তবে শেষ মুহূর্তে তা ভেস্তে যায়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, গত ৪৭ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিবিড় আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং দুই দেশ মাত্র ইঞ্চি দূরত্বে ছিল একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর।
তবে তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমরা সর্বাধিকবাদের কঠোর অবস্থান সম্মুখীন হয়েছি, যেখানে বারবার শর্ত পরিবর্তন এবং অবরোধ পরিস্থিতিকে জটিল করে তোলে, যার ফলে চুক্তি সম্ভব হয়নি।
আরাগচি আরো বলেন, ‘কোনো শিক্ষা নেওয়া হয়নি। সদিচ্ছা সদিচ্ছা তৈরি করে, আর শত্রুতা শত্রুতাই বাড়ায়।’
এই ব্যর্থতা শুধু দুই দেশের সম্পর্কেই নয়, বরং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্যও বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ একটি সম্ভাব্য সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারত।

যুদ্ধের সময় ক্ষতিগ্রস্ত রেললাইনের অংশবিশেষ মেরামত করার পর প্রধান রুটগুলোতে পুনরায় রেল পরিষেবা চালু করেছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, প্রায় ৪০ দিনের যুদ্ধের পর ক্ষতিগ্রস্ত সেতু, রেললাইন এবং অন্যান্য অবকাঠামোর পুনর্নির্মাণের কাজ সম্প্রতি শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ।
ইরানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় আজারবাইজান অঞ্চলে রেলওয়ের মহাপরিচালক বলেছেন, তাবরিজ শহর থেকে রাজধানী তেহরান এবং উত্তর-পূর্বের মাশহাদের উদ্দেশ্যে ট্রেন পরিষেবা পুনরায় চালু হয়েছে।
কোম প্রদেশের ডেপুটি গভর্নর খোসরো সামারি বলেছেন, তেহরানের দক্ষিণে কোম শহরের কাছে একটি রেলসেতু ৪০ ঘণ্টারও কম সময় ধরে চলা পুনর্নির্মাণ কাজের পর শনিবার পুনরায় খুলে দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার, তাসনিম সংবাদ সংস্থা ইরানের মধ্যাঞ্চলীয় ইসফাহান প্রদেশের কাশান শহরে ইয়াহিয়া আবাদ সেতু পার হওয়া একটি ট্রেনের ভিডিও প্রকাশ করেছে।
সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি রবিবার বলেছেন, ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোর পুনর্নির্মাণে তিন মাস থেকে দুই বছর সময় লাগবে।
সূত্র: আলজাজিরা।
দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলের হামলা অব্যাহত রয়েছে। দেশটির বিভিন্ন শহরে চালানো সাম্প্রতিক হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবাননের জাতীয় সংবাদ সংস্থা (এনএনএ)।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরাইলি বাহিনী বিমান হামলার পাশাপাশি কামান থেকে গোলা নিক্ষেপ করেছে। এছাড়া ফসফরাস শেল ব্যবহার এবং ড্রোন হামলাও চালানো হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরো ভয়াবহ করে তুলেছে।
অন্যদিকে, লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, তারা ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই হামলায় ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে।
হিজবুল্লাহ আরো জানায়, লেবানন ও দেশটির জনগণের বিরুদ্ধে ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তাদের হামলা অব্যাহত থাকবে।
এই পরিস্থিতিতে দক্ষিণ লেবাননজুড়ে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে এবং নতুন করে বৃহত্তর সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সূত্র: আলজাজিরা।

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান মন্তব্য করেছেন যে ইসরাইল তুরস্ককে নতুন প্রতিপক্ষ হিসেবে চিহ্নিত করতে পারে। তিনি বলেন, ইসরাইল এমন একটি রাষ্ট্র যা ‘শত্রু ছাড়া নিজেকে টিকিয়ে রাখতে পারে না’। আর তাই ইরানের পর তুরস্ককে লক্ষ্যবস্তু বানানোর সম্ভাবনা রয়েছে। খবর আলজাজিরার।
তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদোলুকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফিদান এই মন্তব্য করেন।
তিনি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান আলোচনার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় কোন চুক্তিতে না পৌঁছানো সত্ত্বেও ইরান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছানোর বিষয়ে এখনো আন্তরিকতা রয়েছে।
ফিদান সতর্ক করে বলেন, পারমাণবিক ইস্যুটি যদি সর্বোপরি বা কিছুই না হয় বিশেষ করে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে, তাহলে তা বড় ধরনের জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। এতে করে আলোচনার অগ্রগতি থমকে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
এই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়াতে পারে এবং কূটনৈতিক অচলাবস্থার দিকে ঠেলে দিতে পারে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে।
সূত্র: আলজাজিরা।
ইরানের ওপর মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধ আরোপের সক্ষমতা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই, তবে এর প্রভাব কতটা সুদূরপ্রসারী হবে সেটিই এখন মূল চিন্তার বিষয়। এমনটাই মন্তব্য করেছেন সাবেক মার্কিন বিশেষ দূত ডেভিড স্যাটারফিল্ড।
বিবিসি রেডিও ৪-এর ‘টুডে’ প্রোগ্রামে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্যাটারফিল্ড বলেন, ‘এটি কীভাবে করা হবে বা করা সম্ভব কি না-প্রশ্ন সেটি নয়; প্রশ্ন হলো এর প্রভাব কতটা পড়বে।’
তিনি উল্লেখ করেন, মার্কিন নৌবাহিনী এর আগেও কিউবা এবং ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে সফলভাবে অবরোধ কার্যকর করেছে। তবে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি সতর্ক করেন যে, এই এলাকাটি কেবল জ্বালানি তেলের জন্যই নয়, বরং বিশ্বজুড়ে পণ্য সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।
সাবেক এই দূতের মতে, এই অবরোধ যদি আরো কয়েক সপ্তাহ অব্যাহত থাকে, তবে এর প্রভাব কেবল পেট্রোল বা ডিজেলের দাম বাড়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং বিশ্বজুড়ে এর গভীর ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়বে।
সূত্র : আলজাজিরা
যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট জ্বালানি সংকটে বিপর্যস্ত সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের স্বস্তি দিতে পেট্রোল ও ডিজেলের ওপর কর কমানোর ঘোষণা দিয়েছে জার্মানি। আগামী দুই মাসের জন্য এই সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে বলে জানিয়েছেন দেশটির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মারজ।
নিজের দল সিডিইউ এবং জোট শরিকদের সাথে আলোচনার পর সাংবাদিকদের মারজ বলেন, ‘আমরা আগামী দুই মাসের জন্য ডিজেল ও গ্যাসোলিনের ওপর জ্বালানি কর প্রতি লিটারে প্রায় ১৭ ইউরো সেন্ট (০.২০ ডলার) হ্রাস করব।’
জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে যে অর্থনৈতিক ধাক্কা তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলায় এই পদক্ষেপ বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছে জার্মান সরকার।
সূত্র : আলজাজিরা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিমান হামলায় বিধ্বস্ত ইরানের রাজধানী তেহরানে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে এখন পর্যন্ত ৯৬০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।
দেশটির রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির বরাতে সোমবার এই তথ্য জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা।
ইরানি রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, দেশজুড়ে চালানো এসব হামলায় এখন পর্যন্ত ১ লাখ ২৫ হাজার ৬৩০টি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে আবাসিক ভবনের সংখ্যা প্রায় ১ লাখ এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা প্রায় ২৪ হাজার।
সংস্থাটি আরো জানায়, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্র : আলজাজিরা

পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধকে ‘অবৈধ’ এবং ‘জলদস্যুতা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী।
সোমবার ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি-র এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সমন্বিত কমান্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরের বন্দরগুলো হয় সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে, নয়তো কারো জন্যই নয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ইরানের সশস্ত্র বাহিনী দেশের আইনগত অধিকার রক্ষা করাকে নিজেদের স্বাভাবিক ও বৈধ কর্তব্য বলে মনে করে। সেই অনুযায়ী, দেশের আঞ্চলিক পানিসীমায় সার্বভৌমত্ব প্রয়োগ করা ইরানি জাতির স্বাভাবিক অধিকার।’
তেহরান জানিয়েছে, ‘শত্রুভাবাপন্ন’ কোনো জাহাজকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পার হতে দেওয়া হবে না। তবে অন্যান্য জাহাজগুলো তেহরানের নির্ধারিত নিয়ম মেনে এই পানিপথ ব্যবহার করতে পারবে।
ইরানের সশস্ত্র বাহিনী আরো উল্লেখ করেছে, জাতির বিরুদ্ধে শত্রুদের অব্যাহত হুমকির মুখে যুদ্ধের পরেও এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ নিয়ন্ত্রণে একটি ‘স্থায়ী ব্যবস্থা’ গড়ে তোলা হবে।
বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ‘আন্তর্জাতিক পানিসীমায় জাহাজের চলাচলে যুক্তরাষ্ট্রের বিধিনিষেধ আরোপ একটি অবৈধ কাজ এবং এটি জলদস্যুতার শামিল।
এছাড়া ওই অঞ্চলে ইরানের কোনো বন্দরের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে ওই অঞ্চলের অন্য কোনো বন্দরও নিরাপদ থাকবে না বলে সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছে দেশটি।
সূত্র : আলজাজিরা

ইসরাইলের শক্তিশালী গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের নতুন প্রধান হিসেবে মেজর জেনারেল রোমান গফম্যানকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে বিশ্বের অন্যতম এই দুর্ধর্ষ গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান হিসেবে এমন একজনকে বেছে নেওয়া হয়েছে, যার গোয়েন্দা বিভাগে কাজ করার কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই।
গতকাল রোববার ইসরাইলি মন্ত্রিসভা এই নিয়োগের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেয়। আগামী ২ জুন বর্তমান পরিচালক ডেভিড বার্নিয়া তার পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ করার পর গফম্যান দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
১৯৭৬ সালে বেলারুশে জন্মগ্রহণকারী গফম্যান ১৪ বছর বয়সে ইসরাইলে অভিবাসী হন। ১৯৯৫ সালে তিনি সামরিক বাহিনীর সাঁজোয়া কোর-এ যোগদান করেন এবং দীর্ঘ সময় সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সামরিক সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার সময় গফম্যান পদাতিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কমান্ডার ছিলেন। ওই দিন দক্ষিণ ইসরাইলের সেদেরত শহরে হামাস যোদ্ধাদের সঙ্গে সংঘর্ষে তিনি গুরুতর আহত হন। গফম্যানকে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর কট্টর জাতীয়তাবাদী মতাদর্শের সমর্থক হিসেবে দেখা হয়। তিনি অধিকৃত পশ্চিম তীরের বিতর্কিত ‘এলি ইয়েশিভা’ ধর্মীয় স্কুলে পড়াশোনা করেছেন, যা ডানপন্থি জায়নবাদী অবস্থানের জন্য পরিচিত।
৭ অক্টোবরের গোয়েন্দা ব্যর্থতার দায়ে ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা সিন বেত এবং সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা আমান-এর প্রধানরা পদত্যাগ করলেও মোসাদ সেই দায় থেকে বেঁচে যায়। ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড মোসাদের আওতাভুক্ত না হওয়ায় তারা সরাসরি অভিযুক্ত হয়নি। বরং যুদ্ধের গত কয়েক মাসে বেশ কিছু প্রভাবশালী নেতা ও যোদ্ধাকে গুপ্তহত্যার মাধ্যমে মোসাদ নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে।
ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, মোসাদের নতুন প্রধান হিসেবে মনোনীত এই কর্মকর্তা দেশটির সামরিক বাহিনীর (আইডিএফ) শীর্ষ পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। সাধারণত মোসাদের প্রধান হিসেবে অভিজ্ঞ গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়ার দীর্ঘদিনের রীতি থাকলেও, এবার সেই প্রথা ভেঙে একজন সামরিক কর্মকর্তাকে বেছে নিলেন নেতানিয়াহু।
বিশ্বের অন্যতম দুর্ধর্ষ গোয়েন্দা সংস্থা হিসেবে পরিচিত মোসাদ মূলত ইসরাইলের বাইরে গোয়েন্দা কার্যক্রম এবং গুপ্তহত্যার মতো স্পর্শকাতর অভিযানগুলো পরিচালনা করে থাকে। নতুন প্রধানের অধীনে সংস্থাটি ইরান ও হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে তাদের পরবর্তী কৌশল কী হবে, তা নিয়ে এখন সবার নজর।
সূত্র : রয়টার্স/এনডিটিভি

হরমুজ প্রণালি ঘিরে নৌ অবরোধ আরোপে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকিকে ‘অত্যন্ত হাস্যকর বলে জানিয়েছেন ইরানের নৌবাহিনীর প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহরাম ইরানি। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, ইরানি সামরিক বাহিনী এ অঞ্চলে মার্কিন নৌবহরের প্রতিটি গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
ইরানি গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহরাম ইরানি বলেন, ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের নৌবাহিনীর সাহসী সদস্যরা এ অঞ্চলে আগ্রাসী মার্কিন সামরিক বাহিনীর সব ধরনের চলাচল অনুসরণ ও পর্যবেক্ষণ করছে।’
ফেব্রুয়ারি ২৮ তারিখে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলি আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলে সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে। এদিকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর না হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য এই পানিপথ ব্যবহার করতে না দেওয়ার ঘোষণা দেয় ইরান।
তেহরান মিত্র দেশগুলোর জাহাজ চলাচল অনুমোদন দিলেও আগ্রাসী দেশ ও তাদের সমর্থকদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।
ইরানের পার্লামেন্ট জাতীয় মুদ্রায় ট্রানজিট ফি আরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি জাহাজ সরাসরি নিষিদ্ধ করার জন্য একটি খসড়া আইন এগিয়ে নিয়েছে বলে জানা গেছে।
ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত যৌথবাহিনীর হামলায় ২ হাজার ৭৬ নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছে ২৬ হাজারের বেশি মানুষ। একই দিনে মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চালানো মার্কিন ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৬৮ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়।
সূত্র : প্রেস টিভি
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরাইলি বাহিনীর সিরিজ বিমান হামলায় অন্তত ৫ জন নিহত হয়েছেন।
দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের বাজৌরিয়েহ শহরে ইসরাইলি বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানে একজন নিহত হয়েছেন। এই হামলায় আহত হয়েছেন অন্তত ৯ জন। এছাড়া বেশ কিছু ঘরবাড়ি এবং একটি স্কুল ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এনএনএ-র তথ্যমতে, দেশটির নাবাতিয়েহ এল ফাউকা এবং সির এল গারবিয়েহ এলাকায় ইসরাইলি হামলায় আরো দু’জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া চৌকিন শহরে পৃথক হামলায় নিহত হয়েছেন আরো দু’জন।
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলীয় এসব জনপদে ইসরাইলি হামলা অব্যাহত থাকায় নিহতের সংখ্যা আরো বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্র : আলজাজিরা
ইরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর কঠোর অবস্থান নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরান পুনরায় আলোচনার টেবিলে ফিরল কি না, তা নিয়ে তিনি মোটেও চিন্তিত নন বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।
ইসলামাবাদে দুই পক্ষের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরান আলোচনায় ফিরে আসুক বা না আসুক, তাতে আমার কিছু যায় আসে না।’
ফ্লোরিডা থেকে ফিরে ওয়াশিংটন ডিসির কাছে জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
এর আগে তিনি ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আলোচনাকে ‘বন্ধুত্বপূর্ণ’ বলে অভিহিত করেছিলেন এবং ধারণা করেছিলেন ইরান হয়তো চুক্তিতে আসবে। তবে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে তিনি অবস্থান পরিবর্তন করেন। তেহরানকে ‘মরিয়া’ উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, তারা যদি আর ফিরে না আসে, তাতেও তার কোনো সমস্যা নেই।
ট্রাম্পের এমন অনমনীয় মনোভাবের পরপরই ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর নৌ-অবরোধের ঘোষণা দেওয়া হয়। ওয়াশিংটনের দাবি, ইরান তাদের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করতে এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে অর্থায়ন বন্ধ করতে রাজি না হওয়াতেই এই অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।
সূত্র : বিবিসি বাংলা

ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত সামরিক নৌ-অবরোধে অংশ নেবে না যুক্তরাজ্য।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, ইরানের বন্দরগুলো অবরুদ্ধ করার জন্য ব্রিটিশ নৌবাহিনীর জাহাজ বা কোনো সৈন্য ব্যবহার করা হবে না।
তবে বন্দর অবরোধে অংশ না নিলেও ওই অঞ্চলে যুক্তরাজ্যের মাইন অপসারণকারী জাহাজ (মাইনসুইপার) এবং ড্রোন-প্রতিরোধী প্রযুক্তিগুলোর কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
যুক্তরাজ্য সরকারের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, তারা নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার পক্ষে সমর্থন অব্যাহত রাখবেন। তিনি বলেন, ‘বিশ্ব অর্থনীতি এবং আমাদের দেশের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত থাকা অত্যন্ত জরুরি।’
উল্লেখ্য, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার সকাল থেকে ইরানি বন্দরগুলোতে সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধে কঠোর নৌ-অবরোধের ঘোষণা দিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে মিত্র দেশ হিসেবে যুক্তরাজ্য তাদের অবস্থান স্পষ্ট করল।
সূত্র : বিবিসি
লেবাননজুড়ে ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় প্রাণহানির সংখ্যা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। গত বুধবার (৮ এপ্রিল) মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে দেশজুড়ে ইসরাইলি হামলায় অন্তত ৩৫০ জন নিহত হয়েছেন।
যুদ্ধবিধ্বস্ত লেবাননের বিভিন্ন প্রান্তে চালানো এই ত্বরিত ও প্রাণঘাতী হামলায় বেসামরিক নাগরিকদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। নিহতের সংখ্যা এতই বেশি যে হাসপাতাল ও উদ্ধারকারী দলগুলো পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরাইলি সামরিক অভিযানে লেবাননে নিহতের মোট সংখ্যা ইতোমধ্যেই দুই হাজার ছাড়িয়ে গেছে। মঙ্গলবারের যুদ্ধবিরতি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর বুধবারের এই বিশাল প্রাণহানি মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাকে আরো চরম পর্যায়ে নিয়ে গেছে।
সূত্র : আলজাজিরা
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ও ইসরাইল ইস্যুতে নেটো জোটের সমর্থন না পাওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজ-এ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, নেটো জোটের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় এখন থেকে ‘গভীরভাবে পরীক্ষা’ বা তদন্ত করে দেখা হবে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ইরান ও ইসরাইল সংকটের সময়ে নেটো জোট যুক্তরাষ্ট্রের পাশে দাঁড়াতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলেন, ‘প্রয়োজনের সময় তারা আমাদের জন্য সেখানে ছিল না। এখন তারা এগিয়ে আসতে চাইছে, কিন্তু এখন আর বাস্তবে কোনো হুমকি নেই।’
এই সামরিক জোটে যুক্তরাষ্ট্রের সদস্যপদ থাকা বা না থাকা নিয়ে পুনরায় প্রশ্ন তুলে ট্রাম্প বলেন, ‘আপনারা জানেন, নেটোকে সহায়তার জন্য আমরা ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছি। যা মূলত রাশিয়ার হাত থেকে তাদের রক্ষা করার জন্য। রাশিয়ার বিরুদ্ধে সুরক্ষার জন্য আমাদের এত বিশাল অংকের অর্থ ব্যয় করাটা দীর্ঘদিন ধরেই আমার কাছে কিছুটা হাস্যকর মনে হয়েছে। আমি মনে করি, এই ব্যয়ের বিষয়টি এখন থেকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হবে।’
এর আগে ট্রাম্প বারবার অভিযোগ করেছেন, অনেক সদস্য দেশ তাদের প্রতিরক্ষা বাজেটের ন্যায্য অংশ পরিশোধ করছে না এবং যুদ্ধের সময়ে যুক্তরাষ্ট্রকে পর্যাপ্ত সহায়তা দিচ্ছে না। আজকের এই মন্তব্যের মাধ্যমে নেটো জোটে যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ ভূমিকা এবং আর্থিক অবদান নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হলো।
সূত্র : আলজাজিরা
ইরানের সঙ্গে আলোচনা ভেস্তে গেলেও দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতি ‘ঠিকঠাক চলছে’ বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
রোববার রাতে দেওয়া বক্তব্যে তিনি দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতি নিয়ে মন্তব্য করেন।
এ সময় ইরানের সামরিক শক্তি নিয়ে বিদ্রূপ করে তিনি বলেন, ‘তাদের সামরিক বাহিনী ধ্বংস হয়ে গেছে। তাদের পুরো নৌবাহিনী এখন পানির নিচে।’
সূত্র : সিএনএন
ইরানের সব বন্দরে নৌ-অবরোধ আরোপের সময়সীমা পুনরায় নিশ্চিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
আজ সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টা (জিএমটি ১৪:০০) থেকেই এই অবরোধ কার্যকর শুরু হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ‘১৩ এপ্রিল সকাল ১০টা থেকে ইরানি বন্দরগুলোতে প্রবেশকারী এবং সেখান থেকে বের হওয়া সব জাহাজের ওপর যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ আরোপ করতে যাচ্ছে। এই বিষয়ে মনোযোগ দেওয়ার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ।’
এর আগে মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকেও একই সময়ের কথা জানিয়ে বলা হয়েছিল, এই অবরোধ অত্যন্ত কঠোরভাবে পালন করা হবে। মূলত ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক ইস্যুতে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হওয়ার পর এই চরম সিদ্ধান্ত নিলেন ট্রাম্প।
সূত্র : আলজাজিরা

ইরান যুদ্ধের বিরোধিতা করায় পোপ চতুর্দশ লিওর কড়া সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার নিজের সামাজিকমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘পোপ অপরাধ দমনে দুর্বল এবং পররাষ্ট্র নীতির জন্য জঘন্য।’
ক্যাথলিক চার্চের প্রধান পোপ লিও এরআগে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শেষ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘এই যুদ্ধকে চালিত করেছে সর্বশক্তিমান হওয়ার ভ্রান্ত ধারণা।’
ইরান যুদ্ধ শেষ করার চুক্তিতে রাজি না হলে ‘আজ রাতেই একটি গোটা সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে’ ট্রাম্পের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে পোপ বলেন, ‘এটি একেবারেই অগ্রহণযোগ্য’। এখানে অবশ্যই আন্তর্জাতিক আইনের প্রশ্ন রয়েছে, কিন্তু তার চেয়েও বড় কথা, এটি একটি নৈতিক প্রশ্ন।’
তার এসব কথার সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি এমন পোপ চাই না, যিনি মনে করেন ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র থাকাটা ঠিক আছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘পোপ হিসেবে লিওর উচিত নিজেকে শুধরে নেওয়া, সাধারণ জ্ঞান ব্যবহার করা, উগ্র বামপন্থিদের তোষামোদ বন্ধ করা এবং একজন রাজনীতিবিদ না হয়ে একজন মহান পোপ হওয়ার দিকে মনোযোগ দেওয়া।’
ট্রাম্প পোপ লিওর নির্বাচনের কৃতিত্বও দাবি করেছেন। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, হোয়াইট হাউসের আনুকূল্য পেয়েই ভ্যাটিক্যান প্রথমবারের মতো মার্কিন বংশোদ্ভূত পোপকে বেছে নিয়েছে। ট্রাম্প বলেন, ‘আমি যদি হোয়াইট হাউসে না থাকতাম, লিও ভ্যাটিকানে থাকতেন না।’
সূত্র: আল জাজিরা/বিবিসি
ইসরাইলি হামলায় আহত লেবানন সেনা আব্বাস হাসান কাসেম (৪১)-এর মৃত্যু হয়েছে।
রোববার লেবাননের সেনাবাহিনী ওই সেনার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।
লেবাননের সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, গত ৮ এপ্রিল পূর্ব বালবেকের শামশতার শহরে ইসরাইলি বাহিনীর একটি ‘শত্রুতামূলক হামলায়’ আব্বাস হাসান কাসেম (৪১) নামের ওই সেনা সদস্য গুরুতর আহত হয়েছিলেন। রোববার চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
আব্বাস হাসান কাসেমের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে লেবানন সেনাবাহিনী। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি বেশ কয়েকটি পদক ও সেনাপ্রধানের পক্ষ থেকে বিশেষ প্রশংসা ও অভিনন্দনপত্র লাভ করেছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে কাসেম বিবাহিত ছিলেন এবং তার তিন সন্তান রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২ মার্চ থেকে লেবাননে ইসরাইলি বাহিনীর অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে দেশটিতে রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও প্রাণহানির ঘটনা অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র : আলজাজিরা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত নৌ-অবরোধের হুমকিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ নেতার একজন জ্যেষ্ঠ সামরিক উপদেষ্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যেকোনো ধরনের নৌ-অবরোধ প্রচেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্র নিশ্চিতভাবে ব্যর্থ হবে।
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির উপদেষ্টা এবং ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সাবেক প্রধান মোহসেন রেজাই এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘অতীতের মতোই যুক্তরাষ্ট্র এবারো ইরানের কাছে ঐতিহাসিক পরাজয় বরণ করবে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ বা যেকোনো নৌ-অবরোধ সফল হতে দেবে না আমাদের সশস্ত্র বাহিনী।’
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্প্রতি হরমুজ প্রণালিতে নৌ-অবরোধের পরিকল্পনার কথা জানানোর পর তেহরানের পক্ষ থেকে এই কড়া প্রতিক্রিয়া এলো। রেজায়ি আরো বলেন, ইরানের সামরিক বাহিনীর কাছে এমন অনেক ‘অব্যবহৃত সক্ষমতা’ রয়েছে যা যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় যথেষ্ট।
যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘ইরান এমন কোনো দেশ নয় যাকে কেবল টুইট বা কাল্পনিক অবরোধের পরিকল্পনা দিয়ে আটকে রাখা যাবে।’
এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির উচ্চাকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করতে না চাওয়ায় ইসলামাবাদের শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে। এর পরপরই হরমুজ প্রণালি ঘিরে সামরিক ও কৌশলগত উত্তেজনা নতুন মাত্রা পায়।
সূত্র : সিএনএন

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর স্রিফাতে ইসরাইলি বিমান হামলায় একই পরিবারের চার সদস্য নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে এক শিশু কন্যা রয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই ভয়াবহ হামলায় এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৫৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া আহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে অন্তত ৬ হাজার ৫৮৮ জনে।
লেবাননের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ইসরাইলি হামলার তীব্রতায় দেশটির চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। অসংখ্য এলাকা এই হামলার শিকার হয়েছে এবং হাসপাতালগুলোতে আহতদের ভিড় সামলানো অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
টায়ার শহরের একটি স্কুলে আশ্রয় নেওয়া বাস্তুচ্যুতরা এই অন্তহীন যুদ্ধ নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ৫০ বছর বয়সী হোসেন মেসলমানি বলেন, ‘আমরা প্রতিদিন আলোচনার নামে কালক্ষেপণ আর এই হত্যা দেখতে চাই না। আমরা চাই এর চূড়ান্ত অবসান হোক, যেন সবাই যার যার জমিতে ফিরে থাকতে পারে।’
সূত্র : আলজাজিরা
পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার উত্তেজনা এখন চরমে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক ইরানকে লক্ষ্য করে ‘নৌ-অবরোধ’ ঘোষণার পর কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে সব ধরনের নৌযান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।
সামুদ্রিক গোয়েন্দা সংস্থা লয়েডস লিস্ট জানিয়েছে, ট্রাম্পের অবরোধ ঘোষণার পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলরত নৌযানগুলো তাৎক্ষণিকভাবে যাত্রা স্থগিত করেছে। এমনকি প্রণালি অতিক্রম করতে যাওয়া বেশ কিছু জাহাজ মাঝপথ থেকে ফিরে আসছে।
সংস্থাটি জানায়, শনিবার পর্যন্ত একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তির আশায় কিছু ট্যাংকার ঝুঁকি নিয়ে চলাচলের চেষ্টা করলেও রোববারের ঘোষণার পর পরিস্থিতি পাল্টে যায়। বর্তমানে বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান এই রুটে জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়েছে।
সূত্র : আলজাজিরা
পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত আলোচনা স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধ করতে ব্যর্থ হওয়ার পর ইরানে পুনরায় বিমান হামলা শুরু করার কথা চিন্তা করছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, রোববার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে অবরোধের যে ঘোষণা দিয়েছেন তার সাথে আবারো বিমান হামলা চালানোর বিষয়টিও তার বিবেচনায় আছে।
খবরে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিমান হামলার পাশাপাশি আরো কিছু পদক্ষেপের কথা বিবেচনা করছেন। এর মধ্যে রয়েছে হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ, যা তিনি গতকাল রোববারই ঘোষণা করেন।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস বলেন, ইরানের চাঁদাবাজি বন্ধের উদ্দেশ্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইতোমধ্যে হরমুজ প্রণালিতে নৌ অবরোধের নির্দেশ দিয়েছেন। এ ছাড়া তিনি বিচক্ষণতার সঙ্গে অন্য সব বিকল্প বিবেচনায় রেখেছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পরবর্তী কী পদক্ষেপ নেবেন, এ বিষয়ে কেউ যদি ওয়াল স্ট্রিট জার্নানকে কিছু বলে থাকেন, তা সম্পূর্ণই অনুমাননির্ভর।
সূত্র: বিবিসি
হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিলো ইরান
পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার উত্তেজনা এখন চরমে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক ইরানকে লক্ষ্য করে ‘নৌ-অবরোধ’ ঘোষণার পর কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে সব ধরনের নৌযান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।
সামুদ্রিক গোয়েন্দা সংস্থা লয়েডস লিস্ট জানিয়েছে, ট্রাম্পের অবরোধ ঘোষণার পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলরত নৌযানগুলো তাৎক্ষণিকভাবে যাত্রা স্থগিত করেছে। এমনকি প্রণালি অতিক্রম করতে যাওয়া বেশ কিছু জাহাজ মাঝপথ থেকে ফিরে আসছে।
সংস্থাটি জানায়, শনিবার পর্যন্ত একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তির আশায় কিছু ট্যাংকার ঝুঁকি নিয়ে চলাচলের চেষ্টা করলেও রোববারের ঘোষণার পর পরিস্থিতি পাল্টে যায়। বর্তমানে বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান এই রুটে জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়েছে।
সূত্র : আলজাজিরা

লেবাননে ইসরাইলি সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে নিহতের সংখ্যা দুই হাজার ছাড়িয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই ভয়াবহ হামলায় এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৫৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া আহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে অন্তত ৬ হাজার ৫৮৮ জনে।
অন্যদিকে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হওয়ার পর তিনি এই মন্তব্য করেন।
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দুই পক্ষের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের এই আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছে। বৈঠকের পর ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান এখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির উচ্চাকাঙ্ক্ষা লালন করছে এবং আলোচনার সময় তারা সেই ইঙ্গিত দিয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, ‘তারা (ইরান) এখনো এটি (পারমাণবিক অস্ত্র) চায় এবং গতরাতের বৈঠকে তারা সেটি স্পষ্ট করেছে। তবে ইরান কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র হাতে পাবে না।’
তিনি আরো যোগ করেন, তেহরান তাদের পারমাণবিক লক্ষ্য ত্যাগ করতে অনিচ্ছুক হওয়ার কারণেই আলোচনা সফল হয়নি।
আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার জন্য ওয়াশিংটনকে দায়ী করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি জানান, দুই পক্ষ একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছেছিল।
আরাগচি বলেন, ‘আমরা চুক্তির একদম ইঞ্চিখানেক দূরত্বে ছিলাম। কিন্তু শেষ মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ম্যাক্সিমালিজম’ (সর্বোচ্চ সুবিধা আদায়ের নীতি), ঘনঘন শর্ত পরিবর্তন এবং বাধার কারণে তা সম্ভব হয়নি।’
মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই লেবাননে ইসরাইলি বিমান ও স্থল হামলা অব্যাহত রয়েছে। লেবানন সরকারের দেওয়া তথ্যমতে, এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা এই হামলায় বেসামরিক নাগরিক ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। নিহতের সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে, যা ওই অঞ্চলে মানবিক সংকটকে আরো ঘনীভূত করছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইসলামাবাদে আলোচনা ব্যর্থ হওয়া এবং লেবাননে হামলা অব্যাহত থাকায় মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরো অনিশ্চয়তার দিকে ধাবিত হতে পারে।
সূত্র : আলজাজিরা

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছে। এই বৈঠকের পর ইরানকে নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, ইরান এখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির উচ্চাকাঙ্ক্ষা পোষণ করছে এবং আলোচনার সময় তারা সেই ইঙ্গিত দিয়েছে।
ইসলামাবাদে দুই পক্ষের প্রতিনিধিদের মধ্যে সরাসরি আলোচনার পর ট্রাম্প বলেন, ‘তারা (ইরান) এখনো এটি (পারমাণবিক অস্ত্র) চায় এবং গতরাতের বৈঠকে তারা সেটি স্পষ্ট করেছে। তবে ইরান কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র হাতে পাবে না।’
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মতে, তেহরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি ত্যাগ করতে অনিচ্ছুক হওয়ায় এই আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ইরান পরমাণু অস্ত্র অর্জনের পথ থেকে সরে আসতে চায় না বলেই কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে, আলোচনায় ব্যর্থতার জন্য ওয়াশিংটনকে দায়ী করেছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এক বিবৃতিতে জানান, দুই পক্ষ একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছেছিল। তিনি বলেন, ‘আমরা চুক্তির একদম ইঞ্চিখানেক দূরত্বে ছিলাম। কিন্তু শেষ মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ চাপ (ম্যাক্সিমালিজম), ঘনঘন শর্ত পরিবর্তন এবং বাধার কারণে তা সম্ভব হয়নি।’
উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন ধরে পাকিস্তানে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের মধ্যে এই রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চলমান উত্তেজনা নিরসনে এই বৈঠককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত দুই পক্ষই সমঝোতা ছাড়াই পাকিস্তান ত্যাগ করল।
সূত্র : আলজাজিরা
মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ১৩ এপ্রিল থেকে তারা ইরানের ওপর নৌ-অবরোধ কার্যকর করতে যাচ্ছে। প্রেসিডেন্টের ঘোষণা অনুযায়ী ওই দিন সকাল ১০টা থেকে ইরানি বন্দরগুলোতে আসা-যাওয়া করা সব ধরনের নৌ-চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হবে।
এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যকার আলোচনা কোনো ফলাফল ছাড়াই শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালি অবরোধ করবে।
সেন্টকমের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের ইরানি বন্দরসহ দেশটির সব উপকূলীয় এলাকায় যাতায়াতকারী সব দেশের জাহাজের ওপরই এই অবরোধ সমানভাবে কার্যকর করা হবে।’
সূত্র: আল–জাজিরা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানকে ঘিরে নৌ অবরোধ শুরু করতে যাচ্ছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। সোমবার সকাল ১০টা থেকে এ অবরোধ কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। অন্যদিকে হরমুজ প্রণালিতে বেসামিরক নৌযানের জন্য খোলা থাকলেও কোনো সামরিক জাহাজ চলতে দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালায়। মূলত তখন থেকেই হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে রেখেছে ইরান। বিশ্বের মোট জ্বালানি প্রায় ২০ শতাংশ সরবরাহের এ গুরুত্বপূর্ণ পথ বন্ধ হয়ে যাওয়া বিশ্বজুড়ে জ্বালানি নিয়ে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার অপেক্ষায় বসে নেই কাতার ও সৌদি আরবের মতো দেশগুলো। কাতার গতকালই সমুদ্রপথে সব ধরনের বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। অন্যদিকে সৌদি আরব আজ জানিয়েছে যে তারা তাদের পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনটি পূর্ণ ক্ষমতায় চালু করতে সক্ষম হয়েছে। ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এই পাইপলাইনটি এখন পুরোপুরি সচল।
এই পাইপলাইনটি সৌদি আরবের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি হরমুজ প্রণালীকে সম্পূর্ণ এড়িয়ে প্রতিদিন প্রায় ৭০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করতে পারে। এছাড়া দেশটির দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে অবস্থিত মানিফা তেলক্ষেত্রটিও প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যা থেকে প্রতিদিন অতিরিক্ত ৩ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
সংকটকালীন এ পরিস্থিতিতে নিজেদের অর্থনীতি সচল রাখতে এখন বিকল্প পথ ও নতুন কৌশলই উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রধান ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সূত্র: আল জাজিরা।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে অবরোধের হুমকি দেওয়ার পর ইরান রেভ্যুলেশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসি হরমুজ প্রণালিতে নজরদারির একটি ড্রোন ভিডিও প্রকাশ করেছে।
ওই ভিডিওর ক্যাপশনে লেখা ছিল- "সমস্ত নৌযান চলাচল ইরানি বাহিনীর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে”"
ওই ভিডিওটি প্রকাশের পর আইআরজিসি নৌ কমান্ড সতর্ক করে বলেছে যে, যদি কেউ হরমুজ প্রণালি নিয়ে কোনো ধরনের তৎপরতা চালাতে যায় তারা বিপদে পড়বে।
এদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প ফক্স নিউজকে বলেছেন যে তিনি হরমুজ প্রণালি অবরোধ করতে চান, কিন্তু সেটির জন্য কিছুটা সময় লাগবে।
চুক্তি না হলে তিনি ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো ধ্বংস করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে ট্রাম্প বলেছেন যে, "আমি একদিনেই ইরানকে শেষ করে দিতে পারি”।
এর আগে ইরান জানিয়েছিল যে, তাদের অবকাঠামো আক্রান্ত হলে তারা ইসরাইলে ও এই অঞ্চলের অন্যান্য দেশে থাকা একই ধরনের স্থাপনাগুলো ধ্বংস করে দেবে।: বিবিসি

ইরানের সঙ্গে চুক্তি হওয়া এখনও সম্ভব বলে মনে করেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তবে ইরান তাদের পরমাণু কর্মসূচি ছাড়তে রাজি না হওয়ায় একটি ‘চূড়ান্ত প্রস্তাব’ দিয়ে ইসলামাবাদ ত্যাগ করেছেন তিনি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মার্কিন কর্মকর্তা আলোচনার এ সারসংক্ষেপ জানিয়েছেন।
ওই মার্কিন কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেওয়া ভ্যান্স আলোচনা শেষে এই বিশ্বাস নিয়ে ফিরেছেন যে, ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে দরকষাকষিতে ইরানের হাতে ঠিক কতটা শক্তি আছে, সে বিষয়ে দেশটির শাসকদের মধ্যে ‘ভুল ধারণা’ রয়েছে।
দীর্ঘ আলোচনা সত্ত্বেও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দুই পক্ষ কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি। ওই মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, অমীমাংসিত বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে—ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করা, আঞ্চলিক মিত্রদের নিয়ে একটি বৃহত্তর শান্তি কাঠামো তৈরি এবং কোনো ধরনের টোল বা শুল্ক ছাড়াই হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার স্থায়ী সমাধান। সূত্র: বিবিসি।

হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) নতুন করে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তারা সতর্ক করে বলেছেযে, ‘যেকোনো ভুল পদক্ষেপ শত্রুকে এই প্রণালীর প্রাণঘাতী ঘূর্ণিতে আটকে ফেলবে”।
আইআরজিসির নৌ কমান্ড আরো দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালিতে চলাচল সম্পূর্ণভাবে তাদের নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ড্রোনের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
এই সতর্কবার্তা এসেছে এমন সময়, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রণালীতে নৌ অবরোধ আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। এর জবাবেই ইরান এই কঠোর ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানায়।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে বৈশ্বিক তেল ও গ্যাসের বড় অংশ পরিবাহিত হয়, ফলে এখানে সামান্য উত্তেজনাও আন্তর্জাতিক বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্র: আলজাজিরা।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ঘিরে আরো কড়া ও সরাসরি সামরিক হুমকি দিয়েছেন। ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে একদিনেই ইরানকে ধ্বংস করে দিতে পারে এবং দেশটির জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করতে পারে।
তিনি বলেন, ‘আমি একদিনেই ইরানকে শেষ করে দিতে পারি… তাদের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রসহ পুরো জ্বালানি ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিতে পারি।’
একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালী নিয়ে নিজের পরিকল্পিত অবরোধের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন ট্রাম্প। তার মতে, ইরান কোনোভাবেই ঠিক করতে পারে না কোন জাহাজ চলাচল করবে আর কোনটি করবে না।
তিনি বলেন, “সব জাহাজের জন্য নিরাপদ চলাচল থাকবে, নাহলে কারও জন্যই থাকবে না।”
ট্রাম্প ফক্স নিউজকে বলেন, ‘ইরানকে তাদের পছন্দের লোকদের কাছে তেল বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করতে দেব না। তিনি বলেন, ‘হয় সবটা, নয়তো কিছুই না, আর এটাই নিয়ম।’
এই মন্তব্য এসেছে পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার ব্যর্থতার পর, যেখানে মূল মতবিরোধ ছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণ নিয়ে।
সূত্র: আলজাজিরা।

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চালানো যুদ্ধে ইসরাইলের ১১ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি খরচ হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয়।
প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৫ বিলিয়ন শেকেল (প্রায় ১১.৫২ বিলিয়ন ডলার), যার মধ্যে ২২ বিলিয়ন শেকেল সরাসরি প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় হয়েছে।
ইসরায়েল সরকার জানিয়েছে, এই বিপুল ব্যয় ইতোমধ্যে ২০২৬ সালের জাতীয় বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এটি কেবল প্রাথমিক হিসাব—যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে ব্যয় আরো বাড়তে পারে। এর আগে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সংঘাতের সময়কাল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সামরিক ব্যয়, ক্ষয়ক্ষতি এবং অর্থনৈতিক ক্ষতি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সূত্র: আলজাজিরা।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে লক্ষ্য করে আবারো কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘লকড অ্যান্ড লোডেড’ অবস্থায় রয়েছে এবং ‘উপযুক্ত সময়ে’ ইরানকে ‘শেষ করে দেবে’।
তার এই মন্তব্য এসেছে এমন এক সময়ে, যখন পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত দীর্ঘ আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে।
ট্রাম্পের এই বক্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে যে, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চললেও যুক্তরাষ্ট্র সামরিক বিকল্পকেও সামনে রেখে এগোচ্ছে।
পাকিস্তানের ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মাথায় ট্রাম্প এই হুমকি দিলেন। আলোচনার ব্যর্থতার পর দুই দেশের মধ্যেই উত্তেজনা আরো বেড়েছে এবং পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা এখন আন্তর্জাতিক মহলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র: আলজাজিরার।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে ‘অবরোধ’ আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালিতে যাতায়াতকারী জাহাজগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপে মার্কিন বাহিনী দ্রুত ব্যবস্থা নেবে।
তিনি আরো লিখেছেন, একসময় এমন পরিস্থিতি তৈরি হবে যেখানে সবাই অবাধে হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করতে পারবে, কিন্তু ইরান বর্তমানে তা হতে দিচ্ছে না।
ট্রাম্প জানান, আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইরানকে টোল প্রদান করা জাহাজগুলোকে শনাক্ত করে থামাতে নৌবাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তার ভাষায়, যারা অবৈধভাবে এই ধরনের অর্থ পরিশোধ করবে, তাদের জন্য গভীর সমুদ্রে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা হবে না।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানে হামলার পর থেকেই হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহ হয়ে থাকে, ফলে এর কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
সূত্র: আলজাজিরার।

ইরানে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে দেশজুড়ে অন্তত ৯৪২টি স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে ১৮টি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার।
আধা-সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাতে এক সরকারি মুখপাত্র জানান, এসব ক্ষতিগ্রস্ত স্কুল দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং যেগুলো মেরামতযোগ্য, সেগুলো আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে পুনরুদ্ধার করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এর আগে বিভিন্ন সূত্রে জানা গিয়েছিল, যুদ্ধের প্রথম দিকেই শত শত স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, যা এখন আরো বেড়ে প্রায় এক হাজারের কাছাকাছি পৌঁছেছে।
সূত্র: আলজাজিরা।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত সমাধানে কূটনীতিক প্রচেষ্টাকেই ‘অপরিহার্য’ বলে উল্লেখ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ায় এই মন্তব্য এসেছে।
এএফপির বরাতে ইইউর পররাষ্ট্রবিষয়ক মুখপাত্র আনোয়ার এল আনুনি বলেন, শান্তি চুক্তিতে পৌঁছাতে কূটনীতির কোনো বিকল্প নেই।
এসময় তিনি পাকিস্তানের মধ্যস্থতামূলক ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, ‘আমরা পাকিস্তানের প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানাই।’
একই সঙ্গে তিনি জানান, ব্রাসেলস ভবিষ্যতে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় আরো অবদান রাখতে আগ্রহী।
আন্তর্জাতিক মহল এখনো কূটনৈতিক সমাধানের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে, যদিও সাম্প্রতিক আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ায় পরিস্থিতি অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
সূত্র: আলজাজিরা।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের নিয়ন্ত্রণ দাবি সরাসরি অস্বীকার করেছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি অ্যাডনকের প্রধান নির্বাহী সুলতান আল-জাবের।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ বন্ধ করা বা এর মধ্য দিয়ে নৌচলাচল সীমিত করার অধিকার কখনোই ইরানের ছিল না।
তিনি সতর্ক করে বলেন, হরমুজ প্রণালিতে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহের পাশাপাশি খাদ্য ও স্বাস্থ্য নিরাপত্তাকেও মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।
আল-জাবের আরো বলেন, এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে তা একটি বিপজ্জনক ও অগ্রহণযোগ্য নজির স্থাপন করবে, যা ভবিষ্যতে বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়াবে।
তার মতে, বিশ্ব কোনোভাবেই এর ভার বহন করতে পারবে না আর কোনোভাবেই এর অনুমতি দেওয়া উচিত নয়।
সূত্র: আলজাজিরা।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলার ৪০ দিনের পর দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র। তবে ইতোমধ্যে ইরান দেশটির অনেক শীর্ষ নেতা হারানের পাশাপাশি ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন। এ পরিস্থিতিতে সাম্প্রতিক যুদ্ধে ইরানে নিহতের সংখ্যা ৩,৩৭৫ জনের দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির ফরেনসিক মেডিসিন অর্গানাইজেশন।
সংস্থাটির প্রধান আব্বাস মাসজেদি আরানি বলেন, নিহতদের লাশ শনাক্ত করা হয়েছে এবং এর মধ্যে ২,৮৭৫ জন পুরুষ ও ৪৯৬ জন নারী রয়েছেন।
এই তথ্য ইরানের সরকারি সূত্র থেকে প্রকাশিত হলেও যুদ্ধের প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র এখনও নির্ধারণ করা কঠিন। যোগাযোগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং অনেক এলাকা থেকে তথ্য সংগ্রহে বাধা থাকায় প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র: আলজাজিরা।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় দুই হাজারের বেশি শিশু ও কিশোর আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
ইরানের জরুরি সেবা বিভাগের প্রধান জাফর মিয়াদফার জানান, এসব হামলায় অন্তত ২ হাজার ১১৫ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক আহত হয়েছে।
মেহর নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আহতদের মধ্যে ১৮ বছরের কম বয়সীদের মধ্যেই এই সংখ্যা সীমাবদ্ধ। এদের মধ্যে ১২৪ জনের বয়স পাঁচ বছরের নিচে, এমনকি ২৪ জনের বয়স দুই বছরেরও কম।
তিনি আরো জানান, হামলায় প্রায় ৫ হাজার নারীও আহত হয়েছেন।
এই হামলাগুলোর বেশিরভাগ সংঘটিত হয়েছে তেহরান, খুজেস্তান, লারেস্তান, ইসফাহান, কেরমানশাহ এবং ইলাম প্রদেশে।
সূত্র: আলজাজিরা।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর উভয় পক্ষকে ‘সমাধানের পথ খুঁজে বের করার’ আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, ওমানের সুলতানের সঙ্গে এক আলোচনায় তিনি যুদ্ধবিরতি অব্যাহত রাখার ওপর জোর দেন এবং বলেন, পরিস্থিতির আর কোনো উত্তেজনা যেন না বাড়ে, তা নিশ্চিত করা জরুরি।
স্টারমার মনে করেন, চলমান যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা বর্তমান পরিস্থিতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আর এখানে সব পক্ষই সংঘাত এঁড়িয়েছে।
এদিকে যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য সচিব ওয়েস স্ট্রিটিং বিবিসির একটি অনুষ্ঠানে বলেন, ইরান যুদ্ধ বন্ধে প্রাথমিক আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই ভেঙে পড়ায় তা হতাশাজনক।
তবে তিনি যুক্তরাজ্যের অবস্থানকে সমর্থন করে বলেন, এই সংঘাতে সরাসরি যুক্ত না হওয়ার সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল।
সূত্র: আলজাজিরা।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক আলোচনার পর হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ইরানের ডেপুটি পার্লামেন্ট স্পিকার হাজি বাবাই দাবি করেছেন, এই কৌশলগত জলপথ পুরোপুরি ইরানের নিয়ন্ত্রণে এবং এখানে চলাচলের জন্য রিয়ালে টোল দিতে হবে।
বাবাই বলেন, প্রণালিটি সম্পূর্ণরূপে ইরানের হাতে এবং এর টোল অবশ্যই ইরানের মুদ্রা রিয়ালে পরিশোধ করতে হবে।
ইসলামিক প্রোপাগেশন অর্গানাইজেশনের সাথে যুক্ত মেহর নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের ডেপুটি পার্লামেন্ট স্পিকার হাজি বাবাই বলেছেন যে, এই প্রণালিটি তেহরানের জন্য একটি রেড লাইন।
বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়, ফলে এর গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতির একটি প্রধান শর্ত ছিল এই পথ দিয়ে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তবে আলোচনায় এটি বড় ধরনের মতবিরোধের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স পাকিস্তানে ইরানের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর সংবাদ সম্মেলনে হরমুজ প্রণালি নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
সূত্র: বিবিসি।
ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক আলোচনা শেষে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া একাধিক পোস্টে তিনি বলেন, আলোচনা শুরুর আগেই ইরান পক্ষ থেকে ‘প্রয়োজনীয় সদিচ্ছা ও আগ্রহ’ দেখানো হয়েছিল, তবে অতীতের দুই যুদ্ধের অভিজ্ঞতার কারণে প্রতিপক্ষের ওপর আমাদের কোনো বিশ্বাস ছিল না।
গালিবাফের দাবি, আলোচনার পুরো প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানি প্রতিনিধিদের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। তার ভাষায়, এই দফার আলোচনায় প্রতিপক্ষ শেষ পর্যন্ত ইরানি প্রতিনিধিদলের বিশ্বাস অর্জন করতে পারেনি।
একই সঙ্গে আলোচনার আয়োজন ও সহায়তার জন্য পাকিস্তানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। গালিবাফ বলেন, ‘বন্ধুত্বপূর্ণ ও ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ পাকিস্তানের প্রচেষ্টার জন্য আমি কৃতজ্ঞ এবং তাদের জনগণের প্রতি শুভেচ্ছা জানাই।’
সূত্র: আলজাজিরা।
লন্ডন পুলিশ ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’-এর সমর্থনে আয়োজিত এক বিক্ষোভ মিছিল থেকে শনিবার ২ শতাধিক ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করেছে।
রাজধানীর ট্রাফালগার স্কয়ারে সমবেত বিক্ষোভকারীদের করতালি ও উল্লাসের মাঝখান থেকে পুলিশ এই কর্মীদের গ্রেপ্তার করে।
বিক্ষোভকারীরা নিষিদ্ধ সংগঠন ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’-এর সমর্থনে প্ল্যাকার্ড বহন করায় তারা গ্রেফতারের মুখে পড়েন।
গত বছরের জুলাইয়ে ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’কে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করা হয়। সংগঠনটির সদস্য হওয়া বা সমর্থন করা ফৌজদারি অপরাধ। এর শাস্তি সর্বোচ্চ ১৪ বছর কারাদণ্ড।
এর বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ করে লন্ডন হাইকোর্টে আবেদন করা হলে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝিতে আদালত ‘এতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হয়েছে’ উল্লেখ করে এই নিষেধাজ্ঞা বাতিল করে রায় দেয়।
সরকার অবশ্য এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার অনুমতি পেয়েছে।
হাইকোর্টের রায়ের পর লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ কিছুদিনের জন্য গ্রেপ্তার কার্যক্রম স্থগিত রাখে। পরে মার্চের শেষ দিকে আবার তা শুরু করার ঘোষণা দেয়।
বিক্ষোভকারীদের একজন, ২৮ বছর বয়সী ফ্রেয়া, লন্ডনের একটি পরিবেশ বিষয়ক সংগঠনের ব্যবস্থাপক, তিনি বলেন, ‘এভাবে উপস্থিত থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের সবারই গণহত্যার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া জরুরি। সরকার আইনি অবস্থান পাল্টাতে পারে, কিন্তু তাতে এখানে থাকা মানুষের নৈতিক অবস্থান বদলায় না।’
লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানায়, ২৭ থেকে ৮২ বছর বয়সী মোট ২১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞা জারির পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩ হাজার জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বেশিরভাগই সংগঠনটির পক্ষে প্ল্যাকার্ড বহনের অভিযোগে আটক হন। কয়েক শ’ মানুষের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
সূত্র : এএফপি

ইরানের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার অবস্থান ও সংবেদনশীল তথ্য ‘শত্রুরাষ্ট্রের’ কাছে পাচারের অভিযোগে অন্তত ৫০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী।
রোববার (১২ এপ্রিল) ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এসএনএন এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা ‘ভাড়াটে’ হিসেবে কাজ করছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ আনা হয়েছে।
ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, আটককৃতরা দেশটির সেবা খাত ও অবকাঠামোসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল স্থাপনার অবস্থান সংক্রান্ত তথ্য বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে সরবরাহ করে আসছিলেন।
অভিযান চলাকালীন তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ইলেকট্রনিক ডিভাইস, স্যাটেলাইট সরঞ্জাম এবং অস্ত্রশস্ত্র জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এসএনএন।
উল্লেখ্য, গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাথে ১২ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর থেকেই ইরানে গুপ্তচরবৃত্তি বিরোধী অভিযান জোরদার করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সংঘাতের জেরে এর আগেও অনেক ব্যক্তিকে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
ইরানের সম্প্রতি সংশোধিত গুপ্তচরবৃত্তি বিরোধী আইন অনুযায়ী, এ ধরনের অপরাধে অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। নতুন এই আইনে দোষী সাব্যস্ত হলে অভিযুক্তদের মৃত্যুদণ্ড এবং সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার সুযোগ রয়েছে।
বিগত কয়েক বছর ধরেই আঞ্চলিক অস্থিরতার জেরে ইসরাইল ও পশ্চিমা দেশগুলোর সাথে ইরানের গোয়েন্দা তৎপরতা নিয়ে উত্তেজনা তুঙ্গে রয়েছে। আজকের এই গণ-গ্রেপ্তারের ঘটনা সেই উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ করল।
সূত্র : আল-জাজিরা

লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরাইলের ইয়ারুন নামের একটি অবৈধ বসতিতে ইসরাইলি সেনাদের ওপর ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে।
সংগঠনটি তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আমাদের দেশ ও জনগণের ওপর ইসরাইলি-মার্কিন আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এ প্রতিরোধ অব্যাহত থাকবে।’
সূত্র : আল-জাজিরা
লেবাননজুড়ে ইসরাইলি বাহিনীর বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। গত কয়েক ঘণ্টায় দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় চালানো এসব হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ২৪ জন নিহত হয়েছেন।
দেশটির সরকারি বার্তা সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) ও কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
এনএনএ জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের টায়ার জেলার মারউব শহরে একটি ইসরাইলি অভিযানে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া উপকূলীয় শহর কানায় পৃথক এক হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন আরো পাঁচজন।
অন্যদিকে, দক্ষিণ লেবাননের তেফাহতা শহরে রাতভর চালানো এক ভয়াবহ হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন বলে লেবাননের স্থানীয় সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুধুমাত্র আবাসিক এলাকা নয়, দক্ষিণ লেবাননের আল-বাজুরিয়াহ, কলিলা, বাফলিয়াহ এবং কলাউইয়া শহরেও ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী।
আল-জাজিরা আরবিক জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের কাফরা, হারিস, রাসাফ এবং স্রেবিন শহরগুলোতেও একের পর এক হামলা চালানো হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা এই সংঘাতের ফলে লেবাননের দক্ষিণ সীমান্ত এলাকায় মানবিক পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। ইসরাইলের দাবি, তারা হিজবুল্লাহর সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে এসব হামলা চালাচ্ছে। তবে লেবানন সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হামলায় হতাহতদের বড় একটি অংশই সাধারণ বেসামরিক নাগরিক।
সূত্র: আল-জাজিরা ও এনএনএ
কূটনীতির কোনো শেষ নেই বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই।
ইসমাইল বাঘাই বলেন, ৪০ দিনেরও বেশি সময় ধরে চলা চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের পর এবং যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার দু’দিনের মধ্যেই একটি শান্তি আলোচনা হয়েছে, যা 'অবিশ্বাস, সন্দেহ ও সংশয়ে ভরা' এক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় স্টুডেন্ট নিউজ নেটওয়ার্ককে তিনি বলেন, ‘শুরু থেকেই আমাদের এটা আশা করা উচিৎ ছিল না যে আমরা একটিমাত্র বৈঠকেই কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারব। আমার মনে হয় না কারোই এমন কোনো প্রত্যাশা ছিল।’
তবে, শান্তি আলোচনা বা একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা শেষ হয়ে গেল কী-না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কূটনীতি কখনও শেষ হয় না’।
বাঘাই এর আগে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত 'অতিরিক্ত দাবি' করা থেকে বিরত থাকা।
এদিকে, এর আগে 'ইরান নিউজ নেটওয়ার্ক'কে দেয়া সাক্ষাৎকারে বাঘাই বলেছেন,‘পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ২৪ থেকে ২৫টি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে আমরা মার্কিন প্রতিনিধি দলের সাথে সমঝোতায় পৌঁছেছিলাম, তবে দুই বা তিনটি ক্ষেত্রে মতপার্থক্য ছিল এবং সেখানে আমরা কোনো সমেঝাতায় পৌঁছাতে সক্ষম হইনি।’
তবে, ঠিক কোন বিষয়গুলোতে মতানৈক্য হয়েছিল, সেটি স্পষ্ট করে বলেননি তিনি।
তিনি কেবল বলেছেন, হরমুজ প্রণালি এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতির মতো নতুন বিষয়গুলো যুক্ত হওয়ায় আলোচনা আরও জটিল হয়ে পড়ে।
সূত্র : বিবিসি বাংলা

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলীয় টায়ার ও কানা শহরে ইসরাইলি বিমান হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন।
রোববার দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টায়ার ও কানা শহরে ইসরাইলি বাহিনী ভয়াবহ হামলা চালায়। হামলায় ১১ জনের মৃত্যু হয়। হামলায় আহত হয়েছে আরো বেশ কয়েকজন।
এনএনএ-র প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, হামলার পর বেসামরিক প্রতিরক্ষা দলগুলো দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে হতাহতদের উদ্ধার কাজ শুরু করে। আহতদের চিকিৎসার জন্য নিকটবর্তী টায়ার ও কানা শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
২ মার্চ থেকে লেবানন জুড়ে শুরু হওয়া ইসরাইলি আগ্রাসনে নিহতের সংখ্যা দুই হাজার ছাড়িয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলাগুলোতে বিমান হামলার তীব্রতা গত কয়েক দিনে বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলের যুদ্ধবিরতির আহ্বান সত্ত্বেও বেসামরিক জনপদে এ ধরনের হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরাইলি বাহিনী।
সূত্র : আল-জাজিরা
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলীয় টায়ার জেলায় ইসরাইলি বিমান হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন।
রোববার দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টায়ার জেলার মারুব শহরে একটি আবাসিক এলাকায় ইসরাইলি বাহিনী এই ভয়াবহ অভিযান চালায়। হামলায় ভবনটি ধসে পড়ে এবং ঘটনাস্থলেই ছয়জনের মৃত্যু হয়। উদ্ধারকারী দলগুলো ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে হতাহতদের উদ্ধারে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
২ মার্চ থেকে লেবানন জুড়ে শুরু হওয়া ইসরাইলি আগ্রাসনে নিহতের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলাগুলোতে বিমান হামলার তীব্রতা গত কয়েক দিনে বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলের যুদ্ধবিরতির আহ্বান সত্ত্বেও বেসামরিক জনপদে এ ধরনের হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরাইলি বাহিনী।
সূত্র : আল-জাজিরা
ইরানের স্বাস্থ্য খাতের ওপর মার্কিন ও ইসরাইলি বাহিনীর ভয়াবহ হামলার চিত্র উঠে এসেছে। গত কয়েক দিনের অভিযানে দেশটিতে অন্তত ১১৮ জন স্বাস্থ্যকর্মী নিহত হয়েছেন।
রোববার ইরানের জরুরি বিভাগের প্রধান জাফর মিয়াদফার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহর নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মিয়াদফার জানান, হামলায় স্বাস্থ্য খাতের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। নিহতদের মধ্যে অন্তত ৭৮ জন ছিলেন মাঠপর্যায়ে কর্মরত জরুরি বিভাগের কর্মী। এছাড়া আরো ২৬ জন স্বাস্থ্যকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুধুমাত্র জনবলই নয়, চিকিৎসা সরঞ্জামের ওপরও পরিকল্পিত ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৪০০টিরও বেশি মেডিকেল ইউনিট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধ্বংস করা হয়েছে ৫৭টি জরুরি সহায়তা কেন্দ্র বা ইমার্জেন্সি বেস। এছাড়া হামলায় ৪৭টি অ্যাম্বুলেন্স, দু’টি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স হেলিকপ্টার এবং একটি সি-অ্যাম্বুলেন্স পুরোপুরি অকেজো হয়ে পড়েছে।
জাফর মিয়াদফার হাসপাতালের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘হাসপাতালগুলোতে আমাদের সহকর্মীরা অত্যন্ত উদ্বেগজনক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। চিকিৎসা সরঞ্জাম ও কেন্দ্রগুলো ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় আহত হাজার হাজার বেসামরিক মানুষকে সেবা দেওয়া এখন কঠিন হয়ে পড়েছে।’
সূত্র : আল-জাজিরা
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি বাহিনীর সাম্প্রতিক হামলায় ব্যাপক প্রাণহানির পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ২ হাজারেরও বেশি শিশু ও কিশোর রয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের জরুরি বিভাগ।
দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহর নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিভাগটির প্রধান জাফর মিয়াদফার।
জাফর মিয়াদফার জানান, হামলায় ১৮ বছরের কম বয়সী অন্তত ২ হাজার ১১৫ জন আহত হয়েছেন। আহত শিশুদের মধ্যে ১২৪ জনের বয়স পাঁচ বছরের কম এবং ২৪ জনের বয়স দুই বছরেরও নিচে। কোমলমতি এই শিশুদের ওপর হামলার বিষয়টি এক ভয়াবহ মানবিক সংকটের চিত্র ফুটিয়ে তুলেছে।
জরুরি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, শিশুদের পাশাপাশি প্রায় ৫ হাজার নারীও এই হামলায় আহত হয়েছেন। মূলত তেহরান, খুজেস্তান, লরেস্তান, ইসফাহান, কেরমানশাহ এবং ইলাম প্রদেশে সবচেয়ে বেশি হামলার ঘটনা ঘটেছে। ঘনবসতিপূর্ণ এই এলাকাগুলোতে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ও ধ্বংসযজ্ঞের ফলে বেসামরিক নাগরিকরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
হাসপাতালগুলোতে এখন তিল ধারণের জায়গা নেই। আহতদের চিকিৎসায় হিমশিম খাচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো বেসামরিক স্থাপনা এবং নারী-শিশুদের ওপর এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।
সূত্র : আল-জাজিরা

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলীয় কানা শহরে ইসরাইলি বিমান হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ হামলায় আহত হয়েছে আরো বেশ কয়েকজন।
রোববার লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) এই তথ্য জানিয়েছে।
এনএনএ-র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার পর বেসামরিক প্রতিরক্ষা দলগুলো দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে হতাহতদের উদ্ধার কাজ শুরু করে। আহতদের চিকিৎসার জন্য নিকটবর্তী টায়ার শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
এদিন কানা ছাড়াও টায়ার জেলার অন্যান্য এলাকায় পৃথক হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী। এর মধ্যে মারাকা শহরে চালানো হামলায় অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন।
লেবাননের ইতিহাসে কানা শহরটি একটি বেদনাবিধুর নাম। এর আগে ১৯৯৬ এবং ২০০৬ সালেও এই শহরে বড় ধরনের গণহত্যা চালিয়েছিল ইসরাইলি বাহিনী। নতুন করে এই হামলায় শহরটিতে আবারো আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরাইলি আগ্রাসনে দেশটিতে নিহতের সংখ্যা এখন দুই হাজার ছাড়িয়ে গেল।
সূত্র : আল-জাজিরা

ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত বহুল আলোচিত শান্তি আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছে।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের পর এবার পাকিস্তান ত্যাগ করেছে ইরানের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলটি।
ইরানের মেহর নিউজ এজেন্সি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলটি আজ রোববার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ ত্যাগ করে।
এর আগে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও পাকিস্তান ত্যাগ করেন। যাওয়ার আগে তিনি সাংবাদিকদের জানান, ওয়াশিংটনের দাবিগুলো তেহরান প্রত্যাখ্যান করায় কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। বিশেষ করে পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে দুই পক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড় ছিল।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের এভাবে ফিরে যাওয়া মধ্যপ্রাচ্যে বিদ্যমান উত্তেজনা প্রশমনের পথে বড় একটি ধাক্কা। যদিও মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান আলোচনার পথ খোলা রাখার আহ্বান জানিয়েছে, তবে দুই পক্ষই আপাতত তাদের রাজধানীগুলোতে ফিরে গিয়ে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করবে।
সূত্র : আল-জাজিরা

লেবাননে ইসরাইলি বাহিনীর বর্বরতা চরমে পৌঁছেছে। গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ধারাবাহিক হামলায় দেশটিতে নিহতের সংখ্যা দুই হাজার ছাড়িয়ে গেছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে আল জাজিরা ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইসরাইলি হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ২ হাজার ২০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। আহত হয়েছেন ৬ হাজার ৪৩৬ জন। নিহতের এই তালিকায় ১৬৫ জন শিশু এবং ২৪৮ জন নারী রয়েছেন।
বিশেষ উদ্বেগের বিষয় হলো, জীবন রক্ষাকারী কাজে নিয়োজিত ৮৫ জন স্বাস্থ্যকর্মীও ইসরাইলি আগ্রাসনের হাত থেকে রক্ষা পাননি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুধুমাত্র গত শনিবারই ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় ৯৭ জন নিহত এবং ১৩৩ জন আহত হয়েছেন। দেশটির দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলীয় এলাকাগুলোতে বিমান হামলা সবচেয়ে তীব্র আকার ধারণ করেছে। যার ফলে সাধারণ বেসামরিক নাগরিকদের পাশাপাশি চিকিৎসা সেবার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাও প্রাণ হারাচ্ছেন।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই নির্বিচার হামলার কঠোর সমালোচনা করে জানিয়েছে, শিশু ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর আক্রমণ আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন। লেবানন জুড়ে এখন লাশের মিছিল আর আহতদের আহাজারিতে এক ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে।
সূত্র : আল-জাজিরা

ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় কিছু বিষয়ে অগ্রগতি হলেও শেষ পর্যন্ত দুই-তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে মতপার্থক্যের কারণে কোনো চুক্তি হয়নি।
রোববার ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এ তথ্য জানান।
ইসমাইল বাঘাই বলেন, `উভয় পক্ষ কিছু বিষয়ে একমত হতে পারলেও অন্য বিষয়গুলোতে দৃষ্টিভঙ্গির বড় পার্থক্য বা ‘গ্যাপ’ রয়ে গেছে।‘
এর আগে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও জানিয়েছিলেন, পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগ করার বিষয়ে তেহরানের কাছ থেকে দৃঢ় প্রতিশ্রুতি না পাওয়াই আলোচনার অন্যতম প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলো এর আগে পরবর্তী ধাপের আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করে দিলেও বাঘাই কিছুটা নমনীয় সুর প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, `কূটনীতি কখনোই শেষ হয়ে যায় না। একটি মাত্র বৈঠকেই সব সমাধান হয়ে যাবে-এমন প্রত্যাশা করা ঠিক নয় এবং আমার মনে হয় কারো এমন ধারণা ছিলও না।’
সাক্ষাৎকারে বাঘাই আরো জানান, ইরান মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান এবং এই অঞ্চলের অন্যান্য বন্ধুরাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পুনরায় আলোচনায় বসার কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা আছে কি না, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করে কিছু বলেননি।
সূত্র : আল-জাজিরা

ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছে অস্ট্রেলিয়া। দেশটিকে পুনরায় আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার এবং চলমান যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওয়াং।
অস্ট্রেলিয়ার গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে পেনি ওয়াং বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ইসলামাবাদের আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হওয়াটি হতাশাজনক। বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হওয়া উচিত যুদ্ধবিরতি অব্যাহত রাখা এবং পুনরায় আলোচনায় ফেরা।’
তিনি আরো সতর্ক করে বলেন, এই দ্বন্দ্বের যেকোনো ধরনের বিস্তার বা উত্তেজনা বৃদ্ধি মানবসম্পদের অপূরণীয় ক্ষতি করবে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে মারাত্মক প্রভাব ফেলবে। আমরা এই সংকটের একটি দ্রুত ও শান্তিপূর্ণ সমাধান দেখতে চাই।
এর আগে পাকিস্তান ও ইরানের পক্ষ থেকে আলোচনার অচলাবস্থা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য এলেও অস্ট্রেলিয়ার এই বার্তা মূলত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ক্রমবর্ধমান উদ্বেগেরই প্রতিফলন। বিশেষ করে বিশ্ব অর্থনীতি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার স্বার্থে বড় শক্তিগুলোকে সংযত থাকার আহ্বান জানালো দেশটি।
সূত্র : আল-জাজিরা

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের আলোচনা কোনো কার্যকর ফ্রেমওয়ার্ক বা সমঝোতা ছাড়াই প্রথম দফার বৈঠক শেষ হয়েছে। প্রথম দফার বৈঠক ফলপ্রসূ না হলেও দুই পক্ষকে যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে পাকিস্তান।
দেশটির উপ-প্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার এক বিবৃতিতে বলেছেন, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে উভয় পক্ষের উচিত যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতি মেনে চলা।
ইসহাক দার বলেন, ‘আমরা আশা করি দুই পক্ষই ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসবে, যাতে এই অঞ্চলে এবং এর বাইরেও একটি টেকসই শান্তি ও সমৃদ্ধি অর্জন করা সম্ভব হয়।’
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান আগামী দিনগুলোতেও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংলাপ ও যোগাযোগ সহজতর করতে নিজেদের ভূমিকা পালন করে যাবে। যুদ্ধবিরতি অর্জনে পাকিস্তানের প্রচেষ্টাকে উভয় দেশ ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করায় তিনি দুই পক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, আলোচনার টেবিলে চরম মতপার্থক্য দেখা দিলেও পাকিস্তান চাইছে যেন মাঠ পর্যায়ে কোনো বড় ধরনের সংঘাত শুরু না হয়। তবে ইরানের পক্ষ থেকে পরবর্তী ধাপের আলোচনার বিষয়ে কোনো আগ্রহ না দেখানোয় পাকিস্তানের এই মধ্যস্থতা প্রচেষ্টা এখন বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
সূত্র : আল-জাজিরা
ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় আলোচনা থেকে সরে আসার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ‘ অজুহাত খুঁজছে’ বলে অভিযোগ করেছে ইরান।
ইরানি প্রতিনিধিদলের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের বরাত দিয়ে দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সি এই তথ্য জানিয়েছে।
সূত্রটি জানায়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের হারানো ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের জন্যই মূলত আমেরিকার এই আলোচনার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু যুদ্ধ ও পরবর্তী অচলাবস্থার মধ্য দিয়ে যে পরাজয় এসেছে, তা সত্ত্বেও ওয়াশিংটন তাদের আকাশচুম্বী প্রত্যাশা বা শর্ত কমাতে রাজি হয়নি।
ইরানি ওই সূত্রের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার টেবিল ত্যাগ করার জন্য অজুহা খুঁজছে এবং তাদের অনমনীয় মনোভাবই সংলাপকে ব্যর্থতার দিকে ঠেলে দিয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তেহরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, আপাতত দ্বিতীয় দফায় আলোচনার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি ও পারমাণবিক অধিকারের মতো বিষয়গুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অতিরিক্ত দাবি’ এবং ইরানের অনড় অবস্থান আলোচনাকে একটি দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থার দিকে নিয়ে গেছে। দুই দেশের এই কঠোর অবস্থানের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনের সম্ভাবনা আরও ক্ষীণ হয়ে পড়ল।
সূত্র : আল-জাজিরা
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের আলোচনা কোনো কার্যকর ফ্রেমওয়ার্ক বা সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের ‘অতিরিক্ত দাবির’ কারণেই এই আলোচনা ফলপ্রসূ হতে পারেনি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈঠকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে তীব্র মতপার্থক্য দেখা দেয়। বিশেষ করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ, ইরানের পারমাণবিক অধিকার এবং আরো কয়েকটি অমীমাংসিত ইস্যু এই অচলাবস্থার মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ইরানি প্রতিনিধিদলের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র এমন সব শর্তারোপ করেছে যা আলোচনার স্বাভাবিক পরিবেশকে বাধাগ্রস্ত করেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ও পারমাণবিক সক্ষমতার মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে কোনো পক্ষই ছাড় দিতে রাজি না হওয়ায় আলোচনাটি কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই আলোচনার ব্যর্থতা মধ্যপ্রাচ্যের বিদ্যমান উত্তেজনাকে আরো উসকে দিতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি তেল পরিবহনের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
সূত্র : আল-জাজিরা
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উচ্চপর্যায়ের আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছে।
ইরানি প্রতিনিধিদলের ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাত দিয়ে দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, ওয়াশিংটন এমন কিছু শর্তারোপ করেছে যা তারা যুদ্ধের মাধ্যমেও অর্জন করতে পারেনি।
সংবাদ সংস্থাটির ইসলামাবাদ প্রতিনিধি জানান, দুই দেশের মধ্যকার উত্তেজনা প্রশমনে আয়োজিত এই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র বেশ কিছু ‘উচ্চাকাঙ্ক্ষী’ শর্ত জুড়ে দিয়েছিল। বিশেষ করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এবং ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে আমেরিকার অনমনীয় ও উচ্চাভিলাষী শর্তগুলো মেনে নেয়নি তেহরান।
ফার্স নিউজের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ‘যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধক্ষেত্র থেকে যা কিছু অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে, আলোচনার টেবিলে বসে তার সবকিছুই দাবি করেছে।’ মূলত এই ধরনের একতরফা ও কঠিন শর্তের কারণেই বৈঠকটি ফলপ্রসূ কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতাকে পুরোপুরি সংকুচিত করার দাবিকে ইরান তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত হিসেবে দেখছে। যার ফলে দ্বিতীয় ধাপে আলোচনার সম্ভাবনা আপাতত নাকচ করে দিয়েছে দেশটি।
সূত্র : আল-জাজিরা

ইরানের সঙ্গে কোনো ধরনের চুক্তিতে পৌঁছাতে না পেরে পাকিস্তান ত্যাগ করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।
আজ রোববার ইসলামাবাদের বিশেষ একটি সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দিয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পথে রওয়ানা হন।
দিনভর ম্যারাথন আলোচনার পরও কোনো সমঝোতা না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন ভ্যান্স। তবে এই ব্যর্থতার জন্য ইরানকেই বেশি মূল্য দিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে জেডি ভ্যান্স বলেন, ‘সবচেয়ে খারাপ খবর হলো আমরা একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারিনি। আমি মনে করি, এই সমঝোতা না হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় ইরানের জন্য অনেক বেশি ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে।’
গত কয়েকদিন ধরে দক্ষিণ এশিয়ায় ভূ-রাজনৈতিক উত্তাপ কমাতে এবং ইরানের সাথে বিদ্যমান বিরোধ নিরসনে ইসলামাবাদে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক চলছিল। তবে ঠিক কোন পয়েন্টে আলোচনা আটকে গেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট।
জেডি ভ্যান্সের এই সফরের দিকে তাকিয়ে ছিল গোটা বিশ্ব। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতার জন্য এই আলোচনাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছিল। কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই আলোচনা শেষ হওয়ায় এ অঞ্চলে মার্কিন নীতি ও ইরানের অবস্থানের মধ্যে টানাপোড়েন আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
সূত্র : সিএনএন
টানা ২১ ঘণ্টার বৈঠকেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স। ফলে সমঝোতা ছাড়াই পাকিস্তান ত্যাগের পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। যাকে তিনি ‘দুঃসংবাদ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
রোববার সকালে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভ্যান্স এ তথ্য জানান। তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও ফিল্ড মার্শালের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, আলোচনায় পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
ভ্যান্সের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র তাদের গুরুত্বপূর্ণ শর্তগুলো স্পষ্টভাবে ইরানকে জানিয়েছিল, তবে তেহরান সেগুলো মেনে নেয়নি। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি দাবি করেন, দেশটির পরমাণু সক্ষমতা ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে ইরান যেন পরমাণু অস্ত্র তৈরি না করে, সে বিষয়ে আরো দৃঢ় প্রতিশ্রুতি প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে আল জাজিরা জানায়, আলোচনার বিষয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগাই বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের দাবি অতিরিক্ত ও বেআইনি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরানের বৈধ অধিকার ও স্বার্থকে স্বীকৃতি দেওয়ার ওপরই আলোচনার সফলতা নির্ভর করছে।
সূত্র : আল-জাজিরা, বিবিসি

ইরানের দেওয়া পূর্বশর্তগুলো পূরণ না হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরিকল্পিত শান্তি আলোচনা এখনও বাতিল হতে পারে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ চ্যানেল আইআরআইএনএনের এক সাংবাদিক ইসলামাবাদ এ তথ্য জানিয়েছেন।
ওই সাংবাদিক বলেন, ইরানের স্বার্থ, দাবি আর রেড লাইনের (চূড়ান্ত সীমা) শর্ত পূরণ না হলে সেই আলোচনা থেকে বেরিয়ে আসাকেই একটি ‘সাফল্য’ হিসেবে দেখতে পারে ইরান; কর্মকর্তারা যাকে বলছেন ‘জোরালো কূটনীতি’।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন বর্তমানে ওয়াশিংটনের প্রতি বিশ্বাসের ঘাটতি এবং তেহরানের নিজস্ব শর্তগুলোর ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে এবং দাবি পূরণ না হলে আলোচনা ছাড়াই তারা পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে পারে দেশটি। সূত্র: বিবিসি

ইরানকে অস্ত্র দেওয়ার পরিকল্পনা করলে চীনকে বড় সমস্যায় পড়তে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের বরাতে সিএনএন জানিয়েছে, বেইজিং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইরানকে অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সরবরাহ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এ তথ্যের প্রেক্ষাপটে ফ্লোরিডা যাওয়ার পথে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, চীন যদি এমনটা করে, তবে তাদের বড় ধরনের সমস্যায় পড়তে হবে।
গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের ধারণা, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির সুযোগ নিয়ে ইরান তাদের বিদেশি অংশীদারদের সহায়তায় সামরিক শক্তি পুনর্গঠন এবং অস্ত্রভাণ্ডার সমৃদ্ধ করার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিরক্ষাব্যবস্থা পুনরায় সচল করতে চীনের শরণাপন্ন হয়েছে তেহরান।
ট্রাম্পের এই কড়া বার্তা এমন একসময়ে এলো যখন আগামী মাসের শুরুতেই তার বেইজিং সফরের কথা রয়েছে, যেখানে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসার কথা। সূত্র: সিএনএন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে চলমান সর্বশেষ আলোচনা প্রসঙ্গে বলেছেন, ইরান চুক্তি করুক বা না করুক, আমরাই জিতব।
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প আরও বলেন, আমরা ঐ দেশটিকে পুরোপুরি পরাজিত করেছি। সুতরাং দেখা যাক কী হয়: হয়ত তারা একটি চুক্তিতে আসবে, হয়ত আসবে না। তাতে কিছু যায় আসে না। আমেরিকার দৃষ্টিকোণ থেকে, আমরাই জিতব।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের মধ্যে সরাসরি আলোচনার প্রথম ধাপ শেষ হয়েছে। মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের একটি ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাত দিয়ে আল–জাজিরা এ তথ্য জানায়।
সূত্র জানায়, প্রথম দফার আলোচনা শেষে দুই প্রতিনিধিদল লিখিত বার্তা বিনিময় করেছে। সূত্র: আল–জাজিরা।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যুদ্ধের বিরুদ্ধে এর আগেও সরাসরি অবস্থান নিয়েছিলেন ক্যাথলিক চার্চের ইতিহাসে প্রথম মার্কিন পোপ লিও। তিনি ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের নির্বিচার অত্যাচারকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলেও অভিহিত করেছিলেন। ‘যুদ্ধের খাদের কিনারা থেকে সরে এসে শান্তির স্বার্থে একটি ন্যায্য নিষ্পত্তির জন্য আলোচনার আহ্বানও জানিয়েছিলেন।
ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরাইল যুদ্ধের বিষয়ে এখনও আগে অবস্থানে কঠোর রয়েছেন তিনি। সেন্ট পিটার্স ব্যাসিলিকায় এক সান্ধ্য প্রার্থনা সভায় পোপ লিও বলেছেন, আত্মসম্মান ও অর্থের পূজা যথেষ্ট হয়েছে! শক্তির এই প্রদর্শন যথেষ্ট হয়েছে! যুদ্ধ যথেষ্ট হয়েছে!
পোপ যদিও তার প্রার্থনায় সরাসরি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা ট্রাম্পের নাম উল্লেখ করেননি। তবে তার বার্তাটি ট্রাম্প এবং মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্দেশেই করা হয়েছে বলে অনেকে মনে করেন। যারা মার্কিন সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের বড়াই করে ধর্মীয় যুক্তিতে এ যুদ্ধকে সমর্থন করেছেন। সূত্র: আল জাজিরা

ইরানের আধা সরকারি গণমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানাচ্ছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের মধ্যে আলোচনা চার ঘণ্টা পেরিয়ে এখনও চলছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলোচনার মাঝখানে দুইপক্ষ পরামর্শ ও বিশ্রামের জন্য কিছু সময়ের জন্য বিরতি নেয়। এরপর আবার আলোচনা শুরু হয়েছে।
এখনও এ আলোচনার সমাপ্তি নিয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি এবং আলোচনা আরও বাড়বে কি না, তাও স্পষ্ট নয়। সূত্র: আল জাজিরা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনায় একটি নির্দিষ্ট মাত্রার নমনীয়তা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষক মোহাম্মদ আলী।
আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বর্তমান যুদ্ধবিরতি যদি দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে সেটিই প্রমাণ হবে যে উভয় পক্ষ আর সংঘাত বাড়াতে চায় না।
তিনি বলেন, ‘প্রকাশ্যে বাড়াবাড়ি রকমের ভঙ্গি দেখানো আলোচনা প্রক্রিয়ারই একটি অংশ, কিন্তু বাস্তবে টেবিলে যা আছে, তা অনেকটাই ভিন্ন। কারণ দুই পক্ষই নিজ নিজ দেশের রাজনৈতিক চাপ সম্পর্কে খুব সচেতন।
মোহাম্মদ আলীর মতে, পাকিস্তানের সক্রিয় ভূমিকার কারণেই আলোচনায় এই নমনীয়তা এসেছে। তিনি বলেন, দুই দেশের প্রতিনিধিদল আসার পর থেকেই পাকিস্তান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
তিনি আরো জানান, পাকিস্তান আলাদাভাবে দুই পক্ষের সঙ্গে বসে তাদের আরো নমনীয় হতে এবং এই ঐতিহাসিক সুযোগ নষ্ট না করতে উৎসাহিত করেছে।
তার মতে, শুধু যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান নয়, বিশ্বও আর কোনো সংঘাত বা উত্তেজনা বহন করার অবস্থায় নেই—বিশেষ করে বৈশ্বিক শান্তি, নিরাপত্তা ও জ্বালানি অর্থনীতির ওপর এর বড় প্রভাব পড়তে পারে।
সূত্র: আলজাজিরা।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি আলোচনায় মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে আরও দুই শীর্ষ দূত অংশ নিয়েছেন বলে জানিয়েছে এএফপি।
বার্তা সংস্থাটি হোয়াইট হাউসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাতে জানায়, এই মুখোমুখি বৈঠকে ভ্যান্সের সঙ্গে উপস্থিত আছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার।
ইসলামাবাদে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত এই বৈঠককে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এর আগে আলোচনাগুলো পরোক্ষভাবে চললেও এখন সরাসরি সংলাপে অংশ নেওয়া দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের সম্ভাবনা বাড়িয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
১৯৭৯ সালের পর এই ধরনের উচ্চপর্যায়ের সরাসরি যোগাযোগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং এটি আলোচনার গতিপথে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
সূত্র: আলজাজিরা।
ইরানের ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর এই প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের সরাসরি যোগাযোগ হওয়ায় দিনটিকে ঐতিহাসিক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বৈঠকে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে লেবাননের পরিস্থিতি ও ইরানের স্থগিত সম্পদ মুক্ত করার বিষয়টি অন্যতম। কিছু সূত্রের দাবি, লেবাননে ইসরাইলের সামরিক কার্যক্রম সীমিত করা হতে পারে—বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলে—এবং বৈরুতে আর হামলা নাও হতে পারে। তবে এসব তথ্য এখনো নিশ্চিত হয়নি।
ইরানি সূত্রগুলো আরো ইঙ্গিত দিয়েছে, দেশটির জব্দ করা সম্পদ মুক্ত করার বিষয়ে কিছু অগ্রগতি হতে পারে।
তবে পুরো আলোচনা এখনো গোপনীয়তার মধ্যেই চলছে। বিভিন্ন তথ্য ধীরে ধীরে প্রকাশ পেলেও সেগুলো যাচাই করা কঠিন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে, দুই পক্ষের প্রতিনিধিরা আবারও রাতের খাবারের সময় বৈঠকে বসবেন বলে জানা গেছে, যা আলোচনার পরবর্তী ধাপ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
সূত্র: আলজাজিরা।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান চলমান সংঘাতে বড়ভাবে হারছে। এমন মন্তব্য তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ একটি পোস্টে করেন।
এই মন্তব্য আসে এমন সময়, যখন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা—ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সসহ—পাকিস্তানে অবস্থান করছেন এবং ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে শান্তি আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
পোস্টে ট্রাম্প বলেন, গণমাধ্যমে ইরানকে শক্তিশালী অবস্থানে দেখানোর যে বর্ণনা দেওয়া হচ্ছে, তা সঠিক নয়। তার ভাষায়, ‘বাস্তবে সবাই জানে তারা হেরেছে, এবং বড়ভাবে হেরেছে!’
তিনি আরো দাবি করেন, ইরানের নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আর কার্যকর নেই।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তাদের দীর্ঘদিনের ‘নেতারা’ আর আমাদের মাঝে নেই—আপাতদৃষ্টিতে এমন ব্যঙ্গাত্মক পোস্টের শেষে ট্রাম্প বলেন, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর!।
সূত্র: আলজাজিরা।
ইসলামাবাদে চলমান আলোচনায় বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে। প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদল সরাসরি আলোচনায় বসেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
এর আগে পর্যন্ত আলোচনা পরোক্ষভাবে চলছিল—দুই পক্ষ আলাদা কক্ষে অবস্থান করে পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান করছিল।
তবে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। মধ্যস্থতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, এখন দুই দেশের প্রতিনিধিরা একই টেবিলে বসে সরাসরি আলোচনা করছেন, যেখানে পাকিস্তানের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত রয়েছেন।
সরাসরি আলোচনায় অগ্রসর হওয়া কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা সম্ভাব্য সমঝোতার পথকে আরও সুগম করতে পারে।
সূত্র: আলজাজিরা।

যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালি পরিষ্কার করার কাজ শুরু করেছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরানের নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইতোমধ্যে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেন, এখন একমাত্র ঝুঁকি হলো—কোনো জাহাজ ইরানের পাতা সমুদ্র মাইনে আঘাত পেতে পারে।
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা এখন হরমুজ প্রণালি পরিষ্কার করার প্রক্রিয়া শুরু করেছি—বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সুবিধার জন্য, যেমন চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ফ্রান্স, জার্মানি এবং আরও অনেকের জন্য।’
এ সময় ট্রাম্প মন্তব্য করেন, এসব দেশ নিজেরা এই কাজ করার ‘সাহস বা ইচ্ছা’ দেখায়নি বলে তিনি দাবি করেন।
হরমুজ প্রণালী বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি রুট হওয়ায় এ ধরনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও নিরাপত্তার ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্র: ডন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বহু প্রতীক্ষিত আলোচনা শুরু হয়েছে বলে বিবিসিকে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ পৃথক বৈঠক করেন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে সঙ্গে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার।
বৈঠকে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভিও উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া দিনের শুরুতেই ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দলও শেহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করে।
তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে শরিফের বৈঠকের বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
সূত্র: বিবিসি।

ইসলামাবাদে আলোচনা শুরুর প্রেক্ষাপটে ইরানের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। এসময় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, বৈঠকে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ অংশ নেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
বৈঠকে শাহবাজ শরিফ, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে অর্থবহ অগ্রগতি অর্জনে গতি সৃষ্টিতে পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তার ভূমিকা অব্যাহত রাখার আন্তরিক অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
তিনি আলোচনায় অংশগ্রহণের জন্য ইরানের আগ্রহকেও স্বাগত জানান।
ইসলামাবাদে চলমান এই আলোচনায় পাকিস্তান উভয় পক্ষের মধ্যে সংলাপ এগিয়ে নিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে বলে জানিয়েছে পিএমও।
সূত্র: ডন।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির দিন থেকে লেবাননে ব্যাপক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইল। হামলায় ওই দিনেই বহু বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ঘটে। এরপর থেকেই ধারাবাহিকভাবে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইল। সর্বশেষ ইসরাইলি বিমান হামলায় পৃথক পৃথক স্থানে ১০ জন মারা যাওয়ার কথা জানিয়েছে লেবাননের জাতীয় সংবাদ সংস্থা (এনএনএ)।
সংবাদ সংস্থাটি জানিয়েছে, নাবাতিয়া জেলার কাফার সির শহরে ইসরাইলি বিমান হামলায় একজন প্যারামেডিকসহ চারজন নিহত এবং চারজন আহত হয়েছেন।
এছাড়াও নাবাতিয়া জেলারই জেফতা শহরে আরেকটি ইসরাইলি হামলায় লেবাননের বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনীর একজন সদস্যসহ তিনজন নিহত এবং দুজন আহত হয়েছেন।
নাবাতিয়া জেলারই টুল শহরে তৃতীয় একটি ইসরাইলি হামলায় তিনজন নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন।
সূত্র: আলজাজিরা।
যুদ্ধ বন্ধের আলোচনায় ইসলামাবাদে প্রতিনিধি পাঠালেও কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান। সংলাপে অংশ নিলেও তেহরানের আঙুল ট্রিগারেই থাকবে বলে জানিয়েছেন দেশটির এক সরকারি মুখপাত্র।
ইরানের সরকারি মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি বলেন, পাকিস্তানে প্রতিনিধি দল পাঠানো তেহরানের আলোচনায় আগ্রহের প্রমাণ। তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, তাদের আঙুল ট্রিগারেই থাকবে।
ইরানের মেহর বার্তা সংস্থার বরাতে তিনি বলেন, আমরা সংলাপে বিশ্বাস করি এবং আমরা যুক্তিসঙ্গত। কিন্তু আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বাস করি না।
তিনি আরো বলেন, ইরান তার সার্বভৌম অধিকার নিয়ে কোনো আপস করবে না এবং অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এই আলোচনায় অংশ নিচ্ছে।
সূত্র: আলজাজিরা।
ইরানের বিরুদ্ধে ‘অবৈধ যুদ্ধ’ বন্ধে পাকিস্তানের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন দেশটির রাষ্ট্রদূত রেজা আমিরি মোগাদ্দাম।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘আজ ইসলামাবাদ ইরানের জাতির বিরুদ্ধে একটি অবৈধ যুদ্ধ বন্ধে পাকিস্তানের সদিচ্ছাপূর্ণ মধ্যস্থতার আয়োজন করছে।’
তিনি আরো দাবি করেন, এই যুদ্ধ শুধু ইরানের জনগণ ও সভ্যতার বিরুদ্ধে স্পষ্ট অপরাধ নয়, বরং এটি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তাকেও হুমকির মুখে ফেলেছে।
পোস্টে তিনি প্রশ্ন তোলেন, যুক্তরাষ্ট্র এই মধ্যস্থতা প্রচেষ্টাকে সম্মান করবে কিনা। এখন দেখার বিষয়, যুক্তরাষ্ট্র আয়োজক দেশের এই উদ্যোগকে সম্মান জানায় কিনা—বলেন তিনি।
ইসলামাবাদে চলমান এই আলোচনা ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র: ডন।
ইরানের শর্ত পূরণ না হলে চলমান আলোচনা বাতিল হতে পারে বলে সতর্ক করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইএনএনের (আইআরআইএনএন) ইসলামাবাদে অবস্থানরত এক প্রতিবেদক জানিয়েছেন, তেহরানের স্বার্থ, দাবি ও রেড লাইনকে সম্মান করা না হলে আলোচনা থেকে সরে আসাও একটি সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। কর্মকর্তারা একে দৃঢ় কূটনীতি হিসেবে উল্লেখ করছেন।
রাষ্ট্রীয় টিভির প্রতিবেদনে ইরানের শর্ত ও ‘লাল রেখা’র ওপর জোর দেওয়া হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আস্থার অভাবের কথাও তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ইরান এই আলোচনায় শক্ত অবস্থানে রয়েছে এবং শর্ত পূরণ না হলে আলোচনা ছাড়াই এগিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা তাদের রয়েছে।
সূত্র: বিবিসি।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ইসলামাবাদে চলমান আলোচনার ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এ সময় ভ্যান্সের সঙ্গে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার।
বৈঠকে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভিও উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে শাহবাজ শরিফ বলেন, এই আলোচনা আঞ্চলিক স্থায়ী শান্তির দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে কাজ করবে বলে তিনি আশা করছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে উভয় দেশের মধ্যে সংলাপ সহজ করতে প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
এদিকে, দিনের শুরুতেই ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দলও শেহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করে।
তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে শরিফের বৈঠকের বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। বৈঠকের কথা নিশ্চিত করেছে হোয়াইট হাউস।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির দিন থেকেই লেবাননে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইল। এ পরিস্থিতিতে
পাকিস্তানের পরিকল্পনা উন্নয়নমন্ত্রী আহসান ইকবাল বিবিসিকে জানিয়েছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি আলোচনায় লেবাননকেও অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। তার মতে, এক অংশকে রক্তাক্ত অবস্থায় রেখে আরেক অংশের সঙ্গে আলোচনা চলতে পারে না।
তিনি বলেন, ‘এই প্যাকেজে একটি ‘পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি’ থাকা উচিত, অর্থাৎ আলোচনা চলাকালীন সময়ে পাকিস্তান আশা করে যে ইসরায়েল এই ঐতিহাসিক সুযোগটি নষ্ট করবে না।’
আহসান ইকবাল বলেন, ‘অঞ্চলের এক অংশ রক্তে ভেজা থাকবে আর অন্য অংশ আলোচনার অধীনে থাকবে, এটা হতে পারে না। আমি মনে করি ইসরায়েলকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে এবং আলোচনার আগে কোনো ধরনের সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করা উচিত হবে না।"
তিনি আরো জানান, পাকিস্তান বিবাদমান পক্ষগুলোকে একটি চুক্তিতে আনতে সর্বাত্মক চেষ্টা করবে এবং তার মতে, যদি পক্ষগুলো যুদ্ধবিরতি বাড়াতে এবং আরেক দফা আলোচনায় সম্মত হয়, তবে সেটিকেই একটি সফল অগ্রগতি হিসেবে দেখা হবে।
সূত্র: বিবিসি।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনায় ইরান ‘চরম অবিশ্বাস’ নিয়ে অংশগ্রহণ করছে। জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ওয়েডফুলের সঙ্গে এক টেলিফোন সংলাপে তিনি তেহরানের এই অবস্থান স্পষ্ট করেন।
ইরানি সংবাদমাধ্যম মেহর নিউজ এজেন্সির বরাতে জানা গেছে, আরাগচি তার জার্মান প্রতিপক্ষকে বলেছেন, ওয়াশিংটনের অতীত কর্মকাণ্ড এবং বারবার ‘কূটনৈতিক বিশ্বাসঘাতকতার’ কারণে তাদের ওপর ভরসা করার কোনো সুযোগ নেই।
টেলিফোন আলাপে আব্বাস আরাগচি বলেন, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বারবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ এবং কূটনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘনের ইতিহাসের কারণে আমরা এই আলোচনায় অত্যন্ত সন্দিহান। তবে আমরা আমাদের দেশের মানুষের স্বার্থ ও অধিকার রক্ষায় পূর্ণ শক্তি দিয়ে লড়াই চালিয়ে যাব।’
ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই শান্তি আলোচনায় ইরান তাদের অনমনীয় অবস্থানের কথা আগেভাগেই জানিয়ে দিল। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আরাগচির এই মন্তব্য মূলত আলোচনার টেবিলে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টির একটি কৌশল।
উল্লেখ্য, পাকিস্তান, মিসর ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের মধ্যে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। যেখানে মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে রয়েছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তবে আলোচনার শুরুতেই ইরানের এই ‘অবিশ্বাসের’ বার্তা শান্তি প্রক্রিয়ায় কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
সূত্র : আল-জাজিরা
ইসলামাবাদে চলমান শান্তি আলোচনার অংশ হিসেবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাচ্ছেন ইরানি প্রতিনিধিদল।
ইরানের সংবাদ সংস্থা আইএসএনএ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতি এবং শান্তি আলোচনায় সরাসরি মধ্যস্থতা করছে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সরকার। এ লক্ষ্যে পাকিস্তানের উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তারা দুই দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ রক্ষা করছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে সাক্ষাতে আলোচনার অগ্রগতি এবং সংঘাত নিরসনের বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বলবেন। মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং কয়েক সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের অবসান ঘটাতে পাকিস্তানের এই মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হচ্ছে।
এর আগে শুক্রবার গভীর রাতে ইরানের প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদে এসে পৌঁছায় এবং আজকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলও পাকিস্তানে অবতরণ করে। দুই দেশের প্রতিনিধিদের এই উপস্থিতি এবং প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের খবর ইসলামাবাদে এক ইতিবাচক কূটনৈতিক আবহ তৈরি করেছে।
সূত্র : আল-জাজিরা

১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর এই প্রথম সর্বোচ্চ পর্যায়ের কূটনৈতিক আলোচনায় বসতে যাচ্ছে চিরবৈরী দুই দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। আজ বিকেলে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে এই ঐতিহাসিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
২০১৫ সালে ইরানের পরমাণু চুক্তির পর এবারই প্রথম দেশ দুটি আনুষ্ঠানিকভাবে সরাসরি বা মুখোমুখি আলোচনায় বসছে। এর আগে ২০১৮ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে ওই পরমাণু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বের করে নিয়ে যাওয়ার পর সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটে। একই বছর ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা নিষিদ্ধ করেছিলেন।
শনিবার সকালে মার্কিন প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদে পৌঁছালে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার এবং সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির তাদের বিমানবন্দরে স্বাগত জানান। এ সময় তারা মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে করমর্দন করেন এবং দ্বিপক্ষীয় কুশল বিনিময় করেন।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার আশা প্রকাশ করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এই শান্তি আলোচনায় গঠনমূলকভাবে অংশ নেবে। তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, পাকিস্তান এই সংঘাতের একটি ‘টেকসই ও স্থায়ী সমাধান’ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা ও মধ্যস্থতা করতে ইচ্ছুক।
ইসলামাবাদে আলোচনায় অংশ নিতে আসা মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে রয়েছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। প্রতিনিধিদলে আরো রয়েছেন মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার।
উল্লেখ্য, ছয় সপ্তাহ আগে শুরু হওয়া ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের শুরুতে এক যৌথ মার্কিন-ইসরাইলি হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। তার মৃত্যুর পর এই প্রথম দুই দেশ সরাসরি আলোচনার টেবিলে ফিরল, যা এই সংলাপকে এক বিশেষ গুরুত্ব ও মাত্রা দিয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করা এবং মধ্যপ্রাচ্যে কয়েক সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের অবসান ঘটাতে এই বৈঠকটি ‘মেক অর ব্রেক’ বা চূড়ান্ত মুহূর্ত হিসেবে কাজ করবে।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আয়োজিত এই বৈঠককে কূটনৈতিক অঙ্গনে এক অভাবনীয় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা প্রশমনে এই বৈঠক কতটুকু সফল হয়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে বিশ্ব।
সূত্র : আল-জাজিরা

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে হলে ওয়াশিংটনকে অবশ্যই ইরানের অধিকারের বিষয়গুলো মেনে নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ। পাকিস্তানে চলমান শান্তি আলোচনায় ইরানি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি।
ছয় সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার জন্য শুক্রবার গভীর রাতে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকারের নেতৃত্বে ৭১ সদস্যের একটি বিশাল প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদে পৌঁছায়।
সেখানে মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ সাংবাদিকদের জানান, ইরান পূর্ণ সদিচ্ছা নিয়েই এই সংলাপ টেবিলে এসেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর তাদের কোনো আস্থা নেই।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা এ খবর নিশ্চিত করেছে।
আলোচনায় মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। গালিবাফ উল্লেখ করেন, অতীতের বিভিন্ন সময়ে ওয়াশিংটন তাদের প্রতিশ্রুতি পালনে ব্যর্থ হয়েছে, যার ফলে তেহরানের মনে এই আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। শান্তি চুক্তিতে পৌঁছাতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে এবার তাদের পূর্ববর্তী আচরণের পরিবর্তন ঘটিয়ে ইরানের দাবিগুলোকে গুরুত্ব দিতে হবে।
ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এই শান্তি আলোচনাকে বিশ্বজুড়ে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় শুরু হওয়া এই সংলাপে দীর্ঘ ছয় সপ্তাহের যুদ্ধের অবসান ঘটবে কি না, তা এখন গালিবাফ ও জেডি ভ্যান্সের মধ্যকার আলোচনার ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে। মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য এই চুক্তির বাস্তবায়ন অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সূত্র : আল-জাজিরা

লেবাননের জাতীয় সংবাদ সংস্থা (এনএনএ) জানিয়েছে, আজ সকালে দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়েহ জেলার মায়ফাদুন শহরে একটি আবাসিক ভবন লক্ষ্য করে চালানো ইসরাইলি বিমান হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন।
এনএনএ-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই হামলায় আবাসিক ভবনটি ধ্বংস হয়ে গেছে।
সূত্র : আল-জাজিরা

ইরানের সাথে আলোচনার জন্য মার্কিন প্রতিনিধিদল পাকিস্তানের ইসলামাবাদে পৌঁছেছে।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।
পাকিস্তানের সূত্র রয়টার্স সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছে, মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার ইরানের সঙ্গে আলোচনার জন্য ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন।
এর আগে শুক্রবার (১০ এপ্রিল) ইরানের ৭১ সদস্যের প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদে পৌঁছায়। ইরানের প্রতিনিধিদলে রয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
তাসনিমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলোচনার গুরুত্ব ও সংবেদনশীলতা বিবেচনায় মূল আলোচকদের পাশাপাশি কারিগরি ও বিশেষজ্ঞ কমিটির ২৬ জন সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই বিশেষজ্ঞরা অর্থনৈতিক, নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবেন। এছাড়া প্রতিনিধিদলে রয়েছেন ২৩ জন গণমাধ্যমকর্মী এবং প্রটোকল ও নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে আলোচনার নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তার সঙ্গে রয়েছেন ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। মার্কিন প্রতিনিধিদলটি এরই মধ্যে আলোচনার টেবিলে বসার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বলে জানা গেছে।
আলোচনার মূল কেন্দ্রে রয়েছে ট্রাম্প প্রশাসনের দেওয়া ১৫ দফার একটি প্রস্তাব। যদিও এই প্রস্তাবের পূর্ণাঙ্গ রূপ এখনো প্রকাশ করা হয়নি, তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র না রাখার প্রতিশ্রুতি, উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর, তেহরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার ওপর সীমাবদ্ধতা এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে চলা উত্তেজনার পর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এই আলোচনাকে বিশ্ব রাজনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা তাদের ‘১০ দফা’ পরিকল্পনার ভিত্তিতে আলোচনা এগিয়ে নিতে চায়। অন্যদিকে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সতর্ক করে বলেছেন, ইরান যদি সদিচ্ছা নিয়ে আলোচনায় না আসে, তবে ওয়াশিংটন কঠোর অবস্থান বজায় রাখবে।
ইসলামাবাদের সেরেনা হোটেলে এই আলোচনাকে কেন্দ্র করে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এই আলোচনাকে দুই দেশের সম্পর্কের জন্য ‘হয় এসপার, নয় ওসপার’ পরিস্থিতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
সূত্র : আল-জাজিরা

অধিকৃত পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় রাতভর অভিযান ও তল্লাশি অব্যাহত রেখেছে ইসরাইলি বাহিনী।
ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব ঘটনায় অন্তত একজন ফিলিস্তিনি যুবক আহত হয়েছেন। এছাড়া তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শুক্রবার গভীর রাতে সালফিত শহরের পশ্চিমে অবস্থিত আজ-জাওয়িয়া শহরের একটি চেকপোস্ট বন্ধ করে দেয় ইসরাইলি সেনারা। এতে ওই এলাকার সাধারণ মানুষের যাতায়াত মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। সেনারা এ সময় বেশ কিছু বসতবাড়িতে ঢুকে তল্লাশি চালায়।
রামাল্লার উত্তরে বিরজেইত শহরে অভিযান চালানোর সময় ২১ বছর বয়সী এক ফিলিস্তিনি যুবক ইসরাইলি বাহিনীর ছোড়া রাবার বুলেটে আহত হয়েছেন।
হেব্রনের আরুব শরণার্থী ক্যাম্পে অভিযান চালিয়ে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে ইসরাইলি বাহিনী। অভিযান চলাকালে সেনারা তাজা গুলি, সাউন্ড বোমা ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে বলে জানিয়েছে ওয়াফা।
অন্যদিকে, হেব্রনের দক্ষিণে মাসাফের ইয়াত্তা এলাকায় ইসরাইলি সেটলারদের (বসতি স্থাপনকারী) হামলার শিকার হয়েছেন দুই ফিলিস্তিনি মেষপালক (বাবা ও ছেলে)।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সেটলাররা ওই বাবা-ছেলের ওপর চড়াও হলে পরবর্তীতে ইসরাইলি সেনারা তাদের উদ্ধার করার পরিবর্তে উল্টো তাদেরই গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়।
মাসাফের ইয়াত্তায় সেটলাররা স্থানীয় ফিলিস্তিনিদের ওপর বেশ কয়েকটি হামলা চালিয়েছে। ইসরাইলি সশস্ত্র বাহিনীর পাহাড়ায় সেটলাররা ফিলিস্তিনিদের আবাদি ফসল নষ্ট করে এবং তাদের গবাদিপশু উন্মুক্ত করে দিয়ে ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে।
গত কয়েক মাস ধরে পশ্চিম তীরে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর অভিযান এবং কট্টরপন্থী সেটলারদের হামলা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
সূত্র : আল-জাজিরা

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার অত্যন্ত সংবেদনশীল ও জটিল আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে। এই আলোচনায় অংশ নিতে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফের নেতৃত্বে ৭১ সদস্যের একটি বিশাল প্রতিনিধিদল এখন পাকিস্তানে অবস্থান করছে।
শনিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে।
ইরানের প্রতিনিধিদলে রয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তাসনিমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলোচনার গুরুত্ব ও সংবেদনশীলতা বিবেচনায় মূল আলোচকদের পাশাপাশি কারিগরি ও বিশেষজ্ঞ কমিটির ২৬ জন সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই বিশেষজ্ঞরা অর্থনৈতিক, নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবেন। এছাড়া প্রতিনিধিদলে রয়েছেন ২৩ জন গণমাধ্যমকর্মী এবং প্রটোকল ও নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে আলোচনার নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তার সঙ্গে রয়েছেন ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। মার্কিন প্রতিনিধিদলটি এরই মধ্যে আলোচনার টেবিলে বসার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বলে জানা গেছে।
আলোচনার মূল কেন্দ্রে রয়েছে ট্রাম্প প্রশাসনের দেওয়া ১৫ দফার একটি প্রস্তাব। যদিও এই প্রস্তাবের পূর্ণাঙ্গ রূপ এখনো প্রকাশ করা হয়নি, তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র না রাখার প্রতিশ্রুতি, উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর, তেহরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার ওপর সীমাবদ্ধতা এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে চলা উত্তেজনার পর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এই আলোচনাকে বিশ্ব রাজনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা তাদের ‘১০ দফা’ পরিকল্পনার ভিত্তিতে আলোচনা এগিয়ে নিতে চায়। অন্যদিকে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সতর্ক করে বলেছেন, ইরান যদি সদিচ্ছা নিয়ে আলোচনায় না আসে, তবে ওয়াশিংটন কঠোর অবস্থান বজায় রাখবে।
ইসলামাবাদের সেরেনা হোটেলে এই আলোচনাকে কেন্দ্র করে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এই আলোচনাকে দুই দেশের সম্পর্কের জন্য ‘হয় এসপার, নয় ওসপার’ পরিস্থিতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
সূত্র : আল-জাজিরা

পাকিস্তানের ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে আসা ইরানি প্রতিনিধিদলের বিমানের ভেতরের ছবিতে দেখা গেছে, আসনগুলোতে মিনাব স্কুল হামলায় নিহতদের ছবি ও তাদের জিনিসপত্র রাখা হয়েছে।
‘মিনাব ১৬৮’ নামের এ বিমানটি মূলত ওই হামলায় নিহত ১৬৮ জনের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সাজানো হয়েছে। নিহতদের মধ্যে বেশির ভাগই ছিল শিশু।
সূত্র : আল-জাজিরা
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন জরিপে প্রতি তিনজন আমেরিকানের মধ্যে দু’জন বলেছেন, তারা এই যুদ্ধের অবসান দেখতে চান।
তাদের মতে, যুদ্ধটি অনেক দূর গড়িয়েছে।
তারা জ্বালানির দাম এবং ক্রমবর্ধমান জ্বালানি খরচের কারণে প্রভাবিত হওয়া বিভিন্ন পণ্যের দাম নিয়ে অভিযোগ করছেন। মুদ্রাস্ফীতি আবার বাড়ছে এবং এটি ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরেও যুদ্ধ নিয়ে কোনো ঐক্যমত ছিল না। এমনকি ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সম্ভবত যুদ্ধ শুরু করার বিরুদ্ধে সবচেয়ে জোরালো কণ্ঠস্বর ছিলেন। কিন্তু এখন তিনিই এই সপ্তাহ শেষে ইসলামাবাদে মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিতে যাচ্ছেন।
জেডি ভ্যান্সের ওপর ইরানীদের সাথে একটি শক্তিশালী ও জোরালো যুদ্ধবিরতি চুক্তি করার জন্য ব্যাপক চাপ থাকবে, যেহেতু তিনিই প্রথম থেকে এই যুদ্ধ শুরু হতে দিতে চাননি।
সূত্র : আল-জাজিরা

দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়েহ শহরে ইসরাইলি হামলায় রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর ১৩ জন সদস্য নিহত হয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে দেশটির প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের কার্যালয় এ তথ্য জানিয়েছে। প্রেসিডেন্ট আউন এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)।
এর আগে লেবাননের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেই কেবলমাত্র আগামী সপ্তাহে ইসরাইলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় অংশ নেবে লেবানন।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে এই তথ্য জানান তিনি।
এদিকে বৈঠকের দিন ও সময় এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে সরাসরি আলোচনা একেবারে নজিরবিহীন নয়, তবে তা খুবই বিরল। সাধারণত দুই দেশ যুক্তরাষ্ট্রের মতো মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যোগাযোগ করে থাকে।
২০২৪ সালের নভেম্বরের যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর থেকেই আলোচনার উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা চলছিল, যেখানে এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের দূতরা উভয় পক্ষের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা পরিচালনা করেছেন।
ইরানে হামলা বন্ধ করলেও লেবাননে অভিযান চালিয়েই যাচ্ছে ইসরায়েল। ইরান এটাকে ‘যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন’ বলে দাবি করলেও ইসরায়েল বলছে, লেবানন যুদ্ধবিরতির অন্তর্ভুক্ত নয়।
সূত্র: বিবিসি

ইরান না চাইলেও হরমুজ প্রণালি শিগগিরই খুলবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সাহায্য থাকুক বা না থাকুক, হরমুজ প্রণালি খুব শিগগিরই খুলে যাবে।
পাকিস্তানে মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তাদের মধ্যে শান্তি আলোচনার আগে শুক্রবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র উপসাগরীয় অঞ্চল খুলে দেবে এবং অন্যান্য দেশও সাহায্য করতে প্রস্তুত।
ট্রাম্প বলেন, ‘এটা সহজ হবে না। তবে আমি এটুকু বলতে পারি, আমরা খুব শিগগিরই এটি খুলে দেব।’
সূত্র : আল-জাজিরা

লেবাননজুড়ে ইসরাইলের তীব্র বিমান হামলায় প্রায় ১২ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।
জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) জানিয়েছে, লেবাননে বাস্তুচ্যুতদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্রগুলো মারাত্মকভাবে জনাকীর্ণ, এবং দেশের প্রায় অর্ধেক সরকারি স্কুল এখন অভ্যর্থনা কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে।
জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘লেবাননে চাহিদা উপলব্ধ ধারণক্ষমতাকে ছাড়িয়ে গেছে।’
ইউএনএইচসিআর-এর তথ্যমতে, ইসরাইলি হামলার কারণে লেবাননে প্রায় ১২ লাখ মানুষ তাদের বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে, যাদের মধ্যে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার মানুষ ৬৮০টি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে।
ইউএনএইচসিআর-এর পরিসংখ্যান উদ্ধৃত করে ডুজারিক বলেন, প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার মানুষ সিরিয়ায় প্রবেশ করেছে, যার মধ্যে সিরীয় যুদ্ধের সময় লেবাননে পালিয়ে আসা সিরীয়রা এবং সিরিয়ায় আশ্রয় নেওয়া প্রায় ৩৯ হাজার লেবানিজও রয়েছে।
ইসরাইলি সামরিক বাহিনী ইসরাইল-লেবানন সীমান্ত থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার (২৫ মাইল) উত্তরে জাহরানি নদী পর্যন্ত দক্ষিণ লেবানন এবং রাজধানী বৈরুতের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের জন্য জোরপূর্বক স্থানান্তরের আদেশ জারি করেছে।
সূত্র : আল-জাজিরা
ইরানে সরকারি নির্দেশে বিভিন্ন ওয়েবসাইট বন্ধ রাখার সময় ১০০০ ঘণ্টা পার হয়েছে।
ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা নেটব্লকস এ তথ্য জানিয়েছে।
নেটব্লকস বলছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর ইরানে দীর্ঘ সময় ধরে ইন্টারনেট ব্যবহারের ওপর এ বিধিনিষেধ অব্যাহত রয়েছে।

যুদ্ধবিরতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার উদ্দেশে ইরানের একটি প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদে পৌঁছেছে। পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফের নেতৃত্বে এ প্রতিনিধিদলে রয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি, সুপ্রিম ন্যাশনাল কাউন্সিলের সেক্রেটারি মোহাম্মদ বাকের জোলকাদর, ডিফেন্স কাউন্সিলের সেক্রেটারি আলী আকবর আহমাদিয়ান, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আবদোল নাসের হেম্মাতি এবং কয়েকজন আইনপ্রণেতা।
তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জোহরে খারাজমি জানিয়েছেন, ইরান আত্মবিশ্বাসের সাথে ইসলামাবাদ আলোচনায় প্রবেশ করেছে। এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়াটাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানে একটি পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয় বলেও জানান তিনি।
আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, ট্রাম্প গত ৬ মার্চ পর্যন্তও নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের দাবি জানিয়েছিলেন, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র এখন আলোচনার টেবিলে বসেছে।
খারাজমি বলেন, ইরান তার শর্তগুলোর ব্যাপারে অনড়। এবং অন্তত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত মেনে নেওয়া হবে, হয়ত এই পর্বে নয়, কিন্তু পরবর্তী পর্বগুলোতে।
হরমুজ প্রণালি প্রসঙ্গে খারাজমি বলেন, এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ ইরানের দর কষাকষির মূল ভিত্তি এবং সর্বোচ্চ নেতা আবারও স্পষ্ট করে দিয়েছেন-এটি সহজে ছেড়ে দেওয়া হবে না। তিনি ইঙ্গিত দেন, ইরান এই প্রণালীকে যুদ্ধের খরচ পুনরুদ্ধারের একটি উপায় হিসেবে দেখে।
ইসলামাবাদে পৌঁছানোর পর ইরানি প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানান পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার, সামরিক বাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির, পাকিস্তানের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি। সূত্র: আল জাজিরা।

যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত রিজওয়ান সাঈদ শেখ বলেছেন, আলোচনা হচ্ছে—এটিই একটি “বড় সাফল্য”। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত থামাতে একটি চুক্তি নিশ্চিতে যতদিন প্রয়োজন এবং যা যা করা দরকার তার সবকিছু করতে প্রস্তুত পাকিস্তান।
আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রিজওয়ান সাঈদ শেখ আর জানান, ওয়াশিংটন ও তেহরানকে আলোচনায় আনার পেছনে কোনো “জাদুর কথা” ছিল না বরং এটি ছিল একটি প্রক্রিয়া। যার জন্য সবপক্ষের অধ্যবসায়, ধৈর্য এবং নিরন্তর প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
শেখ বলেন, আমি যে তিনটি বিষয়ের কথা উল্লেখ করেছি, তার প্রত্যেকটিই গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা নিবিড় কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ ছিল। তিনি আরও জানান, যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে এবং আলোচনার সময় নির্ধারণে পাকিস্তানের প্রচেষ্টাকে সবপক্ষই একটি “গঠনমূলক মনোভাব” নিয়ে গ্রহণ করেছে। সূত্র: আল জাজিরা

হিজবুল্লাহর মধ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার লক্ষে আগামী মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে বসছে ইসরাইল ও লেবানন। লেবাননের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এ আলোচনায় মধ্যস্থতা করবে যুক্তরাষ্ট্র।
লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের কার্যালয় জানিয়েছে, দুই দেশের প্রতিনিধিরা মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে বৈঠকে বসবেন। বৈঠকের উদ্দেশ হলো ‘যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এবং সরাসরি আলোচনা শুরুর একটি তারিখ নির্ধারণ করা’।
এ আলোচনার আয়োজন করতে গতকাল শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত লেবানন ও ইসরাইলের রাষ্ট্রদূত এবং লেবাননে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতের মধ্যে একটি ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সূত্র: আল জাজিরা

যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধে করণীয় ঠিক করতে আজ শনিবার পাকিস্তানে বৈঠকে বসছেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিরা। তবে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিতব্য এ বৈঠকে যোগ দেওয়ার আগেই ইরানি নেতাদের নতুন ভয় দেখাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
গতকাল শুক্রবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ইরানের কোনো শক্ত অবস্থান নেই এবং তাদের নেতাদের কেবল আলোচনার জন্যই বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে।
ট্রাম্প আরও লেখেন, ইরানিরা সম্ভবত বুঝতে পারছে না, হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ করে সাময়িকভাবে বিশ্বকে জিম্মি করা ছাড়া তাদের কোনো শক্ত অবস্থান নেই। তারা (ইরানি নেতারা) শুধুমাত্র আলোচনার জন্যই বেঁচে আছে।
এর আগে আরেকটি পোস্টে তিনি ইরানের সমালোচনা করে বলেন, ইরানিরা ভালো যোদ্ধার চেয়ে মিথ্যা প্রচার ও গণযোগাযোগে বেশি দক্ষ।
এদিকে, বৈঠকে অংশ নিতে শুক্রবার বিকেলে ইসলামাবাদে পৌঁছেছে ইরানের প্রতিনিধিদল। রাতের মধ্যে পৌঁছানোর কথা আমেরিকার প্রতিনিধিদলেরও। অন্যদিকে, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে ইসরাইল লেবাননে হামলা চালালেও বহুল প্রত্যাশিত এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে পাকিস্তান। তবে ওই হামলা অব্যাহত থাকায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এছাড়া হরমুজ প্রণালি নিয়েও আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে মতানৈক্য তৈরি হয়েছে। ফলে শেষ পর্যন্ত বৈঠক কতটা ফলপ্রসূ হবে, তা নিয়ে অনেকে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি অর্জনের জন্য শনিবার ইসলামাবাদে শুরু হতে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা একটি বাঁচা-মরার লড়াই বলে অভিহিত করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তবে এ আলোচনা সঠিক পথে এগোচ্ছে বলেও মনে করেন তিনি।
শাহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, আলোচনায় অংশ নিতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইতোমধ্যে ইসলামাবাদের পথে রয়েছেন। ইরান থেকেও দুটি বিমানে ইরানি প্রতিনিধিদল রওনা দিয়েছে বলেও খবর পেয়েছি।
এর আগে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ বলেছেন, লেবাননে যুদ্ধবিরতি ও তাদের জব্দকৃত সম্পদ না ছাড়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তারা কোনো আলোচনা শুরু করবেন না।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি শুরু থেকেই এ প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের সাথে কথা বলেছি এবং তারা আমাকে বলেছেন, উভয়পক্ষই তাদের স্থানীয় দর্শকদের জন্য একটি আখ্যান তৈরি করতে থাকায় এ ধরনের বিবৃতি আসবে। ইরান স্পষ্টতই হিজবুল্লাহকে বিপদে ফেলতে চায় না। সূত্র: আল জাজিরা

দায়িত্ব নেওয়ার পর সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ সামনে নিয়ে ইসলামাবাদের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। শনিবার ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিতব্য যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংলাপে মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন তিনি এবং আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতেই থাকবেন।
এই আলোচনা এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন উভয় পক্ষ দুই সপ্তাহের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে।
স্থায়ী সমাধানে পৌঁছাতে ভ্যান্সকে সূক্ষ্ম ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে—যেখানে তাকে একসঙ্গে সন্তুষ্ট করতে হবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, তেহরান, ইসরাইল এবং যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের।
এছাড়া ট্রাম্প ও ভ্যান্সর সেই সমর্থকদের চাপও থাকবে, যারা বিদেশে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের বিপক্ষে।
তবে এমন কোনো সমাধান আদৌ সম্ভব কি না—যাতে সব পক্ষ সন্তুষ্ট হবে, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি চালু হবে এবং তেলের দাম কমবে—তা এখনো অনিশ্চিত।
ওয়াশিংটন ছাড়ার সময় ভ্যান্স জানান, আলোচনার জন্য মার্কিন প্রতিনিধিদলকে ‘স্পষ্ট নির্দেশনা’ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তবে সেই নির্দেশনার বিস্তারিত বা আলোচনার সম্ভাব্য ফলাফল সম্পর্কে এখনো কিছু জানা যায়নি।
সূত্র: বিবিসি।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ জানিয়েছেন, দুটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত পূরণ না হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা শুরু করা সম্ভব নয়। এর মধ্যে একটি হলো লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়া এবং অন্যটি ইরানের জব্দ করা সম্পদ মুক্ত করা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে গালিবাফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পারস্পরিক সমঝোতা থাকা সত্ত্বেও এই দুটি বিষয় এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, লেবাননে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা এবং আলোচনা শুরুর আগেই ইরানের আটকে থাকা সম্পদ ছাড় দেওয়া—এই দুই শর্ত পূরণ না হলে কোনো আলোচনা শুরু হবে না।
সূত্র: আলজাজিরা।
আসন্ন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় গভীর আস্থার সংকট বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্লেষক আলি ভায়েজ।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ-এর ইরান প্রকল্পের পরিচালক এবং পূর্বের যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় অংশগ্রহণকারী ভায়েজ আল জাজিরাকে বলেন, এই আলোচনা অত্যন্ত কঠিন হতে যাচ্ছে।
তিনি উল্লেখ করেন, ইরানের মানুষ খুব সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে পারমাণবিক চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার ঘটনা ভুলে যায়নি। এছাড়া চলমান আলোচনার মধ্যেই গত নয় মাসে ইরানের ওপর দুটি হামলার ঘটনা মনে রাখবে।
ভায়েজ আরো বলেন, আলোচনায় থাকা বিষয়গুলো নিজেই অত্যন্ত জটিল এবং কারিগরি দিক থেকে কঠিন, যা সমাধানে উচ্চ পর্যায়ের কূটনৈতিক দক্ষতা ও ধৈর্যের প্রয়োজন।
তিনি বলেন, ‘অতীতে ট্রাম্প প্রশাসন এসব গুণের অভাব দেখিয়েছে। তাদের ধৈর্য নেই, শৃঙ্খলা নেই, এমনকি আলোচনাকে এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞও পাঠায় না।’
সূত্র: আলজাজিরা।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্ভাব্য আলোচনাকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে জোরদার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুরো শহর কার্যত কঠোর নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শহরে প্রায় ১০ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে, যার মধ্যে পুলিশ, সেনাবাহিনী এবং বিশেষ বাহিনীর কমান্ডো রয়েছে। বহুস্তরবিশিষ্ট এই নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে স্কুল ও অফিস একদিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে পুরো আয়োজন নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করা যায়।
রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সরকারি এলাকা ‘রেড জোন’-এ প্রবেশের সব সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এলাকায় প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।
এদিকে, বৈঠকে অংশ নিতে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা ইতোমধ্যে ইসলামাবাদে পৌঁছাতে শুরু করেছেন। তবে ঠিক কারা উপস্থিত রয়েছেন এবং তাদের সঙ্গে কী আলোচনা হচ্ছে—এ বিষয়ে পাকিস্তানি কর্মকর্তারা মুখে কুলুপ এঁটেছেন।
সূত্রগুলো বলছে, এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ একটি কূটনৈতিক মুহূর্ত। দীর্ঘ কয়েক সপ্তাহের প্রচেষ্টার পর এই আলোচনা সম্ভব হয়েছে, যদিও শেষ মুহূর্তে নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল।
সূত্র: আলজাজিরা।

পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্ভাব্য আলোচনার আগে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, ইরান যদি সৎভাবে এগোয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সঙ্গে সহযোগিতায় আগ্রহী থাকবে।
এয়ার ফোর্স টু-তে ওঠার আগে তিনি জানান, এই আলোচনা নিয়ে তারা আশাবাদী। ভান্স বলেন, ইরান যদি আন্তরিক উদ্দেশ্য নিয়ে আলোচনায় অংশ নেয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখাবে। তবে ইরান যদি কোনো ধরনের প্রতারণার পথ বেছে নেয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র সে ধরনের আচরণ মেনে নেবে না।
তিনি আরো উল্লেখ করেন, এ বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট আগে জানিয়েছিলেন, শনিবার থেকে ইসলামাবাদে এই আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
এই বৈঠকে ভান্সের সঙ্গে বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার উপস্থিত থাকবেন।
তবে পাকিস্তানে থাকা সংবাদদাতাদের মতে, ইসলামাবাদ এখনও ইরানের প্রতিনিধিদলের আগমনের অপেক্ষায় রয়েছে।
সূত্র: বিবিসি।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় দেশজুড়ে ১ লাখ ২৫ হাজারের বেশি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরান রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি।
দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ’র বরাতে সংস্থাটির প্রধান পিরহোসেইন কলিভান্দ বলেন, হামলায় মোট ১,২৫,৬৩০টি বেসামরিক ইউনিট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর মধ্যে ২৩,৫০০টি বাণিজ্যিক কেন্দ্র ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এছাড়া ৩৩৯টি চিকিৎসা-সংক্রান্ত স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে হাসপাতাল, ফার্মেসি, ল্যাবরেটরি, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও জরুরি সেবা কেন্দ্র রয়েছে।
সূত্র: আলজাজিরা।
লেবাননে ইসরাইলের তীব্র বিমান হামলায় শিশুদের ওপর ভয়াবহ প্রভাব পড়ছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ। সংস্থাটি জানিয়েছে, মঙ্গলবারের বোমা হামলায় মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে ৩৩ শিশু নিহত এবং ১৫৩ শিশু আহত হয়েছে।
ইউনিসেফের মতে, সর্বশেষ এই রক্তক্ষয়ী ঘটনা ২ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৬০০ শিশুর নিহত বা আহত হওয়ার স্তম্ভিতকর পরিসংখ্যানে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
সংস্থাটি আরো জানায়, দেশজুড়ে ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে, যার মধ্যে আনুমানিক ৩ লাখ ৯০ হাজার শিশু রয়েছে। অনেক শিশু একাধিকবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
ইউনিসেফ জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে শিশুদের উদ্ধার করার ঘটনা ঘটছে, অনেক শিশু নিখোঁজ রয়েছে এবং অনেকেই পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। প্রিয়জন ও ঘরবাড়ি হারানোর কারণে তারা গভীর মানসিক আঘাতের শিকার হচ্ছে।
সংস্থাটি জোর দিয়ে বলেছে, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন স্পষ্টভাবে বলে—শিশুসহ সব বেসামরিক নাগরিককে সবসময় সুরক্ষা দিতে হবে।
সূত্র: আলজাজিরা।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির দিনেই লেবাননে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। এতে বহু বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ঘটে। লেবাননে ইসরাইলের এমন নৃশংস হামলার নিন্দা জানিয়েছেন আয়ারল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রী এর পাশাপাশি সম্প্রতি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি দীর্ঘায়িত করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
আয়ারল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, লেবাননে ইসরাইলি হামলায় তিনি স্তম্ভিত এবং দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
লেবাননের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইউসুফ রাগির সঙ্গে ফোনে কথা বলার পর হেলেন ম্যাকেন্টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ পোস্ট করেন, ’লেবাননজুড়ে ইসরাইলের নৃশংস হামলায় আমি স্তম্ভিত, এতে ২০০ জনেরও বেশি নিহত হয়েছেন।’
তিনি লিখেছেন, এই হামলাগুলো অগ্রহণযোগ্য এবং অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। তিনি আরো বলেন, লেবাননসহ সকল পক্ষকে যুদ্ধবিরতি মেনে চলতে হবে।
সূত্র: আলজাজিরা।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ঘোষিত যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়েছে কাতার ও যুক্তরাজ্য। একই সঙ্গে কাতারের রাজধানী দোহায় ইরানের হামলার নিন্দা জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার।
কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির সঙ্গে এক বৈঠকে স্টারমার কাতারের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় যুক্তরাজ্যের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। কাতারের আমিরি দিওয়ানের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
দুই নেতা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এটি চলমান উত্তেজনা কমাতে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তারা আরো জোর দিয়ে বলেন, একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তি নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করা প্রয়োজন। এ ধরনের চুক্তি এমন হতে হবে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখতে সহায়তা করবে।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
সূত্র: আলজাজিরা।
লেবাননে চলমান ইসরাইলি হামলায় ক্রমবর্ধমান বেসামরিক হতাহতের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক বিবৃতিতে এ উদ্বেগের কথা জানান।
তিনি বলেন, লেবাননে “বিপুল সংখ্যক বেসামরিক হতাহতের” ঘটনা ভারতের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন ইউনিফিল-এ সেনা পাঠানো দেশ হিসেবে এবং লেবাননের শান্তি ও নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে বর্তমান পরিস্থিতিকে ভারত অত্যন্ত উদ্বেগজনক” বলে মনে করছে।
জয়সওয়াল আরো বলেন, আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা এবং রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান দেখানো অপরিহার্য।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের সংঘাত বন্ধে করা দুই সপ্তাাহের যুদ্ধবিরতির দিনেই লেবাননে ব্যাপক হামলা চালায় ইসরাইল। এতে হাজারের উপর বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ঘটে, যেখানে কমপক্ষে ২৫৪ জন নিহত হন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশই এ ঘটনার পর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
সূত্র: আলজাজিরা।
দক্ষিণ লেবাননে গত এক সপ্তাহে অন্তত ৪০ জন হিজবুল্লাহ যোদ্ধাকে হত্যা এবং ৫০টির বেশি অবকাঠামো ধ্বংস করার দাবি করেছে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ)।
এক বিবৃতিতে আইডিএফ জানায়, তাদের ৯১তম ডিভিশনের সেনারা চলতি সপ্তাহের শুরুতে এলাকায় অভিযান চালানোর সময় যোদ্ধাদের একটি দল শনাক্ত করে।
সেনাবাহিনীর দাবি, ওই দলের একজন সদস্যকে গাছপালার আড়ালে লুকিয়ে থাকা অবস্থায় হত্যা করা হয় এবং পালানোর চেষ্টা করা অন্যদের বহনকারী একটি যানবাহনেও হামলা চালানো হয়।
অন্যদিকে, লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের শারকিয়েহ শহরে ইসরাইলি ড্রোন হামলায় এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। হামলাটি তার মোটরসাইকেলকে লক্ষ্য করে চালানো হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সংঘাত চলাকালে টানা ছয় সপ্তাহ একটি কমান্ড সেন্টারে অবস্থান করেছেন ইসরাইলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি। যুদ্ধবিরতির পর নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি এ তথ্য জানান।
এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে হাকাবি লিখেছেন, ‘দুইটি কুকুর নিয়ে এক কক্ষে কমান্ড সেন্টারে ছয় সপ্তাহ কাটানোর পর, খাটের বদলে ক্যাম্প বেডে ঘুমানো, মাইক্রোওয়েভ ও হট প্লেটে রান্না করা এবং খুব সীমিত চলাচলের পর এখন যুদ্ধবিরতির সময় আমরা আবার বাসভবনে ফিরেছি।’
তিনি আরো বলেন, “এবার সত্যিকারের বিছানা! রাষ্ট্রদূতের জীবন বিলাসিতা ও রোমাঞ্চে ভরা!”
মাইক হাকাবি দীর্ঘদিন ধরে ইসরাইলের একজন কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিত। নিজেকে খ্রিস্টান জায়নিস্ট হিসেবে দাবি করা এই কূটনীতিক চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে এক সাক্ষাৎকারে বিতর্কের জন্ম দেন, বাইবেলের তার নিজস্ব ব্যাখ্যা অনুসারে ইসরাইল যদি মধ্যপ্রাচ্যের বেশিরভাগ অংশও দখল করে নেয়, তাতেও তিনি আপত্তি থাকবে না।
তার এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।
সূত্র: আলজাজিরা।
লেবাননে চলমান সংঘাতের মধ্যে এক ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের সংস্থা ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম (ডব্লিউএফপি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, দেশজুড়ে ১০ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং গত ৪৮ ঘণ্টায় শতাধিক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে, যা বিধ্বংসী মানবিক পরিণতি সৃষ্টি করেছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, বুধবার দেশজুড়ে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৩০৩ জন নিহত এবং ১,১৫০ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এই তথ্য পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট করেছে।
লেবাননে ডব্লিউএফপির কান্ট্রি ডিরেক্টর অ্যালিসন ওমান লাউই বলেন, সংঘাতের শুরু থেকেই আমরা মাঠে কাজ করছি এবং লাখো মানুষের কাছে খাদ্য ও নগদ সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছি।
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, কার্যক্রম চালিয়ে যেতে সংস্থাটির নিরাপদ ও ধারাবাহিক প্রবেশাধিকার প্রয়োজন।
তিনি আরো উল্লেখ করেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে এবং ক্ষতিগ্রস্ত ও দুর্গম এলাকাগুলোতে পৌঁছানো সম্ভব নয়। আর এমনটি ঘটলে জীবনরক্ষাকারী সহায়তা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে, অথচ এর ওপর অসংখ্য পরিবার নির্ভর করছে।
সূত্র: আলজাজিরা।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিকে বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যে একটি ঐতিহাসিক পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অব বৈরুতের বিশিষ্ট পাবলিক পলিসি ফেলো রামি জি. খৌরি।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরায় প্রকাশিত এক নিবন্ধে খৌরি বলেন, এই সংঘাত নতুন কিছু গতিশীল বাস্তবতা তুলে ধরেছে, যা দীর্ঘদিনের পশ্চিমা ও ইসরাইলি আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ করছে।
তিনি উল্লেখ করেন, প্রচলিত অর্থে কোনো সমঝোতার পথ খোঁজার পরিবর্তে ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে এমন একটি সংঘাত থেকে পালানোর সুযোগ বলা যায় অনেকটা ইজেকশন সিট বাটনের মতো যেখানে তারা তাদের যুদ্ধাভিযানের লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। এই যুদ্ধে ব্যাপকভাবে বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে এবং এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আইনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে কেননা যুদ্ধে সাধারণ নিরীহ মানুষের সুরক্ষার পুরোপুরি উপক্ষিত হয়েছে।
লেখক এই আলোচনা এবং এর আঞ্চলিক প্রভাব সম্পর্কে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেছেন:
খৌরি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের প্রস্তাবিত ১০ দফা পরিকল্পনার ভিত্তিতে আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছে। যাকে তিনি সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের বৈধ অধিকার ও চাহিদা নিশ্চিত করার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
তিনি বলেন, এই চুক্তি প্রথমবারের মতো দেখিয়েছে যে, একটি মধ্যপ্রাচ্যের দেশ এককভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক শক্তিকে কার্যত চ্যালেঞ্জ করতে পেরেছে। এর মাধ্যমে ইরানের রাজনৈতিক দৃঢ়তা স্পষ্ট হয়েছে।
শেষে তিনি সতর্ক করে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে উপনিবেশিক সহিংসতা ও ঐতিহাসিক ক্ষতগুলো উপেক্ষা করা হলে ভবিষ্যতে আরো বড় আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
সূত্র: আলজাজিরা।
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ সব হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নিতে ইরান দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে জানিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে মোজতবা খামেনির লিখিত নতুন বার্তা প্রকাশ করে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।
বার্তায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় নিহত প্রত্যেক শহীদের রক্তের মূল্য আদায় করা হবে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘যুদ্ধের প্রথম দিনেই নিহত তার বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ সব হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নিতে ইরান দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। আমরা অবশ্যই প্রতিটি ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ, শহীদদের রক্তের মূল্য এবং এই যুদ্ধে আহতদের জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করব।’
ইরানপন্থিদের রাস্তায় নামার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে, উন্মুক্ত চত্বরে আপনাদের কণ্ঠ আলোচনা ও দর-কষাকষির পরিণতিতে প্রভাব ফেলে।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘ইরান কখনোই যুদ্ধ চায়নি এবং এখনো চাচ্ছে না, তবে নিজেদের বৈধ অধিকার আদায়ের প্রশ্নে কোনোভাবেই পিছু হটবে না।’
ইরান হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনাকে একটি নতুন পর্যায়ে নিয়ে যাবে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। তবে তা কী হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি।
এদিকে, যুদ্ধবিরতি নিয়ে আজ শুক্রবার ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
লেবাননে ইসরাইলি বাহিনীর অব্যাহত হামলা ও ‘যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের’ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ফ্রান্স ও পাকিস্তান।
শুক্রবার সকালে পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশাক দারের সঙ্গে ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারোটের এক ফোনালাপে এই উদ্বেগের কথা জানানো হয়।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীই লেবাননে চলমান অস্থিরতা নিরসনে ঘোষিত যুদ্ধবিরতির পূর্ণ বাস্তবায়ন ও সম্মানের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছিল। ইসলামাবাদের দাবি, এই চুক্তির আওতায় লেবাননও অন্তর্ভুক্ত। ফ্রান্সও শুরু থেকেই লেবাননকে এই যুদ্ধবিরতির অংশ করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল এই দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে। তাদের মতে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতার সঙ্গে লেবানন পরিস্থিতির কোনো সম্পর্ক নেই।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা লেবাননসহ পুরো অঞ্চলে শান্তি ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে এই যুদ্ধবিরতির গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করছি। এটি কেবল একটি দেশ নয়, বরং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য জরুরি।’
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই লেবাননে ভয়াবহ বিমান হামলা শুরু করে ইসরাইল। বুধবার মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধানে বৈরুতসহ লেবাননের বিভিন্ন প্রান্তে ১০০টির বেশি হামলা চালানো হয়।
ইসরাইলি এই তান্ডবে নারী ও শিশুসহ অন্তত ২৫৪ জনের বেশি প্রাণ হারিয়েছেন। ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু স্পষ্ট করে দিয়েছেন, লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে তাদের অভিযান চলবে এবং কোনো আন্তর্জাতিক সমঝোতা এতে বাধা হতে পারবে না।
ফ্রান্স ও পাকিস্তান মনে করে, লেবাননকে বাদ দিয়ে এই যুদ্ধবিরতি সফল হওয়া কঠিন। ফোনালাপে দুই নেতা একমত হয়েছেন যে, ইসরাইলি হামলা অব্যাহত থাকলে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকা এবং পুরো শান্তি প্রক্রিয়াটিই হুমকির মুখে পড়বে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
সূত্র : আল-জাজিরা
ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়েদ খাতিব জাদেহ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের জাহাজগুলো ‘যতক্ষণ শত্রুতামূলক আচরণ না করবে’ ততক্ষণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করতে পারবে।
ইরানি গণমাধ্যমকে দেওয়া এক বক্তব্যে খাতিবজাদেহ বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি খোলা রয়েছে, তবে কারিগরি সীমাবদ্ধতার কারণে জাহাজগুলোকে ইরানি বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে চলাচল করতে হবে।’
ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, ‘প্রণালিতে নিরাপদ নৌপথ নিশ্চিত করবো আমরা।’
তবে ইরানি কর্মকর্তাদের এসব বক্তব্যের বিপরীতে হরমুজ প্রণালি থেকে পাওয়া প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর থেকে খুব অল্প সংখ্যক জাহাজই এই পথ দিয়ে চলাচল করেছে।
পাকিস্তানে ইরানি ও মার্কিন প্রতিনিধিদলের মধ্যে আলোচনা শুরুর প্রহর গণনা যখন চলছে, এর মধ্যেই গত রাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লেখেন, ‘হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল চলাচলের অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে ইরান খুবই বাজে কাজ করছে, কেউ কেউ তো এটিকে লজ্জাজনকও বলছে। আমাদের মধ্যে যা সমঝোতা হয়েছিল, এটা তা নয়!’
সূত্র : বিবিসি বাংলা

চলতি মাসের প্রথম দিনে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলি বিমান হামলায় আহত ইরানের সুপ্রিম কাউন্সিলের উপদেষ্টা কামাল খারাজির মৃত্যু হয়েছে। তাকে ‘শহীদ’ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে ইসলামি প্রজাতন্ত্রী ইরান।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) তাসনিম নিউজ এজেন্সি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
খবরে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলি সামরিক অভিযানের সময় তাকে লক্ষ্য করে একটি পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছিল। ১ এপ্রিল তেহরানে অবস্থিত তার বাসভবনে বোমা হামলার সময় তিনি আঘাত প্রাপ্ত হন। এই হামলায় তার স্ত্রী নিহত হন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় এবং শুক্রবার (১০ এপ্রিল) ইসলামাবাদে বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে।
ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ (এসএনএসসি) বুধবার ( ৮ এপ্রিল) জানায়, এই সংঘাত ইরানের জন্য একটি ঐতিহাসিক বিজয় এবং যুক্তরাষ্ট্রকে আলোচনার শর্ত মানতে বাধ্য করেছে-যার মধ্যে রয়েছে আগ্রাসন বন্ধ এবং শত্রুতা শেষ করার একটি নিশ্চয়তা পরিকল্পনা।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্টড়-ইসরায়েলের যৌথ বাহিনী ইরানে হামলা চালায়। যৌথ বাহিনীর ওই দিনের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা ইমাম আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। একই দিনে মিনাবের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চালানো মার্কিন ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৬৮ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়।
ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত যৌথ বাহিনীর হামলায় ২০৭৬ নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছে ২৬ হাজারের বেশি মানুষ।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পাকিস্তানের প্রতিনিধি আসিম ইফতিখার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে লেবাননে হামলা বন্ধের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তিনি বলেন, লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে কেন বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে সে সম্পর্কে তা স্পষ্ট নয়, কারণ এটি প্রস্তাবের একটি সুস্পষ্ট অংশ।
এরআগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে লেবানন অন্তর্ভুক্ত নয় বলে স্পষ্ট জানায় হোয়াইট হাউস।
বুধবার এক ব্রিফিংয়ে হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র ক্যারোলাইন লেভিট একথা জানান।
লেভিট জানান, মঙ্গলবার রাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে টেলিফোনে কথা হয়েছে। ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী এই যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টাকে সমর্থন জানিয়েছেন এবং তিনি এই আলোচনার একজন গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে থাকবেন।
সূত্র: আল জাজিরা

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে স্থল অভিযান আরো জোরালো করেছে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। বিশেষ করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিনত জুবাইল শহরটি ঘিরে ফেলার জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে তারা। তবে পাল্টা প্রতিরোধ হিসেবে গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরাইলি বাহিনীর ওপর অন্তত ৫০টি হামলা চালানোর দাবি করেছে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ।
বিনত জুবাইল ঘিরে উত্তেজনা
দীর্ঘদিন ধরেই বিনত জুবাইল শহরটি দখলের জন্য এর চারপাশের পাহাড়ি এলাকা ও গ্রামগুলোতে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করছিল ইসরাইলি সেনারা।
সর্বশেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরাইলি বাহিনী শহরটির উপকণ্ঠে প্রবেশের চেষ্টা চালায়।
হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বিনত জুবাইলের প্রবেশমুখে থাকা ইসরাইলি সেনাদের লক্ষ্য করে তারা দফায় দফায় হামলা চালিয়েছে। শহরটির দখল নিতে যাওয়া ইসরাইলি অগ্রযাত্রাকে রুখে দেওয়ার দাবি করেছে গোষ্ঠীটি।
একদিনে ৫০ হামলা
হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, গত একদিনে তারা মোট ৫০টির বেশি সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে। এর মধ্যে একটি বড় অংশ ছিল ইসরাইলের অভ্যন্তরে সীমান্ত পেরিয়ে চালানো হামলা।
উল্লেখ্য, গত বুধবার ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতি চুক্তির খবর আসার পর হিজবুল্লাহ সাময়িকভাবে ইসরাইলে রকেট হামলা কমিয়ে দিয়েছিল। হিজবুল্লাহর ধারণা ছিল, এই চুক্তির আওতায় লেবাননও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
হিজবুল্লাহর সূত্র জানিয়েছে, ‘আমরা ভেবেছিলাম আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি লেবাননের ক্ষেত্রেও কার্যকর হবে। কিন্তু ইসরাইল স্পষ্ট করে দিয়েছে যে তারা হামলা বন্ধ করবে না। তাই আমাদের প্রতিরোধও আবার পূর্ণ শক্তিতে শুরু হয়েছে।’
যুদ্ধবিরতির পরের পরিস্থিতি
ইসরাইল সরকার গত কয়েকদিনে এটি স্পষ্ট করে দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার কোনো সমঝোতা তাদের লেবানন অভিযানের ওপর প্রভাব ফেলবে না। ইসরাইলের এই অনমনীয় অবস্থানের পরই হিজবুল্লাহ তাদের হামলার তীব্রতা বাড়িয়ে দিয়েছে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, বিনত জুবাইল শহরটি হিজবুল্লাহর জন্য একটি শক্ত ঘাঁটি এবং প্রতীকি মর্যাদার স্থান। এই শহরের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারলে ইসরাইলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননে অনেকটা সুবিধাজনক অবস্থানে চলে আসবে। ফলে এই এলাকাটিকে কেন্দ্র করে সামনের দিনগুলোতে লড়াই আরো ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্র : আল-জাজিরা
পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে সিউল ও ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে আসা পাল্টাপাল্টি অভিযোগে দুই সপ্তাহের নড়বড়ে যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি এখন ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। হরমুজ প্রণালি ও লেবানন ইস্যুতে দুই দেশের অনড় অবস্থানের কারণে এই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক কড়া বার্তায় ইরানকে অভিযুক্ত করে বলেছেন, তারা হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি তেল সরবরাহের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছে না। ট্রাম্পের দাবি, প্রণালি দিয়ে ট্যাঙ্কার চলাচলের ক্ষেত্রে ইরান ‘অত্যন্ত নড়বড়ে’ কাজ করছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক পোস্টে তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘আমাদের মধ্যে এমন চুক্তি হয়নি। ইরান যদি তেলবাহী জাহাজ থেকে কোনো মাশুল আদায় করে থাকে, তবে তা এখনই বন্ধ করতে হবে।’
লেবানন ইস্যু
এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান এই উত্তেজনার কেন্দ্রে রয়েছে লেবানন। তেহরান দাবি করছে, লেবাননে ইসরাইলি হামলা অব্যাহত থাকা মানেই যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন। বিপরীতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, এই যুদ্ধবিরতি শুধু ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সংঘাতের জন্য প্রযোজ্য, হিজবুল্লাহর জন্য নয়।
মাঠের চিত্র
যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার প্রথম ২৪ ঘণ্টায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে মাত্র ৬টি জাহাজ চলাচল করেছে, যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় নগণ্য। বিশ্বের ২০ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহ করা এই জলপথে এখনো অঘোষিত অবরোধ বজায় রেখেছে ইরান। অন্যদিকে, গত ৪৮ ঘণ্টায় লেবাননে ইসরাইলি বিমান হামলায় নিহতের সংখ্যা ৩০০ ছাড়িয়ে গেছে।
ইসলামাবাদে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক
এই সংকট নিরসনে আজ শনিবার পাকিস্তানের ইসলামাবাদে দুই দেশের প্রতিনিধি দল বৈঠকে বসছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের শীর্ষ নেতাদের এই বৈঠকের ওপরই নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরবে নাকি আবারও বড় ধরনের যুদ্ধ শুরু হবে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আজকের এই বৈঠকে যদি হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং লেবানন ইস্যুতে কোনো সুরাহা না হয়, তবে দুই সপ্তাহের এই ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি যেকোনো মুহূর্তে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়ে যেতে পারে।
সূত্র: এএফপি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বৈঠক আয়োজনে ব্যাপক নিরাপত্তা প্রস্তুতি নিয়েছে পাকিস্তান। নিরাপত্তার অংশ হিসেবে ফেডারেল রাজধানীর রেড জোন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং ‘টুইন সিটিজ’-এ স্থানীয় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে হয়েছে বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে ডন।
আলোচনার সংবেদনশীলতা ও গুরুত্বের কারণে সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নিরাপত্তা সংস্থাকে যুক্ত করে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
প্রতিনিধিদলগুলোর চলাচল, অবস্থান ও বৈঠকের সময় ‘ব্লু বুক’ অনুযায়ী ভিভিআইপি প্রোটোকল অনুসরণ করা হবে।
পুলিশ, আধা-সামরিক বাহিনী ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী ব্লু বুক এবং প্রযোজ্য মানক কার্যপদ্ধতির (এসওপি) কঠোর নির্দেশনা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবে।
এছাড়াও, প্রতিনিধিদলগুলোর চলাচলের জন্য আলাদা রুট নির্ধারণ করা হচ্ছে।
ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বহুল প্রতিক্ষিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের আগে আজ শুক্রবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম ও এশীয় শেয়ারবাজারে চাঙ্গাভাব দেখা গেছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি তেলবাহী জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু হবে কি না, তা মূলত এই বৈঠকের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে।
আজ স্থানীয় সময় সকাল সোয়া ১০টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, হংকংয়ের প্রধান সূচক হ্যাং সেং ১.১ শতাংশ বেড়েছে। চীনের সাংহাই কম্পোজিট সূচকের উত্থান হয়েছে ১ শতাংশ। জাপানের প্রধান সূচক নিক্কেই ২২৫ বেড়েছে ১.৫ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি সূচক ১.৮ শতাংশ লাভ করেছে।
বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও আজ ঊর্ধ্বমুখী। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯৮ দশমিক ৫৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে বৈশ্বিক মানদণ্ড হিসেবে পরিচিত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল বিক্রি হচ্ছে ৯৬ দশমিক ৩০ ডলারে।
গত মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর তেলের বাজারে বড় পতন হয়েছিল এবং বিশ্বজুড়ে শেয়ারের দাম বেড়েছিল। তবে বর্তমানে বিনিয়োগকারীরা হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের সুনির্দিষ্ট খবরের অপেক্ষায় থাকায় বাজারের অস্থিরতা কিছুটা কমেছে।
যুদ্ধবিরতি চললেও এখন পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি দিয়ে খুব সামান্য সংখ্যক জাহাজ যাতায়াত করেছে। এর বড় কারণ হচ্ছে, লেবানন এই যুদ্ধবিরতির অন্তর্ভুক্ত কি না, তা নিয়ে বিতর্ক। এই অস্পষ্টতা যেকোনো সময় চলমান দুই সপ্তাহের অস্বস্তিকর শান্তিকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।
বিনিয়োগ ব্যাংক জেপি মর্গান বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বর্তমান যুদ্ধবিরতি সাময়িক মনে হলেও পরিস্থিতির উন্নতির দিকে যাওয়ার প্রবণতা ইতিবাচক। তবে ব্যাংকটি সতর্ক করে বলেছে, যুদ্ধবিরতি স্থায়ী হলেও বিশ্ব তেলের বাজার পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে অন্তত চার মাস সময় লাগতে পারে। কারণ হিসেবে তারা নিকট ও মধ্যমেয়াদে বহুমুখী অনিশ্চয়তার কথা উল্লেখ করেছে।
ইরান-ইসরাইল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের নাগরিক ও বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তেহরানে নতুন বিশেষ দূত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া।
দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারি বার্তা সংস্থা ইয়োনহাপ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
কুয়েতে নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক রাষ্ট্রদূত চুং বিয়ুং-হাকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদের জন্য মনোনীত করা হয়েছে। খুব দ্রুতই তিনি তেহরানের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন বলে জানা গেছে।
ইয়োনহাপের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশেষ দূত হিসেবে চুং বিয়ুং-হার প্রধান দায়িত্ব হবে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে দক্ষিণ কোরীয় জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচল এবং সেখানে অবস্থানরত নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর বিষয়ে সমন্বয় করবেন তিনি।
দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী চো হিউন এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির মধ্যে গত বৃহস্পতিবার এক ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হয়। তার ঠিক এক দিন পরই শুক্রবার নতুন এই বিশেষ দূতের নাম ঘোষণা করল সিউল।
বর্তমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে অধিকাংশ জাহাজ চলাচল বন্ধ রয়েছে। ইয়োনহাপ জানিয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্তত ২৬টি বাণিজ্যিক জাহাজ বর্তমানে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে আটকা পড়ে আছে। এই জাহাজগুলোকে মুক্ত করা এবং নিরাপদে ফিরিয়ে আনাই হবে নতুন দূতের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।
উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালি বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান রুট, যা বর্তমানে যুদ্ধের কারণে চরম অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
আল–জাজিরা
লেবাননে দায়িত্বরত জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীর (ইউনিফিল) ওপর সাম্প্রতিক ধারাবাহিক হামলার ঘটনায় বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে। ইন্দোনেশিয়ার উদ্যোগে বিশ্বের ৬০টিরও বেশি দেশ একজোট হয়ে এই বর্বরোচিত হামলার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে।
জাতিসংঘে নিযুক্ত ইন্দোনেশিয়ার বিশেষ দূত উমর হাদির সাথে কয়েক ডজন দেশের রাষ্ট্রদূতরা এক যৌথ বিবৃতিতে অংশ নেন। বিবৃতিতে তারা শান্তিরক্ষীদের ওপর পরিচালিত এসব হামলাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ হিসেবে অভিহিত করেন।
যৌথ বিবৃতিতে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে সাম্প্রতিক হামলায় ফ্রান্স, ঘানা, ইন্দোনেশিয়া, নেপাল এবং পোল্যান্ডের শান্তিরক্ষীরা আহত হয়েছেন।
শান্তিরক্ষীদের নিরাপত্তা ছাড়াও লেবাননের বর্তমান শোচনীয় মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এই জোট।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘লেবাননে বেসামরিক মানুষের ব্যাপক প্রাণহানি, অবকাঠামো ধ্বংস এবং ১০ লাখের বেশি মানুষের বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, তাদের প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে যে, ২৯ মার্চ ইসরাইলি ট্যাংকের গুলিতে একজন শান্তিরক্ষী নিহত হন এবং পরের দিন আরো দু’জন একটি বিস্ফোরক ডিভাইসের আঘাতে নিহত হন, যেটিকে জাতিসংঘ ‘সম্ভবত হিজবুল্লাহ স্থাপন করেছিল’ বলে মূল্যায়ন করেছে।
বিবৃতি প্রদানকারী দেশগুলো অবিলম্বে শান্তিরক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার জন্য সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে আহ্বান জানিয়েছে।
সূত্র: আল–জাজিরা
যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ‘কোনো দেশের দিকে কোনো ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়েনি’ বলে জানিয়েছে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)।
ইরানের সংবাদ সংস্থা ফারস–এ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়েছে।
কুয়েতের আধাসামরিক বাহিনী ন্যাশনাল গার্ডের একটি স্থাপনায় ড্রোন হামলায় ক্ষয়ক্ষতির খবরের প্রতিক্রিয়ায় আইআরজিসি এই বিবৃতি দেয়।
আইআরজিসি বলেছে, ‘গণমাধ্যমে প্রকাশিত এই খবরগুলো যদি সত্য হয়ে থাকে, তবে এটি নিঃসন্দেহে জায়নবাদী শত্রু (ইসরায়েল) অথবা আমেরিকার কাজ।’
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী যদি কোনো লক্ষ্যবস্তুতে ‘আঘাত হানে’, তবে তা দাপ্তরিক বিবৃতির মাধ্যমে ‘সাহসের সঙ্গে ঘোষণা’ করবে।
সূত্র: আল–জাজিরা
লেবাননে ইসরাইলি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে রাশিয়া। একই সঙ্গে সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, ইসরাইলি এই হামলা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনার প্রচেষ্টাকে বিঘ্নিত করতে পারে।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘এ ধরনের পদক্ষেপ কেবল লেবাননকে একটি মানবিক বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দেয় এবং ইতিমধ্যেই নাজুক সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থাকে আরও খারাপ করে।’
সূত্র: আল–জাজিরা।
লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপশহরের বেশ কয়েকটি এলাকার বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরাইল।
একইসাথে, হেজবুল্লাহর ‘‘সামরিক অবকাঠামোত’’ আরও হামলা চালানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে ইসরাইরি বাহিনী।
ইসরাইরি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) মুখপাত্র আভিচেই আদরাই ওই এলাকার বাসিন্দাদের বলেছেন, ইসরাইল "আপনাদের কোনো ক্ষতি করতে চায় না... তাই, আপনাদের নিরাপত্তার কথা ভেবে, আপনাদের অবশ্যই অবিলম্বে সরে যেতে হবে"।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চললেও লেবাননে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে যাচ্ছে ইসরাইল। এ হামলাকে যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। একই সঙ্গে যেকোনো পরিস্থিতি ইরান লেবানিজ নাগরিকদের ছেড়ে কখনো যাবে না বলেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স এ দেওয়া এক পোস্টে ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, লেবাননে ইসরাইলের নতুন হামলা যুদ্ধবিরতির চরম লঙ্ঘন। এটি প্রতারণা এবং সম্ভাব্য চুক্তির প্রতি দায়বদ্ধতাহীনতার একটি বিপজ্জনক লক্ষণ। (ইসরাইলের) এই ধরনের কর্মকাণ্ড চলতে থাকলে যেকোনো আলোচনা অর্থবহ হবে না।
পেজেশকিয়ান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আমাদের আঙুল এখনো ট্রিগারেই আছে। ইরান কখনোই তার লেবানিজ ভাই-বোনদের একা ফেলে যাবে না।
লেবাননে বুধবার ও বৃহস্পতিবার চালানো ইসরাইলি হামলাকে “প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন” বলে অভিহিত করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
তিনি বলেন, “ইরান তার লেবানিজ ভাই-বোনদের কখনোই একা ফেলে যাবে না।”
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স এ দেওয়া এক পোস্টে মি. পেজেশকিয়ান ইসরাইলি হামলাকে “প্রতারণা এবং সম্ভাব্য চুক্তিগুলো না মানার একটি বিপজ্জনক লক্ষণ” হিসেবে বর্ণনা করেন।
“এ ধরনের কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে আলোচনা অর্থবহ হবে না” মনে করেন ইরানি প্রেসিডেন্ট। একইসাথে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের হাত এখনো (বন্দুকের) ট্রিগারেই আছে।”
সূত্র: বিবিসি
লেবাননের রাজধানী বৈরুতে বুধবার ইসরাইল ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার দেশজুড়ে চালানো এই হামলায় ২০৩ জন নিহত এবং এক হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা হিজবুল্লাহর লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চিহ্নিত এমন স্থানে ১০০টিরও বেশি বিমান হামলা চালিয়েছে।
লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এই ঘটনাকে একটি “ম্যাসাকার" বা গণহত্যা হিসেবে অ্যাখ্যায়িত করেছেন।
নিহতদের স্মরণে বৃহস্পতিবার দেশটির সরকার সারা দেশে সরকারি ছুটি এবং শোক দিবস ঘোষণা করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও হেজবুল্লাহর ওপর হামলা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
এর আগে, ইসরাইল জানিয়েছিল, এই যুদ্ধবিরতি লেবাননের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
তবে ইরান বলছে, লেবাননে ইসরাইলের এই ক্রমাগত হামলা যুদ্ধবিরতি চুক্তির একটি “গুরুতর লঙ্ঘন”।
নেতানিয়াহু বলেন, “আমাদের বার্তা পরিষ্কার; যারাই ইসরাইলি বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে কাজ করবে, তাদেরই লক্ষ্যবস্তু করা হবে”।
“যতক্ষণ না আমরা উত্তর ইসরাইলের বাসিন্দাদের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারছি, ততক্ষণ যেখানে প্রয়োজন সেখানেই হেজবুল্লাহর ওপর আমাদের হামলা চলবে,” ঘোষণা করেন নেতানিয়াহু।
ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) হেজবুল্লাহ মহাসচিব নাঈম কাসেমের ভাতিজা ও সচিব আলি ইউসুফ হারশিকে হত্যার ঘোষণা দেওয়ার পর নেতানিয়াহু এই ঘোষণা দিয়েছেন।
পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনা শুরু করার জন্য একটি ইরানি প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদের পথে জানিয়েছিলেন ইরানের রাষ্ট্রদূত রেজা আমিরি মোগাদ্দাম। যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানান। তবে তিনি পরবর্তীতে পোস্টটি মুছে ফেলেছেন। রাষ্ট্রদূত পোস্টটি মুছে ফেলার কারণ ব্যাখ্যা করেননি।
এক্সবার্তায় দেওয়া পোস্টটিতে মোঘাদাম বলেছিলেন, ‘কূটনৈতিক উদ্যোগ বানচাল করতে ইসরাইলের ক্ষমতাসীনেরা বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে। তার ফলে (যুদ্ধাবসান সংলাপ নিয়ে) ইরানি জনগণ সন্দিহান। তবে তা সত্ত্বেও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের আমন্ত্রণে ইরানের প্রস্তাবিত ১০ দফার ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার জন্য ইরানি প্রতিনিধিদল আজ রাতে আসছে।’
উল্লেখ্য, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শর্ত সাপেক্ষে দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হয়েছে। বুধবার (৯ এপ্রিল) পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ১৫ দিনের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় দুই দেশ।এই আলোচনা শনিবার মার্কিন ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সাথে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
সূত্র: বিবিসি
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খাতিবজাদেহ ‘টুডে’ অনুষ্ঠানে বলেছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করবে ইরান। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরান যুদ্ধ শুরুর আগ পর্যন্ত এই প্রণালী “হাজার হাজার বছর ধরে খোলা ছিল”।
তবে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র “বাস্তবে এই আগ্রাসন থেকে সরে না এলে” প্রণালি পুনরায় খোলা হবে না—যার মাধ্যমে তিনি লেবাননে ইসরাইলের হামলার কথাই ইঙ্গিত করেছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
খাতিবজাদেহ বলেন, ইরান “আন্তর্জাতিক রীতি ও আন্তর্জাতিক আইন” মেনে চলবে। তবে তিনি এটিও বলেন যে হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জলসীমার অন্তর্ভুক্ত নয় এবং সেখানে নিরাপদ চলাচল ইরান ও ওমানের “সদিচ্ছার” ওপর নির্ভর করে।
সাংবাদিক নিক রবিনসন জানতে চান, নিরাপদ চলাচল বলতে কি বোঝানো হচ্ছে যে ইরান কি প্রণালি দিয়ে যাওয়া প্রতিটি জাহাজ থেকে ফি আদায় করবে না, কিংবা জাহাজ উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেবে না?
এর জবাবে ইরানের মন্ত্রী বলেন, ইরান চায় প্রণালিটি “শান্তিপূর্ণ” থাকুক।
তবে তিনি যোগ করেন, নিরাপদ চলাচল একটি দ্বিপাক্ষিক বিষয়, এবং উপসাগরকে যেন যুদ্ধজাহাজের মাধ্যমে “অপব্যবহার” করা না হয়—তা ইরান মেনে নেবে না।
সূত্র: বিবিসি
সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান তার ইরানি প্রতিপক্ষ আব্বাস আরাঘচির সাথে ফোনে কথা বলেছেন। যুদ্ধ চলাকালীন প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোতে ইরান হামলা শুরু করার পর এটিই দেশ দুটির মধ্যে প্রথম আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ।
সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘এই আলোচনায় পরিস্থিতির অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং অঞ্চলে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারে সহায়তার লক্ষ্যে উত্তেজনার গতি কমানোর উপায় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’
সূত্র : আল-জাজিরা
হিজবুল্লাহ প্রধান নাইম কাসেমের ব্যক্তিগত সচিব আলী ইউসুফ হারশি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী।
এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, বৈরুতে তাদের রাতভর বিমান হামলায় হারশি কাসেম নিহত হয়েছেন।
বিবৃতিতে হারশি কাসেমকে হিজবুল্লাহ প্রধানের ব্যক্তিগত সচিব ও ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সামরিক বাহিনী আরো দাবি করেছে, তারা লিতানি নদীর ওপর দুটি ‘গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত চৌকি এবং দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর অবকাঠামোতেও হামলা চালিয়েছে।
সূত্র : আল-জাজিরা
‘‘‘‘‘‘‘‘‘‘‘
স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে ম্যানুয়েল আলবারেজ বলেছেন, তার দেশ তেহরানে দূতাবাস পুনরায় খুলবে এবং শান্তি প্রচেষ্টায় ভূমিকা পালন করবে।
আলবারেজ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি তেহরানে আমাদের রাষ্ট্রদূতকে ফিরে এসে তার পদে পুনরায় যোগদান করতে এবং আমাদের দূতাবাস পুনরায় খুলতে নির্দেশ দিয়েছি এবং ইরানের রাজধানীসহ সম্ভাব্য সকল দিক থেকে শান্তির এই প্রচেষ্টায় আমাদের যোগ দেওয়ার জন্য বলেছি।’
সূত্র : আল-জাজিরা
ইসরাইলে গত ৪০ দিনের ইরান ও হিজবুল্লাহর হামলায় ৭ হাজার ৪৫১ জন্য আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) আল-জাজিরার খবরে এ তথ্য বলা হয়েছে।
ইসরাইলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে মোট ৭ হাজার ৪৫১ জন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
মন্ত্রণালয়টি আরো জানায়, বর্তমানে ১১৮ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যাদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
সূত্র : আল-জাজিরা
গতকাল বুধবার লেবাননে স্থল অভিযান শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত হওয়া হামলাগুলোর মধ্যে ‘সবচেয়ে বড়’ হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী। এই হামলায় হিজবুল্লাহর কয়েক ডজন যোদ্ধাকে হত্যার দাবি করেছে ইসরাইল।
ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, গত সপ্তাহে তাদের বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের আরো কয়েকটি এলাকায় স্থল অভিযান ‘সম্প্রসারিত’করেছে এবং অঞ্চলটির ওপর অভিযানিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে।
সামরিক বাহিনী বলেছে, ইসরাইলি সেনারা কয়েক ডজন হিজবুল্লাহ যোদ্ধাকে হত্যা করেছে এবং আগ্নেয়াস্ত্র, ম্যাগাজিন ও বিস্ফোরকসহ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র জব্দ করেছে।
সূত্র : আল-জাজিরা
যুদ্ধবিরতিতে লেবাননকেও অন্তর্ভুক্ত রাখা উচিত বলে জানিয়েছেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার।
কুপার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতিতে লেবাননকে অবশ্যই অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, যেখানে ইসরাইল প্রাণঘাতী হামলা অব্যাহত রেখেছে।
কুপার আরো বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল অবশ্যই টোলমুক্ত হতে হবে। এর মাধ্যমে তিনি ইরানের ট্রানজিট ফি আদায়ের পরিকল্পনার খবরকে নাকচ করে দেন।
সূত্র : আল-জাজিরা

লেবাননে ইসরাইলি হামলার পর ‘যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন’-এর অভিযোগ তুলে আবারো হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে ইরান।
দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, লেবাননে ইসরাইলের বড় ধরনের হামলার পর প্রথমে প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ধীর হয়ে আসে, পরে সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়।
জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা মেরিনট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে হরমুজ প্রণালিতে কোনো জাহাজ চলাচল করছে না।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর প্রণালিতে সীমিতভাবে জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছিল বলে জানা যায়।
এর আগে, লেবাননে ইসরাইলি হামলা চলতে থাকলে যুদ্ধবিরতি থেকে সরে আসার ঘোষণা দেয় ইরান। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, ইসরাইল যদি লেবাননে হামলার মাধ্যমে শর্ত লঙ্ঘন চালিয়ে যায়, তবে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেবে।
তবে হোয়াইট হাউজ বলেছে, লেবাননের পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির অংশ নয়।
বুধবার লেবাননে বিমান হামলার মাধ্যমে অভূতপূর্ব তাণ্ডব চালায় ইসরাইল। আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৮২ সালে লেবাননে ইসরায়েলি আগ্রাসনের পর এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি আর দেখা যায়নি। মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধানে লেবাননের বিভিন্ন প্রান্তে ১০০টি বিমান হামলা চালানো হয়। রাজধানী বৈরুতের এমন অনেক এলাকাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে, যেগুলোর সঙ্গে হিজবুল্লাহর কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
এসব হামলায় অন্তত ২৫৪ জন নিহত এবং ১ হাজার ১৬৫ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবাননের সিভিল ডিফেন্স।
ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র আভিচে আদরাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক বিবৃতিতে জানান, তাদের বাহিনী মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে একইসাথে বেশ কয়েকটি এলাকার হিজবুল্লাহর প্রায় ১০০টি সদর দফতর ও সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।
আভিচে আদরাই ইসরাইলি সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ ইয়েল জামিরের বরাত দিয়ে বলেন, ‘সেনাবাহিনী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে হামলা অব্যাহত রাখার যেকোনো ধরনের সুযোগই কাজে লাগাবে।’
সূত্র: আল-জাজিরা, বিবিসি

খেরবেত আল-দুয়াইর নামে পরিচিত আল-দুয়াইর শহরে হামলা চালাচ্ছে ইসরাইল। এছাড়া হারুফ শহরে ইসরাইলি অভিযানেরও খবর পাওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) আল জাজিরায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।
গতকাল বুধবার লেবাননে স্থল অভিযান শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত হওয়া হামলাগুলোর মধ্যে ‘সবচেয়ে বড়’ হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী।
একই সময় লেবাননের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোও দেশের বিভিন্ন শহর ও অঞ্চলে ব্যাপক বোমা বর্ষণের খবর প্রকাশ করেছে।
ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র আভিচে আদরাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক বিবৃতিতে জানান, তাদের বাহিনী মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে একইসাথে বেশ কয়েকটি এলাকার হিজবুল্লাহর প্রায় ১০০টি সদর দফতর ও সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।
আভিচে আদরাই ইসরাইলি সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ ইয়েল জামিরের বরাত দিয়ে বলেন, ‘সেনাবাহিনী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে হামলা অব্যাহত রাখার যেকোনো ধরনের সুযোগই কাজে লাগাবে।’
সূত্র : আল-জাজিরা, বিবিসি

আমেরিকা ইজ ব্যাক লিখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ট্রাম্প লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক জাহাজ ও যুদ্ধবিমান ইরানের আশপাশে অবস্থান করবে।যুক্তরাষ্ট্রের সব জাহাজ, উড়োজাহাজ, সামরিক সদস্য, অতিরিক্ত গোলাবারুদ, অস্ত্রশস্ত্র ইরানের ভেতরে ও আশপাশে অবস্থান করবে, যতক্ষণ না পর্যন্ত চুক্তি পুরোপুরি মানা হচ্ছে।
ট্রাম্প বলেন, ‘যদি কোনো কারণে ইরান চুক্তি না মানে তাহলে পুনরায় হামলা চালানো হবে, যা হবে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বড় এবং শক্তিশালী হামলা।’
ট্রাম্প আরো বলেন, আগেই বলা হয়েছে ইরানের কাছে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না, হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত ও নিরাপদ থাকবে। যদি এসব মানা না হয় তাহলে…, আমাদের সেনা বাহিনী বিশ্রাম ও প্রস্তুতি নিচ্ছে।
সূত্র: আল-জাজিরা

যুদ্ধবিরতি ‘লেবাননেও প্রযোজ্য হতে হবে’ বলে জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ।
ব্রিসবেনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় অ্যালবানিজ বলেন, ‘এই যুদ্ধবিরতি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগত, তবে এটি একটি অস্বস্তিকর অবস্থা, আমরা চাই এটি একটি চুক্তিতে পৌঁছাক।’
তিনি বলেন, তার সরকার ‘দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল এবং ইরানের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতি ‘লেবাননের জন্য প্রযোজ্য হবে।
তিনি বলেন, ‘আমি জানি লেবাননে ঘটে চলা ঘটনা নিয়ে অনেক অস্ট্রেলিয়ান উদ্বিগ্ন। এটি শুধু সেখানকার প্রভাবের বিষয় নয়, বরং এর প্রভাব সারা বিশ্বজুড়ে পড়ছে।’
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দুই সপ্তাহের জন্য হামলা স্থগিত করার সিদ্ধান্তকে ইসরাইল সমর্থন জানালেও এই যুদ্ধবিরতি লেবাননের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বিষয়টি কেউ ভালো চোখে নেয়নি। এ বিষয়ে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার বলেছেন, তাদের সামরিক জাহাজ ও বিমান ইরানের চারপাশে অবস্থান করবে। পাশাপাশি হুমকি দিয়ে বলেছেন, তেহরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে হওয়া চুক্তিটি পুরোপুরি মেনে না চললে যুক্তরাষ্ট্র আবার ‘গুলি চালানো’ শুরু করবে।
ট্রাম্প তার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’প্ল্যাটফর্মে বলেন, ‘যতক্ষণ না পর্যন্ত সম্পাদিত প্রকৃত চুক্তিটি পুরোপুরি মেনে চলা হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত সমস্ত মার্কিন জাহাজ, বিমান এবং সামরিক কর্মী, অতিরিক্ত গোলাবারুদ ও অস্ত্রশস্ত্রসহ... ইরানের ভেতরে ও চারপাশে অবস্থান করবে।’
প্রেসিডেন্ট আরো বলেন, ‘যদি কোনো কারণে তা না হয়, যা হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম, তাহলে ‘গুলি চালানো’ শুরু হবে, যা হবে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বড়, ভালো এবং শক্তিশালী।’
বুধবার ইসরাইল লেবাননে এযাবৎকালের সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা চালিয়ে শত শত মানুষ হত্যা করার পর, ইরান বুধবার আগেই বলেছিল যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তি সম্পাদনের আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়া ‘অযৌক্তিক’ হবে।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক মতপার্থক্য দেখা গেছে; ট্রাম্প বলেছেন, ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে, অন্যদিকে ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাগের কালিবাফ বলেছেন, যুদ্ধবিরতির শর্তানুযায়ী ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
সূত্র : রয়টার্স
তেহরান যদি আলোচনার মাধ্যমে কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়, তবে মার্কিন সেনারা পুনরায় যুদ্ধ শুরু করতে প্রস্তুত রয়েছেন বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা।
যুদ্ধ বন্ধে একটি চুক্তি করতে এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় গত মঙ্গলবার রাত আটটা (ইস্টার্ন টাইম) পর্যন্ত সময় দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই সময়সীমা না মানলে ইরানের ‘পুরো সভ্যতা’ ধ্বংসের হুমকি দিয়েছিলেন তিনি। তবে সময় শেষের দুই ঘণ্টা আগে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন ট্রাম্প। এতে মূল ভূমিকা রাখে পাকিস্তান। স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানি কর্মকর্তাদের আগামী শুক্রবার পাকিস্তানে আলোচনায় বসার কথা রয়েছে।
এর এক দিনের মাথায় যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তার কাছ থেকে এমন মন্তব্য এল।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন গতকাল বুধবার পেন্টাগনের এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমরা আশা করি, ইরান স্থায়ী শান্তিকে বেছে নেবে।’
সূত্র : রয়টার্স

টানা ৪০ দিন বন্ধ থাকার পর অবশেষে খুলে দেওয়া হয়েছে পবিত্র আল-আকসা মসজিদ। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরুর পরপরই মুসলিমদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই মসজিদ বন্ধ করে দিয়েছিল দখলদার ইসরাইল।
আল-আকসা বন্ধ থাকায় জেরুজালেমের মুসলিমরা এ বছর সেখানে রমজান মাসের পাশাপাশি ঈদুল ফিতরের নামাজও আদায় করতে পারেননি। তবে বুধবার (৮ এপ্রিল) যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার ভোরে আল-আকসা থেকে অবরোধ তুলে নেয় ইসরাইল। এর পরপরই মুসল্লিদের ঢল নামে মসজিদটিতে।
এর আগে, গত রমজানে পবিত্র আল-আকসা মসজিদে ফিলিস্তিনিদের নামাজ আদায়ে বাধা দেয় দখলদার ইসরাইলি বাহিনী। অবরোধ ছিল ঈদের দিনও। সেদিন প্রধান ফটকগুলো বন্ধ করে দেওয়ায় শত শত মুসল্লি মসজিদে প্রবেশ করতে পারেননি। বাধ্য হয়ে তারা মসজিদের প্রবেশদ্বার এবং আশেপাশের রাস্তাগুলোতে নামাজ আদায় করেন।
সূত্র: আল-জাজিরা
অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং বলেছেন, লেবাননে চলমান সংঘাত একটি “মানবিক সংকট” সৃষ্টি করছে।
তিনি অস্ট্রেলিয়াসহ আরও ছয়টি দেশের যৌথ বিবৃতি শেয়ার করে এই মন্তব্য করেন। বিবৃতিতে লেবাননে “অবিলম্বে সংঘাত বন্ধ” এবং ত্রাণকর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, “জাতিসংঘের শান্তিরক্ষীদের হত্যার মতো কর্মকাণ্ড এবং দক্ষিণ লেবাননে মানবিক সহায়তাকর্মীদের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাগুলোকে আমরা সর্বোচ্চ ভাষায় নিন্দা জানাই।”
এই যৌথ বিবৃতিতে ব্রাজিল, কলম্বিয়া, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডান, সিয়েরা লিওন এবং যুক্তরাজ্যও স্বাক্ষর করেছে।
এতে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সম্মত হওয়া যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানানো হলেও, যুদ্ধবিরতির পরও লেবাননে ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত থাকার বিষয়ে অতিরিক্ত কোনো উল্লেখ করা হয়নি।
জাপানের নিক্কেই শেয়ার সূচক কমে গেছে, কারণ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি নিয়ে আগের আশাবাদ ফিকে হয়ে এসেছে। বিনিয়োগকারীরা আগের দিনের বড় উত্থানের পর এখন আরও সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন।
বাজার তথ্য অনুযায়ী, জাপানের প্রধান শেয়ার সূচক নিক্কেই ০.৪ শতাংশ কমে ৫৬,০৩৬.৭৫ পয়েন্টে নেমে এসেছে (০২:০০ জিএমটি সময়ে)। বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে টানা চার দিনের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা ভেঙে যেতে পারে। অন্যদিকে, বিস্তৃত সূচক টোপিক্স ০.৫ শতাংশ কমে ৩,৭৫৫.৫২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
শিকাগো মারকেন্টাইল এক্সচেঞ্জে লেনদেন হওয়া নিক্কেই ২২৫ ফিউচারস রাতের মধ্যে ৫৭,০০০ পয়েন্ট অতিক্রম করেছিল।
এর আগের সেশনে নিক্কেই সূচক ৫.৪ শতাংশ বেড়ে এক মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। এর পেছনে মূল কারণ ছিল—ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার পর হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু হতে পারে—এমন আশাবাদ।
ইসরাইলি বাহিনীর ধারাবাহিক যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জবাবে বৃহস্পতিবার ভোরে উত্তর ইসরাইল লক্ষ্য করে রকেট হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে হিজবুল্লাহ। গোষ্ঠীটি টেলিগ্রামে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই হামলার দাবি করে।
বিবৃতিতে তারা জানায়, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তাদের প্রতিরোধমূলক হামলা অব্যাহত থাকবে।
এর আগে ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়, লেবানন থেকে নিক্ষিপ্ত একটি রকেট মাঝ আকাশেই ভূপাতিত করা হয়েছে।
অন্যদিকে, বুধবার মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধানে লেবাননের বিভিন্ন স্থানে প্রায় ১০০টি লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালায় ইসরাইলি বাহিনী। দিনব্যাপী এই হামলায় অন্তত ২৫৪ জন নিহত হয়েছেন এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন।
সূত্র: আল জাজিরা

লেবাননে ইসরাইলের সাম্প্রতিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সিরিয়া এবং তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে।
সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে ‘ভ্রাতৃপ্রতিম’ লেবাননের বিরুদ্ধে ইসরাইলি আগ্রাসনকে আন্তর্জাতিক আইন, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন এবং জাতিসংঘ সনদের নীতিমালার স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া পোস্টে মন্ত্রণালয়টি জোর দিয়ে বলেছে যে, ইসরায়েলের এই ধারাবাহিক হামলা- আন্তর্জাতিক আইন, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন এবং জাতিসংঘ সনদের মূলনীতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
বিবৃতিতে বলা হয়, বুধবার মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে ইসরাইলি বাহিনী দেশজুড়ে প্রায় ১০০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়, যার বেশিরভাগই রাজধানী বৈরুতে কেন্দ্রীভূত ছিল।
এসব হামলায় ২৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত এবং ১,১৬০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই।
লেবাননে ইসরাইলি বাহিনীর সাম্প্রতিক হামলার কঠোর নিন্দা জানিয়েছে ওমানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বুধবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দেশটি এ হামলাকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ বলে উল্লেখ করেছে।
ওমানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, এ ধরনের হামলা লেবাননের সার্বভৌমত্ব, আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতিমালা এবং জাতিসংঘ সনদের স্পষ্ট লঙ্ঘন।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘ইসরাইলের এই নৃশংস হামলায় ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনায় ওমান গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে। এসব কর্মকাণ্ডের জন্য ইসরায়েলকে সম্পূর্ণ দায়ী করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত তাদের জবাবদিহির আওতায় আনতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা।’
উল্লেখ্য, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার প্রথম দিনেই লেবাননে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। এতে কমপক্ষে ২৫৪ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন হাজারের অধিক।
সূত্র: আলজাজিরা।

সম্ভাব্য সমুদ্র মাইন এড়িয়ে জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে হরমুজ প্রণালীতে বিকল্প নৌপথ ঘোষণা করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) নৌবাহিনী।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইএসএনএ’র বরাতে জানানো হয়, প্রণালী অতিক্রমকারী সব জাহাজকে আইআরজিসি নৌবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে নির্ধারিত বিকল্প পথ ব্যবহার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঘোষণা অনুযায়ী—
আইআরজিসি নৌবাহিনী জানিয়েছে, এই রুটগুলো অনুসরণ করলে জাহাজগুলো সম্ভাব্য সমুদ্র মাইন ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে নিরাপদে চলাচল করতে পারবে।
সূত্র: আলজাজিরা।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী ও বিশ্বাসযোগ্য শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করা অপরিহার্য। খবর আলজাজিরার।
ম্যাক্রোঁ ইরান ও মার্কিন নেতাদের বলেছেন, যুদ্ধবিরতিই ছিল ‘সর্বোত্তম সম্ভাব্য’ সিদ্ধান্ত এবং এতে লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করাই শান্তির সর্বোত্তম পথ।
তিনি বলেন, ’যুদ্ধবিরতিকে বিশ্বাসযোগ্য ও স্থায়ী করার জন্য এটি একটি অপরিহার্য শর্ত।’
ম্যাক্রোঁ বলেন , ‘এভাবেই একটি শক্তিশালী ও টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।’
সূত্র: আলজাজিরা।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে স্পষ্টভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে—তারা যুদ্ধবিরতি চায় নাকি ইসরাইলের মাধ্যমে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চায়। খবর আলজাজিরার।
টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ‘ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতির শর্তগুলো পরিষ্কার ও নির্দিষ্ট। আমেরিকাকে হয় যুদ্ধবিরতি অথবা ইসরায়েলের মাধ্যমে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার মধ্যে একটিকে বেছে নিতে হবে; দুটি একসাথে চলতে পারে না।’
আরাগচি আরো বলেন, বিশ্ব লেবাননে গণহত্যা দেখছে। এখন ‘বল’ যুক্তরাষ্ট্রের কোর্টে, তারা তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে কি না তা বিশ্ববাসী দেখছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে কোন শর্তের ভিত্তিতে এই সমঝোতা হয়েছে তা নিয়ে।
হোয়াইট হাউস থেকে জানা গেছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছেন, তা ইরানের দেওয়া একটি ১০ দফা প্রস্তাবের ওপর ভিত্তি করে।
ট্রাম্প নিজেও সামাজিক মাধ্যমে দাবি করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের বেশিরভাগ বিরোধপূর্ণ বিষয় নিয়ে সমঝোতা হয়েছে।
এখন হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি বলছেন যে, বিষয়টি এমন নয়। প্রকৃতপক্ষে, ট্রাম্প অন্য একটি ১০-দফা পরিকল্পনার কথা বলছিলেন, সেটি আসলে আগের প্রস্তাব নয়—যা নিয়ে আগে ধারণা করা হয়েছিল।
এর ফলে চুক্তির প্রকৃত শর্ত নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার সময় ট্রাম্প ঠিক কীসে রাজি হচ্ছিলেন, তা নিয়ে এখানে ব্যাপক বিভ্রান্তি রয়েছে, কারণ ইরানের দেওয়া সেই ১০ দফার একটি ছিল দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি অভিযান এবং তাদের অন্যান্য মিত্রদের মূলত যা ইয়েমেনের প্রতিই ইঙ্গিত করে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান সীমিত করা।
সুতরাং, এগুলোই ছিল ইরানের ১০-দফা পরিকল্পনার মূল বিষয়গুলো।
ফলে প্রশ্ন উঠেছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আসলে কোন শর্তে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছেন এবং তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেই বা কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সূত্র: আলজাজিরা।

লেবাননে ইসরাইলের যুদ্ধবিরতির দিনেই এক হামলায় ২৫৪ জনের নিহতে ঘটনায় ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে কড়া মন্তব্য করেছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। তিনি নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে-‘মানবজীবন ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি অবজ্ঞা’ প্রদর্শনের অভিযোগ করেন। এসময় আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় নিন্দার পাশাপাশি ইইউকে ইসরাইলের সঙ্গে সহযোগিতা চুক্তি স্থগিতের আহ্বান সানেচেজ। খবর আলজাজিরার।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে সানচেজ বলেন, “আজ নেতানিয়াহু লেবাননের বিরুদ্ধে তার সবচেয়ে কঠোর হামলা চালিয়েছেন, যাতে ২০০ জনের বেশি নিহত এবং এক হাজারের বেশি আহত হয়েছেন। মানবজীবন ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি তার এই অবজ্ঞা অসহনীয়।”
তিনি আরো বলেন, এখন স্পষ্টভাবে কথা বলার সময় এবং লেবাননকে অবশ্যই যুদ্ধবিরতি চুক্তির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
সানচেজ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই নতুন আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় ইসরাইলকে নিন্দা জানাতে হবে। পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতি আহ্বান জানান, তারা যেন আবশ্যিকভাবে ইসরাইলের সঙ্গে থাকা অ্যাসোসিয়েশন চুক্তি স্থগিত করে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই অপরাধমূলক কাজের জন্য কোনো প্রকার দায়মুক্তি দেওয়া যাবে না।

লেবাননে বুধবার ব্যাপক হামলা চালিয়েছে ইসরাইল, এর ফলে যুদ্ধবিরতির দিনেই অন্তত ২৫৪ জন নিহত হয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করেছে যুক্তরাষ্ট্র, এমনটি অভিযোগ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিটের একটি ভিডিও শেয়ার করেন। সেখানে লিভিট বলেন, দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় লেবানন অন্তর্ভুক্ত নয়।
এর জবাবে বাঘাই প্রশ্ন তোলেন, এটা যদি যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি প্রাথমিক পর্যায়েই চুক্তি ভঙ্গের উদাহরণ না হয়, তাহলে আর কী?
এরআগের দিন বাঘাই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের একটি পোস্টও শেয়ার করেন, যেখানে বলা হয়েছিল, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র লেবাননসহ সর্বত্র অবিলম্বে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে।
সূত্র: আলজাজিরা।

লেবাননে বুধবার (৮ এপ্রিল) ইসরাইলের একদিনের হামলায় ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞকে ‘নৃশংস’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘আজ লেবাননে ইসরাইলি হামলায় অন্তত ২৫৪ জন নিহত হওয়ার ঘটনা- হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞের মাত্রা ‘ভয়াবহ ছাড়া আর কিছুই নয়।’
তুর্ক আরো বলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এমন হত্যাকাণ্ড অবিশ্বাস্য। এটি একটি ভঙ্গুর শান্তির ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করেছে, যা বেসামরিক নাগরিকদের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রতিটি হামলা অবশ্যই বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের মৌলিক নীতি—পার্থক্য, আনুপাতিকতা এবং সতর্কতা—অনুযায়ী হতে হবে।
তিনি আরো বলেন, ‘এই নীতিগুলো নিয়ে কোনো আপোষ চলে না—যেকোনো পরিস্থিতিতে, যেকোনো সশস্ত্র সংঘাতে এগুলো মানতেই হবে।’
সূত্র: আলজাজিরা।
গাজায় চলমান যুদ্ধে ইসরাইলি হামলায় নিহত সাংবাদিকের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ২৬২ জনে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস।
এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, আলজাজিরার সাংবাদিক মোহাম্মদ উইশাহকে হত্যার ফলে গাজায় ইসরাইলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে নিহত সাংবাদিকের সংখ্যা বেড়ে ২৬২-তে দাঁড়িয়েছে।
গাজা মিডিয়া অফিস অভিযোগ করেছে, ইসরাইল দখলদারিত্ব কর্তৃক ধারাবাহিকভাবে ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের ওপর পরিকল্পিতভাবে লক্ষ্যবস্তু বানানো, হত্যা ও গুপ্তহত্যার- তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘আমরা এই জঘন্য ও নৃশংস অপরাধ সংঘটনের জন্য ইসরাইলি দখলদারিত্ব, মার্কিন প্রশাসন এবং যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও ফ্রান্সের মতো গণহত্যার অপরাধে জড়িত দেশগুলোকে সম্পূর্ণরূপে দায়ী করি।’
সূত্র: আলজাজিরা।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে লেবাননকে অবশ্যই অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং সেখানে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরাইলের চলমান যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স -এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, এই বিষয়টি ইতোমধ্যেই সমঝোতার অংশ ছিল—যা ইসরাইলের সাম্প্রতিক বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
আরাগচি বলেন, বিশ্ব লেবাননে গণহত্যা দেখছে। এখন ‘বল’ যুক্তরাষ্ট্রের কোর্টে, তারা তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে কি না তা বিশ্ববাসী দেখছে।
তিনি ইঙ্গিত দেন, আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে হলে গাজা ছাড়াও লেবাননের পরিস্থিতি সমাধান জরুরি এবং সেটিকে যেকোনো যুদ্ধবিরতি আলোচনার অংশ করতে হবে।
সূত্র: আলজাজিরা।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় লেবানন অন্তর্ভুক্ত নয় বলে জানিয়েছেন হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট। বুধবার এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।
লেভিট বলেন, গত রাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে আলোচনা হয়েছে। নেতানিয়াহু এই যুদ্ধবিরতি উদ্যোগকে সমর্থন করেছেন এবং তিনি আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবেই থাকবেন।
ভবিষ্যতে লেবানন এই চুক্তির আওতায় আসতে পারে কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে।
অন্যদিকে, বুধবার ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে হিজবুল্লাহ অন্তর্ভুক্ত নয়। আমরা হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চালিয়ে যাব।’
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির প্রথম দিনেই লেবাননে ইসরাইলের ব্যাপক হামলায় ২৫৪ জন নিহত এবং ১ হাজার ১৬৫ জন আহত হয়েছেন। যদিও যুদ্ধবিরতির প্রতি সম্মান জানিয়ে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরাইলের ওপর হামলা বন্ধ রেখেছিল।
সূত্র: আলজাজিরা।
লেবানন বিভিন্ন এলাকায় ইসরাইলের ব্যাপক বিমান হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে কাতার। এসব হামলায় অন্তত ২৫৪ জন নিহত এবং আররো ১,১৬৫ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এসব হামলাকে ‘নৃশংস ও ব্যাপক আক্রমণ’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছে, এটি ভ্রাতৃপ্রতিম লেবানন প্রজাতন্ত্রের সার্বভৌমত্বের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ১৭০১ নম্বর প্রস্তাবেরও গুরুতর অবমাননা বলে মন্তব্য করা হয়।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতিকে বিপজ্জনকভাবে উত্তেজিত করছে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে।
কাতার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, তারা যেন নিজেদের দায়িত্ব পালন করে ইসরাইলকে এসব ‘বর্বর হামলা’ বন্ধ করতে বাধ্য করে এবং আন্তর্জাতিক আইন ও চুক্তি মেনে চলতে জবাবদিহিতার আওতায় আনে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার প্রথম দিনেই লেবাননে ইসরাইলের ব্যাপক হামলায় অন্তত ২৫৪ জন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন আরো ১ হাজার ১শত৬৫ জন। উল্লেখ্য, যুদ্ধবিরতি মেনে ইসরাইলের ওপর হামলা বন্ধ রেখেছিল হিজবুল্লাহ।
লেবাননের সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, এই হামলায় শুধু রাজধানী বৈরুতেই ৯২ জন নিহত ও ৭৪২ জন আহত হয়েছেন। বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরতলিতে মারা গেছেন ৬১ জন, আহত হয়েছেন ২০০ জন।
এ ছাড়া নাবাতিয়েহ অঞ্চলে ২৮ জন নিহত ও ৫৯ জন আহত; বালবেকে ১৮ জন নিহত ও ২৮ জন আহত; আলেই জেলায় ১৭ জন নিহত ও ৬ জন আহত; টায়ারে ১৭ জন নিহত ও ৬৮ জন আহত; সিদনে ১২ জন নিহত ও ৫৬ জন আহত এবং হেরমেলে ৯ জন নিহত ও ৬ জন আহত হয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বুধবার এই ভয়াবহ হামলা চালানো হয়।
এর আগে হিজবুল্লাহ জানিয়েছিল, তারা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতিকে সম্মান জানিয়ে ইসরাইলে হামলা স্থগিত রেখেছে। কিন্তু সেই ঘোষণার পরও ইসরাইলি বিমানবাহিনী মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে বৈরুতসহ লেবাননের বিভিন্ন স্থানে প্রায় ১০০টি বিমান হামলা চালায়।
সূত্র: আলজাজিরা।
যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে গত ২ মার্চের পর লেবাননে ইসরাইলের সবচেয়ে বড় বিমান হামলার পর এবার দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরাইলের দিকে রকেট ছোড়া হয়েছে।
ইসরাইলি সেনাবাহিনীর হোম ফ্রন্ট কমান্ড জানিয়েছে, লেবানন সীমান্ত-সংলগ্ন শতুলা এবং পশ্চিম গ্যালিলি অঞ্চলের অন্যান্য শহরে বিমান হামলার সাইরেন বাজছে।
অবশ্য ইসরাইলের এই ব্যাপক বিমান হামলার আগে হিজবুল্লাহ কর্মকর্তারা বলেছিলেন, তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধবিরতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং ইসরাইলে হামলা স্থগিত রেখেছে।
হিজবুল্লাহর এ ঘোষণা সত্ত্বেও লেবাননে ইসরাইলের বিমানবাহিনীর নতুন দফার হামলায় কয়েক শ মানুষ হতাহত হয়েছেন। মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধানে বৈরুতসহ বিভিন্ন এলাকায় ১০০টি বিমান হামলা চালানো হয়েছে।
তেহরান বলে আসছে, লেবানন ফ্রন্টও এই যুদ্ধবিরতির আওতায় রয়েছে। যদিও তা নাকচ করে দিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
ইসরাইলের সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামির বলেছেন, কোনো ধরনের আপস ছাড়াই হিজবুল্লাহর ওপর হামলা অব্যাহত থাকবে।
তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা
লেবাননে সংঘটিত ঘটনার জন্য ইসরাইলকে ‘শাস্তি’ দেয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। আল জাজিরাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘লেবাননে সংঘটিত অপরাধ ও যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘনের জবাবে ইসরাইলকে শাস্তি দেবে ইরান।’
তিনি আরো বলেন, ‘যুদ্ধবিরতি কেবল একটি নির্দিষ্ট এলাকা নয়, পুরো অঞ্চলের জন্য প্রযোজ্য। কিন্তু ইসরাইল প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করার জন্য পরিচিত। তাদেরকে কেবল শক্ত প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমেই নিবৃত্ত করা সম্ভব।’
এদিকে ইরানের এক অজ্ঞাতনামা সামরিক সূত্রের বরাত রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ফার্স জানিয়েছে, ইসরাইলের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনায় জবাব দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান।
সূত্র: আল জাজিরা
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে মার্কিন বাহিনী মোতায়েন করা হবে না বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। আজ বুধবার মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ভূমিকা এবং ‘মার্কিন সেনারা আশপাশেই থাকবে’—প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই বক্তব্যের ব্যাখ্যা জানতে চাওয়া হয় তাঁর কাছে।
জবাবে হেগসেথ বলেন, ‘আমরা কোথাও যাচ্ছি না।’ তিনি বলেন, ইরান যেন যুদ্ধবিরতির শর্তগুলো মেনে চলে এবং চুক্তির আলোচনায় অংশ নেয়, তা নিশ্চিত করবে মার্কিন সেনারা। প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, সেনারা আগের অবস্থানেই থাকবে, প্রস্তুত থাকবে এবং সতর্ক থাকবে; যেন প্রয়োজন পড়লে মুহূর্তের নোটিশে পুনরায় সবকিছু শুরু করা যায়।
হরমুজ প্রণালির বিষয়ে যুদ্ধবিরতির শর্ত উল্লেখ করে হেগসেথ বলেন, ইরান এই সমুদ্রপথ দিয়ে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিতে সম্মত হয়েছে। তিনি বলেন, এটি কার্যকর হতে যাচ্ছে, জাহাজগুলো সেখানে চলাচল করবে।
হেগসেথ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলায় নিহত ইরানের বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘এই নতুন সরকারের সামনে কোনো বিকল্প বা সময়—কোনোটিই অবশিষ্ট ছিল না, তাই তারা একটি চুক্তিতে এসেছে। তারা জানে, এই চুক্তির অর্থ হলো তারা আর কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র হাতে পাবে না।’
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ৪০ দিনেরও কম সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মাত্র ১০ শতাংশ যুদ্ধশক্তি ব্যবহার করে দেশটি ‘বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সামরিক বাহিনীকে’ গুঁড়িয়ে দিয়েছে। তিনি দাবি করেন, ইরান নিজেকে রক্ষা করতে অক্ষম প্রমাণ হয়েছে। তেহরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযান ‘পরিকল্পনা ও সময়সূচি অনুযায়ী প্রতিটি লক্ষ্য অর্জন করেছে’ বলেও দাবি করেন হেগসেথ।
তথ্যসূত্র: বিবিসি ও আল-জাজিরা
ইসরাইলের চিফ অব জেনারেল স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামির বলেছেন, ইসরাইলি সেনাবাহিনী কোনো প্রকার আপস না করেই হিজবুল্লাহর ওপর হামলা অব্যাহত রাখবে।
ইসরাইলি বাহিনীর এক বিবৃতিতে তার উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, আমরা সন্ত্রাসী সংগঠন হিজবুল্লাহর ওপর আঘাত হানা অব্যাহত রাখব এবং প্রতিটি সুযোগ কাজে লাগাব।
তিনি আরো বলেন, উত্তর ইসরাইলের বাসিন্দাদের নিরাপত্তার বিষয়ে আমরা কোনো আপস করব না। আমরা কোনো বিরতি ছাড়াই আক্রমণ চালিয়ে যাব।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সাথে “ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে” যুক্তরাষ্ট্র।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে এ কথা বলেছেন তিনি।
তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সাথে কাজ করবে, “একটি অত্যন্ত ফলপ্রসু শাসন পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে দেশটি গেছে বলে আমরা নিশ্চিত হয়েছি।”
ইরান আর ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করবে না বলে ট্রাম্প উল্লেখ করেছেন।
তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র “মাটির গভীরে পুঁতে রাখা সব পারমাণবিক ‘আবর্জনা’(বি-২ বোমারু বিমান দিয়ে ধ্বংস করা হয়েছিল) খনন করে সরিয়ে ফেলতে” তেহরানের সাথে কাজ করবে।
“এটা বর্তমানে এবং আগে থেকেই অত্যন্ত সূক্ষ্ম স্যাটেলাইট নজরদারির আওতায় রয়েছে” বলেন ট্রাম্প।
তিনি আরো জানান, “হামলার দিন থেকে এখন পর্যন্ত কোনো কিছুই স্পর্শ করা হয়নি। আমরা ইরানের সাথে শুল্ক এবং নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করছি এবং করবো। আমাদের প্রস্তাবিত ১৫টি পয়েন্টের মধ্যে অনেকগুলোতেই ইতিমধ্যে রাজি হয়েছে।”
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাকিস্তানে অনুষ্ঠেয় বৈঠকের আগে একটি যুদ্ধবিরতি কাঠামো চূড়ান্ত হলে আগামীকাল বৃহস্পতি বা পরদিন শুক্রবার হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে পারে তেহরান। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।
যুদ্ধের সময় ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিলে বিশ্বজুড়ে তেল ও গ্যাসের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি সমঝোতার অংশ হিসেবে তেহরান এই প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচলের অনুমতি দিতে সম্মত হয়েছে।
রয়টার্সকে ওই কর্মকর্তা আরও জানান, ইরানের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করেই এই নৌপথ পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা
ইরান–সমর্থিত লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র–ইসরাইল ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে লেবানন ফ্রন্টকে অন্তর্ভুক্ত করা না হলে এই চুক্তি পুরোপুরি ভেস্তে যেতে পারে।
হিজবুল্লাহর পার্লামেন্ট সদস্য ইব্রাহিম মুসাবি জোর দিয়ে বলেন, এই চুক্তিতে হিজবুল্লাহ-ইসরাইল ফ্রন্ট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যদি ইসরাইল এটি মেনে না চলে, তবে ইরানসহ পুরো অঞ্চল এর পাল্টা জবাব দেবে।
আজ বুধবার সকালে ইসরাইল সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লড়াই এবং স্থল অভিযান অব্যাহত থাকবে। এটি মূলত ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বক্তব্যেরই প্রতিফলন। তিনি বলেছেন, যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে লেবানন অন্তর্ভুক্ত নয়।
উল্লেখ্য, যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়ার পরও দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন স্থানে একের পর এক হামলা চালিয়ে আসছে ইসরাইল।
সংঘাতের শুরু থেকেই ইরান বারবার বলে আসছে, যেকোনো চুক্তিতে লেবানন ফ্রন্টকে অবশ্যই অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
তথ্যসূত্র: আল–জাজিরা
লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ১৫ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন।
এই আঞ্চলিক শান্তি প্রক্রিয়ার মধ্যে লেবাননকেও অন্তর্ভুক্ত করার জন্য রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেছেন তিনি।
প্রেসিডেন্ট আউন বলেন, “এই শান্তি যেন লেবাননের জন্য স্থিতিশীল এবং দীর্ঘস্থায়ী হয়।এই শান্তি প্রক্রিয়া হতে হবে লেবাননের সার্বভৌমত্বের নীতির ভিত্তিতে যেন দেশটি পুরো ভূখণ্ডের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ফিরে পায় এবং যে কোনো দখলদার মুক্ত হয়।”
সেইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, “যুদ্ধ বা শান্তি এবং বৈধ শক্তি ব্যবহারের অধিকার কেবল দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর হাতেই সীমাবদ্ধ থাকতে হবে।”
সূত্র: বিবিসি
ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা নেটব্লকস জানিয়েছে, ইরানিরা এখনো ইন্টারনেট ব্যবহারে ব্যাপক বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন। বুধবার ইরানে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্নের ৪০ দিন হলো।
নেটব্লকস বলছে, “যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান, উভয় দেশই নিজেদের জয়ী দাবি করলেও যুদ্ধকালীন সেন্সরশিপ এখনো চলছে। ইরানি জনগণ আবারও বাইরের জগৎ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন।”
দেশজুড়ে ইন্টারনেট সেবা প্রায় পুরোপুরি বন্ধ থাকলেও, কিছু কিছু মানুষ স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ‘স্টারলিংক’ এবং অন্যান্য বিকল্প পদ্ধতি ব্যবহার করে কোনোমতে ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন।
তবে এর জন্য তাদের অনেক ঝুঁকি ও উচ্চমূল্য দিতে হচ্ছে। ইরানে স্টারলিংক ডিভাইস ব্যবহার করা বা সঙ্গে রাখা দণ্ডনীয় অপরাধ।এই অপরাধের শাস্তি হিসেবে সর্বোচ্চ দুই বছরের জেল হতে পারে।
ইরানি কর্তৃপক্ষ বর্তমানে এই ডিভাইসগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালাচ্ছে। এছাড়া স্টারলিংকের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহারের খরচও অনেক বেশি। টেলিগ্রাম অ্যাপে এক জিবি স্টারলিংক ডেটা প্রায় ছয় ডলারে (প্রায় চার দশমিক ৫০ পাউন্ড) বিক্রি হচ্ছে।
ইরানের সাধারণ মানুষের এটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল। কারণ তাদের গড় মাসিক বেতন মাত্র ২০০ থেকে ৩০০ ডলারের মতো।
সূত্র: বিবিসি

শান্তি প্রতিষ্ঠায় আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধি দলকে ইসলামাবাদে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। আগামী শুক্রবার এ আলোচনা হওয়ার কথা।
পাকিস্তানের রাজধানীতে অনুষ্ঠিতব্য এ আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলে নেতৃত্ব দিতে পারেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। আর ইরানের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার বাঘের ঘালিবাফের।
ইরানের সংবাদমাধ্যম আইএসএনএ এই তথ্য জানিয়েছে।
সূত্র: আল–জাজিরা।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর নিজেদের আকাশসীমা খুলে দিয়েছে ইরাক। সেই সঙ্গে ইরাকের বন্ধ থাকা সবগুলো বিমানবন্দরের কার্যক্রম চালু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আজ বুধবার ইরাকের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে এ নির্দেশ দেয়। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অবিলম্বে এ নির্দেশ কার্যকর হবে।
সূত্র: আল–জাজিরা।
লেবাননের ওপর ইসরাইলের অব্যাহত হামলা সত্ত্বেও হিজবুল্লাহ দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি মেনে নিয়েছে।
বুধবার রয়টার্স সংবাদ সংস্থাকে দলটির ঘনিষ্ঠ তিনটি লেবানিজ সূত্র এ কথা জানিয়েছে।
মার্কিন-ইরান যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে বুধবার ভোরে দলটি উত্তর ইসরাইল এবং লেবাননে ইসরাইলি সেনাদের ওপর গোলাবর্ষণ বন্ধ করে দিয়েছে।
ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু দুই সপ্তাহের ইরান-মার্কিন যুদ্ধবিরতিতে লেবানন অন্তর্ভুক্ত থাকবে না বলার পর ইসরাইল দক্ষিণ লেবাননে হামলা অব্যাহত রেখেছে। এমনকি দক্ষিণের একট শহরের নাগরিকদের নতুন করে সরে যাওয়ার নির্দেশ জারি করেছে। যা নতুন করে হামলার ইঙ্গিত করছে।
বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের ড্রোন হামলায় আজ বুধবার দেশটিতে দুজন আহত হয়েছেন। তবে তাদের আঘাত গুরুতর নয়।
ড্রোন থেকে শার্পনেল পড়ে বাহরাইনের সিতরা এলাকায় কয়েকটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার আগে নাকি পরে এই হামলা হয়েছে, সেটা জানায়নি বাহরাইন সরকার।
সূত্র: বিবিসি
যুদ্ধের ৪০তম দিনে এসে আজ বুধবার দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরাইল–ইরান। এরআগে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল । পাল্টা জবাব দেয় ইরান। শুধু ইসরাইল নয়, ইরানের পক্ষ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়।
এ যুদ্ধে কোন দেশে কতজন নিহত হয়েছেন, আসুন দেখে নেই—
ইরান: যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ জানায়, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানে মোট ৩ হাজার ৬৩৬ জন নিহত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক রেডক্রস এবং রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, ইরানে নিহতের সংখ্যা ১ হাজার ৯০০ জন।
যুক্তরাষ্ট্র: যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর ১৩ জন সেনা নিহত এবং তিন শতাধিক আহত হয়েছেন। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এ তথ্য জানিয়েছে।
ইসরাইল: ইসরাইলের অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবার তথ্য অনুযায়ী, ইরান ও লেবানন থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে দেশটিতে মোট ২৩ জন নিহত হয়েছেন। ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে তাদের ১১ জন সেনা নিহত হয়েছেন।
ফ্রান্স: উত্তর ইরাকে ড্রোন হামলায় একজন ফরাসি সেনা নিহত হয়েছেন।
লেবানন: লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২ মার্চ থেকে ইসরাইলি হামলায় দেশটিতে ১ হাজার ৫৩০ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে অন্তত ১২৯ শিশু রয়েছে। দক্ষিণ লেবাননে দুটি পৃথক ঘটনায় জাতিসংঘের তিনজন শান্তিরক্ষী নিহত হয়েছেন। তারা ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক। লেবাননে নিহতের তালিকার আরো আছেন সাংবাদিক ও চিকিৎসাকর্মী।
ইরাক: সংকট শুরুর পর থেকে ইরাকে অন্তত ১১৭ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
সংযুক্ত আরব আমিরাত: দুজন সেনাসহ মোট ১৩ জন নিহত হওয়ার খবর জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
কাতার: কাতারের জলসীমায় গত ২২ মার্চ ‘নিয়মিত দায়িত্ব পালনের’ সময় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে সাতজন নিহত হয়েছেন।
কুয়েত: সাতজন নিহত হওয়ার খবর জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
পশ্চিম তীর (ফিলিস্তিন): ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে চারজন ফিলিস্তিনি নারী নিহত হয়েছেন।
সিরিয়া: দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের শহর সুয়েইদায় একটি ভবনে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে চারজন নিহত হন।
বাহরাইন: ইরানের দুটি পৃথক হামলায় দুজন নিহত হয়েছেন।
ওমান: দেশটির সোহর প্রদেশের একটি শিল্পাঞ্চলে গত ১৩ মার্চ ড্রোন হামলায় দুজন নিহত হয়েছেন।
সৌদি আরব: রাজধানী রিয়াদের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত আল-খারজ শহরের একটি আবাসিক এলাকায় নিক্ষিপ্ত গোলার আঘাতে দুজন নিহত হয়েছেন।
এছাড়া, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গত ৩ এপ্রিল জানানো হয়, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ওই অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে থাকা ছয় বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন।
সূত্র: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে রাজি হওয়ার ঘটনাকে স্বাগত জানিয়েছে ইউক্রেন ।
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা এক্স-এ লিখেছেন,‘ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্মত হওয়া যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালির অবরোধ তুলে নেওয়াকে ইউক্রেন স্বাগত জানিয়েছে এবং ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ বন্ধ করতে ওয়াশিংটনের কাছে অনুরূপ ‘দৃঢ়তা’ প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে।
সিবিহা আরো লিখেছেন, ‘আমেরিকার দৃঢ়তা কাজ করে। আমরা বিশ্বাস করি, মস্কোকে যুদ্ধবিরতিতে বাধ্য করতে এবং ইউক্রেনের বিরুদ্ধে তাদের যুদ্ধ শেষ করার জন্য যথেষ্ট দৃঢ়তা প্রদর্শনের সময় এসেছে।’
সূত্র : আল-জাজিরা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে রাজি হওয়ার ঘটনাকে স্বাগত জানিয়ে স্থায়ী শান্তির আহ্বান জানিয়েছে ওমান।
ওমানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতির ঘোষণাকে স্বাগত জানায় এবং ‘যুদ্ধ অবসানের আহ্বানকারী পাকিস্তান ও সকল পক্ষের প্রচেষ্টাকে’ সাধুবাদ জানায়।
মন্ত্রণালয়টি বলেছে, ‘আমরা এই সংকটকে গোড়া থেকে নির্মূল করতে এবং এই অঞ্চলে যুদ্ধ ও সংঘাতের অবস্থার স্থায়ী অবসান ঘটাতে পারে এমন সমাধান খুঁজে বের করার জন্য এখনই প্রচেষ্টা জোরদার করার গুরুত্বের ওপর জোর দিচ্ছি।’
সূত্র : আল-জাজিরা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে রাজি হওয়ার ঘটনাকে স্বাগত জানিয়েছেন জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস।
মের্ৎস যুদ্ধবিরতিতে মধ্যস্থতায় ভূমিকা রাখার জন্য পাকিস্তানকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন এবং জোর দিয়ে বলেছেন, আগামী দিনগুলোতে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে ‘যুদ্ধের স্থায়ী অবসান’ নিয়ে আলোচনা করাই লক্ষ্য হওয়া উচিত।
সূত্র : আল-জাজিরা

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও সতর্ক রয়েছে ইরান। মার্কিন সরকারের প্রতি অনাস্থার কারণেই এমনটা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ইরান।
এই অনাস্থা শুধু ইরান সরকার এবং মার্কিন সরকারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং জনগণ এবং মার্কিন সরকারের মধ্যেও বিদ্যমান।
গত কয়েকটি আলোচনায়, আলোচনার ঠিক পরেই বা এমনকি আলোচনা চলাকালীনও যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে।
সুতরাং আপাতত, এই যুদ্ধবিরতিকে সতর্কতার সাথে গ্রহণ করা হচ্ছে, এবং এটি একটি যুদ্ধবিরতি। তাই যখনই কোনো যুদ্ধবিরতি হয়, তার একটি সীমা থাকে, একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকে। সুতরাং জনগণ বিষয়টি বিবেচনায় নেবে।
সূত্র : আল-জাজিরা

বাহরাইন জানিয়েছে, ইরানের হামলার কারণে তাদের বেসামরিক প্রতিরক্ষা দল এইমাত্র একটি স্থাপনায় লাগা আগুন নেভাতে সফল হয়েছে।
গত রাতে কাতারে অসংখ্য হামলা হয়েছে, এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার সময় ছিটকে আসা ধ্বংসাবশেষের আঘাতে চারজন আহত হয়েছেন।
কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতেও হামলা হয়েছে। সৌদি আরব জানিয়েছে, তারা পাঁচটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে।
মাত্র গত কয়েক ঘণ্টার মধ্যে, আবুধাবি মিডিয়া অফিস জানিয়েছে. তারা হাবশান গ্যাসক্ষেত্রে লাগা একটি আগুনের ঘটনায় সাড়া দিচ্ছে, যদিও অফিসটি এর কারণ উল্লেখ করেনি। এর ঠিক আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতে সতর্কবার্তা বেজে ওঠে।
এ থেকে এটা বোঝা যাচ্ছে যে, পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলই আশা করবে এখানে একটি কূটনৈতিক পথ এবং সমাধান থাকতে পারে।
এই পুরো সংঘাত জুড়ে বার্তাটি ছিল উত্তেজনা কমানো এবং একটি দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের জন্য কূটনৈতিক পথ খুঁজে বের করা।
সূত্র : আল-জাজিরা

বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু রাজনৈতিকভাবে ব্যর্থ হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ইসরাইলের বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ।
লাপিদ এক্স-এ লিখেছেন,‘আমাদের ইতিহাসে এমন রাজনৈতিক বিপর্যয় আর কখনো ঘটেনি। আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার মূল বিষয়গুলো নিয়ে যখন সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছিল, তখন ইসরাইল সেই আলোচনায় উপস্থিতই ছিল না।’
তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনীকে যা যা করতে বলা হয়েছিল, তার সবই তারা করেছে, জনগণ আশ্চর্যজনক সহনশীলতা দেখিয়েছে, কিন্তু নেতানিয়াহু রাজনৈতিকভাবে ব্যর্থ হয়েছেন, কৌশলগতভাবে ব্যর্থ হয়েছেন এবং তিনি নিজে যে লক্ষ্যগুলো নির্ধারণ করেছিলেন, তার একটিও পূরণ করতে পারেননি।
তিনি আরো বলেন, ‘অহংকার, অবহেলা এবং কৌশলগত পরিকল্পনার অভাবে নেতানিয়াহু যে রাজনৈতিক ও কৌশলগত ক্ষতি করেছেন, তা মেরামত করতে আমাদের বছরের পর বছর সময় লাগবে।
সূত্র : আল-জাজিরা

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরাইলি বাহিনী ও ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যে এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা সংঘর্ষে দেশটিতে ১ হাজার ৫৩০ জন নিহত হয়েছেন।
তথ্যটি লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে প্রকাশ করেছে সংবাদ সংস্থা এএফপি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহতদের মধ্যে ১০২ জন নারী এবং ১৩০ শিশু রয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছেন আরো ৪ হাজার ৮১২ জন।
ইরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যা সমর্থন করেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে নেতানিয়াহু স্পষ্ট করেছেন, এই যুদ্ধবিরতিতে লেবানন অন্তর্ভুক্ত হবে না।
সূত্র : এএফপি

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে ইরান। এই যুদ্ধবিরতিকে নিজেদের ঐতিহাসিক বিজয় অর্জনের দাবি করেছে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল।
আজ এক বিবৃতিতে এ দাবি করা হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আনুষ্ঠানিক আলোচনার আগেই ১০ দফার একটি প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রকে মানতে বাধ্য করেছে ইরান। এতে ভবিষ্যতে আগ্রাসন না চালানোর নিশ্চয়তা, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত রাখা, নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা, অঞ্চলটি থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহার করা এবং ক্ষতিপূরণের কথাও বলা হয়েছে।
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে আগামী শুক্রবার এ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা শুরুর কথা রয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ওই আলোচনায় চুক্তি চূড়ান্ত করার দিকে অধিক মনোযোগ দেওয়া হবে। তবে ‘এর অর্থ এটা নয় যে, যুদ্ধ শেষ হয়ে গেছে’।
সূত্র: এনডিটিভি, মিডলইস্ট আই
হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার ‘কোনো অধিকার’ ইরানের নেই বলে জানিয়েছেন বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল্লাতিফ বিন রশিদ আল জায়ানি।
বুধবার আল-জাজিরার সংবাদে এ তথ্য জানানো হয়।
হরমুজ প্রণালী সম্পর্কিত প্রস্তাবের ওপর ভোটের আগে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ভাষণকালে তিনি এ কথা বলেন।
আল জায়ানি বলেন, ‘উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের সদস্য রাষ্ট্রগুলো বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের প্রধান উৎস। এটি হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তাকে একটি যৌথ আন্তর্জাতিক দায়িত্বে পরিণত করে। অতএব, আমরা উচ্চস্বরে এবং দ্ব্যর্থহীনভাবে ঘোষণা করছি যে, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের এই পানিপথকে আন্তর্জাতিক নৌচলাচলের জন্য বন্ধ করার, কিংবা বিশ্বের জনগণকে জীবনের জন্য অপরিহার্য এই সম্পদ থেকে বঞ্চিত করার কোনো অধিকার নেই।’
সূত্র : আল-জাজিরা

বিরতি মানেই যুদ্ধের সমাপ্তি নয় বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত বিবৃতিতে খামেনি বলেন, ‘এটি যুদ্ধের সমাপ্তি নয়, তবে সামরিক বাহিনীর সকল শাখার উচিত সর্বোচ্চ নেতার আদেশ মেনে গোলাবর্ষণ বন্ধ করা।’
ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এই যুদ্ধবিরতি মানে যুদ্ধের সমাপ্তি বোঝায় না। যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইলের পক্ষ থেকে যেকোনো হামলা মোকাবিলায় তাদের হাত ‘বন্দুকের ট্রিগারে থাকবে’ বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে তেহরান।
যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ জানায়, ‘পুনরায় জোর দিয়ে বলা হচ্ছে যে, এর অর্থ যুদ্ধের সমাপ্তি নয়... আমাদের হাত ট্রিগারের ওপরেই রয়েছে, এবং শত্রুপক্ষের পক্ষ থেকে সামান্যতম ভুল হলেও তার জবাব পূর্ণ শক্তিতে দেওয়া হবে।’
সূত্র: এনডিটিভি

যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পরও ইরানের রাজধানী তেহরানে উত্তেজনা কমেনি। বরং যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরপরই শহরের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন সরকারপন্থী সমর্থকরা।
বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় নেমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকে এবং একপর্যায়ে দেশ দুটির পতাকায় আগুন ধরিয়ে দেয়। ঘটনাটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বিক্ষোভ মূলত সাধারণ মানুষের মধ্যে জমে থাকা ক্ষোভ ও অবিশ্বাসের প্রতিফলন। দীর্ঘদিনের সংঘাতে ব্যাপক প্রাণহানি, অবকাঠামো ধ্বংস এবং অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণে অনেক ইরানি নাগরিক যুদ্ধবিরতিকে স্থায়ী সমাধান হিসেবে দেখছেন না।
ইরানের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, তারা শুধুমাত্র অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি নয়, বরং একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তি চায়। যেখানে ভবিষ্যতে আর কোনো হামলা হবে না এবং ক্ষয়ক্ষতির জন্য উপযুক্ত নিশ্চয়তা থাকবে।
এদিকে, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা সতর্ক করে বলেছেন যে, বর্তমান যুদ্ধবিরতি অত্যন্ত নাজুক এবং যেকোনো সময় পরিস্থিতি আবারও সহিংসতায় রূপ নিতে পারে। কিছু অঞ্চলে এখনও বিচ্ছিন্ন হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে, যা পরিস্থিতির অনিশ্চয়তাকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।
সূত্র : সিএনএন, রয়টার্স

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ‘পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত বিজয়’ অর্জন করেছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এমন দাবি করেন।
তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তি সম্পাদনের পর যুক্তরাষ্ট্র একটি ‘পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত বিজয়’ অর্জন করেছে। বলেন, ‘পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত বিজয়। শতভাগ। এ বিষয়ে কোনো প্রশ্নই থাকতে পারে না।’
তেহরান চুক্তি ভঙ্গ করলে ইরানের বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করার বিষয়ে যে হুমকি তিনি দিয়েছিলেন, তা তিনি বাস্তবায়ন করবেন কি না, এমন প্রশ্নের কোনো জবাব দেননি তিনি। বলেন, ‘আপনাদের অপেক্ষা করতে হবে।’
এরআগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর হামলা দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিতের ঘোষণার পর ইরানের সুপ্রিম সিকিউরিটি কাউন্সিল এইমাত্র দেওয়া বিবৃতিতে ট্রাম্পের ঘোষণাকে স্বাগত জানায়। ইসরাইলও হামলা বন্ধে সম্মত হয়েছে। যুদ্ধ বিরতির ঘোষণার সাথে সাথে তেলের দাম ১০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
সূত্র: সিএনএন

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, এক সপ্তাহ আগে ইরাকের রাজধানী বাগদাদ থেকে অপহৃত মার্কিন ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক শেলি কিটলসন মুক্তি পেয়েছেন। গত ৩১ মার্চ তাকে অপহরণ করা হয়েছিল।
এরআগে মঙ্গলবার ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়া গোষ্ঠী কাতাইব হিজবুল্লাহ জানায়, তারা শেলি কিটলসনকে মুক্তি দেবে। তবে শর্ত হলো, তাকে অবিলম্বে ইরাক ত্যাগ করতে হবে।
রুবিও বলেন, এই মুক্তি ‘বিশ্বের সর্বত্র মার্কিন নাগরিকদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের অটল অঙ্গীকারের প্রতিফলন’।
তিনি তার মুক্তি নিশ্চিত করতে সাহায্য করার জন্য ইরাকি কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান। বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন ‘ইরাক থেকে তার নিরাপদ প্রস্থানে সহায়তা করার জন্য কাজ করছে’।
৪৯ বছর বয়সী এই সাংবাদিককে অপহরণের পর ইরাকি সরকার জানিয়েছিল, নিরাপত্তা বাহিনী সন্দেহভাজনদের ধাওয়া করেছিল, যার ফলে অপহরণকারীদের একটি গাড়ি উল্টে যায়। সেসময় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সূত্র: বিবিসি

যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তিনি মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদী শান্তির লক্ষ্যে কাজ করার জন্য সকল পক্ষকে আহ্বান জানিয়েছেন।
মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক এক বিবৃতিতে এ খবর জানান। খবর আল–জাজিরার।
তিনি বলেন, জাতিসংঘ প্রধান ‘মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের সকল পক্ষকে আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে তাদের বাধ্যবাধকতা মেনে চলতে এবং এই অঞ্চলে একটি স্থায়ী ও পূর্ণাঙ্গ শান্তির পথ প্রশস্ত করার জন্য যুদ্ধবিরতির শর্তাবলী পালন করতে আহ্বান জানিয়েছেন।’
সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান

নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার প্রায় দুই ঘণ্টা আগে বুধবার ভোরে ইরান যুদ্ধে ২ সপ্তাহের বিরতির ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের এমন সিদ্ধান্তে সায় দিয়েছে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর।
তবে, প্রস্তাব অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী প্রতিটি জাহাজ থেকে প্রায় ২০ লাখ ডলার ফি আদায় করবে ইরান, যা ওমানের সঙ্গে ভাগাভাগি করা হবে। প্রাপ্ত অর্থ যুদ্ধবিধ্বস্ত অবকাঠামো পুনর্গঠনে ব্যয় করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, প্রস্তাবে সাময়িক যুদ্ধবিরতির পরিবর্তে স্থায়ীভাবে যুদ্ধের অবসানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদে নৌ চলাচল নিশ্চিত করার একটি প্রোটোকলও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সূত্র : নিউ ইয়র্ক টাইমস
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় লেবানন অন্তর্ভুক্ত নয়।
সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়, ইসরাইল শর্তসাপেক্ষে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা স্থগিত করতে সম্মত হয়েছে।
শর্ত অনুযায়ী, ইরানকে অবিলম্বে হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে হবে এবং যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও আঞ্চলিক দেশগুলোর ওপর সব ধরনের হামলা বন্ধ করতে হবে।
বিবৃতিতে আরো উল্লেখ করা হয়, এই দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি লেবাননের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।
এছাড়া, ইসরাইল যুক্তরাষ্ট্রের সেই প্রচেষ্টাকে সমর্থন করছে বলেও জানানো হয়েছে, যার লক্ষ্য ইরানকে ভবিষ্যতে পারমাণবিক, ক্ষেপণাস্ত্র ও সন্ত্রাসী হুমকি হিসেবে আবির্ভূত হতে না দেওয়া।
সূত্র : আল-জাজিরা
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের একটি টুইট নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এর কারণ মাত্র একটি শব্দ - 'ড্রাফট'। এই একটি শব্দই একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক বার্তাকে সোশ্যাল মিডিয়ার হাসির খোরাকে পরিণত করেছে।
ঘটনা হলো- শরিফের পোস্টের আগের একটি সংস্করণে ‘Draft - Pakistan's PM Message on X’ লেখা ছিল। চূড়ান্ত পোস্টে এই অংশটি সরিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু এক্সের এডিট ফিচারের কারণে যে কেউ আগের সংস্করণটি দেখতে পাচ্ছিলেন। চূড়ান্ত পোস্টের মাত্র এক মিনিট আগে সেই সংস্করণটি পোস্ট করা হয়েছিল।
ব্যবহারকারীরা স্ক্রিনশট ছড়িয়ে দিতে শুরু করেন। অনেকেই মনে করেন, বার্তাটি পুরোপুরি প্রুফরিড না করেই কপি-পেস্ট করা হয়েছে।
মূল পোস্টে শরিফ লিখেছিলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা স্থিরভাবে, শক্তভাবে এবং জোরালোভাবে এগিয়ে চলেছে। কূটনীতিকে সময় দিতে আমি আন্তরিকভাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে দুই সপ্তাহের সময়সীমা বাড়ানোর অনুরোধ করছি। পাকিস্তান আন্তরিকভাবে ইরানি ভাইদের অনুরোধ করছে, একটি শুভেচ্ছার নিদর্শন হিসেবে দুই সপ্তাহের জন্য হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখতে। আমরা সব যুদ্ধরত পক্ষকে দুই সপ্তাহের জন্য সর্বত্র যুদ্ধবিরতি মেনে চলার আহ্বান জানাচ্ছি।’
এদিকে, শাহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, ১০ এপ্রিল পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার আয়োজন করবে।
নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার প্রায় দুই ঘণ্টা আগে বুধবার ভোরে ইরান যুদ্ধে ২ সপ্তাহের বিরতির ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ঘণ্টাখানেক পর সে যুদ্ধবিরতি মেনেও নিয়েছে ইরান। ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির শর্তে সম্মত হয়েছে বলে জানানো হলেও আজ ভোরে নতুন করে হামলা চালিয়েছে তারা।
ইসরাইলি টেলিভিশন চ্যানেল ১২ বুধবার ভোরে এই তথ্য জানিয়েছে। চ্যানেলটি জানিয়েছে, ইসরাইল নতুন করে হামলা চালিয়েছে ইরানে।
তবে তার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে যুদ্ধবিরতির পরও ইরান ইসরাইলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া অব্যাহত রাখে। মূলত ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে এই হামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ওয়াশিংটন দুই সপ্তাহের জন্য ইরানে হামলা স্থগিত রাখবে। ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবকে তিনি আলোচনার জন্য ‘কাজ চলার মতো ভিত্তি’ বলে উল্লেখ করেছেন।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় শুক্রবার ইসলামাবাদে আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এই আলোচনা দুই সপ্তাহ চলবে। তবে তার আগেই ইসরাইলের এই নতুন হামলা নতুন করে দুশ্চিন্তার জন্ম দিয়েছে।
সূত্র : বিবিসি
মঙ্গলবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তি ঘোষণা করার আগে ইরাকের বিভিন্ন এলাকায় রাতভর একাধিক হামলায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুই শিশুও রয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
দক্ষিণাঞ্চলের বসরা প্রদেশের খোর আল-জুবাইর শহরে একটি বাড়িতে বিমান হামলার ঘটনা ঘটে। বসরার প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য থায়ের আল-সালহি জানান, প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে ওই বাড়িতে পাঁচজন বাসিন্দা ছিলেন—তিনজন পুরুষ, একজন নারী ও একটি শিশু। তবে এখন পর্যন্ত তিনটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একটি নিরাপত্তা সূত্রও নিশ্চিত করেছে যে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ওই বাড়ির তিন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।

ইসরাইলি বিমান হামলায় দক্ষিণ লেবাননের উপকূলীয় শহর সিদনে আটজন নিহত হয়েছেন। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে আল-জাজিরা অ্যারাবিক এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সিদনের একটি জনবহুল এলাকায় এ হামলা চালানো হয়। এতে আটজন নিহত হওয়ার পাশাপাশি অন্তত ২২ জন আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
বৈশ্বিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি নিয়ে বড় সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছের ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি জানান, আগামী দুই সপ্তাহ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজগুলোর ‘নিরাপদ যাতায়াত’ সম্ভব হবে।
ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের পক্ষ থেকে দেওয়া এ বিবৃতিতে আরাগচি বলেন, ‘যদি ইরানের ওপর হামলা বন্ধ থাকে, তবে আমাদের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনীও তাদের রক্ষণাত্মক অভিযান স্থগিত রাখবে।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, আগামী দুই সপ্তাহের জন্য হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করতে হলে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করতে হবে এবং কিছু কারিগরি সীমাবদ্ধতার বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আগামী দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিশ্চিত করেছে ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের এক বিবৃতির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে মেহর নিউজ এজেন্সি।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির অনুমোদনে এ যুদ্ধবিরতি চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এ চুক্তিটি ইরানের জন্য একটি বিজয় এবং একটি স্থায়ী চুক্তির জন্য পাকিস্তানের ইসলামাবাদে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত থামাতে কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার করেছে পাকিস্তান। সৌদি আরবের পর এবার তুরস্ক ও মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গেও টেলিফোনে কথা বলেছেন পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ফোনালাপে ইসহাক দার তুরস্ক ও মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে পাকিস্তানের অবস্থান এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় তাদের চলমান প্রচেষ্টার কথা অবহিত করেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্যে পাকিস্তান যে সংলাপ ও কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে, তার সর্বশেষ অগ্রগতি দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরা হয়েছে। সূত্র: আল–জাজিরা

ইসরাইলে আগামী কয়েক ঘণ্টা চরম উত্তেজনার মধ্য দিয়ে কাটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর ধারণা, দেশটির বিভিন্ন শহর লক্ষ্য করে ইরান যেকোনো সময় বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে পারে।
দিনভর ইসরাইলের বিভিন্ন শহর লক্ষ্য করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত ছিল। বিশেষ করে দেশটির মধ্যাঞ্চলীয় শহরগুলোতে হামলার তীব্রতা বেশি ছিল, যেখানে ইসরাইলের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক মানুষ বসবাস করেন।
এ ছাড়া দক্ষিণ অঞ্চলেও অস্থিরতা দেখা গেছে। সেখানে অন্তত দুটি ঘটনায় ইসরাইলের বিরশেবা, দিমোনা ও তার আশপাশের এলাকা লক্ষ্য করে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে বলে জানা গেছে। আল–জাজিরা

ইরাকের পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেসের (পিএমএফ) একটি সূত্র আল জাজিরাকে জানিয়েছে, বাগদাদের উত্তরে দলটির সদর দপ্তরে বিমান হামলা চালানো হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামোয় ভয়াবহ হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর যৌথ কমান্ডের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাগারি বলেছেন, তেহরান এমন ব্যবস্থা নেবে যাতে ওয়াশিংটন ও তার সহযোগীরা এ অঞ্চলের তেল ও গ্যাস থেকে বছরের পর বছর ‘বঞ্চিত’ থাকে এবং এ অঞ্চল থেকে সব গুটিয়ে চলে যেতে বাধ্য হয়।
ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জোলফাগারি বলেন, আজ মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে ব্যালেস্টিক ও ক্রুজ মিসাইল এবং ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। তিনি আরও দাবি করেন, ইসরাইলের মধ্যাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন শহরের ৩০টিরও বেশি স্থানে হামলা চালানো হয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গলাবাজির নিন্দা জানিয়ে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব অ্যাগনেস ক্যালামার্ড বলেছেন, ইরানিদের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের মৌখিক আক্রমণ ‘‘তীব্রতা ও সহিংসতায় বাড়ছে।’’ যা শুধু কথার কথা নয়। বিস্তারিত পড়ুন....

ইরাক ইরান সীমান্তবর্তী দক্ষিণ ইরাকের বসরা শহরে ভয়াবহ মিসাইল হামলায় অন্তত ৩ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৬ জন।
আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, কুয়েতের দিক থেকে ছোড়া একটি মিসাইল বসরার আল জুবাইর এলাকায় আঘাত হানে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি একটি মার্কিন মিসাইল হামলা হতে পারে, যদিও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
মিসাইলটি একটি বসতবাড়ি, একটি কৃষি গুদাম এবং একটি বাগানে আঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই ৩ জন সাধারণ মানুষ নিহত হন এবং ৬ জন গুরুতর আহত হন। বিস্ফোরণের তীব্রতায় দুটি পিকআপ ট্রাক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে এই হামলার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। সূত্র: আল জাজিরা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সরাসরি অবস্থান নিয়েছেন ক্যাথলিক চার্চের ইতিহাসে প্রথম মার্কিন পোপ লিও। তিনি ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের নির্বিচার ধ্বংসের হুমকি ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে উল্লেখ করেছেন। বিস্তারিত পড়ুন...
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি ইরানের সঙ্গে চুক্তির সময়সীমা আরও দুই সপ্তাহ পিছিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। এছাড়াও তিনি ইরানকে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করে দেয়ার অনুরোধও করেছেন। বিস্তারিত পড়ুন...
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে ‘প্রচুর আলোচনা ও দরকষাকষি’ চলছে। এই সময়সীমা পার হলে ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোয় হামলা চালাবে যুক্তরাষ্ট্র।
ইরান কোনো গ্রহণযোগ্য চুক্তিতে আসবে কি না—এ বিষয়ে ভ্যান্স বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বর্তমান সময় থেকে প্রায় ১২ ঘণ্টা পরের একটি সময়সীমা নির্ধারণ করেছেন, আমরা তখনই সব জানতে পারব। তবে এর মধ্যে অনেক আলোচনা হবে এবং আমি আশাবাদী যে একটি ভালো সমাধান আসবে।’
হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টে এক সংবাদ সম্মেলনে জেডি ভ্যান্স যখন এই মন্তব্য করছেন, ঠিক তখনই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ পোস্ট করে বলেছেন, আজ রাতে একটি পুরো সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে। তিনি এটা চান না। কিন্তু সম্ভবত এটি হতে যাচ্ছে।
এর আগেও ট্রাম্প ইরানকে উড়িয়ে দিয়ে ‘প্রস্তর যুগে’ পাঠিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। তিনি দেশটির সমস্ত বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও সেতুতে হামলার কথা বলেছিলেন এবং এ ধরনের হামলায় সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধের উদ্বেগকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছিলেন।
ট্রাম্পের আলটিমেটাম অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় (ইস্টার্ন টাইম) আজ মঙ্গলবার রাত আটটায় (বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল ৬টা) চূড়ান্ত সময়সীমা শেষ হচ্ছে।
সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে ইতিমধ্যে ইরানের বিভিন্ন রেলসেতু, সড়ক সেতুসহ বেসামরিক অবকাঠামোয় হামলা শুরু হয়েছে।
সূত্র: আল–জাজিরা।
ইরানের ওপর হামলা জোরদার হওয়ার পাশাপাশি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেঁধে দেয়া সময়সীমা (ডেডলাইন) ঘনিয়ে এলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা সচল রাখার প্রচেষ্টা এখনো অব্যাহত রয়েছে। এ বিষয়ে অবগত পাকিস্তানের দুটি সূত্র রয়টার্সকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সূত্রগুলো জানায়, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান এ আলোচনা সহজতর করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
সূত্র- আল জাজিরা
ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) হুমকির পরপরই আজ ইরানজুড়ে একাধিক রেলপথ ও যোগাযোগ অবকাঠামোতে হামলার খবর পাওয়া গেছে। আইডিএফ আগে থেকেই ইরানের নাগরিকদের ১২ ঘণ্টা ট্রেন ব্যবহার না করতে এবং রেলপথ থেকে দূরে থাকার হুমকি দিয়েছিল।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে, গত কয়েক ঘণ্টায় দেশজুড়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল।
ইরানের আধাসরকারি মেহর নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, দেশটির কাশান শহরে একটি রেল সেতুতে হামলায় দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।
ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, কারাজ শহরে একটি রেললাইনে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। দুর্ঘটনাস্থল থেকে আহত একজনকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ভিডিও প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। অন্যদিকে, রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরআইবি জানিয়েছে, পশ্চিমাঞ্চলীয় কোম প্রদেশে সড়কপথের বেশ কিছু সেতু লক্ষ্য করে প্রজেক্টাইল (ক্ষেপণাস্ত্র জাতীয় অস্ত্র) নিক্ষেপ করা হয়েছে।
আইআরআইবি আরও জানায়, পূর্ব আজারবাইজান প্রদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী তাবরিজ-তেহরান মহাসড়কের একটি অংশ হামলার শিকার হয়েছে। এ ছাড়া খুজেস্তান প্রদেশের নিরাপত্তা উপপ্রধানের বরাতে তারা জানায়, আহওয়াজ শহরের একটি সড়কেও হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনও জানিয়েছে, চলমান হামলার কারণে তাবরিজ ও জানজান শহরের মধ্যকার মহাসড়কটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্যারেহ চামান-মিয়ানেহ সড়কটিও উভয় দিক থেকে বন্ধ রয়েছে।
ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে কেবল যোগাযোগ ব্যবস্থাই নয়, বরং আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকা সহ বিভিন্ন বেসামরিক স্থাপনাও হামলা হচ্ছে।
সূত্র: সিএনএন।
ইরানজুড়ে মঙ্গলবারের হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৫ জনে দাঁড়িয়েছে। তাদের মধ্যে আলবোর্জ প্রদেশে ১৮ জন, শাহরিয়ারে ৯ জন, পারদিসে ৬ জন এবং কাশানে ২ জন নিহত হয়েছেন।
সূত্র- আল জাজিরা
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোয় হামলা চালালে কঠোর পাল্টা জবাব দেয়া হবে এবং সে প্রতিক্রিয়া মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও বিস্তৃত হতে পারে বলে সতর্ক করেছে ইরানের আধাসামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, যুক্তরাষ্ট্র যদি বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালায়, তাহলে তারা সমপর্যায়ের জবাব দিতে দ্বিধা করবে না।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুগুলোতে হামলা চালানো হবে।
আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা এমনভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও তার অংশীদারদের অবকাঠামো লক্ষ্য করব, যাতে তারা বহু বছর ধরে এ অঞ্চলের তেল ও গ্যাস থেকে বঞ্চিত হয়।
বিবৃতিতে শেষ পর্যন্ত সতর্ক করে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী যদি আমাদের নির্ধারিত ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করে, তাহলে আমাদের প্রতিক্রিয়া এই অঞ্চলের সীমানা ছাড়িয়ে যাবে।
ইরানকে হরমুজ প্রণালি খুলে দেয়া নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের দেয়া সময়সীমা শেষ হয়ে আসছে। নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি ইরানকে নতুন করে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প ইরানকে হুমকি দিয়ে লিখেছেন, ‘আজ রাতে একটি গোটা সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে, যা আর কখনো ফিরে আসবে না।’
ট্রাম্প বলেন, আমি এটা চাই না এমনটা ঘটুক, কিন্তু সম্ভবত এমনটাই হবে। তবে এখন যেহেতু সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক শাসনব্যস্থার পরিবর্তন দেখেছি, যেখানে ভিন্ন, আরো বুদ্ধিমান এবং কম উগ্র চিন্তাধারার মানুষেররা প্রাধান্য পাচ্ছে, হয়তো ভালো কিছু ঘটতে পারে।
তিনি আরো বলেন, কে জানে? আমরা আজ রাতেই জানতে পারব—বিশ্বের দীর্ঘ ও জটিল ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত এটি। ৪৭ বছরের অবৈধ জুলুম, দুর্নীতি এবং মৃত্যুর অবসান ঘটবে। মহান ইরানি জনগণের প্রতি ঈশ্বরের আশীর্বাদ থাকুক!
গত রোববার ইরানকে উদ্দেশ করে হুমকি দিয়ে ট্রাম্প বলেন, মঙ্গলবার হবে ‘বিদ্যুৎকেন্দ্র দিবস’, ‘সেতু দিবস’। সময়সীমা হিসেবে ট্রাম্প উল্লেখ করেছেন, ‘মঙ্গলবার, রাত ৮টা’ (যুক্তরাষ্ট্রের সময়)। বাংলাদেশ সময় তা বুধবার সকাল ৬টা।
পরদিন সোমবার নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে তেহরান হরমুজ প্রণালি খুলতে কোনো চুক্তিতে উপনীত হতে ব্যর্থ হলে ইরানকে ‘এক রাতেই’ নিশ্চিহ্ন করার হুমকি দেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, আর সেই রাতটি হতে পারে মঙ্গলবার রাত।
ইরানের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপে একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে দেশটির আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা মেহর নিউজ এজেন্সি।
সংস্থাটি জানায়, দ্বীপটিতে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
পারস্য উপসাগরে অবস্থিত এই খার্গ দ্বীপ থেকেই ইরানের প্রায় সব তেল রফতানি করা হয়, ফলে এটি দেশটির জ্বালানি অবকাঠামোর অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বিবেচিত। ইরান এই দ্বীপ থেকে তার রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশ তেল বিদেশে পাঠায়।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার এই দ্বীপে হামলা চালানো বা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। গত ৩০ মার্চ নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, তেলক্ষেত্র এবং খার্গ দ্বীপ ধ্বংস করতে পারে।
ইরানের কাশান শহরের একটি রেলওয়ে সেতুতে হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। এতে দুজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
ইরানের মেহর নিউজ এজেন্সি জানায়, ইরানের কাশান শহরের ইয়াহিয়া আবাদ রেলওয়ে সেতুতে ইসরাইল আঘাত হেনেছে। ইসফাহানের ডেপুটি গভর্নরের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, এই হামলায় দুই জন নিহত হয়েছে।
এর আগে ইসরাইল ট্রেন ব্যবহার না করতে ইরানের জনগণকে হুমকি দেয়। ওই হুমকির পর এ হামলা চালনো হলো।
ইসরাইল প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) নিজেদের ফার্সি ভাষার এক্স অ্যাকাউন্টে ইরানিদের উদ্দেশে ‘জরুরি সতর্কবার্তা’ দিয়ে বলে, ইরানিদের আগামী ১২ ঘণ্টা ট্রেন ব্যবহার না করতে, রেললাইন থেকে দূরে থাকতে আহ্বান জানানো হচ্ছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানি নাগরিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে এই মুহূর্ত থেকে ইরানের সময় রাত ৯টা পর্যন্ত দেশজুড়ে ট্রেন ব্যবহার ও ভ্রমণ থেকে বিরত থাকতে বলা হচ্ছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘ট্রেনে ও রেললাইনের আশেপাশে আপনার উপস্থিতি আপনার জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।’
উল্লেখ্য, ইরানকে চুক্তিতে রাজি হতে মার্কিন প্রসিডেন্ট ট্রাম্পের আলটিমেটাম যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত ৮ টায় (বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল ৬টা) শেষ হচ্ছে। ট্রাম্প বলেছেন, ইরানকে এক রাতেই নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া সম্ভব। মঙ্গলবার রাতই সেই রাত হতে পারে।
সূত্র: আল–জাজিরা।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, দেশের সুরক্ষায় এ পর্যন্ত ১ কোটি ৪০ লাখের বেশি ইরানি নাগরিক তাদের জীবন উৎসর্গ করতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় তিনি এই তথ্য জানান।
নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে পেজেশকিয়ান বলেন, 'আমিও ইরানের জন্য আমার জীবন উৎসর্গ করেছি, করছি এবং ভবিষ্যতেও করে যাব।'
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েল ইরানের বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ নেতাকে লক্ষ্যবস্তু করে হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের ক্ষমতাধর সচিব আলী লারিজানি।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইরানে এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত কমপক্ষে ২,০৭৬ জন নিহত এবং ২৬,৫০০ জন আহত হয়েছেন।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

ইরানিদের উদ্দেশে একটি ‘জরুরি সতর্কবার্তা’ জারি করেছে দখলদার ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। এই সতর্কবার্তায় ইরানিদের আগামী ১২ ঘণ্টা ট্রেন ব্যবহার না করতে, রেললাইন থেকে দূরে থাকতে আহ্বান জানানো হয়েছে।
আইডিএফের বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানি নাগরিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে এই মুহূর্ত থেকে ইরানের সময় রাত ৯টা পর্যন্ত দেশজুড়ে ট্রেন ব্যবহার ও ভ্রমণ থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ করা হচ্ছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘ট্রেনে ও রেললাইনের আশেপাশে আপনার উপস্থিতি আপনার জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।’
এই সতর্কবার্তাটি আইডিএফ নিজেদের ফার্সি ভাষার এক্স অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করেছে।
ইসরাইলের এই সতর্কবার্তাটি এমন সময় এল, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত ৮টা পর্যন্ত ইরানকে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে সময় দিয়েছেন।
ট্রাম্প হুমকি দিয়ে বলেছেন, ইরান তা না মানলে তিনি দেশটির বেসামরিক অবকাঠামো (যেমন—সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্র) ধ্বংস করে দেবেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) বলেছে, ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত তারা দেশটির ১৩ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। ইরানও পাল্টা জবাব দিচ্ছে। পাঁচ সপ্তাহের বেশি সময় ধরে এই যুদ্ধ চলছে।
ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযানের সাংকেতিক নাম ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’। এই অভিযান সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য দিয়ে সেন্টকম বলে, এখন পর্যন্ত তারা ১৫৫টির বেশি ইরানি নৌযান ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস করেছে।
সেন্টকমের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে ছিল ইরানের ইসলামি বিপ্লবী বাহিনীর (আইআরজিসি) সদর দপ্তর, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি, নৌবাহিনীর জাহাজ ও সাবমেরিন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যৌথ হামলা শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ইরানে ৩ হাজার ৫০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে অন্তত ১ হাজার ৬৬৫ জনই বেসামরিক নাগরিক।
তথ্যসূত্র: বিবিসি
মসজিদ’ মনে করে তেহরানের একটি সিনাগগ বা ইহুদিদের উপাসনালয় সম্পূর্ণ ধ্বংস করেছে ইসরাইল
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) স্থানীয় গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।
মঙ্গলবার ভোরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলায় ইরানের তেহরানে একটি সিনাগগ সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে দেশটির মেহর সংবাদ সংস্থা এবং শার্ঘ পত্রিকা।
শার্ঘ জানায়, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, রাফি-নিয়া সিনাগগ আজ সকালের হামলায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।
ইহুদিধর্ম ইরানে আইনত স্বীকৃত সংখ্যালঘু ধর্মগুলোর একটি এবং দেশটিতে একটি ছোট ইহুদি সম্প্রদায় এখনও রয়েছে, যদিও ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর অনেকেই দেশ ছেড়ে চলে যায়।
সরকারিভাবে সুনির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা প্রকাশ না হলেও ধারণা করা হয়, ইরানে এখনও কয়েক হাজার ইহুদি বসবাস করছেন।
স্থানীয়দের ধারণা, মসজিদ মনে করে সিনাগগটিকে টার্গেট করে থাকতে পারে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র।
শার্ঘ পত্রিকা সিনাগগটিকে ‘খোরাসান অঞ্চলের ইহুদিদের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমাবেশ ও উৎসবের স্থান’ হিসেবে বর্ণনা করেছে, যা ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একটি প্রদেশ।
ইরানে শিয়া ইসলাম প্রধান ধর্ম হলেও সংবিধানে সুন্নি ইসলাম, জরথুস্ত্রবাদ, ইহুদিধর্ম ও খ্রিস্টধর্মকে সংখ্যালঘু ধর্ম হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে এবং সব সম্প্রদায়ের সংসদে প্রতিনিধিত্ব আছে।
সূত্র: সিবিএস নিউজ
ইরানজুড়ে রাতভর ব্যাপক হামলা চালিয়েছে মার্কিন ও ইসরাইলি বাহিনী। এতে অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার লাইভ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
ইরানের আধা-সরকারি মেহের নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, তেহরানের পূর্বে পারদিস শহরে ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ছয়টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
স্থানীয় কর্মকর্তারা বলেছেন, তেহরান প্রদেশের পশ্চিমের শাহরিয়ারে একটি আবাসিক এলাকা লক্ষ্য করে চালানো ইসরাইলি বিমান হামলায় নয়জন নিহত হয়েছেন।
সূত্র: আল জাজিরা

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এই মুহূর্তে ইরানের সাথে যুদ্ধবিরতির পথে না যেতে আহ্বান জানিয়েছেন।
সোমবার (৬ এপ্রিল) প্রকাশিত অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এর আগে গত রোববার দুই নেতার মধ্যে ফোনালাপে নেতানিয়াহু সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
এক ইসরাইলি কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে জানান, নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের কোনো সমঝোতা কৌশলগত ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
তবে ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে জানান, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের শর্তগুলো মেনে নিলে যুদ্ধবিরতি সম্ভব। ওই কর্মকর্তা জানান, ওয়াশিংটনের শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে- ইরানকে তাদের সব সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করতে হবে এবং ভবিষ্যতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুনরায় শুরু না করার প্রতিশ্রুতি দিতে হবে।
এদিকে নেতানিয়াহু সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) জানান, তিনি রোববার ট্রাম্পের সাথে কথা বলেছেন। তিনি ইরানের নিখোঁজ হওয়া মার্কিন বিমানবাহিনীর সদস্যকে উদ্ধারের ঘটনাকে ‘বীরত্বপূর্ণ অভিযান’ হিসেবে উল্লেখ করে ট্রাম্পের প্রশংসা করেন। একই সাথে ট্রাম্পও এই অভিযানে ইসরাইলের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ট্রাম্প ইসরাইলকে ‘অটল, দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ও শক্তিশালী মিত্র’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং দুই দেশ একসাথে ‘ইরানের সন্ত্রাসী শাসনকে চূর্ণ করছে’ বলেও মন্তব্য করেছেন।
সূত্র : আনাদোলু
ট্রাম্পকে অপসারণে ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগের দাবি মার্কিন আইনপ্রণেতাদেরমার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ক্ষমতা থেকে অপসারণের জন্য মার্কিন সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগের দাবি জানিয়েছেন দেশটির একাধিক আইনপ্রণেতা।
সংবিধানের এই সংশোধনীতে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট যদি তার দায়িত্ব পালনে অক্ষম হন, তবে ক্ষমতা হস্তান্তরের সুযোগ রয়েছে।
মূলত ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ এবং বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলার হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে কংগ্রেস ও মন্ত্রিসভার প্রতি এই আহ্বান জানাচ্ছেন তারা
সবশেষ এই দাবি তুলেছেন অ্যারিজোনার কংগ্রেসওম্যান ইয়াসামিন আনসারি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, ট্রাম্প একটি বিধ্বংসী ও অবৈধ যুদ্ধকে আরো তীব্র করার পাশাপাশি ব্যাপক যুদ্ধাপরাধ এবং ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলার হুমকি দিচ্ছেন।
গত ৪৮ ঘণ্টায় ট্রাম্প সব সীমা অতিক্রম করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এর আগে মিনেসোটার কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমরও ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলার হুমকির কড়া সমালোচনা করেন। ট্রাম্পকে ভারসাম্যহীন উন্মাদ আখ্যা দিয়ে তিনি দ্রুত ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগের মাধ্যমে তাকে অভিশংসন ও অপসারণের জোর দাবি জানান।
আইনপ্রণেতাদের এই দাবির পক্ষে আরো অনেকেই সুর মিলিয়েছেন। নিউ মেক্সিকোর কংগ্রেসওম্যান মেলানি স্ট্যানসবারি বলেছেন, এখনই ২৫তম সংশোধনী আনার উপযুক্ত সময় এবং কংগ্রেস ও মন্ত্রিসভাকে অবশ্যই এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে।
ইলিনয়ের সাবেক রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান জো ওয়ালশ ট্রাম্পকে যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বের জন্য 'কলঙ্কা' হিসেবে উল্লেখ করে অবিলম্বে ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন।
এ ছাড়া ডেমোক্রেটিক সিনেটর ক্রিস মারফি এক্সে দেওয়া এক পোস্টে লিখেছেন, তিনি ট্রাম্পের মন্ত্রিসভায় থাকলে ২০তম সংশোধনী নিয়ে সাংবিধানিক আইনজীবীদের শরণাপন্ন হতেন।
ট্রাম্পকে চূড়ান্তভাবে ভারসাম্যহীন উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করেন যে, এই প্রেসিডেন্ট ইতিমধ্যে হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করেছেন এবং আরও হাজার হাজার মানুষের মৃত্যুর কারণ হতে চলেছেন।
সূত্র: আলজাজিরা

ইরানের বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকিকে ‘অসহযোগিতামূলক’ ও ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেছেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রেডিও নিউজিল্যান্ডকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন করে কোনো সামরিক পদক্ষেপের প্রয়োজন নেই।
লাক্সন। বলেন, ‘এই মুহূর্তে প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত এই সংঘাত যেন আর কোনোভাবেই বিস্তৃতি লাভ না করে।’
সপ্তাহান্তে ট্রাম্পের পক্ষ থেকে আসা হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘ব্রিজ, জলাধার কিংবা যেকোনো ধরনের বেসামরিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না। ‘
নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মনে করেন যে, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনতে হলে উত্তেজনা প্রশমন করা জরুরি।
সূত্র: আল জাজিরা
ইরানের হামলার আশঙ্কায় সৌদি আরব ও বাহরাইনকে সংযুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ সেতু ‘কিং ফাহাদ কজওয়ে’ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে কিং ফাহাদ কজওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশকে লক্ষ্য করে ইরানি হামলার আশঙ্কায় ‘সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে’ এ সেতুতে যান চলাচল স্থগিত করা হয়েছে।
২৫ কিলোমিটার (১৫.৫ মাইল) দীর্ঘ এ সেতুটি সৌদি আরব ও দ্বীপরাষ্ট্র বাহরাইনের মধ্যে সংযোগকারী একমাত্র সড়ক পথ।
সেতুটি এমন এক সময়ে বন্ধ করা হলো যখন ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন যে, ইরান যদি মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে না দেয় তবে তিনি দেশটির সেতু ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে বোমা হামলা চালাবেন। অন্যদিকে ইরানও পাল্টা হুমকি দিয়ে বলেছে, তাদের বেসামরিক অবকাঠামোতে আঘাত করা হলে তারা ‘বিধ্বংসী’ প্রতিশোধ নেবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলটি ইরানের প্রতিশোধমূলক
প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ-এর বিরুদ্ধে অভিশংসনের অভিযোগ উত্থাপন করেছেন মার্কিন আইনপ্রণেতা ইয়াসামিন আনসারি।
ইরানি বংশোদ্ভূত ইয়াসামিন আনসারি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন,‘গত সপ্তাহের শেষে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা যা দেখেছি, তা একেবারেই ভয়াবহ এবং হৃদয়বিদারক।’
তিনি বলেন, ‘ইরানের বেসামরিক অবকাঠামো এবং পুরো দেশের বিরুদ্ধে যে হুমকি দেওয়া হচ্ছে, তা অবাস্তব এবং প্রলয়ঙ্কর।’
তিনি আরো বলেন, ‘ইরান ৯০ মিলিয়ন মানুষের একটি দেশ, এবং তাদের নিশ্চিহ্ন করার হুমকি দেওয়া একটি ভয়াবহ যুদ্ধাপরাধ।’
আনসারির মতে, হেগসেথ এই যুদ্ধের ‘সহায়ক’ এবং ‘পাগলাটে সামরিক অভিযান’ পরিচালনার জন্য দায়ী।
তার দাবি, এই অভিযানে ইতোমধ্যে হাজার হাজার বেসামরিক মানুষ এবং কয়েকজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে।
অ্যারিজোনার এই আইনপ্রণেতা আরো অভিযোগ করেন, হেগসেথ বারবার সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন, যার মধ্যে কংগ্রেসকে উপেক্ষা করা এবং বেসামরিক অবকাঠামোকে ‘ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা’ অন্তর্ভুক্ত।
সূত্র : আল-জাজিরা

ইরানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি এবং সংবেদনশীল স্থাপনার ছবি তোলার অভিযোগে নিজেদের চার সেনাসদস্যকে গ্রেফতার করেছে ইসরাইল।
ইসরাইলি গণমাধ্যমের বরাতে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে তুরস্কের সংবাদ সংস্থা আনাদোলু।
ইসরাইলি টিভি চ্যানেল ১৫-এর খবরে বলা হয়েছে, গ্রেফতার এই চার সেনা নিয়মিত যুদ্ধ ইউনিটে কর্মরত ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চলাকালীন সময়েও ইরানের পক্ষে দলবদ্ধভাবে গুপ্তচরবৃত্তির সাথে জড়িত থাকার সন্দেহ করা হচ্ছে। এটিকে ‘নতুন ও উদ্বেগজনক গুপ্তচরবৃত্তির ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
খবরে আরো বলা হয়, অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েকজনকে আইনজীবীর সাথে যোগাযোগের সুযোগ দেওয়া হয়নি এবং চারজনেরই আটকাদেশ বাড়ানো হয়েছে।
এ ছাড়া অভিযোগ রয়েছে, ইরানের গোয়েন্দা সংস্থা তাদের বিভিন্ন দায়িত্ব দিয়েছিল, যার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার ছবি তোলাও ছিল। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, এই ঘটনা ইসরাইলের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় অনুপ্রবেশের বাড়তে থাকা প্রচেষ্টার ইঙ্গিত দেয়। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের পক্ষ থেকে গুপ্তচরবৃত্তির হুমকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বেড়েছে।
এর জবাবে ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরাইলসহ জর্ডান, ইরাক এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। পাশাপাশি, গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলেও বিধিনিষেধ আরোপ করেছে তেহরান।
সূত্র : আনাদোলু
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরাইলের পৃথক বিমান হামলায় আরো পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ হামলায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ)।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মারাকেহ শহরে একটি বাড়িতে হামলা চালানো হলে দু’জন নিহত হন। এ ঘটনায় আরো অনেকেই আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে রাতের বেলায় টায়ার দেব্বা শহরে আরেকটি বিমান হামলায় তিনজন নিহত এবং দু’জন আহত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সূত্র : আল-জাজিরা
ইরানে ‘ধারাবাহিক’ বিমান হামলা চালানোর ঘোষণা দিয়েছে ইসরাইলের সামরিক বাহিনী।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধ বন্ধে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীদের দেওয়া যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘যথেষ্ট নয়’ বলে আখ্যা দেওয়ার পরপরই ইসরাইল এ কথা জানায়।
ইসরাইলের সামরিক বাহিনী তাদের টেলিগ্রাম বার্তায় জানায়, কিছুক্ষণ আগে তারা ইরানের রাজধানী তেহরানসহ দেশটির বিভিন্ন এলাকায় ইরানি শাসনের অবকাঠামো ধ্বংসের লক্ষ্যে দফায় দফায় বিমান হামলা চালিয়েছে।
সূত্র : রয়টার্স
গুরুতর আহত অবস্থায় ইরানের কোম শহরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। বর্তমানে তার জ্ঞান নেই বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) প্রকাশিত সংবাদমাধ্যমটিতে এ তথ্য জানানো হয়।
দ্য টাইমস বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও দখলদার ইসরাইলের একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদন উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর কাছে পাঠানো হয়েছে। সেই গোয়েন্দা নথি তাদের হাতে এসেছে। এতে দেখা গেছে, মার্কিন ও ইসরাইলি গোয়েন্দারা বলেছেন, মোজতবা খামেনি গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় কোমে চিকিৎসাধীন আছেন।
ওই গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলি খামেনিকে কোমে সমাহিত করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
তিনি নিহত হওয়ার পর এক মাসের বেশি সময় পার হয়েছে। কিন্তু এখনো তাকে কবর দেওয়া হয়নি।
গত ২৮ ফেব্রয়ারি ইরানে যৌথ হামলা চালায় দখলদার ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র। তাদের হামলায় ওইদিন প্রাণ হারান মোজতবার বাবা ও সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি।
দ্য টাইমসের প্রতিবেদনের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে মোজতবার অবস্থান সম্পর্কে জানা গেলো।
এদিকে ইরানের কাছে যুক্তরাষ্ট্র অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু ইরান এটি প্রত্যাখ্যান করে বেশ কিছু দাবি জানিয়েছে।
দেশটি বলেছে, সংঘাত স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে, হরমুজ দিয়ে যাওয়া জাহাজ থেকে তাদের টোল নিতে দিতে হবে, ইরানকে পুনর্গঠন করে দিতে হবে এবং লেবাননের হিজবুল্লাহরও পর দখলদারদের হামলা বন্ধ করতে হবে।
সূত্র: দ্য টাইমস

সুযোগ থাকলে ইরানের তেল দখল করতাম বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ চায় না বলে এমনটি করা থেকে বিরত রয়েছেন বলে দাবি করেছেন তিনি।
সোমবার (৬ এপ্রিল) হোয়াইট হাউজের বার্ষিক ইস্টার এগ রোল অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমার যদি সুযোগ থাকতো, আমি তেলটা নিয়ে নিতাম। কিন্তু আমি আমাদের দেশের মানুষকেও খুশি রাখতে চাই।’
তিনি আরো বলেন, ‘দুঃখজনকভাবে, মার্কিন জনগণ চায় আমরা দেশে ফিরে আসি। বিষয়টি যদি আমার ওপর নির্ভর করতো, আমি তেল নিয়ে নিতাম, সেটি রেখে দিতাম—এতে প্রচুর অর্থ আসতো। পাশাপাশি আমি ইরানের জনগণের যত্নও তাদের বর্তমান অবস্থার চেয়ে ভালোভাবে নিতাম।’
সূত্র : সিএনএন

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়েছে জাপান। দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি জানিয়েছেন, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সাথে ফোনালাপের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
জাপানের পার্লামেন্টে বক্তব্য দিতে গিয়ে তাকাইচি বলেন, ‘গতকাল আমি বলেছিলাম আমরা ইরানের প্রেসিডেন্টের সাথে টেলিফোনে কথা বলার ব্যবস্থা করছি, সেটিই এখন এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।’
তিনি আরো জানান, পরিস্থিতি সামাল দিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় দেশের সাথেই যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করছে জাপান।
এই ঘোষণাটি আসে এমন এক সময়ে, যখন জানুয়ারি থেকে ইরানে আটক থাকা দ্বিতীয় এক জাপানি নাগরিকের মুক্তির খবর সামনে আসে।
এদিকে সোমবার রাতে জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিতসু মোতেগি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সাথে ফোনে কথা বলেন। জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই আলোচনায় টোকিওর পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে, বর্তমান পরিস্থিতির দ্রুত উত্তেজনা হ্রাস অত্যন্ত জরুরি।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের কূটনৈতিক উদ্যোগ চলমান সংকট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সূত্র : আল-জাজিরা
এবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির বিরুদ্ধে পাল্টা হুমকি দিয়েছেন ইরান।
ট্রাম্পের আগের বক্তব্যের সুরে হুঁশিয়ারি দিয়ে পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মাদ বাঘের গালিবাফের উপদেষ্টা ও জাতীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষক মাহদি মোহাম্মাদি বলেছেন, ট্রাম্পের হাতে এখনো প্রায় ২০ ঘণ্টা সময় রয়েছে। এরপর তার মিত্ররা ‘প্রস্তর যুগে ফিরে যাবে’।
মঙ্গলবার (০৭ এপ্রিল) আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মোহাম্মাদি লিখেছেন, আমরা পিছু হটবো না।
তিনি আরো দাবি করেন, ইরান স্পষ্টভাবে এই যুদ্ধে জয়ী হয়েছে। তারা এমন কোনো সমাধানই গ্রহণ করবে, যা তাদের অর্জনকে সুসংহত করবে এবং অঞ্চলে একটি নতুন নিরাপত্তা কাঠামো তৈরি করবে।
সূত্র : আলজাজিরা
ইরান পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের স্পষ্ট কোনো পরিকল্পনা আছে-এমনটি বিশ্বাস করেন মাত্র এক-তৃতীয়াংশ মার্কিন নাগরিক।
সিএনএনের একটি জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।
জরিপ অনুযায়ী, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের প্রতি আগেই যে ব্যাপক অনাস্থা ছিল, যুদ্ধ শুরুর পর তা আরো বেড়েছে। বর্তমানে মাত্র ৩৪ শতাংশ মার্কিনি কোনো না কোনোভাবে এই সামরিক পদক্ষেপকে সমর্থন করছেন, যা যুদ্ধ শুরুর পরপর পরিচালিত আগের জরিপের তুলনায় ৭ শতাংশ কম।
অন্যদিকে, এই পদক্ষেপের প্রতি বিরোধিতা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৬ শতাংশে। এর মধ্যে জোরালো বিরোধিতার হার ১২ শতাংশ বেড়ে ৪৩ শতাংশে পৌঁছেছে।
সূত্র: সিএনএন

ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারদের হত্যা করে ইরানি বাহিনীকে দমানো যাবে না বলে জানিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি।
গতকাল সোমবার ভোরে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) গোয়েন্দাপ্রধান মাজিদ খাদেমি নিহত হওয়ার পর লিখিত বিবৃতিতে এ মন্তব্য করেন মোজতবা খামেনি।
তিনি বলেন, ইরান সত্যের পথে থাকা যোদ্ধা ও আত্মত্যাগী সশস্ত্র বাহিনী মিলে এমন এক শক্তিশালী, গভীরভাবে প্রোথিত ফ্রন্ট গঠন করেছে, যাদের সংকল্প সন্ত্রাস ও অপরাধ ভাঙতে পারে না।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথভাবে হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। তখন থেকে ইরানের বহু জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক ও সামরিক কর্মকর্তাকে নিশানা করে হামলা চালানো হচ্ছে। এতে ইরানের অনেক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও সামরিক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।
আইআরজিসির গোয়েন্দাপ্রধান সম্পর্কে মোজতবা খামেনি বলেন, মাজিদ খাদেমি ইরানের নিরাপত্তা, গোয়েন্দা ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে নীরবে, নিষ্ঠার সাথে কয়েক দশক কাজ করেছেন।
খাদেমিকে হত্যার দায় নিয়েছে ইসরাইল। এ ছাড়া গতকাল ইসরাইলি সামরিক বাহিনী দাবি করে, তারা আইআরজিসির কুদস ফোর্সের বিশেষ অভিযান ইউনিটের কমান্ডার আসগর বাঘেরিকে হত্যা করেছে। তবে এ দাবির বিষয়ে তেহরান এখনো কোনো মন্তব্য করেনি।
সূত্র: সিএনএন

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কায় বৈশ্বিক শেয়ারবাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে, আর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে।
বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে, কারণ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য ইরানকে সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। তিনি মঙ্গলবারের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যথায়,
হলে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুর মতো গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামোয় হামলার হুমকি দিয়েছেন তিনি। এই সময়সীমা ঘনিয়ে আসায় বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
ব্রেন্ট ক্রুড তেলের ফিউচার ০.৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১১০.১৯ ডলারে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের ফিউচার ০.৮ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১৩.৩১ ডলারে।
এদিকে শেয়ারবাজারেও অস্থিরতা দেখা গেছে। জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক শুরুতে কিছুটা বাড়লেও পরে তা কমে ০.২ শতাংশ নিচে নেমে যায়। দক্ষিণ কোরিয়ার সেকেন্ডারি ট্রেডিং বোর্ড কসডাক মঙ্গলবার ০.৭৫ শতাংশ কমে যায়।
এছাড়া সিঙ্গাপুরের স্ট্রেইটস টাইমস সূচকও একই সময়ে ০.২২ শতাংশ কমেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা আরো বাড়লে বিশ্ববাজারে অস্থিরতা এবং জ্বালানি দামের ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত থাকতে পারে।
সূত্র : আল-জাজিরা
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক অভিযান পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ইউনাইটেড স্টেটস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে তাদের বাহিনী ১৩ হাজারের বেশি ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। এই মার্কিন সামরিক বাহিনীই ইরানের বিরুদ্ধে হামলার নেতৃত্ব দিচ্ছে।
মঙ্গলবার আল-জাজিরা সংবাদে এ তথ্য জানানো হয়।
সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করা এক পোস্টে সেন্টকম আরো জানায়, ১৫৫টিরও বেশি ইরানি নৌযান ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস করা হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, অপারেশন এপিক ফিউরিতে মার্কিন পারমাণবিক শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরী ও সাবমেরিন অংশ নিচ্ছে। পাশাপাশি এফ-৩৫ স্টেলথ ফাইটার জেট থেকে শুরু করে বি-৫২ বোমারু বিমান পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের বিমান এই অভিযানে ব্যবহৃত হচ্ছে।
সূত্র : আল-জাজিরা

ইসরাইলের হাইফায় ইরানের ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একই পরিবারের চারজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন ফিলিপিনো নারী রয়েছেন। গত রোববার রাতের এই হামলার খবরটি নিশ্চিত করেছে ফিলিপাইনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নিহত ফিলিপিনো নারী হাইফাতে বসবাস করতেন। হামলায় তিনিসহ তার ইসরাইলি স্বামী এবং বৃদ্ধ শ্বশুর-শাশুড়ি প্রাণ হারিয়েছেন।
ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, রোববার গভীর রাতে একটি আবাসিক ভবনে ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রটি সরাসরি আঘাত হানে। এতে ভবনটি ধসে পড়লে ওই পরিবারের চার সদস্য চাপা পড়েন।
সোমবার ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানায়, ধ্বংসস্তূপের নিচে কয়েক ঘণ্টা উদ্ধার অভিযান চালানোর পর তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
তেল আবিবে নিযুক্ত ফিলিপাইন দূতাবাস জানিয়েছে, তারা ইতোমধ্যে নিহতের পরিবারকে বিষয়টি অবহিত করেছে। বর্তমান প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও ওই নারীর লাশ দ্রুত নিজ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সব ধরনের কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। একই সঙ্গে শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে ফিলিপাইন সরকার।
সূত্র- আল-জাজিরা

আবারো যুক্তরাষ্ট্রের আকাশে দেখা গেছে ‘ডুমসডে প্লেন’ বা প্রলয়ঙ্করী বিমান। যার কারণে ইরানে পরমাণু হামলার আশঙ্কা করছেন অনেকেই।
ইরানকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া শান্তিচুক্তি মেনে নেওয়ার সময়সীমা শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে, সোমবার (৬ এপ্রিল) নেব্রাস্কার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটির ওপর আমেরিকার এ বিশেষ বিমানকে চক্কর দিতে দেখা গেছে।
বোয়িং ই-৪বি নাইটওয়াচ বিমানটি মূলত পারমাণবিক যুদ্ধের সময়ে জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সুরক্ষা দিতে এবং সরকারের কার্যক্রম সচল রাখার জন্য তৈরি করা হয়েছে। আকাশে ভাসমান ইউএস স্ট্র্যাটেজিক কমান্ডের এ সদর দপ্তরের অবস্থান ফ্লাইট ট্র্যাকারের মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়।
ডেইলি মেইলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিমানটি সকাল ১০টা ১৭ মিনিটে (ইএসটি) অফুট থেকে উড্ডয়ন করে এবং ঘাঁটিতে ফিরে অবতরণের আগে এলাকাটির চারপাশে অন্তত ছয়বার চক্কর দেয়।
উচ্চ উত্তেজনার মুহূর্তে ফ্লাইট ট্র্যাকারের মাধ্যমে বিমানটির গতিবিধি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হয়। গত বছর ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে বোমা হামলার ১২ দিনের যুদ্ধ অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলের সাথে যোগ দেওয়ার মাত্র কয়েক দিন আগে এর একটি ফ্লাইট সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল।
ট্রাম্প এখন ইরানকে তার শান্তি পরিকল্পনায় সম্মত হতে এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন, অন্যথায় যুক্তরাষ্ট্র এই ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুগুলো ধ্বংস করে দেবে।
সোমবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, পুরো দেশটাকে এক রাতেই নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া যেতে পারে এবং সেই রাতটা হতে পারে আগামীকাল (৭ এপ্রিল) রাত।
যুক্তরাষ্ট্রের চারটি ই-৪বি বিমানের একটি বহর রয়েছে, যা সামরিক প্রস্তুতি বজায় রাখার জন্য সারা বছর নিয়মিত উড্ডয়ন করে।
জরুরি অবস্থার ক্ষেত্রে নিরবচ্ছিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড, নিয়ন্ত্রণ ও যোগাযোগ নিশ্চিত করার জন্য ‘নাইটওয়াচ’ বিমানটি প্রেসিডেন্ট, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের প্রধানদের জন্য একটি আকাশস্থ কমান্ড সেন্টার হিসেবে কাজ করে।
তিনটি ডেক জুড়ে ১৮টি বাঙ্ক, একটি ব্রিফিং রুম, টিমওয়ার্ক এলাকা, কনফারেন্স রুম, কমান্ড রুম এবং একটি নির্দিষ্ট বিশ্রাম এলাকা থাকায়, বিমানটিকে জাতীয় জরুরি অবস্থার ক্ষেত্রে একটি ‘উড়ন্ত পেন্টাগন’ হিসেবে কাজ করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।
বিমানটিকে পারমাণবিক বিস্ফোরণ, সাইবার আক্রমণ, ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক পালস এবং যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকি হতে পারে এমন অন্যান্য দুর্যোগ প্রতিরোধ করার জন্য ব্যাপকভাবে উন্নত করা হয়েছে।
প্রতিটি ই-৪বি নাইটওয়াচ সর্বোচ্চ ১১২ ক্রু বহন করতে পারে এবং এর পাল্লা ৭ হাজার মাইলেরও বেশি।
এছাড়া এই বিমানে তাপীয় ও পারমাণবিক সুরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে এবং এর রে ডোমে থাকা ৬৭টি স্যাটেলাইট ডিশ ও অ্যান্টেনার কল্যাণে এটি বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে যেকোনো ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে।
সূত্র: নিউ ইয়র্ক পোস্ট।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার রাতের মধ্যে ইরানকে তার শর্ত অনুযায়ী চুক্তি করতে ডেডলাইন বা নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দিয়েছেন। তিনি হুমকি দিয়েছেন, যদি ইরান এ সময়ের মধ্যে চুক্তি না করে তাহলে দেশটিকে তছনছ করে দেওয়া হবে।
তবে প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ট্রাম্পের ডেডলাইনের মধ্যে চুক্তির সম্ভাবনা নেই। কারণ দুই দেশের মধ্যে যেসব ইস্যু নিয়ে মতপার্থক্য আছে সেগুলো ব্যবধান অনেক বেশি। আর মঙ্গলবার রাতের মধ্যে তারা ইস্যুগুলো নিয়ে একমত হতে পারবে না।
সংবাদমাধ্যমটি বলেছে, ট্রাম্প তার কাছের লোকদের কাছে বলেছেন চুক্তি হওয়া নিয়ে তিনি খুব বেশি আশাবাদী নন। যদিও আলোচনার মাধ্যমে বর্তমান পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে।
প্রতিবেদনে সংবাদমাধ্যমটি আরো বলেছেন, ট্রাম্প হয়ত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইরানের ব্রিজ ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে হামলার নির্দেশ দিতে পারেন। কিন্তু এ নিয়ে ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টির সদস্যরা উদ্বিগ্ন। তারা আশঙ্কা করছেন ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসের দাম বেড়ে যাবে। যার প্রভাব পড়তে পারে আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনে।
ট্রাম্পের সম্ভাব্য হামলার নির্দেশের ব্যাপারে জানতে চাইলে হোয়াইট হাউজের প্রেসসচিব ক্যারোলিন লেভেট বলেন, ‘শুধুমাত্র প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানেন তিনি কি করবেন। তার সিদ্ধান্তের বিষয়টি দ্রুতই স্পষ্ট হবে।’
সূত্র: ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল
ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতা না করার অভিযোগ তুলে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো এবং বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মিত্র দেশের কঠোর সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সোমবার (৬ এপ্রিল) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি ন্যাটোর কড়া সমালোচনা করে জোটটিকে একটি কাগুজে বাঘ বলে আখ্যায়িত করেন। একইসঙ্গে তিনি নির্দিষ্টভাবে অস্ট্রেলিয়া, জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়ার নাম উল্লেখ করে বলেন, এই যুদ্ধে তারা যুক্তরাষ্ট্রকে কোনো সাহায্য করেনি।
মিত্র দেশগুলোর সুরক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প বলেন, 'উত্তর কোরিয়ার হাত থেকে রক্ষা করার জন্য জাপানে আমাদের ৫০ হাজার সেনা মোতায়েন রয়েছে। একইভাবে দক্ষিণ কোরিয়ায় অবস্থান করছে আমাদের ৪৫ হাজার সেনা।'
নিজেদের সুরক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল সংখ্যক সেনা ব্যবহার করলেও প্রয়োজনে এই মিত্র দেশগুলো পাশে দাঁড়াচ্ছে না এমন হতাশা ও ক্ষোভ থেকেই তিনি এই মন্তব্য করেছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট হয়।
এসময় তিনি বলেন, ‘আমাদের সামরিক বাহিনীর সক্ষমতার কারণে আমাদের কাছে এমন একটি পরিকল্পনা রয়েছে, যার মাধ্যমে মঙ্গলবার রাত ১২টার মধ্যে ইরানের প্রতিটি সেতু ধ্বংস করে দেয়া হবে। ইরানের প্রতিটি বিদ্যুৎকেন্দ্র অকেজো হয়ে যাবে। জ্বলবে, বিস্ফোরিত হবে এবং আর কখনোই ব্যবহার করা যাবে না। আমি বলতে চাইছি, রাত ৪টার মধ্যে সম্পূর্ণ ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চাইলে মাত্র চার ঘণ্টার মধ্যেই এটি ঘটবে। তবে আমরা চাই না এমন কিছু হোক।’
সূত্র: আলজাজিরা
ইরান বিষয়ক একজন পররাষ্ট্রনীতি বিশেষজ্ঞ আল জাজিরাকে বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে এখনও মুখরক্ষার বিনিময়ে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলার সময়সীমা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে, যদি তিনি কোনো কূটনৈতিক সমাধানের পথ দেখতে পান।
কুইন্সি ইনস্টিটিউটের ভাইস প্রেসিডেন্ট ত্রিতা পারসি বলেন, “ট্রাম্পের একটি সুবিধা হলো, সত্যি বলতে, তার তেমন কোনো বিশ্বাসযোগ্যতা নেই, তাই তার হারানোরও তেমন কিছু নেই।”
পারসি আরও বলেন, “আমি অবশ্যই এমন একটি পরিস্থিতি দেখতে পাচ্ছি যেখানে, যদি তিনি মনে করেন যে সময়সীমা বাড়ানোর কোনো কারণ আছে, তবে তিনি তা-ই করবেন। তিনি গত ৩৫ দিনে বেশ কয়েকবার এমনটা করেছেন, এবং তা কোনোভাবেই তার বিশ্বাসযোগ্যতার অবস্থানে নাটকীয় কোনো পরিবর্তন আনেনি।”
তিনি বলেন, প্রশ্ন হলো, যুদ্ধরত পক্ষগুলোর মধ্যে এমন কোনো সম্ভাব্য চুক্তির পথ খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা আছে কি না, যা যুদ্ধবিরতির পথ প্রশস্ত করতে পারে।
ট্রাম্প ইরানকে আজ মঙ্গলবার পূর্ব সময় রাত ৮টা (বুধবার জিএমটি ০০:০০) এর মধ্যে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার সময় দিয়েছেন, অন্যথায় দেশজুড়ে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু ধ্বংসের মুখোমুখি হতে হবে।
সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির পূর্বাঞ্চল লক্ষ্য করে ছোড়া সাতটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে তাদের সামরিক বাহিনী। এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর ধ্বংসাবশেষ বেশ কিছু জ্বালানি স্থাপনার কাছাকাছি এলাকায় গিয়ে পড়েছে।
মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, ধ্বংসাবশেষের আঘাতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, তা নিরূপণের কাজ চলছে।
সূত্র: আল–জাজিরা
কুয়েতের আলী আল সালেম বিমানঘাঁটিতে রাতভর ইরানের ড্রোন হামলায় অন্তত ১৫ জন আমেরিকান আহত হয়েছেন। দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আহতদের মধ্যে অধিকাংশেরই আঘাত গুরুতর নয়। তাঁরা ইতিমধ্যে নিজেদের কাজে ফিরেছেন।
তথ্যসূত্র: আল–জাজিরার
ইসরাইলি বিমান হামলায় লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) জানিয়েছে, তায়ার জেলার তাইর দেব্বা এলাকায় ইসরাইলি হামলায় এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
এনএনএর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, টায়ার জেলার মারাকাহ এলাকায় আরেকটি বাড়িতে ইসরাইলি বিমান হামলায় অন্তত দুজন আহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ আটকা পড়ে আছেন কি না, তা খুঁজে দেখতে উদ্ধারকর্মীরা তল্লাশি চালাচ্ছেন।
৪টি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার দাবি করেছে সৌদি আরব। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পূর্বাঞ্চলে চারটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
সৌদি বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ জানায়, জাতীয় আগাম সতর্কীকরণ প্ল্যাটফর্ম পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশে সম্ভাব্য বিপদের সতর্কতা জারি করেছে। এর কয়েক মিনিট পরেই এই ঘোষণা আসে।
মার্কিন উভচর যুদ্ধজাহাজে হামলার বিষয়ে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী। আইআরজিসি দাবি করেছিল, তাদের বাহিনীর হামলায় মার্কিন ওই জাহাজ পিছু হটে ভারত মহাসাগরের দক্ষিণ অংশে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে।
এক বিবৃতিতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তাদের যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস ত্রিপোলি’ কোনো হামলার শিকার হয়নি। বর্তমানে জাহাজটি মার্কিন যুদ্ধ প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে আরব সাগরে অবস্থান করছে।
সূত্র: আল-জাজিরা
ইরানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, সোমবার দেশটির মধ্যাঞ্চলীয় ইসফাহান প্রদেশে মার্কিন যুদ্ধবিমান প্রতিহত করার সময় তাদের ৪ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।
ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফারস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসফাহানের মাহইয়ার এলাকায় শত্রু পক্ষের যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার, সশস্ত্র ড্রোন ও সহায়তাকারী বিমানের সঙ্গে ওই কর্মকর্তারা ‘সরাসরি যুদ্ধে’ লিপ্ত হয়েছিলেন। একপর্যায়ে হামলার শিকার হয়ে তাঁরা প্রাণ হারান।
সূত্র: আল-জাজিরা
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানে দ্বিতীয় এক মার্কিন পাইলট আটকে থাকার তথ্য যে ব্যক্তি গণমাধ্যমে ফাঁস করেছে তাকে শনাক্ত করার চেষ্টা করছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।
ট্রাম্পের দাবি, প্রথম পাইলটকে উদ্ধারের পর দ্বিতীয় পাইলটের অবস্থান সম্পর্কে ইরান আগে জানত না। কিন্তু সংবাদমাধ্যমে এ তথ্য প্রকাশ পাওয়ার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্ধার অভিযান ‘অনেক বেশি কঠিন’ হয়ে পড়ে।
তিনি বলেন, যে সংবাদমাধ্যমটি এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে তাদের কাছ থেকে তথ্য ফাঁসকারীর পরিচয় দিতে বলা হবে। তা না করলে আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হতে পারে।
ট্রাম্প বলেন, ‘‘আমরা খুব গুরুত্ব সহকারে সেই ফাঁসকারীর খোঁজ করছি। আমরা মনে করি তাকে খুঁজে বের করতে পারব, কারণ আমরা সেই মিডিয়া কোম্পানির কাছে যাব যারা এটি প্রকাশ করেছে এবং বলব—‘জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে পরিচয় দিন, না হলে জেলে যেতে হবে’।”
সূত্র: আল-জাজিরা

মার্কিন প্রসেডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এক রাতেই ইরানকে গুঁড়িয়ে দেওয়া সম্ভব। তাঁর আলটিমেটাম অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় আগামীকাল মঙ্গলবারই সেই রাত হতে পারে।
ইরানের বিষয়ে জানাতে আজ হোয়াইট হাউসে সংবাদ সম্মেলন করেন ট্রাম্প। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ও জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন।
ট্রাম্প ইরানে আটকে পড়া মার্কিন বিমানবাহিনীর সদস্যদের উদ্ধারে পরিচালিত অভিযানকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে অভিহিত করেছেন। সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের সাহসী যোদ্ধাদের ঘরে ফিরিয়ে আনতে আমি মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীকে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলাম।’ তিনি জানান, এই উদ্ধার অভিযানে ২১টি মার্কিন সামরিক উড়োজাহাজ অংশ নিয়েছে।
ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ ‘বেশ ভালোভাবেই এগোচ্ছে’ বলে দাবি করেছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, মার্কিন বাহিনী চাইলে মাত্র এক রাতেই পুরো ইরানকে ‘নিশ্চিহ্ন’ করে দিতে পারে। তিনি বলেন, এক রাতেই পুরো দেশটিকে (ইরান) নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া সম্ভব। আর আগামীকাল রাতেই সেটা হতে পারে।
এর আগে ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে আরেক অনুষ্ঠানে ইরান যুদ্ধ নিয়ে বিভিন্ন কথা বলেন। ট্রাম্প বলেন, তিনি ইরানকে চুক্তিতে রাজি হতে মঙ্গলবার রাত ৮ টা পর্যন্ত যে আলটিমেটাম দিয়েছেন সেটাই চূড়ান্ত। ইরান যে প্রস্তাব দিয়ে তা যথেষ্ট নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গতকাল নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত পোস্টে ট্রাম্প চূড়ান্ত আলটিমেটাম দিয়ে লিখেছিলেন, ‘মঙ্গলবার, রাত ৮টা ইস্টার্ন টাইম!’ মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই সময়সীমা অনুযায়ী, তেহরানের স্থানীয় সময় তখন বুধবার ভোর সাড়ে ৩টা এবং গ্রিনিচ মান সময় (জিএমটি) মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টা। [বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল ৬টা]

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানে পরিচালিত দ্বিতীয় উদ্ধার অভিযানে মোট ১৫৫টি মার্কিন বিমান অংশ নিয়েছিল। সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই তথ্য তুলে ধরেন।
ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, এই বৃহৎ সামরিক অভিযানে চারটি বোমারু বিমান, ৬৪টি যুদ্ধবিমান, ৪৮টি জ্বালানি ট্যাঙ্কার এবং ১৩টি উদ্ধারকারী বিমান অন্তর্ভুক্ত ছিল। তিনি দাবি করেন, অভিযানটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ছিল এবং উদ্ধার কার্যক্রমের সময় মার্কিন বাহিনী কাছ থেকে গুলির মুখে পড়ে।
সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প আরও বলেন, অভিযানের সময় হেলিকপ্টারসহ বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং দুটি বিমান ঘটনাস্থলেই রেখে ধ্বংস করে দিতে হয়।
এছাড়া, যিনি প্রথম একটি সংবাদমাধ্যমকে ইরানে একজন মার্কিন পাইলট ভূপাতিত হওয়ার তথ্য দেন, তার পরিচয় খুঁজে বের করতে কর্মকর্তারা কাজ করবেন বলেও জানান তিনি।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানের আকাশে ১০ হাজারের বেশি যুদ্ধবিমান উড্ডয়ন করেছে এবং প্রায় ১৩ হাজার লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। একইসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, প্রয়োজনে ইরানকে “এক রাতেই নির্মূল” করা সম্ভব, এবং সেই সময় খুব কাছেও হতে পারে।
সূত্র: আল-জাজিরা

ইরান সম্পর্কে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন। এখানে তাঁর বক্তব্য থেকে মূল বিষয়গুলো তুলে ধরা হলো—
আবার সেতু–বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার হুমকি ইরানের সেতু, বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং অন্যান্য বেসামরিক অবকাঠামোতে আবারও হামলার হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। যা যুদ্ধাপরাধের সমতুল্য হবে।
তেলের মজুদ ‘দখলের’ ইচ্ছা
ট্রাম্প বলেন, যদি তাঁর ইচ্ছামতো সুযোগ থাকত, তবে তিনি ইরানের বিশাল তেলের মজুদ ‘দখল’ করতে চাইতেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, এর মাধ্যমে তিনি ‘প্রচুর অর্থ উপার্জন করতেন’।
যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরোধী মানুষেরা বোকা
বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে যে বেশিরভাগ আমেরিকান যুদ্ধের বিরোধিতা করছে। ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন, তাঁর ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’ ভিত্তিক সদস্যদের মধ্যে দৃঢ় সমর্থন রয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরোধী মানুষদের সম্পর্কে তিনি বলেন,‘তারা বোকা’।
ইরানে সরকারবিরোধীদের কাছে বন্দুক পাঠিয়েছিলেন
ট্রাম্প বলেন, তাঁর প্রশাসন সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের সমর্থনে ইরানে বন্দুক পাঠিয়েছিল। কিন্তু তিনি দাবি করেছেন, অস্ত্রগুলি ‘একটি গোষ্ঠীর কাছে’ ছিল। তিনি কোন গোষ্ঠীটির দিকে ইঙ্গিত করছেন তা সুনির্দিষ্ট করে উল্লেখ করেননি।
আলটিমেটাম চূড়ান্ত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ইরানকে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার জন্য তাঁর মঙ্গলবারের আলটিমেটাম চূড়ান্ত। তিনি বলেন, মার্কিন প্রস্তাবের প্রতি ইরানের প্রতিক্রিয়া ‘গুরুত্বপূর্ণ’ কিন্তু তা ‘যথেষ্ট ভালো নয়’।
সূত্র: আল–জাজিরা।
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ নিয়ে বিরোধিতা করা মার্কিন নাগরিকদের বোকা বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, যারা এই যুদ্ধের বিরোধিতা করছেন, তারা বোকা।
তিনি দাবি করেন, এই যুদ্ধের মূল উদ্দেশ্য একটিই আর তা হলো ইরান যেন কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে।
সাম্প্রতিক সময়গুলোতে ট্রাম্প বারবার এই যুক্তি তুলে ধরছেন যে, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে ঠেকানোই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের প্রধান কারণ।
তবে বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের বেশিরভাগ নাগরিক এই যুদ্ধকে সমর্থন করছেন না এবং দ্রুত সংঘাতের অবসান চান।
সূত্র: আলজাজিরা।

ইরানের তেল দখল করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প, পাশাপাশি দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর হামলার হুমকিও পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, “ওখানে (ইরানে) তেল আছে, এবং তারা এটি রক্ষা করতে পারবে না। যদি এটি আমার হাতে থাকত, আমি তেলটা নিয়ে নিতাম, তেলটা নিজের কাছে রেখে দিতাম, এবং সেখান থেকে অনেক অর্থ উপার্জন করতাম।”
তিনি আরো বলেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত, আমেরিকার জনগণ চায় আমরা দেশে ফিরে আসি। তবে তার নিজের অবস্থান ভিন্ন বলে প্রকাশ করেন।’
এছাড়া ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “এবং এটা করতে আমার খারাপ লাগছে – কিন্তু আমরা একে ধ্বংস করে দিচ্ছি।”
তিনি বলেন, তাদের কোনো সেতু থাকবে না, কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্র থাকবে না। তাদের কিছুই থাকবে না। আমি এর বেশি কিছু বলব না, কারণ এর চেয়েও খারাপ আরও অনেক কিছু আছে।
আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা একটি যুদ্ধাপরাধ।
সূত্র: আলজাজিরা।
ইসরাইলের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর ইলাতে ইয়েমেন থেকে ছোড়া ড্রোন আঘাত হেনেছে বলে জানিয়েছে দেশটির সামরিক বাহিনী।
ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম আরুত্জ শেভার বরাতে বলা হয়, ইরান, লেবানন ও ইয়েমেন থেকে সমন্বিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে।
এদিকে, ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী এক বিবৃতিতে হামলায় অংশ নেওয়ার দাবি করেছে। হুথি-ঘনিষ্ঠ আল-মাসিরাহ টিভি চ্যানেলে দেওয়া বিবৃতিতে তারা জানায়, একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে।
এছাড়া, জেরুজালেম এবং তেল আবিব এলাকাতেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
এই হামলার ঘটনায় এখনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
সূত্র: আলজাজিরা।
ইরান তাদের রাজনৈতিক নেতৃত্ব যতদিন প্রয়োজন মনে করবে, ততদিন যুদ্ধ চালিয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন দেশটির সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মোহাম্মদ আকরামিনিয়া।
বার্তা সংস্থা আইএসএনএকে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষ যতদিন উপযুক্ত মনে করবে, আমরা ততদিন যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারি।’
আকরামিনিয়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “শত্রুকে অবশ্যই এর জন্য অনুতপ্ত হতে হবে। কেনান এই যুদ্ধের পর এমন একটি নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো যুদ্ধের মুখোমুখি হতে না হয়।
সূত্র: আলজাজিরা।
চলমান সংঘাত বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের বিষয়ে পাকিস্তানের মাধ্যমে নিজেদের আনুষ্ঠানিক জবাব পাঠিয়েছে ইরান।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেলেও দেশের সার্বিক স্বার্থ বিবেচনায় রেখে যুদ্ধের স্থায়ী সমাপ্তির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছে।
প্রতিবেদনে আরো জানানো হয়, ইরান প্রস্তাবের জবাবে কয়েকটি শর্ত তুলে ধরেছে। এর মধ্যে রয়েছে—
সূত্র: আলজাজিরা।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী ও আইএসআইএল (আইএসআইএস)-ঘনিষ্ঠ সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে পশ্চিম আজারবাইজান প্রদেশে থেকে ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ইরান।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি-তে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দেশটির গোয়েন্দা মন্ত্রণালয় জানায়, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে সামরিক ও নিরাপত্তা স্থাপনা সংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইল-সংশ্লিষ্ট পক্ষের কাছে পাঠানোর অভিযোগ রয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব কর্মকাণ্ড দেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং বিষয়টি নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র: আলজাজিরা।
যুদ্ধের সময় বেসামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনার ওপর হামলার হুমকি কোনোভাবেই ‘নতুন স্বাভাবিক’ হয়ে উঠতে দেওয়া উচিত নয় বলে সতর্ক করেছেন আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির (আইসিআরসি) প্রধান মিরজানা স্পোলজারিক।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘বেসামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ইচ্ছাকৃত হুমকি কখনোই যুদ্ধের নিয়ম হতে পারে না।’
স্পোলজারিক আরো বলেন, ‘যে যুদ্ধের কোনো সীমা নেই, তা আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। এটি অযৌক্তিক, অমানবিক এবং পুরো জনগোষ্ঠীর জন্য ধ্বংসাত্মক।’
তিনি সতর্ক করে বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্র, হাসপাতাল, সেতু, স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয় ধ্বংস করা এবং পারমাণবিক স্থাপনাকে হুমকির মুখে ফেলা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অপরিবর্তনীয় পরিণতি ডেকে আনতে পারে।
সূত্র: আলজাজিরা।

চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে নিরাপদে হরমুজ প্রণালি দিয়ে মালয়েশিয়ার একটি জাহাজ চলাচল করেছে বলে জানিয়েছে ইরান।
মালয়েশিয়ায় অবস্থিত ইরানি দূতাবাস এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে জানায়, যুদ্ধ শুরুর পর দেশটির প্রথম জাহাজ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ অতিক্রম করেছে।
দূতাবাসের পোস্টে বলা হয়, ‘আমরা বলেছিলাম যে, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান তার বন্ধুদের ভুলে যায় না।’—এ মন্তব্যের মাধ্যমে মালয়েশিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
তবে জাহাজটির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
সূত্র: আলজাজিরা।
চলমান সংঘাতে মার্কিন-ইসরাইলের হামলায় এ পর্যন্ত বেশ কয়েকবার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে ইরানের বুশেহর পারমাণবিক কেন্দ্রকে। এর ফলে তেজস্ক্রিয় পদার্থ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের পারমাণবিক নজরদারি সংস্থার প্রধান রাফায়েল গ্রোসি জানিয়েছেন পারমাণবিক কেন্দ্রটির কাছে হামলা ‘অবশ্যই বন্ধ করতে’ হবে।
আইএইএ প্রধান সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাছে হামলা পারমাণবিক নিরাপত্তার জন্য একটি অত্যন্ত বাস্তব বিপদ সৃষ্টি করছে এবং অবশ্যই তা বন্ধ করতে হবে।
রাফায়েল গ্রোসি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ পোস্টে বলেছেন, ‘কার্যরত কেন্দ্রটির কাছে হামলা একটি মারাত্মক তেজস্ক্রিয় দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে, যার ফলে ইরান এবং এর বাইরের মানুষ ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর পরিণতি হতে পারে।’
তিনি আরো বলেন, সাম্প্রতিক একটি হামলা কেন্দ্রটির সীমানা থেকে মাত্র ৭৫ মিটার (২৪৬ ফুট) দূরে আঘাত হেনেছে।
তেহরানের শরিফ বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলার জন্য ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
আরগচি বলেন, এর আগে দেশের আরো কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলার পর এবার শারিফ বিশ্ববিদ্যালয়কে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
সোমবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স -এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্ষয়ক্ষতির ছবিও শেয়ার করে দেওয়া পোস্টে তিনি বলেন, ‘ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসীরা ইরানের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি)-তে বোমা হামলা চালিয়েছে।’
তিনি এসময় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আগ্রাসীরা আমাদের শক্তির মুখোমুখি হবে।’
উল্লেখ্য, শরিফ বিশ্ববিদ্যালয়কে ইরানের অন্যতম শীর্ষ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং প্রায়ই এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের এমআইটির সঙ্গে তুলনা করা হয়।
ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে আরব আমিরাতে ৪ জন আহত হয়েছেন। সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, সোমবার তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ১২টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, দুটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১৯টি ড্রোন প্রতিহত করেছে।
পরবর্তীতে এসব ভূপাতিত ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে চারজন আহত হয়েছেন।
এদিকে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় জর্ডানে দুজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা পেট্রা এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
জর্ডানের রয়্যাল এয়ার ফোর্স জানিয়েছে, তারা গত ২৪ ঘণ্টায় দুটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। তবে পৃথক একটি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিয়েছে।
সূত্র: আলজাজিরা।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর কুদস ফোর্সের একটি গোপন ইউনিটের প্রধানকে হত্যা করার দাবি করেছে ইসরাইল।
ইসরাইলের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র নাদাভ শোশানি জানিয়েছেন, অভিযানে কুদস ফোর্সের আন্ডারকভার ইউনিটের নেতা আসগর বেকেরি নিহত হয়েছেন।
সাম্প্রতিক সংঘাতের শুরু থেকেই মার্কিন-ইসরাইল তাদের হামলায় ইরানের শীর্ষ নেতাদের লক্ষ্যবস্তু করছে। তারই ধারাবাহিকতায় যুক্ত মৃত্যুর মিছিলে হচ্ছে নতুন নেতৃত্ব।
তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি ইরান।
উল্লেখ্য, কুদস ফোর্স হলো আইআরজিসির একটি বিশেষ বাহিনী, যা ইরানের সীমান্তের বাইরে গোপন অভিযান ও সামরিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পরিচিত।

ইরানের বৃহত্তম পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্স আসালুয়েহতে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল—এমন দাবি করেছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ।
সোমবার ইরানের ফারস বার্তা সংস্থা জানায়, আসালুয়েহর সাউথ পার্স পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
তাসনিম বার্তা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আসালুয়েহতে বিদ্যুৎ, পানি ও অক্সিজেন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতে হামলা চালানো হয়েছে। তবে পার্স পেট্রোকেমিক্যাল কোম্পানির মূল স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। এ ছাড়া, ওই অঞ্চলের সব পেট্রোকেমিক্যাল ইউনিটে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে বলেও জানানো হয়।
উল্লেখ্য, গত মার্চ মাসে ইসরাইল ইরানের প্রধান জ্বালানি উৎস সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্র এবং আসালুয়েহর নিকটবর্তী প্রসেসিং হাবে হামলা চালায়। এর জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন জ্বালানি স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালায় ইরান।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই।
ইরানে মার্কিন-ইসরাইলের যৌথ হামলার পর পাল্টা জবাব দিয়ে যাচ্ছে ইরান। এ পরিস্থিতিতে সংঘাত শুরুর পর থেকে বাহরাইন ৬৫৬টি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করেছে বলে জানিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী।
বাহরাইনের প্রতিরক্ষা বাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরান থেকে ছোড়া ১৮৮টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৪৬৮টি ড্রোন প্রতিহত ও ধ্বংস করেছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানিয়েছে দেশটির বেসামরিক স্থাপনা এবং ব্যক্তিগত সম্পত্তিকে লক্ষ্যবস্তু করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে; যা আন্তর্জাতিক মানবিক আইন এবং জাতিসংঘ সনদের চরম লঙ্ঘন।
সূত্র: আলজাজিরা।

জাতিসংঘের পারমাণবিক তদারকি সংস্থা আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-এর নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ এনে তীব্র সমালোচনা করেছে ইরান।
সোমবার আইএইএ প্রধানের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে ইরানের পারমাণবিক শক্তি সংস্থার প্রধান মোহাম্মদ ইসলামি বলেন, সংস্থাটির নিষ্ক্রিয়তা পারমাণবিক স্থাপনার বিরুদ্ধে আগ্রাসনকে উৎসাহিত করছে, বিশেষ করে বুশেহর বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর ক্ষেত্রে।
তিনি দাবি করেন, ইরানের একমাত্র কার্যকর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বুশেহর ইতোমধ্যে চারবার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। সর্বশেষ ৪ এপ্রিল কেন্দ্রটির আশপাশে হামলায় একজন নিরাপত্তাকর্মী নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হন।
ইসলামি সতর্ক করে বলেন, চলমান রিয়্যাক্টরে হামলার ফলে তেজস্ক্রিয় পদার্থ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে, যা মানুষের জীবন, পরিবেশ এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য অপূরণীয় ক্ষতি ডেকে আনতে পারে।
তিনি এসব হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে আইএইএ-র দৃঢ় পদক্ষেপের অভাব নিয়ে সমালোচনা করেন। তার মতে, কেবল উদ্বেগ প্রকাশ যথেষ্ট নয় এবং এতে ভবিষ্যতে আরও হামলার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

ইসরাইলের হাইফা শহরে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বিধ্বস্ত একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে চারটি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গতকাল একটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ভবনটিতে আঘাত হানে। তবে নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বোমাটি আঘাতের সময় বিস্ফোরিত হয়নি এবং উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর সময়ও সেটি সক্রিয় অবস্থায় ছিল। যা অনুসন্ধান কাজকে আরো জটিল করে তুলেছিল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আটকে পড়া চারজনের কাছে পৌঁছাতে উদ্ধারকর্মীদের পাশের একটি ভবনের কংক্রিট ভেদ করে সুড়ঙ্গ তৈরি করতে হয়।
ঘটনাস্থলের বিপরীতে বসবাসকারী মর বারেল বলেন, ইসরাইলের বহুস্তরীয় বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও ইরানি হামলার হুমকির মধ্যে বসবাস করা প্রতিদিনের ‘রাশিয়ান রুলেট’ খেলার মতো মনে হয়।
সূত্র: বিবিসি।
কাতারের রাস লাফান বন্দর থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বোঝাই দুটি জাহাজ হরমুজ প্রণালির দিকে অগ্রসর হওয়ার পর আবার ফিরে এসেছে বলে জাহাজ ট্র্যাকিং-এর তথ্য থেকে জানা গেছে।
যদি জাহাজগুলো সংকীর্ণ প্রণালীটি সফলভাবে অতিক্রম করতে পারত, তবে ২৮শে ফেব্রুয়ারি ইরানের সাথে মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এটিই হতো এলএনজির প্রথম ট্রানজিট।
অ্যানালিটিক্স প্রতিষ্ঠান কেপলার ও এলএসইজি-এর তথ্য বলছে, ‘আল দায়ায়েন’ এবং ‘রাশিদা’ নামের জাহাজ দুটি ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে তাদের কার্গো লোড করে।
এছাড়া, কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, ‘আল দায়ায়েন’ ট্যাঙ্কারটি বর্তমানে চীনের উদ্দেশ্যে সংকেত দিচ্ছে।
জানা গেছে, জাহাজ দুটি কাতারএনার্জি পরিচালিত। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি প্রতিষ্ঠানটি।

ইরানের শরিফ বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বাঙ্কার-বাস্টার’ বোমা হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইরান।
দেশটির প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরেফ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স -এ দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ‘শরিফ বিশ্ববিদ্যালয়ে বাঙ্কার বিধ্বংসী বোমা হামলা ট্রাম্পের উন্মাদনা ও অজ্ঞতার প্রতীক।
তিনি আরো বলেন, তিনি (ট্রাম্প) বুঝতে ব্যর্থ হয়েছেন যে ইরানের জ্ঞান কোনো কংক্রিটের ভেতরে বন্দী নয়, যে বোমা মেরে ধ্বংস করা যাবে। আমাদের প্রকৃত শক্তি আমাদের অধ্যাপক ও মেধাবীদের ইচ্ছাশক্তিতে নিহিত।
স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা প্রকৌশলী আরেফ বলেন, ইতিহাসে কোনো বর্বরতাই ইরানের জনগণের কাছ থেকে বিজ্ঞানকে ছিনিয়ে নিতে পারেনি। ‘বিজ্ঞান আমাদের আত্মায় প্রোথিত, এই দুর্গ কখনো ভেঙে পড়বে না’ যোগ করেন তিনি।
তবে সোমবার ভোরে সংঘটিত এ হামলার বিষয়ে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
সূত্র: আলজাজিরা।

চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে বন্ধ হরমুজ প্রণালি খোলার জন্য ইরানকে সাময়িক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিলে, সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
ওই কর্মকর্তা রয়টার্স সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছেন, ‘অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির বিনিময়ে ইরান হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলবে না। তিনি আরো বলেন, তেহরান মনে করে যে একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতির জন্য ওয়াশিংটনের প্রস্তুতির যথেষ্ট অভাব রয়েছে।
ইরান, পাকিস্তানের কাছ থেকে একটি তাৎক্ষলিক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পেয়েছে এবং তা পর্যালোচনা করছে বলে নিশ্চিত করেছেন ওই কর্মকর্তা। তিনি আরো বলেন, তেহরান কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা মেনে নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য কারো চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না।
উল্লেখ্য, ইরানে বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরাইলের যৌথ হামলার পর পাল্টা জবাব দিয়ে যাচ্ছে ইরান। এ প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও তাদের মিত্রদের জন্য জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ইরান।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসির গোয়েন্দা প্রধান মেজর জেনারেল মাজিদ খাদেমির হত্যার দায় স্বীকার করেছে ইসরাইল।
ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী বা আইডিএফ তাদের এক টেলিগ্রাম বার্তায় বলেছে, ‘আইআরজিসির গোয়েন্দা প্রধান নিহত হওয়া ইরানের জন্য আরো একটি বড় ধাক্কা।’
সাম্প্রতিক যুদ্ধে ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের মৃত্যুর ক্ষেত্রে দেখা গেছে, বেশিরভাগ সময়ই ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্র দায় স্বীকার করার পরই ইরান তা নিশ্চিত করেছে।
তবে এবার ব্যতিক্রম ঘটেছে। ইরান নিজেই আগে খাদেমির নিহত হওয়ার খবর ঘোষণা করেছে।
খাদেমি তার পূর্বসূরি মোহাম্মদ কাজেমি নিহত হওয়ার চার দিন পর আইআরজিসির গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন। কাজেমি গত বছরের ১৫ই জুন ইসরাইলি হামলায় নিহত হন।
সূত্র : বিবিসি
মার্কিন কংগ্রেসম্যান ইরানি বংশোদ্ভূত ইয়াসমিন আনসারি তেহরানের শরিফ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বোমা হামলার সমালোচনা করেছেন।
সেখানে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, কেন আমরা এক কোটি মানুষের শহরে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে বোমা হামলা চালাচ্ছি?
আনসারি লিখেছেন, শরিফ বিশ্ববিদ্যালয় যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজির মতোই গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরো বলেন, ‘শরিফ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় অসংখ্য প্রকৌশলী তৈরি করেছে, যারা পরে সিলিকন ভ্যালিতে গিয়ে কাজ করেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের কিছু সবচেয়ে সফল প্রযুক্তি কোম্পানি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখেছেন।’
সিলিকন ভ্যালি হল সানফ্রান্সিসকো শহরের প্রায় ৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত একটি বিখ্যাত প্রযুক্তি অঞ্চল, যেখানে বিশ্বের অনেক শীর্ষ প্রযুক্তি কোম্পানির অবস্থান।
সূত্র : বিবিসি
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) গোয়েন্দা প্রধান মেজর জেনারেল সৈয়দ মজিদ খাদেমি নিহত হয়েছেন।
দেশটির আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্সের বরাতে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায় আল জাজিরা।
আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানায়, আজ সোমবার (৬ এপ্রিল) ভোরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ ‘সন্ত্রাসী হামলায়’ তিনি নিহত হন।
তবে এ ঘটনায় আর কোনো বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।

ইরানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভেদ জারিফ হরমুজ প্রণালি নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আল্টিমেটামের নিন্দা জানিয়েছেন।
মিনাবের স্কুলে হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, ‘এই আগ্রাসন শুরু হয়েছে ১৭০ জন স্কুল শিক্ষার্থীদের হত্যার মধ্য দিয়ে, এই আগ্রাসন শুরু হয়েছে একটি যুদ্ধাপরাধ দিয়ে। যুদ্ধবাজরা শুনে রাখুন, ইরানের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘গতকাল হতাশা থেকে অশালীন ও বেপরোয়া মন্তব্যে ট্রাম্প প্রকাশ্যে আরো যুদ্ধাপরাধের হুমকি দিয়েছেন। এতে সহযোগিতা করা মানেই আন্তর্জাতিক অপরাধের দায় নেওয়া।’
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ইরান পরমাণু চুক্তি আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই কূটনীতিক যুদ্ধের অবসান নিয়ে একটি রোডম্যাপ তুলে ফরেন অ্যাফেয়ার্স ম্যাগাজিনে। নিবন্ধ লেখার পর ইরান সরকারের পক্ষ থেকে তাকে তিরস্কার করা হয়।
সূত্র : আল-জাজিজা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে করা কড়া ভাষায় সতর্কবার্তার পর, ইরান আজ সোমবার মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে নতুন করে হামলা শুরু করেছে এবং ‘বিধ্বংসী’ প্রতিশোধের হুমকি দিয়েছে।
আজ ভোরে ইসরাইল, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত একযোগে মিসাইল ও ড্রোন হামলার কথা জানিয়েছে। এই হামলাগুলো এমন সময়ে চালানো হলো যখন ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তেহরান তাদের কড়া অবস্থান আরো জোরদার করছে। এ সময় ইরানের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড সতর্ক করে জানায়, বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা হলে তারা ‘আরো অনেক বেশি বিধ্বংসী’ প্রতিশোধ নেওয়া হবে।
এই সতর্কবার্তাটি আসে ট্রাম্পের ইরানের বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করার হুমকির কয়েক ঘণ্টা পর। তিনি উপসাগরীয় অঞ্চলে জাহাজ চলাচল পুনরায় চালুর জন্য একটি চুক্তিতে তার দাবি মেনে নিতে তেহরানকে আহ্বান জানান।
ইরান কার্যত বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে। এর পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কড়া ভাষায় সতর্ক করে বলেন, তেহরানকে দ্রুত হরমুজ প্রণালিট খুলে দিতে হবে, নইলে ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হবে।
এক সংক্ষিপ্ত পোস্টে প্রেসিডেন্ট দৃশ্যত ইরানকে নির্দেশ পালনের জন্য একটি নতুন সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। তাহলো ‘মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত ৮টা।
খ্রিস্টানরা যখন ইস্টার উদযাপন করছিলেন, তখন ইরানের অভ্যন্তরে বিধ্বস্ত হওয়া এক যুদ্ধবিমানের আহত পাইলটকে উদ্ধারের পর ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুতে বিমান হামলার হুঁশিয়ারি পুনর্ব্যক্ত করেন।
ইরানি গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে পাহাড়ি এলাকায় বিধ্বস্ত কয়েকটি মার্কিন বিমানের ধ্বংসাবশেষ দেখা গেলেও, তেহরান এই কথা অস্বীকার করেনি যে, মার্কিন বাহিনী ওই কর্মকর্তাকে উদ্ধার করেছে। মার্কিন বিশেষ বাহিনী ও ইরানি সৈন্যরা তাকে খুঁজে বের করার জন্য দ্রুত কাজ করছিল। ওই কর্মকর্তা একটি পাহাড়ি এলাকায় আশ্রয় নিয়েছিলেন।
যুদ্ধবিমানের পাইলটকে উদ্ধারের ঘোষণা দিয়ে ট্রুথ সোশ্যাল-এ করা একটি পোস্টে ট্রাম্প জানান, সোমবার তিনি একটি সংবাদ সম্মেলন করবেন।
সূত্র : এএফপি

ফিলিপাইনের ক্যাথলিক নেতা কার্ডিনাল পাবলো ভার্জিলিও ডেভিড যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যেন তারা ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর যুদ্ধ থামাতে এগিয়ে আসেন। তিনি ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যুদ্ধ আরো বিস্তারের বিরুদ্ধে সতর্ক করেছেন।
ফেসবুকে প্রকাশিত এক খোলা চিঠিতে তিনি লেখেছেন,‘ইরানের বিরুদ্ধে বৃহত্তর যুদ্ধের হুমকির দায় শুধু একজন ব্যক্তির নয়, একজন নেতা একা কাজ করেন না, একজন নেতাকে বেছে নেওয়া হয়, তাকে বহন করা হয় এবং তাকে ক্ষমতায়িত করা হয়।’
কার্ডিনাল ডেভিড হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা হামলার মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করেন।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘আপনারা আগে এই সীমা অতিক্রম করেছেন। এত বড় ধ্বংসযজ্ঞ ঘটিয়ে সেটিকে বিজয় বলার অর্থ কী, তা আপনারা জানেন। আবার কি তা করবেন?’
তিনি আরো বলেন, ‘যখন ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণহীনভাবে ব্যবহৃত হয়, যখন কথা না শুনেই যুদ্ধ বেছে নেওয়া হয়, যখন ধ্বংসকে শক্তি হিসেবে দেখানো হয় তখন তা নেতৃত্ব নয়, বরং নৈতিক ব্যর্থতা।’
সূত্র : আল-জাজিজা
ইরাকের আধাসামরিক বাহিনী পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ) জানিয়েছে, তাদের দুটি ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যৌথভাবে হামলা চালিয়েছে।
বাহিনীটির এক বিবৃতিতে বলা হয়, নিনেভেহ প্রদেশে ২৫তম ব্রিগেডের গোয়েন্দা সদর দপ্তর এবং সালাহ আল-দিন প্রদেশে ৫২তম ব্রিগেডে একই সময়ে হামলা চালানো হয়েছে।
এ ঘটনায় হতাহতের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
পিএমএফ ইরাক রাষ্ট্রের অংশ এবং এতে ইরানপন্থী বিভিন্ন গোষ্ঠী অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ইরাকও এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে, যেখানে তেহরান-সমর্থিত গোষ্ঠী ও যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীর মধ্যে প্রতিদিনই পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে।
সূত্র : আল-জাজিজা
নতুন করে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হামলাটি হয়েছে শরিফ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজিতে, যেখানে ক্যাম্পাসের আশপাশের ভবনগুলোতে নজিরবিহীন ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এছাড়াও কাছাকাছি একটি গ্যাস স্থাপনাকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
গত কয়েক সপ্তাহে এটি চতুর্থ বড় বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে হামলা হয়েছে, যা ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার বিস্তৃত পরিসরকে নির্দেশ করে। তারা বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল, স্কুলসহ তেল ও ইস্পাত সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোকেও লক্ষ্যবস্তু করছে।
রাজধানীর বাইরে কারাজ, শিরাজ, ইসফাহান এবং বুশেহরসহ বিভিন্ন শহরেও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে, যেখানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যাচ্ছে।
বান্দার-ই-লেঙ্গেহ শহরে ছয়জন এবং কুমে আরো পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া রাজধানীর দক্ষিণ উপকণ্ঠের ছোট শহর বাহারেস্তানে অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছে, যার মধ্যে ছয়জন শিশু রয়েছে।
সূত্র : আল-জাজিজা

ইরানে বিধ্বস্ত মার্কিন যুদ্ধবিমান থেকে পাইলটকে উদ্ধারের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
রোববার (৫ এপ্রিল) রেকর্ডেড এক ভাষণে নেতানিয়াহু বলেন, ‘অভিনন্দন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প! সাহসী মার্কিন যোদ্ধাদের মাধ্যমে এক বীর পাইলটকে উদ্ধারের এই অসাধারণ ঘটনায় সব ইসরাইলি আনন্দিত।’
তিনি আরো বলেন, ‘এই উদ্ধার অভিযান একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিকে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করেছে, কাউকে পেছনে ফেলে রাখা হবে না।’
নেতানিয়াহু অতীতের ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর সাহসী উদ্ধার অভিযানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের এই অভিযানের তুলনা টেনে বলেন, ‘ ধরনের দুঃসাহসিক অভিযান দুই দেশের সামরিক সক্ষমতা ও অঙ্গীকারের প্রতিফলন।’
সূত্র: আল আরাবিয়া

সংবাদ সম্মেলনের ডেকেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার দুপুর ১টায় হোয়াইট হাউসের ব্রিফিং রুমে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এই সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্পের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকর্তাদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
সোমবার (৬ এপ্রিল) বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ইরানে মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর নিখোঁজ পাইলটকে উদ্ধার অভিযান নিয়ে কথা বলবেন তিনি।
এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সংবাদ সম্মেলন করবেন।
এখন জানানো হলো, সংবাদ সম্মেলনটি হবে হোয়াইট হাউসের ব্রিফিং রুমে।
গত শুক্রবার ইরানে মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করা হয়। ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ব্যবহার করে তারা যুক্তরাষ্ট্রের একটি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে।
যুদ্ধবিমানটিতে দু’জন পাইলট ছিলেন। যুদ্ধবিমানটিতে ইরানি আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা আঘাত হানলে দু’জনই ককপিট থেকে বেরিয়ে (ইজেক্ট) যান। একজনকে দ্রুতই উদ্ধার করে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু অন্যজনতে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে জরুরি ভিত্তিতে ব্যাপক পরিসরে অভিযান চালিয়ে তাকেও উদ্ধার করে মার্কিন বাহিনী।
সূত্র: বিবিসি
ইরানে নিহত সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪ জনে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় গত রাত থেকে ভোর পর্যস্ত এসব হত্যার ঘটনা ঘটে।
তেহরান প্রদেশে হামলায় অন্তত ২৩ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ছয়জন শিশু রয়েছে। এছাড়া তেহরানের দক্ষিণে কুম শহরের একটি আবাসিক এলাকায় হামলায় পাঁচজন নিহত এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর বান্দার-ই লেঙ্গেহ-তে আরো ছয়জন নিহত হয়েছেন।
সূত্র : আল-জাজিজা
রয়টার্স জানিয়েছে, ইরাকের রাষ্ট্রীয় তেল বিপণন সংস্থা (এসওএমও) তাদের গ্রাহকদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপরিশোধিত তেল উত্তোলনের সময়সূচি জমা দিতে অনুরোধ করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনে ইরাককে কোনো সীমাবদ্ধতা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার পর এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
রয়টার্স একটি এসওএমও নথির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে।
নথিতে এসওএমও বলেছে, তেল রপ্তানি কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে গ্রাহক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত তাদের উত্তোলন পরিকল্পনা জমা দিতে হবে, যাতে জাহাজ মনোনয়ন এবং চুক্তিভিত্তিক তেলের পরিমাণ সময়মতো প্রক্রিয়া করা যায়।
এতে আরো বলা হয়েছে, সব লোডিং টার্মিনাল, বিশেষ করে আল বাশরাহ তেল টার্মিনাল এবং সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো সম্পূর্ণ সচল রয়েছে।
এসওএমও জানিয়েছে, কোনো ধরনের সীমাবদ্ধতা ছাড়াই সব চুক্তিভিত্তিক তেল উত্তোলন কার্যক্রম বাস্তবায়নে তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
বিশ্লেষকদের মতে, তেল রপ্তানি পুনরায় শুরু হলে ইরাকের উৎপাদন বাড়াতে সহায়তা করবে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরানের সংঘাতের প্রভাবে দেশটির তেল উৎপাদন কমে দৈনিক প্রায় ৮ লাখ ব্যারেলে নেমে এসেছে।
সূত্র: আল-জাজিরা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় মাসউদ জারেই নামে এক জ্যেষ্ঠ ইরানি সামরিক কমান্ডার নিহত হয়েছেন।
সোমবার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।
বার্তা সংস্থা মেহেরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহত কমান্ডারের নাম ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাসউদ জারেই। তিনি শাহিন শহরের সেনাবাহিনীর এয়ার ডিফেন্স কলেজের প্রধান ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার পর থেকেই অঞ্চলে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। এ পর্যন্ত এসব হামলায় দেশটির প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ ২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
এর জবাবে ইরান ইসরাইলসহ জর্ডান, ইরাক এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে, যেখানে মার্কিন সামরিক স্থাপনা রয়েছে, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলেও বিধিনিষেধ আরোপ করেছে তেহরান।
সূত্র: আনাদোলু
ইসরাইলের সংবাদ মাধ্যম ইয়েনেট জানিয়েছে, সাম্প্রতিক ইরানি হামলার পর মধ্য ইসরাইলের পেতাহ টিকভা শহরে প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র (ইন্টারসেপ্টর) বিস্ফোরণে ৩৪ বছর বয়সী এক নারী গুরুতর আহত হয়েছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্য ইসরাইলজুড়ে ‘কমপক্ষে ১৫টি স্থানে হামলা হয়েছে এবং তেল আভিভের একটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
চ্যানেল-২ গুশ দান ও বেনি ব্র্যাক এলাকার ওপর ধোঁয়া উঠার ছবি প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি তেল আভিভের একটি ভবনের সামান্য ক্ষয়ক্ষতির ভিডিওও প্রকাশ করা হয়েছে।
সূত্র: আল-জাজিরা
ইরানের বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা হলে ‘আরো অনেক বেশি বিধ্বংসী’ পাল্টা জবাব দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি করেছে ইরান।
সোমবার (৬ এপ্রিল) দেশটির কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড সতর্ক করেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির টেলিগ্রাম বার্তায় প্রকাশিত এক বিবৃতিতে খাতাম আল-আমবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের একজন মুখপাত্র বলেন, ‘আবারও যদি বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করা হয়, তাহলে আমাদের পরবর্তী আক্রমণ ও প্রতিশোধমূলক অভিযান হবে আরও বেশি বিধ্বংসী এবং ব্যাপক।’
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংসের হুমকি দিয়েছেন। তিনি হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য তেহরানকে তার দাবি মেনে নিয়ে একটি চুক্তিতে সম্মত হওয়ার আহ্বান জানান। এই হুমকির পর ইরানও পাল্টা সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
তথ্যসূত্র: এএফপি
ইরানের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলার পর দেশটির রাজধানী তেহরানের কিছু এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সোমবার (৬ এপ্রিল) এ তথ্য জানিয়েছে।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম আইআরআইবি জানায়, ‘শরিফ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গ্যাস স্টেশনে হামলা হয়েছে। এর ফলে শরিফ এলাকার বিভিন্ন স্থানে সাময়িকভাবে গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন দেখা দিয়েছে।
তেহরানের জেলা ৯-এর একজন কর্মকর্তা জানান, পরিস্থিতি সাময়িক এবং দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে।
সূত্র : এএফপি
ফারস নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, তেহরান প্রদেশে রাতভর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলি হামলায় ১০ বছরের নিচে চারজন মেয়ে ও দু’জন ছেলে নিহত হয়েছে।
সংস্থাটি প্রদেশের বাহারেস্তান কাউন্টির একটি আবাসিক এলাকায় হামলার আগের একটি প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে এই তথ্য জানায়। ওই হামলায় ১৩ জন নিহত হয়েছিল বলে তারা জানিয়েছে।
সূত্র : আল-জাজিরা
ইসরাইলের হাইফায় ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ঘটনাস্থল থেকে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া দু’জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
উদ্ধারকারী সংস্থার বরাতে সোমবার (৬ এপ্রিল) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এপার্টমেন্ট ব্লকটি একটি ভারী ক্ষেপণাস্ত্র দ্বারা আঘাতপ্রাপ্ত হয়। অর্ধেক ভবন ধ্বংস হয়েছে, বাকি অংশটি অতি অস্থির থাকায় ধ্বংসভঙ্গির ঝুঁকি তৈরি করেছে এবং উদ্ধারকার্যকে জটিল করেছে।
উদ্ধারকারী সংস্থা ইসরাইল ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ সার্ভিস জানায়, দীর্ঘ সময় ধরে হোম ফ্রন্ট কমান্ডের সাথে যৌথভাবে অভিযান চালানোর পর তারা ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে দু’জনের লাশ উদ্ধার করে।
সংস্থাটি আরো জানায়, এখনও উদ্ধার কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং আরো অন্তত দু’জন নিখোঁজ বা আটকা পড়া ব্যক্তিকে খুঁজে বের করার চেষ্টা অব্যাহত আছে।
হাইফা প্রায়ই ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্যবস্তু হয়, যেহেতু এটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়াও, এটি হিজবুল্লাহর লেবানন সীমান্ত থেকে আসা ক্ষেপণাস্ত্রের পরিসরের মধ্যে পড়ে।
উদ্ধারকাজ চলাকালীন আরো একটি ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছিল। সোমবার ভোরে ইরান থেকে তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র স্যালভো ধরা পড়ে, যার বেশিরভাগ প্রতিরোধ করা হয় এবং বাকি অংশ খোলা মাঠে পড়ে।
সূত্র : আল-জাজিরা
আজ সোমবার সকাল নাগাদ তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা গেছে। দিনের শুরুর লেনদেনে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ক্রুড তেলের দাম ১ দশমিক ৮৬ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৩ দশমিক ৬২ ডলারে পৌঁছেছে।
নর্থ সি ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দামও সপ্তাহের শুরুতে বেড়েছে, যা ১দশমিক ১৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ১১০ দশমিক ৩০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে যুদ্ধ বন্ধ করে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য মঙ্গলবার পর্যন্ত সময়সীমা বেধে দিয়েছেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানের ওপর হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ এখন ষষ্ঠ সপ্তাহে প্রবেশ করেছে, যা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিকে বিঘ্নিত করছে।
ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ পথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহন করা হয়। ফলে বেড়ে যাচ্ছে তেলের দাম।
সূত্র : বিবিসি বাংলা
যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও আঞ্চলিক কয়েকটি মধ্যস্থতাকারী দেশ সম্ভাব্য ৪৫ দিনের একটি যুদ্ধবিরতির শর্তাবলি নিয়ে আলোচনা করছে। এই আলোচনা শেষ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের স্থায়ী অবসানের পথ তৈরি করতে পারে।
রোববার (৫ এপ্রিল) এমনটাই জানিয়েছে মার্কিন অনলাইন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।
যুদ্ধবিরতির শর্তা নিয়ে আলোচনার বিষয়ে জানাশোনা আছে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও আঞ্চলিক চারটি সূত্রের বরাত দিয়ে অ্যাক্সিওস এই খবর দিয়েছে।
তবে বার্তা সংস্থা রয়টার্স তাৎক্ষণিকভাবে এই প্রতিবেদনটি যাচাই করতে পারেনি।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, আলোচনার জন্য অতিরিক্ত সময়ের প্রয়োজন হলে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ফের বাড়ানো যেতে পারে।
রোববার (৫ এপ্রিল) মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে চুক্তিতে রাজি না হলে ইরান ‘সম্পূর্ণ উড়িয়ে দেওয়া’ হবে।
তিনি বলেন, ‘এটি কয়েক সপ্তাহ নয়, কয়েক দিন হওয়া উচিত। ইরান তছনছ হয়ে গেছে, একেবারে তছনছ। প্রতিদিন তা আরও খারাপের দিকে যাবে। প্রতিদিন তাদের (ইরানের) আরও বেশি সেতু নির্মাণ করতে হবে, আরও বিদ্যুৎকেন্দ্র বানাতে হবে এবং সবকিছু নতুন নতুন তৈরি করতে হবে। এর আগে কোনো দেশ এভাবে মার খায়নি।’
সূত্র: রয়টার্স
ইরানর বাহারেস্তান কাউন্টির কালেহ মির শহরের দুটি আবাসিক এলাকায় মার্কিন ও ইসরাইলি বাহিনী বোমা হামলা চালিয়েছে। এতে অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন, জানিয়েছে ফার্স সংবাদ সংস্থা।
বাহারেস্তান কাউন্টি তেহরান প্রদেশের একটি জনবহুল এলাকা। হামলার পর স্থানীয় প্রশাসন ধ্বংসস্তূপ সরানো এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়া সম্ভাব্য ব্যক্তিদের উদ্ধারের জন্য তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে।
ফার্সর বরাতে বাহারেস্তানের গভর্নর জানিয়েছেন, উদ্ধারকাজ চলমান এবং পরিস্থিতি এখনও উত্তপ্ত।
উপসাগরীয় দেশ কুয়েত সাম্প্রতিক ড্রোন হামলার পর অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদারে নতুন কৌশল ও সুরক্ষা নীতিমালা ঘোষণা করেছে।
গত রোববার (৫ এপ্রিল ২০২৬) কথিত ইরানি ড্রোন হামলায় কুয়েতের বিভিন্ন সরকারি ভবন ও মন্ত্রণালয় লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। এতে কোনো প্রাণহানি না ঘটলেও উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়ে দেশটি।
এই ঘটনার পর কুয়েতের সেনাবাহিনীর জেনারেল স্টাফ জানিয়েছে, তারা উন্নত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে “শত্রুপক্ষীয় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা” প্রতিহত করতে সক্রিয় রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে কুয়েত সেনাবাহিনী জানায়, বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেলে তা আতঙ্কের কারণ নয়; বরং এটি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে শত্রুপক্ষের হামলা মোকাবিলার ফল।
একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জারি করা নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার জন্য দেশটির নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
ইরান-সমর্থিত কাতাইব হিজবুল্লাহর নেতা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, হরমুজ প্রণালী নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র তার হুমকি বাস্তবায়ন করলে আঞ্চলিক তেল ও গ্যাস স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানো হবে।
ইরানের সংবাদ সংস্থা ইরনার মাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আবু হুসেন আল-হামিদাওয়ি বলেন, “তারা যদি জোর করে হরমুজ প্রণালী খোলার চেষ্টা করে, তাহলে কোনো তেল ও গ্যাস প্ল্যাটফর্ম বা স্থাপনা অবশিষ্ট থাকবে না।”
তিনি এই অঞ্চলে মার্কিন অবকাঠামোর প্রতি আরও ব্যাপক হুমকি দিয়ে বলেন: “ট্রাম্প ও তার সমর্থকদের জেনে রাখা উচিত যে, এই অঞ্চলে তাদের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোও আমাদের জন্য বৈধ লক্ষ্যবস্তু, এবং এ ব্যাপারে কোনো সীমারেখা নেই।”
মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম বলেছেন, হরমুজ প্রণালি নিয়ে দেওয়া আল্টিমেটাম বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প খুবই দৃঢ় অবস্থানে আছেন।
ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র ও কড়া অবস্থানের জন্য পরিচিত এই সিনেটর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে বলেন, তিনি এখনো আশা করেন যে কূটনৈতিক উপায়ে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বিষয়টি সমাধান করা সম্ভব।
তিনি বলেন, এটাই অঞ্চল ও বিশ্বের জন্য সবচেয়ে ভালো ফল হবে।
তবে তিনি সতর্ক করে দেন, কূটনীতির সুযোগ দ্রুত ফুরিয়ে আসছে বলা হলেও তা যথেষ্ট নয়।
ইরানের প্রতি বার্তা দিয়ে গ্রাহাম বলেন, সঠিক সিদ্ধান্ত নিন, এবং দ্রুত নিন।
ইরানের অবকাঠামো ধ্বংসের হুমকি দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনা করেছেন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের প্রধান অ্যাগনেস ক্যালামার্ড। তিনি ট্রাম্পের হুমকিকে জঘন্য বলে উল্লেখ করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংসের মতো হামলায় সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, তাপ, বিদ্যুৎ, পানি—কিছুই থাকবে না; মানুষ চলাচল বা পালানোর সক্ষমতাও হারাবে, যা তাদের জীবনের অধিকারের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে।
ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পোস্টটি সম্পর্কে তিনি আরো বলেন, এটি একটি জঘন্য বিবৃতি।
সূত্র: আলজাজিরা।
ইরানের সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা দক্ষিণ ইসরাইলের ডিমোনা অঞ্চলের কাছে পেট্রোকেমিক্যাল শিল্প স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। ডিমোনা এলাকাটি ইসরাইলের প্রধান পারমাণবিক স্থাপনার জন্য পরিচিত, যা দেশটির একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ইরানি বাহিনী কুয়েতের বুবিয়ান দ্বীপে অবস্থানরত মার্কিন সেনাঘাঁটিগুলোকেও ড্রোন হামলার মাধ্যমে লক্ষ্যবস্তু করেছে।
সূত্র: আলজাজিরা।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল ট্যাঙ্কার চলাচলের অনুমতি দেওয়ায় ইরানকে ধন্যবাদ জানিয়েছে ইরাক।
ইরাকের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফুয়াদ হুসেইন হরমুজ প্রণালী দিয়ে ইরাকি তেল ট্যাঙ্কার চলাচলের অনুমতি দেওয়ায় ইরানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। একই সাথে ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ প্রত্যাখ্যানের বাগদাদের নীতিকে পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
বিবৃতি অনুসারে, ইরাকে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ কাজেম আল-সাদেকের সঙ্গে এক বৈঠকে হুসেইন এই মন্তব্য করেন।
এর আগে, তথ্য সংস্থা এলএসইজি ও কেপলারের ডেটা অনুযায়ী, ‘ওশান থান্ডার’ নামের ইরাকের তেল ট্যাংকারটি ইরানের উপকূলঘেঁষে বাধাহীনভাবে হরমুজ প্রণালি পার হয়। আর ইরান একদিন আগেই ঘোষণা দিয়েছিল, গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথে চলাচলের ক্ষেত্রে ইরাককে কোনো বিধিনিষেধের আওতায় আনা হবে না।
সূত্র: আলজাজিরা।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, হরমুজ প্রণালী বন্ধ রাখা হলে ইরানকে ‘ভয়াবহ পরিস্থিতির’ মুখোমুখি হতে হবে।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, ‘মঙ্গলবার হবে ‘পাওয়ার প্ল্যান্ট ডে’ এবং ‘ব্রিজ ডে’—সব একসঙ্গে ইরানে।’
তিনি আরো বলেন, ইরান যদি দ্রুত হরমুজ প্রণালী খুলে না দেয়, তাহলে কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং পরিস্থিতি ইরানিদের জন্য ‘নরকের মতো’ হয়ে উঠবে।
ট্রাম্পের এই বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। এর আগে ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে বলেন, হরমুজ না খুললে ইরানে নরক নেমে আসবে।
সূত্র: আলজাজিরা।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে দাবি করেছে ইরানের জ্বালানি স্থাপিনা ও সেতুতে হামলার প্রতিশোধ হিসেবে তারা বাহরাইন ও কুয়েতের পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়েছে।
ইরানি গণমাধ্যমে প্রচারিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, তেহরানের পশ্চিমে কারাজ শহরের একটি সেতু এবং পেট্রোকেমিক্যাল শিল্পে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে এই আক্রমণ চালানো হয়েছে।
আইআরজিসি আরো সতর্ক করে জানিয়েছে, যদি বেসামরিক স্থাপনায় পুনরায় হামলা করা হয়, তবে তারা ‘আরো শক্তিশালী ও ব্যাপকভাবে’ দ্বিতীয় দফা হামলা চালাবে।
এদিকে, পরিস্থিতি আরো উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠছে কারণ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৪৮ ঘণ্টার একটি সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালি খুলে না দেয়, তবে জ্বালানি অবকাঠামো ও লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধকরণ (ডিস্যালিনেশন) স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানো হতে পারে।
সূত্র: আলজাজিরা।
ইরানের বিশেষ ছাড় নীতির আওতায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে ইরাকের একটি তেলবাহী ট্যাংকার নির্বিঘ্নে অতিক্রম করেছে।
তথ্য সংস্থা এলএসইজি ও কেপলারের ডেটা অনুযায়ী, ‘ওশান থান্ডার’ নামের ট্যাংকারটি ইরানের উপকূলঘেঁষে প্রণালীটি পার হয়। ইরান একদিন আগেই ঘোষণা দিয়েছিল, গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথে চলাচলের ক্ষেত্রে ইরাককে কোনো বিধিনিষেধের আওতায় আনা হবে না।
মেরিন ট্রাফিক ট্র্যাকার অনুযায়ী, ট্যাংকারটি সর্বশেষ ওমান উপসাগরে অবস্থান করছিল।
কেপলারের তথ্য বলছে, ‘ওশান থান্ডার’ গত ২ মার্চ প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল বসরা হেভি ক্রুড তেল বোঝাই করে এবং এপ্রিলের মাঝামাঝি মালয়েশিয়ার পেঙ্গেরাং বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
সূত্র: আলজাজিরা।
সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন তারা সফলভাবে প্রতিহত করেছে।
দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ইরান থেকে ছোড়া ৯টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, একটি ক্রুজ মিসাইল এবং ৫০টি ড্রোন আকাশেই ধ্বংস করা হয়েছে। এতে কোনো হতাহত বা আহতের ঘটনা ঘটেনি বলে জানানো হয়েছে।
এছাড়া ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সংঘাতের পর থেকে এখন পর্যন্ত ইউএই দাবি করেছে, তারা মোট ৫০৭টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ২৪টি ক্রুজ মিসাইল এবং ২,১৯১টি ড্রোন প্রতিহত করেছে।
তবে এই সংঘাতে ইউএই’র দুইজন সেনা সদস্য এবং ১০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন বলেও জানানো হয়েছে।

ইরান দেশটির ইসফাহান প্রদেশে তারা দুটি মার্কিন এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন এবং বেশ কিছু সংখ্যক ইসরাইলি হারমেস ৯০০ ড্রোন ধ্বংস করেছে বলে দাবি করেছে ইরানের সেনাবাহিনী।
ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজের বরাতে দেশটির সেনাবাহিনী জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ইরানে একাধিক বিদেশি বিমান ও ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানের বাহিনী দুটি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন এবং অনির্দিষ্ট সংখ্যক ইসরাইলি হারমেস ৯০০ ড্রোন ধ্বংস করেছে।
এর আগে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর এক মুখপাত্র জানিয়েছিলেন, ইরানি বাহিনী দুটি মার্কিন সি-১৩০ পরিবহন বিমান এবং দুটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার ধ্বংস করেছে।
সূত্র: আলজাজিরা।
ইরান থেকে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে ইসরাইলের দিকে, যার ফলে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে আঘাত হানার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী।
সামরিক বাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দক্ষিণ ইসরাইলের একটি এলাকায় আঘাতের খবর পাওয়া গেছে। তারা জানায়, ‘সংরক্ষিত ও নিয়মিত উভয় ধরনের অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলের দিকে রওনা হয়েছে।’
ইসরাইলের গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বীরশেবার দক্ষিণে রামাত হোভাভ এলাকায় অবস্থিত একটি কারখানায় এই হামলা হয়েছে, যা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
এর আগে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছিল, ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের আরেকটি ঢেউ তারা শনাক্ত করেছে, যা ইসরাইলের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল।
সূত্র: আলজাজিরা।
ইরানের ড্রোন হামলায় কুয়েতের একাধিক তেল স্থাপনায় আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে কুয়েত পেট্রোলিয়াম করপোরেশন।
কুয়েতের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কুনা -এর প্রতিবেদনে বলা হয়, এই হামলার ফলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বস্তুগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। হামলার পর বিভিন্ন স্থাপনায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
সংস্থাটি আরো জানায়, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত দমকল বাহিনী মোতায়েন করা হয়। আগুন যাতে দ্রতই অন্য স্থাপনাগুলোতে ছড়িয়ে না পড়ে তার জন্য কাজ করছে নির্বাপক বাহিনী।
তবে এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সূত্র: আলজাজিরা।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ইরান ও ওমানের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ওমান নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, দুই দেশের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৈঠকে মিলিত হয়ে প্রণালি দিয়ে ‘নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত’ নিশ্চিত করার বিভিন্ন উপায় নিয়ে আলোচনা করেন।
বৈঠকে উভয় দেশের কারিগরি বিশেষজ্ঞরা হরমুজ প্রণালীর স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে একাধিক প্রস্তাব ও পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন।
বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালিতে সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এ ধরনের উদ্যোগকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
সূত্র: আলজাজিরা।
ইরানে মার্কিন ইসরাইলি আগ্রাসনের পর থেকেই লেবাননে হামলা বৃদ্ধি করেছে ইসরাইলি বাহিনী। এ পরিস্থিতিতে ইসরাইলের বিমান হামলায় রোববার এক শিশুসহ ৭ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ লেবাননের সিডনের কাফার হাত্তা এলাকায় ইসরাইলি বিমান হামলায় চার বছর বয়সী এক শিশুসহ ৭ জন নিহত হয়েছেন।
এদিকে বৈরুতে হিজবুল্লাহর ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। এ কারণে গত এক ঘণ্টা ধরে ইসরাইলের যুদ্ধবিমানগুলো শহরটির ওপর দিয়ে অনেকটা নিচুতে উড়ছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা লেবাননের রাজধানী বৈরুতে হিজবুল্লাহর লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাচ্ছে।
সূত্র: আলজাজিরা।
মার্কিন-ইসরাইলি হামলার পর ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় টেড্রোস বলেন, ‘এই হামলা একটি কঠিন সতর্কবার্তা—এ ধরনের আঘাত পারমাণবিক দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, যার স্বাস্থ্যগত প্রভাব প্রজন্মের পর প্রজন্মকে ধ্বংস করতে পারে। সংঘাত যত বাড়ছে, ঝুঁকি ও হুমকিও ততই বাড়ছে।’
বুশেহর ইরানের একমাত্র চালু পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। এটি প্রায় আড়াই লাখ মানুষের আবাসস্থল বুশেহর শহরে অবস্থিত এবং দেশটির গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও সামরিক কেন্দ্রগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হয়।
সূত্র: আলজাজিরা।
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ একটি ছবি প্রকাশ করেছেন, যেখানে তিনি দাবি করেন—এটি ইরানি বাহিনীর গুলিতে ভূপাতিত একটি মার্কিন বিমানের ধ্বংসাবশেষ।
এর আগে ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স জানায়, নিখোঁজ এক মার্কিন বিমানচালককে খুঁজে বের করার অভিযানে অংশ নেওয়া একটি সি-১৩০ পরিবহন বিমান ইরানি পুলিশ কমান্ডো ইউনিট ধ্বংস করেছে।
তবে ইতোমধ্যে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) নতুন করে দাবি করেছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় ইসফাহান প্রদেশে সংঘটিত এক অভিযানে তারা যুক্তরাষ্ট্রের দুটি সি-১৩০ সামরিক বিমান এবং দুটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার ধ্বংস করেছে।
সূত্র: আলজাজিরা।
ইসরাইলের তেল আবিবে যুদ্ধবিরোধী এক বিক্ষোভে অভিযান চালিয়েছে ইসরাইলের পুলিশ। বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করতে অভিযান চালিয়ে ইহুদি-আরব আন্দোলনের নেতা অ্যালন-লি গ্রিনসহ একাধিক বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়।
অ্যালন-লি গ্রিন ‘স্ট্যান্ডিং টুগেদার’ নামের একটি ইহুদি-আরব আন্দোলনের নেতা। তিনি ইসরাইলের চলমান যুদ্ধ, প্রতিবেশী দেশগুলোতে হামলা এবং গাজায় ধ্বংসযজ্ঞের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে এই বিক্ষোভে অংশ নেন।
বিক্ষোভকারীরা যুদ্ধ বন্ধের দাবি জানিয়ে স্লোগান দেন এবং এই আগ্রাসন বন্ধের দাবি জানায়। তারা আরো দাবি করে, ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ নৃশংসতা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ভিন্নমত দমন করে চলেছে। এসময় পুলিশ বলপ্রয়োগ করে সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করে এবং বেশ কয়েকজনকে আটক করে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় ইসফাহান প্রদেশে সংঘটিত এক অভিযানে তারা যুক্তরাষ্ট্রের দুটি সি-১৩০ সামরিক বিমান এবং দুটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার ধ্বংস করেছে।
এর আগে ইরানি গণমাধ্যমে জানানো হয়, একটি ভূপাতিত এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের ক্রু সদস্যকে উদ্ধারে পরিচালিত মার্কিন অভিযানে একটি সি-১৩০ বিমান ধ্বংস হয়। তবে আইআরজিসির মুখপাত্রের সাম্প্রতিক বক্তব্যে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরো বেশি বলে দাবি করা হয়েছে। যেখানে দুটি মার্কিন সি-১৩০ সামরিক বিমান ও দুটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার ধ্বসের দাবি করা হয়।
সূত্র: আলজাজিরা।
ইরানে মার্কিন ইসরাইলি হামলা শুরুর পর উপসাগেরের মার্কিন স্থাপনাকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। এ পরিস্থিতিতে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান থেকে ছোড়া ৬৫৪ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে বাহরাইন।
বাহরাইনের প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে তারা ইরান থেকে আসা ৪৬৬টি ড্রোন এবং ১৮৮টি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে।
আজ রোববার দুটি পৃথক হামলায় দেশটির গালফ পেট্রোকেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কোম্পানির একটি অপারেশনাল ইউনিটে এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংস্থা বাপকো এনার্জিসের একটি তেল সংরক্ষণাগারের ট্যাঙ্কে আগুন লেগে যায়। তবে দ্রুতই সেই আগুনই নিভাতে সক্ষম হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সক্ষম হয়েছে দেশটি।
সূত্র: আলজাজিরা।
ইসরাইলের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বেন গুরিয়ন লক্ষ্য করে ক্লাস্টার বোমা হামলা করেছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। তবে হামলার ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। একই সাথে ইসরাইলের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
হুথি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানিয়েছেন, এই হামলায় ড্রোন এবং ক্লাস্টার মিসাইল ব্যবহার করা হয়েছে।
তার দাবি অনুযায়ী, বিমানবন্দরটি লক্ষ্য করে সমন্বিত আক্রমণ চালানো হয়।
সূত্র: আল-জাজিরা
লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণ উপশহরের বাসিন্দাদের এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরাইল।
সম্ভাব্য হামলার সতর্কবার্তা দিয়ে জানানো হয়েছে, ‘মানচিত্রে লাল রঙে চিহ্নিত ভবন এবং আশপাশের ভবনগুলোতে অবস্থানকারী সবাইকে বলছি আপনারা হিজবুল্লাহ-সংশ্লিষ্ট একটি স্থাপনার নিকটে অবস্থান করছেন।’
আরবি ভাষার মুখপাত্র আভিখাই আদরাই কোনো প্রমাণ ছাড়াই এ কথা বলেন।
এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আদরাই ঘোবেইরি এলাকার একটি মানচিত্র শেয়ার করেন, যেখানে একটি ভবন লাল রঙে চিহ্নিত করা হয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল দায়ী। টেলিফোন আলাপে পাকিস্তানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারকে তিনি একথা বলেন।
আরাগচি বলেন, ‘সকল উপায় অবলম্বন করে’ দেশের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষা করতে ইরান দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
পাকিস্তানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে তিনি বলেন, চলমান আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা এবং বিশ্বজুড়ে এর প্রভাবের জন্য দায়ী যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে পাকিস্তান চলমান সংকট সমাধানে চেষ্টা করে যাচ্ছে।
সূত্র: আল জাজিরা
ইরানে গুলিতে ভূপাতিত মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের পাইলটকে উদ্ধারে পরিচালিত তল্লাশি অভিযান চলাকালে ইরানের সেনাদের সাথে মার্কিন বাহিনীর সংঘর্ষ হয়েছে।
ওই পাইলটকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তিনি গোলাগুলিতে নন, বরং বিমান ভূপাতিত হওয়ার সময় আহত হন বলে প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে।
তল্লাশি অভিযানে ডজনেরও বেশি যুদ্ধবিমান অংশ নিয়েছিল বলে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
তবে অভিযানে মার্কিন সেনাদের কেউ হতাহত হননি বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প।
তবে ইরান বলছে, মার্কিন পাইলটকে সন্ধান পেতে তল্লাশি চালানোর সময় একটি মার্কিন ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছে।
এছাড়া গত শুক্রবারের ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, কয়েকজন ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রের ‘ব্ল্যাক হক’ হেলিকপ্টার লক্ষ্য করে গুলি চালাচ্ছেন।
সূত্র : বিবিসি
আবুধাবি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের একটি হামলা প্রতিহত করার পর, নিচে পড়ে যাওয়া ধ্বংসাবশেষ থেকে একটি পেট্রোকেমিক্যাল কারখানায় আগুন লাগে।
আবুধাবি থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
গালফ এমিরেটেরস্ মিডিয়া অফিস জানায়, ‘আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে হামলা প্রতিহত করার পর, ভূমিতে পড়ে যাওয়া ধ্বংসাবশেষ থেকে বোরুজ পেট্রোকেমিক্যালস কারখানায় একাধিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। কর্তৃপক্ষ আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে।
মিডিয়া অফিস থেকে আরো জানানো হয়, ‘ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়ন নিরুপনে কারখানার কার্যক্রম তাৎক্ষণিকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। তবে হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।’
এর আগে আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা মোকাবিলার কথা জানায়েছিল।
সূত্র : আল-জাজিরা
আমেরিকার একটি সি-১৩০ বিমান ভূপাতিত করেছে ইরান। দেশটির ইস্ফাহানের আকাশে বিমানটি আকাশ থেকে মাটিতে নামিয়ে আনে পুলিশের কমান্ডো ইউনিট ফারাজ রেঞ্জার্স।
রোববার (৫ এপ্রিল) বিমানটি ভূপাতিত করা হয় বলে জানিয়েছে ইরানের আধাসরকারি বার্তাসংস্থা তাসনিম নিউজ।
এদিকে, ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ‘ফারস’ তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে একটি ছবি প্রকাশ করেছে, যেখানে একটি মাঠ থেকে ঘন কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা যাচ্ছে। ইরানের দাবি, নিখোঁজ মার্কিন পাইলটকে খুঁজতে আসা একটি বিমানকে তাদের আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে আঘাত করা হয়েছে।
তাসনিম নিউজের তথ্য অনুযায়ী, এই বিমানটি বিধ্বস্ত যুদ্ধবিমান এফ-১৫ এর পাইলটকে উদ্ধারে ইরানে প্রবেশ করেছিল। তখন এটিকে ভূপাতিত করা হয়।
ফারস নিউজ তাদের প্রতিবেদনে সরাসরি ট্রাম্পকে আক্রমণ করে লিখেছে, ‘এটি একটি বিরাট সামরিক পরাজয় আড়াল করার জন্য ট্রাম্পের মরিয়া ও বেপরোয়া চেষ্টা।’
ফার্সের প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, ‘ভূপাতিত করা বিমানটি ইরানের পবিত্র ভূমিতে হামলাকারী শয়তানদের জ্বালানি রিফুয়েলিংয়ের কাজে নিযুক্ত ছিল বলেও ফার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
সূত্র: তাসনিজ নিউজ, ফার্স
এরআগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছিল, উদ্ধার অভিযানে যাওয়া দুটি সামকিক বিমান ইরানে আটকে গিয়েছিল। কিন্তু বিমানগুলো যেন ইরানের হাতে না যায় সেজন্য এগুলো ধ্বংস করে দেয় মার্কিন সেনারাই। পরবর্তীতে আরো তিনটি বিমান নিয়ে নিখোঁজ যুদ্ধবিমানের পাইলট ও উদ্ধারকারীদের উদ্ধার করে আনা হয়।
সূত্র: আল-জাজিরা, ফারস ও তাসনিজ নিউজ
লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, ইসরাইলের একটি সামরিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে তারা। লেবাননের উপকূল থেকে ৬৮ নটিক্যাল মাইল দূরে থাকা সামরিক জাহাজটিতে হামলা চালানো হয়।
হিজবুল্লাহ এক বিবৃতিতে জানায়, যুদ্ধজাহাজটি লেবাননের ভূখণ্ডের বিরুদ্ধে আগ্রাসন চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তারা জানায়, বেশ কয়েক ঘণ্টা নজরদারির পর এই হামলা চালানো হয়। এতে একটি নৌ-ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে।
সূত্র: আল জাজিরা
ইরানে বিধ্বস্ত হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের পাইলটকে উদ্ধারে অংশ নেওয়া একটি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরান। ইরানের গণমাধ্যম জানায়, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের সেনারা ড্রোনটি ভূপাতিত করে।
ইরানের আধা-সরকারি ফার্স নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে আইআরজিসির জনসংযোগ দপ্তর জানিয়েছে, মার্কিন ড্রোনটি ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় ইস্পাহান প্রদেশে বিধ্বস্ত হয়েছে।
তবে ইরানের এই দাবির বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি যুক্তরাষ্ট্র।
ইসরাইল দাবি করেছে, গত এক দিনে তারা ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ও ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনায় ১২০টিরও বেশি হামলা চালিয়েছে।
রোববার (৫ এপ্রিল) ইসরাইলের সামরিক বাহিনী ইরানে গত এক দিনের হামলা সম্পর্কে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বিমান বাহিনী ইরানের কেন্দ্রীয় ও পশ্চিমাঞ্চলে ইরানের তথাকথিত সন্ত্রাসী শাসনের ১২০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।’
‘আক্রমণের লক্ষ্যগুলোর মধ্যে ছিল রেভল্যুশনারি গার্ডের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, ইউএভি (ড্রোন) সংরক্ষণ ও উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, এবং বিমান প্রতিরক্ষা ঘাঁটি।’
তবে তাদের এই দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।
সূত্র : আল-জাজিরা
ইরানে বিধ্বস্ত হওয়া এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের পাইলটকে উদ্ধারে অভিযান চালানোর সময় যুক্তরাষ্ট্রের দুটি পরিবহন বিমান বিকল হয়ে যায়। এগুলো যাতে ইরানের হাতে না পড়ে, সেই ভয়ে বিমান দুটি ধ্বংস করে যুক্তরাষ্ট্র।
রোববার (৫ এপ্রিল) দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
গত শুক্রবার বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পরই দুই পাইলটকে উদ্ধারে সেখানে নজরদারি বিমান উড়ানো শুরু করে মার্কিনিরা। এ ছাড়া একটি হেলিকপ্টার দিয়েও পাইলটকে উদ্ধারে চেষ্টা করে তারা। তবে ইরানি সেনাদের হামলার মুখে হেলিকপ্টারটি পিছিয়ে যায়।
বিমানের এই পাইলটকে ধরার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করেছিল ইরান। তারা বলেছিল, যে বা যারা মার্কিন বিমান সেনাকে ধরতে পারবে তাদের ৬০ হাজার ডলার পুরস্কার দেওয়া হবে
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ পাইলটকে উদ্ধারের খবর নিশ্চিত করে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক পোস্টে লিখেছেন, ‘আমরা তাকে পেয়েছি! আমার প্রিয় আমেরিকানরা, গত কয়েক ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী আমাদের এক অসাধারণ পাইলটকে উদ্ধারের জন্য ইতিহাসের অন্যতম সাহসী অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। উদ্ধার হওয়া পাইলট একজন সম্মানিত কর্নেল। তিনি ইরানের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অবরুদ্ধ ছিলেন এবং ইরানি বাহিনী তাকে হন্যে হয়ে খুঁজছিল। ট্রাম্পের ভাষায়, ‘শত্রুরা প্রতি ঘণ্টায় তার কাছাকাছি চলে আসছিল, কিন্তু আমাদের সেনারা তাকে একা হতে দেয়নি।’
সূত্র: আল-জাজিরা, মিডল ইস্ট আই
ইসরাইলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরান ও হিজবুল্লাহর হামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ১০৮ জন হয়েছেন। আহত সবাই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। মন্ত্রণালয় আহত হওয়ার কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত বিবরণ দেয়নি।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে সেনা ও বেসামরিক নাগরিকসহ ছয় হাজার ৮০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
সূত্র: টাইমস অব ইসরাইল
ইরানের কোহগিলুয়েহ ও বোয়ের আহমদ প্রদেশে মার্কিন হামলায় নয়জন নিহত হয়েছেন। এ স্থানেই ভূপাতিত হয়েছিল এফ-১৫ যুদ্ধবিমান।
রোববার (৫ এপ্রিল) ফার্স সংবাদ সংস্থার একজন চিকিৎসা কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য জানায়।
ফার্স সংবাদ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, আকাশসীমায় ভূপাতিত এফ-১৫ যুদ্ধবিমান থেকে দু’জন পাইলট বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। তাদের মধ্যে একজনকে আগেই উদ্ধার করা হয়েছিল, আর অন্যজন নিখোঁজ ছিলেন। তাকে উদ্ধারে চালানো অভিযানেই নিহত হন এই নয়জন।
কোহগিলুয়েহ সিয়াহ এলাকায় হামলায় পাঁচজন নিহত এবং বোয়ের এলাকায় আটজন আহত এবং ভাজগ ও কাকান এলাকায় আরো চারজন নিহত হয়েছে।
এ ঘটনাগুলো ওই এলাকায় চলমান সামরিক উত্তেজনা ও উদ্ধার অভিযানের সাথে সংশ্লিষ্ট বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র: আল-জাজিরা
বিশ্বের দৃষ্টি যখন ইরানের যুদ্ধের দিকে কেন্দ্রীভূত, তখনও গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি বাহিনীর হামলা অব্যাহত রয়েছে।
ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, মাঘাজি শরণার্থী শিবিরের প্রবেশমুখে একটি বেসামরিক গাড়িতে ইসরাইলি হামলায় একজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো কয়েকজন। আহতদের আল আকসা হাসপাতালে এ নেওয়া হয়েছে।
অন্য এক হামলায়, গাজা সিটির পূর্বাঞ্চলের একটি এলাকায় ইসরাইইলি বিমান হামলায় আরো দু’জন নিহত হয়েছে।
গত বছরের তথাকথিত ‘যুদ্ধ বিরতি চুক্তি’-এর পর থেকে ইসরাইলি হামলায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭০৯ জনে এবং অন্তত ১ হাজার ৯২৮ জন আহত হয়েছে।
সংবাদ সংস্থা ওয়াফার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত মোট নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭২ হাজার ২৯১ জনে, যাদের মধ্যে অনেকেই নারী ও শিশু।
সূত্র: আল-জাজিরা
ইরানে বিধ্বস্ত হওয়া এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের পাইলটকে বাংলাদেশ সময় রোববার সকালে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে যুক্তরাষ্ট্র। সেই খুশিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক পোস্টও দিয়েছেন। ট্রাম্পের সেই খুশিতে কিছুটা পানি ঢেলে দিয়েছে ইরান। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা ইসফাহানের দক্ষিণাঞ্চলে উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া একটি মার্কিন বিমান ভূপাতিত করেছে।
ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ‘ফারস’ তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে একটি ছবি প্রকাশ করেছে, যেখানে একটি মাঠ থেকে ঘন কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা যাচ্ছে। ইরানের দাবি, নিখোঁজ মার্কিন পাইলটকে খুঁজতে আসা একটি বিমানকে তাদের আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে আঘাত করা হয়েছে।
ফারস নিউজ তাদের প্রতিবেদনে সরাসরি ট্রাম্পকে আক্রমণ করে লিখেছে, ‘এটি একটি বিরাট সামরিক পরাজয় আড়াল করার জন্য ট্রাম্পের মরিয়া ও বেপরোয়া চেষ্টা।’
এর আগে, ইরানে ভূপাতিত এফ-১৫ই যুদ্ধবিমানের দ্বিতীয় পাইলটকে জীবিত উদ্ধারের ঘোষণা দের ট্রাম্প। তিনি এই ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের অন্যতম ‘সাহসী ও দুঃসাহসিক’ উদ্ধার অভিযান বলে দাবি করেন।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘আমরা তাকে পেয়েছি! আমার প্রিয় আমেরিকানরা, গত কয়েক ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী আমাদের এক অসাধারণ পাইলটকে উদ্ধারের জন্য ইতিহাসের অন্যতম সাহসী অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। উদ্ধার হওয়া পাইলট একজন সম্মানিত কর্নেল। তিনি ইরানের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অবরুদ্ধ ছিলেন এবং ইরানি বাহিনী তাকে হন্যে হয়ে খুঁজছিল। ট্রাম্পের ভাষায়, ‘শত্রুরা প্রতি ঘণ্টায় তার কাছাকাছি চলে আসছিল, কিন্তু আমাদের সেনারা তাকে একা হতে দেয়নি।’
সূত্র: আল-জাজিরা
ইরানে বিধ্বস্ত হওয়া এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের পাইলটকে উদ্ধার করতে কয়েক ডজন বিমান পাঠিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বিষয়টি নিশ্চিত করে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘আমরা তাকে পেয়েছি! আমার প্রিয় আমেরিকানরা, গত কয়েক ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী আমাদের এক অসাধারণ পাইলটকে উদ্ধারের জন্য ইতিহাসের অন্যতম সাহসী অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। উদ্ধার হওয়া পাইলট একজন সম্মানিত কর্নেল। আমি আনন্দের সাথে জানাচ্ছি যে তিনি এখন নিরাপদ ও সুস্থ আছেন।’
পোস্টে ট্রাম্প জানান, তার নির্দেশে মার্কিন সামরিক বাহিনী ওই পাইলটকে উদ্ধার করতে কয়েক ডজন বিমান পাঠিয়েছিল। এ অভিযানে কোনো মার্কিন সেনার মৃত্যু হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
সূত্র : আল-জাজিরা
নিখোঁজ পাইলটের সন্ধানে উদ্ধার অভিযানে থাকা একটি মার্কিন বিমান গুলি করে ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরান। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) একথা জানিয়েছে। ইস্পহানের দক্ষিণাঞ্চলে বিমানটি ভূপাতিত করা হয়।
ফার্স নিউজ তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে একটি মাঠ থেকে ঘন ধোঁয়া ওঠার ছবি পোস্ট করে বলেছে, ‘বিশাল পরাজয় ঢাকার জন্য ট্রাম্পের মরিয়া চেষ্টা।’
এই খবরটি এমন সময়ে এলো যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে নিখোঁজ ক্রু সদস্যকে উদ্ধার করা হয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা
ইরানে বিধ্বস্ত হওয়া এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের পাইলটকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করার কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এ বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে এখনো কিছু জানানো হয়নি।
রোববার (৫ এপ্রিল) বাংলাদেশ সময় সকালে তাকে উদ্ধার করার দাবি করে যুক্তরাষ্ট্র।
পাইলট উদ্ধারের বিষয় কিছু জানানো না হলেও রাতভর ইরানে চলা অভিযানের চালানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে দেশটি।
সূত্র : আল-জাজিরা
ইরানে বিধ্বস্ত হওয়া এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের পাইলটকে বাংলাদেশ সময় রোববার সকালে আহত অবস্থায় উদ্ধার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সেই খুশিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক পোস্টে লিখেছেন, ‘আমরা তাকে পেয়েছি! আমার প্রিয় আমেরিকানরা, গত কয়েক ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী আমাদের এক অসাধারণ পাইলটকে উদ্ধারের জন্য ইতিহাসের অন্যতম সাহসী অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। উদ্ধার হওয়া পাইলট একজন সম্মানিত কর্নেল। আমি আনন্দের সাথে জানাচ্ছি যে তিনি এখন নিরাপদ ও সুস্থ আছেন।’
সূত্র : আল-জাজিরা
ইরানে বিধ্বস্ত হওয়া এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের পাইলটকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
রোববার (৫ এপ্রিল) বাংলাদেশ সময় সকালে তাকে উদ্ধার করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘উদ্ধার হওয়া পাইলটের আঘাত লেগেছে, তবে তিনি ভালো হয়ে উঠবেন।’
সংবাদ অনুযায়ী, ইরানের আকাশসীমায় ভূপাতিত একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান থেকে দু’জন পাইলট বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। তাদের মধ্যে একজনকে আগেই উদ্ধার করা হয়েছিল, আর অন্যজন নিখোঁজ ছিলেন।
উল্লেখ্য, বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পরই দুই পাইলটকে উদ্ধারে সেখানে নজরদারি বিমান উড়ানো শুরু করে মার্কিনিরা। এ ছাড়া একটি হেলিকপ্টার দিয়েও পাইলটকে উদ্ধারে চেষ্টা করে তারা। তবে ইরানি সেনাদের হামলার মুখে হেলিকপ্টারটি পিছিয়ে যায়।
বিমানের এই পাইলটকে ধরার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করেছিল ইরান। তারা বলেছিল, যে বা যারা মার্কিন বিমান সেনাকে ধরতে পারবে তাদের ৬০ হাজার ডলার পুরস্কার দেওয়া হবে
সূত্র : আল-জাজিরা
ইরানে বিধ্বস্ত হওয়া এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের পাইলটকে উদ্ধারের কথা নিশ্চিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
উদ্ধার হওয়া পাইলটের আঘাত লেগেছে, তবে তিনি ভালো হয়ে উঠবেন বলেও জানিয়েছেন ট্রাম্প।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা কোনো আমেরিকানকে নিহত বা আহত ছাড়াই এই দুটি অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন করতে পেরেছি। এটা আবারো প্রমাণ করে যে ইরানের আকাশসীমায় আমরা সম্পূর্ণভাবে আকাশ আধিপত্য ও শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছি।’
সকালে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড যুক্তরাষ্ট্রের এফ-১৫-ই যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে। এই বিমান আকাশে উড়ার সময় দু’জন থাকে। এরমধ্যে একজন পাইলট। অপরজন অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের কাজ করেন। যেদিন বিমানটি ইরান ভূপাতিত করে ওইদিনই এক পাইলট উদ্ধার করেছিল যুক্তরাষ্ট্রের স্পেশাল ফোর্সের সেনারা। এরপর দ্বিতীয় পাইলট খুঁজতে ইরানে সরাসরি প্রবেশ করে তারা। আজ রোববার জানা গেলো দ্বিতীয় পাইলটকেও উদ্ধার করা হয়েছে।
বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পরই দুই পাইলটকে উদ্ধারে সেখানে নজরদারি বিমান উড়ানো শুরু করে মার্কিনিরা। এ ছাড়া একটি হেলিকপ্টার দিয়েও পাইলটকে উদ্ধারে চেষ্টা করে তারা। তবে ইরানি সেনাদের হামলার মুখে হেলিকপ্টারটি পিছিয়ে যায়।
বিমানের এই পাইলটকে ধরার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করেছিল ইরান। তারা বলেছিল, যে বা যারা মার্কিন বিমান সেনাকে ধরতে পারবে তাদের ৬০ হাজার ডলার পুরস্কার দেওয়া হবে
ইরানে বিধ্বস্ত যুদ্ধবিমানের পাইলটকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার মুখে থাকা ইরান সম্প্রতি দুটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করে। এর মধ্যে একটি এফ-১৫ ইরানের আকাশে গুলি করে নামানো হয়। অন্যদিকে একটি এ-১০ কুয়েতে বিধ্বস্ত হয়, যার পাইলট ইজেক্ট করেছিলেন বলে জানা গেছে।
সংবাদ অনুযায়ী, ইরানের আকাশসীমায় ভূপাতিত একটি F-15 যুদ্ধবিমান থেকে দুইজন ক্রু সদস্য বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। তাদের মধ্যে একজনকে আগেই উদ্ধার করা হয়েছিল, আর অন্যজন নিখোঁজ ছিলেন।
সূত্র : আল-জাজিরা
কুয়েতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও পানি বিশুদ্ধকরণ স্থাপনাগুলোতে ইরানের ড্রোন হামলার ঘটনায় “গুরুতর ভৌত ক্ষতি” হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির বিদ্যুৎ, পানি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ফাতিমা আব্বাস জোহার হায়াত জানান, এই হামলায় দুটি বিদ্যুৎ উৎপাদন ইউনিট অচল হয়ে পড়েছে। তিনি এ ঘটনাকে “অপরাধমূলক আগ্রাসন” হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে এই হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলেও নিশ্চিত করেছেন তিনি।
এটি সাম্প্রতিক সময়ে কুয়েতের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে চালানো একাধিক ড্রোন হামলার অংশ। এর আগে ড্রোন হামলায় শুওয়াইক তেল খাত কমপ্লেক্সে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে এবং একটি সরকারি অফিস কমপ্লেক্সে “উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি” হয়।
ঘটনার পর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলো দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ফার্স নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা মধ্য ইরানের ইসফাহান শহরে একটি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ধ্বংস করেছে।
এই ড্রোনটি সাধারণত যুক্তরাষ্ট্র ব্যবহার করে এবং এটি মাঝারি উচ্চতায় দীর্ঘ দূরত্বে উড়তে সক্ষম।
লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, তারা ইসরাইলি সেনাবাহিনীর বিভিন্ন অবস্থান ও সেনা সমাবেশকে লক্ষ্য করে একাধিক হামলা চালিয়েছে।
গোষ্ঠীটি জানায়, দক্ষিণ লেবাননের কানতারা শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থানরত ইসরাইলি বাহিনীর ওপর রকেট হামলা চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে কফার ইউভাল বসতিতে জড়ো হওয়া সেনা ও সামরিক যানবাহনকেও লক্ষ্য করে হামলা করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
এছাড়া খিয়াম শহরে ইসরাইলি সেনাদের অবস্থানে আর্টিলারি গোলাবর্ষণের কথাও জানিয়েছে হিজবুল্লাহ।
পৃথক বিবৃতিতে গোষ্ঠীটি আরো দাবি করে, তারা ড্রোন হামলা চালিয়েছে শারাগাহ ঘাঁটিতে, যা ইসরাইলের গোলানি ব্রিগেডের প্রশাসনিক সদর দপ্তর হিসেবে পরিচিত। এই ঘাঁটিটি আক্কা শহরের উত্তরে অবস্থিত। পাশাপাশি অধিকৃত কফারচৌবা পাহাড়ের আল-সাম্মাকা সামরিক স্থাপনার কাছেও ইসরাইলি বাহিনীকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে বলে জানানো হয়।
তবে এসব হামলার বিষয়ে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিতের প্রস্তাবের ওপর জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ভোট আবারো স্থগিত করা হয়েছে।
জাতিসংঘের এক কর্মকর্তার বরাতে বিবিসি এ তথ্য জানিয়েছে। ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘পরিকল্পনা অনুযায়ী শনিবার এই ভোট হচ্ছে না।’
এর আগে ভোটটি হওয়ার কথা ছিল শুক্রবার। পরে তা পিছিয়ে শনিবার নির্ধারণ করা হলেও সেদিনও ভোট হচ্ছে না।
জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক বিবিসিকে বলেন, ভোট কবে অনুষ্ঠিত হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো দাপ্তরিক তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি।
ইরানের নিহত জেনারেল কাসেম সোলাইমানির ভাতিজি এবং তার মেয়েকে যুক্তরাষ্ট্রে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।
এক বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, হামিদেহ সোলাইমানি আফশার এবং তার মেয়েকে মার্কিন ফেডারেল এজেন্টরা গ্রেপ্তার করেছে। তারা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস)-এর হেফাজতে রয়েছেন।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তাদের স্থায়ী বসবাসের অনুমতি (পার্মানেন্ট রেসিডেন্সি) বাতিল করার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
ঘটনাটি এমন এক সময় ঘটল, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। আর এই ধরনের পদক্ষেপ দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরো জটিল করে তুলতে পারে।
কুয়েতের আকাশসীমায় একদিনে ২৭টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রবেশ করেছে, তবে এতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে জানিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয় আরো জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় কুয়েতের আকাশসীমায় প্রবেশ করা মোট আটটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১৯টি ড্রোনের ওপর দেশটির সামরিক বাহিনী নজর রেখেছে এবং সেগুলো সফলভাবে মোকাবিলা করা হয়েছে।
তারা আরো নিশ্চিত করে যে, এসব হামলার ফলে কোনো প্রাণহানি বা অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি।
সাম্প্রতিক সময়ে উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় কুয়েতসহ বিভিন্ন দেশ উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে।
সূত্র: আলজাজিরা।

হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার জন্য ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর না খুললে ইরানে নরক নেমে আসার হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এই আলটিমেটাম দেন। তিনি লেখেন, ‘আমি যখন ইরানকে ১০ দিনের মধ্যে চুক্তি করতে বা হরমুজ প্রণালী খুলতে বলেছিলাম—তা মনে রাখুন। সময় ফুরিয়ে আসছে। আর ৪৮ ঘণ্টা—এরপর তাদের ওপর নেমে আসবে ভয়াবহ পরিণতি।
সূত্র: আলজাজিরা।
জরুরি পণ্য বহনকারী জাহাজগুলোকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের অনুমতি দিবে বলে জানিয়েছে ইরান। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি জরুরি পণ্য পরিবহনকারী জাহাজের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে।
এর আগে তেহরান হরমুজ প্রণালিতে চলাচল সীমিত করায় বিশ্বব্যাপী নৌপরিবহন ব্যাহত হয়। প্রণালিটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্বনেতারা জোরালো প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে কিছু বাণিজ্যিক জাহাজ এখনও সীমিত আকারে এই পথ ব্যবহার করতে পারছে।
ইরান পূর্বে জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল এবং তাদের মিত্রদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট জাহাজ ছাড়া অন্যদের জন্য এই জলপথ উন্মুক্ত থাকবে।
সূত্র: সিএনএন।
ইরানের বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে ঘিরে ঝুঁকি বাড়ছে এমন আশঙ্কার মধ্যে সেখান থেকে আরো কর্মী সরিয়ে নিচ্ছে রাশিয়া। দেশটির রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটম জানিয়েছে, পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হওয়ায় তারা অতিরিক্ত কর্মী সরিয়ে নিয়েছে।
রুশ সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, শনিবার বুশেহর কেন্দ্র থেকে আরো ১৯৮ জন কর্মীকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ধাপে ধাপে কর্মী প্রত্যাহার করছে রোসাটম।
এদিকে আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের একটি পোস্টে জানিয়েছে, সম্প্রতি একটি হামলার সময় কেন্দ্রটির নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট এক কর্মী নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় স্থাপনাটির একটি ভবন শকওয়েভ ও ধ্বংসাবশেষের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সূত্র: আলজাজিরা।
ইসরাইলে মধ্যঞ্চলে ইরান থেকে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির সামরিক বাহিনী। এরপরই হোম ফ্রন্ট কমান্ডের তল্লাশি ও উদ্ধারকারী দলগুলো আক্রান্ত স্থানে মোতায়েন রয়েছে।
জরুরি উদ্ধারকাজ পরিচালনার সুবিধার্থে আক্রান্ত এলাকায় বা এর আশেপাশে জড়ো না হওয়ার জন্য জনসাধারণের প্রতি জরুরি অনুরোধ জানিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে হোম ফ্রন্ট কমান্ডের নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে ইসরাইলের সামরিক আরো বাহিনী জানিয়েছে, তারা দেশটির দিকে ধেয়ে আসা ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আরেকটি ঢেউ শনাক্ত করেছে। সামরিক বাহিনীর দাবি দুই ঘণ্টারও কম সময়ের এটি দ্বিতীয় হামলা।
সূত্র: আলজাজিরার।
ইরানে মার্কিন ইসরাইলের যৌথ হামলায় বহু বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যেখানে তালিকায় ইউনেস্কার ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার নামও এসেছে। একইভাবে ইরানে চলমান যুদ্ধে দেশটির অন্তত ৫৫টি লাইব্রেরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইরানের তাসনিম সংবাদ সংস্থার বরাতে দেশটির পাবলিক লাইব্রেরি অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় এসব লাইব্রেরি গুরুতর ক্ষতির মুখে পড়েছে, যার মধ্যে দুটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।
এর আগে জানা গেছে, এই সংঘাতে ইরানের বহু সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকাভুক্ত গোলেস্তান প্রাসাদও রয়েছে।
এই ধরনের হামলা কেবল অবকাঠামো নয়, বরং একটি দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ওপরও গভীর প্রভাব ফেলছে।
সূত্র: আলজাজিরা।
ইরানে মার্কিন-ইসরাইলের যৌথ হামলার প্রেক্ষপটে পাল্টা জবাব দিয়ে যাচ্ছে ইরান। এ পরিস্থিতিতে চলমান সংঘাতের প্রথম কয়েক সপ্তাহেই ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সংস্থাটির পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের পরিচালক হানান বালখি এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এই তথ্য তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, এই সংঘাত সাম্প্রতিক দশকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বিস্তৃত মানবিক সংকটগুলোর একটি হিসেবে দেখা দিচ্ছে। যার ফলে নিচের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ডব্লিউএইচও-এর তথ্য অনুযায়ী এখন পর্যন্ত—
সূত্র: আলজাজিরা।
ইরান জানিয়েছে, তারা নতুন একটি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমান প্রতিহত করার সক্ষমতা বাড়াবে। দেশটির সামরিক কমান্ড শনিবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায়।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শুক্রবার ভূপাতিত করা মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলোকে আঘাত হানার জন্য তারা এই নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাটি মোতায়েন করেছে।
বিবৃতিতে আরো দাবি করা হয়, যুদ্ধ চলাকালীন এক মাসেরও বেশি সময় ধরে তেহরানের আকাশসীমায় মার্কিন ও ইসরাইল একচ্ছত্র আদিপত্য থাকলেও এখন আর সেটি সম্ভব হবে না। নতুন এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে তেহরান তার আকাশসীমার ওপর আবশ্যিকভাবে পরিপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ অর্জন করবে বলে।
সূত্র: আলজাজিরা।
জর্ডানের সশস্ত্র বাহিনী বলেছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে জর্ডানে ২৮১টি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা হয়েছে। সশস্ত্র বাহিনী থেকে আরো দাবি করা হয়েছে এসব হামলা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে।
সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে যে, সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান ১৬১টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১২০টি ড্রোন দিয়ে জর্ডানকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।
জর্ডানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা পেট্রার মাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সামরিক বাহিনী উল্লেখ করেছে যে, তারা ২০টি বাদে বাকি সব ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করেছে।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, ‘ইরানের সব হামলা জর্ডানের ভূখণ্ডের অভ্যন্তরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও স্থানগুলোকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে, যার অর্থ এগুলো আকস্মিক ছিল না।’
সূত্র: আলজাজিরা।

কুয়েতে অবস্থানরত একটি মার্কিন সিএইচ-৪৭ চিনুক হেলিকপ্টার ইরানের হামলার শিকার হয়েছে বলে জানা গেছে। ৩ এপ্রিল হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হেলিকপ্টারটির ছবি প্রকাশ করেছে ইরানের রাষ্ট্রঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম তাসনিম, যা ঘটনাটির দৃশ্যমান প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) শুক্রবার রাতে এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ইউনিট একদিনে একটি যুদ্ধবিমান এবং পাঁচটি ড্রোন বা ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। তারা এই ঘটনাকে মার্কিন ও ইসরাইলের বিমানবাহিনীর জন্য ‘অন্ধকার দিন’ বলে উল্লেখ করেছে।
সূত্র: তাসনিম নিউজ।
সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) জানিয়েছে, একদিনে তারা ৭৯টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করেছে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, এসবের মধ্যে ছিল ২৩টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৫৬টি ড্রোন। হামলার পরপরই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে সেগুলো মোকাবিলা করে।
একই সঙ্গে মন্ত্রণালয় এক্স-এ পোস্ট করা একটি বিবৃতিতে সংঘাত শুরুর পর থেকে মোট পরিস্থিতির একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরে। এতে বলা হয়, এখন পর্যন্ত ইউএইর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ৪৯৮টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ২৩টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২,১৪১টি ড্রোন প্রতিহত করেছে।
তবে এই হামলাগুলোর ফলে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। বিবৃতিতে নিশ্চিত করা হয়, দুইজন এমিরাতি সেনা সদস্য এবং একজন মরক্কান ঠিকাদার নিহত হয়েছেন।
এছাড়া বেসামরিক হতাহতের সংখ্যাও উদ্বেগজনক। পাকিস্তান, নেপাল, বাংলাদেশ, ফিলিস্তিন, ভারত ও মিশরের মোট ১০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং আরো ২১৭ জন আহত হয়েছেন বলে জানানো হয়।
সূত্র: আলজাজিরা।

গণমাধ্যমের বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে সাম্প্রতিক অবস্থান স্পষ্ট করার বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়েছে পাকিস্তান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এক বার্তায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির এই ব্যাখ্যার প্রশংসা করেন।
এর আগে আরাগচি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের কিছু গণমাধ্যম ইরানের অবস্থান ভুলভাবে উপস্থাপন করেছে। যেখানে তিনি বলেন, ইরান কখনোই ইসলামাবাদের আলোচনায় যেতে অস্বীকৃতি জানায়নি এবং চলমান যুদ্ধের স্থায়ী সমাধানই তাদের মূল লক্ষ্য।
তিনি পাকিস্তানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে ইসহাক দার এই ব্যাখ্যাকে স্বাগত জানিয়ে দুই দেশের মধ্যে সমন্বয় ও শান্তি প্রচেষ্টার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
সূত্র: আলজাজিরা।
ইরানে মার্কিন-ইসরাইলি যৌথ হামলার প্রেক্ষাপটে পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। এ পরিস্থিতিতে ইসরাইলে ইরান থেকে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার খবর পাওয়া গেছে।
ইসরাইলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে নতুন করে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ইসরাইলের দিকে নিক্ষেপ করা হয়েছে।
দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, হামলা প্রতিহত করতে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে এবং আগত ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ধ্বংসের চেষ্টা চলছে।
বর্তমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরান নিয়মিতভাবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, যার বেশিরভাগই ইসরাইলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিহত করা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।
সূত্র: আলজাজিরা।

ইরানের বুশেহর পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার অভিযোগ তুলে গুরুতর ঝুঁকির সতর্কতা জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আরাঘচি জানান, বুশেহর স্থাপনাটি চারবার হামলার শিকার হয়েছে। তিনি বলেন, এই হামলা শুধু ইরানের জন্য নয়, পুরো উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি) অঞ্চলের জন্যও বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।
তিনি অভিযোগ করেন, আন্তর্জাতিক মহল ইউক্রেনের জাপোরিঝঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়ে যতটা উদ্বেগ দেখিয়েছে, ইরানের ক্ষেত্রে ততটা গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না।
আরাগচি আরো বলেন, ইরানের পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনাগুলোর ওপর হামলাও এই সংঘাতের প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে ইঙ্গিত দেয়।

চলমান সংঘাতের অবসানে চূড়ান্ত ও স্থায়ী সমাধানের ওপর জোর দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি বলেন, বর্তমানে দেশটির ওপর চাপিয়ে দেওয়া অবৈধ যুদ্ধের একটি চূড়ান্ত ও স্থায়ী সমাপ্তির শর্ত নিশ্চিত করাই ইরানের প্রধান লক্ষ্য।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আরাঘচি বলেন, আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো এই আরোপিত অবৈধ যুদ্ধের একটি চূড়ান্ত ও স্থায়ী সমাপ্তির শর্ত নিশ্চিত করা।
এ সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমের সমালোচনা করে বলেন, তারা ইরানের অবস্থান ভুলভাবে উপস্থাপন করছে। বিশেষ করে পাকিস্তান সফর নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সূত্র: আলজাজিরা।
হরমুজ প্রণালী সংকট নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কাজা কালাসের বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছে অস্ট্রিয়ায় অবস্থিত ইরানের দূতাবাস। হরমুজ প্রণালি সংকট বিষয়ে তার অবস্থানের জন্য তাকে ভণ্ডামির দায়ে অভিযুক্ত করেছে এই দূতাবাস।
কালাস চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর সঙ্গে আলোচনায় প্রণালীতে ‘টোলমুক্ত নৌ চলাচলের স্বাধীনতা” পুনঃস্থাপনকে একটি জরুরি অগ্রাধিকার বলে উল্লেখ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, ইরানের বেসামরিক জাহাজে হামলার কারণে ওই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।
এর জবাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া দুটি পোস্টে ইরানের দূতাবাস কালাসের বক্তব্যকে ‘ভণ্ডামি’ বলে আখ্যা দেয়। তারা অভিযোগ করে, ইইউ নেতা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আক্রমণাত্মক হামলা উপেক্ষা করে ইরানের সম্পূর্ণ আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ-এর সমালোচনা করছেন।
সূত্র: আলজাজিরা।
ইরানের ইসফাহান প্রদেশের মোবারাকে এলাকায় এক রেড ক্রিসেন্ট মানবিক সহায়তা কর্মী নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রঘনিষ্ঠ বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ।
সংস্থাটির প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় ওই কর্মী নিহত হন।
সূত্র: আলজাজিরা।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত নিয়ে নতুন করে বিশ্লেষণ সামনে এনেছেন আরব-ব্রিটিশ আন্ডারস্ট্যান্ডিং কাউন্সিলের (সিএএনিইউ) পরিচালক ক্রিস ডয়েল। আলজাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এই যুদ্ধে প্রথমবারের মতো ইরানের মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার ঘটনাটি ইরানের মর্যাদার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ।
ডয়েলের ভাষায়, এর মাধ্যমে ইরান দেখাতে চেয়েছে যে তারা বিশ্বের প্রধান পরাশক্তি, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিকভাবে প্রভাবশালী শক্তির বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে সরাসরি প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম। যেখানে তারা সমানে সমানে কিংবা ও অপ্রতিসম উভয়ভাবেই তাদের একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে ফেলছে।
তিনি আরো বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে সাধারণত ‘মিশন ক্রিপ’ বা লক্ষ্য সম্প্রসারণের আশঙ্কা থাকে। কিন্তু এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন।
‘এখানে আমরা ‘মিশন সংকোচন’ দেখছি, বলেন ডয়েল। ‘শুরুর দিকে ইরানে শাসন পরিবর্তনকে অপরিহার্য বলা হচ্ছিল, এমনকি নেতৃত্বকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। কিন্তু এখন ট্রাম্পসহ মার্কিন নেতারা বলছেন—তারা আর রেজিম চেঞ্জ চায় না।’
তার মতে, এটি একটি দিকনির্দেশনাহীন সামরিক অভিযানের ইঙ্গিত দেয়। বিপরীতে, ইরান অনেক বেশি সুসংগঠিত ও নিয়ন্ত্রিতভাবে তাদের কৌশল পরিচালনা করছে।
সূত্র: ক্রিস ডয়েল।
মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান অস্থিরতার মধ্যেও ইরান থেকে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে ভারত। অর্থ পরিশোধেও কোনো বাধা নেই বলেছে দেশটির পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয়। খবর আলজাজিরার।
ভারতের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, দেশের অভ্যন্তরীণ তেল পরিশোধনাগারগুলো নিরবচ্ছিন্নভাবে তাদের অপরিশোধিত তেলের চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম হয়েছে, যার মধ্যে ইরান থেকেও সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে-এ প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ভারতীয় রিফাইনারিগুলো তাদের প্রয়োজনীয় অপরিশোধিত ক্রুড তেলের চাহিদা পূরণ নিশ্চিত করেছে।’
সূত্র: আলজাজিরার।

ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিম খুজেস্তান প্রদেশে একটি পেট্রোকেমিক্যাল কারখানায় বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। ইরানের খুজেস্তান প্রদেশের ডেপুটি গভর্নর একথা জানিয়েছেন।
ভালিওল্লাহ হায়াতির তথ্যমতে, আজ শনিবার সকাল ১০ টা ৪৫ মিনিটের দিকে প্রাদেশিক রাজধানী আহভাজের পূর্ব ও পশ্চিমে তিনটি বিস্ফোরণ ঘটে। তবে সে সময় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
এর কিছুক্ষণ পরেই, সকাল ১০ টা ৪৭ মিনিটে মাহশাহর পেট্রোকেমিক্যাল এলাকায় আরো তিনটি শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে। যদিও প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ওই কর্মকর্তা আরো জানান, ফজর ১, ফজর ২, রেজাল ও আমির কবির পেট্রোকেমিক্যাল কারখানা হামলার শিকার হয়েছে।
এছাড়াও, বেলা ১১টার দিকে, খোররামশাহরের শালামচেহ সীমান্ত বাণিজ্য টার্মিনালে হামলা চালানো হয়। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় বলে জানা গেছে। মার্কিন-ইসরাইলি যুদ্ধবিমান এরপর আবু আলি পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সে আঘাত হানে। বন্দর-ই ইমাম খোমেনি স্থাপনায় চালানো হামলায় আংশিক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
এখন পর্যন্ত মাহশাহর এবং বন্দর-ই ইমাম খোমেনি হামলায় পাঁচজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
বিশেষ অর্থনৈতিক পেট্রোকেমিক্যাল অঞ্চলের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জরুরি কমান্ড কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এলাকার সক্রিয় শিল্প ইউনিটগুলো থেকে সকল কর্মীকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্গত কোনো সম্ভাব্য ক্ষতিকর পদার্থ বর্তমানে নিকটবর্তী শহরগুলোর জন্য কোনো হুমকি সৃষ্টি করছে না।
সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি
ইরানের বুশেহর পারমাণবিক কেন্দ্রের কাছে একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। এতে একজন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা তাসনিম।
ইরানের পারমাণবিক শক্তি সংস্থা জানায়, নিহত ব্যক্তি কেন্দ্রটির নিরাপত্তা কর্মী ছিলেন। হামলায় স্থাপনাটির পাশের একটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তবে হামলার কারণে বর্তমানে কোনো তেজস্ক্রিয়তার ঝুঁকি নেই বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
সূত্র: আল জাজিরা
চলমান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ‘শত্রুপক্ষের’ ১৬০টির বেশি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরান। বিমান প্রতিরক্ষা ও বিমান বাহিনীর কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলিরেজা এলহামি বলেছেন, আধুনিক দেশীয় পদ্ধতি ও সরঞ্জাম ব্যবহার করে ‘শত্রুদের যুদ্ধবিমান ও ড্রোন’ লক্ষ্য করে অতর্কিত হামলা চালাতে প্রস্তুত ইরানের সেনারা।
বার্তা সংস্থা ইরনায় এক বিবৃতিতে এলহামি বলেন, ইরানি বিমান বাহিনী ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি উন্নত যুদ্ধবিমান, কয়েক ডজন ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং হার্মিস ও লুকাস ড্রোনসহ ১৬০টিরও বেশি ড্রোন ধ্বংস করেছে।
তিনি আরো বলেন, এই বিমানগুলো ভূপাতিত করা ছিল ‘প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় নতুন কৌশল, সরঞ্জাম ব্যবহারের ফল’ যা শত্রুপক্ষকে বিভ্রান্ত করেছে।
সূত্র: আল জাজিরা
যুক্তরাষ্ট্রের একটি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরান। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইস্পাহান প্রদেশের আকাশে একটি এমকিউ-১ ড্রোন ভূপাতিত করেছে।
এই ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটল যখন ইরানি বাহিনী ঘোষণা করেছে যে তারা মার্কিন সামরিক বাহিনীর দুটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে। একটি দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানের আকাশে এবং অন্যটি হরমুজ প্রণালির কাছে ভূপাতিত করা হয়।

ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, বিধ্বস্ত যুদ্ধবিমানের কিছু ছবি হাতে পেয়েছে তারা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ছবিগুলো প্রমাণ করে, ইরান আরো একটি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে।
তাসনিমের সামরিক বিষয়ক প্রতিনিধি মনে করছেন, ছবিতে যেহেতু কেবল একটি ইঞ্জিনের ধোঁয়া দেখা যাচ্ছে, তাই ধরে নেওয়া যেতে পারে যে ভূপাতিত যুদ্ধবিমানটি একটি এফ-১৬ বা এফ-৩৫। তবে এটি এটি এফ-১৬ হওয়ার সম্ভবনাই বেশি।
কয়েক ঘণ্টা আগে, তেহরানসহ দেশের কয়েকটি শহরের ওপর দিয়ে বেশ কয়েকটি যুদ্ধবিমান উড়ে যাওয়ার সময় সশস্ত্র বাহিনীর বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিটের ভারী গোলাবর্ষণের মুখে পড়ে।
এই যুদ্ধবিমানগুলোর মধ্যে কয়েকটি ফ্লেয়ার ছুড়ে বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনীর গোলাবর্ষণ এড়ানোর চেষ্টা করেছিল। কিন্তু তথ্যপ্রমাণ থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, এই যুদ্ধবিমানগুলোর মধ্যে একটি সম্ভবত ভূপাতিত হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
নিখোঁজ পাইলটকে উদ্ধার করতে গিয়ে হামলা শিকার হয়েছে আরেকটি মার্কিন যুদ্ধবিমান। ক্তরাষ্ট্রের দুজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়। শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে ইরান।
দুইজন মার্কিন কর্মকর্তা সিবিএস নিউজকে জানান, ইরানের আকাশে ভূপাতিত একটি মার্কিন যুদ্ধবিমানের ক্রু সদস্যকে উদ্ধারের জন্য চালানো অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানের সময় একটি মার্কিন এ-১০ ওয়ারথগ গুলিবিদ্ধ হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ওয়ারথগটির পাইলট পারস্য উপসাগরের উপর দিয়ে বিমান থেকে বেরিয়ে আসেন এবং তাকে সফলভাবে উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার অভিযানে থাকা দুটি হেলিকপ্টারের একটিতে ছোট অস্ত্র দিয়ে গুলি চালানো হলে কয়েকজন ক্রু আহত হন। তবে সেটি নিরাপদে অবতরণ করতে সক্ষম হয়। অপর পাইলটের সন্ধানে এখনো উদ্ধার অভিযান চলছে।
মার্কিন বিমানবাহিনীর একজন সাবেক প্যারা রেসকিউ জাম্পার কমান্ডার জানিয়েছেন, ইরানে নিখোঁজ মার্কিন যুদ্ধবিমানের ক্রু সদস্যকে খুঁজে বের করতে দ্রুত গতিতে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র। উদ্ধারকাজে যোগ দেবে বিশেষায়িত যুদ্ধকালীন অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী ইউনিট। তারা ‘ব্ল্যাকহক হেলিকপ্টারে’ করে এলাকাটি তন্নতন্ন করে খুঁজবে।
বিবিসির মার্কিন সহযোগী সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাবেক এই কমান্ডার বলেন, যদি উদ্ধারের লক্ষ্যবস্তু এমন কোনো এলাকায় থাকে যেখানে হেলিকপ্টার পৌঁছাতে পারবে না, তাহলে প্যারা রেসকিউয়াররা বিমান থেকে লাফিয়ে পড়বে এবং পায়ে হেঁটে উদ্ধার অভিযান পুনরায় শুরু করবে।
ভূমিতে নামার পর, প্যারা রেসকিউ জাম্পারদের লক্ষ্য থাকে নিখোঁজ ক্রু সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করা, প্রয়োজনে চিকিৎসাগত সহায়তা প্রদান করা, শত্রুকে এড়িয়ে যাওয়া বা প্রতিহত করা এবং এমন একটি স্থানে পৌঁছানো যেখান থেকে তাদের উদ্ধার করা সম্ভব।
কমান্ডার বলেন, তাদের কাজকে ‘ভয়াবহ ও অত্যন্ত বিপজ্জনক’ বললেও কম বলা হবে। তিনি আরো জানান, এই প্যারা রেসকিউয়াররা ‘বিমানবাহিনীর সুইস আর্মি নাইফ’ নামে পরিচিত।
সূত্র: বিবিসি

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার প্রতিবাদে ইরাক ও ইয়েমেনে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। শুক্রবার ইরাকের বাগদাদে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি শিয়া আলেমরাও বিক্ষোভে অংশ নেন।

এছাড়া একইদিন ইয়েমেনের সানায় ইরানের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিক্ষোভ করেন হুথি সমর্থকরা।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় নিহত ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ বর্তমান সর্বোচ্চ নেতার ছবি নিয়ে বিক্ষোভে অংশ নেন তারা। পাশাপাশি অনেকে বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির ছবি হাতে নিয়ে বিক্ষোভে শামিল হন। ইরানের পতাকাও বহন করছিলেন অনেকে।
সূত্র: আল জাজিরা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে গত ২৪ ঘণ্টায় ২০০টিরও বেশি হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস ইন ইরান। যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক এই সংস্থা জানায়, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার ইরানের ওপর অন্তত ২০৬টি হামলা চালানো হয়েছে। এতে অন্তত একজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
এইচআরএএনএর তথ্যমতে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৩টি প্রদেশে এই হামলাগুলো চালানো হয়। তাদের হিসাব অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলায় এক হাজার ৬০৭ জন বেসামরিক নাগরিক, এক হাজার ২১৩ জন সামরিক কর্মী এবং ৭১১ জন এমন ব্যক্তি নিহত হয়েছেন যাদের সামরিক পরিচয় অজানা।
তবে ইরানের স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার পর্যন্ত অন্তত দুই হাজার ৭৬ জন নিহত হয়েছেন।
সূত্র: আল জাজিরা
ইরান এবার যুক্তরাষ্ট্রের এ-১০ ওয়ারথগ মডেলের একটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সেনাবাহিনীর বরাতে জানায়, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে হামলা চালিয়ে হরমুজ প্রণালির কাছে বিমানটি ধ্বংস করা হয়।
এর আগে শুক্রবারই ইরানের ভূখণ্ডে এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল মডেলের আরেকটি মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়।
সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, বিধ্বস্ত এফ-১৫ই বিমানের উদ্ধার অভিযানে একটি এ-১০ ওয়ারথগ অংশ নিয়েছিল এবং সেটিও হামলার মুখে পড়ে। তবে ইরানের দাবি করা বিমানটি এবং সিবিএসের প্রতিবেদনে উল্লেখিত বিমান একই কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এফ-১৫ই বিমানের দুই আরোহীর একজনকে উদ্ধার করতে গিয়ে আরও দুটি মার্কিন বিমান হামলার শিকার হয়। এ সময় এ-১০ যুদ্ধবিমানটির পাইলট সাগরে ঝাঁপ দেন এবং পরে তাকে উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার অভিযানে থাকা দুটি হেলিকপ্টারের একটিতে ছোট অস্ত্র দিয়ে গুলি চালানো হলে কয়েকজন ক্রু আহত হন। তবে সেটি নিরাপদে অবতরণ করতে সক্ষম হয়। অপর পাইলটের সন্ধানে এখনও উদ্ধার অভিযান চলছে।
এদিকে, যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনাকে ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনায় কোনো প্রভাব ফেলবে না বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এনবিসি নিউজ-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “না, মোটেও না। এটা তো যুদ্ধ।”
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানান, ইরানের আকাশে মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার বিষয়ে প্রেসিডেন্টকে বিস্তারিত অবহিত করা হয়েছে।
ইরানের খাতাম আল আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দফতরের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাঘারি জানিয়েছেন, সম্প্রতি একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়া প্রমাণ করছে, যে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি মিথ্যা যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে।
টেলিভিশন ভাষণে জোলফাঘারি জানান, বিমানটি ইরানের “নতুন উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা” ব্যবহার করে ধ্বংস করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, "একটি উন্নত শত্রু বিমান কেশম দ্বীপের দক্ষিণে লক্ষ্য করা হয়েছিল, যা কেশম ও হেংগাম দ্বীপের মধ্যে জলে ধসে পড়ে।"
ঘটনাটি ইরানের সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে ধরা হচ্ছে এবং এটি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বিমান অভিযান ও রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ঘটেছে।
সূত্র: আল জাজিরা
আবুধাবি মিডিয়া অফিসের তথ্যমতে, একটি ব্যর্থ হামলার ধ্বংসাবশেষ থেকে সৃষ্ট আগুনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের হাবশান গ্যাস স্থাপনায় একজন মিশরীয় নাগরিক নিহত হয়েছেন।
এতে আরও বলা হয়েছে যে, আরও চারজন – দুইজন পাকিস্তানি ও দুইজন মিশরীয় – আহত হয়েছেন।
মিডিয়া অফিস জানিয়েছে যে, আগুন এখন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং স্থাপনাটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মাঠপর্যায়ে থাকা আল জাজিরার সংবাদকর্মীরা জানাচ্ছেন, কুয়েতে বিমান হামলার সাইরেন বাজছে।
সূত্র: আল জাজিরা
দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরাইলের উত্তরাঞ্চলের দিকে ৭টি রকেট নিক্ষেপ করা হয়েছে। আলজাজিরা তার মাঠপর্যায়ে কর্মরত সহকর্মীদের সূত্রে এ তথ্য জানিয়েছে।
ইসরাইলের হোম ফ্রন্ট কমান্ড জানিয়েছে, এই রকেট নিক্ষেপের পর নাহারিয়া এবং ওয়েস্টার্ন গ্যালিলির বিভিন্ন এলাকায় সাইরেন বেজে ওঠে।
তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
সূত্র: আলজাজিরা।
ইরানের মেহর সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, ভূপাতিত মার্কিন যুদ্ধবিমানের ক্রুদের খোঁজে পরিচালিত উদ্ধার অভিযানের সময় একটি মার্কিন হেলিকপ্টার প্রজেক্টাইলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বিস্তারিত তথ্য এখনো জানা যায়নি।
সূত্র: আলজাজিরা।
ইরানের ভেতরে একটি মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়ে দুই মার্কিন পাইলট নিখোঁজ রয়েছেন বলে দাবি করেছেন ইরানি গণমাধ্যম। ইতোমধ্যে নিখোঁজ পাইলটকে হাতে পেতে পুরস্কার ঘোষণা করেছে ইরান।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাটি দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে ঘটেছে। ইরানি সূত্রগুলো বলছে, পাইলটরা দুটি পৃথক স্থানে অবতরণ করেছেন এবং তাদের খুঁজে বের করতে যুক্তরাষ্ট্র উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে।
ইরান আরো দাবি করছে, মার্কিন বাহিনী পাইলটদের উদ্ধারে আকাশ থেকে বাহিনী নামার সময় ইরানের স্থলবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছে, যাতে মার্কিন পক্ষের হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
ইতোমধ্যে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, নিখোঁজ পাইলটদের খুঁজে পেতে জনগণের সহায়তা চাওয়া হয়েছে এবং এ জন্য ১০ বিলিয়ন তোমান (প্রায় ৬৪ হাজার ডলার) পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে।
যদি ইরান সত্যিই মার্কিন পাইলটদের আটক করতে সক্ষম হয়, তবে এটি চলমান সংঘাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় ঘোরানো ঘটনা হতে পারে। কারণ, এতে প্রথমবারের মতো এই সংঘাতে মার্কিন যুদ্ধবন্দী থাকবে।
সূত্র: আলজাজিরা।
ইরানের আকাশে একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছে বলে জানিয়েছে একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। অ্যাক্সিওস, রয়টার্স এবং নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এক মার্কিন কর্মকর্তা এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভূপাতিত বিমানের ক্রুদের খুঁজে বের করতে বর্তমানে উদ্ধার অভিযান চলছে। আলাদাভাবে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালও জানিয়েছে, ক্রুদের উদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্র সক্রিয় অভিযান পরিচালনা করছে।
এর আগে ইরানি গণমাধ্যমগুলোও দাবি করেছিল যে একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছে এবং পাইলটকে উদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্র চেষ্টা চালাচ্ছে। যেখানে দাবি করা হয়েছে পাইলট উদ্ধারের মার্কিন অভিযান ব্যর্থ হয়েছে।
সূত্র: বিবিসি।

ইরানের বেসামরিক অবকাঠামো, বিশেষ করে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পানি বিশুদ্ধকরণ স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে তা হবে যুদ্ধাপরাধের শামিল। এমনটা বলে সতর্ক করেছেন হিউম্যান রাইটস ওয়াচের সাবেক প্রধান কেনেথ রথ। খবর আলজাজিরার।
বর্তমানে প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে কাজ করছেন রথ। তিনি আলজাজিরাকে বলেন, ‘যদি ট্রাম্প তার হুমকি অনুযায়ী বিদ্যুৎকেন্দ্র বা ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্টে হামলা চালান, তাহলে তা হবে স্পষ্টভাবে যুদ্ধাপরাধ’
তিনি আরো বলেন, এ ধরনের হামলার কোনো যৌক্তিক সামরিক উদ্দেশ্য খুঁজে পাওয়া কঠিন এবং এতে বেসামরিক জনগণের ক্ষতি হবে ব্যাপক ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানকে ‘প্রস্তর যুগে’ ফিরিয়ে পাঠানোর হুমকির জবাবে অন্যান্য ইরানি কর্মকর্তাদের সাথে যোগ দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি এ হুমকিকে ‘ব্যাপক যুদ্ধাপরাধের ইঙ্গিত’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
এসময় ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাবের সঙ্গে আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে পেজেশকিয়ান বলেন, ‘আমি আমার ফিনিশ সমকক্ষ, যিনি একজন আইনজ্ঞ, তাকে এ বিষয়টি নিয়েই প্রশ্ন করেছি।’
তিনি আরো বলেন, ‘ইতিহাসে এমন বহু উদাহরণ রয়েছে, যেখানে অপরাধের বিরুদ্ধে নীরব থাকার জন্য বড় মূল্য দিতে হয়েছে।’
সূত্র: আলজাজিরা।
ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে তাদের লক্ষ্য করে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করছে।
তবে বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলো শনাক্ত করার পরই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয় এবং সেগুলো প্রতিহত করার চেষ্টা চলছে।
তাৎক্ষণিকভাবে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
সূত্র: আলজাজিরা।

যুক্তরাষ্ট্র খুব সহজেই গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে সক্ষম বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর পাশাপাশি এখান থেকে তেল তুলে বিপুল অর্থ আয় করার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। খবর আলজাজিরার।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘আর একটু সময় পেলেই আমরা সহজেই হরমুজ প্রণালী খুলে দিয়ে তেল তুলে নিতে পারি এবং বিপুল অর্থ আয় করতে পারব।’
তিনি আরো বলেন, ‘এটি পুরো বিশ্বের জন্য এক বিশাল ‘গাশার’ (অর্থাৎ বিপুল তেলের উৎস) হতে পারে।’
সূত্র: আলজাজিরা।
ইরানের সর্বশেষ হামলার প্রেক্ষিতে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে মোট ৬৯টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করেছে বলে জানিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। খবর আলজাজিরার।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবারের ওই হামলায়
সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার সময় ভূপাতিত ধ্বংসাবশেষে অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন।
সরকারি মিডিয়া অফিস জানায়, আহতদের মধ্যে ৭ জন নেপালের নাগরিক, যাদের একজন গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। এছাড়া ভারতের ৫ জন নাগরিকও আহত হয়েছেন।
ঘটনাটি রাজধানীর আজবান এলাকায় ঘটেছে বলে জানা গেছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে আগত ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রতিহত করলেও এর ধ্বংসাবশেষ মাটিতে পড়ে হতাহতের ঘটনা ঘটে।
সূত্র: আলজাজিরা।
ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত নিরসনে চীন ও পাকিস্তানের যৌথ পাঁচ দফা প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছে আফ্রিকান ইউনিয়ন (এইউ)।
আফ্রিকান ইউনিয়ন কমিশনের চেয়ারম্যান মাহমুদ আলী ইউসুফ এক বিবৃতিতে বলেন, চীন ও পাকিস্তানের যৌথভাবে উপস্থাপিত এই উদ্যোগ উপসাগরীয় অঞ্চল ও মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এই পাঁচ দফা প্রস্তাবে তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি, আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধান এবং সমুদ্রপথ পুনরায় চালুর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে জানা গেছে।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এই ধরনের কূটনৈতিক উদ্যোগ সংঘাত প্রশমনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে, বিশেষ করে যখন উত্তেজনা ক্রমাগত বাড়ছে।

ইরানের রাজধানী তেহরানের সঙ্গে কারাজ শহরের সংযোগ স্থাপনের জন্য নির্মাণাধীন গুরুত্বপূর্ণ বি১ সেতুতে বিমান হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই হামলায় অন্তত ৮ জন নিহত এবং ৯৫ জন আহত হয়েছেন।
বি১ সেতুটি দেশের অন্যতম বড়, ব্যয়বহুল এবং সময়সাপেক্ষ অবকাঠামো প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল। এটি তেহরান ও রাজধানীর পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর কারাজের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ স্থাপন করার কথা ছিল।
হামলাটি ঘটে এমন এক সময়, যখন ইরানিরা “ডে অব নেচার” উদযাপন করছিলেন। এদিন সাধারণত পরিবারগুলো ঘরের বাইরে বের হয়ে খোলা স্থানে সময় কাটান। ফলে হামলার সময় আশপাশে অনেক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন, যা হতাহতের সংখ্যা বাড়িয়ে দেয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এটি ছিল একটি “ডাবল-ট্যাপ” হামলা—অর্থাৎ একই লক্ষ্যবস্তুতে পরপর দুটি হামলা চালানো হয়।
এদিকে, কারাজ শহরে শুধু এই সেতুই নয়, সাম্প্রতিক হামলায় জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় গত কয়েক রাত ধরে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঘটনাও ঘটেছে।
সূত্র: আলজাজিরা।
মার্কিন সিনেটর ক্রিস মারফি বলেছেন, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ অভিজ্ঞ জেনারেলদের বরখাস্ত করছেন, কারণ তারা সতর্ক করে দিয়েছিলেন, ‘তার ইরান যুদ্ধ পরিকল্পনা অকার্যকর, বিপর্যয়কর ও প্রাণঘাতী’।
ইরানের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের মধ্যে সেনাপ্রধান র্যান্ডি জর্জসহ জ্যেষ্ঠ মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের অপসারণের পর তিনি এমন মন্তব্য করলেন।
দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট এবং স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেনাবাহিনীর ট্রান্সফরমেশন অ্যান্ড ট্রেনিং কমান্ডের প্রধান জেনারেল ডেভিড হোডনে এবং মেজর-জেনারেল উইলিয়াম গ্রিন জুনিয়রকেও বরখাস্ত করা হয়েছে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই
কুয়েতের একটি বিদ্যুৎ ও পানি পরিশোধন কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে ইরান। আজ শুক্রবার কুয়েতের বিদ্যুৎ ও পানি মন্ত্রণালয় একথা জানায়।
সামাজিকমাধ্যম এক্সে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, ‘কার্যকরী দক্ষতা বজায় রাখতে’ কারিগরি ও জরুরি সেবা দলগুলো কাজ শুরু করেছে।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘বিদ্যুৎ ও পানি ব্যবস্থার নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।’
সূত্র: বিবিসি
ইসরাইলে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৪৮ জন আহত হয়েছেন। আজ শুক্রবার একথা জানিয়েছে ইসরাইলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ছয় হাজার ৫৯৪ জন, যাদের মধ্যে ১২৪ জন বর্তমানে চিকিৎসাধীন। মন্ত্রণালয় আহত হওয়ার কারণগুলোর বিস্তারিত বিবরণ দেয়নি।
কুয়েতের আল আহমাদিতে অবস্থিত কুয়েত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন পরিচালিত একটি তেল শোধনাগার ড্রোন হামলা হয়েছে। কুয়েতের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, আজ শুক্রবার ভোরে কুয়েত সিটি থেকে প্রায় ২৮ মাইল দক্ষিণে অবস্থিত মিনা আল-আহমাদি শোধনাগারে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ড্রোন হামলার ফলে ‘বেশ কয়েকটি অপারেশনাল ইউনিটে’ আগুন লেগে যায়। তবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
ঘটনাস্থলে অগ্নিনির্বাপক দল পাঠানো হয়েছে।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে যেকোনো উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। হরমুজ প্রণালি সুরক্ষিত করার বিষয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে আজ শুক্রবার ভোট হওয়ার কথা রয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, ‘হরমুজ প্রণালি নিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদসহ আগ্রাসনকারী ও তাদের সমর্থকদের যেকোনো উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলবে।’
বাহরাইনের উত্থাপণ করা প্রস্তাবে বাণিজ্যিক জাহাজ রক্ষায় ‘প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা’ গ্রহণের অনুমোদনের কথা বলা হয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা
২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানে এক লাখ ৪০ হাজার বাড়ি ও বাণিজ্যিক ইউনিট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে রেড ক্রিসেন্ট। সংস্থাটি জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় অন্তত ৩১৬টি স্বাস্থ্য, চিকিৎসা ও জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা কেন্দ্র, ৭৬৩টি স্কুল এবং ১৮টি রেড ক্রিসেন্ট কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রেড ক্রিসেন্ট আরো জানায়, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ৬৯৩টি অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানে শনাক্তকারী কুকুর অংশ নেয় এবং কিছু অভিযানে তারা ধ্বংসস্তূপের নিচে আহত মানুষ ও লাশ খুঁজে পায়।
ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে বিমানবন্দর, জ্বালানি কেন্দ্র এবং আবাসিক বাড়িঘরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সূত্র: সিএনএন

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, তিনি উপসাগরীয় অঞ্চলকে স্থিতিশীল করতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাতে প্রস্তুত রয়েছেন। মিশরীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তির সঙ্গে বৈঠকে তিনি একথা বলেন। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে রাশিয়া ও মিসর উভয় দেশই সমানভাবে উদ্বিগ্ন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে যেকোনো ধরনের সাহায্য করতে মস্কো প্রস্তুত বলে জানান পুতিন।
ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে প্রকাশ করা এক বিবৃতিতে জানানো হয়, পুতিন বলেছেন, ‘আমরা সবাই আশা করি যে চলমান সংঘাতের দ্রুত সমাধান হবে। আপনারা জানেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও গতকাল এই বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন। আমি আবারো বলছি, আমরা পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে এবং সবকিছু স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাতে প্রস্তুত।’
সূত্র: আল জাজিরা

হরমুজ প্রণালি সুরক্ষিত করার বিষয়ে বাহরাইনের দেওয়া একটি প্রস্তাবের ওপর আজ শুক্রবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ শুক্রবার ভোট অনুষ্ঠিত হবে। প্রস্তাবটিতে হরমুজ প্রণালি সুরক্ষিত করতে ‘প্রয়োজনীয় সকল প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা’ নেওয়ার অনুমোদন দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার জলপথটি পুনরায় চালু করার বিষয়ে আলোচনা করতে ৪০টিরও বেশি দেশ ভার্চুয়াল বৈঠকে অংশ নেয়।
সূত্র: সিএনএন
লেবাননে হামলা চালিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪০ জনেরও বেশি হিজবুল্লাহ সদস্যকে হত্যা করার দাবি করেছে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী। অন্যদিকে হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবানন ও উত্তর ইসরাইলে বেশ কয়েকটি হামলা চালিয়েছে তারা।
লেবাননের এই সশস্ত্র গোষ্ঠীটি জানায়, তাদের যোদ্ধারা দক্ষিণ লেবাননের বিয়াদায় ইসরাইলি বাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এছাড়া মালকিয়া বসতি এবং দিশোন বসতিতে ইসরাইলি সেনাদের লক্ষ্য করে রকেট হামলা চালানো হয়েছে।
ইসরাইলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, ইরান থেকে দেশটির ভূখণ্ড লক্ষ্য করে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে।
এক বিবৃতিতে তারা জানায়, হামলা প্রতিহত করতে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে এবং আগত ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ভূপাতিত করার চেষ্টা চলছে।
চলমান সংঘাতের মধ্যে এই ধরনের পাল্টাপাল্টি হামলা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পেন্টাগনের শীর্ষ পর্যায়ে বড় ধরনের রদবদলের অংশ হিসেবে মার্কিন সেনাপ্রধান জেনারেল র্যান্ডি জর্জকে দায়িত্ব থেকে বরখাস্ত করেছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) এ তথ্য রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের দুই কর্মকর্তা ও এক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি।
তবে পেন্টাগন আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টিকে ‘অবসর’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ৪১তম আর্মি চিফ অব স্টাফ র্যান্ডি জর্জ ‘অবিলম্বে অবসরে যাচ্ছেন’, যদিও তার মেয়াদের এখনও এক বছরের বেশি সময় বাকি ছিল।
এক বিবৃতিতে পেন্টাগন জেনারেল জর্জের দীর্ঘ কয়েক দশকের সেবার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তার অবসর জীবনের জন্য শুভকামনা জানিয়েছে।
তবে তার এই হঠাৎ বিদায়ের পেছনে নির্দিষ্ট কোনো কারণ জানায়নি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর।
আইআরজিসি দাবি করছে, ইসরাইলের তেল আবিব ও এইলাতের ঘাঁটিগুলোতে নতুন হামলা চালিয়ে তারা ইসরাইলি বাহিনী এবং সামরিক শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে “ধ্বংস” করে দিয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইসরাইল একটি “ভালো টিম প্লেয়ার” এবং তারা “আমি যা বলব, সেটাই করবে।”
টাইম সাময়িকীকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও বলেন, “আমি যখন থামব, ওরাও তখনই থামবে। উসকানি না পেলে তারা লড়াই বন্ধ করবে। তবে উসকানি দিলে তাদের সামনে কোনো পথ থাকবে না। মোদ্দাকথা হলো, আমি থামলে ওরাও থামবে।”
সূত্র: আল–জাজিরা
দুবাই মিডিয়া অফিস আমিরাতে ওরাকলের একটি ডেটা সেন্টারে হামলার বিষয়ে আইআরজিসি-র দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।
আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে এক মাস ধরে বন্ধ থাকার পর ইসরাইলের অফশোর লেভিয়াথান গ্যাসফিল্ডের কার্যক্রম পুনরায় শুরু হচ্ছে। ইসরাইলি জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ তথ্য বলা হয়েছে।
সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেভরন দ্বারা পরিচালিত এই স্থাপনা ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে বন্ধ ছিল।
মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্রের উদ্ধৃতিতে রয়টার্স জানিয়েছে, “পরিস্থিতি মূল্যায়ন এবং সকল প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনার পর এই পর্যায়ে লেভিয়াথান প্ল্যাটফর্মকে পুনরায় কার্যক্রমে ফিরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে যে তারা দুবাইয়ে মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ওরাকল-এর একটি ডেটা সেন্টারে হামলা চালিয়েছে। দেশের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানা গেছে।
এর আগে আইআরজিসি জানিয়েছে, তারা বাহরাইনে অবস্থিত অ্যামাজনের একটি ক্লাউড কম্পিউটিং কেন্দ্রেও হামলা চালিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ইরান যুক্তরাষ্ট্র-সম্পর্কিত প্রযুক্তি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করছে। এর অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত ডেটা সেন্টার ও প্রযুক্তি স্থাপনাগুলোকে “কৌশলগত লক্ষ্য” হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত কয়েক সপ্তাহে অঞ্চলে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করেছে এবং প্রযুক্তি অবকাঠামোর ওপর হামলার ঝুঁকি বেড়েছে, যা বৈশ্বিক ডিজিটাল পরিষেবা ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে।

ইরানে চলমান সংঘাত অব্যাহত থাকলে হরমুজ প্রণালিতে স্থিতিশীলতা ফিরবে না বলে মন্তব্য করেছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়াং ই। সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদের সঙ্গে বৈঠকের সময় তিনি এ কথা বলেন।
ইয়াং ই জানান, ইরানের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং সংঘাত চলতে থাকলে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসবে না। তিনি দ্রুত যুদ্ধবিরতির আহ্বানও জানান।
সূত্র: আলজাজিরা।
লেবাননে ইসরাইলের হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে এখন ১ হাজার ৩৪৫ জনে পৌঁছেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২৭ জন নিহত হয়েছেন।
এ তথ্য জানিয়েছে লেবাননের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই হামলায় মোট ১ হাজার ৩৪৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ৪ হাজার ৪০ জন। নিহতদের মধ্যে ১২৫ জন শিশু ও ৯১ জন নারী রয়েছেন। এছাড়া, শুধু গত একদিনেই ২৭ জন নিহত এবং ১০৫ জন আহত হয়েছেন।
সূত্র: আলজাজিরা।

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) বাহরাইনে অ্যামাজনের একটি ক্লাউড কম্পিউটিং সেন্টারে হামলা চালানোর দাবি করেছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা এ তথ্য জানিয়েছে।
আইআরজিসি এক বিবৃতিতে বলেছে, এই হামলা ‘প্রথম বাস্তব সতর্কবার্তা’ হিসেবে দেওয়া হয়েছে। তারা সতর্ক করে জানায়, যদি পূর্বের সতর্কতা উপেক্ষা করা হয় এবং হামলা বা গুপ্ত হত্যাকাণ্ড অব্যাহত থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে আরো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এছাড়া বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘আমরা যেসব কোম্পানির কথা ইতোমধ্যে ঘোষণা করেছি, তাদের বিরুদ্ধে আরো কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর এসব প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের দায়ভার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের ওপরই বর্তাবে।’
সূত্র: আলজাজিরা।

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে নিজেদের আকাশসীমা ব্যবহারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে অস্ট্রিয়া। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিরপেক্ষতার নীতির কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। খবর আলজাজিরার।
অস্ট্রিয়ার রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম ওআরএফ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে একাধিকবার এ ধরনের অনুরোধ করা হয়েছিল। তবে কতগুলো অনুরোধ এসেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। তবে দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উড়োজাহাজের জন্য সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা দেয়নি; বরং প্রতিটি অনুরোধ আলাদাভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, প্রতিটি অনুরোধ পৃথকভাবে পর্যালোচনা করা হবে এবং এ ক্ষেত্রে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর সঙ্গে বিশ্ব অর্থনীতি এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস। তাদের এই আলোচনায় হরমুজ প্রণালীর বর্তমান পরিস্থিতি বিশেষ গুরুত্ব পায়।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ বৈঠকের সারসংক্ষেপ জানিয়ে কাজা কালাস লেখেন, ‘বেসামরিক জাহাজের ওপর ইরানের হামলা এবং অন্যান্য হুমকির কারণে হরমুজ প্রণালিতে নৌ-চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এ কারণেই আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন অনুযায়ী এই প্রণালিতে নিরাপদ ও শুল্কমুক্ত জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনা এখন আমাদের জরুরি অগ্রাধিকার।’

হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে আগামী সপ্তাহে বৈঠকে বসতে যাচ্ছে বিশ্বের শীর্ষ অর্থনৈতিক জোট জি৭ এবং উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি)।
ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র পাসকাল কনফাভ জানিয়েছেন, এই বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের নিরাপত্তা ও চলমান উত্তেজনা নিয়ে আলোচনা করা হবে।
বর্তমানে জি৭-এর সভাপতিত্ব করছে ফ্রান্স, এবং তাদের উদ্যোগেই এই বৈঠকের আয়োজন করা হচ্ছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন রুট হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি ঘিরে সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সূত্র: আলজাজিরা।
ইরানের বিদ্যুৎ স্থাপনা ও লবণাক্ত পানি পরিশোধন কেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলার হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্ভাব্য এই হামলাকে ‘স্পষ্ট যুদ্ধাপরাধ’ বলে সতর্ক করেছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো।
মার্কিন সাবেক যুদ্ধাপরাধবিষয়ক রাষ্ট্রদূত স্টিফেন জে. র্যাপ বলেছেন, পানি লবণমুক্তকরণ (ডেসালিনেশন) প্ল্যান্টে হামলা ‘নিশ্চিতভাবেই যুদ্ধাপরাধ—এ বিষয়ে খুব বেশি সন্দেহ নেই।’
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংগঠন কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (সিএআইআর) ওয়াশিংটনকে যুদ্ধ বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার জন্য কংগ্রেসকে আহ্বান জানিয়েছে। এছাড়াও দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ তদন্তেরও আহ্বাস জানায় সিএআইআর।
সূত্র: আলজাজিরা।

ইরানে চলমান সংঘাতের মধ্যে দেশটির স্বাস্থ্য খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ইরানের রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর এখন পর্যন্ত অন্তত ৩১৬টি হাসপাতাল, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ও চিকিৎসা স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।
এর মধ্যে সম্প্রতি শতবর্ষী চিকিৎসা গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘পাস্তুর ইনস্টিটিউট অব ইরান’ও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে বলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত অন্যান্য স্থাপনার মধ্যে রয়েছে তেহরানের পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত টোভাফোগ-এ দারু ফার্মাসিউটিক্যাল গবেষণা ও উৎপাদন প্রতিষ্ঠান, তেহরানের গান্ধী হাসপাতাল এবং কেরমানশাহ অঞ্চলের ফারাবি হাসপাতাল ও মেডিকেল সেন্টার।
এই পরিস্থিতিতে দেশটির স্বাস্থ্যব্যবস্থা মারাত্মক চাপের মুখে পড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
সূত্র: আলজাজিরা।

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন স্থাপনায় তাদের সাম্প্রতিক হামলা একটি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবে দেওয়া হয়েছে।
ইরানি গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি দাবি করেছে, সপ্তাহের শেষে মার্কিন হামলার জবাবে তারা সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে যুক্তরাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট ইস্পাত কারখানা এবং বাহরাইনের অ্যালুমিনিয়াম স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘এই হামলাগুলো একটি সতর্কবার্তা। যদি ইরানের শিল্পখাতে আবারো হামলা করা হয়, তাহলে পরবর্তী জবাব হবে আরো কঠোর।
সূত্র: আলজাজিরা।

সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বৃহস্পতিবার ১৯টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২৬টি ড্রোন প্রতিহত করেছে।
দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক আপডেটে এ তথ্য জানায়।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, চলমান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ইউএই মোট ২,০৩৮টি ড্রোন, ১৯টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৪৫৭টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলা করেছে।
সূত্র: আলজাজিরা।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে নতুন জ্বালানি রুট চালু করেছে ইরাক। দেশটি সিরিয়া হয়ে স্থলপথে ইউরোপে তেল রপ্তানি পুনরায় শুরু করেছে, যা আঞ্চলিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইরাকের রাষ্ট্রীয় তেল বিপণন সংস্থা এসওএমও-এর মহাপরিচালক আলি নজর জানান, প্রতিদিন ৫০ হাজার ব্যারেল ‘বাসরা মিডিয়াম’ অপরিশোধিত তেল সিরিয়ার মাধ্যমে রপ্তানির জন্য একটি চুক্তি হয়েছে। ভবিষ্যতে এই পরিমাণ আরো বাড়ানো হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এই তেল সিরিয়ার বানিয়াস বন্দরের মাধ্যমে ইউরোপের বাজারে পৌঁছাবে।
সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সানা জানায়, আল-তানফ সীমান্তপথ দিয়ে ইতোমধ্যে জ্বালানি বহনকারী ট্রাক বহর দেশটিতে প্রবেশ শুরু করেছে। এতে সিরিয়া আবারও একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট হাব হিসেবে ভূমিকা রাখতে শুরু করেছে বলে উল্লেখ করা হয়।
সিরিয়ান পেট্রোলিয়াম কোম্পানি জানিয়েছে, এসব তেল প্রথমে সংরক্ষণ করা হবে, পরে বানিয়াস বন্দরে পাঠিয়ে রপ্তানি করা হবে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই।

ইরানে ইসলামি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ৪৭তম বার্ষিকী পালনের মধ্যেই প্রতিরোধের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন হাজারো শোকাহত মানুষ। তেহরানে গতকাল ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) এক নৌ-কমান্ডারের জানাজায় অংশ নিয়ে তারা এই প্রতিশ্রুতি দেন। ওই কমান্ডার ইসরাইলের এক হামলায় নিহত হন বলে জানা গেছে।
এই শোকমিছিলটি এমন সময় অনুষ্ঠিত হয়, যখন দেশটি ১৯৭৯ সালের ১ এপ্রিল প্রতিষ্ঠিত ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বার্ষিকী উদযাপন করছে। ওই বিপ্লবের মাধ্যমে প্রায় আড়াই হাজার বছরের রাজতান্ত্রিক শাসনের অবসান ঘটে।
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া ৫৭ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত মুসা নওরুজি বলেন, ‘এই যুদ্ধ এক মাস ধরে চলছে। যতদিনই লাগুক, আমরা লড়াই চালিয়ে যাব। আমরা শেষ পর্যন্ত প্রতিরোধ করব।’
যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর সতর্কবার্তার মধ্যেও ইরানিদের এমন অবস্থান দেশটির চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে দেশবাসীর দীর্ঘ লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

হরমুজ প্রণালিতে পুনরায় চালু করতে সামরিক শক্তি ব্যবহারের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। তিনি বলেছেন, এমন পদক্ষেপ অবাস্তব এবং ঝুঁকিপূর্ণ।
বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কোরিয়া সফরকালে ম্যাক্রোঁ সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে জলপথটি সুরক্ষিত করার প্রস্তাবগুলোর বিরোধিতা করেন, যা কখনও কখনও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও উত্থাপন করে থাকে।
তিনি বলেন, ‘কিছু লোক সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে হরমুজ প্রণালী মুক্ত করার ধারণা দেয়, যা যুক্তরাষ্ট্রও কখনও কখনও বলেছে, যদিও তাদের অবস্থান পরিবর্তিত হয়েছে।’
ম্যাক্রোঁ আরো বলেন, ‘এটি এমন একটি বিকল্প যা আমরা কখনও সমর্থন করিনি, কারণ এটি অবাস্তব।’ তিনি সতর্ক করে দেন, এ ধরনের পদক্ষেপ দীর্ঘস্থায়ী ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন রুট হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে ফ্রান্স শান্তিপূর্ণ ও কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিচ্ছে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই।

দক্ষিণ লেবাননে আকাশ, স্থল ও সমুদ্রপথে সমন্বিত হামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৪০ জন হিজবুল্লাহর যোদ্ধাকে হত্যার দাবি করেছে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)।
বৃহস্পতিবার আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে আইডিএফ জানায়, তারা গত এক দিনে হিজবুল্লাহর সামরিক স্থাপনাসহ বিভিন্ন অবকাঠামো লক্ষ্য করে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে।
এসব হামলায় দেশটির অস্ত্রের গুদাম ও রকেট উৎক্ষেপণ কেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি স্থাপনা ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করেছে আইডিএফ।
আকাশ, স্থল ও সমুদ্রপথে সমন্বিত এই অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪০ জনের বেশি হিজবুল্লাহ সদস্য নিহত হয়েছেন বলে দাবি করছে সংস্থাটি। তবে এই দাবির বিষয়ে হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

ইরানে মার্কিন-ইসরাইলের আগ্রাসী হামলা এবং এর জবাবে ইরানের পাল্টা হামলা মধ্যপ্রাচ্যে এক জটিল পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। ইতোমধ্যে পাকিস্তান, তুরস্কসহ বেশ কয়েকটি দেশই সংঘাত নিরসনে জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছে। এমন প্রেক্ষাপটে রাশিয়া জানিয়েছে, ইরানে সংঘাত সমাধানে তারা কাজ করতে প্রস্তুত।
বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, ইরান সংঘাত সমাধানে অবদান রাখতে প্রস্তুত রাশিয়া এবং প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আঞ্চলিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রেখেছেন।
পেসকভ বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট পুতিন এই যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন এবং কোনোভাবে যদি আমাদের সাহায্যের প্রয়োজন হয়, তাহলে সামরিক পরিস্থিতি যত দ্রুত সম্ভব একটি শান্তিপূর্ণ পথে ফিরে আসে, তা নিশ্চিত করতে আমরা অবশ্যই আমাদের অবদান রাখতে প্রস্তুত।’
সূত্র: আলজাজিরা।
ইরানের বেসামরিক ও ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলোতে হামলার কারণে ক্ষয়ক্ষতি বাড়ছে। ইরানের রাজধানী তেহরানের কেন্দ্রস্থলে শতাব্দী প্রাচীন একটি চিকিৎসা গবেষণা কেন্দ্রে হামলার শিকার হয়েছে । দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হোসেইন কেরমানপুর জানান, এই হামলায় পাস্তোর ইনস্টিটিউট অব ইরানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গবেষণা কেন্দ্রটি ১৯২০ সালে চালু হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে হোসেইন কেরমানপুর একে ‘বৈশ্বিক স্বাস্থ্য খাতের শতাব্দী পুরানো স্তম্ভে হামলা’ বলে উল্লেখ করেছেন।
এদিকে ইরানের সংস্কৃতি ও পর্যটন মন্ত্রী রেজা সালেহি আমিরি বলেছেন, এই ধরনের হামলা কোনো ধরণের আইনি ভিত্তি ছাড়াই সরাসরি ইরানের পরিচয়ের ওপর একটি ‘পরিকল্পিত ও সচেতন আক্রমণের’।
ইসরাইলের সাম্প্রতিক পাস করা মৃত্যুদণ্ড আইনকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। পাকিস্তান, তুরস্ক, মিশর, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডান, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ আটটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা যৌথভাবে এই আইনের নিন্দা জানিয়েছেন।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইসরাইলি পার্লামেন্ট একটি একতরফা বিল পাস করে, যেখানে ‘সন্ত্রাস’মূলক’ ইসরাইলিদের হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত ফিলিস্তিনিদের জন্য মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। তবে একই ধরনের অপরাধে দোষী ইহুদি ইসরাইলেরদের ক্ষেত্রে এই শাস্তি প্রযোজ্য হবে না।
সূত্র : আল-জাজিরা
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরান যদি ওয়াশিংটনের শর্ত মেনে না চলে, তাহলে তিনি ইরানকে ‘প্রস্তর যুগে’ ফিরিয়ে দিতে বোমা নিক্ষেপ করবেন। যুদ্ধটি বর্তমানে পঞ্চম সপ্তাহে প্রবেশ করেছে।
সাধারণভাবে এই বাক্যাংশ কার্পেট বোমাবর্ষণের বিষয়টি বুঝায়। যা একটি দেশকে এমনভাবে ধ্বংস করতে পারে যে আধুনিক সভ্যতার কোনো অবকাঠামো , হাসপাতাল, স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্প, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, হোটেল, আকাশচুম্বী ভবন বা পার্ক কোনোকিছুই অবশিষ্ট থাকে না।
যেমনটি আমেরিকার মিত্র ইসরাইল গাজায় বেশিরভাগ সময় ধরে করে আসছে। এটি আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী গণহত্যা।
কিন্তু এমন হুমকি বা যুক্তরাষ্ট্রের কার্পেট বোমাবর্ষণের ইচ্ছা নতুন কিছু নয়।
বস্তুত, ‘একটি দেশকে প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে বোমাবর্ষণ করা’ এই বাক্যাংশটি সাধারণত প্রথম ব্যবহার করেছেন কার্টিস এমারসন লেমে। যিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানের শহরগুলি ধ্বংসের তত্ত্বাবধান করেছিলেন।
১৯৫০-এর দশকের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন বাহিনী উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে কার্পেট বোমাবর্ষণ চালায়, যার ফলে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৯৫ শতাংশ এবং ভবনের ৮০ শতাংশের বেশি ধ্বংস হয়।
এরপর লিমে তার স্মৃতিকথায় যুক্তরাষ্ট্রকে ভিয়েতনামকে ‘প্রস্তর যুগে’ ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য বোমাবর্ষণ করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। ১৯৭২ সালে রিচার্ড নিক্সন উত্তর ভিয়েতনামের কার্পেট বোমাবর্ষণের নির্দেশ দেন। যা আমেরিকান জনগণের কাছে ‘ক্রিসমাস বোমা অভিযান’ হিসেবে তুলে ধরা হয়।
সেপ্টেম্বর ১১-এর হামলার পরে যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানকে ‘প্রস্তর যুগে’ ফিরিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়।
সূত্র : আল-জাজিরা
ইরানের আকাশসীমায় ইসরাইলি হার্মাস ৯০০ ড্রোন ’ ধ্বংস করার দাবি করেছে দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) ইরানি গণমাধ্যমে প্রচারিত আইআরজিসি-র এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
‘হার্মাস ৯০০’হলো ইসরাইলের তৈরি অত্যন্ত উন্নত মাল্টি-রোল ড্রোন, যা মূলত নজরদারি এবং গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের কাজে ব্যবহৃত হয়।
আইআরজিসি-র পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যুদ্ধের শুরু পর থেকে ১৫০‑এর বেশি এ ধরনের ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।
সূত্র : আল-জাজিরা
ইরানে যুদ্ধরত সব পক্ষকে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়। আগামী সপ্তাহগুলোতে ইরানে আরো বড় পরিসরে হামলা চালানোর বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির পর চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং এ আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে মাও বলেন, ‘সামরিক উপায়ে সমস্যার মৌলিক সমাধান করা যায় না এবং সংঘাতের তীব্রতা বৃদ্ধি কোনো পক্ষেরই স্বার্থ রক্ষা করে না।’
তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালির অস্থিরতার মূল কারণ হলো এই জলপথে অবৈধ সামরিক কার্যকলাপ। তিনি আরো বলেন, পক্ষগুলোকে অবশ্যই বিশ্ব অর্থনীতি এবং জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর আরো গুরুতর প্রভাব এড়ানোর চেষ্টা করতে হবে।
সূত্র: আল জাজিরা
ইরানের ওপর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যৌথভাবে হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল। ওই দিন থেকেই পাল্টা জবাব দিতে শুরু করে ইরানও। এভাবেই টানা ৩৪তম দিনের যুদ্ধে তেহরানে ৩৩ হাজার বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) তেহরান মেয়রের মুখপাত্র আব্দুলমোহর মোহাম্মদখাহানি এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত ৪ হাজারের বেশি আবাসিক ইউনিটে মেরামত শুরু হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত আবাসন ইউনিটগুলোর গ্লাস, দরজা এবং জানালা বদলের মতো ছোটখাটো কাজ থেকে শুরু করে বড় কাজের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, ১ হাজার ৮৬৯টি পরিবার এখন বাসস্থানের সমস্যায় পড়েছে। প্রায় ১ হাজার ২৪৫ পরিবারকে ২৩টি আবাসিক কমপ্লেক্সে স্থানান্তর করা হয়েছে।
সূত্র : আল-জাজিরা
ইরানকে দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে কোনো চুক্তিতে সম্মত হতে হবে, নাহলে তাদের সমস্ত বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালানো হবে ট্রাম্পের এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে ইরান।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এই বিবৃতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সর্তক করে বলেন, ‘আমরা যুদ্ধ, আলোচনা, অস্ত্রবিরতি এবং তারপর আবার একই যুদ্ধ, আলোচনা, অস্ত্রবিরতির এই ঘৃণ্য চক্র সহ্য করব না। এই চলমান সংঘাতকে শুধু ইরানের জন্য নয়, মধ্যপ্রাচ্যের সমগ্র অঞ্চল ও তার বাইরে জন্যও বিপর্যয়কর।’
তিনি বলেন, ইরান যতক্ষণ পর্যন্ত মার্কিন-ইসরাইলি হামলা চলছে, ততক্ষণ পর্যন্ত প্রতিরোধ চালিয়ে যাবে।
তিনি আবারো মনে করিয়ে দেন তেহরান গালফ অঞ্চলের প্রতিবেশীদের শত্রু মনে করে না
তিনি বলেন, আমরা বারবার বলেছি, আমরা তাদের সাথে সুপ্রতিবেশী সম্পর্ক বজায় রাখতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। সমস্যা হলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল তাদের ভূখণ্ডকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসণ চালানোর জন্য ব্যবহার করছে।
তিনি আরো বলেন, এটি ইরানি জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া একটি অন্যায় যুদ্ধ। আমাদের একমাত্র বিকল্প হলো শক্তিশালীভাবে প্রতিরোধ চালানো।
সূত্র : আল-জাজিরা
ইরান যুদ্ধকে যুক্তরাষ্ট্রের শিশু ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ‘একটি সত্যিকারের বিনিয়োগ’ বলে দাবি করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, সামরিক শক্তি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র অপ্রতিরোধ্য। বুধবার ইরান যুদ্ধ নিয়ে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।
একইসাথে বিশ ও একুশ শতকের যুদ্ধের সময়কাল উল্লেখ করে বলেন, সেগুলো বছরের পর বছর চলেছে, কিন্তু এই সংঘাত মাত্র ৩২ দিন ধরে চলছে।
ট্রাম্প বলেন, ইরানের আগ্রাসন এবং ‘পারমাণবিক ব্ল্যাকমেইলের আতঙ্ক’ থেকে এখন আর মার্কিনিরা হুমকির মধ্যে নেই এবং যুক্তরাষ্ট্র আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় ‘আরো নিরাপদ, আরো শক্তিশালী, আরো সমৃদ্ধ হবে’।
এর মধ্য দিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার বক্তব্য শেষ করেন।
মোটাদাগে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার ১৯ মিনিটের পুরো বক্তৃতাজুড়ে ইরান যুদ্ধের প্রয়োজনীয়তা আর যুক্তরাষ্ট্রের সাফল্যের বিষয়টিই তুলে ধরেছেন।
কিন্তু ট্রাম্পের ভাষণে যুদ্ধের বিষয়ে কোনো ‘স্পষ্ট পরিকল্পনা’ ছিল না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মেলিসা তৌফানিয়ান বিবিসিকে বলেন, ট্রাম্পের ভাষণের পর যুক্তরাষ্ট্রের দর্শকরা সম্ভবত ইরান যুদ্ধ নিয়ে ‘আরো বেশি বিভ্রান্ত’ হয়েছেন।
সূত্র: বিবিসি বাংলা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যের কয়েক মিনিটের মধ্যেই ইসরাইলের দিকে ৩০টিরও বেশি রকেট নিক্ষেপ করেছে হিজবুল্লাহ।
চ্যানেল ১২ সম্প্রচার মাধ্যম জানিয়েছে, লেবানন থেকে নিক্ষেপিত রকেটের পর গালিলিয় অঞ্চলের একটি বসতি থেকে ধোঁয়া দেখা যায়। কয়েক মিনিটের মধ্যে ওই অঞ্চলে ৩০টিরও বেশি রকেট নিক্ষেপ করা হয়েছে।
এই হামলা গত এক ঘণ্টায় গালিলিয় অঞ্চলে দ্বিতীয় এই ধরনের আক্রমণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
সূত্র : আল-জাজিরা
ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলো আগামী ২৪–৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রাজধানী বাগদাদে হামলা চালাতে পারে এমন আশঙ্কায় নিজ নাগরিকদের ইরাক ত্যাগ করতে বলেছে যুক্তরাষ্ট্র।
ইরাকে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে- ‘মার্কিন নাগরিক, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়, কূটনৈতিক স্থাপনা, জ্বালানি অবকাঠামো, হোটেল, বিমানবন্দর এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সংশ্লিষ্ট বলে মনে করা হয় এমন অন্যান্য স্থান, পাশাপাশি ইরাকি প্রতিষ্ঠান ও বেসামরিক লক্ষ্যবস্তু’।
দূতাবাস আরো জানিয়েছে, সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে দুই দিন আগে বাগদাদে এক মার্কিন সাংবাদিক অপহৃত হওয়ার পর মিলিশিয়ারা ‘আমেরিকানদের অপহরণের জন্য লক্ষ্যবস্তু করেছে’।
সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, ‘মার্কিন নাগরিকদের এখনই ইরাক ত্যাগ করা উচিত।’
সূত্র : আল-জাজিরা
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক শীর্ষ সন্ত্রাসবিরোধী কর্মকর্তা জো কেন্ট মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে যত দ্রুত সম্ভব এই যুদ্ধ শেষ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
ট্রাম্পের জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণের প্রতিক্রিয়ায় তিনি এক্স (সাবেক টুইটার)-এ লিখেছেন: ‘আমরা আমাদের শহীদদের সম্মান জানাই অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে এবং শুধুমাত্র আমাদের দেশের প্রতিরক্ষার জন্যই আমেরিকানদের রক্ত ঝরিয়ে। কোনো ‘পছন্দের যুদ্ধ’ থেকে বেরিয়ে আসার সেরা সময় এখনই, এর আগে যে আমরা আরো জীবন হারাই।’
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে বিজয় ঘোষণা করতে পারে, তবে সেটি সম্ভব হবে তখনই যদি ট্রাম্প ইসরাইলকে নিয়ন্ত্রণে রাখেন।
তিনি আরো বলেন, ইসরাইল চায় আমরা দীর্ঘমেয়াদে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকি, কিন্তু আমরা চাই দ্রুত যুদ্ধের অবসান। আমাদের লক্ষ্য ইসরাইলের থেকে অনেক ভিন্ন, তাই সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ নিতে হবে।
জো কেন্ট জাতীয় সন্ত্রাসবিরোধী কেন্দ্রের পরিচালক হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন। এটি একটি মার্কিন সংস্থা, যা সন্ত্রাসবিরোধী গোয়েন্দা তথ্য সমন্বয় ও বিশ্লেষণের দায়িত্বে নিয়োজিত। ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরে প্রথম উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে তিনি পদত্যাগ করেছেন।
সূত্র : আল-জাজিরা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যের কয়েক মিনিটের মধ্যেই ইসরাইলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে হিজবুল্লাহ ।
চ্যানেল ১২ সম্প্রচার মাধ্যম জানিয়েছে, উত্তরাঞ্চলীয় শহর মেতুলাতে হামলা হয়েছে। কিছু রকেট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্বারা প্রতিহত করা হয়েছে, আর কিছু খোলা এলাকায় পড়েছে।
সূত্র : আল-জাজিরা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম মুসলিম নাগরিক অধিকার ও অ্যাডভোকেসি সংগঠন কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (সিএআইআর)
সংগঠনটি ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘মুসলিমবিরোধী, বর্ণবাদী এবং মানবতাবিরোধী’ বলে আখ্যা দিয়েছে।
ইরানকে ‘প্রস্তর যুগে’ পাঠানো ট্রাম্পে হুমকির প্রতিবাদে তারা এ আখ্যা দেন।
সংগঠনটি এক্স (সাবেক টুইটার)-এ এক পোস্টে ‘বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে এই যুদ্ধ বন্ধে আইনপ্রণেতাদের পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
তারা বলেন, ইসরাইলের উসকানিতে ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রকে একটি অবৈধ আগ্রাসী যুদ্ধে জড়াতে দিয়েছে, যা আমেরিকান জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে।
একটি ওয়ার পাওয়ারস রেজোলিউশন পাস, উত্তেজনা বাড়ানোর জন্য অর্থায়ন বন্ধ করতে এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে অবিলম্বে যুদ্ধাপরাধের তদন্ত শুরু করতে বিবৃতিতে আহ্বান জানানো হয়।
সূত্র : আল-জাজিরা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য সম্ভাব্য সংকট সমাধানের সকল পথ নষ্ট করে দিয়েছে। বিন্দুমাত্র আশা জাগাতে পারেনি তার বক্তব্য। বরং উসকে দিয়েছে আরো। এর ফলে এশিয়ার শেয়ারবাজারে বড় পতন হতে শুরু করেছে।
এমএসসিআই-এর এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বিস্তৃত শেয়ার সূচক প্রায় ০.৭৫ শতাংশ কমেছে তার বক্তব্যের পরই।
এর আগে, ইরান অস্বাভাবিক পদক্ষেপ হিসেবে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে একটি চিঠি পাঠিয়েছিল। যেখানে তারা জানায়, আমেরিকার সাথে তাদের কোনো শত্রুতা নেই, তারা আত্মরক্ষার জন্য পদক্ষেপ নিচ্ছে। এই পদক্ষেপ আমেরিকার জন্য উত্তেজনা কমানোর একটি সুযোগ তৈরি করেছিল, যার ফলে আগের রাতে ওয়াল স্ট্রিটের শেয়ারবাজারে উত্থান দেখা গিয়েছিল।
কিন্তু এখন বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি থেকে সরে আসছে এবং বাজারে আবারো অনিশ্চয়তা বাড়ছে। বিশেষ করে জ্বালানি খাতে দাম আবার বাড়তে শুরু করেছে। ব্রেন্ট ক্রুড অয়েল বর্তমানে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০৪ ডলারে লেনদেন হচ্ছে, যা এর আগে গুরুত্বপূর্ণ ১০০ ডলারের নিচে নেমে গিয়েছিল। সব মিলিয়ে, বাজারে আবারো অনিশ্চয়তা দেখা যাচ্ছে।
তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, গত কয়েক দিনে-বিশেষ করে গতকাল এশিয়ার বাজারে যে রেকর্ড উত্থান দেখা গেছে তা থেকে বোঝা যায়, যদি কোনো সমাধান আসে, তাহলে বাজার খুব দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পারে।
সূত্র : আল-জাজিরা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে ইরান যুদ্ধের উদ্দেশ্য নিয়ে স্পষ্টতা চেয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যের পর চলমান উত্তেজনা কমানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।
ক্যানবেরায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট যে লক্ষ্যগুলো সামনে রেখে এই পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, সেগুলোর অধিকাংশই পূরণ হয়েছে। আমরা এখন পরিস্থিতির অবসান এবং উত্তেজনা কমতে দেখতে চাই।’
তিনি আরো বলেন, ‘এখন প্রশ্ন হলো—আর কী অর্জনের বাকি আছে, এই সংঘাতের শেষ কোথায় বা এর পরিণতি কী? এটি স্পষ্ট নয়। তবে একটি বিষয় পরিষ্কার, যুদ্ধ যত দীর্ঘায়িত হবে, বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর এর প্রভাব ততই বাড়বে।’
উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই সংঘাতের ফলে জ্বালানি বাজারসহ বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতা বেড়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যের কয়েক মিনিটের মধ্যেই ইসরাইলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান ।
চ্যানেল ১২ সম্প্রচার মাধ্যম জানিয়েছে, আসন্ন এই হামলার কারণে উত্তর ইসরাইলজুড়ে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে উঠেছে এবং ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর মধ্যে অন্তত একটি ছিল ফ্র্যাগমেন্টেশন ওয়ারহেড বহনকারী।
সূত্র : আল-জাজিরা
আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহ ইরানের ওপর তীব্র আঘাত হানার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার রাতে হোয়াইট হাউস থেকে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প এই হুমকি দেন।
তিনি বলেন, ‘ইরানে হয়তো তাদের ‘কাজ শেষ করতে’ আর দুই থেকে তিন সপ্তাহ লাগবে।’
ট্রাম্প বলেন, ‘আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহ আমরা ইরানের ওপর কঠোর আঘাত হানব। আমরা তাদের প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে নিয়ে যাব, যেখানে তাদের থাকা উচিত।’
তার দাবি, ‘গত চার সপ্তাহে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী যুদ্ধক্ষেত্রে দ্রুত, সিদ্ধান্তমূলক এবং অপ্রতিরোধ্য জয় অর্জন করেছে।’ ইরান যুদ্ধ শেষ হলে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি স্বাভাবিকভাবেই আবার খুলে যাবে বলে দাবি করেন ট্রাম্প।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হরমুজ প্রণালির প্রয়োজন নেই, তবে বিশ্বের অন্যান্যদের প্রয়োজন আছে। বুধবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি একথা বলেন। সেইসঙ্গে মিত্র দেশগুলোকে হরমুজ প্রণালি দখলে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ভাষণে ট্রাম্প বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রায় কোনো তেলই আমদানি করে না এবং ভবিষ্যতেও করবে না। আমাদের এর প্রয়োজন নেই।’
যুক্তরাষ্ট্র যে তেল ও গ্যাস উৎপাদনে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয়, তা উল্লেখ করে প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, যুদ্ধের কারণে যে সরবরাহ সংকট সৃষ্টি হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে তার কোনো প্রভাব পড়েনি।
তিনি বলেন, ‘বিশ্বের যে দেশগুলো হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল আমদানি করে, তাদের অবশ্যই সেই পথের বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে… আমরা সাহায্য করব, কিন্তু যে তেলের ওপর তারা মরিয়া হয়ে নির্ভরশীল, তা রক্ষায় তাদেরই নেতৃত্ব দেওয়া উচিত।’ একইসাথে তিনি ঘাটতির সম্মুখীন দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল কেনার পরামর্শ দেন।
ট্রাম্প আরো দাবি করেন, যুদ্ধ শেষ হলেই প্রণালিটি আবার খুলে যাবে এবং ‘গ্যাসের দাম দ্রুত কমে আসবে’।
ইরান যুদ্ধ নিয়ে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ডেমোক্র্যাটিক পার্টির কংগ্রেস সদস্যরা সামাজিকমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ট্রাম্পের ভাষণের তীব্র নিন্দা করেছেন।
তাদের মধ্যে কয়েকজনের বক্তব্যে দেওয়া হলো:
ইরানকে ‘প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার’ বিষয়ে ট্রাম্পের দেওয়া হুমকির তীব্র সমালোচনা করেছেন কংগ্রেস সদস্য ইয়াসামিন আনসারি। তিনি বলেন, ৯০ মিলিয়ন মানুষের একটি দেশ সম্পর্কে ট্রাম্পের এমন হুমকি ‘জঘন্য, ভয়ঙ্কর ও অশুভ’ ।
কংগ্রেস সদস্য জিম হাইমস বলেছেন, ট্রাম্পের ভাষণ শেষ হওয়ার পর এক ঘণ্টার মধ্যে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৫ ডলার বেড়েছে। হাইমস আরো বলেন, ‘ট্রুথ সোশ্যালে আজ রাতটা উত্তাল হতে চলেছে। আর তিনি কী বলেছেন, তা নিয়ে আমি এখনো নিশ্চিত নই।’
সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেন বলেন, দুই সপ্তাহেরও বেশি আগে যখন ট্রাম্প বলেছিলেন ‘আমরা জিতেছি’, তখন তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে মিথ্যা বলেছিলেন। ভ্যান হোলেন বলেন, ‘এই বিভ্রান্ত লোকটি আমাদের দেশ এবং বিশ্বের জন্য বিপদজ্জনক।’
কংগ্রেসম্যান লয়েড ডগেট বলেছেন, ট্রাম্পের ভাষণ থেকে ‘সবচেয়ে বড় মিথ্যা’ কোনটি তা বেছে নেওয়া কঠিন, তবে যুক্তরাষ্ট্রে ‘কোনো মুদ্রাস্ফীতি নেই’—তার এই দাবিটিই হয়তো বিজয়ী হতে পারে।
ইরানের নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী ধ্বংস হয়ে গেছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এমন দাবি করেন। তিনি বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ও ড্রোন হামলার সক্ষমতা নাটকীয়ভাবে কমেছে।
ভাষণে ইরান যুদ্ধে অংশ নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদেশ বিশেষ করে ইসরাইল ও উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোকে ধন্যবাদ জানান ট্রাম্প। তিনি বলেন, তারা অসাধারণ কাজ করেছে। আমরা কোনোভাবেই তাদের ব্যর্থ হতে দেব না।

সিরিয়ার স্থলপথ ব্যবহার করে এক দশকেরও বেশি সময় পর আবারও তেল রপ্তানি শুরু করেছে ইরাক। জাতীয় অর্থনীতিকে গতিশীল করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গতকাল বুধবার ইরাক থেকে জ্বালানি তেলের প্রথম বহরটি সিরিয়ার আল-তানফ ও আল-ওয়ালিদ সীমান্ত ক্রসিং দিয়ে দেশটিতে প্রবেশ করে। সিরিয়ান পেট্রোলিয়াম কোম্পানি জানিয়েছে, প্রথম বহরে ২৯৯টি ট্যাঙ্কার রয়েছে, যেগুলোতে পরিশোধিত জ্বালানি তেল বহন করা হচ্ছে।
এই তেল সিরিয়ার ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলে অবস্থিত বানিয়াস শোধনাগারে নেওয়া হবে। সেখানে প্রক্রিয়াজাত করার পর তা রপ্তানির জন্য প্রস্তুত করা হবে।
এক দশকের বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকার পর এই রুটটি পুনরায় চালু করা হলো। ইরাকের তেল মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তেল নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে সিরিয়া সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে। পাশাপাশি দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী করতে ধাপে ধাপে রপ্তানির পরিমাণ আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির ফলে পারস্য উপসাগরের জলপথ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় ইরাক বিকল্প হিসেবে এই স্থলপথ ব্যবহার শুরু করেছে। সূত্র: আল–জাজিরা ও শিনহুয়া
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জাতির উদ্দেশে দেওয়া সংক্ষিপ্ত ভাষণে চারটি পরিচিত বিষয় পুনর্ব্যক্ত করেছেন: যুদ্ধ প্রয়োজনীয়, এটি ইতিমধ্যেই তারা জিতেছে, এটি চলবে, এবং শিগ্রই শেষ হবে। এসব বক্তব্য তিনি প্রতিদিনই প্রদান করছেন।
যুদ্ধের অগ্রগতিকে উজ্জ্বলভাবে তুলে ধরলেও, ট্রাম্প যুদ্ধের সময়সীমা কিছুটা বাড়িয়েছেন। তিনি বলেন, “পরবর্তী দুই থেকে তিন সপ্তাহে আমরা তাদের মধ্যযুগে ফিরিয়ে দেব, যেখানে তারা থাকা উচিত।” যুদ্ধের শুরুতে হোয়াইট হাউস জানিয়েছিল লড়াই চলবে চার থেকে ছয় সপ্তাহ, এবং বর্তমানে আমরা পঞ্চম সপ্তাহে পৌঁছেছি।
তবে ট্রাম্প স্পষ্ট করেননি যুদ্ধ কীভাবে শেষ হবে বা ইরানের সঙ্গে কী ধরনের চুক্তি করতে চাচ্ছেন। জ্বালানি সংকট ও হরমুজ প্রণালী সম্পর্কেও তিনি স্বীকার করেছেন যে, পেট্রোলের দাম বেড়েছে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের জনগণকে কীভাবে পুনরায় প্রণালী খোলা হবে তা জানাননি। তিনি কেবল অন্য দেশগুলোর প্রতি পুনরায় আহ্বান করেছেন–“শুধু দখল করুন”।
ট্রাম্প “বিস্ময়কর বিজয়” দাবি করেছেন, তবে ইরান এখনও হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণে রেখেছে এবং ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ইসরাইল ও অঞ্চলে ছোড়ার সক্ষমতা বজায় রেখেছে। তেহরানের কর্মকর্তারাও যুদ্ধের ক্ষেত্রে নিজেদের জয় দাবি করছেন।
জনমতের জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের একটি বড় অংশ এই সংঘাতের বিরুদ্ধে। তবুও ট্রাম্প একই বক্তব্য দিয়ে জনগণকে যুদ্ধের পক্ষে বোঝানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন, যা গত মাস ধরে কার্যত ব্যর্থ হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, “আমরা আমাদের লক্ষ্য পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে যাব। এখন পর্যন্ত অগ্রগতির কারণে বলতে পারি, আমরা খুব শীঘ্রই যুক্তরাষ্ট্রের সমস্ত লক্ষ্য অর্জনে সঠিক পথে আছি।”
তিনি আরও বলেন, “আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে আমরা তাদের ওপর চরমভাবে আঘাত করব। আমরা তাদেরকে সেই যুগে ফিরিয়ে দেব, যেখানে তারা থাকা উচিত।”
ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য হিসেবে বলেছেন, “শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তন কখনো আমাদের লক্ষ্য ছিল না, তবে তাদের মূল নেতার মৃত্যুর কারণে শাসন পরিবর্তন হয়ে গেছে।”
তিনি ইরানকে সতর্কও করেছেন, যদি কোনো চুক্তি না হয়, তবে দেশের বৈদ্যুতিক উৎপাদন কেন্দ্রগুলোও আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
তিনি বলেন, “এই সময়ের মধ্যে যদি কোনো চুক্তি না হয়, আমরা গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যগুলোর দিকে নজর রাখব। কোনো চুক্তি না হলে আমরা তাদের প্রতিটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রকে একেবারে শক্তভাবে আঘাত করব, সম্ভবত একসাথে।”
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, “আমরা কাজটি শেষ করব। আমরা এখন খুব কাছাকাছি।”
তিনি মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। ট্রাম্প বলেন, “আমি আমাদের মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের ধন্যবাদ জানাই – ইসরাইল, সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং বাহরাইন। তারা অসাধারণ ভূমিকা রেখেছে, এবং আমরা কোনোভাবেই তাদের ব্যর্থ হতে দেব না।”
তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আমরা তাদের পাশে আছি এবং যে কোনো পরিস্থিতিতে তাদের ব্যর্থ হতে দেব না।”
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বীকার করেছেন যে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর দেশটিতে জ্বালানি মূল্য ২৫ শতাংশের বেশি বেড়ে যাওয়ায় অনেক মানুষ অর্থনৈতিক চাপ অনুভব করছেন।
তিনি দাবি করেন, এই মূল্যবৃদ্ধি কেবল অস্থায়ী।
ট্রাম্প বলেন, “অনেক আমেরিকান সম্প্রতি দেশীয় জ্বালানি মূল্যের উর্ধ্বগতি দেখে উদ্বিগ্ন হয়েছেন। এই স্বল্পমেয়াদি বৃদ্ধি সম্পূর্ণরূপে ইরান সরকার দ্বারা প্রতিবেশী দেশে বাণিজ্যিক তেল ট্যাংকারের ওপর অযৌক্তিক সন্ত্রাসী হামলার ফল।”
তিনি আরও বলেন, “এটি আরও একটি প্রমাণ যে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্রের সঙ্গে কখনও বিশ্বাস করা যায় না।”
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তার দেশের সেনাবাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে বিধ্বংসী আঘাত হেনেছে।
তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী কেবল এক মাস আগে অপারেশন এপিক ফিউরি শুরু করেছে, যার লক্ষ্য বিশ্বের প্রধান সন্ত্রাসপৃষ্ঠপোষক দেশ ইরান।”
ট্রাম্প আরও যোগ করেন, “গত চার সপ্তাহে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী যুদ্ধক্ষেত্রে দ্রুত, সিদ্ধান্তমূলক এবং অপ্রতিরোধ্য জয় অর্জন করেছে।”
এ ধরনের দাবির সাথে বাস্তব পরিস্থিতির সামঞ্জস্য বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন যে, যুদ্ধের তথ্য প্রমাণের যাচাই ছাড়া এই ধরনের ঘোষণাকে পুরোপুরি গ্রহণ করা ঝুঁকিপূর্ণ।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জাতির উদ্দেশে তাঁর ভাষণ শুরু করেছেন।
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় ফার্স প্রদেশের লারেস্টান এলাকায় অবস্থিত একটি পাহাড়ি চারণভূমিতে বুধবার সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ বিমান হামলায় চারজন নিহত ও তিন গ্রামবাসী আহত হয়েছে।
এ ঘটনায় আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় প্রশাসনের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিভাগের দায়িত্বে থাকা একজন সিনিয়র কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বলে এক প্রতিবেদন জানিয়েছে ফার্স নিউজ এজেন্সি।
লেবাননের গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, তাদের যোদ্ধারা ইসরাইলের উত্তরের নাহারিয়্যা বস্তি লক্ষ্য করে রকেট বৃষ্টি চালিয়েছে। এছাড়া শোমেরা বস্তিতে ইসরাইলি সেনা ও যানবাহনের সমাবেশও আর্টিলারি শেলের মাধ্যমে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
সংগঠনটি আরও জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের আল-বাইয়াদাহ শহরে ইসরাইলি সেনাদের আরেকটি সমাবেশ দুইবার রকেট বৃষ্টি ও ড্রোন হামলার মাধ্যমে আক্রমণ করা হয়েছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান মার্কিন জনগণের উদ্দেশে লেখা খোলা চিঠিতে বলেছেন, আধুনিক ইতিহাসে ইরান কখনো আগ্রাসন, সম্প্রসারণ বা উপনিবেশবাদের পথে এগোয়নি। তিনি বলেন, ইরান কোনো যুদ্ধ শুরু করেনি, তবে যারা ইরানকে আক্রমণ করেছে, তাদের কঠোর প্রতিরোধ করেছে।
চিঠিতে পেজেশকিয়ান ইরানকে ‘নিরাপত্তা হুমকি’ হিসেবে উপস্থাপনের তীব্র বিরোধিতা করেছেন। তার মতে, ইরানকে আগ্রাসী হিসেবে তুলে ধরা বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না। তিনি বলেন, ইরান মানব ইতিহাসের অন্যতম প্রাচীন ও ধারাবাহিক সভ্যতা।
পেজেশকিয়ান দাবি করেন, ইরানকে হুমকি হিসেবে দেখানোর পেছনে প্রধানত বহিরাগত স্বার্থ কাজ করছে। তিনি বলেন, এটি ক্ষমতাধরদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ পূরণের অংশ, যার মাধ্যমে তারা নিজেদের চাপ বৈধতা দেওয়া, সামরিক আধিপত্য বজায় রাখা, অস্ত্র শিল্প টিকিয়ে রাখা এবং কৌশলগত বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখার সুযোগ পাচ্ছে।
সূত্র: আল–জাজিরা
ইসরাইল দাবি করেছে, গত দুই দিনে তারা ইরানের রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন অবকাঠামো লক্ষ্য করে ৪০০-র বেশি বিমান হামলা চালিয়েছে।
ইসরাইলি সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়, বিমান বাহিনী ৬৫০টি গোলাবারুদ ব্যবহার করে “ইরানি শাসনব্যবস্থার অবকাঠামো” লক্ষ্য করে এসব হামলা পরিচালনা করেছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইসরাইলি যুদ্ধবিমান রাতভর তেহরানের কেন্দ্রস্থলে ব্যাপক আকারে হামলা চালায়, যেখানে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
ইসরাইলের দাবি অনুযায়ী, এসব হামলায় প্রায় ১৫টি অস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি কেন্দ্রীয় কমপ্লেক্সও রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা
কাতারের একটি তেলবাহী ট্যাংকারে বুধবার ভোরে ইরানের নিক্ষিপ্ত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলে জানিয়েছে কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, কাতার এনার্জির লিজে পরিচালিত ‘অ্যাকুয়া ১’ নামের ট্যাংকারটি দেশটির জলসীমার মধ্যেই হামলার শিকার হয়। তবে এতে থাকা ২১ জন নাবিকই নিরাপদে জাহাজ ত্যাগ করতে সক্ষম হয়েছেন এবং কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
কাতারএনার্জিও হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, এ ঘটনায় পরিবেশের ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি।
অন্যদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তাদের নৌবাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ট্যাংকারটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আইআরজিসির দাবি, ট্যাংকারটি ইসরাইলের মালিকানাধীন।
সূত্র: বিবিসি নিউজ
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ), আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এবং বিশ্বব্যাংকের প্রধানরা যুদ্ধের জ্বালানি ও অর্থনৈতিক প্রভাব মোকাবিলায় তাদের প্রতিক্রিয়া সর্বোচ্চ করার লক্ষ্যে একটি সমন্বয় গ্রুপ গঠন করবেন বলে যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
এই সমন্বয় গ্রুপটি বিভিন্ন দেশের ওপর প্রভাবের মাত্রা মূল্যায়ন করবে, সমন্বিত প্রতিক্রিয়া গ্রহণ করবে এবং প্রয়োজনীয় দেশগুলোর সহায়তা প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে সক্রিয় করবে বলে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো জানিয়েছে।
ইরান যুদ্ধ নিয়ে আজ রাতে (বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার সকাল ৭টায়) প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন। সংঘাত শুরুর পর এটি তার প্রথম প্রাইম-টাইম ভাষণ। জনপ্রিয়তা কমে যাওয়া এবং অর্থনৈতিক উদ্বেগ বাড়ার কারণে দেশে রাজনৈতিক চাপও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তবে ভাষণ সম্পর্কে হোয়াইট হাউস বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার এক মাসেরও বেশি সময় পর এই ভাষণ আসছে, যা বড় ধরনের সংঘাতের শুরুতেই প্রেসিডেন্টরা সাধারণত যে দ্রুত ভাষণ দেন, তার তুলনায় দেরি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার হার ৪০ শতাংশের নিচে নেমে গেছে, আর বিরোধিতার হার ৫০ শতাংশের মাঝামাঝি ছাড়িয়েছে, কারণ ভোটাররা যুদ্ধ এবং এর অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে অসন্তুষ্ট।
ইরান অভিযানের প্রতি সমর্থনও ব্যাপকভাবে কমে গেছে; অধিকাংশ মানুষ এই আক্রমণের বিরোধিতা করছে এবং স্বতন্ত্র ভোটাররাও দ্রুত এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে।
সূত্র : আল-জাজিরা
ইসরাইলের ভুল হিসাব ও উসকানির কারণে যুক্তরাষ্ট্র এই সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই।
বুধবার আল-মাসরি আল-ইয়োম পত্রিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারের বরাতে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ এ তথ্য জানিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘বিশ্বের কেউ আর আমেরিকার কূটনীতির ওপর আস্থা রাখতে পারে না। তারা কূটনীতি ও আলোচনাকে শুধু নিজেদের দাবি চাপিয়ে দেওয়া বা শক্তি প্রয়োগের পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে ব্যবহার করে।’
তিনি দাবি করেন, ইরানের নতুন নেতা মোজতবা খামেনেই সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন এবং চলমান যুদ্ধের কারণে তিনি জনসমক্ষে আসেননি।
বাঘাই বলেন, ইরানের জনগণ যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনা বা কূটনীতি নিয়ে কথা বলতে প্রস্তুত নয়, কারণ যুক্তরাষ্ট্র অতীতেও আলোচনাকে নিজেদের দাবি চাপিয়ে দেওয়া এবং শক্তি প্রয়োগের পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে ব্যবহার করেছে।
তিনি আরো বলেন, মিনাবের শাজারেহ তাইয়্যেবেহ বালিকা বিদ্যালয়ে হামলায় অন্তত ১৭০ জন নিহত হয়েছেন। গত এক মাসে যুক্তরাষ্ট্র যে নৃশংসতা চালিয়েছে, এটি তার একটি উদাহরণ।
সূত্র : আল-জাজিরা
লেবাননে ২ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বেড়ে এক জাহার ৩১৮ জনে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে এতে জানানো হয়, এই সময়ের মাঝে মোট আহতের সংখ্যা তিন হাজার ৯৩৫ জন।
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরাইল বৈরুত ও দক্ষিণ লেবাননে নিয়মিত হামলা চালিয়ে আসছে।
তাদের দাবি, ইরান-সমর্থিত লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হেজবুল্লাহর সাথে সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোকে লক্ষ্য করেই এই হামলাগুলো চালানো হচ্ছে।
অন্যদিকে, লেবাননে প্রবেশের পর নয়জন ইসরাইলি সেনা নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরাইল।
সূত্র : আল-জাজিরা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘ইরানের নতুন সরকারের প্রেসিডেন্ট’ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যুদ্ধবিরতির জন্য অনুরোধ করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বিবৃতিতে ট্রাম্প এ কথা বলেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি যখন খোলা, অবাধ ও বিপদমুক্ত হবে, তখন আমরা যুদ্ধবিরতির কথা বিবেচনা করব। তার আগ পর্যন্ত আমরা ইরানকে ধ্বংস করে দিচ্ছি, অথবা তারা যেমনটা বলে-পাথর যুগে পাঠিয়ে দিচ্ছি!!!’
এদিকে, ইরানি কর্তৃপক্ষ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন এমন কোনো চুক্তি বা সরাসরি আলোচনার সংবাদ সত্য নয় এবং তারা ‘আলোচনায় বসেছে’ এমন দাবিকে সম্পূর্ণ ভুয়া বা ভুল বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, যদিও কিছু বার্তা বিনিময় হয়েছে, তা মূল্যায়ন বা কোনো আলোচনা বা যুদ্ধবিরতি অনুরোধ হিসেবে গণ্য করা যায় না, এবং তেহরান যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত।
সূত্র: আল-জাজিরা, বিবিসি
ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি তার সবশেষ লিখিত বার্তায়, লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হেজবুল্লাহর প্রধান নাঈম কাসেমের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি হামলার প্রথম দিনে দেশটির সাবেক সর্বোচ্চ নেতা এবং মোজতবা খামেনির বাবা আয়াতোল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন।
সেই ঘটনায় হেজবুল্লাহর পাঠানো শোকবার্তার জন্য মোজতবা খামেনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
গত ৮ মার্চ বাবার উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে মোজতবা খামেনিকে এখন পর্যন্ত জনসমক্ষে দেখা যায়নি এবং ইরানের গণমাধ্যমেও তাকে সেভাবে দেখানো হয়নি। তবে তার দায়িত্ব গ্রহণের আগে এবং পরে দুই সময়ই ইসরাইল ঘোষণা দিয়েছিল, মোজতবা খামেনি তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তু হবেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, মোজতবা খামেনি ‘হয় মারা গেছেন, নয়তো অত্যন্ত সংকটাপন্ন অবস্থায় আছেন, কারণ তার সম্পর্কে কেউ কিছুই জানতে পারছে না।’
এদিকে, জেনেভায় জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, মূলত ‘নিরাপত্তা বিবেচনার’ কারণেই খামেনি বর্তমানে জনসমক্ষে আসছেন না।
সূত্র : বিবিসি
ইরানি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিয়ানেহ, উত্তর-পশ্চিম ইরানের একটি আবাসিক এলাকায় মার্কিন-ইসরাইলি হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন।
সূত্র : আল-জাজিরা
হরমুজ প্রণালীতে নৌবাহিনী মোতায়েন থেকে শুরু করে ইউরোপে সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের বিষয় পর্যন্ত ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের কাছ থেকে আরো বেশি সমর্থন চান। কিন্তু তাদের প্রতিক্রিয়া এখনো অনীহাপূর্ণ, আর ট্রাম্প প্রশাসনেরও তাদের প্রতি আগ্রহ তেমন জোরালো নয়।
বুধবার প্রকাশিত দ্য টেলিগ্রাফকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি কখনোই ন্যাটোর দ্বারা প্রভাবিত হইনি। আমি সবসময় জানতাম তারা একটি কাগুজে বাঘ, এবং পুতিনও তা জানে।’
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ন্যাটোর সদস্যপদ পুনর্বিবেচনা করবেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘অবশ্যই, এটি পুনর্বিবেচনারও বাইরে চলে গেছে।’
একই সাক্ষাৎকারে যুক্তরাজ্যের সামরিক সক্ষমতা নিয়েও কটাক্ষ করেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, ‘আপনাদের তো নৌবাহিনীই নেই। আপনারা অনেক পুরোনো হয়ে গেছেন, আর আপনাদের বিমানবাহী রণতরীগুলোও ঠিকমতো কাজ করত না।’
মিত্রদের প্রতি একই ধরনের অবজ্ঞার সুর একদিন আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর বক্তব্যেও শোনা যায়। তিনি আল জাজিরাকে বলেন, যদি এই ট্রান্সআটলান্টিক জোট ‘শুধু ইউরোপকে রক্ষা করার জন্যই হয়’, কিন্তু উল্টোটা না হয়, তাহলে এটি ‘খুব ভালো ব্যবস্থা নয়’।
রুবিও বলেন, বিষয়টি ‘পুনর্বিবেচনা করতে হবে’।
সূত্র : আল-জাজিরা
ফ্রান্সের জুনিয়র আর্মি মন্ত্রী এলিস রুফো প্যারিসে বলেন, ‘আমি আপনাদের মনে করিয়ে দিতে চাই ন্যাটো কী। এটি একটি সামরিক জোট, যা ইউরো-আটলান্টিক অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করে। এটি হরমুজ প্রণালীতে অভিযান পরিচালনার জন্য তৈরি নয়, যা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হবে।’
ব্রিটিশ দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ন্যাটোকে কাগুজে বাঘ বলে উল্লেখ করেন বলেন, যুক্তরাজ্যের কার্যকর কোনো নৌবাহিনী নেই। তিনি বলেন, ‘আমি কখনোই ন্যাটোর দ্বারা প্রভাবিত হইনি। আমি সবসময় জানতাম তারা একটি কাগুজে বাঘ, এবং পুতিনও তা জানে।’
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ন্যাটোর সদস্যপদ পুনর্বিবেচনা করবেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘অবশ্যই, এটি পুনর্বিবেচনারও বাইরে চলে গেছে।’
একই সাক্ষাৎকারে যুক্তরাজ্যের সামরিক সক্ষমতা নিয়েও কটাক্ষ করেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, ‘আপনাদের তো নৌবাহিনীই নেই। আপনারা অনেক পুরোনো হয়ে গেছেন, আর আপনাদের বিমানবাহী রণতরীগুলোও ঠিকমতো কাজ করত না।’
সূত্র : আল-জাজিরা

ইরানের ওপর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যৌথভাবে হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল। ওই দিন থেকেই পাল্টা জবাব দিতে শুরু করে ইরানও। এভাবেই টানা ৩৩তম দিনের যুদ্ধে ইরানের ১ লাখ ১৫ হাজারেরও বেশি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বুধবার ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি এই তথ্য জানিয়েছে।
রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, সাম্প্রতিক হামলায় ১ লাখ ১৫ হাজারেরও বেশি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে আবাসিক ভবন, চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং ত্রাণকেন্দ্র।
সংস্থাটি আরো জানায়, এসব স্থাপনার একটি ‘উল্লেখযোগ্য অংশ’ তেহরান প্রদেশে অবস্থিত।
এছাড়া ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে অন্তত ১ হাজার ৫২৬ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।
সূত্র : আল-জাজিরা

দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের অধ্যাপক মোহাম্মদ এলমাসরি বলেছেন, যুদ্ধে বড় ফ্রন্টে অগ্রগতি করতে ব্যর্থ হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র তার ঘোষিত লক্ষ্যগুলোতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এনেছে।
আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এলমাসরি বলেন, যুদ্ধের শুরুতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘খুবই অসংলগ্ন’ ছিলেন এবং কখনো কখনো পরস্পরবিরোধী লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলেন।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র শুরু থেকে তাদের সুসংহত করতে হিমশিম খাচ্ছে এবং ইরানে সরকার পরিবর্তন, সমঝোতা চুক্তি করা এবং হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার বিষয়ে তাদের অবস্থান বারবার পরিবর্তন করেছে।
এলমাসরি আরো বলেন, শুরুর দিকে মার্কিন কর্মকর্তারা সরকার পরিবর্তনের কথা বলছিলেন। এটি ছিল এই অভিযানের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। কিন্তু এখন তারা ইরানের বর্তমান সরকারকে স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন। তারা বুঝতে পেরেছেন ইরান নেতৃত্বশূন্য হবার নয়।
এলমাসরি বলেন, ট্রাম্প ইরানের সাথে চুক্তি করার বিষয়েও অবস্থান বদলেছেন; এখন তিনি মনে করেন চুক্তির প্রয়োজনই নাও হতে পারে। একইভাবে হরমুজ প্রণালী খোলার বিষয়েও তার বক্তব্য পরিবর্তিত হয়েছে।
এলমাসরির মতে, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে তাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হওয়া কারণেই তাদের বক্তব্য ও কৌশলে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।
সূত্র : আল-জাজিরা
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, সর্বশেষ হামলায় তারা শতাধিক ভারী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করেছে। একই সঙ্গে অন্তত ২০০ রকেট নিক্ষেপ করা হয়েছে বলেও দাবি করেছে বাহিনীটি।
আইআরজিসির এক বিবৃতিতে বলা হয়, হামলাগুলো ইসরাইলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে পরিচালিত হয়েছে। এছাড়া উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবস্থানগুলোও লক্ষ্যবস্তু ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। এর মধ্যে বাহরাইনে মার্কিন বাহিনী অবস্থানরত একটি ঘাঁটি এবং কুয়েতের আল-আদিরি ঘাঁটিতে থাকা মার্কিন হেলিকপ্টার ইউনিটের ওপর হামলার কথাও উল্লেখ করা হয়।
ওই হামলায় একটি হেলিকপ্টার ধ্বংস হয়েছে বলেও দাবি করেছে আইআরজিসি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিতে প্রচারিত বিবৃতিতে আইআরজিসি আরো জানায়, পূর্ণ শক্তি দিয়ে এই হামলা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
তবে এ বিষয়ে ইসরাইল বা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
সূত্র : আলজাজিরা