আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

বিক্ষোভ দমনে ২০০০ মৃত্যুর কথা স্বীকার ইরানের, বেসরকারি দাবি ১২ হাজার

আমার দেশ অনলাইন

বিক্ষোভ দমনে ২০০০ মৃত্যুর কথা স্বীকার ইরানের, বেসরকারি দাবি ১২ হাজার

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ এবং তা দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে প্রায় দুই হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে—প্রথমবারের মতো এ তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছে দেশটির সরকার।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, টানা দুই সপ্তাহ ধরে চলা বিক্ষোভে নিহতদের মধ্যে বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য—দুই পক্ষই রয়েছে। তবে তিনি আলাদাভাবে কতজন বিক্ষোভকারী এবং কতজন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য নিহত হয়েছেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করেননি।

ওই কর্মকর্তা দাবি করেন, যাদের তিনি ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, সহিংসতার জন্য মূলত তারাই দায়ী এবং উভয় পক্ষের প্রাণহানির পেছনেও তাদের ভূমিকা রয়েছে।

তবে সরকারের এই হিসাবকে চ্যালেঞ্জ করেছে প্রবাসী সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক দমন অভিযানে নিহতের সংখ্যা অন্তত ১২ হাজার। সংবাদমাধ্যমটির দাবি, প্রকৃত চিত্র আড়াল করতেই দেশজুড়ে ইন্টারনেট বন্ধ রাখা হয়েছে এবং তথ্যপ্রবাহ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন করার পাশাপাশি যোগাযোগব্যবস্থা অকার্যকর করা হয়েছে, সংবাদমাধ্যম বন্ধ রাখা হয়েছে এবং সাংবাদিক ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। এসব কারণে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

ইরান ইন্টারন্যাশনাল জানায়, তারা বিভিন্ন উৎস থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই করে একটি সমন্বিত হিসাব তৈরি করেছে। তাদের মতে, গত ৮ ও ৯ জানুয়ারি টানা দুই রাতে চালানো অভিযান ইরানের সাম্প্রতিক ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ হতে পারে।

সংবাদমাধ্যমটির দাবি, এই তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের ঘনিষ্ঠ সূত্র, প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের একাধিক সূত্র, মাশহাদ, কেরমানশাহ ও ইসফাহানে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর অভ্যন্তরীণ সূত্র, নিহতদের পরিবার, প্রত্যক্ষদর্শী এবং চিকিৎসক ও নার্সদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, নিহতদের বড় অংশই ৩০ বছরের কম বয়সী তরুণ। অভিযোগ রয়েছে, তাদের অনেককে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) ও বসিজ বাহিনীর সদস্যরা গুলি করে হত্যা করেছে।

এছাড়া দাবি করা হয়েছে, দমন অভিযানটি পরিকল্পিত ছিল এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সরাসরি নির্দেশে পরিচালিত হয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ থেকে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানে চলমান অস্থিরতার পেছনে রয়েছে গভীর অর্থনৈতিক সংকট, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শাসকগোষ্ঠীর জন্য সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে গত বছর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর আন্তর্জাতিক চাপের বৃদ্ধি।

১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে ক্ষমতায় থাকা ধর্মীয় নেতৃত্ব একদিকে শান্তিপূর্ণ অর্থনৈতিক দাবিকে বৈধ বলে স্বীকার করলেও, অন্যদিকে নিরাপত্তা বাহিনী দিয়ে কঠোর দমন অভিযান চালাচ্ছে। সরকারের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এই অস্থিরতা উসকে দিচ্ছে এবং তথাকথিত সন্ত্রাসীরাই বিক্ষোভকে সহিংস করে তুলছে।

সূত্র: রয়টার্স

এসআর

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...