মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য আসন্ন বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণে কোনো বাধা দেওয়া হয়নি।
ওভাল অফিসে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ইরানি ক্রীড়াবিদদের অংশগ্রহণে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়নি। সম্প্রতি এমন গুঞ্জন উঠেছিল যে ইরান বিশ্বকাপে অংশ নাও নিতে পারে এবং তাদের জায়গায় ইতালি খেলতে পারে। তবে রুবিও স্পষ্ট করে বলেন, ইরান না এলে সেটি তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত হবে।
তিনি আরও বলেন, ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে মূল উদ্বেগ খেলোয়াড়দের নয়, বরং তাদের সঙ্গে আসা কিছু ব্যক্তিকে ঘিরে। “তারা তাদের খেলোয়াড়দের আনতে পারে, কিন্তু আইআরজিসি-এর সন্ত্রাসীদের সাংবাদিক বা প্রশিক্ষক পরিচয়ে আমাদের দেশে ঢুকতে দেওয়া হবে না,” বলেন রুবিও।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, জাহাজ নির্মাণ সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তিনি নৌবাহিনীর সচিব জন ফেলানকে বরখাস্ত করেছেন।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়, ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, “তিনি খুবই কঠোর পরিশ্রমী ছিলেন, কিন্তু নতুন জাহাজ নির্মাণ ও কেনাকাটা নিয়ে অন্যদের সঙ্গে তার কিছু মতবিরোধ ছিল।” তিনি আরও বলেন, “কেউ তাকে পছন্দ করত, কেউ করত না—এটাই সাধারণ বাস্তবতা।”
পরিস্থিতি সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো আগেই জানিয়েছিল, জাহাজ নির্মাণ দ্রুততর করতে সংস্কার বাস্তবায়নে ধীরগতির কারণে ফেলানকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন কোনো আনুষ্ঠানিক কারণ জানায়নি।
এদিকে, নৌবাহিনীর আন্ডারসেক্রেটারি হাং কাও, যার সঙ্গে ফেলানের সম্পর্কও খুব একটা ভালো ছিল না বলে জানা গেছে, তাকে ভারপ্রাপ্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি ও সার সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটছে, যার ফলে আগামী মাসগুলোতে বিশ্বজুড়ে ৩ কোটির বেশি মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যে নিমজ্জিত হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) প্রধান আলেকজান্ডার ডি ক্রো।
রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “যুদ্ধ যদি আগামীকালই শেষ হয়, তবুও এর প্রভাব ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে এবং এটি ৩ কোটিরও বেশি মানুষকে দারিদ্র্যে ঠেলে দেবে।” তিনি আরও জানান, কয়েক মাসের মধ্যেই খাদ্য নিরাপত্তা পরিস্থিতি চরমে পৌঁছাবে এবং তা মোকাবিলা করা কঠিন হবে।
ডি ক্রো উল্লেখ করেন, এই সংকটের প্রভাব ইতোমধ্যে বৈশ্বিক মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ০.৫ থেকে ০.৮ শতাংশ পর্যন্ত ক্ষতি করেছে। বলেন তিনি, “যে অগ্রগতি গড়ে তুলতে দশক লেগে যায়, যুদ্ধের মাত্র কয়েক সপ্তাহেই তা ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।”
এদিকে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে সারবাহী জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের প্রস্তাব এখনও কার্যকর হয়নি বলে জানিয়েছে ফ্রান্স ২৪ ও পাসব্লু।
জাতিসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি জানিয়েছেন, জাতিসংঘের অনুরোধ এলে ইরান ওই প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে অনুমতি দেবে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি যুক্তরাষ্ট্রের জাতিসংঘ মিশন।