সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারতে যাচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ। গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরের আলো ফোটার পরপরই রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জিয়া উদ্যানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার কবরের সামনে ভিড় জমাতে শুরু করেন সর্বস্তরের মানুষ। শিশু থেকে বৃদ্ধ, নারী-পুরুষ সবার উপস্থিতি ছিল সমান। কারো হাতে ছিল ফুল, চোখে ছিল অশ্রু। কেউ আকাশপানে তাকিয়ে দুই হাত তুলে মহান আল্লাহর দরবারে নিঃশব্দে দোয়া করেছেন। কাউকে কাউকে কোরআন তিলাওয়াত করতে দেখা গেছে। সব মিলিয়ে পুরো এলাকাই এক শোকাবহ পরিবেশে রূপ নিয়েছিল।
সরেজমিনে দেখা যায়, গতকাল ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ জিয়া উদ্যানে থাকা জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করতে আসেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কবরস্থান চত্বর হয়ে ওঠে এক আবেগঘন প্রাঙ্গণ হিসেবে।
ছেলে হাফেজ নাজমুল হাসান রাকিব ও হাফেজা মেয়ে সানজিদা আক্তারকে নিয়ে জিয়ারত করতে রাজধানীর মহাখালী থেকে এসেছেন লাকি বেগম। তিনি আমার দেশকে বলেন, খালেদা জিয়া শুধু প্রধানমন্ত্রিই ছিলেন না, তিনি আমাদের আত্মসম্মানের প্রতীক ছিলেন। শেষ বয়সে যে কষ্ট তিনি পেয়েছেন, তা কোনো মায়ের প্রাপ্য নয়। সন্তানদের নিয়ে আসার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার সন্তানরা কোরআনে হাফেজ। আমি চেয়েছি তারা এখানে এসে একবার দেখে যাক এবং কোরআন তিলাওয়াত করে খালেদা জিয়ার জন্য একটু দোয়া করুক, যাতে মহান রব তার কবরে এর সওয়াব পৌঁছে দেন ‘
সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী উম্মে হাবিবা খুশি তার মা সুমি আক্তারের সঙ্গে এসেছে মোহাম্মদপুর থেকে। খুশি বলে, ‘ওনাকে (খালেদা জিয়া) সরাসরি দেখার সুযোগ কখনো হয়নি; কিন্তু তার কবরের সামনে দাঁড়িয়ে মনে হচ্ছে খুব কাছাকাছি চলে এসেছি। তার লড়াইয়ের কথা মায়ের কাছে শুনেছি। এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দেখছি। নারী হয়েও তিনি যে লড়াকু জীবনের পথ বেছে নিয়ে লড়াই করে গেছেন, সেসব গল্প শুনে আমরা খুবই অনুপ্রাণিত হই। এখন আমাদের মতো কিশোরীদের স্বপ্ন তার মতো হওয়া।’
ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘আমাদের কাছে শুধু খালেদা জিয়া নেত্রী নন, ছিলেন সাহস আর ত্যাগের প্রতীক। আমি ২০১১ সালের পর থেকে দীর্ঘদিন ম্যাডামের নিরাপত্তায় ছিলাম । তাকে আমি কাছ থেকে দেখেছি। আমি তার অনেক স্নেহ পেয়েছি। তাকে মায়ের মতো মনে করি । আজ আমি তার কবরের পাশে দাঁড়িয়ে দোয়া করতে এসেছি। তিনি বাংলাদেশের স্বার্থে যে রাজনীতি করে গেছেন, আমাদের দল সেই রাজনীতিকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাবে। আর একটি সুন্দর ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের যে প্রক্রিয়া, আমাদের নেতা তারেক রহমান এর ধারাবাহিকতা রক্ষা করবেন।’
দুপুর গড়িয়ে বিকাল হলেও মানুষের ঢল কমেনি। শোকের মধ্যেও একধরনের দৃঢ়তা দেখা গেছে সবার চোখে-মুখে। যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সদস্যসচিব খসরুজ্জামান খসরু সন্ধ্যায় কবর জিয়ারত করে ফেরার সময় আমার দেশকে বলেন, ‘আমরা ম্যাডামকে আর পাব না; কিন্তু তার ত্যাগ যেন বৃথা না যায়, সেই চেষ্টা আমাদের থাকবে।’
একসময় খালেদা জিয়ার প্রেস উইংয়ে কাজ করেছেন মুশফিকুল ফজল আনসারী। তিনি বর্তমানে মেক্সিকোতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত। খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘খালেদা জিয়া হলেন বাংলাদেশের অনেক বড় এক নির্মাতা। তিনি ছিলেন আমাদের গণতন্ত্র ও অর্থনীতির প্রগতি এবং সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আপসহীন। এরকম একজন নেত্রীকে হারিয়ে আমরা সবাই শোকগ্রস্ত। আমরা আশা করছি, এই শোককে শক্তিতে পরিণত করে বাংলাদেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।’
গত বুধবার বিকালে জিয়া উদ্যানে স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে খালেদা জিয়াকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়। এর আগে বেলা ৩টার দিকে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
এসআই
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


প্রবাসে দুর্ঘটনায় নিভে গেল রুবেলের প্রাণ
পুণ্যবানদের চোখে শীতকাল