ইরানে হামলার সমর্থনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, তাদের কাছে তথ্য ছিল ইরানের ওপর হামলা চালাবে ইসরাইল। সে ক্ষেত্রে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনা ও অন্যান্য ঘাঁটি লক্ষ্য করে আক্রমণ চালাতে পারে। ইরানের পাল্টা হামলা রুখতে যুক্তরাষ্ট্র আগেই আক্রমণ চালিয়েছে। মার্কিন কংগ্রেসের রিপাবলিকান দলীয় নেতা মাইক জনসনও সাংবাদিকদের কাছে হামলার পক্ষে একই যুক্তি উপস্থাপন করেছেন। উল্লেখ্য, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার ইরানের মার্কিন হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনে বৈধতা দিতে অস্বীকার করেছেন।
এদিকে ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর উপসাগরীয় অঞ্চলের দুটি দেশে দূতাবাস বন্ধ করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল মঙ্গলবার সৌদি আরব ও কুয়েতের দূতাবাস বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর আগে দূতাবাস দুটি ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ অবস্থায় মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে থাকা মার্কিন নাগরিকদের অবিলম্বে ১৪ দেশ ছেড়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ওয়াশিংটন। খবর : আলজাজিরা ও বিবিসির।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি হামলার চতুর্থ দিন ছিল গতকাল। এদিন দেশটির রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন এলাকায় নির্বিচার হামলা চালায় ইসরাইল। হামলা চালানো হয় দেশটির প্রেসিডেন্টের কার্যালয়েও। এছাড়া দেশটি লেবাননে বিমান হামলা চালাচ্ছে। পাশাপাশি দক্ষিণ লেবাননে স্থল অভিযান চালানোর ঘোষণা দিয়েছে তেল আবিব। এ পর্যন্ত ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ৭৮৭ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের মিনাবের প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ে নিহত ১৬৫ জনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
অন্যদিকে ইরান ও ইসরাইলসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা অব্যাহত রেখেছে। এছাড়া কুয়েতে ইরানের হামলায় নিহত হয়েছেন ছয় মার্কিন সেনা। ইরানের হামলায় ইসরাইল ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশেও ডজনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
যুদ্ধের তীব্রতার মধ্যেও বাগ্যুদ্ধও থেমে নেই। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, এই যুদ্ধ চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ বা আরো বেশিদিন স্থায়ী হতে পারে। দূতাবাসে হামলার বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবেÑসে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু না বলে তিনি জানান, সময় হলেই দেখতে পাবেন। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এই যুদ্ধ অনন্তকাল ধরে চলবে না। অন্যদিকে ইরান বলছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল আগ্রাসন থামালে যুদ্ধ বন্ধ হবে।
তেহরানের প্রতিটি কোণ আক্রান্ত
ইরানের রাজধানী তেহরানের প্রতিটি কোণে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র আঘাত হেনেছে। হামলা চালানো হয়েছে দেশটির প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ও রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনেও। ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান ব্রডকাস্টিংয়ের (আইআরআইবি) প্রধান পেইমান জেবেলি বলেছেন, আমাদের ভবনের কিছু অংশে ইসরাইলি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে।
ইরান থেকে সাংবাদিক মোহাম্মদ খতিবি বিবিসিকে বলেছেন, এটি কেবল সামরিক বাহিনী নয়, বেসামরিক নাগরিকদের ওপর একটি পরিকল্পিত আক্রমণ। শনিবার সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে রাজধানী তেহরানের প্রতিটি অংশ মার্কিন ও ইসরাইলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে যোগাযোগ টাওয়ার, সম্প্রচার কেন্দ্র এবং শহরের গ্র্যান্ড বাজার, যা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইরানের প্রেসিডেন্ট ভবন এবং সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলে অসংখ্য ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। হামলা চালানো হয়েছে আইআরআইবিতেও।
দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেছেন, তেহরানে উল্লেখযোগ্য শক্তি প্রয়োগ করা হচ্ছে। দেশটির শাসক গোষ্ঠীর কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালানো হয়েছে। এ হামলা যতদিন প্রয়োজন হবে, ততদিন চলবে।
ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, হামলায় দেশজুড়ে কমপক্ষে ১৫৩ শহর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন পর্যন্ত মার্কিন-ইসরাইলি হামলা হয়েছে মোট ৫০৪ স্থানে। হামলা চালানো হয়েছে প্রায় এক হাজার ৩৯ বার। এতে নিহত হয়েছেন ৭৮৭ জন।
পাল্টা হামলা ইরানের
সংঘাতের মধ্যে ইসরাইলসহ মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে পাল্টা হামলা অব্যাহত রেখেছে ইরান। এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি থেকে দূতাবাস, কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিমানবন্দরেও আছড়ে পড়ছে ইরানি বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন।
তীব্র হামলার মুখে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ঘাঁটি থেকে সেনাদের সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে ওয়াশিংটন। পাশাপাশি সৌদি আরব ও কুয়েতে দেশটি দূতাবাস বন্ধ করে দিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাসসমৃদ্ধ দেশ কাতারে ইরান হামলা চালিয়েছে ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে। দুটি ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আঘাত হানে আল উদেইদ বিমানঘাঁটিতে। যে ঘাঁটি ব্যবহার করে আসছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা। এছাড়া পূর্ব সতর্কীকরণ ব্যবস্থায় আঘাত হানে একটি ড্রোন।
উপসাগরীয় দেশ কুয়েতও ইরানের ব্যাপক হামলার শিকার। দেশটি ইরানের উপর্যুপরি হামলা ঠেকাতে গিয়ে ‘ভুলক্রমে’ তার মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে ফেলে। এর মধ্যে মার্কিন দূতাবাস আক্রান্ত হয়। ফলে গতকাল অনির্দিষ্টকালের জন্য কুয়েতে দূতাবাস বন্ধ করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
কুয়েতের মার্কিন দূতাবাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বিবৃতিতে জানায়, চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কুয়েতে মার্কিন দূতাবাস বন্ধ থাকবে। আমরা সব নিয়মিত এবং জরুরি কনস্যুলার অ্যাপয়েন্টমেন্ট বাতিল করেছি।
এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে উপসাগরীয় দেশটি। কুয়েতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশটিতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে হামলার ‘কঠোর ভাষায়’ নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এটি বিশ্বাসঘাতকতা এবং সব আন্তর্জাতিক নিয়ম ও আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। উপসাগরীয় দেশটি আরো জানিয়েছে, ইরানের হামলায় দেশটির নৌবাহিনীর দুই সেনা নিহত হয়েছেন।
সৌদি আরবের মার্কিন দূতাবাসও ইরানি হামলার কবলে পড়েছে। দেশটি জানিয়েছে, দুটি ড্রোন রিয়াদের মার্কিন দূতাবাসে আঘাত হানে। যার কারণে আগুন ধরে যায় দূতাবাসে। এরপর গতকাল রিয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস বন্ধ ঘোষণা করা হয় এবং সব ধরনের দৈনন্দিন ও জরুরি সেবা বাতিল করা হয়।
সৌদি আরবও ইরানের এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিবৃতিতে জানায়, আমরা এই বিপজ্জনক হামলার তীব্র নিন্দা জানাই। এ হামলার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার আমাদের রয়েছে।
রিয়াদে কানাডার দূতাবাসও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। দূতাবাসের পক্ষ থেকে গতকাল বিবৃতিতে বলা হয়, বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে মিশন বন্ধ করা হচ্ছে। ৬ মার্চ পর্যন্ত দূতাবাসে সব ব্যক্তিগত অ্যাপয়েন্টমেন্ট বাতিল করা হলো।
এছাড়া সোমবার রাত ও মঙ্গলবার সকালে জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাতের তেল শোধনাগার, বাহরাইনের বিভিন্ন স্থাপনা এবং ইরাকের ইরবিল বিমানবন্দরে হামলা চালিয়েছে ইরান।
এর মধ্যে বাহরাইনে একটি মার্কিন বিমান ঘাঁটি ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরান। দেশটির ফার্স সংবাদ সংস্থা জানায়, আইআরজিসির ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বাহরাইনের শেখ ইসা অঞ্চলে একটি মার্কিন কমান্ড এবং স্টাফ ভবন ধ্বংস হয়েছে এবং জ্বালানি ট্যাংক বিস্ফোরিত হয়েছে। এর আগে বাহরাইনে মার্কিন পরিচালিত একটি নৌঘাঁটি থেকে ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে।
আক্রান্ত হয়েছে ওমানও। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানায়, ওমানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ধোফার অঞ্চলে দুটি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। তবে তৃতীয় ড্রোনটি ওমানের সালালাহ বন্দরের কাছে বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
এদিকে মার্কিন ঘাঁটি ও দূতাবাসে হামলার প্রতিক্রিয়া দেখানোর হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, এ পর্যন্ত তাদের ছয় সেনা নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ১৮ জন। ট্রাম্প বলেন, প্রতিশোধের বিষয়টি শিগগির স্পষ্ট করা হবে। আমরা তাদের অনেক ক্ষতি করছি।
যুদ্ধের তীব্রতার মধ্যে অবিলম্বে এ অঞ্চলের ১৪ দেশ থেকে নিজ দেশের নাগরিকদের দ্রুত সরে যেতে বলেছে ওয়াশিংটন। দেশগুলো হলো—বাহরাইন, মিসর, ইরান, ইরাক, ইসরাইল ও ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড, জর্ডান, কুয়েত, লেবানন, ওমান, কাতার, সৌদি আরব, সিরিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইয়েমেন।পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, মার্কিন নাগরিকরা যত দ্রুত সম্ভব, বর্তমানে যে পরিবহন ব্যবস্থা রয়েছেÑতা ব্যবহার করে এই ১৪ দেশ থেকে বের হয়ে যান।
কী বলছেন ট্রাম্প
যুদ্ধের তীব্রতার মধ্যে ট্রাম্প বলেছেন, যুদ্ধ চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। তবে প্রয়োজনে এরচেয়ে বেশি সময় যুদ্ধ করার ক্ষমতা রাখেন আমাদের সেনারা।
সোমবার হোয়াইট হাউসে বক্তব্য রাখার সময় ট্রাম্প ইসরাইলের পাশাপাশি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যাওয়ার জন্য তার প্রশাসনের যুক্তি তুলে ধরে বলেন, ইরান আমেরিকার জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করেছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্র কতদিন হামলা চালিয়ে যেতে পারবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ অবস্থায় মূল প্রশ্ন হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যথেষ্ট পরিমাণ অস্ত্রের মজুত রয়েছে কি না, তা। তবে এ বিষয়টি উড়িয়ে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। তার মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে সোমবার রাতে ট্রাম্প লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যে পরিমাণ অস্ত্র মজুত রয়েছে, তা দিয়ে ‘চিরকাল’ লড়ে যেতে পারবে।
মজুতের পরিমাণ সম্পর্কে বোঝাতে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, আমাদের কাছে এই অস্ত্রের কার্যত সীমাহীন সরবরাহ রয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জয়ের জন্য প্রস্তুত।
এ সময় ট্রাম্প তার পূর্বসূরি জো বাইডেনকে আক্রমণ করে বলেন, ইউক্রেনকে তিনি ‘অনেক উচ্চমানের’ মার্কিন অস্ত্র সরবরাহ করেছেন।
বাইডেন তার মেয়াদের শেষদিকে এসে ইউক্রেনকে শক্তিশালী দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিলেন, যা ১৯০ মাইল পর্যন্ত আঘাত হানতে সক্ষম।
‘ইসরাইল দ্বারা প্রভাবিত হয়ে ইরানে হামলা’
এদিকে ইরানে ইরানে হামলার ব্যাখ্য দিতে গিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, প্রতিরক্ষা দপ্তর বিশ্লেষণ করে দেখেছে, ইসরাইলি হামলার পর কেবল প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে থাকলে মার্কিন সেনাদের হতাহতের সংখ্যা অনেক বেশি হতো। চলমান এই সংঘাতে ইতোমধ্যে ছয় মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। আরো প্রাণহানি ঠেকাতে আমরা রক্ষণাত্মকভাবে কিন্তু আগাম সক্রিয় হয়ে এই হামলা চালিয়েছি।
দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এমন কোনো সংঘাতে জড়াবে না, যা বছরের পর বছর ধরে চলবে। প্রেসিডেন্টের একটিই সুস্পষ্ট লক্ষ্য—ইরান যেন কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা।
লড়াই চালিয়ে যাবে ইরান
যুদ্ধ যতই তীব্র হোক, লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। জাতিসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূত আলি বাহরাইনি বলেন, যতক্ষণ না এই আগ্রাসন বন্ধ করা হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত ইরান ইসরাইল ও আমেরিকার বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা অভিযান চালিয়ে যাবে। যদি কোনো প্রতিবেশী দেশের কোনো ঘাঁটি আক্রমণ করার জন্য ব্যবহার করা হয়, তাহলে তা হবে একটি বৈধ লক্ষ্যবস্তু।
এদিকে কবে যুদ্ধ শেষ হবেÑসে বিষয়ে একটি বার্তা দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। তেহরানে মার্কিন-ইসরাইলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের উদ্দেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, এই যুদ্ধ ইরান শুরু করেনি। আমাদের পছন্দ ছিল কূটনীতি। এই যুদ্ধ তখনই শেষ হবে যখন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলি আগ্রাসন বন্ধ হবে।
পাল্টাপাল্টি হামলায় উত্তপ্ত লেবানন
ইরানের হয়ে যুদ্ধে যুক্ত হয়ে ব্যাপকভাবে ইসরাইলে হামলা শুরু করেছে লেবাননের হিজবুল্লাহ। ইরানের মিত্র গোষ্ঠীটি দাবি করেছে, সর্বশেষ তারা ইসরাইলের তিনটি সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে।
টেলিগ্রামে গোষ্ঠীটি বিবৃতিতে জানায়, তারা গোলান হাইটসের নাফা ঘাঁটিতে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি উত্তর ইসরাইলের মেরন ও রামাত ডেভিড বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
পাল্টা হামলায় লেবাননজুড়ে হামলা চালাচ্ছে ইসরাইল। এর মধ্যে দেশটিতে স্থল অভিযান চালানোর অনুমতি দিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু।
ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু সীমান্তবর্তী এলাকায় হামলা রোধে লেবাননের আরো এলাকা দখল করতে আইডিএফকে অনুমতি দিয়েছেন। আইডিএফ লেবাননে হিজবুল্লাহর লক্ষ্যবস্তুতে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে ইসরাইলি হামলার শাস্তি হিসেবে হিজবুল্লাহর সামরিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন। তিনি বলেছেন, এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত।
স্পেনের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক ছিন্নের ঘোষণা ট্রাম্পের
ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালাতে নিজেদের ঘাঁটি ব্যবহার করতে না দেওয়ায় স্পেনের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এছাড়া যুক্তরাজ্য একই কাজ করায় দেশটির সমালোচনা করেছেন ট্রাম্প।
জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেদরিখ মার্জের সঙ্গে এক বৈঠকের সময় সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, স্পেন খুবই খারাপ। আমরা স্পেনের সঙ্গে সবধরনের বাণিজ্য বন্ধ করে দেব। আমরা স্পেনের সঙ্গে কোনো কিছু করতে চাই না। অর্থমন্ত্রী স্কট ব্রেসেন্ট স্পেনের সঙ্গে সবধরনের কার্যক্রম বন্ধ করতে যাচ্ছেন।
ইরানের হামলায় ৬৫০ মার্কিন সেনা হতাহত
ইরানের প্রতিশোধমূলক ‘ট্রু প্রমিজ ৪’অভিযানের প্রথম দুই দিনে ৬৫০ জনেরও বেশি মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা হতাহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে চালানো হামলায় এই ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে দেশটির এই অভিজাত বাহিনী।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

