ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) সম্প্রসারণ প্রকল্পের ম্যানেজমেন্ট কনসালট্যান্টস (পিএমসি) নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিলের নেপথ্যে উঠে এসেছে বহুল বিতর্কিত আইএলএফ-কাণ্ড। দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে আইএলএফ কনসালট্যান্টসকে নিয়োগ দিতে গিয়ে বেরিয়ে আসে থলের বিড়াল।
আওয়ামী শাসনামলের সুবিধাভোগী কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা পারস্পরিক যোগসাজশের মাধ্যমে সুকৌশলে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত, দক্ষ ও অভিজ্ঞ কোম্পানিগুলোকে প্রাথমিক বাছাইয়েই বাদ দিয়ে দেন। মাত্র ছয়টি কোম্পানির তালিকা করে পাঁচ কর্মদিবসে প্রস্তাবনার অনুরোধপত্র (আরএফপি) পাঠানো হয়, যা ব্যাপক প্রশ্নের জন্ম দেয়। পরে প্রকল্পে বিনিয়োগকারী সংস্থা ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (আইএসডিবি) গ্রুপের তীব্র আপত্তির মুখে শেষ পর্যন্ত নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করে সরকার।
তবে গত ১৯ অক্টোবর জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের পরিকল্পনা-৪ শাখার উপসচিব দেওয়ান মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের সই করা এ-সংক্রান্ত স্মারকে কারণ হিসেবে বলা হয়, ক্রয় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং আরো বেশি প্রতিযোগিতার সুযোগ সৃষ্টিতে সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চিঠিতে চলমান আন্তর্জাতিক পরামর্শক নিয়োগ প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ বাতিল করে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস (পিপিআর)-২০২৫ অনুসরণ করে পুনরায় রিকোয়েস্ট ফর এক্সপ্রেশন অব ইন্টারেস্ট (আরইওআই) আহ্বান করতে বলা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের এমন সিদ্ধান্তে মাথায় যেন বাজ পড়েছে অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত চক্রটির। এই অসাধু চক্রের কারণেই ১৩ বছরেও শুরু হয়নি ইআরএল সম্প্রসারণ প্রকল্পের মূল কাজ। প্রকল্প ব্যয় সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১ হাজার কোটি টাকার বেশি। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, পিএমসি নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিলের মাধ্যমে প্রকল্পটি আরো অন্তত ছয় মাস পিছিয়ে যেতে পারে।
অনুসন্ধান-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের শীর্ষ নেতৃত্বের দুর্বল তদারকির সুযোগে মাঝারি পর্যায়ের কতিপয় অসৎ কর্মকর্তার শক্তিশালী বলয় গড়ে উঠেছে। মধ্যম সারির এসব কর্মকর্তা এবং তাদের অধীনস্থরা প্রকল্পের বড় বড় সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। পিএমসি নিয়োগের জন্য তৈরি করা ছয় কোম্পানির তালিকা তার বড় উদাহরণ। পারস্পরিক যোগসাজশ, অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে তারা অভিজ্ঞ কোম্পানিগুলোকে বাদ দিয়ে অপেক্ষাকৃত কম যোগ্য ও অনভিজ্ঞ কোম্পানির একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করা হয়। শুধু তা-ই নয়, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে প্রভাবিত করে তড়িঘড়ি করে মাত্র পাঁচ কর্মদিবসে সংক্ষিপ্ত তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোকে অফিসিয়াল প্রস্তাবের অনুরোধও (আরএফপি) পাঠিয়ে দেন তারা।
প্রাথমিক বাছাই
জানা যায়, দেশে ক্রমবর্ধমান জ্বালানি সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে জ্বালানি তেলের চাহিদা পূরণ, পরিশোধিত জ্বালানি তেলের আমদানিনির্ভরতা হ্রাস এবং জ্বালানি নিরাপত্তা সুদৃঢ় করতে ৩০ লাখ টন পরিশোধন ক্ষমতাসম্পন্ন ‘মর্ডানাইজেশন অ্যান্ড এক্সপানশন অব ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড’ প্রকল্পটি নেওয়া হয়। প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগে গত ২৫ মে আগ্রহপত্র (ইওআই) আহ্বান করা হয়। এতে ২৩ প্রতিষ্ঠান আগ্রহ প্রকাশ করে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান মনজুরুল আলম প্রধানের নেতৃত্বে গঠিত আট সদস্যের বাছাই কমিটি ২৩ প্রতিষ্ঠান যাচাই-বাছাই করে ছয়টির সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রস্তুত করে।
যোগ্যরা নেই তালিকায়
জানা যায়, বিশ্বজুড়ে ৩৭টিরও বেশি সম্পূর্ণ নতুন রিফাইনারি বা তেল শোধনাগার নির্মাণ করা ইতালিভিত্তিক শীর্ষস্থানীয় বহুজাতিক কোম্পানি সাইপেম এসপিএ স্থান পায়নি বাছাই তালিকায়। এ কোম্পানির আমেরিকা, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন শোধনাগারে ৭০০টিরও বেশি বিশেষায়িত প্রসেস ইউনিট বা কেন্দ্র স্থাপন এবং আধুনিকায়নের কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। এছাড়া বিশ্বের ৫০টিরও বেশি দেশে এ কোম্পানির কার্যক্রম রয়েছে। ১২০ দেশের প্রায় ৩০ হাজার কর্মী এতে কর্মরত। বিভিন্ন দেশে বড় বড় রিফাইনারি, পেট্রোকেমিক্যাল প্ল্যান্ট এবং গ্যাস প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র নির্মাণ করলেও বাংলাদেশের বাছাই কমিটি তাদের ন্যূনতম যোগ্য বলেও বিবেচনা করেনি।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, বাছাই করা ছয় সেরা কোম্পানির তালিকা দেখেই অনুধাবন করা যায়, মূল্যায়ন কমিটি অসৎ উদ্দেশ্যে
পরিকল্পিতভাবে অনেক যোগ্য কোম্পানিকে বাদ দিয়ে অপেক্ষাকৃত দুর্বল কোম্পানিকে সংক্ষিপ্ত তালিকায় স্থান দেয়। প্রাথমিক বাছাইতেই তালিকা থেকে বাদ পড়েছে বিশ্বের ৭০টিরও বেশি দেশে প্রায় ২,৬০০ প্রজেক্ট সম্পন্ন করা স্পেনভিত্তিক শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক ইঞ্জিনিয়ারিং ও কনস্ট্রাকশন কোম্পানি টেকনিকাস রিইউনিডাস (টিআর)। কোম্পানিটিতে বিশ্বজুড়ে ১৪ হাজারের বেশি পেশাদার কর্মী কাজ করছেন, যাদের বড় অংশই অত্যন্ত দক্ষ ইঞ্জিনিয়ার। স্পেন ছাড়াও ভারত, সৌদি আরব, আবুধাবি, তুরস্ক ও চিলিতে তাদের বড় বড় গ্লোবাল ইঞ্জিনিয়ারিং সেন্টার রয়েছে।
‘এক্সিলেন্ট’ সার্টিফিকেটের যৌক্তিকতা
অনুসন্ধানে জানা যায়, নিয়োগের উদ্দেশ্যে প্রাথমিক প্রক্রিয়া প্রায় সম্পন্ন করা এবং বাছাই কমিটির পক্ষ থেকে ‘এক্সিলেন্ট’ তথা চমৎকার হিসেবে মূল্যায়িত হওয়া জয়েন্ট ভেঞ্চার কোম্পানি আইএলএফ কনসালটিং ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড এসটিপি-সৌদি টেকনোলজিক প্রজেট্টি এসপিএর বিরুদ্ধে রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনামলে লেনদেন ও ভাগবাটোয়ারার মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকল্পে যুক্ত থাকার পাশাপাশি অনিয়ম ও দূর্নীতির অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে আইএলএফের বিরুদ্ধে। কাজ পাওয়ার জন্য কাজাখস্তানের সরকারি কর্মকর্তাদের আইএলএফ ঘুস দিয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের ফরেন করাপ্ট প্র্যাকটিসেস অ্যাক্টের (এফসিপিএ) তদন্তে বিষয়টি প্রমাণিত হয়।
বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের অন্যতম মেগা প্রকল্প মহেশখালীতে সাগরের তলদেশ দিয়ে পাইপলাইনের মাধ্যমে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল সরাসরি ইস্টার্ন রিফাইনারিতে খালাসে নেওয়া সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) প্রকল্পে আইএলএফের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম, দফায় দফায় প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধি এবং নজিরবিহীন দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগ রয়েছে। প্রকল্পের মূল কারিগরি পরিকল্পনা, ডিজাইন রিভিউ ও মাঠ পর্যায়ের নির্মাণ তদারকির দায়িত্বে ছিল এই কোম্পানি। পাইপলাইন ও সিস্টেম সম্পন্ন হওয়ার পরও সঠিক সময়ে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু না করায় বিপিসিকে অলস ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে হয় আরো প্রায় ১,২০০ কোটি টাকা।
কারিগরি ত্রুটি
সংশ্লিষ্টরা জানান, আইএলএফের সরাসরি তত্ত্বাবধানে ও ডিজাইন রিভিউর মাধ্যমে তৈরি করা মহেশখালীতে সাগরের তলদেশের পাইপলাইন চালুর পর কয়েক ঘণ্টার মাথায় কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয়। এর ফলে প্রাথমিক ট্রায়াল অপারেশন বন্ধ করতে বাধ্য হতে হয়, যা পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের মাঠ পর্যায়ের কাজের তদারকির মানকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। এছাড়া ওপেন টেন্ডার পদ্ধতি এড়িয়ে বিশেষ সুবিধায় ওঅ্যান্ডএম চুক্তি করার চেষ্টার কারণে রাষ্ট্রের আরো অতিরিক্ত ৩৬০ কোটি টাকা গচ্চা যাওয়ার উপক্রম হয়, যা সামগ্রিক প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। সবচেয়ে বড় অভিযোগ, ইস্টার্ন রিফাইনারি সম্প্রসারণ প্রকল্পের পিএমসি নিয়োগের ক্ষেত্রে কী কী যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা লাগবেÑসেটি চূড়ান্তকরণেও হাত ছিল আইএলএফের। এর যোগসূত্র হিসেবে বলা হচ্ছে, এসপিএম প্রকল্পের পরিচালক প্রকৌশলী শরীফ হাসনাত এবং বাস্তবায়নের দায়িত্বে নিয়োজিত আইএলএফের মধ্যে রয়েছে গভীর আর্থিক সম্পর্ক। শরীফ হাসনাত বর্তমানে ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং পিএমসি বাছাই কমিটির অন্যতম প্রভাবশালী সদস্য।
কর্তৃপক্ষের ক্ষোভ
অভিযোগের বিষয়ে কথা বলার জন্য প্রকৌশলী শরীফ হাসনাতকে গত এক সপ্তাহে অসংখ্যবার ফোন দিয়েও কথা বলা সম্ভব হয়নি। এই প্রতিবেদকের পক্ষ থেকে বারবার খুদেবার্তা দেওয়া হলেও তিনি সাড়া দেননি। কথা বলতে রাজি হননি কমিটির অন্য কোনো সদস্যও। তবে নাম প্রকাশে অপারগতা প্রকাশ করে এক সদস্য অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে আমার দেশকে বলেন, ‘আপনাদের (গণমাধ্যম) পীড়াপীড়িতে কর্তৃপক্ষ পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়াই বাতিল করে দিয়েছে। এরপর আর কী চান?’
আইএসডিবির চিঠি
গত ৭ অক্টোবর আইএসডিবি সরকারের কাছে চিঠি পাঠিয়ে পর্যালোচনার জন্য সংক্ষিপ্ত তালিকাভুক্তির নথিপত্রগুলো শেয়ার করতে বলে। এরপরই তারা জানতে পারে, ইআরএল কেবল কোম্পানিগুলোর সংক্ষিপ্ত তালিকাই চূড়ান্ত করেনি, বরং তাদের পছন্দের বিডার বা দরদাতাদের কাছে আরএফপিও ইস্যু করে ফেলেছে। বিনিয়োগরী প্রতিষ্ঠানটি তখন ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করলে সরকারের টনক নড়ে।
প্রশ্নবিদ্ধ মূল্যায়ন
আইএলএফ কনসালটিং ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড এসটিপি-সৌদি টেকনোলজিক প্রজেট্টি এসপিএ জেভি এবং রিনা কনসালটিং এসপিএকে ‘এক্সিলেন্ট’ হিসেবে মূল্যায়ন করে বাছাই কমিটি। ‘ভেরি গুড’ মূল্যায়ন পায় ফোস্টার হুইলার (থাইল্যান্ড) লিমিটেড। ‘ভালো’ কোম্পানি হিসেবে শীর্ষ পাঁচে স্থান পায় বিইআরআর ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ও ইনটেকসা ইন্ডাস্ট্রিয়াল এসএ। ‘পুওর’ উপাধি দিলেও ইউরো পেট্রোলিয়াম কনসালটেন্টস (ইপিসি) এবং ইনফ্রাটেক কনসালটেন্টস লিমিটেড (আইসিএল) জেভিকে শীর্ষ ছয় কোম্পানির তালিকায় স্থান দেয় মূল্যায়ন কমিটি।
অভিযোগ রয়েছে, বিতর্কিত আইএলএফ এসপিএম প্রকল্পের জন্য সব প্রারম্ভিক সমীক্ষা পরিচালনা করেছিল। তা সত্ত্বেও পিপিআরএ বিধি ৭১.৩ এবং ৭১.৪-এর স্পষ্ট লঙ্ঘন করে তাদের এসপিএম প্রকল্পের পিএমসি এবং নির্মাণ তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। ইআরএল বর্তমান রিফাইনারি পিএমসির সংক্ষিপ্ত তালিকা থেকে ফরাসি রিফাইনারি বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠান টেকনিপকে অযোগ্য ঘোষণা করার জন্য দাপ্তরিকভাবে ঠিক এ ধারাটিই ব্যবহার করেছিল।
‘ভালো’ কোম্পানি কতটা ভালো
অভিযোগ রয়েছে, বাছাই কমিটির ‘ভালো’ কোম্পানি হিসেবে শীর্ষ পাঁচে স্থান পায় বিইআরআর ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ও ইনটেকসা ইন্ডাস্ট্রিয়াল এসএর ‘ভালো’ কোম্পানি হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়াও অনেক রহস্যে ঘেরা। মূল্যায়ন প্রতিবেদনে কোয়ালিফাইং প্রজেক্টের কথা উল্লেখ থাকলেও প্রকল্পগুলোর নাম ও বিস্তারিত তথ্য সেখানে দেওয়া হয়নি। কোনো প্রতিষ্ঠানের রিফাইনারি-সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞতা থাকার দাবি এবং দরপত্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রিফাইনারি নির্মাণ ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতা এক কথা নয় দাবি করে কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে সরবরাহ করা তথ্যাদি পুনরায় পরীক্ষা করার দাবি জানান অভিজ্ঞরা।
সংক্ষিপ্ত তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর একটি হলো বের্গ ইন্ডাস্ট্রিজ। রিফাইনারি খাতে প্রতিষ্ঠানটির প্রাসঙ্গিক অভিজ্ঞতা না থাকলেও এটিকে সংক্ষিপ্ত তালিকায় রাখা হয়েছে। এমনকি তাদের নিজস্ব ওয়েবসাইটেও কোনো রিফাইনারি প্রকল্পের উল্লেখ নেই। তা সত্ত্বেও ইআরএল, বিপিসি এবং মন্ত্রণালয়ের সহযোগী কর্মকর্তারা তাদের মূল্যায়ন প্রতিবেদনে চরম মিথ্যাচার করেছেন এবং তাদের খেয়াল-খুশিমতো বের্গ ও অন্যান্য অযোগ্য কোম্পানিকে সংক্ষিপ্ত তালিকাভুক্ত করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ইনটেকসা ইন্ডাস্ট্রিয়াল এসএর বিরুদ্ধে অভিযোগ, কোম্পানিটি ২০ জুলাইয়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের হার্ড কপি জমাই দেয়নি। একই দুর্বলতার কারণে অপরাপর কোম্পানি প্রাথমিক বাছাইয়ে বাদ পড়লেও এ কোম্পানি কীসের জোরে সংক্ষিপ্ত তালিকায় উঠে এসেছে, তার কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি।
বিলিয়ন ডলারের চুক্তি
গত ৩ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং আইএসডিবি গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ আল জাসেরের উপস্থিতিতে বাংলাদেশ সচিবালয়ে ইস্টার্ন রিফাইনারি আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পে এক বিলিয়ন ডলার অর্থায়নের চুক্তি হয়। সরকার পক্ষে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. মিজানুর রহমান এবং আইএসডিবি গ্রুপের পক্ষে ডিরেক্টর জেনারেল (কান্ট্রি প্রোগ্রামস) আনাসি আইসামি চুক্তিতে সই করেন।
প্রকল্পের আওতায় ইস্টার্ন রিফাইনারিতে বছরে আরো ৩০ লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পরিশোধনের সক্ষমতা তৈরি করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের চাহিদার ৪৫-৫০ শতাংশ পূরণ সম্ভব হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

